ট্যাগ ফ্রান্স

  • ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

    ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে ফ্রান্সের হাইস্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে জাতীয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানো, শ্রেণিকক্ষে বিঘ্ন কমানো এবং বিরতির সময় সহপাঠীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই নিষেধাজ্ঞাটি কার্যকর হবে। তবে সিদ্ধান্তটি হঠাৎ নেওয়া হয়নি। ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের শুরুতে ফ্রান্সের পার্লামেন্টে শিশু ও কিশোরদের প্রযুক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে ওঠে।

    জুলাইয়ে ফরাসি আইনপ্রণেতারা নতুন আইন অনুমোদন করেন। ২১ জুলাই পার্লামেন্টে পাশ হওয়া আইনে ১৫ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়। আইনটি পাশের পর সরকার জানায়, নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

    এরপর ২৪ আগস্ট সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি আবারও স্পষ্ট করা হয়। সরকারের মুখপাত্র মওদ ব্রেজোঁ জানান, নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে। ফলে ১ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তনের দিন হয়ে উঠেছে।ফ্রান্সে স্কুল পর্যায়ে মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা আগে থেকেই রয়েছে। এবার সেই বিধিনিষেধ হাইস্কুল পর্যন্ত বিস্তৃত করা হচ্ছে। সরকারের যুক্তি, শিক্ষার্থীরা দিনের বড় একটি সময় ফোনের পর্দায় ব্যস্ত থাকলে পড়াশোনায় মনোযোগ কমতে পারে। একই সঙ্গে বিরতির সময় সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলা, খেলাধুলা কিংবা সরাসরি সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগও কমে যায়।

    নতুন নিয়মের মাধ্যমে স্কুলের সময়টুকুকে আরও মনোযোগী ও সামাজিক করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফরাসি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে এটি প্রযুক্তিবিরোধী কোনো পদক্ষেপ নয়; বরং শিক্ষার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

    তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পদ্ধতি সব হাইস্কুলে এক হবে না। নতুন আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিধিমালায় মোবাইল ফোন ব্যবহারের নিয়ম নির্ধারণ করবে। কোথায় ফোন রাখা হবে, কখন ব্যবহার করা যাবে এবং নিয়ম ভাঙলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব বিষয় স্কুলভেদে নির্ধারিত হতে পারে।

    কোনো কোনো স্কুলে শিক্ষার্থীদের ফোন ব্যাগের মধ্যে বন্ধ করে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান ফোন রাখার জন্য বিশেষ বাক্স, পকেট বা লকার ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বড় স্কুলগুলোর জন্য এই ব্যবস্থা তৈরি করা সহজ নয়। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও বড় ক্যাম্পাসের কারণে ফোন সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং নিরাপদে ফেরত দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হচ্ছে।

    এখানেই নতুন আইনের বাস্তবায়ন নিয়ে কিছুটা জটিলতা দেখা দিয়েছে। ২৭ আগস্টের প্রতিবেদনে ফরাসি সংবাদপত্র ল্য মন্ড জানায়, অনেক হাইস্কুল ১ সেপ্টেম্বরের আগে নতুন নিয়ম পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত হতে পারেনি। কারণ অভ্যন্তরীণ বিধিমালা পরিবর্তনের জন্য স্কুল পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন। গ্রীষ্মের ছুটির সময়ে আইনটি চূড়ান্ত হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানের হাতে প্রস্তুতির সময়ও কম ছিল।

    কিছু স্কুল অবশ্য আগেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্যারিসের বুফোঁ হাইস্কুল এবং বেজিয়েরের জ্যাঁ মুলাঁ হাইস্কুলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের নিয়ম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। কোথাও স্কুলের নির্দিষ্ট অংশে ফোন ব্যবহারের সুযোগ রাখার কথাও বিবেচনা করা হয়েছে। অর্থাৎ জাতীয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগের ধরন প্রতিষ্ঠানভেদে কিছুটা আলাদা হতে পারে।

    নতুন ব্যবস্থায় বিশেষ পরিস্থিতির জন্য ব্যতিক্রমও থাকবে। চিকিৎসাজনিত প্রয়োজন বা নির্দিষ্ট শিক্ষাগত পরিস্থিতিতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ রাখা যেতে পারে। ফলে নিয়মটি সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রয়োগ না করে প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

    নিয়ম ভাঙলে শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন সাময়িকভাবে জব্দ করা হতে পারে। কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে, সেটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিধিমালার ওপর নির্ভর করবে। উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়া নয়; বরং স্কুলে ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যবহারের ওপর একটি স্পষ্ট সীমা তৈরি করা।

