বই

  • ভাঙারির দোকানে ১ টন সরকারি পাঠ্যবই উদ্ধার, ব্যবসায়ী আটক

    ভাঙারির দোকানে ১ টন সরকারি পাঠ্যবই উদ্ধার, ব্যবসায়ী আটক

    শিক্ষা ডেস্ক:

    টাঙ্গাইলের মধুপুরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য নির্ধারিত প্রায় এক টন (১ হাজার কেজি) সরকারি পাঠ্যবই উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ। এ সময় বই পাচারের অভিযোগে ইব্রাহিম হোসেন নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।

    জানা যায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার নরকোনা গ্রামে ওই ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে নবম ও দশম শ্রেণির এসব বই উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিনামূল্যে বিতরণের এই বইগুলো শিক্ষার্থীদের হাতে না পৌঁছে কীভাবে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর বাড়িতে গেল, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের গুদাম থেকে অবৈধভাবে এসব বই কিনে পাচার করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বইসহ ইব্রাহিমকে আটক করে।

    মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাবুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সরকারি বই পাচারের অভিযোগে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান এবং নিয়মিত মামলা করা হচ্ছে।

    এদিকে সরকারি অর্থে ছাপানো এই বইগুলো গুদাম থেকে বাইরে যাওয়ার পেছনে কারা জড়িত, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।

  • পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা

    পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা

    শিক্ষা ও সাহিত্য ডেস্ক:

    শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা নিবন্ধ ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে। সেই সঙ্গে তার তৎকালীন ঐতিহাসিক একটি ডায়েরির ছবিও বইয়ে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

    এনসিটিবি জানিয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ পাঠ্যপুস্তকে নতুন অধ্যায় হিসেবে এটি স্থান পাচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অন্যতম স্মৃতিকথা হিসেবে বহুল আলোচিত এই দলিলকে পাঠ্যভুক্ত করার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি)।বিষয়টি নিশ্চিত করে এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসসকে বলেন, “আগামী বছরের শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ বইয়ে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে এনসিসিসি চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। যার যতটুকু অবদান, তা নিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবে পাঠ্যবইয়ে তুলে ধরতেই সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে।”

    শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাঠ্যবইয়ে নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্তির ফলে শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম থেকে ভেসে আসা ঐতিহাসিক ‘উই রিভোল্ট’ ও কালুরঘাটের স্বাধীনতার ঘোষণার চাক্ষুষ স্মৃতি নির্মোহভাবে শিখতে পারবে, যা মুক্তিযুদ্ধের বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস তুলে ধরতে একটি বড় মাইলফলক।

    এ বিষয়ে বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বাসসকে বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের লেখা এই নিবন্ধের ঐতিহাসিক মূল্য আছে। এর মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতার সংগ্রাম সম্পর্কে সচেতন হতে পারবে। পাঠ্যবইয়ে এটি অন্তর্ভুক্ত করা যৌক্তিক।’

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদ বাসসকে বলেন, ‘এই নিবন্ধ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ ঘটনা জানার সুযোগ পাবে। অতীতে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে যেভাবে একপাক্ষিক ইতিহাস চর্চা করা হয়েছে, বর্তমান সরকারের নির্মোহ ও নিরপেক্ষ ইতিহাস তুলে ধরার দৃষ্টিভঙ্গি সেই মানসিকতার অবসান ঘটাবে।’

    শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে সচিবের সভাপতিত্বে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    এনসিটিবির কারিকুলাম সংশ্লিষ্টরা জানান, নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ পাঠ্যপুস্তকের ২২ নম্বর গদ্যের লেখক পরিচিত অংশে জিয়াউর রহমানকে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান, জেড ফোর্সের অধিনায়ক, ১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ও ‘বীর উত্তম’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এই প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধকে সর্বাত্মক ‘জনযুদ্ধ’ হিসেবে চিহ্নিত করে ২৫ মার্চের

    গণহত্যার পর শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেপ্তার হলে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল মুক্তিকামী মানুষের জন্য ‘তূর্যধ্বনির মতো’।

    এনসিটিবি জানায়, প্রবন্ধটির মূল বর্ণনা শুরুর আগে কিছু ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। ব্যাখ্যায় ১৯৭২ সালে ‘দৈনিক বাংলা’য় প্রকাশিত ‘একটি জাতির জন্ম’ ও ১৯৮০ সালে অধুনালুপ্ত ‘দৈনিক দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধ দুটিকে মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য দলিল হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যক্তি বা দলের কৃতিত্ব নয়। এতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অনিবার্য নাম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

