পুলিশ

  • সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন বরখাস্ত

    সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন বরখাস্ত

    ডিএমপির (ঢাকা মহানগর পুলিশ) সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার ও গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন-অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

    ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে তাকে এ গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন পুলিশের সাবেক ডিআইজি হারুন-অর রশীদ। তার বিরুদ্ধে পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, হারুন-অর রশীদ ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কর্মস্থলে অনুপস্থিত হন। তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইল ঠিকানায় একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কাজে যোগ দেননি।

    এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেয় পুলিশ সদর দপ্তর। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি। সময় বাড়ানোর আবেদনও করেননি।

    পরে ২২ জুন অভিযোগ তদন্তের জন্য একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত শেষে ৬ আগস্ট দাখিল করা প্রতিবেদনে হারুন-অর রশীদের বিরুদ্ধে পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়।

    তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনার পর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না কেন, তা জানতে ২০ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ওই নোটিশেরও কোনো জবাব দেননি তিনি।

    এরপর প্রস্তাবিত গুরুদণ্ডের বিষয়ে ২১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ চাওয়া হয়। ১ অক্টোবর কমিশন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের পক্ষে মতামত দেয়। সবশেষে ২৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে অনুমোদন দেন।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী পলায়নের তারিখ, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে হারুন-অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

  • অভিযোগ না পেলেও চাঁদাবাজির মামলা করতে পারবে পুলিশ

    অভিযোগ না পেলেও চাঁদাবাজির মামলা করতে পারবে পুলিশ

    চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ অভিযোগ করতে না চাইলে পুলিশ নিজেই মামলা করে ব্যবস্থা নিতে পারবে। এ লক্ষ্যে নতুন আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তার আশা, আগামী কিছুদিনের মধ্যে এ বিষয়ে নতুন আইন হতে পারে।

    শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) পুলিশ লাইন্সে খুলনা বিভাগের কমিউনিটি পুলিশিংবিষয়ক সুধী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    আইজিপি বলেন, চাঁদাবাজদের অনেকেই প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সন্ত্রাসীদের আশ্রয়ে থেকে অপরাধ করে। ফলে ভয়ে কেউ তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে চান না, অভিযোগও করেন না। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ যাতে নিজ উদ্যোগেই মামলা করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে, সে জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে আইন প্রণয়ন ও সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

    অপরাধ দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগ করলে পুলিশকে ফ্যাসিবাদী বলা হয়, আবার বল প্রয়োগ না করলে দুর্বল বলা হয়। এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে কার্যকর পুলিশি ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

    তিনি বলেন, মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সারা দেশে যৌথ অভিযান চলছে। পুলিশি কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে আইনি কাঠামোর মধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কমিউনিটি পুলিশিং পুলিশের একটি শাখা হিসেবে কাজ করবে।

    দেশে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আইজিপি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরে মাদককে সমাজে এমনভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যেন এটি স্বাভাবিক বিষয়। বর্তমান সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সমাজ থেকে মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি নির্মূলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

    ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই সময় পুলিশ ছিল না, বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলেছে। এখন সব জায়গায় পুলিশের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। বেকারত্বসহ নানা সমস্যা থাকায় রাতারাতি সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

    পুলিশকে সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আইজিপি বলেন, পুলিশ মানবিক ও জনবান্ধব হতে চায়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার পরও তারা কিছুদিনের মধ্যে আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের অপরাধীদের কীভাবে নির্মূল করা যায়, সে বিষয়ে নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    কেএমপি কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম এবং খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট এ কে এম মোশাররফ হোসেন মিয়াজী।

  • পুলিশের উদ্দেশে যে বার্তা দিলেন আইজিপি

    পুলিশের উদ্দেশে যে বার্তা দিলেন আইজিপি

    ‘কোনো গুজব, মিসইনফরমেশন ও ষড়যন্ত্রে কান না দিয়ে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করুন। অনিচ্ছাকৃত কোনো ভুল হলে দায়মুক্তি পাবেন। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে অপেশাদার কাজে জড়িত হলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ইতঃপূর্বে যারা ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে টেলিসংলাপে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ থেকে সবাইকে শিক্ষা নিতে হবে। এক সময় মাদকের স্পট থেকে টাকা নেওয়া হতো। টাকার বিনিময়ে আসামি ছেড়ে দেওয়া হতো। এখন এসব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’ পুলিশের প্রধান (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরমাঠ পুলিশের উদ্দেশে এসব কথা বলেছেন।

    দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা, বিতর্কিত ও পলাতক পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনাসহ নানা বিষয় নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিককে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আইজিপি এসব কথা বলেন।

    গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজ কার্যালয়ে দেওয়া দীর্ঘ এক সাক্ষাৎকারে তিনি খোলামেলা কথা বলেছেন নানা স্পর্শকাতর বিষয়ে।

    তথ্য পাচারকারী পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে কী বার্তা- জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, যেসব পুলিশ সদস্য চাকরিতে থেকে ভেতরের তথ্য বাইরে পাচার করছে, তদন্তের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এরই মধ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অতীতে যেসব পুলিশ সদস্য দলীয় লেজুড়বৃত্তি করেছেন তারা এখন পলাতক। পলাতক পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কর্মরত যাদের যোগাযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ষড়যন্ত্রকারী পুলিশ সদস্যদের বিষয়ে জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, পুলিশে ষড়যন্ত্রকারীর সংখ্যা হাতেগোনা। কোনো ষড়যন্ত্রকারীই আইনের বাইরে থাকবে না। গুজব ছড়ানো হচ্ছে-ফ্যাসিবাদ আমলের ১৭ বছরে যাদের নিয়োগ হয়েছে, তাদের চাকরি থাকবে না। এ ধরনের গুজব যারা ছড়াচ্ছে তাদেরও চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • পিচ্চি রাজা পালিয়েছে পুলিশের সহযোগিতায়, বোনসহ গ্রেপ্তার ৩

    পিচ্চি রাজা পালিয়েছে পুলিশের সহযোগিতায়, বোনসহ গ্রেপ্তার ৩

    ঢাকার আদালত থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে ৩০ মামলার আসামি রাজা ওরফে পিচ্চি রাজা (৩৪) পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য ও পিচ্চি রাজার বোনকে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, প্রিজন ভ্যান থেকে নয়, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকে অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারে করে পালিয়েছেন পিচ্চি রাজা। এ ঘটনায় প্রিজনভ্যানে দায়িত্বে থাকা পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন প্রিজনভ্যানের সঙ্গে থাকা এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস, চালক নায়েক কামাল হোসেন এবং পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা। সাময়িক বরখাস্ত অন্য তিন পুলিশ সদস্য হলেন কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, মো. সাকিব ও শাকিল হোসেন।

    আজ সোমবার গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।

    জিএমপি কমিশনার বলেছেন, ঢাকার আদালতে হাজিরা শেষে পিচ্চি রাজাসহ ২৯ আসামিকে এসকর্ট করে প্রিজনভ্যানে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়া হচ্ছিল। পথে আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কোনাবাড়ী থানায় মামলা হয়। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় জিএমপি ডিবির দক্ষিণ বিভাগের পরিদর্শক সৈয়দ মিজানুর ইসলামকে।

    তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, ঢাকা জেলা জজ আদালত থেকে প্রিজনভ্যানটি রওনা হয়ে তাঁতীবাজারের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাছে পৌঁছালে সেটি থামানো হয়। এরপর এসকর্ট পার্টির ইনচার্জ এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস ও চালক নায়েক কামাল হোসেনের কাছ থেকে প্রিজনভ্যানের চাবি নেওয়া হয়।

    পরে পিচ্চি রাজা ও হাজতি আসামি খাইরুল বাশারকে ভ্যান থেকে নামিয়ে সামনের দিকে নেওয়া হয়। খাইরুল বাশার প্রিজন ভ্যানের চালকের পাশের আসনে বসেন। তবে পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর কুমার ভ্যানে ওঠেননি।

    পুলিশের তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ওই সময় অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারে করে পিচ্চি রাজা পালিয়ে যান। পরে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে একটি সাজানো ঘটনা তৈরি করা হয়। সেখানে বলা হয়, গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় প্রিজন ভ্যান থামিয়ে পিচ্চি রাজা প্রস্রাব করতে গেলে কৌশলে পালিয়ে যান।

    পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য ও তথ্যের ভিত্তিতে এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস, নায়েক কামাল হোসেন ও পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নায়েক কামাল হোসেনের বাসা থেকে ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সময় প্রিজন ভ্যানে থাকা অন্য তিন পুলিশ সদস্যকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

    তিনি আরও জানালেন, প্রিজনভ্যান কারাগার থেকে আদালত এবং আদালত থেকে কারাগারে যাওয়ার পথে কোথাও থামার নিয়ম নেই। বড় ধরনের কোনো সমস্যা হলে নিকটবর্তী থানায় থামতে হয়। কিন্তু প্রিজনভ্যানটি যে স্থানে থামানো হয়েছিল বলে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা দাবি করেছেন, সেখানে থামার কোনো কারণ ছিল না।

    পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, সাময়িক বরখাস্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য ও ঘটনার অন্যান্য দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আসামি পালানোর সময় এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস সিভিল পোশাকে ছিলেন। এসকর্ট পার্টিতে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ কর্মকর্তার সিভিল পোশাকে থাকারও নিয়ম নেই।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক সৈয়দ মিজানুর ইসলাম জানিয়েছেন, সাময়িক বরখাস্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এখনো ঘটনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও সন্তোষজনক তথ্য পাওয়া যায়নি। আসামি যে স্থান থেকে পালিয়ে গেছেন বলে প্রথমে দাবি করা হয়েছিল, তদন্তে সেটিও সঠিক পাওয়া যায়নি। পালানোর স্থান নিয়ে পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন।

    তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে পিচ্চি রাজা ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকে পালিয়েছেন। ঘটনাটি নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। পলাতক পিচ্চি রাজাসহ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    চলতি বছরের ১৯ মে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত হিসেবে পরিচিত রাজা ওরফে পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে প্রায় ৩০টি মামলা রয়েছে।

  • পুলিশের ২৪ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার রদবদল

    পুলিশের ২৪ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার রদবদল

    বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ২৪ কর্মকর্তার রদবদল করা হয়েছে। এসব কর্মকর্তাদের মধ্যে ১২ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, ৩ জন পূর্ণ ডিআইজি এবং ৯ জন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছে।

    রোববার (৪ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে এই রদবদল করা হয়। এ আদেশ জনস্বার্থে অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।

    বদলির আদেশে, স্পেশাল রেসপন্স ইউনিট বা এসআরইউ (সাবেক এটিইউ) ড. মো. আক্কাস উদ্দিন ভূঁইয়াকে পুলিশ স্টাফ কলেজে, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) ডিআইজি মো. মাহমুদুর রহমানকে পুলিশ স্টাফ কলেজে এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ডিআইজি মোহাম্মদ হাসান বারী নূরকে ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা মেট্রোরেলে পদায়ন করা হয়েছে।

    অপর আরেক আদেশে, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পুলিশ সুপার এ টি এম মোশাররফ হোসেনকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি), ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) সৈয়দ মোহাম্মদ ফরহাদকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি), পুলিশ স্টাফ কলেজের পুলিশ সুপার মাহবুবুল আলমকে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার, কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে সংযুক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরকে ট্যুরিস্ট পুলিশে, পুলিশের বিশেষ শাখার পুলিশ সুপার আশ্রাফুজ্জামানকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুনকে এসবিতে, পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি নিশাত এ্যঞ্জেলাকে টুরিস্ট পুলিশে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইমদাদ হুসাইনকে এসআরইউয়ের পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) কবীর আহম্মেদকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

  • পুলিশকে এখন কেউ ভয় পায় না…

    পুলিশকে এখন কেউ ভয় পায় না…

    গণ-অভ্যুত্থানে পরাজিত শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে দেশে এক ধরনের ‘ভয়ের সংস্কৃতি’ চালু ছিল। বলা হতো, বাংলাদেশ একটি ‘পুলিশি রাষ্ট্রে’ পরিণত হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে উলটো পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। কারণ পুলিশকে কেউ ভয় পায় না এমন আলোচনা এখন জনমনে চালু হয়েছে। ফলে শত শত অপরাধীকে গ্রেফতার করা হলেও কেন জানি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। অনেকের মতে, ভয়ের সংস্কৃতির বদলে তোয়াক্কা না করার (ড্যাম কেয়ার) সংস্কৃতি চালু হয়েছে। ফলে পুলিশ দেখলে পালানোর পরিবর্তে অনেক জায়গায় পুলিশই হামলার শিকার হচ্ছে।

