ট্যাগ ফিফা

  • সাফের সূচি চূড়ান্ত, বাংলাদেশের খেলা কবে

    সাফের সূচি চূড়ান্ত, বাংলাদেশের খেলা কবে

    আট বছর পর বাংলাদেশে ফিরছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। টুর্নামেন্টের সূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আসর শুরু করবে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে রাত ৮টায়। একই দিন বিকেল সাড়ে ৩টায় ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান।

    বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচ ১১ নভেম্বর। সেদিন রাত ৮টায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলবে স্বাগতিকরা। ‘এ’ গ্রুপের অপর ম্যাচে ৮ নভেম্বর ভুটানের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা। গ্রুপের সব ম্যাচই হবে জাতীয় স্টেডিয়ামে।

    ‘বি’ গ্রুপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতের সঙ্গে রয়েছে মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। এই গ্রুপে ৮ নভেম্বর মালদ্বীপের বিপক্ষে খেলবে পাকিস্তান। ১১ নভেম্বর ভারত মুখোমুখি হবে মালদ্বীপের।

    গ্রুপ পর্ব শেষে দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দল সেমিফাইনালে উঠবে। ১৪ নভেম্বর হবে দুটি সেমিফাইনাল। প্রথম ম্যাচটি শুরু হবে বিকেল ৩টায়, দ্বিতীয়টি রাত সাড়ে ৮টায়। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৭ নভেম্বর রাত ৮টায়।

    তবে প্রকাশিত সূচিটি এখনো চূড়ান্ত নয়। ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে আগস্টের ড্রয়ে নেপালকে রাখা হয়নি। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে নেপালও টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবে। সে ক্ষেত্রে নেপালকে বাংলাদেশের গ্রুপে যুক্ত করে নতুন সূচি প্রকাশ করা হবে এবং খেলা শুরু হবে ৪ নভেম্বর থেকে।

    ঘরের মাঠে সর্বশেষ ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ।

  • আর্জেন্টিনার ‘স্পেশাল’ অনুরোধ রাখল ফিফা

    আর্জেন্টিনার ‘স্পেশাল’ অনুরোধ রাখল ফিফা

    সমস্যা মূলত জার্সি নিয়ে। আর্জেন্টিনা ফিফার কাছে অনুরোধ করেছিল—ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তারা যেন গাঢ় নীল জার্সিটি পরতে পারে। বিশ্বকাপের ওই ম্যাচটিতে আকাশি-নীল জার্সি পরে খেলতে হতো লিওনেল মেসিদের।

    ফিফার কাছে অনুরোধ করা হলে তারা ফেরায়নি আর্জেন্টিনাকে। বিশেষ সেই অনুরোধ মঞ্জুর করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

    কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে উঠেছে ইংল্যান্ড। সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। এখন দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল মুখোমুখি ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে। বিজয়ী দল রোববারের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে।

    এই ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা লড়াই মানেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে বহু স্মরণীয় মুহূর্ত। ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের পর ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। আবার ১৯৯৮ বিশ্বকাপে দিয়েগো সিমিওনেকে লাথি মারায় লাল কার্ড দেখেছিলেন ইংল্যান্ডের ডেভিড বেকহ্যাম।

    মজার বিষয় হলো- ওই দুই ম্যাচেই আর্জেন্টিনা গাঢ় নীল বা নেভি রঙের জার্সি পরেছিল। বিপরীতে ১৯৬৬ ও ২০০২ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা ডোরাকাটা জার্সি পরে খেলেছিল তারা। কাকতালীয় বিষয় হচ্ছে দুবারই হেরে যায় তারা।

    এই ইতিহাসকে শুভ লক্ষণ হিসেবে ধরে সেমিফাইনালেও নীল অ্যাওয়ে জার্সি পরার অনুমতি চেয়েছিল আর্জেন্টিনা। ফিফা সেই অনুরোধ অনুমোদন করেছে। ফলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তারা নীল জার্সিতেই মাঠে নামবে।

    এ নিয়ে ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল খানিকটা মজাই করেছেন, ‘ওয়ার্ম-আপের আগে পর্যন্ত আমি জানতামই না আমরা কোন জার্সি পরব। আর্জেন্টিনা নীল জার্সি পরবে, আর আমরা সাদা—এটা কি তাদের সৌভাগ্যের জার্সি বলে?’

    পরে ইংলিশদের কোচকে জানানো হয়, ইংল্যান্ড স্বাগতিক দল হিসেবে সাদা জার্সি পরবে। তখন টুখেল বলেন, ‘যদি কোনো কুসংস্কার বা বিশ্বাস থেকে তারা এটা করে থাকে, তাহলে তাদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। আমিও হলে হয়তো একই কাজ করতাম।’

    তবে পয়া জার্সি তো আর্জেন্টিনা পেল, এবার কি ম্যাচের রেজাল্টও তাদের পক্ষে আসবে? নীল জার্সি কতটা কাজে আসল, জানা যাবে আজ রাতের খেলা শেষে।

  • বিশ্বকাপের রেফারি ঠিক করা হয় যেভাবে

    বিশ্বকাপের রেফারি ঠিক করা হয় যেভাবে

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন রেফারিং। শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের রেফারি ও ভিএআর দলের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আনুষ্ঠানিক আপত্তি তুলেছে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের ম্যাচ পরিচালনার তদন্ত চাওয়ার পাশাপাশি তাকে টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে দায়িত্ব না দেওয়ারও আবেদন করেছে তারা। অন্যদিকে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স–মরক্কো ম্যাচে রেফারিং দলের সবাই আর্জেন্টিনার হওয়ায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—বিশ্বকাপে কোন ম্যাচে কোন রেফারিকে কীভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়? সিদ্ধান্তটা কে নেয়? আর কী কী বিষয় বিবেচনায় রাখা হয়?