    তবে ফ্রান্সের এই উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, একই সময়ে দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থা ক্রমেই ডিজিটাল হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থীরা সময়সূচি, বাড়ির কাজ, স্কুলের নোটিশ ও বিভিন্ন শিক্ষাসংক্রান্ত তথ্যের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে। অনেক স্কুলে খাবারের ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য দৈনন্দিন সেবাতেও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে। ফলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি শিক্ষার প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সেবা কীভাবে সচল রাখা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    শিক্ষার্থীদের জন্য অবশ্য এই পরিবর্তনের ইতিবাচক দিকও রয়েছে। ফোনের ব্যবহার কমলে ক্লাস চলাকালে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হতে পারে। বিরতির সময় শিক্ষার্থীরা ফোনের পর্দায় ব্যস্ত থাকার পরিবর্তে সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলা, খেলাধুলা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার বেশি সুযোগ পাবে। সরকারের প্রত্যাশা, এতে স্কুলের পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়বে।

    বাংলাদেশের জন্যও ফ্রান্সের এই উদ্যোগ শিক্ষাক্ষেত্রে আলোচনার বিষয় হতে পারে। বাংলাদেশেও স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের হাতে স্মার্টফোনের ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও দেখা ও অনলাইন বিনোদনে তরুণদের সময় ব্যয়ের বিষয়টি অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই বাস্তবতায় ফ্রান্সের মতো একটি প্রযুক্তিনির্ভর দেশ কীভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করছে, তা শিক্ষানীতি নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে।

    ১ সেপ্টেম্বর থেকে ফ্রান্সের হাইস্কুলে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর এখন মূল বিষয় হবে এর বাস্তব ফলাফল। শিক্ষার্থীদের মনোযোগ কতটা বাড়ে, স্কুলের পরিবেশে কী পরিবর্তন আসে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে কতটা সহজে মানিয়ে নিতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করবে এই উদ্যোগের সাফল্য।

  • ২০৩০ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের কোচ জিদান

    ২০৩০ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের কোচ জিদান

    দিদিয়ে দেশমের দীর্ঘ ১৪ বছরের পথচলার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ফরাসি ফুটবলের মহানায়ক জিনেদিন জিদানকেই কোচ হিসেবে নিয়োগ দিল ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ)। রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর বহু চড়াই-উতরাই ও দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নিজের আজন্ম লালিত স্বপ্নের চেয়ারে বসলেন এই ফরাসি কিংবদন্তি। এফএফএফ অফিশিয়ালি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    জিদানের সঙ্গে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তি করেছে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন। এর ফলে ইউরো ২০২৮ এবং ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপে লে ব্লুদের ডাগআউটে দেখা যাবে সাবেক এই বিশ্বজয়ীকে।

    জিদানকে কোচ হিসেবে ঘোষণা করার পর এফএফএফ সভাপতি ফিলিপ দিয়ালো একে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘এটি এক অসাধারণ ও অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ফেডারেশন নতুন কোনো প্রধান কোচ নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ পেল। আমি দেশমের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ধন্যবাদ জানাতে চাই। দীর্ঘ ১৪টি বছর তিনি ফরাসি ফুটবলকে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ চূড়ায় ধরে রেখেছিলেন। মাঠের ফুটবলে লে ব্লুদের ভাবমূর্তি তিনি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তার অবদানকে যথাযথ সম্মান জানানো অত্যন্ত জরুরি।’

    প্যারিসের এই নতুন অধ্যায় নিয়ে উচ্ছ্বাস আর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি জিদানও। দায়িত্ব পেয়ে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এটি আমার জন্য এক অসীম আনন্দের মুহূর্ত। আমি সত্যিই ভীষণ আনন্দিত ও শিহরিত। এই নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে আমি পুরোপুরি প্রস্তুত এবং এটি আমাকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করছে।’

