ফ্যামিলি কার্ড

  • চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

    চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

    চলতি অর্থবছরে দেশের ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যে বাঁশখালী উপজেলায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এ কার্ড পাবে বলে জানান তিনি।

    আজ রোববার দুপুরে বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় ও গৃহহীন ১০০ পরিবারের মধ্যে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারকে আপনারা নির্বাচিত করেছেন। সরকারের দায়িত্ব আপনাদের পাশে থাকা। আমরা বলেছিলাম, সরকার গঠন করতে পারলে ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করব। এক মাসের মধ্যে করেছি। নারীদের স্বাবলম্বী করতে এই উদ্যোগ।’

    তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। বাঁশখালী উপজেলায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এ কার্ড পাবে। এ কার্যক্রম চলমান থাকবে। এর উদ্দেশ্য হলো পরিবারের পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি নারীরাও যাতে পরিবারের হাল ধরতে পারেন এবং মায়েদের হাত শক্তিশালী করা যায়।

    পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঁশখালীর লবণচাষিরাও কৃষক কার্ড পাবেন। আলোচনা করে লবণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

    মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্র বাংলাদেশের বড় সম্পদ। এই সম্পদকে কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা সম্ভব। মাতারবাড়ী থেকে মীরসরাই পর্যন্ত শিল্প-কারখানা স্থাপন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আনোয়ারায় চীনের জন্য জায়গা দেওয়া হয়েছে। সেখানে কয়েক শ শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। এতে চট্টগ্রামের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, বেকারত্ব কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিল-কারখানা না থাকলে কর্মসংস্থান সম্ভব নয়। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা শিল্পায়ন ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের অন্যতম পূর্বশর্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    বাঁশখালী হাসপাতাল ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা

    বাঁশখালীর হাসপাতাল আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

    দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। আগামী ১০ বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়নে কী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করার চেষ্টা না করে কারও বিকল্প পরিকল্পনা থাকলে তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করা উচিত।

    ‘পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই’

    দেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এখন জনগণের জন্য কাজ করার এবং দেশ গঠনের সময়। অনেক দেশ বাংলাদেশের পরে স্বাধীন হয়েও পরিশ্রমের মাধ্যমে এগিয়ে গেছে। তাই আর পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই।

    জনগণের জীবনমান ও দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে তাঁর সরকারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির কাছে সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। জনগণ সাথে থাকলে সব কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত শ্রমিকের হাতে পরিণত করে কর্মসংস্থান করা হবে। প্রত্যেক মানুষ কাজের মাধ্যমে নিজের পরিবারের ভাগ্য উন্নয়ন করতে পারবে। সেই বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই।’

    অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১৩ (চন্দনাইশ) আসনের সংসদ সদস্য মো. জসিম উদ্দিন, আনোয়ারার সংসদ সদস্য সাওয়াব জামান নিজাম, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরিসহ বিএনপির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ফ্যামিলি কার্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ১৬ আগস্ট, ৪ বছরে কার্ড পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার

    ফ্যামিলি কার্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ১৬ আগস্ট, ৪ বছরে কার্ড পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার

    পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষে ১৬ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবে সরকার। পর্যায়ক্রমে ৪ বছরের মধ্যে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করে প্রকৃত দরিদ্রদেরই সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

    কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এরপর অক্টোবরের শেষ নাগাদ পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলা ও ইউনিয়নে এর কার্যক্রম শুরু হবে।

    আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ডসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

    সমাজকল্যামন্ত্রী জানান, ৪ বছরের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে, তবে তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

    সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড একটি গতিশীল সামাজিক নিবন্ধন (ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি) ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে মিল রেখে তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে। ফলে কেউ দরিদ্র থেকে নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত হলে কিংবা আবার দারিদ্র্যে নেমে এলে সেটিও নিবন্ধনে প্রতিফলিত হবে।

    সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত সুবিধাভোগী যেন বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ যেন তালিকায় ঢুকতে না পারেন, সে জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে। ভাতা ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে বিদ্যমান দুর্বলতা কমিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

    মন্ত্রী আরও বলেন, এ কর্মসূচিতে ধর্ম, গোত্র বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে সুবিধা দেওয়া বা বঞ্চিত করার সুযোগ থাকবে না। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের নীতির আলোকে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

    সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, পরিবারের নারী সদস্যদের হাতে সহায়তার অর্থ পৌঁছালে তা শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, হাঁস-মুরগি পালন, গাছ লাগানো, কুটির শিল্প, সেলাই ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রমে বেশি কাজে লাগবে। এতে নারীর ক্ষমতায়নের পাশাপাশি গ্রামীণ দারিদ্র্য কমাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ৫৬টি এলাকায় পরিচালিত পাইলট প্রকল্পে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। যশোর ও নেত্রকোনার দুটি এলাকায় তথ্য সংগ্রহে কিছু সমস্যা দেখা দিলেও তা সংশোধন করা হয়েছে। বাকি ৫৪টি এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি এবং ত্রুটির হার ৩ শতাংশের কম ছিল।

    জানানো হয়, ১৬ আগস্ট থেকে নতুন প্রশ্নমালা ও নতুন পদ্ধতিতে পুরোপুরি অনলাইনে তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে। এরপর প্রতি মাসে তথ্য হালনাগাদ করা হবে, যাতে মৃত্যু, আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন বা অন্য কোনো পরিবর্তন দ্রুত নিবন্ধনে যুক্ত করা যায়।

    সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের তদারকি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইউনিয়নে প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা তথ্য সংগ্রহ তদারকি করবেন। উপজেলা পর্যায়ে ইউএনওর নেতৃত্বে, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে পৃথক কমিটি কাজ করবে। জাতীয় পর্যায়েও একটি কমিটি থাকবে, যার সভাপতি অর্থমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নিজেও নিয়মিত কর্মসূচির অগ্রগতি তদারকি করবেন।

    সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয় তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত করবে, যাতে একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা বা সুবিধা নিতে না পারেন। একই সঙ্গে অর্থ বিভাগ, আইএমইডি ও দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে স্বাধীন মূল্যায়নও করা হবে, যাতে কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্য কমানোর প্রকৃত প্রভাব পরিমাপ করা যায়।

  • ফ্যামিলি কার্ড সম্প্রসারণের অগ্রগতি জানতে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

    ফ্যামিলি কার্ড সম্প্রসারণের অগ্রগতি জানতে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

    ফ্যামিলি কার্ড সম্প্রসারণের কার্যক্রম কতটুকু এগোচ্ছে তা জানতে বৈঠকে করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এই বৈঠক হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে ফ্যামিলি কার্ড সম্প্রসারণ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে ধাপে ধাপে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বিস্তারে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ, আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং জানায়, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা কার্যকর, স্বচ্ছ ও নির্ভুলভাবে পৌঁছে দিতে একটি নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। সরকার গঠনের পর তারেক রহমান তার নির্বাচনি অঙ্গীকার ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের কার্যক্রম শুরু করেন।

    বৈঠকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এস এম আব্দুল আওয়াল, বিএনপির নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ফ্যামিলি কার্ড পাবে ৪১ লাখ নারী

    ফ্যামিলি কার্ড পাবে ৪১ লাখ নারী

    নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরে ১৪,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া আগামী অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।

    বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব তুলে ধরেন।

    তিনি জানান, সামাজিক নিরাপত্তা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কৌশলের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের নারীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে।

    প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। কার্ডধারী প্রতিটি পরিবারের প্রধান নারী মাসে ২,৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাস, বৈষম্য কমানো এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও জানান, কর্মসূচিটি ইতোমধ্যে পাইলট পর্যায়ে চালু হয়েছে এবং দ্রুত সম্প্রসারণের প্রস্তুতি চলছে।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কর্মসূচি নারীদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবার পর্যায়ে দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    উল্লেখ্য, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিতব্য বাজেটে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। এটি মোট জিডিপির ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। আর মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

    বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ১২ দশমিক ৬ শতাংশ)। সংশোধিত বাজেটে আকার প্রাক্কলন করা হয় ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসাবে এবারের বাজেটের আকার বাড়ছে ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা।

    সাধারণত বাজেট ঘোষণার পরে দেখা যায় কিছু পণ্য ও সেবার দামে পরিবর্তন আসে। গত বছরের চেয়ে এ বছর বাজেটের আকার বাড়লেও বেশ কিছু পণ্যে উৎস কর, শুল্ক, ভ্যাট ও সারচার্জ বাড়ানো হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে। আবার কিছু কিছু খাতে করছাড় ও ভর্তুকির ফলে দাম কমবে পণ্যের।

    এবারের বাজেট বক্তৃতায় কোন খাতে কর বাড়ছে, কোথায় করছাড় দেওয়া হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে এর কী প্রভাব পড়তে পারে- সেদিকে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষের নজর থাকবে।

  • কৃষি কার্ড বিতরণে কোনো দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি দেখা হবে না : প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ

    কৃষি কার্ড বিতরণে কোনো দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি দেখা হবে না : প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ

    পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, কৃষি কার্ড বিতরণে কোনো দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি দেখা হবে না, কোনো ধর্ম-বর্ণ দেখা হবে না। যারা পাওয়ার যোগ্য, তারাই এই কার্ড পাবেন। দেশের চার কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে।

    মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার পাঁচপীর ইউনিয়নের বৈরাতী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজ দেশের অন্যান্য এলাকার মতো পাইলট প্রকল্প হিসেবে পঞ্চগড়ের পাঁচপীর এলাকায় দুই হাজার কৃষককে কৃষি কার্ড প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তবে আমি নিজেও জানি না, কারা এই কার্ড পেয়েছেন। আমাদের কৃষি মন্ত্রণালয় ও উপজেলা প্রশাসন তিন স্তরে যাচাই-বাছাই করে নির্ধারণ করেছেন কারা কোন ক্যাটাগরিতে এই কার্ড পাবেন।

    তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ইতিপূর্বে উদ্বোধন হয়েছে। ইনশাল্লাহ সামনের দুই-তিন মাসের মধ্যে সারা বাংলাদেশে আরও ৫০ লাখ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করতে সক্ষম হব।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে রক্ষা করতে শুধু প্রশাসন নয়, দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল সচেতন মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকার ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে। তাহলেই দেশ আরও এগিয়ে যাবে।

    তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সাহায্য-সহায়তায় আমরা কোনো দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কাউকে বিচার করব না। যারা প্রকৃতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং পাওয়ার যোগ্য, তাদেরকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন। পরে প্রতিমন্ত্রী ১৫ জন কৃষক-কৃষাণীর হাতে কৃষক কার্ড এবং দুইটি করে ফলজ গাছের চারা বিতরণ করেন।

  • নবাবগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন

    নবাবগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন

    দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে সরকারের বিশেষ উদ্যোগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়ার মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

    সরকারের এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো গ্রামীণ জনপদের পিছিয়ে পড়া নারীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত পরিবারগুলো সরকারের পক্ষ থেকে নির্ধারিত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও খাদ্য সহায়তা সাশ্রয়ী মূল্যে সরাসরি গ্রহণ করতে পারবে।

    বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত ও দুস্থ পরিবারগুলো যাতে এই সুবিধার আওতায় আসে, সে লক্ষ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বয়ে নিখুঁত তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে।

    ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের ফলে বাজারে নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেও দরিদ্র পরিবারগুলো স্বস্তিতে থাকতে পারবে। সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। তারা মনে করছেন, নারীদের স্বাবলম্বী করার এই প্রচেষ্টা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং নারী ক্ষমতায়নে সহায়ক হবে।