ট্যাগ প্রাথমিক শিক্ষা

  • ১ অক্টোবর যোগ দেবেন প্রাথমিকের ১৪ হাজার ৩৮৪ সহকারী শিক্ষক

    ১ অক্টোবর যোগ দেবেন প্রাথমিকের ১৪ হাজার ৩৮৪ সহকারী শিক্ষক

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নিয়োগের জন্য নির্বাচিত ১৪,৩৮৪ সহকারী শিক্ষক আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্ন উত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান।

    এদিন শিক্ষামন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে প্রশ্নের জবাব দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এসময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। শিক্ষামন্ত্রী জানান, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এ ১৪,৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। নির্বাচিত সহকারী শিক্ষকরা ১ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগ দেবেন এবং ৪ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখ তাদের বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হবে।

    এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির জন্য ৩৬,৯৬০টি পদ শূন্য রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশন নং ৭৩/২০২৩-এর মামলাটি নিষ্পত্তি হওয়ায় পদোন্নতিযোগ্য প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদগুলো পূরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

  • চাটমোহরে ৪৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষককে শোকজ

    চাটমোহরে ৪৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষককে শোকজ

    পাবনার চাটমোহরে ৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শতাধিক শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলার শিক্ষা অফিস।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চাটমোহর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল গনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যা জ্ঞান (এফএলএন) কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে না পারায় উপজেলার ৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ শতাধিক সহকারী শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল গনি কারণ দর্শানোর নোটিশের বিষয়ে বলেন, কয়েক মাস আগে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে জারি করা শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যা জ্ঞান (এফএলএন) কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে না পারায় তাদের বিররুদ্ধে এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

    উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় গত ৩০ জুনের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা পাঠদক্ষতা, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের গণিতের চারটি মৌলিক নিয়ম (যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সাবলীল ইংরেজি পাঠ দক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    নোটিশে উল্লেখ করা হয়, একাধিক নির্দেশনা ও তদারকির পরও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এ অবস্থায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

    যে সব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, পৌর সদরের শালিখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিলচলন ইউনিয়নের দোলং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মথুরাপুর ইউনিয়নের ভাদড়া ও উথুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হরিপুর ইউনিয়নের ধরইল, হরিপুর, লাউতিয়া ও চড়ইকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মূলগ্রাম ইউনিয়নের আটলংকা, খতবাড়ি পুরানপাড়া, শুইগ্রাম, বামনগ্রাম-১, বামনগ্রাম-২, ভবানীপুর ও নেউতিগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফৈলজানা ইউনিয়নের ফৈলজানা, কুয়াবাসি, পবাখালী, ঈদিলপুর, শরৎগঞ্জ, জগন্নাথপুর, কচুগাড়ী, ঝবঝবিয়া, ঘাসিখোলা, লক্ষীপুর, সাইপাই, দীঘুলিয়া, কুঠিপাড়া, দিয়ারপাড়া, মেঘারপাড়া,কচিয়া, সোহাগবাড়ী ও লক্ষীপুর দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের আলমনগর, বোয়ালিয়া, বনগ্রাম, আড়িংগাইল, বারকোনা, বালুদিয়ার, জামালপুর, ও বনগ্রাম চকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের দিলালপুর, কাটাখালী ও ধানবিলা ফয়েজ উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

    নোটিশপ্রাপ্ত একাধিক শিক্ষক জানান, অভিভাবকদের উদাসীনতা, শিক্ষার্থীদের মনযোগের অভাব, অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট, অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজ, প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যালয় হওয়ায় যাতায়াতের সমস্যাসহ শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তারা লিখিত ব্যাখ্যা দেবেন বলে জানান।

    উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল গনি বলেন, উপজেলার ৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কোনো বিদ্যালয়ে চার জন শিক্ষক, কোনো বিদ্যালয়ে তিন জন শিক্ষক রয়েছেন। আবার অনেক বিদ্যালয়ে এর চেয়েও বেশি শিক্ষক আছেন। নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    প্রসঙ্গত, পাবনা জেলার ৯টি উপজেলার ৩৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বাংলা, ইংরেজী গণিতে শিক্ষার্থীদের কাঙ্খিত শিখনফল অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় এসকল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষকদের কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

  • প্রাথমিকে বদলি-পদায়নে চার কমিটি, নেতৃত্বে সচিব-ডিসি-ইউএনও

    প্রাথমিকে বদলি-পদায়নে চার কমিটি, নেতৃত্বে সচিব-ডিসি-ইউএনও

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের পদায়ন এবং কর্মরত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম পরিচালনা ও আবেদন নিষ্পত্তির জন্য জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা এবং উপজেলা বা থানা পর্যায়ে চার স্তরের কমিটি গঠন করেছে সরকার। এসব কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

    গতকাল রোববার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (বিদ্যালয়-২) রাজীব কুমার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়। আজ সোমবার প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশ করা হয়েছে।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) থেকে জানা যায়, সারা দেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৭ জন এবং শিক্ষক রয়েছেন ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৯৫ জন।

    জানতে চাইলে আজ বিকেলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) মো. লাল হোসেন আজকের পত্রিকাকে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে বদলি-পদায়নে কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির জন্য গঠিত কমিটির সভাপতি থাকবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব। কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং সদস্যসচিব থাকবেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়)। কমিটি প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে বদলির আবেদন নিষ্পত্তি করবে এবং বিস্তারিত প্রতিবেদন মন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠাবে।

    আন্তবিভাগ শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনারকে সভাপতি করে বিভাগীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচ সদস্যের এই কমিটিতে বিভাগীয় উপপরিচালক (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা) এবং সভাপতির মনোনীত দুজন গণ্যমান্য ব্যক্তি সদস্য হিসেবে থাকবেন। সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন বিভাগীয় উপপরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা)। কমিটি প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেবে। একই বিভাগের মধ্যে, তবে সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে, সহকারী শিক্ষকদের বদলির আবেদন বিভাগীয় কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় উপপরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা) বদলির আদেশ জারি করবেন।

    এ ছাড়া জেলা পর্যায়ে শিক্ষকদের পদায়ন ও কর্মরত শিক্ষকদের বদলির আবেদন নিষ্পত্তির জন্য জেলা প্রশাসককে (ডিসি) সভাপতি করে জেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সভাপতির মনোনীত দুজন গণ্যমান্য ব্যক্তি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই কমিটি প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে বদলির আবেদন নিষ্পত্তি করবে এবং সভার কার্যবিবরণীসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন বিভাগীয় উপপরিচালকের (প্রাথমিক শিক্ষা) কার্যালয়ে পাঠাবে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের লটারির মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদায়নের দায়িত্বও জেলা কমিটির ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। একই জেলার মধ্যে সহকারী শিক্ষকদের বদলির আবেদন জেলা কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিষ্পত্তি করবেন এবং বদলির আদেশ জারি করবেন।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, উপজেলা বা থানা পর্যায়ে শিক্ষকদের বদলি আবেদন নিষ্পত্তির জন্য উপজেলা বা থানা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সভাপতি করে উপজেলা বা থানা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সভাপতির মনোনীত দুজন গণ্যমান্য ব্যক্তি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। উপজেলা বা থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই কমিটি প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে সহকারী শিক্ষকদের বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেবে এবং সভার কার্যবিবরণীসহ প্রতিবেদন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠাবে। একই উপজেলা বা থানার মধ্যে সহকারী শিক্ষকদের বদলির আবেদন কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে উপজেলা বা থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিষ্পত্তি করবেন এবং বদলির আদেশ জারি করবেন।

    প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, যেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষকেরা আগে ‘প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে’ বদলির আদেশ পেয়েছেন, সেসব বিদ্যালয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিক্ষক পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