    রিয়াল মাদ্রিদে অভূতপূর্ব সাফল্যের পর বিভিন্ন নামি ক্লাবের প্রস্তাব ফেরালেও জিদানের পাখির চোখ ছিল কেবলই ফ্রান্স দলের ওপর। নিজের পুরোনো স্মৃতি ও ফ্রান্স জাতীয় দলের প্রতি ভালোবাসার কথা স্মরণ করে জিদান আরও বলেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদে কোচিং পর্ব শেষ করার পর ফ্রান্স জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়াই ছিল আমার একমাত্র ইচ্ছা। আমি অন্য সব ক্লাবের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছি শুধু ফরাসি জাতীয় দলের কোচ হওয়ার জন্য। শৈশব থেকেই এই লালিত স্বপ্নের কথা আমি জানি; ফরাসি যুব দল থেকে শুরু করে প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে একসময় মূল জাতীয় দলে খেলেছি, যা একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ চূড়া। এই দলের জন্য কাজ করা এবং তাদের একের পর এক জয় সুনিশ্চিত করা-এটিই এখন আমার একমাত্র অনুপ্রেরণা।’

    খেলোয়াড় হিসেবে দেশের হয়ে ১৯৯৮ বিশ্বকাপ ও ২০০০ ইউরোজয়ী জিদান কোচিং ক্যারিয়ারেও রিয়াল মাদ্রিদকে টানা তিনটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতিয়ে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন। দেশমের বিদায়ের পর ডাগআউটে জিদানের মতো ব্যক্তিত্বের আগমন ফরাসি ফুটবলে এক নতুন সূর্যোদয়ের বার্তা দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, খেলোয়াড় ও ক্লাব কোচের সাফল্য তিনি ফরাসি ডাগআউটে কতটা ধরে রাখতে পারেন।

  • সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর সঙ্গে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর সঙ্গে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শারলে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিস কক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, নারী অধিকার রক্ষা, নারী ও শিশুদের টেকসই উন্নয়ন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, ফ্যামিলি কার্ড, এমসিবিপি, মিড-ডে মিল, সন্ত্রাসবাদ নির্মূলসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

    মন্ত্রী বলেন, ফ্রান্স বাংলাদেশের একটি নির্ভরযোগ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে ফ্রান্স সরকারের উন্নয়ন সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য মন্ত্রী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনু্যায়ী নারী অধিকারকে প্রাধান্য দিয়ে নারীদের নামে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করছেন। যা বর্তমান সরকারের নারী নীতিরই অংশ।

    মন্ত্রী আরও বলেন, নারী শিক্ষাকে স্নাতক পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করায় দেশে নারী শিক্ষার হার বাড়ার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্মজীবী নারীরা যাতে তাদের সন্তানদের নিরাপদে রেখে কাজে যেতে পারেন, সেজন্য দিবাযত্ন কেন্দ্র সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে কয়েকটি দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিদর্শনও করেছেন।

    সাক্ষাৎকালে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে নারী ক্ষমতায়ন, জেন্ডার সমতা অর্জন এবং দুস্থ শিশুদের সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড এবং প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগসমূহ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মত প্রকাশ করেন।

    এছাড়া রাষ্ট্রদূত নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীল সমাজ গঠনে ফ্রান্স সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের কারিগরি ও উন্নয়ন সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

    আলোচনাকালে মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার কেয়ার ইকোনোমিকে গুরুত্ব দিয়ে নারীদেরকে কেয়ার গিভিং প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন ভাষায় দক্ষ করে তুলছে। ইতোমধ্যে অনেকেই প্রশিক্ষণ নিয়ে আরব দেশগুলোতে গমন করেছেন, ফ্রান্সেও যাতে নারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং বাংলাদেশের নারীরা যাতে তাদের হাতে তৈরি পণ্যসমূহ ফ্রান্সে রপ্তানি করতে পারে, সে ব্যাপারে মন্ত্রী বিশেষ সহায়তা চাইলে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে ইতিবাচক সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

    সবশেষে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য ফেমিনিস্ট ফরেন পলিসি (এফএফপি) বিষয়ক সম্মেলনে মন্ত্রীকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।

  • বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ফ্রান্সে উত্তেজনা, গ্রেফতার কমপক্ষে ১৬০

    বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ফ্রান্সে উত্তেজনা, গ্রেফতার কমপক্ষে ১৬০

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর ফ্রান্সের একাধিক শহরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ম্যাচ শেষে প্যারিস ও লিওঁসহ কয়েকটি এলাকায় সমর্থকদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অভিযান চালিয়ে দুই শহর মিলিয়ে ১৬০ জনের বেশি ব্যক্তিকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘বিএফএমটিভি’ জানিয়েছে, শুধু রাজধানী প্যারিস থেকেই ১৪১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ প্রিফেকচারের তথ্যমতে, বেশির ভাগ গ্রেফতারের কারণ ছিল পুলিশ সদস্য ও জরুরি সেবাকর্মীদের লক্ষ্য করে আতশবাজির মর্টার ছোড়া।