    কারিকুলাম সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, গদ্যের প্রবন্ধে ১৯৭১ সালের মার্চে চট্টগ্রাম থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা ও সম্মুখসমরের আত্মত্যাগের এক অনন্য আলেখ্য চিত্রিত হয়েছে।

    প্রস্তাবিত প্রবন্ধের মূল কথায় যা আছেÑ

    মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র দায়িত্ব গ্রহণের অনুভূতির কথা বর্ণনা করতে গিয়ে নিবন্ধে জিয়াউর রহমান লিখেছেন— ‘সবাই আমরা যুদ্ধ করেছি। সৈনিক, জনগণ সবাই। জাতির চরম সংকটের মুহূর্তে কাউকে না কাউকে সামনে এগিয়ে আসতে হয়। নিতে হয় দায়িত্ব। আমি কেবল সেই দায়িত্ব পালন করেছি। নেতারা যখন উধাও হয়ে গেল— সিদ্ধান্ত দেওয়ার কেউ থাকল না, তখন জাতির পক্ষ থেকে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত আমাকে ঘোষণা করতে হলো… ২৬ মার্চ রাতের প্রথম প্রহরে সেই চূড়ান্ত সময়টি এলো, যার জন্য গোটা মাস আমরা রুদ্ধশ্বাস হয়ে প্রতীক্ষা করছিলাম।’চট্টগ্রামে পকিস্তানি বাহিনীর ষড়যন্ত্র অনুধাবন এবং ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সন্দেহজনক গতিবিধির বিবরণ দিয়ে মেজর জিয়া উল্লেখ করেন— ‘১ মার্চ থেকে ২০তম বেলুচ রেজিমেন্টের রহস্যজনক গতিবিধি থেকে আমরা সুস্পষ্ট আঁচ করতে পারছিলাম কী ঘটতে যাচ্ছে… ১৩ মার্চ নেতাদের সঙ্গে ইয়াহিয়ার গোলটেবিল বৈঠক শুরু হলো। এর মধ্যেই পাকিস্তানি জেনারেলরা একের পর এক বিমানে আসতে লাগলেন… এ ছিল সর্বাত্মক হামলার এক ভীতিকর পূর্বাভাস… দ্রুত ঘনিয়ে এলো পঁচিশ-ছাব্বিশের সেই রাত। রাত ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দরে জেনারেল আনসারীর কাছে রিপোর্ট করার জন্য ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার আমার কাছে নির্দেশ পাঠালেন। নৌবাহিনীর একটি ট্রাক পাঠানো হলো আমাকে এসকর্ট করে নিয়ে যাওয়ার জন্য…’

    নিবন্ধে জিয়াউর রহমান আরও লেখেন, ‘আগ্রাবাদের এক ব্যারিকেডের সামনে ট্রাক থেমে গেল… ঠিক সে সময়ে মেজর খালিকুজ্জামান সেখানে আমার সঙ্গে দেখা করলেন। অনুচ্চ স্বরে বললেন, ওরা ক্যান্টনমেন্টে হামলা শুরু করেছে। শহরেও অভিযান চালিয়েছে। হতাহত হয়েছে বহু নিরীহ মানুষ। যে সময়ের জন্য এতদিন অপেক্ষা করছিলাম, সে সময় এসে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলাম, ‘উই রিভোল্ট’। নির্দেশ দিলাম, ষোলশহরে ছুটে যাও। পাকিস্তানি অফিসারদের আটক করো। যুদ্ধের জন্য তৈরি করে রাখো ব্যাটালিয়নের সবাইকে।’

    জিয়াউর রহমান লিখেছেন— ‘ষোলশহরে এসে মুহূর্তে একটি রাইফেল কেড়ে নিলাম তাদের একজনের কাছ থেকে… ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সেন্টারে এলাম। লে. কর্নেল চৌধুরী এবং ক্যাপ্টেন রফিকের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলাম। সিভিল টেলিফোন সার্ভিসের একজন অপারেটরকে টেলিফোনে পেলাম। তাকে বললাম: ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অষ্টম ব্যাটালিয়ন স্বাধীনতা যুদ্ধ ঘোষণা করেছে, এ সংবাদটি যেন সে চট্টগ্রামের ডিসি, কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি আর রাজনৈতিক নেতাদের জানিয়ে দেয়। কারণ টেলিফোনে আমি তাদের কাউকে পাচ্ছিলাম না।