  • পাঠ্যবই মুদ্রণে এখনো সক্রিয় আওয়ামী সিন্ডিকেট

    পাঠ্যবই মুদ্রণে এখনো সক্রিয় আওয়ামী সিন্ডিকেট

    পাঠ্যবই মুদ্রণে সক্রিয় আওয়ামী সিন্ডিকেট

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বিনামূল্যের সরকারি পাঠ্যবই মুদ্রণে এখনো সক্রিয় পুরোনো আওয়ামী সিন্ডিকেট। ১০-১২ জনের ওই চক্রটি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে আঁতাত করে কৌশলে ভাগবাঁটোয়ারা করে নিয়ে নিচ্ছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার মুদ্রণকাজের সিংহভাগ। এতে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন ক্ষুদ্র-মাঝারি মুদ্রণশিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা। হতাশায় অনেকে এ পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন।

    এনসিটিবি ও মুদ্রণশিল্পে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এনসিটিবি থেকে এ চক্রের হোতাদের বদলি করা হয়। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর আবার ফিরে এসে সক্রিয় হয়েছেন বিতর্কিত ওইসব কর্মকর্তারা।

    সবচেয়ে বেশি বিতর্কিতদের মধ্যে রয়েছেনÑএনসিটিবির সচিব অধ্যাপক শাহ মুহাম্মদ ফিরোজ আল ফেরদৌস। তিনি আওয়ামী আমলের শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির ঘনিষ্ঠ পানি জাহাঙ্গীর, শাহেদুল খবির, রতন কুমার ও নিজামুল হক সিন্ডিকেটেরও সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের এপ্রিলে তাকে এনসিটিবি থেকে বদলি করা হয়েছিল। সম্প্রতি নতুন করে এনসিটিবিতে তার পদায়নের পেছনে প্রভাবশালী মহল এবং শেখ হাসিনার পিয়ন পানি জাহাঙ্গীরের ঘনিষ্ঠ অগ্রণী ও কর্ণফুলী প্রিন্টিং প্রেসের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেটের সংযোগ বয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।

    জানা যায়, ওই দুটি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান আওয়ামী আমলে ৪০০ কোটি টাকার মালিক শেখ হাসিনার আলোচিত পিয়ন জাহাঙ্গীরের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। তারা ২০২৫ ও ২০২৬ সালের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণে কিছুটা চাপের মুখে থাকলেও কৌশলে বিশাল অঙ্কের কাজ করেছে। তারাই এখন পুরোনো সিন্ডিকেটকে সক্রিয় করতে গুরুত্বপূর্ণ পদে ফের নিজেদের লোক পদায়ন করতে ভূমিকা রাখছে বলে জানা গেছে।

    আগামী বছরের পাঠ্যবই মুদ্রণে টেন্ডারের প্রক্রিয়া চলমান। এনসিটিবি জানিয়েছে, বিনামূল্যের পাঠ্যবই সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করতে পিপিআর-২০২৫ অনুযায়ী ২০৬ থেকে ২২০ দিনের সুনির্দিষ্ট দরপত্র সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। রোডম্যাপ অনুযায়ী, লট বিভাজন ও দরপত্র আহ্বান গত ৩ জুন শুরু হয়েছে।

    সূত্র জানায়, পরবর্তী ধাপ হিসেবে আগামী ২৮ জুন দরপত্র দাখিল ও উন্মুক্ত করা হবে, ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে দরপত্র মূল্যায়ন, ২৭ আগস্টের মধ্যে দরপত্র অনুমোদন, ৩০ আগস্ট কার্যাদেশ জারি এবং ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করা হবে। এরপর ২৯ নভেম্বরের মধ্যে মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ের কাজ শেষ করে মাঠপর্যায়ে শতভাগ পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করা হবে।

    এর মধ্যে ওই চক্রটি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এক্ষেত্রে এনসিটিবির কিছু কর্মকর্তা তাদের গোপনে সহযোগিতা করে পুরো টেন্ডার প্রক্রিয়াটি নিজেদের অধীনে নিয়ে যেতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এ সিন্ডিকেট এনসিটিবি হয়ে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত বিস্তৃত।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, এ সিন্ডিকেট ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে রয়েছে ৪০০ কোটি টাকার মালিক হাসিনার পিয়ন জাহাঙ্গীরের সাঙ্গোপাঙ্গরা। এছাড়াও সাবেক মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের ভাই আনন্দ প্রিন্টার্সের মালিক রাব্বানী জব্বার, অগ্রণী অফসেট প্রিন্টার্সের মালিক, মুদ্রণশিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি এবং যুবলীগের নেতা জহুরুল ইসলাম, মুদ্রণ শিল্প সমিতির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান জুনায়েদুল্লাহ আল মাহফুজ প্রমুখ।

    এদিকে দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থীর হাতে সময়মতো নতুন পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া এনসিটিবির প্রধান দায়িত্ব হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ গুরুত্বপূর্ণ খাতটি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের সময় গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী ‘আওয়ামী সিন্ডিকেট’ এখনো টেন্ডার প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে, এ কারণে চরম সংকটে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি মানের মুদ্রণ ব্যবসায়ীরা।

    টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও সিন্ডিকেটের কারসাজি অনুসন্ধানে জানা গেছে, এনসিটিবির বার্ষিক পাঠ্যবই মুদ্রণের বিশাল কাজের টেন্ডারে স্বচ্ছতার অভাব দীর্ঘদিনের। একটি নির্দিষ্ট চক্র গত কয়েক বছর ধরে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগসাজশে গড়ে ওঠা এ সিন্ডিকেট আগেভাগেই টেন্ডারের কাজ ভাগবাঁটোয়ারা করে নেয়। এ কারণে সাধারণ বা নতুন মুদ্রণ ব্যবসায়ীরা দরপত্রে অংশগ্রহণ করলেও কৌশলী শর্তাবলি এবং রাজনৈতিক প্রভাবে তাদের কাজ পাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    এছাড়াও সিন্ডিকেটে জড়িতরা কৌশলে এনসিটিবির কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ছোট ছোট প্রেসকে বিভিন্ন অজুহাতে কালোতালিকাভুক্ত করে বাদ করে দেওয়া হয়।

    ভুক্তভোগী হাক্কানি প্রিন্টার্সের মালিক জহির মনি আমার দেশকে বলেন, বাঁধাই যন্ত্র না থাকার অজুহাতে আমার প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানো নোটিস দেওয়া হয়েছে। অথচ অভিযোগটি সম্পূর্ণ মনগড়া ও বানোয়াট। আমাদের প্রেসে স্থায়ীভাবেই বাঁধাই যন্ত্র রয়েছে। কৌশলে আমাদের বাদ দিতেই উদ্দেশ্যপূর্ণ নোটিস দেওয়া হয়। এটা মূলত সিন্ডিকেট চক্রের ইশারায় করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, এভাবে শুধু আমাদেরই নয়, সাধারণ অনেক প্রেস মালিককে হয়রানি করা হচ্ছে। মূলত সিন্ডিকেট টিকিয়ে রাখতেই এমনটি করা হচ্ছে।

    ভুক্তভোগী মুদ্রণ ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডারে উন্মুক্ত অংশগ্রহণের সুযোগ থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয় না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা বছরের পর বছর এ পেশায় আছি, কিন্তু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে আমরা এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে। বড় বড় ঠিকাদাররা সব কাজ ভাগ করে নেয় আর আমরা পড়ে থাকি কাজহীন । সিন্ডিকেটের সদস্যরা ছোট ব্যবসায়ীদের যতটুকু কাজ দেন, তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় । রাজধানীর আরামবাগ, ফকিরাপুল, সূত্রাপুর ও বাংলাবাজার এলাকার বেশ কয়েকজন মুদ্রণ ব্যবসায়ী জানান, পাঠ্যবইয়ের কাজ না পাওয়ার কারণে তাদের প্রেসে কর্মীদের বেতন দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সিন্ডিকেটের চাপে টেন্ডারগুলো এমনভাবে সাজানো হয়, যেখানে ছোট বা মাঝারি সক্ষমতার প্রতিষ্ঠানগুলোর টিকে থাকা অসম্ভব।