    অন্যদিকে, লিওঁর প্লাস বেলকুর চত্বরে বড় পর্দায় শত শত সমর্থক সেমিফাইনাল উপভোগ করেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও সেখানে অনেকেই অবস্থান করছিলেন। পরে কয়েকটি ছোট দল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু, বিশেষ করে আতশবাজি নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ইউনিট সিআরএস ৮৩-এর সহায়তা নেয় পুলিশ। পরে যৌথ অভিযানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করা হয় এবং প্রায় ২০ জনকে আটক করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের বেশির ভাগই ২০০২ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া তরুণ।

    তবে পুরো ঘটনায় স্বস্তির খবরও রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংঘর্ষের সময় কোনো গুরুতর আহতের ঘটনা ঘটেনি। পাশাপাশি সরকারি বা বেসরকারি সম্পদের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবরও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

  • ফ্রান্সকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে দুরন্ত স্পেন

    ফ্রান্সকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে দুরন্ত স্পেন

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে দেখা গেল সেটাই। মাঠে ফ্রান্স ছিল। তবে বেশিরভাগ সময় তারা শুধু বলের পেছনে দৌড়েছে। আর ফুটবলটা শুধু খেলেছে যেন স্পেন।

    মাঠে ছিলেন এমবাপ্পে। কিন্তু আলো কেড়েছে ইয়ামাল, ওয়ারজাবাল, রদ্রি, ফ্যাবিয়ানরা। মাঠে ছিল গত বিশ্বকাপের রানার্সআপ। কিন্তু ফুটবল খেলেছে যেন আগামী দিনের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।২-০ গোলের দুর্দান্ত জয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে গেল স্পেন। আর কাগজে-কলমে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ফ্রান্স ধরল বাড়ি ফেরার বিমান।

    ম্যাচ শুরুর আগে সব হিসাব ছিল ফরাসিদের পক্ষে। এমবাপ্পের বিস্ফোরণ, দেম্বেলের গতি, ওলিসের সৃজনশীলতা, বারকোলার ড্রিবল—এই চার অস্ত্রই ছিল ফ্রান্স কোচ দেশমের সবচেয়ে বড় ভরসা। এই আক্রমণভাগই তাদের সেমিফাইনালে এনে দাঁড় করিয়েছিল। কিন্তু ফুটবল কেবল তারকার খেলা নয়; ফুটবল কৌশলেরও খেলা। আর সেই কৌশলের দাবার বোর্ডে শুরু থেকেই ফ্রান্সকে কিস্তিমাত করে দেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

    প্রথম বাঁশি থেকেই স্পেন যেন ঘোষণা করে দেয়—আজ বল আমাদের, ছন্দও আমাদের। ফ্রান্সের খেলোয়াড়রা বল পেলেই চারদিক থেকে লাল জার্সির ঢেউ। মাঝমাঠে এক সেকেন্ড সময় নেই। ডান দিকে পথ বন্ধ। বাঁ দিকে ফাঁদ। সামনে প্রেস। পেছনে কভার। আধুনিক ফুটবলের

    ‘পজিশনাল প্রেস’ আর ফাইভ সেকেন্ড ‘কাউন্টার প্রেস’-এর এমন নিখুঁত প্রয়োগ এই বিশ্বকাপে খুব কমই দেখা গেছে। ফলও মিলেছে হাতেনাতে।

    এমবাপ্পে কখনো একা বল পেলেনই না তেমন। দেম্বেলের সামনে তৈরি হয়নি একটিও স্বাভাবিক ওয়ান টু ওয়ান। ওলিসে বল পেলেই পাশে হাজির দুজন স্প্যানিশ। বারকোলার গতি শুরু হওয়ার আগেই থেমে গেছে। ফ্রান্সের আক্রমণ যেন কর্ক লাগানো বোতলের ভেতর বন্দি। শক্তি আছে, বিস্ফোরণ নেই।

    ১৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল পেয়ে স্পেন প্রথম ধাক্কাটা দিল। ডান প্রান্ত থেকে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন লামিনে ইয়ামাল। পেছন থেকে তার পায়ে আঘাত করেন লুকাস ডিগনে