    টেলিফোন অপারেটর দারুণ আনন্দ প্রকাশ করল আমার কথায় এবং ঐ গভীর রাতেই সবার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করল সে।’

    তিনি আরও লেখেন, ‘সেই মুহূর্তটি ছিল জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ব্যাটালিয়নের সব অফিসার আর জোয়ানদের এক জায়গায় একত্র করে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিলাম। বললাম, আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধে নেমেছি। তারা এই ঘোষণাটির জন্যই উন্মুখ হয়ে অপেক্ষা করছিল। সঙ্গে সঙ্গে সবাই উল্লাসধ্বনি করে সাড়া দিল। পর মুহূর্তেই সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। রাত তখন ২টা ১৫ মিনিট। ২৬শে মার্চ ১৯৭১। জাতির জন্যে অবিস্মরণীয় সেই মুহূর্তটি।’

    পটিয়ার পাহাড়ে প্রথম মুক্তাঞ্চল গঠন ও সামরিক কৌশলের বর্ণনা দিয়ে মেজর জিয়া লেখেন— ‘রাত ৪টায় রেললাইন ধরে পটিয়ার পাহাড়ের দিকে যাত্রা করলাম। পথে ইপিআর-এর একশজন আমাদের সাথে যোগ দিল… ২৬শে মার্চের মধ্যেই তিনশ সদস্যের বাহিনীকে চট্টগ্রাম পাঠানো হলো হানাদারের মোকাবিলার জন্য। প্রচণ্ড যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। সেই প্রথম সম্মুখসমর, পাকিস্তানি শিবিরে তখন আতঙ্ক। তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলো।’

    কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ঐতিহাসিক স্বাধীনতা ঘোষণার স্মৃতিচারণ করে নিবন্ধে জিয়াউর রহমান লিখেছেন—‘দিনটি ছিল ২৭শে মার্চ… সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রেডিও স্টেশনে এলাম। হাতের কাছে একটি এক্সারসাইজ খাতা পাওয়া গেল। তার একটি পৃষ্ঠায় দ্রুতহাতে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম ঘোষণার কথা লিখলাম— স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বভার নিয়েছি, সে কথাও লেখা হলো সেই প্রথম ঘোষণায়… বেতার তরঙ্গের সে ঘোষণা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি রেডিওতে ধরা পড়ল। আর বিশ্ববাসী সেই প্রথম শুনলো: বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের ঘোষণা নিয়ে যুদ্ধে নেমেছে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে…২৭শে মার্চ, সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ইথারে ঘোষণাটি উচ্চারিত হওয়ার পর মুহূর্তেই বিশ্বমানচিত্রে অঙ্কিত হয়ে গেল ‘স্বাধীন বাংলাদেশ’ কথাটি। ‘সে ছিল সত্যি এক অলৌকিক ব্যাপার!’

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বাসস’কে বলেন, ‘এনসিসিসি সভায় নিবন্ধটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ও নির্মোহ ইতিহাস জানতে পারবে।’

  • বই কেন পড়বে

    বই কেন পড়বে

    সম্পাদকীয়:

    আমরা জানি, পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য পাঠ্যবই পড়া খুবই জরুরি। কিন্তু শুধু ক্লাসের পাঠ্যবই পড়লেই কি সব শেখা হয়ে যায়? না, যায় না। গল্প, কবিতা, উপন্যাস, ভ্রমণকাহিনি, ধর্মীয়, জীবনী কিংবা বিজ্ঞানবিষয়ক বই আমাদের শেখার জগৎকে আরো বড় করে দেয়। এসব বই শুধু তথ্য দেয় না, জীবনকে নতুনভাবে দেখতেও শেখায়। সেই সঙ্গে জীবনের নানা প্রতিকূলতাকে সঠিক পথে সমাধান করার পথ দেখায়।

