ট্যাগ ফিচার

  • ঘড়ির কাঁটা কেন ডানে ঘোরে

    ঘড়ির কাঁটা কেন ডানে ঘোরে

    ফিচার:

    তুমি কি কখনো দেয়ালে ঝুলে থাকা ঘড়িটির দিকে তাকিয়ে ভেবেছ, ‘ঘড়ির কাঁটা সবসময় ডান দিকেই কেন ঘোরে?’ যদি একদিন হঠাৎ কাঁটাগুলো উল্টো দিকে ঘুরতে শুরু করে, তাহলে কেমন হতো? এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে বহু বছর আগের মানুষের বুদ্ধি আর প্রকৃতির এক মজার নিয়মে।

    অনেক অনেক বছর আগে মানুষের হাতে আজকের মতো ব্যাটারিচালিত বা ডিজিটাল ঘড়ি ছিল না। তখন মানুষ সময় বুঝত সূর্যের ছায়ার সাহায্যে। তারা কোনো খোলা জায়গায় মাটিতে একটি সোজা কাঠি পুঁতে রাখত। লাঠির গায়ে সূর্যের আলো পড়লে সেই কাঠির ছায়া তৈরি হতো। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সূর্য আকাশে এগোতে থাকলে ছায়াটিও ধীরে ধীরে একদিকে সরে যেত।

    পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে, যেখানে প্রাচীন সভ্যতার অনেক কিছুই গড়ে উঠেছিল, সেখানে ছায়ার এই চলার দিক ছিল ডানদিকে ঘুরে যাওয়ার মতো। মানুষ সেই ছায়ার গতিবিধি দেখে সময় মাপতে শিখে। পরে যখন যান্ত্রিক ঘড়ি তৈরি করা হয়, তখন তার কাঁটাকেও সেই পরিচিত দিকেই ঘোরানো হয়। সেই থেকেই ঘড়ির কাঁটা ডানদিকে ঘোরে। এই দিকটিকেই আমরা আজ ‘ঘড়ির কাঁটার দিক’ বলে চিনি।

    মজার বিষয় হলো, পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধে সূর্যঘড়ির ছায়ার চলার ধরন কিছুটা ভিন্নভাবে দেখা যায়। তবুও তখন পর্যন্ত ডান দিকে ঘোরা ঘড়ি সারা পৃথিবীতে জনপ্রিয় হয়ে গিয়েছিল। তাই সবাই একই নিয়ম অনুসরণ করতে শুরু করে। এতে বিভিন্ন দেশের মানুষের সময় বোঝা সহজ হয়ে যায়।

    ঘড়ির কাঁটা আমাদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। দেখো, সেকেন্ডের কাঁটা এক মুহূর্তের জন্যও থেমে থাকে না। মিনিটের কাঁটা ধীরে ধীরে এগোয়, আর ঘণ্টার কাঁটা আরো ধীরগতিতে চলে; কিন্তু তারা কেউ অলসতা করে না। ছোট ছোট মুহূর্ত মিলেই একটি মিনিট, অনেক মিনিট মিলেই একটি ঘণ্টা, আর ঘণ্টা মিলেই একটি সুন্দর দিন তৈরি হয়। তাই ছোট কাজকে কখনো তুচ্ছ ভাবা উচিত নয়।ভাবো তো, যদি তুমি প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট বই পড়ো, কয়েক মাস পরে কত গল্প, কত নতুন তথ্য আর কত জ্ঞান তোমার ঝুলিতে জমে যাবে! ঠিক ঘড়ির কাঁটার মতো ধীরে ধীরে এগোলে বড় লক্ষ্যও একদিন পূরণ হয়। তাই পরেরবার ঘড়ির দিকে তাকালে শুধু সময় দেখবে না। মনে রাখবে, ডানদিকে ঘুরতে থাকা সেই ছোট্ট কাঁটাগুলো আমাদের বলছে—সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না। যে নিয়ম মেনে পরিশ্রম করে, সময়কে সম্মান করে এবং প্রতিদিন একটু একটু করে এগিয়ে যায়—সফলতা একদিন তার দরজায় কড়া নাড়বেই।

  • বর্ষার দূত

    বর্ষার দূত

    ফিচার:

    বর্ষা নামলেই বাংলার প্রকৃতি যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। আকাশভরা মেঘ, কাদামাটির গন্ধ, টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ আর সবুজে ঘেরা মাঠ—সব মিলিয়ে এ ঋতু শুধু আবহাওয়ার পরিবর্তন নয়, এক গভীর অনুভূতির নাম। আর এই বর্ষাকে সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান করে তোলে কিছু চিরচেনা ফুল ও গাছ। কদম, শাপলা, হিজল ও করচ—বাংলার বর্ষার চার নীরব দূত।

    কদম : বৃষ্টিভেজা প্রেমের প্রতীক

    বর্ষার প্রথম দিকেই ফুটতে শুরু করে কদম। গোলাকার হলুদাভ এই ফুল যেন মেঘলা আকাশের নিচে ছোট্ট সূর্য। গ্রামীণ পথ, নদীর ধারের কাঁচা রাস্তা কিংবা কোনো পুরোনো বাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কদমগাছ সহজেই মানুষের মনে এক ধরনের নস্টালজিয়া জাগায়।

    বাংলা সাহিত্য ও গানে কদমের উপস্থিতি দীর্ঘদিনের। প্রেম, অপেক্ষা ও বর্ষার আবেগ—সবকিছুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই ফুল। বৃষ্টিভেজা বিকালে কদম ফুল হাতে কারো জন্য অপেক্ষা করার দৃশ্য যেন বাংলার চিরন্তন রোমান্টিক প্রতীক।

    শাপলা : জলজ বাংলার মুখ

    শাপলা বাংলাদেশের জাতীয় ফুল। বর্ষায় বিল, হাওর ও পুকুরজুড়ে ভেসে থাকা শাপলা যেন বাংলার প্রকৃতির এক কোমল হাসি। সাদা, গোলাপি কিংবা লাল শাপলা শুধু সৌন্দর্য নয়, গ্রামীণ জীবনেরও অংশ।

    একসময় গ্রামের শিশুরা শাপলা তুলতে পানিতে নামত, ঘরের রান্নায়ও ব্যবহার করা হতো শাপলার ডাঁটা। কিন্তু জলাভূমি ভরাট হওয়ায় এবং পরিবেশ দূষণের কারণে অনেক এলাকায় এখন শাপলার দেখা আগের তুলনায় কমে গেছে। ফলে শাপলা আজ শুধু ফুল নয়, হারিয়ে যেতে বসা এক জলজ ঐতিহ্যের প্রতীকও।

    হিজল : জলাভূমির নীরব প্রহরী

    হাওর-বিল অঞ্চলের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যে গাছটির সম্পর্ক, তা হলো হিজল। বর্ষাকালে পানির মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা হিজলগাছ যেন এক নীরব কবিতা। এর ডালে আশ্রয় নেয় পাখি, আর পানির নিচে জন্ম নেয় নানা জলজ প্রাণের জীবনচক্র।

    বাংলার জলাভূমির পরিবেশ রক্ষায় হিজল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অথচ নগরায়ণ, অপরিকল্পিত বাঁধ ও জলাভূমি ধ্বংসের কারণে এই গাছও কমে যাচ্ছে। প্রকৃতি হারালে শুধু গাছ হারায় না, হারিয়ে যায় একটি ভূখণ্ডের আত্মাও।

    করচ : নদীপাড়ের সবুজ সঙ্গী

    করচ গাছ সাধারণত নদীপাড়, বিল ও জলাভূমি এলাকায় বেশি দেখা যায়। বর্ষায় এর সাদা ফুল ও সবুজ পাতা চারপাশকে অন্যরকম সৌন্দর্যে ভরিয়ে তোলে। মাটিক্ষয় রোধেও করচ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    বাংলার নদীনির্ভর জীবনের সঙ্গে করচের সম্পর্ক অনেক পুরোনো। কিন্তু নদীভাঙন, বন উজাড় ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে এই গাছও আজ হুমকির মুখে।

    প্রকৃতিকে রক্ষা মানেই শেকড়কে রক্ষা

    বর্ষার এই চার দূত শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, তারা বাংলার সংস্কৃতি, স্মৃতি ও জীবনের অংশ। কদমের গন্ধ, শাপলার জল, হিজলের ছায়া আর করচের নীরবতা—এসব মিলিয়েই তৈরি হয় বাংলার বর্ষা।

    প্রকৃতি ধ্বংসের এই সময়ে তাই শুধু ফুল বা গাছকে নয়, আমাদের নিজস্ব পরিচয়কেও রক্ষা করা জরুরি। কারণ বর্ষা টিকে থাকে শুধু বৃষ্টিতে নয়, টিকে থাকে তার আপন সবুজ সঙ্গীদের মধ্যেই।

  • প্রতিবন্ধী হয়েও যারা স্বনামখ্যাত

    প্রতিবন্ধী হয়েও যারা স্বনামখ্যাত

    ফিচার >

    প্রতিবন্ধী হয়েও যারা স্বনামখ্যাত

    আমরা যারা খুবই সাধারণ তারা অল্পতেই হতাশ হয়ে পড়ি; কোনো কাজে দু-একবার ব্যর্থ হলে ভাবি ‘আমাকে দিয়ে আর কিছু হবে না।’ কিন্তু এমন হতাশা প্রকাশ করার পেছনে কোনো যুক্তি নেই। কারণ কাজ করার জন্য আমাদের হাত, পা, চোখ, মস্তিষ্কসহ আরো অনেক কিছু রয়েছে। অথচ এমন অনেক মানুষ ছিলেন যাদের পুরোপুরি শারীরিক সক্ষমতা ছিল না। কোনো না কোনোভাবে তারা প্রতিবন্ধী ছিলেন। তবুও নিজেকে সফল করার জন্য প্রাণপণ লড়েছেন তারা। অবশেষে সফলও হয়েছেন। আজ আমরা এমন কয়েকজন সফল মানুষের কথা জানব।

    মাইগেল ডি কারভেনটিস (১৫৪৭-১৬১৬)

    কারভেনটিস (Miguel De Cerventics) ছিলেন স্পেনের এক বিখ্যাত লেখক। ‘ডন কুইকসট’ নামে এক গল্পের জন্য বিশ্ববিখ্যাত তিনি। এক যুদ্ধে তিনি তার এক হাত হারিয়েছিলেন; কিন্তু সেজন্য তার সৃষ্টিকর্ম থেমে থাকেনি। এক হাত না থাকা সত্ত্বেও লিখে গেছেন বহু গল্প-উপন্যাস।

    লুইগ ভ্যান বেথোফেন (১৭৭০-১৮২৭)

    বিশ্বের এক বিখ্যাত সংগীতজ্ঞ হিসেবে আজও মানুষ বেথোভেনকে স্মরণ করে। বেথোভেন ছিলেন অকল্পনীয় সব সুরের সুরকার। অথচ ১৮১৭ সালে তিনি পুরোপুরি বধির হয়ে যান। শ্রবণ প্রতিবন্ধী একজন মানুষ কীভাবে সুরের সৃষ্টি করতেন, তা আজও মানুষের মনে বিস্ময়ের সৃষ্টি করে যাচ্ছে। বলা হয়, বেথোভেন সুর সৃষ্টি করতেন হৃদয় থেকে। হয়তো এ কারণেই নিজের কানে না শুনেই তিনি অমর সব সুর সৃষ্টি করে যেতে পেরেছেন।

    লুইস ব্রেইল (১৮০৯-১৮৫২)

    ব্রেইল (Louis Brille) ছিলেন অন্ধ । তবে অন্ধদের জন্য পড়ালেখা করা অসম্ভব, এ কথা তিনি বিশ্বাস করতেন না। তাই দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য তিনি আঙুল ছুঁয়ে ছুঁয়ে পড়ে যাওয়া সম্ভব—এমন এক পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। এই পদ্ধতির নাম ব্রেইল পদ্ধতি।

    সারাহ বার্নহারড (১৮৪৪-১৯২৩)

    সারাহ বার্নহারড (Sarah Bernhard) ছিলেন এক ফরাসি অভিনেত্রী। ১৯১৪ সালে এক দুর্ঘটনায় তিনি তার এক পা হারিয়েছিলেন। তবে সেজন্য সারাহ অভিনয়জগৎ থেকে বিদায় নেননি। এর পরও আমৃত্যু তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে অভিনয় করে গেছেন।

    টমাস আলভা এডিসন (১৮৪৭-১৯৩১)

    টমাস আলভা এডিসন (Thomas Alva Edison) ছিলেন সর্বকালের সেরা বিজ্ঞানী। কিশোর বয়সে রেলগাড়ির বগিতে বসে এসিড নিয়ে কাজ করার সময় বগির ভেতর আগুন ধরে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গার্ড তাকে থাপ্পড় মারে। ফলে তিনি বধির হয়ে যান এবং চিরদিনের জন্য শ্রবণক্ষমতা হারান। এত বড় ক্ষতি হওয়ার পরও ‍আত্মবিশ্বাসের জোরে গবেষণা চালিয়ে তিনিই বৈদ্যুতিক বাতি, সিনেমা প্রজেক্টর, গ্রামোফোনসহ দুইশরও বেশি আবিষ্কার করেন।

    হেলেন কেলার (১৮৮০-১৯৬৮)

    হেলেন কেলারের নাম জানে না, শিক্ষিত সমাজে এমন মানুষ নেই বললেই চলে। তার পুরো নাম হেলেন অ্যাডামস কেলার (Helen Adams keller)। তিনি চোখে দেখতে পেতেন না, সেইসঙ্গে কানেও শুনতে পারতেন না। অন্ধ ও বধির হওয়া সত্ত্বেও ২৪ বছর বয়সে স্নাতক এবং পরবর্তী সময়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। কী দুর্নিবার মনের জোর থাকলে কোনো মানুষ একসঙ্গে দুটি প্রতিবন্ধকতা জয় করতে পারেন—হেলেন কেলার তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি ছিলেন বিখ্যাত লেখক, সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ। আমৃত্যু তিনি প্রতিবন্ধী শিশুদের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। তাকে প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডমে ভূষিত করা হয়।

    ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট (১৮৮২-১৯৪৫)চারবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট (Franklin D. Roosevelt)। অথচ তিনি ছিলেন পোলিও-আক্রান্ত রোগী। জীবনের বেশিরভাগ সময় তাকে হুইলচেয়ারে বসে কাটাতে হয়েছে। তবে রাষ্ট্র পরিচালনায় ফ্রাঙ্কলিনের এ রোগ কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারেনি। আত্মবিশ্বাসের জোরে তিনি সব সমস্যাকে জয় করেছিলেন।

  • সাতক্ষীরার টালি যাচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকায়

    সাতক্ষীরার টালি যাচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকায়

    কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বলেছেন- ‘মধুর চেয়ে আছে মধুর, সে এই আমার দেশের মাটি, আমার দেশের পথের ধূলা, খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি।’ আর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন- ‘ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।’ সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার মুরারিকাটি গ্রামের মাটি যেন কবিদের সেই কথার দৃষ্টান্ত। কারণ এই গ্রামের মাটিতে তৈরি দৃষ্টিনন্দন টালি যাচ্ছে ইউরোপ আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।

    জানা গেছে, মুরারীকাটি গ্রামের মৃৎশিল্পীরা তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় এসব টাইলস তৈরি করেন। একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে এখনও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি এই পালপাড়ায়। আগের মতোই মাটি সংগ্রহ করে বছরের পর বছর উঁচু স্তূপ করে রাখতে হয়। তারপর সেখান থেকে মাটি কেটে কুমাররা পায়ের মাধ্যমে কাদা তৈরি করেন মণ্ড বা খামির। মাটি তৈরির পর শিল্পী তার নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ও খাঁচে ফেলে তৈরি করেন বিভিন্ন ধরনের টাইলস। সেগুলো রোদে শুকিয়ে তারপর রঙ ধরানো হয়। রঙ লাগানোর কাজ শেষ হলে রোদে শুকিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে আগুনে পোড়ানোর জন্য সাজানো হয় এই টাইলস।

    ব্যবসায়ীরা জানান, ২০০২ সালের পর এই টাইলস তৈরি শুরু হয়। সে সময়ে ৪১টি কারখানা থাকলেও এখন টিকে আছে মাত্র ১৩টি কারখানা। সেখান থেকে উৎপাদিত টালি বছরে ১০ থেকে ১২ কোটি মতো টালি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হয়। দেশে আসে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার মতো বৈদেশিক মুদ্রা। মুরারিকাটিতে মাটিতে তৈরি উৎপাদিত টালির মধ্যে ফেক্স এ্যাংগুলার, হেড ড্রাগুলার, স্কাটিং, স্টেম্প, স্কয়ার, রুপ, ব্রিকস্ ও ফ্লোর টালি রফতানি হচ্ছে। রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান জেকে ইন্টাররন্যাশনাল, নিকিতা ইন্টারন্যাশনাল, মা-কটোস্ ইন্টারন্যাশনালসহ ১০ থেকে ১২টি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান মুরারিকাটিতে উৎপাদিত টালি ইউরোপ-আমেরিকায় রফতানি করছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের রফতানিতে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে মুরারিকাটির টালি।

    টালি কারখানার শ্রমিক রুস্তম শেখ বলেন, আমাদের এই মাটি মাঠের মিষ্টি মাটি। মহাজন এলাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে এই মাটি কিনে আনে। বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এই মাটি দিয়ে টালি তৈরি করা হয়।

    শ্রমিক মো. আব্দুর রশিদ বলেন, মুরালিকাটির মাটি মিষ্টি মাটি। এই মাটি সোনার চাইতে খাঁটি। এ কারণে এই মাটিটা বিদেশে রফতানি হয়। মাটি দিয়ে তৈরির এসব কারখানায় আমরা পাঁচ থেকে ছয়টি কর্মজীবী মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।

    প্র-এসও অর্গানিক টাইলস কোম্পানির মালিক কামাল হোসেন ভুট্টু বলেন, যখন যে দল ক্ষমতায় আসে তখন তারা এই সিন্ডিকেট তৈরি করে। সিন্ডিকেটের কারণেই আমরা যারা দীর্ঘদিন ব্যবসা পরিচালনা করছি আমাদের কোনো পরিবর্তন নেই। তিনি সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টালি আমদানি কারক প্রতিষ্ঠান ‘জে কে ইন্টারন্যাশনাল’ এর সিইও জাকির হোসেন বলেন, সাতক্ষীরা কলারোয়ার মুরালিকাটির মাটি বেলে হওয়ার কারণে এই মাটি দিয়ে টালি সুন্দরভাবে উৎপাদন হয়। যেটা বিশ্বমানের টালি হয়ে ওঠে। এই মাটিটা পোড়ানোর পরে যে সৌন্দর্য্যতা হয় সেটি পৃথিবীর সব থেকে বেশি সুন্দর টালি হয়ে ওঠে। যার জন্য এই টালি দিয়ে আমরা গোটা দুনিয়ার মার্কেট দখল করতে পেরেছি। যারা একবার কলারোয়ার মাটির তৈরি টালি ব্যবহার করেছে তারা পৃথিবীর অন্য কোনো মাটির তৈরি টালি ব্যবহার করবে না।

    তিনি বলেন, আমরা এই টালি বিশ্ববাজারে রফতানি করে থাকি। বিশেষ করে এটার বড় বাজার ইটালিতে। যার জন্য এই কলারোয়াকে ইটালির শহর বলা হয়ে থাকে। এছাড়া, আরব আমিরাত, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, তুর্কি ও ব্রিটেনের লন্ডনে আমরা রফতানি করে থাকি।

    বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) সাতক্ষীরার উপ-ব্যবস্থাপক গৌরব দাস বলেন, কলারোয়ার মুরালিকাটির টালি খুব সম্ভাবনাময় একটি শিল্প। আমাদের পক্ষ থেকে এই শিল্প এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের আর্থিক এবং কারিগরি সহযোগিতা করতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।