    রেফারি ইভান বার্টনের বাঁশি বাজতে সময় লাগেনি।

    পেনাল্টি। স্পটে দাঁড়ালেন মিকেল ওয়ারজাবাল। ফরাসি গোলকিপার মাইক মেইনিয়ান ঠিক দিকেই ঝাঁপিয়েছিলেন। কিন্তু কিছু শট গোলরক্ষকের জন্য নয়। ইতিহাসের জন্য। ওয়ারজাবালের ডান পায়ের শট তীরের মতো ছুটে জড়িয়ে গেল জালের উপরের কোণে। ম্যাচে স্পেনের লিড ১-০।

    গোলের পর রক্ষণে নামেনি স্পেন। বরং আরো সাহসী হয়েছে। আরো উঁচুতে উঠেছে। আরো দ্রুত বল ঘুরিয়েছে। পুরো মাঠকে করেছে বিশাল। আর ফ্রান্সকে আটকে দিল সেই প্রশস্ত সবুজ চত্বরে।

    মাঝমাঠে রদ্রি যেন অর্কেস্ট্রার পরিচালক। তার একেকটি পাসে বদলে গেছে আক্রমণের দিক। ফ্যাবিয়ান রুইজ ছন্দ বুনেছেন। দানি ওলমো দুই লাইনের মাঝখানে ঘুরে ঘুরে ফরাসি মিডফিল্ডকে টেনে বের করেছেন। আর ইয়ামাল? মাত্র কয়েক সেকেন্ডে বুঝিয়ে দিয়েছেন, বয়স ক্যালেন্ডারে লেখা থাকে, ফুটবলে নয়। উনিশ নম্বর জন্মদিনটা দারুণ জয়ে উপভোগ করলেন স্পেনের প্লেমেকার।

    প্রথমার্ধের শেষ দিকে এমবাপ্পে একবার রাবিওর থ্রু বলে ছুটে উঠেছিলেন। কিন্তু বক্সের অনেক বাইরে উঠে এসে উনাই সিমন মুহূর্তেই নিভিয়ে দেন সেই আশার প্রদীপ। বিরতিতে মনে হচ্ছিল, এক গোলের নয়; দুই ফুটবল দর্শনের লড়াই চলছে।

    দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টা করে ফ্রান্স। কিন্তু যতই সামনে উঠেছে, ততই স্পেনের জন্য খুলেছে নতুন নতুন পথ।

    আর সেখানেই আসে শেষ আঘাত। ৬৭ মিনিটে মাঝমাঠে বল কেড়ে নিয়ে চোখের পলকে আক্রমণে যায় স্পেন। রদ্রির নিখুঁত পাস থেকে ওলমো বাম দিকে ছেড়ে দেন পেদ্রো পারোর জন্য। পারো এক স্পর্শে সামনে এগিয়ে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিচু ক্রসে বল পাঠান ফ্রান্সের জালে। বেচারা ফ্রান্সের গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না।

    স্কোর তাতেই ২-০। ফ্রান্সের জন্য ম্যাচও কার্যত ওখানেই শেষ।

    শেষ বিশ মিনিটে ফ্রান্সের শরীর ছিল

    মাঠে, মন যেন বিমানে। এমবাপ্পে ক্রমশ হতাশ। দেম্বেলের পাসে ধার নেই। ওলিসে হারিয়ে গেছেন স্প্যানিশ প্রেসের ভেতর। বারকোলার পা থেকে উধাও গতি। যে আক্রমণভাগকে এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বলা হচ্ছিল, তারা যেন একসঙ্গে ফর্ম হারিয়ে ফেলেছে।

    আসলে তারা ফর্ম হারায়নি। স্পেন তাদের খেলতেই দেয়নি। এই জয়ের নায়ক শুধু গোলদাতারা নন। এই জয়ের নায়ক ছিল একটি পরিকল্পনা। একটি দর্শন। একটি সংগঠিত দল।

    স্পেন এ রাতে শুধু একটি ম্যাচ জেতেনি। জিতেছে মাঝমাঠ। জিতেছে কৌশলের যুদ্ধ। জিতেছে মানসিক লড়াই। সবচেয়ে বড় কথা, জিতেছে ফুটবলের সৌন্দর্য। ফাইনালে উঠে এখন তাদের সামনে আর মাত্র একটি ধাপ।

    আর ফ্রান্স? তারা ডালাস ছাড়ছে একটি কঠিন শিক্ষা নিয়ে। বিশ্বকাপে শুধু বড় নাম যথেষ্ট নয়। এই সেমিফাইনাল আরেকবার চিরসত্য সেই কথাটাই জানিয়ে গেল, তারকারা ম্যাচ জেতাতে পারে। কিন্তু ইতিহাস লেখে পুরো একটা সম্মিলিত দল।

