ট্যাগ পে-স্কেল

  • বিলম্ব হলেও ১ জুলাই থেকে কার্যকর পে-স্কেল

    বিলম্ব হলেও ১ জুলাই থেকে কার্যকর পে-স্কেল

    নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হয়েছে। নতুন ‘জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬’ অনুমোদন করেছে সরকার। নতুন কাঠামোয় ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হওয়া।

    সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। তবে বর্ধিত বেতনের আর্থিক সুবিধা একবারে দেওয়া হবে না। মূল বেতন তিন ধাপে সমন্বয় করা হবে। প্রথম ধাপে মূল বেতনের একটি অংশ কার্যকর করা হবে এবং পরবর্তী দুই ধাপে বাকি অংশ সমন্বয় করা হবে। বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    নতুন পে-স্কেলে কার বেতন কত?

    নতুন কাঠামোয় ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। প্রতিটি গ্রেডে প্রস্তাবিত ধাপ সংখ্যাও অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে ১ম, ৮ম ও ৯ম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতনে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

    গ্রেডপুরোনো প্রারম্ভিক মূল বেতননতুন প্রারম্ভিক মূল বেতন
    ১ম গ্রেড৭৮,০০০ টাকা১,৫৬,০০০ টাকা
    ৮ম গ্রেডপ্রস্তাবের তুলনায় সংশোধিত
    ৯ম গ্রেডপ্রস্তাবের তুলনায় সংশোধিত
    ২০তম গ্রেড৮,২৫০ টাকা২০,০০০ টাকা

    নতুন কাঠামোয় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতনের ব্যবধানও কমানো হয়েছে। বিদ্যমান বেতন কাঠামোয় এই অনুপাত ছিল ১:৯ দশমিক ৪৫। নতুন কাঠামোয় তা কমিয়ে ১:৭ দশমিক ৮ করা হয়েছে।

    ১ম, ৮ম ও ৯ম গ্রেডে কী পরিবর্তন?

    জাতীয় বেতন কমিশন ১ম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করেছিল। তবে সচিব কমিটি তা কমিয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করার সুপারিশ করে। শেষ পর্যন্ত নতুন বেতন কাঠামোয় ১ম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    অন্যদিকে ৮ম ও ৯ম গ্রেডেও কমিশনের প্রস্তাবের তুলনায় বেতন বৃদ্ধির হার কমানো হয়েছে। এই দুই গ্রেডে কমিশন প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল। সচিব কমিটি তা কমিয়ে ১০০ শতাংশ করার সুপারিশ করে। অন্য গ্রেডগুলোতে কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী প্রারম্ভিক মূল বেতন বৃদ্ধির হার বহাল রাখা হয়েছে।

    কবে থেকে কার্যকর হবে নতুন বেতন?

    নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। তবে বাড়তি আর্থিক সুবিধা ধাপে ধাপে সমন্বয় করা হবে। অর্থাৎ নতুন স্কেল অনুমোদিত হলেও সব সুবিধা একসঙ্গে হাতে পাওয়ার সুযোগ নেই।

    প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মূল বেতনের একটি অংশ কার্যকর হবে। পরবর্তী দুই ধাপে বাকি অংশ সমন্বয় করা হবে। আর বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    কেন কিছুটা পরিবর্তন করা হলো?

    জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫-এর প্রস্তাব পর্যালোচনার সময় মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং দেশের আর্থসামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেয় সচিব কমিটি। এ সময় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতনের ব্যবধানও পর্যালোচনা করা হয়।

    ফলে কমিশনের প্রস্তাবের কিছুটা কাটছাঁট করে নতুন কাঠামো অনুমোদন করা হয়েছে। তবে ২০টি গ্রেড রাখা এবং ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব বহাল রাখা হয়েছে।

    এক নজরে সর্বশেষ আপডেট

    – নতুন স্কেল: জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬

    – গ্রেড: ২০টি

    – কার্যকর ধরা হবে: ১ জুলাই ২০২৬ থেকে

    – সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন: ২০তম গ্রেডে ২০,০০০ টাকা

    – সর্বোচ্চ প্রারম্ভিক মূল বেতন: ১ম গ্রেডে ১,৫৬,০০০ টাকা

    – মূল বেতন সমন্বয়: তিন ধাপে

    – বাড়িভাড়া ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা: ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর – বিশেষ পরিবর্তন: ১ম, ৮ম ও ৯ম গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতনে সংশোধন

  • নতুন পে স্কেলের গেজেট কবে, জানালেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব

    নতুন পে স্কেলের গেজেট কবে, জানালেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব

    প্রস্তাবিত ৯ম জাতীয় পে স্কেল অনুমোদন করেছে সরকার। এখন অপেক্ষা শুধু গেজেট জারির। নতুন বেতনকাঠামোসংক্রান্ত আদেশ আজ বুধবার অথবা আগামীকাল বৃহস্পতিবার জারি হতে পারে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

    নতুন বেতনকাঠামো সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব গণমাধ্যমে বলেন, অর্থ বিভাগ আজ অথবা আগামীকাল এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করবে। এরপর নতুন বেতন কাঠামোর বিস্তারিত বিষয় স্পষ্টভাবে জানা যাবে।

    এর আগে সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনস্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নতুন বেতনস্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী ২০২৬ অনুমোদন করা হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশাবলী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর প্রতিবেদন পাওয়ার পর সরকারের সুপারিশ প্রণয়নের জন্য একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির দাখিল করা প্রতিবেদন মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে।

    পর্যালোচনা শেষে নতুন বেতনস্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। এ সময় সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারি কর্মচারীদের জীবনমানের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও যৌক্তিক বেতন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তাও গুরুত্ব পেয়েছে।

    অনুমোদিত জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এ সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি বেতন গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। তবে প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন বেতনস্কেলে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। আর ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

    নতুন বেতন কাঠামোয় বেতন বৈষম্য কমানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এ কারণে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত কমানো হয়েছে। বিদ্যমান ১:১.৯৪৫ অনুপাত কমিয়ে নতুন বেতনস্কেলে তা ১:১.৭৮ করা হয়েছে।

    ফলে নতুন বেতনস্কেলে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ বাড়বে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত বেতন বাড়বে ১০০ শতাংশ।

  • এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও পাবেন নতুন পে-স্কেল সুবিধা

    এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও পাবেন নতুন পে-স্কেল সুবিধা

    জাতীয় ডেস্ক:

    দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও পাবেন মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর সুবিধা। আজ মঙ্গলবার সকালে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছেন।

    এর আগে গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে বেতন বৃদ্ধির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। কিন্তু সেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় আসবেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে বলতে পারেননি মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘এটা এখন বলতে পারছি না। এ বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত আসবে।’

    এ রকম পরিস্থিতিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে আজ সকালে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে বলেন বিষয়টি জেনে জানাবেন। এর কিছুক্ষণ পর তিনি বলেন, শতভাগ নিশ্চিত যে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন বেতনকাঠামোর সুবিধা পাবেন।

    বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য আর্থিক অনুদান দেয় সরকার, যা এমপিও (মান্থলি পে অর্ডার) নামে পরিচিত। এসব শিক্ষক-কর্মচারী মূল বেতনের শতভাগ অংশ পান। এর সঙ্গে চিকিৎসা ভাতাসহ কিছু ভাতা পান। এর মধ্যে গত বছর এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের বাড়িভাড়া মূল বেতনের ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত হয়। তার আগে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা এত দিন মাসে এক হাজার টাকা করে বাড়িভাড়া পেয়ে আসছিলেন।

    শিক্ষক-কর্মচারীরা এত দিন মাসে এক হাজার টাকা করে বাড়িভাড়া পেয়ে আসছিলেন।


    বর্তমানে সারা দেশে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন আছেন প্রায় ৪ লাখ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন পৌনে ২ লাখের মতো এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন আছেন ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক ও কর্মচারী। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয় বেশি, তারা এমপিওর বাইরেও শিক্ষক ও কর্মচারীদের টাকা দেয়। তবে বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সেই সক্ষমতা থাকে না।

    এখন নতুন বেতনকাঠামোর সুবিধা পাওয়ার পর এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন ও বাড়িভাড়াও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে। স্কুল, কলেজ বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের স্তর এবং বিষয়ভেদে শিক্ষকদের বেতন গ্রেডে ভিন্নতা আছে। এখন যিনি যে গ্রেডে চাকরি করছেন, সে অনুযায়ী নতুন বেতনকাঠামোর সুবিধা পাবেন।

    সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী গ্রেডভেদে মূল বেতন বাড়বে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। নতুন কাঠামোয় এখনকার মতোই ২০টি গ্রেড থাকছে। এর মধ্যে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে হবে ২০ হাজার টাকা। আর সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডের বেতন নির্ধারিত ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।নতুন বেতনকাঠামো এ বছরের ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে আগামী বছরের (২০২৭) মধ্যে মূল বেতন মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আর ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ভাতা একযোগে কার্যকর হবে।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রমতে স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য প্রথম ধাপে এ বছরের জুলাই থেকে প্রথম ছয় মাসে ৫০ শতাংশ বর্ধিত মূল বেতন বাড়বে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় ধাপে আরও ২৫ শতাংশ এবং ২০২৭ সালের জুলাই থেকে তৃতীয় ধাপে অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হবে।এর মানে হলো প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ বেতন বাড়ার পর দ্বিতীয় ধাপে গিয়ে নতুন করে ২৫ শতাংশসহ মোট ৭৫ শতাংশ বর্ধিত মূল বেতন পাবেন এই গ্রেডের চাকরিজীবীরা। আর শেষ ধাপে আরও ২৫ শতাংশ যোগ হলে তখন বর্ধিত মূল বেতনের শতভাগ পাবেন তাঁরা। পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৮ সাল থেকে বেতন ও ভাতা একযোগে পাবেন।অন্যদিকে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের চাকরিজীবীদের জন্য প্রথম ধাপে গত ১ জুলাই থেকে ৪০ শতাংশ বর্ধিত মূল বেতন বাড়বে। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি আরও ৩০ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হবে।

  • সরকারিতে বেতন বেড়ে দ্বিগুণ

    সরকারিতে বেতন বেড়ে দ্বিগুণ

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ শতাংশ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ল। সচিব (১ নম্বর গ্রেড) থেকে ১১তম গ্রেডের মূল বেতন বেড়ে দ্বিগুণ হলো। ১২তম থেকে ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ১১৫ শতাংশ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন এই বেতনকাঠামো গতকাল সোমবার বিকেলে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। প্রায় এক যুগ পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন করল সরকার।

    https://youtube.com/watch?v=1wp7re-pNYU%3Ffeature%3Doembed

    নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়িত হলে সচিব পর্যায়ের বা প্রথম গ্রেডের একজন কর্মকর্তার মূল বেতন বর্তমান ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হবে। ২০তম গ্রেডে কর্মরত ব্যক্তির মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হবে। বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন হলে অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়ার বিষয়টি বিবেচনায় চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে তিন ধাপে তা বাস্তবায়ন করা হবে।

    অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যও বিশেষ সুখবর রয়েছে নতুন বেতনকাঠামোয়।

    নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন হলে প্রায় ২৪ লাখ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন। এ জন্য সরকারের বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।

    মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর তথ্য মন্ত্রণালয়ের পিআইডি সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে বেতনকাঠামোর বিস্তারিত তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তিনি বলেন, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও যৌক্তিক বেতনকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে মন্ত্রিসভা নতুন বেতন স্কেল অনুমোদন করেছে। ন্যায্যতার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত বিদ্যমান ১: ১.৯৪৫ থেকে কমিয়ে ১: ১.৭৮ করা হয়েছে।

    নতুন বেতনকাঠামোয় প্রথম গ্রেডের একজন কর্মকর্তার মূল বেতন বর্তমান ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হবে। একইভাবে ২০তম গ্রেডে কর্মরত একজন ব্যক্তির মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হবে।

    মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অবসরভোগী পেনশনধারীদের জীবনযাত্রার মান ও বৃদ্ধ বয়সের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্ল্যাবভিত্তিক নিট পেনশনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাসিক ৯,০০০ টাকার কম নিট পেনশন আহরণকারীদের ক্ষেত্রে নিট পেনশন ১০০ শতাংশ, ৯,০০১ টাকা থেকে ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন আহরণকারীদের ক্ষেত্রে নিট পেনশন ৭৫ শতাংশ, ২০,০০১ টাকা থেকে ৩০,০০০ টাকা পর্যন্ত আহরণকারীদের ক্ষেত্রে নিট পেনশন ৬৫ শতাংশ, ৩০,০০১ টাকা থেকে ৪০,০০০ টাকা পর্যন্ত আহরণকারীদের ক্ষেত্রে নিট পেনশন ৬০ শতাংশ এবং ৪০,০০১ টাকা বা তদূর্ধ্ব নিট পেনশন আহরণকারীদের ক্ষেত্রে নিট পেনশন ৫৫ শতাংশ বাড়বে।