    গল্পের বই পড়লে আমরা নানা মানুষের জীবন, সুখ-দুঃখ, সাহস, সংগ্রাম আর সাফল্যের কথা জানতে পারি। এতে আমাদের কল্পনাশক্তি বাড়ে আর নতুনভাবে ভাবতে শিখি। কবিতা পড়লে ভাষার সৌন্দর্যটা বুঝতে পারি, নতুন নতুন শব্দের সঙ্গে পরিচয় হয় আর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করাও সহজ হয়ে যায়। উপন্যাস পড়লে ধৈর্য ধরে পড়ার অভ্যাস হয়, মানুষের মন বুঝতে সাহায্য করে আর বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কীভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, সেটাও বোঝা যায়। আর ভ্রমণকাহিনি পড়লে ঘরে বসেই দেশ-বিদেশের পাহাড়, নদী, সমুদ্র, বন, মরুভূমি আর নানা সংস্কৃতি সম্পর্কে জানা যায়।

    বই আসলে আমাদের খুব ভালো একজন বন্ধু। মন খারাপ থাকলে একটি ভালো বই আনন্দ দেয়, একা থাকলে সঙ্গ দেয় আর অবসর সময়টাকে সুন্দরভাবে কাটাতে সাহায্য করে। নিয়মিত বই পড়লে চিন্তাশক্তি বাড়ে, স্মৃতিশক্তি ভালো হয় আর সুন্দরভাবে কথা বলা ও লেখার অভ্যাস তৈরি হয়। পরীক্ষার উত্তর লেখাও তখন সহজ হয়ে আসে, কারণ বই আমাদের ভাষা সমৃদ্ধ করে আর নিজের কথা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে সাহায্য করে।

    যারা বেশি বই পড়ে, তারা সাধারণত বেশি প্রশ্ন করে, নতুন কিছু জানতে চায় আর সমস্যা সমাধানেও ভালো হয়। বই মানুষকে শুধু জ্ঞানীই না, আরো মানবিকও করে তোলে। অন্যের কষ্ট বোঝা, প্রকৃতিকে ভালোবাসা, সত্য কথা বলা, দায়িত্বশীল হওয়া আর দেশকে ভালোবাসার মতো গুণগুলো বই থেকেই আমরা শিখি। অনেক বড় বিজ্ঞানী, লেখক, নেতা আর আবিষ্কারকের জীবনে বইই ছিল সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।

    আজকাল মোবাইল, টিভি আর ইন্টারনেটে অনেক কিছু জানা যায় ঠিকই, কিন্তু বই পড়ার যে মজা আর গভীরতা, সেই সঙ্গে জ্ঞানের ভান্ডারের অধিকারী হওয়া, সেটা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। বই আমাদের মনোযোগ বাড়ায়, ধৈর্য শেখায় আর গভীরভাবে চিন্তা করার অভ্যাস গড়ে তোলে। তাই প্রতিদিন অল্প হলেও বই পড়ার অভ্যাস রাখা ভালো। দিনে মাত্র ২০-৩০ মিনিট বই পড়লেও বছরে অনেক বই শেষ করা সম্ভব।

    মনে রেখো, পাঠ্যবই আমাদের পরীক্ষায় ভালো করতে সাহায্য করে আর গল্প, কবিতা, উপন্যাস ও ভ্রমণকাহিনি আমাদের মানুষ হিসেবে আরো ভালো করে তোলে। তাই শুধু ভালো ছাত্র না, ভালো মানুষ হতে চাইলে বইকে নিজের সবচেয়ে কাছের বন্ধু বানিয়ে ফেলো।

  • অষ্টম-নবমের বই কিনতে ৭৩৯ কোটি টাকা

    অষ্টম-নবমের বই কিনতে ৭৩৯ কোটি টাকা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের অষ্টম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহে মোট ৭৩৯ কোটি ১৩ লাখ ২৩ হাজার ১৩৯ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে অষ্টম শ্রেণির বইয়ের জন্য ২৪৪ কোটি ২১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৫৯ টাকা এবং নবম শ্রেণির বইয়ের জন্য ৪৯৪ কোটি ৯১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৮০ টাকা ব্যয় হবে।

    বৈঠকে অষ্টম শ্রেণির মাধ্যমিকের বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণ এবং দাখিল ও কারিগরি স্তরের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের দরপ্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এজন্য মোট ১০০টি দরপত্রের মাধ্যমে ৩ কোটি ৯৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৫টি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের পর মোট ১৫৪টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। এর মধ্যে ১৩৪টি দরপ্রস্তাব গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। সব প্রক্রিয়া শেষে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি ১০০টি দরপত্রের মধ্যে ৯৮টির বিপরীতে সুপারিশ করা গ্রহণযোগ্য সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বই কেনার সুপারিশ করে। সুপারিশ অনুযায়ী ৩ কোটি ৮৬ লাখ ৬১ হাজার ৩৮৩টি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহে ব্যয় হবে ২৪৪ কোটি ২১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৫৯ টাকা। অর্থাৎ প্রতি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, কাগজসহ বাঁধাই ও সরবরাহে গড়ে ব্যয় হবে ৬৩ টাকা ১৭ পয়সা।