    আর সেই ইতিহাসের পাতায়, বিশ্বকাপে ডালাসের এই রাতটি একটি নামেই—স্পেন।

    সেই স্পেন এখন ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে অপেক্ষা করছে হয় আর্জেন্টিনা না হয় ইংল্যান্ডের জন্য।

  • ‘বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মতো খেলতে পারিনি’

    ‘বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মতো খেলতে পারিনি’

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর নিজেদের ঘাড়েই দোষ চাপিয়েছেন ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ম্যাচশেষে তিনি বলেন, ‘আজ রাতে আমরা যা করেছি, তা কোনোভাবেই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মানের ছিল না। আমরা প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত দুই দিক থেকেই ব্যর্থ হয়েছি।’

    এমবাপ্পে আরও বলেন, ‘বল পুনরুদ্ধার করার পরও আমাদের আক্রমণ, পাস এবং প্রথম স্পর্শ; এসব কিছুই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের উপযুক্ত ছিল না। সত্যি বলতে, বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার মতো যা দরকার, তা আমাদের মধ্যে ছিল না।’

    স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে এমবাপ্পে লক্ষ্যে একটি শটও রাখতে পারেননি। পুরো ম্যাচজুড়ে মার্ক কুকুরেয়া, আয়মেরিক লাপোর্তে ও উনাই সিমনের দৃঢ় প্রতিরোধে কার্যত নিষ্প্রভ ছিলেন ফ্রান্সের এই তারকা।

  • ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনাল; পরিসংখ্যানে এগিয়ে কারা?

    ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনাল; পরিসংখ্যানে এগিয়ে কারা?

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বাংলাদেশ সময় আজ (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত ১টায় মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই শক্তিধর দল ফ্রান্স ও স্পেন। টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচকে অনেকেই ‘ফাইনালের আগেই ফাইনাল’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।

    পুরো বিশ্বকাপজুড়ে দাপুটে ফুটবল খেলেছে ফ্রান্স। তাই শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে, কেপভার্দের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত হোঁচট খাওয়ার পর দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে স্পেন। ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা এবার বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণভাগকে সামলানোর কঠিন পরীক্ষায় নামছে।

    দুই দলের খেলার ধরনেও রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। ফ্রান্স দ্রুতগতির পালটা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পছন্দ করে, আর স্পেন বলের দখল ধরে রেখে ধৈর্যের সঙ্গে আক্রমণ গড়ে তুলতে অভ্যস্ত।

    সেমিফাইনালে ওঠার পথে ফ্রান্সকে তেমন কোনো কঠিন বাধার মুখে পড়তে হয়নি। দলের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ছয় ম্যাচে আট গোল করে তিনি গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে শীর্ষ সারিতেই রয়েছেন। তার সঙ্গে আক্রমণে রয়েছেন মাইকেল ওলিসে, ব্যালন ডি’অরজয়ী উসমান দেম্বেলে এবং পিএসজির তরুণ জুটি ব্র্যাডলি বারকোলা ও ডিজায়ার দুয়ে।

    ২০ বছর পর সেমিতে স্পেন ও ফ্রান্স, জমে উঠেছে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই

    অন্যদিকে, লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন বল দখলভিত্তিক ফুটবল, পরিকল্পিত আক্রমণ এবং ভারসাম্যপূর্ণ দলগত পারফরম্যান্সে ভর করে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে। রক্ষণ থেকে আক্রমণ—প্রতিটি বিভাগেই তারা দেখিয়েছে পরিপক্বতার ছাপ।

    সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে ফ্রান্সের বিপক্ষে এগিয়ে রয়েছে স্পেন। গত বছরের উয়েফা নেশনস লিগে ৫-৪ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ের আগে ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালেও ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল ফরাসিদের। তবে বিশ্বকাপে টানা তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে উঠে নতুন ইতিহাস গড়েছে ফ্রান্স। এর আগে এই কীর্তি গড়তে পেরেছিল শুধু জার্মানি ও ব্রাজিল।

    মুখোমুখি পরিসংখ্যান

    এখন পর্যন্ত সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৮ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে ফ্রান্স ও স্পেন। এর মধ্যে ১৮টি ম্যাচে জয় পেয়েছে স্পেন, আর ফ্রান্স জিতেছে ১৩টিতে। বাকি সাতটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