    এ ছাড়া সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতি সন্তানের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতা প্রাপ্য হবেন। এ ছাড়া ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যয় বিবেচনায় মোবাইল ভাতার আওতা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এত দিন শুধু ৫ম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মোবাইল ভাতা প্রযোজ্য ছিল। জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী সব গ্রেডের কর্মচারীরা মোবাইল ভাতা পাবেন।

    বাস্তবায়ন তিন ধাপে: সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, গত ১ জুলাই থেকে নতুন জাতীয় বেতন স্কেল সকল কর্চারীর জন্য ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে। বেতন স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বল্প আয় বিবেচনায় ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। গত ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে মূল বেতন মোট তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে ভাতা কার্যকর হবে। পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ ধাপভিত্তিক নিট পেনশন বৃদ্ধি কার্যকর হবে।

    নাসিমুল গনি বলেন, জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য পৃথক কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস বেতন স্কেল অনুমোদন করা হবে, যা গত ১ জুলাই থেকে জাতীয় বেতন স্কেল, ২০২৬-এর মতো একইভাবে ধাপে ধাপে কার্যকর হবে।

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সবশেষ অষ্টম বেতনকাঠামো অনুমোদন হয়েছিল ২০১৫ সালে। প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যের ‘নবম জাতীয় বেতন কমিশন’ গঠন করে। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ওই কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের মূল প্রতিবেদন জমা দেয়।

    গতকাল মন্ত্রিসভায় নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদনের পর গণমাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রয়োজন বিবেচনায় তাঁরা এটার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। নতুন এই বেতনকাঠামো আরও আগে হওয়া দরকার ছিল। তবে এটার জন্য বেসরকারি খাতে একধরনের চাপ তৈরি হবে, সেটা ঠিক। সেখানেও মূল্যস্ফীতির চাপ আমলে নিয়ে বেসরকারি খাতের সবখানেই এমনকি সংবাদমাধ্যমেও নতুন বেতনকাঠামো হওয়ার দরকার। আবার সরকারি খাতে অপ্রয়োজনীয় লোকবল কমিয়েও আনা যেতে পারে।

  • নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন, বাড়ছে ১০০–১৪২%

    নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন, বাড়ছে ১০০–১৪২%

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন হয়েছে। আজ বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামোতে ১ম থেকে ১০ম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। আর ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন বাড়বে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। আনুপাতিক হারে বিভিন্ন ধরনের ভাতাও বাড়বে।

    এখন শুরু হবে প্রজ্ঞাপন জারির কাজ, যার জন্য এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

    সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটিই সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে।

    অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে এ বছরের ২১ জানুয়ারি। কমিশনপ্রধান সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান।

    বিদ্যমান গ্রেড ২০টি বহাল রেখে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল জাকির আহমেদ খান কমিশন। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়। আর সর্বোচ্চ বেতনকাঠামো নির্ধারিত ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সুপারিশ করা হয় নির্ধারিত ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

    ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বর্তমানে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে বাড়তি ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার দরকার পড়বে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।

    কিন্তু নাসিমুল গনি কমিটি বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশের বেশি সুপারিশ করেনি বলে সূত্রগুলো জানায়। এ কমিটি মাঝখানে দুই বছরে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের সুপারিশ করেছিল। এর মধ্যে ছিল চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে মূল বেতন এবং পরের অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ভাতা।

    অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য যা প্রস্তুত করা হয়েছে, তার সঙ্গে আগের সুপারিশের পার্থক্য আছে। অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে মূল বেতন ঠিকই দেওয়া হবে। তবে তা দেওয়া হবে ভেঙে ভেঙে।

    সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো এ বছরের ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়ন করা হবে বলে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতনকাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।

    চলতি অর্থবছরের বাজেটে বেতন-ভাতার জন্য ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, গত অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় যা ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি।

  • কাল মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে নতুন পে-স্কেল

    কাল মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে নতুন পে-স্কেল

    সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতিক্ষীত নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের জন্য আগামীকাল সোমবার অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভা বৈঠকে উত্থাপন করা হতে পারে। ওইদিন অনুমোদন পেলে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই তা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    ওই কর্মকর্তা বলেন, নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে এ সপ্তাহের মধ্যেই। ইতোমধ্যে সবকিছু চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো এজেন্ডাভুক্ত করে অনুমোদনের জন্য উত্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। ওইদিন অনুমোদন হলে বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।তবে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য চূড়ান্ত খসড়ায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির হার সম্পর্কে জানাতে রাজি হননি অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা।এর

    আগে গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো মুহূর্তে তা ঘোষণা হতে পারে।