    এ ক্রয় প্রস্তাবে ৯২টি লটে প্রথম সর্বনিম্ন দরদাতাকে এবং ছয়টি লটে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতাকে সুপারিশ করা হয়েছে। বাকি দুটি লটের জন্য পুনঃদরপত্র আহ্বানের সুপারিশ করা হয়। অন্যদিকে, একই বৈঠকে নবম শ্রেণির মাধ্যমিকের বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণ এবং দাখিল ও কারিগরি স্তরের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের ক্রয় প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়।

    এ প্রস্তাবের আওতায় মোট ২১৫টি দরপত্রের মাধ্যমে ৫ কোটি ২০ লাখ ৫০ হাজার ৪৪৬ কপি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের জন্য ১৩০টি প্রতিষ্ঠানকে সুপারিশ করা হয়েছে। এ কাজে মোট ক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে ৪৯৪ কোটি ৯১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৮০ টাকা।২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দিতে সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসব বই মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহ করা হবে।

  • পাঠ্যবই মুদ্রণে এখনো সক্রিয় আওয়ামী সিন্ডিকেট

    পাঠ্যবই মুদ্রণে এখনো সক্রিয় আওয়ামী সিন্ডিকেট

    পাঠ্যবই মুদ্রণে সক্রিয় আওয়ামী সিন্ডিকেট

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বিনামূল্যের সরকারি পাঠ্যবই মুদ্রণে এখনো সক্রিয় পুরোনো আওয়ামী সিন্ডিকেট। ১০-১২ জনের ওই চক্রটি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে আঁতাত করে কৌশলে ভাগবাঁটোয়ারা করে নিয়ে নিচ্ছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার মুদ্রণকাজের সিংহভাগ। এতে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন ক্ষুদ্র-মাঝারি মুদ্রণশিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা। হতাশায় অনেকে এ পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন।

    এনসিটিবি ও মুদ্রণশিল্পে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এনসিটিবি থেকে এ চক্রের হোতাদের বদলি করা হয়। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর আবার ফিরে এসে সক্রিয় হয়েছেন বিতর্কিত ওইসব কর্মকর্তারা।

    সবচেয়ে বেশি বিতর্কিতদের মধ্যে রয়েছেনÑএনসিটিবির সচিব অধ্যাপক শাহ মুহাম্মদ ফিরোজ আল ফেরদৌস। তিনি আওয়ামী আমলের শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির ঘনিষ্ঠ পানি জাহাঙ্গীর, শাহেদুল খবির, রতন কুমার ও নিজামুল হক সিন্ডিকেটেরও সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের এপ্রিলে তাকে এনসিটিবি থেকে বদলি করা হয়েছিল। সম্প্রতি নতুন করে এনসিটিবিতে তার পদায়নের পেছনে প্রভাবশালী মহল এবং শেখ হাসিনার পিয়ন পানি জাহাঙ্গীরের ঘনিষ্ঠ অগ্রণী ও কর্ণফুলী প্রিন্টিং প্রেসের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেটের সংযোগ বয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।

    জানা যায়, ওই দুটি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান আওয়ামী আমলে ৪০০ কোটি টাকার মালিক শেখ হাসিনার আলোচিত পিয়ন জাহাঙ্গীরের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। তারা ২০২৫ ও ২০২৬ সালের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণে কিছুটা চাপের মুখে থাকলেও কৌশলে বিশাল অঙ্কের কাজ করেছে। তারাই এখন পুরোনো সিন্ডিকেটকে সক্রিয় করতে গুরুত্বপূর্ণ পদে ফের নিজেদের লোক পদায়ন করতে ভূমিকা রাখছে বলে জানা গেছে।

    আগামী বছরের পাঠ্যবই মুদ্রণে টেন্ডারের প্রক্রিয়া চলমান। এনসিটিবি জানিয়েছে, বিনামূল্যের পাঠ্যবই সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করতে পিপিআর-২০২৫ অনুযায়ী ২০৬ থেকে ২২০ দিনের সুনির্দিষ্ট দরপত্র সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। রোডম্যাপ অনুযায়ী, লট বিভাজন ও দরপত্র আহ্বান গত ৩ জুন শুরু হয়েছে।

    সূত্র জানায়, পরবর্তী ধাপ হিসেবে আগামী ২৮ জুন দরপত্র দাখিল ও উন্মুক্ত করা হবে, ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে দরপত্র মূল্যায়ন, ২৭ আগস্টের মধ্যে দরপত্র অনুমোদন, ৩০ আগস্ট কার্যাদেশ জারি এবং ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করা হবে। এরপর ২৯ নভেম্বরের মধ্যে মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ের কাজ শেষ করে মাঠপর্যায়ে শতভাগ পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করা হবে।

    এর মধ্যে ওই চক্রটি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এক্ষেত্রে এনসিটিবির কিছু কর্মকর্তা তাদের গোপনে সহযোগিতা করে পুরো টেন্ডার প্রক্রিয়াটি নিজেদের অধীনে নিয়ে যেতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এ সিন্ডিকেট এনসিটিবি হয়ে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত বিস্তৃত।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, এ সিন্ডিকেট ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে রয়েছে ৪০০ কোটি টাকার মালিক হাসিনার পিয়ন জাহাঙ্গীরের সাঙ্গোপাঙ্গরা। এছাড়াও সাবেক মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের ভাই আনন্দ প্রিন্টার্সের মালিক রাব্বানী জব্বার, অগ্রণী অফসেট প্রিন্টার্সের মালিক, মুদ্রণশিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি এবং যুবলীগের নেতা জহুরুল ইসলাম, মুদ্রণ শিল্প সমিতির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান জুনায়েদুল্লাহ আল মাহফুজ প্রমুখ।

    এদিকে দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থীর হাতে সময়মতো নতুন পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া এনসিটিবির প্রধান দায়িত্ব হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ গুরুত্বপূর্ণ খাতটি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের সময় গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী ‘আওয়ামী সিন্ডিকেট’ এখনো টেন্ডার প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে, এ কারণে চরম সংকটে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি মানের মুদ্রণ ব্যবসায়ীরা।

    টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও সিন্ডিকেটের কারসাজি অনুসন্ধানে জানা গেছে, এনসিটিবির বার্ষিক পাঠ্যবই মুদ্রণের বিশাল কাজের টেন্ডারে স্বচ্ছতার অভাব দীর্ঘদিনের। একটি নির্দিষ্ট চক্র গত কয়েক বছর ধরে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগসাজশে গড়ে ওঠা এ সিন্ডিকেট আগেভাগেই টেন্ডারের কাজ ভাগবাঁটোয়ারা করে নেয়। এ কারণে সাধারণ বা নতুন মুদ্রণ ব্যবসায়ীরা দরপত্রে অংশগ্রহণ করলেও কৌশলী শর্তাবলি এবং রাজনৈতিক প্রভাবে তাদের কাজ পাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    এছাড়াও সিন্ডিকেটে জড়িতরা কৌশলে এনসিটিবির কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ছোট ছোট প্রেসকে বিভিন্ন অজুহাতে কালোতালিকাভুক্ত করে বাদ করে দেওয়া হয়।

    ভুক্তভোগী হাক্কানি প্রিন্টার্সের মালিক জহির মনি আমার দেশকে বলেন, বাঁধাই যন্ত্র না থাকার অজুহাতে আমার প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানো নোটিস দেওয়া হয়েছে। অথচ অভিযোগটি সম্পূর্ণ মনগড়া ও বানোয়াট। আমাদের প্রেসে স্থায়ীভাবেই বাঁধাই যন্ত্র রয়েছে। কৌশলে আমাদের বাদ দিতেই উদ্দেশ্যপূর্ণ নোটিস দেওয়া হয়। এটা মূলত সিন্ডিকেট চক্রের ইশারায় করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, এভাবে শুধু আমাদেরই নয়, সাধারণ অনেক প্রেস মালিককে হয়রানি করা হচ্ছে। মূলত সিন্ডিকেট টিকিয়ে রাখতেই এমনটি করা হচ্ছে।

    ভুক্তভোগী মুদ্রণ ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডারে উন্মুক্ত অংশগ্রহণের সুযোগ থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয় না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা বছরের পর বছর এ পেশায় আছি, কিন্তু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে আমরা এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে। বড় বড় ঠিকাদাররা সব কাজ ভাগ করে নেয় আর আমরা পড়ে থাকি কাজহীন । সিন্ডিকেটের সদস্যরা ছোট ব্যবসায়ীদের যতটুকু কাজ দেন, তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় । রাজধানীর আরামবাগ, ফকিরাপুল, সূত্রাপুর ও বাংলাবাজার এলাকার বেশ কয়েকজন মুদ্রণ ব্যবসায়ী জানান, পাঠ্যবইয়ের কাজ না পাওয়ার কারণে তাদের প্রেসে কর্মীদের বেতন দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সিন্ডিকেটের চাপে টেন্ডারগুলো এমনভাবে সাজানো হয়, যেখানে ছোট বা মাঝারি সক্ষমতার প্রতিষ্ঠানগুলোর টিকে থাকা অসম্ভব।

    একই সঙ্গে সরকারি বিনামূল্যের পাঠ্যবইয়ে বিশাল সিন্ডিকেটে গড়ে শতকোটি টাকার দুর্নীতি হচ্ছে। এসব জানার পরও কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এমনকি সিন্ডিকেটের অবৈধ চাপে নতি শিকার করে পুরোনো বিতর্কিত কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে নেওয়াসহ নানা সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে মন্ত্রণালয়কে।

    সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাধ্যমিকের বিনামূল্যের বই মুদ্রণে একটি নির্দিষ্ট পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে ভিন্ন ভিন্ন প্রেস থেকে নিম্নমানের বই মুদ্রণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বছর প্রাথমিকের বই মুদ্রণেও নাহার প্রেস নামে একটি প্রেস থেকে নিম্নমানের কাগজে ছাপার অভিযোগ ওঠে। মাধ্যমিকের বই মুদ্রণে একই পরিবারের চার প্রেসের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ পায় খোদ এনসিটিবি।

    সূত্র জানায়, মাধ্যমিকের বিভিন্ন শ্রেণির বিষয়ভিত্তিক একাধিক লটের বিপুলসংখ্যক বই মুদ্রণের কাজ পেয়েছিল কর্ণফুলী আর্ট প্রেস ও অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেস নামে দুটি প্রতিষ্ঠান। এ দুটি প্রেস পাঠ্যবই ছাপাতে সাড়ে আট হাজার টন কাগজ ব্যবহার করে। নিম্নমানের কাগজে বিপুলসংখ্যক বই ছাপিয়ে সরকার থেকে ২০ কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নেয় অভিযুক্ত প্রেসগুলো।

    এনসিটিবি সূত্র জানায়, ২০২৬ সালের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ৩০ কোটির অধিক বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ করে সরকার। এসব পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ করেছে ১০৪টি বেসরকারি প্রেস । যার মধ্যে শুরু থেকেই কয়েকটি প্রেসের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।

    সূত্র জানায়, কর্ণফুলী ও অগ্রণী নামের এ প্রতিষ্ঠান থেকে ছাপানো ৫০ লাখ ফর্মা এবং নিম্নমানের রিসাইকেলকৃত কাগজে বই ছাপানোর কারণে বাইন্ডিং, কাটিং ও সরবরাহ স্থগিতও করেছিল তদারক প্রতিষ্ঠান এনসিটিবি। শুধু তাই নয়, ছাপা হওয়া নিম্নমানের এসব বই ও ফর্মা ধ্বংস করার নির্দেশও দিয়েছিল ওই তদারককারী প্রতিষ্ঠান।

    ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বরাবরই বড় লটের কাজ পেয়ে থাকে তারা। এনসিটিবির কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি স্তরের জন্য মোট ৩০ কোটি ৭১ লাখ ৯৮ হাজার ১০১ কপি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ করা হবে। এ কর্মসূচিতে সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা।

    বিষয়টি নিয়ে এনসিটিবির উচ্চপর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা জানান, টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে করা হয়। তবে সিন্ডিকেটের অভিযোগ সম্পর্কে তারা সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে জানান, যদি সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে তারা যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।

    বিতর্কিত কর্মকর্তাদের ফিরে আসার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এনসিটিবির সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক পাটওয়ারী।

    সম্প্রতি শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক বলেছেন, অতীতে যারা খারাপ কাজ করেছে বা শেষ মুহূর্তে এসে নিম্নমানের বই দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তাদের এ বছর বই ছাপার কাজ দেওয়ার আগে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করা হবে। পাঠ্যবই মুদ্রণ কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আগামী বছর যথাসময়ে পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা ও অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।