    ২০১৮ বিশ্বকাপের পর বড় টুর্নামেন্টে স্পেনের ধারাবাহিকতাও ঈর্ষণীয়। ২৭ ম্যাচের মধ্যে তারা হেরেছে মাত্র একটিতে, জিতেছে ১৬টি এবং ড্র করেছে ১০টি। ২০২২ বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে হারের পর টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে স্প্যানিশরা। এই সময়ে তারা মাত্র পাঁচটি গোল হজম করেছে এবং কোনো ম্যাচেই একটির বেশি গোল খায়নি। নয়টি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গোলের সুযোগই দেয়নি তারা।

    তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুই দলের একমাত্র আগের দেখায় জয় পেয়েছিল ফ্রান্স। ২০০৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে পিছিয়ে থেকেও শেষ ১০ মিনিটে দুটি গোল করে ৩-১ ব্যবধানে স্পেনকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল লে ব্লুরা। তাই এবার বিশ্বকাপের দ্বিতীয় মুখোমুখি লড়াইয়ে ইতিহাস বদলাবে, নাকি পুরোনো স্মৃতি ফিরবে—সেই উত্তর মিলবে ডালাসের মাঠেই।

  • কারা জিতবে বিশ্বকাপ, জানাল সুপারকম্পিউটার

    কারা জিতবে বিশ্বকাপ, জানাল সুপারকম্পিউটার

    ফাইনালসহ আর মাত্র চারটি ম্যাচের অপেক্ষা। এরপরই পর্দা নামবে বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে লম্বা আসরের। ৪৮ দলের মহারণ পেরিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে টিকে আছে আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, স্পেন ও ফ্রান্স। বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই ৪টি দলেরই সেমিফাইনালে খেলার কথা বলেছিল ফুটবল পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অপটার সুপারকম্পিউটার। সেই সুপারকম্পিউটার এবার নেমেছে চ্যাম্পিয়ন দল বাছাইয়ে। নিখুঁত হিসাব-নিকাশের পর তারা জানিয়েছে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন দলের নামও।

    অপটার সুপারকম্পিউটারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে ফ্রান্সের। কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং উসমান দেম্বেলের নৈপুণ্যে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ফরাসিদের টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৫৭.৭ শতাংশ এবং শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ৩৪ শতাংশ।

    অন্যদিকে সেমিফাইনালের ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ স্পেনের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৪২.৩ শতাংশ, যা চার দলের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ। তবে বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের দিক থেকে তারা ২৩.৪ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

    সুপারকম্পিউটারের ধারণা অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার ডালাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সেমিফাইনালের বিজয়ী দলের হাতে শেষ পর্যন্ত শিরোপা ওঠার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

    অপটার সুপারকম্পিউটারের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইংল্যান্ড। তাদের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ২১.৯ শতাংশ। তবে ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনায় তারা স্পেনের চেয়ে সামান্য এগিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে থ্রি লায়ন্সদের ফাইনালের মঞ্চে খেলার সম্ভাবনা ৫০.৯ শতাংশ।

    এদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হওয়া সত্ত্বেও সুপারকম্পিউটারের হিসাবে শিরোপা জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির দলের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ২০.৬ শতাংশ, যা চার দলের মধ্যে সবচেয়ে কম।

    তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তাদের জয়ের পূর্বাভাস প্রায় সমানে সমান। ২৫ হাজার সিমুলেশনের মধ্যে ৪৯.১ শতাংশ ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠবে। অর্থাৎ, এই লড়াইয়ের ফল যেকোনো দিকেই যেতে পারে।

    প্রসঙ্গত, অপ্টার সুপারকম্পিউটার কোনো ম্যাচের সম্ভাব্য ফলাফল নির্ধারণ করার জন্য প্রায় ২৫ হাজারবার সিমুলেশন চালায়। এছাড়াও দলগুলোর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, খেলোয়াড়দের পরিসংখ্যান, শক্তিমত্তা, অতীত রেকর্ডসহ বিভিন্ন তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে প্রতিটি দলের জয়ের সম্ভাবনা নির্ধারণ করে প্রতিষ্ঠানটি। এবারের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের সবগুলো ম্যাচের ফলাফল নিয়ে সঠিক পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হয়েছে। তাদের বেছে নেওয়া চারটি দলই কোয়ার্টারের বাধা পেরিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে।

    এর আগে শেষ ষোলোর আটটি ম্যাচের মধ্যে ৬টির ফলাফল সঠিকভাবে অনুমান করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া নকআউট পর্বের প্রথম ধাপের ১৬ ম্যাচের মধ্যে ১৪টি ম্যাচের বিজয়ীও তারা সিমুলেশনের মাধ্যমে আগেভাবেই নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছিল।