    ২৯ জুলাই অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম বেতন কমিশন ঘোষণা নিয়ে এখনো কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে তা শিগগিরই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন করলে শুরু হবে প্রজ্ঞাপন জারির কাজ।

    সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ইতিমধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে।

    বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা বলেন, প্রথম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি। দুই ধাপে তা বাস্তবায়িত হবে। এর মধ্যে প্রথম বছরে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর হতে পারে।

    সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুক প্রকাশ করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

    ওই বইয়ে ‘নবম পে–স্কেল: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর’ শীর্ষক উপশিরোনামে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশন গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

    অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে এ বছরের ২১ জানুয়ারি।

    বিদ্যমান গ্রেড ২০টি বহাল রেখে বেতন-ভাতা ১০০ শতাংশ থেকে ১৪০ শতাংশ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করে জাকির আহমেদ খান কমিশন। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়। আর সর্বোচ্চ বেতনকাঠামো নির্ধারিত ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সুপারিশ করা হয় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

    এদিকে ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে বলে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী।

    বাজেট বক্তৃতায় মন্ত্রী বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতনকাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।

  • সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন শতভাগ বাড়ানোর সুপারিশ

    সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন শতভাগ বাড়ানোর সুপারিশ

    প্রথম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। দুই ধাপে তা বাস্তবায়িত হবে। এর মধ্যে প্রথম বছরে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর হতে পারে। সচিব কমিটির সব সদস্য চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেছেন।

    সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুক প্রকাশ করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। সেখানে ‘নবম পে–স্কেল: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর’ শীর্ষ উপশিরোনামে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

    ওই বইয়ে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেতন–ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশন গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

    অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে। কমিশন প্রধান ছিলেন সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান। বিদ্যমান গ্রেড ২০টি বহাল রেখে কমিশন বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল জাকির আহমেদ খান কমিশন। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছিল। আর সর্বোচ্চ বেতনকাঠামো নির্ধারিত ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সুপারিশ করা হয়েছিল নির্ধারিত ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

    পরে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসনসচিব, আইনসচিব, প্রতিরক্ষাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবাসচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক রয়েছেন।

    এর আগে ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে বলে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতনকাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে।

  • চলতি বছরেই নবম জাতীয় পে-স্কেল; অর্থমন্ত্রী

    চলতি বছরেই নবম জাতীয় পে-স্কেল; অর্থমন্ত্রী

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, চলতি বছরেই নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হবে। এ বিষয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন। সরকার শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানাবে। সোমবার (১৭ আগস্ট) অর্থ মন্ত্রণালয়ে পে কমিশন নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান তিনি।

    অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এ বৈঠক হয়েছে। তিনি বলেন, পে-কমিশনের অনেকগুলো দিক আছে। সবগুলো বিবেচনা করছি আমরা। আজ আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে অধিকতর আলোচনার প্রয়োজন আছে। এ বিষয়ে আমরা পরে আবার বসব।

    এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এ বছরই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে। তবে এটি হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ে সরকার কী পদ্ধতি অবলম্বন করবে, তা পে স্কেল ঘোষণার পর জানানো হবে।

    একই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে সরকার সক্ষম হয়েছে। জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আরও উন্নতি করতে সময় লাগবে। ১৮০ দিনের মধ্যে সরকার যেসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে ও শুরু করেছে, সেগুলো প্রশংসিত হয়েছে। দুই-একটি সংকটময় পরিস্থিতিও সরকার সফলভাবে মোকাবিলা করেছে।

    জ্বালানি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সারা পৃথিবী থেকে ব্যাপক বিনিয়োগ আহ্বান করা হচ্ছে, অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগও হবে। মাতারবাড়িতে ল্যান্ডবেইজড এলএনজি টার্মিনাল করার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মহেশখালীতে আরেকটি এফএসআরইউ’র জায়গা নির্ধারণ করতে জরিপ চলছে।

    গ্যাস খাতে আমদানি নির্ভরতা কমানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের সময়ে গ্যাসের ক্ষেত্রে আমদানি নির্ভরতা সৃষ্টি হয়েছিল। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে দেশে গ্যাস অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। কয়েক বছরের মধ্যে দেশীয় সম্পদ দিয়েই গ্যাসের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে।