    একই সঙ্গে সরকারি বিনামূল্যের পাঠ্যবইয়ে বিশাল সিন্ডিকেটে গড়ে শতকোটি টাকার দুর্নীতি হচ্ছে। এসব জানার পরও কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এমনকি সিন্ডিকেটের অবৈধ চাপে নতি শিকার করে পুরোনো বিতর্কিত কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে নেওয়াসহ নানা সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে মন্ত্রণালয়কে।

    সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাধ্যমিকের বিনামূল্যের বই মুদ্রণে একটি নির্দিষ্ট পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে ভিন্ন ভিন্ন প্রেস থেকে নিম্নমানের বই মুদ্রণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বছর প্রাথমিকের বই মুদ্রণেও নাহার প্রেস নামে একটি প্রেস থেকে নিম্নমানের কাগজে ছাপার অভিযোগ ওঠে। মাধ্যমিকের বই মুদ্রণে একই পরিবারের চার প্রেসের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ পায় খোদ এনসিটিবি।

    সূত্র জানায়, মাধ্যমিকের বিভিন্ন শ্রেণির বিষয়ভিত্তিক একাধিক লটের বিপুলসংখ্যক বই মুদ্রণের কাজ পেয়েছিল কর্ণফুলী আর্ট প্রেস ও অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেস নামে দুটি প্রতিষ্ঠান। এ দুটি প্রেস পাঠ্যবই ছাপাতে সাড়ে আট হাজার টন কাগজ ব্যবহার করে। নিম্নমানের কাগজে বিপুলসংখ্যক বই ছাপিয়ে সরকার থেকে ২০ কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নেয় অভিযুক্ত প্রেসগুলো।

    এনসিটিবি সূত্র জানায়, ২০২৬ সালের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ৩০ কোটির অধিক বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ করে সরকার। এসব পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ করেছে ১০৪টি বেসরকারি প্রেস । যার মধ্যে শুরু থেকেই কয়েকটি প্রেসের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।

    সূত্র জানায়, কর্ণফুলী ও অগ্রণী নামের এ প্রতিষ্ঠান থেকে ছাপানো ৫০ লাখ ফর্মা এবং নিম্নমানের রিসাইকেলকৃত কাগজে বই ছাপানোর কারণে বাইন্ডিং, কাটিং ও সরবরাহ স্থগিতও করেছিল তদারক প্রতিষ্ঠান এনসিটিবি। শুধু তাই নয়, ছাপা হওয়া নিম্নমানের এসব বই ও ফর্মা ধ্বংস করার নির্দেশও দিয়েছিল ওই তদারককারী প্রতিষ্ঠান।

    ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বরাবরই বড় লটের কাজ পেয়ে থাকে তারা। এনসিটিবির কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি স্তরের জন্য মোট ৩০ কোটি ৭১ লাখ ৯৮ হাজার ১০১ কপি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ করা হবে। এ কর্মসূচিতে সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা।

    বিষয়টি নিয়ে এনসিটিবির উচ্চপর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা জানান, টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে করা হয়। তবে সিন্ডিকেটের অভিযোগ সম্পর্কে তারা সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে জানান, যদি সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে তারা যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।

    বিতর্কিত কর্মকর্তাদের ফিরে আসার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এনসিটিবির সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক পাটওয়ারী।

    সম্প্রতি শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক বলেছেন, অতীতে যারা খারাপ কাজ করেছে বা শেষ মুহূর্তে এসে নিম্নমানের বই দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তাদের এ বছর বই ছাপার কাজ দেওয়ার আগে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করা হবে। পাঠ্যবই মুদ্রণ কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আগামী বছর যথাসময়ে পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা ও অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।