  • ফ্রান্স স্কোয়াডে কোনো ‘ফরাসি খেলোয়াড়’ নেই: স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

    ফ্রান্স স্কোয়াডে কোনো ‘ফরাসি খেলোয়াড়’ নেই: স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেন ও ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইকে ঘিরে মাঠের উত্তেজনার পাশাপাশি শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ। সেই বিতর্কে এবার জড়িয়ে পড়েছেন স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাহয়।

    ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত স্পেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রাহয় স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এল দিবাতে-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে ফ্রান্স জাতীয় দল নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা ফ্রান্সের দলে বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে, তবে তার দাবি, দলে ‘কোনো ফরাসি খেলোয়াড় নেই’, তারপরও তারা দুর্দান্ত খেলছে।

    রাহয়ের এই মন্তব্য প্রকাশের পর ফ্রান্সে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা তার বক্তব্যকে বর্ণবাদী ও বিভাজনমূলক বলে আখ্যা দেন।

    ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ রোববার বিএফএম টিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, রাহয়ের মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার ভাষ্য, ফ্রান্স এমন একটি দেশ যেখানে বৈচিত্র্যই শক্তি, আর বিভিন্ন পটভূমির মানুষ সমানভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ পায়।

    শুধু ফ্রান্সেই নয়, রাহয়ের বক্তব্যের সমালোচনা হয়েছে স্পেনেও। দেশটির পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে তাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, এমন মন্তব্য একজন দায়িত্বশীল রাজনীতিকের সঙ্গে মানানসই নয়। পাশাপাশি তিনি রাহয়ের নিজেকে মধ্যপন্থী হিসেবে উপস্থাপনের দাবিও প্রশ্নবিদ্ধ করেন।

    স্পেনের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এখনও এমন মানুষ রয়েছেন যারা কোনো দেশের নাগরিকত্বকে পদবি, জন্মস্থান বা গায়ের রঙ দিয়ে বিচার করেন। অথচ প্রকৃত পরিচয় নির্ধারিত হওয়া উচিত দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা, ভালোবাসা এবং অবদানের ভিত্তিতে। তিনি রাহয়ের মন্তব্যকে বিদেশিবিদ্বেষী বলে অভিহিত করেন।

  • ‘স্পেন-ফ্রান্স সেমিই আসল ফাইনাল’

    ‘স্পেন-ফ্রান্স সেমিই আসল ফাইনাল’

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    চলতি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি স্পেন ও ফ্রান্স। দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন ২-১ গোলে হারিয়েছে বেলজিয়ামকে। ফুটবলপ্রেমীদের বহু প্রতীক্ষিত এই লড়াইকে ফাইনালের আগেই ‘ফাইনাল’ বলে মনে করছেন বেলজিয়ামের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়া। তার বিশ্বাস, এই ম্যাচের বিজয়ী দলই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে।

    কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিতে জায়গা করে নেয় ফ্রান্স। অন্যদিকে বেলজিয়ামকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ চারে উঠে আসে স্পেন। আগামী মঙ্গলবার (বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টা) ডালাস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল।

    বেলজিয়ামের বিদায়ের ম্যাচে শেষদিকে চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় কর্তোয়াকে। তার পরিবর্তে নামা সেনে ল্যামেন্সের উপস্থিতিতেই স্পেন জয়সূচক গোলটি করে। ম্যাচ শেষে হতাশ হলেও প্রতিপক্ষের প্রশংসা করতে ভোলেননি রিয়াল মাদ্রিদের এই গোলরক্ষক।

    কর্তোয়া বলেন, “আমার বিশ্বাস, ফ্রান্স ও স্পেনের সেমিফাইনালের বিজয়ী দলই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে। শিরোপা জয়ের দৌড়ে স্পেনই ফেভারিট। তারা ফ্রান্স কিংবা অন্য যেকোনো দলকে হারানোর সামর্থ্য রাখে, সেটি তারা ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা স্পেনের বিপক্ষে ভালো একটি ম্যাচ খেলেছি। অনেকে যেমনটা ভেবেছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পেরেছি।”

    পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে স্পেন। আক্রমণাত্মক ফুটবল, দ্রুতগতির পাসিং এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে তারা নিজেদের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। অন্যদিকে ফ্রান্সও অভিজ্ঞতা ও তারকাসমৃদ্ধ দল নিয়ে আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে।