প্রেসিডেন্ট

  • পৌর চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি– মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবন

    পৌর চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি– মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবন

    প্রায় ৩৫ বছর পর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। এ নির্বাচনে ২৫৫টি ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন ক্ষমতাসীন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির মহাসচিব ও সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

    তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বা এলডিপি’র চেয়ারম্যান অলি আহমদ। তিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী।

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনের সময় দলটির মনোনয়নে নির্বাচিত ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার মেয়াদের দেড় বছরের মতো সময় বাকি থাকতেই পদত্যাগ করেন গত ২৪শে জুলাই।

    চলতি মাসের শুরুতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে বিএনপির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

    আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের পর আগামী পাঁচ বছরের জন্য বঙ্গভবনের বাসিন্দা হচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। খবর বিবিসি বাংলার।

    তৃণমূল থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে বসতে বিএনপির কঠিন সময়ে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া এবং ‘ক্লিন ইমেজ’র রাজনীতিক বলে পরিচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাড়ি দিতে হয়েছে দীর্ঘ এক পথ।

    ছাত্রজীবনে ছাত্র রাজনীতি, সেখান থেকে শিক্ষকতা, সে পেশা ছেড়ে ফের রাজনীতির মাঠ।রাজনীতিতে নেমেই নির্বাচিত হয়েছিলেন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান।

    খালেদা জিয়া কারাবন্দি ও তারেক রহমানের নির্বাসিত অবস্থায় মামলা-নির্যাতনে যখন বিএনপি অনেকটা টালমাটাল অবস্থায় ছিল তখন দেশের ভেতর দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    দলের রাজনীতিতে তার দায়িত্বশীল ভূমিকা আর পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে বিশেষ কৃতিত্বই তাকে রাষ্ট্রপতির পদের জন্য যোগ্য করে তুলেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

    লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার যখন কারা অন্তরীণ, রাজনীতিতে বেশ টালমাটাল অবস্থায় বিএনপি, তখন মির্জা ফখরুলের দৃঢ় অবস্থান আমরা দেখেছি। বারবার গ্রেফতার হয়েছেন, লাঞ্ছিত হয়েছেন, তারপরও তিনি মাটি কামড়ে পড়েছিলেন’।

    শিক্ষকতা পেশা থেকে রাজনীতির মাঠ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ১৯৬০ এর দশকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হল ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন।

    ১৯৬৯ সালে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি হন তিনি। তাকে সে সময় কারাগারেও যেতে হয়েছিল।

    শিক্ষা জীবন শেষে ১৯৭২ সালে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন। এরপর বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকতা করেন তিনি।

    পরে তিনি ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশাসনে সে সময়ের উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর পিএস পদে যোগ দেন।

    কয়েক বছর পর ১৯৮৬ সালে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন মির্জা ফখরুল। দুই বছরের মাথায় ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন তিনি।

    এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময়ে ১৯৯০ সালে তিনি যোগ দেন বিএনপিতে। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি এবং পরে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য হন।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সদালপী, বিনয়ী এবং পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নিঃস্বার্থ একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি সকলের কাছে সমাদৃত’।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সদালপী, বিনয়ী এবং পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নিঃস্বার্থ একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি সকলের কাছে সমাদৃত’।

    ১৯৯১ সালে তিনি বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচন করেন। তবে সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার জয়ের দেখা পাননি তিনি। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।

    ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

    ওই বছরই চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রিসভায় মির্জা ফখরুল প্রথমে কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

    এরপর মন্ত্রীসভায় পরিবর্তন আনা হলে তিনি বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান এবং ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি ওই পদেই বহাল ছিলেন।

    বিএনপির নেতৃত্বে আসার আগে আগে মির্জা ফখরুল জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রথম সহসভাপতি এবং পরে সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন।

    গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মেয়র, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী- সবই ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দায়িত্ব পালনের সময় আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের অনেক ধরনের নেতিবাচক ইমেজ তৈরি হয়, তবে মির্জা ফখরুল এসব অভিযোগ থেকে মুক্ত ছিলেন’।

    রাজনীতির কঠিন সময়ের নেতৃত্ব

    ২০০৬ সাল থেকে ২০২৪ সাল– এ সময়কালে রাজনীতিতে কঠিন একটা সময় পার করেছে বিএনপি।

    সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আটক ও কারাবরণ, কখনো দল ভাঙনের মুখে পড়েছে।

    আওয়ামী লীগের শাসনামলের প্রায় পুরোটা সময় বিএনপি রাজনীতিতে অনেকটাই কোণঠাসা অবস্থানে ছিল। চ্যালেঞ্জিং সেই সময়ে দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন মির্জা ফখরুল।

    সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবি হয় বিএনপির। সে নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে দলীয় মনোনয়ন পেলেও জিততে পারেননি তিনি।

    এরপর ২০০৯ সালের জাতীয় কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল।

    মাত্র দুই বছরের মাথায় ২০১১ সালে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন মারা যান। তার মৃত্যুর পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন খালেদা জিয়া।

    ওই বছরই আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়।

    দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রতিবাদে ২০১৪ সালের পাঁচই জানুয়ারির নির্বাচন বয়কট করে আন্দোলনে নামে বিএনপি।

    বিএনপির সিনিয়র নেতৃত্ব গ্রেফতার, মামলা ও দমন-পীড়নের মুখে পড়ে। এর প্রায় দুই বছর পর ২০১৬ সালের ৩০শে মার্চ বিএনপির পুর্নাঙ্গ মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল।

    ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারারুদ্ধ হন। ওই বছরের শেষে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ও নানা মামলা জটিলতায় পড়ে বিএনপি।

    একদিকে খালেদা জিয়ার বন্দি জীবন, অন্যদিকে দলটির তৎকালীন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) তখন লন্ডনে নির্বাসিত। সেই কঠিন সময়ে দেশের ভেতরে দলকে নেতৃত্ব দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, এত ঝড় ঝাপ্টার মধ্যেও বিএনপিকে ভাঙা যায়নি, কারণ তখন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতো একজন মহাসচিব ছিলেন যিনি দেশের ভেতরে থেকে দলটাকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

    দেশের ভেতর দলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে কয়েক দফায় কারাগারে যেতে হয়েছে তাকে বিভিন্ন মামলায়। বিভিন্ন সময় হামলা ও নির্যাতনের মুখেও পড়েন তিনি।

    ক্লিন ইমেজের রাজনীতিক

    বাংলাদেশের রাজনীতিতে কথার লড়াই ছিল সব সময়ই। সভা সমাবেশে বক্তৃতা দিতে গিয়ে একে অপরকে আক্রমনাত্নক ভাষার ব্যবহারও চলে হরহামেশাই।

    কিন্তু এদিক দিয়ে অনেকটাই ব্যতিক্রম মির্জা ফখরুল।

    অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, তার রাজনীতির যে বৈশিষ্ট্য আমরা লক্ষ করেছি, তা ছিল অত্যন্ত নম্র, বিনয়ী এবং সদালাপী উনি। অন্য দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি কখনো কটূক্তি করতেন না। সবাইকে সম্মান দিয়ে কথা বলতেন এবং শ্রদ্ধার সাথে দেখতেন।

    যে কারণে শুধু বিএনপিতেই না, অন্যান্য রাজনৈতিক দল কিংবা সাধারণ মানুষের কাছেও মির্জা ফখরুলের অন্য ধরনের সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি গড়ে উঠেছে।

    গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতি পদটি একটা সম্মানজনক পদ। এ পদটি মির্জা ফখরুলের প্রাপ্যই ছিল। আমরা চাইবো তিনি যেন দলীয় দৃষ্টির বাইরে এসে রাষ্ট্রের অভিভাবক হয়ে উঠতে পারেন।

    জন্ম, বেড়ে ওঠা, পরিবার

    ১৯৪৮ সালের ২৬শে জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন পেশায় একজন আইনজীবী। মা মির্জা ফাতেমা আমিন ছিলেন গৃহিনী।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাবা মির্জা রুহুল আমিন দুইবার পাকিস্তান প্রাদেশিক আইন সভার সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। তিনি এরশাদ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যও ছিলেন।

    ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন, তিনি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঊধর্বতন কর্মকর্তা হিসেবে অবসরে গেছেন।

    এ দম্পতির দুই মেয়ে মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহ।

    বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে সেখানেই শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কাজ করছেন।

    ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে এখন একটি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিনও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি। বড় ভাই মির্জা ফখরুলের মতো তিনিও ছিলেন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র।

    ছাত্রজীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নাট্যচর্চার সাথে যুক্ত ছিলেন। নাট্যমঞ্চে অভিনয় করেছেন। এছাড়া আবৃত্তিসহ নানা সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নিতেন।

  • যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে: মির্জা ফখরুল

    যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে: মির্জা ফখরুল

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

    সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় রংপুর নগরীর টার্মিনাল এলাকায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-এর বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন যথাসময়ে হবে। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে।’

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। এ বছরের শেষে না হলেও আগামী বছরের শুরুতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

    মন্ত্রী আরও জানান, সরকার কৃষির উন্নয়নে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ মওকুফ করেছে। এছাড়া রংপুর অঞ্চলের কৃষি উন্নয়নে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কৃষিকে লাভজনক করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    মির্জা ফখরুল বিএনপিকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আমরা দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণের ভালোবাসা ও ভোটে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছি। একবার নয়, বিএনপি পাঁচবার সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে। এ সরকার কৃষিবান্ধব ও জনগনের সরকার। বিএনপিকে যারা ফ্যাসিবাদী বলেন, তাদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে অথবা তাদের মানসিকতা সেভাবে গড়ে উঠেছে।

    এর আগে, সকালে তিনি বিআরডিবির বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন। পরে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে আয়োজিত পল্লী মেলার উদ্বোধন ও বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং শিল্পকলা একাডেমিতে সুধী সমাজের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেন।

    এ সময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামু, বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম (এনডিসি), রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুরের জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন, রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা।

  • বিশ্বস্ত কাউকে রাষ্ট্রপতি পদে চায় বিএনপি

    বিশ্বস্ত কাউকে রাষ্ট্রপতি পদে চায় বিএনপি

    বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য কাউকে রাষ্ট্রপতি পদে বসাতে চায় ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। এক্ষেত্রে দলটি আমলা অথবা শিক্ষকের বদলে বেছে নিতে পারে দলের অভিজ্ঞ কোনো রাজনীতিককেই। ক্ষমতাসীন দলটির নেতাদের পর্যবেক্ষণ— রাজনৈতিক সংকটময় মুহূর্তে চাপ নিতে পারেন, এমন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তির বাইরে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করে অতীতে তারা পড়েছিলেন সংকটের মুখে। দলের নেতারা উদাহরণ টানলেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের। তারা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে বিএনপির নিয়োগ করা রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন বিদায় নিয়েছিলেন চাপের মুখে। এতে করে পথ প্রশস্ত হয়েছিল ওয়ান ইলেভেনের। যার ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ এক রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে যায় বিএনপি। অতীতের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এবার অত্যন্ত সতর্ক বিএনপি।

    দলটির জ্যেষ্ঠ নেতৃত্ব পর্যায়ে অভিমত, যিনি দলের প্রতি বিশ্বস্ত, দলের নীতি-আদর্শ-দর্শন ধারণ করেন, রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সংকটে পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম— রাষ্ট্রপতি হিসেবে এমন ব্যক্তিকেই বেছে নেওয়া উচিত। তারা বলছেন, সবকিছু বিচার-বিবেচনা করে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানই সে সিদ্ধান্ত নেবেন।

    পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গতকাল শুক্রবার পদত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতির এই হঠাৎ পদত্যাগের ক্ষেত্রে জানা গেছে, সরকারের কাছ থেকে ‘সবুজসংকেত’ পেয়েই তিনি পদত্যাগ করেছেন। সরকার চাইছিল যে তিনি পদত্যাগ করুক। কেননা, গত কয়েক মাস রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সরকারের সম্পর্কে এক ধরনের শিথিলতা তৈরি হয়, যেটা দৃশ্যমানও হয়।

    সাধারণত প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর থেকে ফেরার পর রাষ্ট্রপতিকে তার সফরের বিষয়ে অবহিতের রেওয়াজ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২১ থেকে ২৬ জুন মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম বিদেশ সফর। দেশে ফিরে ২৭ জুন তিনি জাতীয় সংসদে সফরের অর্জন নিয়ে কথা বলেন। তবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বা অন্য কোনোভাবে সফরের ফল তাকে অবহিত করেছেন— এমন কোনো তথ্য বঙ্গভবন কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রকাশ করেনি। তাই অনেকেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের দূরত্ব তৈরি হওয়ার কথা বলছিলেন।

    বিএনপির ভেতর থেকে কেউ কেউ বলছেন, গত মে মাসে রাষ্ট্রপতি (সদ্য সাবেক) মো. সাহাবুদ্দিন যখন চিকিৎসার জন্য লন্ডন যান, তখন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার ফোনালাপ হয়। এরপর গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মারফতে ওই ফোনালাপের বিষয়টি সরকারের কাছে চলে আসে, যেটাকে গুরুত্বসহকারে আমলে নেয় সরকার। এরপরই মূলত সরকার থেকে তাকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়। বিএনপি নেতাদের ধারণা, সেই সূত্র ধরেই মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। যদিও মো. সাহাবুদ্দিন ওই ফোনালাপের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে এটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেছেন।

    অনেকের ধারণা, ওই ফোনালাপই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের অন্যতম কারণ। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করেছেন যে মো. সাহাবুদ্দিনের ওপর তাদের যে আস্থা ছিল, ওই ফোনালাপের মধ্য দিয়ে চিড় ধরেছে তাতে। তবে এটাও ঠিক, মো. সাহাবুদ্দিন নিজেও শারীরিকভাবে অসুস্থ। পদত্যাগপত্রে সেটি তিনি উল্লেখও করেছেন।

    সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। বিএনপি নেতারা বলছেন, সংসদের আগামী অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবে। জানা গেছে, আগামী সেপ্টেম্বরে সংসদের পরবর্তী অধিবেশন বসতে পারে। এ অবস্থায় ক্ষমতাসীন দলটি মনে করছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য তাদের হাতে যথেষ্ট সময় রয়েছে।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপির জ্যেষ্ঠ চার নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান। তবে কেউ কেউ বলছেন, তাদের বাইরে থেকেও চমক আসতে পারে। সেটি একান্তই নির্ভর করছে তারেক রহমানের ওপর।

    জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. নূরুল ইসলাম মনি আগামীর সময়কে বললেন, ‘জাতীয় সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। সংসদের আগামী অধিবেশনে সেটি হতে পারে।’

    এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বললেন, ‘সংসদের একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন বসতে হয়। সে হিসেবে সেপ্টেম্বরের ১৫ তারিখের মধ্যে অধিবেশন বসতে হবে। এতে করে হাতে এখনো যথেষ্ট সময় আছে।’

    ‘রাষ্ট্রপতি পদে দল কাকে মনোনয়ন দেবে, সেই সিদ্ধান্ত পুরোপুরিই বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর নির্ভর করছে। এক্ষেত্রে তিনি দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে হয়তো কথা বলবেন’— যোগ করেন নূরুল ইসলাম মনি।

  • চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক শুরু

    চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক শুরু

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন। শুক্রবার চীনের স্থানীয় সময় সকাল ১০ টায় বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ বৈঠকটি শুরু হয়।

    এর আগে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে চীনের ঐতিহাসিক তিয়েনআনমেন স্কয়ারে অবস্থিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে দেশটির বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়।

    পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে চীনের বিপ্লবী বীরদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ।

    চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে বেইজিংয়ে অবস্থান করছেন।

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ জুন মালয়েশিয়া সফরের মধ্য দিয়ে তাঁর প্রথম সরকারি বিদেশ সফর শুরু করেন। পরে তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সামার দাভোস ২০২৬-এ অংশ নিতে চীনের দালিয়ান শহরে যান। সেখানে দুই দিন বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পর বুধবার বিকেলে বেইজিং পৌঁছান।

    বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। বৈঠকটি গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

    একই দিনে বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) মধ্যে বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়া চীনের পানি সম্পদমন্ত্রী লি গোয়িং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

    সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি বিনিয়োগ সম্মেলনে বক্তব্য দেন, যা যৌথভাবে আয়োজন করে চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রোমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। তিনি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিংয়ের সঙ্গেও দলীয় পর্যায়ে বৈঠক করেন।

    চীনে অবস্থানকালে বিভিন্ন বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর শীর্ষ নির্বাহী, চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সি, চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দেশের উন্নয়নযাত্রায় আরও কার্যকর অবদান রাখার বিষয়ে আলোচনা করেন।

    বেইজিংয়ে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনাসহ সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অভ্যর্থনা জানানো হয়। মালয়েশিয়া সফর ও সামার দাভোসে অংশগ্রহণের মতো এই সফরেও তিনি মাত্র ২৫ সদস্যের একটি ছোট প্রতিনিধিদল নিয়ে সফর করছেন, যার মধ্যে ১১ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা রয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা আজ বিকেল ৫টায় বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।