  • পে-স্কেল নিয়ে তোড়জোড়, মন্ত্রিসভায় উঠছে প্রস্তাব

    পে-স্কেল নিয়ে তোড়জোড়, মন্ত্রিসভায় উঠছে প্রস্তাব

    বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে আবারও তৎপরতা শুরু হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাবটি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহে অথবা চলতি মাসের শেষ দিঅর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব অনুমোদিত হলে পরবর্তী ধাপে প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে নতুন পে স্কেল ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

    নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এর আর্থিক প্রভাব। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সরকারি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপ বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পে স্কেল বাস্তবায়ন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

    তবে সরকার পুরোপুরি বাস্তবায়ন পিছিয়ে না দিয়ে নিজেদের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় রেখে বিকল্প পথ খুঁজছে। প্রয়োজনে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

    ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে নতুন কোনো জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়নি। এ সময়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিবছর নির্ধারিত হারে ইনক্রিমেন্ট পেলেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে নতুন পে স্কেলের দাবি ক্রমেই জোরালো হয়।

    এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে কমিশন সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।

    প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছিল।

    পরে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২১ এপ্রিল পে স্কেলের সুপারিশগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির পর্যালোচনা ও সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।

    অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়তে পারে। অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়োজন হবে।

    এদিকে নবম পে স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রত্যাশা বাড়ছে। এখন তাদের নজর মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবটি কবে উপস্থাপন করা হবে, অনুমোদনের পর কখন প্রজ্ঞাপন জারি হবে এবং শেষ পর্যন্ত কোন কাঠামোয় নতুন বেতন কার্যকর করা হবে—সেদিকেই।

  • জনপ্রশাসনে বাড়তি বরাদ্দ ৫৫হাজার কোটি টাকা, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

    জনপ্রশাসনে বাড়তি বরাদ্দ ৫৫হাজার কোটি টাকা, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

    সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে এবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থবছরের শুরু অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নবম বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের কথা বললেন তিনি।

    আজ বৃহস্পতিবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীরা বিগত প্রায় ১১ বছর যাবৎ একই বেতনকাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। ইতিমধ্যে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিচ্ছি।’

    অষ্টম বেতনকাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা; আর সর্বোচ্চ বেতনকাঠামো ৭৮ হাজার টাকা (নির্ধারিত)। নবম বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে।

    নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি তিন ধাপে বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে। আগামী অর্থবছর থেকে এ সুপারিশই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

    নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ জমা দেওয়ার সময় কমিশনপ্রধান জাকির আহমেদ খান জানিয়েছিলেন, প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে বাড়তি ১ লাখ ৬০০০ কোটি টাকার দরকার পড়বে।

    কত বরাদ্দ

    প্রতিবছরের ‘বাজেট সংক্ষিপ্ত-সারে বিবরণী-২খ’ নামে একটি অংশ থাকে, যা আছে এবারও। এতে দেখানো হয় ‘পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ’। এ বিশ্লেষণে অফিসারদের বেতন, কর্মচারীদের বেতন ও ভাতাদি—এই তিন ভাগে বরাদ্দের হিসাব দেওয়া হয়। আগামী অর্থবছরের জন্য তিন ভাগে এ হিসাব দেওয়া আছে ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ হিসাব মোট ৮৫ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা। সেই হিসাবে বাড়ল ৪ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা।

    এদিকে বিবরণী-৪–এ আছে ‘পরিচালন ব্যয়ের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ’। এতেও একইভাবে হিসাব দেওয়া আছে তিন ভাগে। এ বিবরণী অনুযায়ী আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বেতন-ভাতা বাবদ বরাদ্দ দেখানো আছে আরেকটু কম অর্থাৎ ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। এ বিবরণীতে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এর মোট পরিমাণ ৮৪ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকা।

    তাহলে অর্থমন্ত্রী যে আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিলেন, সেই টাকা তাহলে কোথায় বরাদ্দ দেখানো আছে? অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে। এটা আছে মূলত বাজেট সংক্ষিপ্ত-সারের বিবরণী ২ ক-এর মধ্যে। এ অংশে পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের সম্পদের ব্যবহার দেখানো আছে।

    সম্পদের ব্যবহার অংশে ‘জনপ্রশাসন-নিট’ বাবদ আগামী অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ রাখা আছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। অথচ চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ বরাদ্দ ৮৬ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা। সে হিসাবে বরাদ্দ বাড়ল ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা।

    অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এই ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা থেকে অন্তত ৪৪ হাজার কোটি টাকা থাকছে সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনধারী ব্যক্তিদের জন্য নতুন বেতনকাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নে।