    তিন বছরের বাছাইপ্রক্রিয়া

    বিশ্বকাপের জন্য রেফারি নির্বাচন শুরু হয় টুর্নামেন্টের অনেক আগে থেকেই। ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ফিফা মোট ৫২ জন রেফারি, ৮৮ জন সহকারী রেফারি ও ৩০ জন ভিডিও ম্যাচ অফিশিয়াল (ভিএমও) নির্বাচন করেছে। ৬টি কনফেডারেশন ও ৫০টি সদস্যদেশের এসব কর্মকর্তাকে নিয়ে গঠন করা দলটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফিফা টিম ওয়ান’।

    গত ৯ এপ্রিল তালিকা প্রকাশের সময় ফিফা জানায়, তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা বিস্তৃত মূল্যায়ন ও নির্বাচনপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তাদের বেছে নেওয়া হয়েছে।

    ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কলিনার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত রেফারিরা এই সময়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মধ্যে ছিলেন। বিভিন্ন সেমিনার, ফিফা টুর্নামেন্ট, আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় তাদের পারফরম্যান্স ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

    ফিফার রেফারিং পরিচালক মাসিমো বুসাক্কা জানান, ২০২২ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরপরই পরবর্তী আসরের রেফারি বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়। শুধু রেফারিং প্রশিক্ষক নন, ফিটনেস কোচ, চিকিৎসক ও ফিজিওথেরাপিস্টরাও এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার অংশ ছিলেন। অর্থাৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে শুধু রেফারিং দক্ষতা নয়, শারীরিক সক্ষমতা ও ধারাবাহিকতার ভিত্তিতেও।

    কোন ম্যাচে কে, সিদ্ধান্ত হয় কীভাবে

    বিশ্বকাপের চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকলেই যে একজন রেফারি সব ম্যাচ পরিচালনা করবেন, এমন নয়। প্রতিটি ম্যাচের আগে আলাদাভাবে রেফারিং দল নির্ধারণ করে ফিফার রেফারিং কমিটি। সিদ্ধান্তের সময় কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখা হয়।

    একই দেশের রেফারি না রাখা

    সবচেয়ে পরিচিত নিয়মটি হলো কোনো দেশের রেফারিকে সাধারণত সেই দেশের ম্যাচে দায়িত্ব দেওয়া হয় না। উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য স্বার্থসংঘাত এড়ানো। যেমন ফ্রান্স যদি সেমিফাইনাল বা ফাইনালে ওঠে, তাহলে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের আর সেই ম্যাচে দায়িত্ব পাবেন না।

    রাজনৈতিক বা ঐতিহাসিক সংবেদনশীলতা বিবেচনা

    শুধু নিজ দেশের ম্যাচই নয়, রাজনৈতিক বা ঐতিহাসিক কারণে সংবেদনশীল সম্পর্ক রয়েছে, এমন দেশগুলোর ম্যাচেও সংশ্লিষ্ট দেশের রেফারিদের সাধারণত রাখা হয় না। এর সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ ২০২২ বিশ্বকাপ। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই আর্জেন্টিনার ম্যাচে ইংলিশ রেফারি এবং ইংল্যান্ডের ম্যাচে আর্জেন্টাইন রেফারি নিয়োগ এড়িয়ে চলে ফিফা।

    সেবার ইংলিশ রেফারি অ্যান্টনি টেইলরকে আর্জেন্টিনা–ফ্রান্স ফাইনালের জন্য বিবেচনা করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি পরিচালনা করেন পোল্যান্ডের সিমোন মার্সিনিয়াক। এবারও ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করছেন অ্যান্টনি টেইলর ও মাইকেল অলিভার। তাই ইংল্যান্ড বা আর্জেন্টিনার ম্যাচে তাদের দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

    পারফরম্যান্সই সবচেয়ে বড় বিবেচনা

    নকআউট পর্ব যত এগোয়, ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব তত বেশি দেওয়া হয় ধারাবাহিকভাবে ভালো করা ও অভিজ্ঞ রেফারিদের। প্রতিটি ম্যাচের পর রেফারিদের পারফরম্যান্স নিয়ে বিশদ মূল্যায়ন করা হয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ভিএআরের সঙ্গে সমন্বয়, ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা, খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ, এমনকি শারীরিক সক্ষমতাও সেই মূল্যায়নের অংশ। পরবর্তী ম্যাচের নিয়োগে এসব প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।ফিফা তাই শুধু আগের সুনাম নয়, চলতি টুর্নামেন্টে একজন রেফারি কেমন পারফর্ম করছেন, সেটিও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে। এ কারণেই গ্রুপ পর্বে দায়িত্ব পাওয়া কোনো রেফারি পরে আর ম্যাচ না–ও পেতে পারেন, আবার কেউ ধারাবাহিক ভালো করলে সেমিফাইনাল বা ফাইনালের মতো বড় ম্যাচও পরিচালনার সুযোগ পেয়ে যান।