    সর্বশেষ বুধবারও মিরপুরে ফুটপাতে হকার উচ্ছেদের ঘটনায় পুলিশের গাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। ওই ঘটনায় মিরপুর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আগুন দেওয়া হয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কয়েকটি গাড়িতে। ভাঙচুর করা হয় উচ্ছেদ কাজে ব্যবহৃত এক্সকেভেটর (ভেকু) এবং পুলিশের গাড়ি। অনেকের মতে, অবস্থা এখন এমন পর্যায়ে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রতিনিয়তই নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার এমন চিত্রকে চরম উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    মিরপুরের ঘটনার আগে বৃহস্পতিবার রাতে ‘রাড্ডা ম্যাটার্নাল অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ-ফ্যামিলি প্ল্যানিং সেন্টারে’ অতর্কিত হামলা চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। শুধু তাই নয়; ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একজন সংসদ-সদস্যের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলমান রয়েছে। এর একদিন পরে শনিবার রাতে ইসিবি চত্বরসংলগ্ন দক্ষিণ মানিকদীর নিউ গিনি প্রপার্টিজে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুরসহ সেখানে তাণ্ডব চলে। সাবেক সেনা কর্মকর্তা গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় ৭ জনকে। এছাড়া মোহাম্মদপুরে জমি দখলের উদ্দেশ্যে সশস্ত্র মব হামলা, আদাবরে আটতলা বাড়ি কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিক সংঘর্ষসহ বেশকিছু ঘটনা গত কয়েকদিনে ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’তে পরিণত হয়। এসব ঘটনা সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে। তবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য সরকারের তরফ থেকে ব্যাপক তৎপরতা দৃশ্যমান হয়েছে। বুধবার একদিনেই বিভিন্ন অভিযোগে রাজধানী থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে চার শতাধিক অপরাধীকে।

    সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান মঙ্গলবার সচিবালয়ে বলেন, এসব হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনায় সরকার চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী চরম অস্থিতিশীল বা নৈরাজ্যিক পরিস্থিতি থেকে দেশ এখন অনেকটাই বেরিয়ে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীকে অত্যন্ত কঠিন এক অবস্থার মধ্য দিয়ে পুনরায় স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কিছু অপরাধ বাড়লেও কিছু ক্ষেত্রে কমেছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে যাদের অপরাধ নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধেই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পুলিশ বাহিনীতে চরম বিপর্যয় তৈরি হয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের চেষ্টা চলে। কিন্তু সেই অর্থে আজও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি পুলিশ। ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ ঘোষণা দেন, দেশে আর মব সন্ত্রাস থাকবে না। পরিস্থিতি দ্রুতই উন্নতি হবে। সে লক্ষ্যে কিছু পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়। পুলিশ বাহিনীকে পেশাদার ও জনবান্ধব হিসাবে গড়ে তোলার জন্য নেওয়া হয় নানা উদ্যোগ। অপরাধীদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিস্থিতি উন্নয়নের চেষ্টা করা হয়। চলমান রয়েছে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাং দমনে সাঁড়াশি অভিযান। প্রতিনিয়ত গ্রেফতার করা হচ্ছে শত শত অপরাধীকে। পুলিশ সদর দপ্তরে ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে মনিটরিং টিম। কিন্তু বাস্তবে এসবের সুফল মিলছে না। কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। একের পর এক নৃশংস ও বিশৃঙ্খল ঘটনায় জনমনে তীব্র আতঙ্ক, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ছে।

    এমন পরিস্থিতিতে বুধবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নিয়ে সার্বিক দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিচার করা ঠিক হবে না। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ৯৯৯-এ ফোন পাওয়া মাত্রই পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল যাচ্ছে। দুষ্কৃতকারীদের গ্রেফতার করছে। সুতরাং, সরকারের কোনো দায়ভার বা ব্যর্থতা নেই। তিনি বলেন, সরকার বা পুলিশের ব্যর্থতা তখনই বলা যেত যদি আমরা ব্যবস্থা না নিতাম। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়মিত গ্রেফতার করা হচ্ছে। সামনে এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দুর্বৃত্ত দুর্বৃত্তই, তার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হচ্ছে না।’

    পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাৎ হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, সাম্প্রতিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ পুলিশ গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও চেকপোস্ট জোরদার করেছে। অপরাধপ্রবণ এলাকা ও অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে সে অনুযায়ী পুলিশি তৎপরতা চলছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের সহযোগিতা নিয়ে অপরাধ প্রতিরোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে গত কয়েকদিনের ঘটনাবলি পর্যবেক্ষণ করলে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভঙ্গুর চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় বর্ডার গার্ড হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গলে তার নৃশংস ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।

    অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও পুলিশ প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, অপরাধীরা নিয়ন্ত্রণে না আসার পেছনে কয়েকটি মৌলিক কারণ কাজ করছে। সাম্প্রতিক চাঞ্চল্যকর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তারা বলেন, প্রভাবশালী মহল কিংবা ক্ষমতাসীনদের মদদ ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম সম্ভব নয়। তাই অপরাধীদের দমনে শুধু গ্রেফতারই যথেষ্ট নয়, সরকারের পক্ষ থেকে শক্ত দৃষ্টান্ত স্থাপন করা প্রয়োজন। যা দেখে বাকি অপরাধীরা ভীত হয়। তারা মনে করেন, বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কঠোর ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

    সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম যুগান্তরকে বলেন, জনমনে স্বস্তি ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে সরকারের প্রতি মানুষের ক্ষোভ দিন দিন বাড়বে। এ বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অপরাধী বা সন্ত্রাসীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় দেখা যাবে না। তাদের পেছনে যেসব মদদদাতা রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি আরও বলেন, পুলিশ বাহিনীর মনোবল ও প্রশাসনিক কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা নীতি প্রয়োগ করতে হবে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, অতীতে অপরাধীরা আইন এবং পুলিশের প্রতি যে ভয় পেত, বর্তমানে সেই ভয়ের সংস্কৃতি পুরোপুরি অনুপস্থিত। যে কারণে একের পর এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, অপরাধী গ্রেফতারের খবর স্বস্তিদায়ক হলেও অপরাধের মূল শিকড়ে টান দিতে না পারলে পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। অপরাধীরা যখন দেখে যে, তাদের পেছনে কোনো না কোনো প্রভাবশালী বা রাজনৈতিক চক্রের অদৃশ্য হাত রয়েছে, তখন আইনের প্রতি তাদের শ্রদ্ধাবোধ কাজ করে না। অপরাধী যেই হোক না কেন, রাজনৈতিক পরিচয় উপেক্ষা করে আইনের আওতায় আনতে না পারলে এক সময় সরকারের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থার বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

  • ‘ক্রসফায়ার’ বন্ধ, এখন যে প্রস্তাব পুলিশের

    ‘ক্রসফায়ার’ বন্ধ, এখন যে প্রস্তাব পুলিশের

    অপরাধ দমনের নামে আগে কথিত ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধ’-এর প্রচলন ছিল দেশে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে পটপরিবর্তনের পর সেই ‘ক্রসফায়ার’ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েছে। কিন্তু ওই সময় অপরাধীরা আতঙ্কে থাকত ‘ক্রসফায়ার’-এর ভয়ে। যদিও সেটি বিতর্কিত ছিল। তখন যেসব ঘটনা ঘটেছিল, সবগুলো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ রয়েছে।

    বর্তমানে দেশে অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেছে। অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এখন আগের মতো ভয় পাচ্ছে না। সাধারণ মানুষও আস্থায় নিতে পারছে না পুলিশকে। এ কারণে বিভিন্ন স্থানে ঘটছে একের পর এক অপরাধমূলক ঘটনা। এসব সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থার পরিবেশ তৈরি না হলে অস্থিরতা আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে।

    মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত মর্নিং মিটিংয়ে (সভা) পুলিশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা এ মত দেন। তারা বিরাজমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে শক্ত হাতে অপরাধ দমনের প্রস্তাব করেন। প্রয়োজনে অপরাধীদের ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে ডিটেনশনে নেওয়ার কথা বলেন। তারা নিজেদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব দূর করে গোটা বাহিনীকে স্ট্রিমলাইনিং (সুসংগঠিত) করা জরুরি বলে মত দেন। কর্মকর্তারা বলেন, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ফৌজদারি মামলার আসামিরা আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে জামিন পাচ্ছে।

    মাদকের বিস্তার রোধে সভায় অতিরিক্ত আইজিপিকে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ডিজি করার পরামর্শও দেওয়া হয়। এছাড়া মাঠপর্যায়ের পুলিশিং জোরদার করা এবং পুলিশের ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রতি জোর দেওয়া হয়।

    পুলিশের গোপনীয় শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির। এ সময় সব অতিরিক্ত আইজিপি, বিভিন্ন ইউনিটপ্রধান, ডিআইজি (ক্রাইম) এবং ডিআইজি (প্রশাসন)সহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

    অপর এক সভায় চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের যে কোনোভাবেই হোক আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)। সূত্র জানায়, আসামিদের জামিন পাওয়ার বিষয়ে মর্নিং মিটিংয়ে বলা হয়, পুলিশ আসামি গ্রেফতার করলেও অল্প সময়েই তারা জামিন পেয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করলেও একজন অতিরিক্ত আইজিপি জানান, আইনি বাধ্যবাধকতা ও তদন্তে দুর্বলতার কারণেই আসামিরা দ্রুত জামিন পাচ্ছে। ওই অতিরিক্ত আইজিপি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসাবে পুলিশের একজন অতিরিক্ত আইজিপিকে নিয়োগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। আরেকজন অতিরিক্ত আইজিপি জানান, বর্তমানে ক্রসফায়ার বন্ধ আছে। তাই অপরাধীদের ডিটেনশনে নেওয়া উচিত।

    বৈঠকে উপস্থিত এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়ন ঘটানো, অপরাধীদের জামিন রোধে আইনি ফাঁকফোকর বন্ধ করা এবং পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় বাড়াতে উচ্চপর্যায়ের মর্নিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বলা হয়েছে, পুলিশি সেবার মূল ভিত্তিই হলো জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক তৈরি করা। কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক হিসাব যেমন-কটি ছিনতাই, ডাকাতি বা হত্যাকাণ্ড হলো অথবা কজন ধরা পড়ল-এসব দিয়ে জনগণের আস্থা ফেরানো যাবে না। বর্তমানে পুলিশ কোন অবস্থানে আছে এবং এ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ কতটুকু সেবা দেওয়া যায় তার একটি নিবিড় পর্যালোচনাও প্রয়োজন। তিনি বলেন, পুলিশের প্রতি মানুষের ভুল বোঝাবুঝি বা অসন্তোষ দূর করতে হলে সরাসরি জনসংযোগ বাড়াতে হবে। সম্পর্কের উন্নয়ন ও কাজের প্রতি স্বচ্ছতা এলে জনমনে স্বস্তি ফিরবে।

    একজন অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার সদস্যের এই বিশাল বাহিনীর মধ্যে বর্তমানে নানা বিষয়ে দ্বিধা বা ‘কনফিউশন’ কাজ করছে। বাইরের নানা গুঞ্জন, অডিও-ভিডিও প্রচার এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপের কারণে বাহিনীর সদস্যদের মনোবলের ওপর প্রভাব পড়ছে। এ অবস্থায় দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দূর করে গোটা পুলিশ বাহিনীকে ‘স্ট্রিমলাইনিং’ বা সুসংগঠিত করা জরুরি। তার মতে, হঠাৎ বা একদিনের চেষ্টায় ‘ফেরেশতা’ হওয়ার মতো কোনো অলৌকিক পরিবর্তন আসবে না। এজন্য দরকার একটি ধারাবাহিক ও দীর্ঘমেয়াদি প্রয়াস। কার্যকর পরিবর্তনের জন্য স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং পলিসি লেভেলের সংস্কার প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

    সভা সূত্রে আরও জানা যায়, চাঁদাবাজিসহ সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি আলোচিত ঘটনা আলোচনায় উঠে এসেছে। এক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা ও আইনগত সীমাবদ্ধতা নিয়েও বিশদ আলোচনা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-‘রাড্ডা ম্যাটার্নাল অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ-ফ্যামিলি প্ল্যানিং সেন্টারে’ অতর্কিত হামলা, মোহাম্মদপুরে জমি দখলের উদ্দেশ্যে সশস্ত্র মব হামলা, ইসিবি চত্বরসংলগ্ন দক্ষিণ মানিকদীর নিউগিনি প্রোপার্টিজে সশস্ত্র হামলা, কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর, আদাবরে আটতলা বাড়ি দখলের চেষ্টা, ২৫ মামলার আসামি শীর্ষ মাদক কারবারি ‘পিচ্চি রাজা’র প্রিজনভ্যান থেকে পলায়ন, চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিক সংঘর্ষ, কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গলে ১৩ বছরের স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে নৃশংসভাবে হত্যা, মিরপুর এলাকায় চলন্ত যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ, জমি দখলকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ ও নাটোরে বড় ধরনের সংঘর্ষ ইত্যাদি।

    বৈঠকে রেলওয়ে পুলিশের প্রধান ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমানের বক্তব্যের বরাত দিয়ে সূত্র জানায়, বিচারপ্রক্রিয়ার সুনির্দিষ্ট কিছু আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে আসামিরা আদালত থেকে সহজেই জামিন পেয়ে যাচ্ছে। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে না পারলে আসামির জামিনের অধিকার তৈরি হয়। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৮০ দিন এবং সেশন কোর্টে ৩৬০ দিনের মধ্যে ট্রায়াল (বিচার) শেষ করার কথা থাকলেও নানা কারণে তা সম্ভব হয় না। ফলে এ সুযোগে আসামিরা জামিন পেয়ে যায়।

    বর্তমানে ‘ক্রসফায়ার’ না থাকায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীনে অপরাধীদের ‘ডিটেনশন’-এ নেওয়ার প্রস্তাব দেন অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম।

    এ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে রেলওয়ে পুলিশপ্রধান ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান বলেন, ঢালাওভাবে আটক না করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড বা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার সুনির্দিষ্ট ডেটাবেজ তৈরি করে আইনি প্রক্রিয়ায় ডিটেনশন দেওয়া উচিত। তিনি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে (ডিএনসি) পুলিশের প্রত্যক্ষ কমান্ড বা অধীনে নিয়ে আসার প্রস্তাব করেন। তিনি জানান, সব অপরাধের মূল মাদক। পুলিশ মাদক নিয়ে কাজ করে। তাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ করে একজন অতিরিক্ত আইজিপিকে ডিএনসির মহাপরিচালক (ডিজি) হিসাবে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।

    সভায় ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক কেনাবেচা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। মাদকই বেশির ভাগ অপরাধের জন্ম দিচ্ছে। তাই যে কোনো মূল্যে মাদক নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। অপরাধ দমনে পুরোনো প্রথা বজায় রাখার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের তাগিদ দেন হাইওয়ে পুলিশের প্রধান ফারুক আহমেদ। পুলিশ আসামি গ্রেফতার করে আদালতে পাঠালেও অপরাধীরা খুব দ্রুত জামিন পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন নৌপুলিশের অতিরিক্ত আইজি প্রধান করিম। ডিটেনশন দেওয়া একটি কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে বলে একমত পোষণ করেন সিআইডিপ্রধান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন।

    বিভিন্ন ইউনিটপ্রধানদের সঙ্গে সভা শেষে পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় (ক্রাইম কনফারেন্স) যোগ দেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির। ক্রাইম কনফারেন্সে আইজিপি বলেন, মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনতে হবে। এক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই, অপরাধীর একমাত্র পরিচয় সে অপরাধী। তিনি কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। কনফারেন্সে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত আইজি সাইদুর রহমান। এ সময় সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স প্রান্তে ছিলেন ডিআইজি মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সভায় গুজব ও অপপ্রচার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন পুলিশ প্রধান।

    সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত আইজি সাইদুর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাং সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। এদের পেছনে কোনো প্রভাবশালী রয়েছে কিনা তা উদ্ঘাটন করে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের যথাযথভাবে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশ দেন।

  • পুলিশে বড় রদবদল

    পুলিশে বড় রদবদল

    বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ৩১ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনগুলোতে অতিরিক্ত ডিআইজি, ডিআইজি, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও উপপুলিশ কমিশনার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ইউনিটে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। মঙ্গলবার জারি করা এসব প্রজ্ঞাপনে কর্মকর্তাদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে দেশের বিভিন্ন রেঞ্জ, মেট্রোপলিটন পুলিশ, এপিবিএন, সিআইডি, ট্যুরিস্ট পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, শিল্পাঞ্চল পুলিশ, প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও পুলিশ সদর দপ্তরের বিভিন্ন পদে বদলি-পদায়ন করা হয়।
    একটি প্রজ্ঞাপনে এসএমপি সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সুপারনিউমারারি ডিআইজি) মোহাম্মদ এনামুল হককে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে এপিবিএন ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টার, খাগড়াছড়িতে পদায়ন করা হয়েছে। একই আদেশে হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি হাবিবুর রহমান খানকে কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি), টিটিএম, ঢাকায় এবং এসএমপির অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আনিছুর রহমানকে রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়, খুলনায় পদায়ন করা হয়। এ ছাড়া বিশেষ দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত ডিআইজি মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদকে রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়, রংপুরে এবং বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে থাকা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে রাজশাহীতে রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
    অন্য একটি প্রজ্ঞাপনে র‌্যাবের উপপরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামানকে পুলিশ সুপার হিসেবে নীলফামারীতে, নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. নাজিরুল ইসলামকে বিশেষ পুলিশ সুপার, সিআইডি হিসেবে ময়মনসিংহে এবং র‌্যাবের উপপরিচালক মীর মনির হোসেনকে পুলিশ সুপার হিসেবে রাজবাড়ীতে পদায়ন করা হয়েছে। এ আদেশে আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে রাজশাহী, মেহেরপুর, রাঙামাটি, ট্যুরিস্ট পুলিশ, এপিবিএন ও পুলিশ সদর দপ্তরের বিভিন্ন পদে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার মো. নুরুল আমিন হাওলাদারকে পুলিশ সদর দপ্তরের পুলিশ স্টাফ কলেজে পদায়ন করা হয়েছে।
    তৃতীয় প্রজ্ঞাপনে ১৬ জন কর্মকর্তাকে বদলি-পদায়ন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মহিউল ইসলামকে বিশেষ পুলিশ সুপার, সিআইডি এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মহিউদ্দীন আহমেদকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সিআইডি, পিটিসি রংপুর, হাইওয়ে পুলিশ, শিল্পাঞ্চল পুলিশ, পুলিশ টেলিকম, ট্যুরিস্ট পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, খুলনা ও বরিশাল রেঞ্জসহ বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
    এছাড়া, আগের এক প্রজ্ঞাপনে শাহরিয়ার আল মামুনকে উপপুলিশ কমিশনার, এসএমপি, সিলেট হিসেবে বদলির আদেশ বাতিল করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনগুলোতে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এসব আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

  • পুলিশের পদকে ৯২ জনের নাম চূড়ান্ত, কারা পাচ্ছেন কোন পদক

    পুলিশের পদকে ৯২ জনের নাম চূড়ান্ত, কারা পাচ্ছেন কোন পদক

    ৯২ জন পুলিশ সদস্যকে পুলিশের পদক দিতে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। আজ সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে চার ক্যাটাগরিতে পদকপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব নাসরীন সুলতানা এতে স্বাক্ষর করেছেন।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অসীম সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ কাজ, সেবা ও প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুলিশ কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম), বাংলাদেশ পুলিশ পদক-সেবা (বিপিএম-সেবা), রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) ও রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক-সেবা (পিপিএম-সেবা) দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে একজনকে মরণোত্তর বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আদেশটি প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে কার্যকর হবে।

    প্রজ্ঞাপন অনুসারে বিপিএম পদকের জন্য ১২ জন, বিপিএম-সেবার জন্য ১৮, পিপিএমের জন্য ১৮, পিপিএম-সেবার জন্য ৪৪ জনসহ মোট ৯২ জনকে পুলিশ পদকের জন্য নাম চূড়ান্ত করেছে সরকার।

    প্রজ্ঞাপনে চট্টগ্রামের পতেঙ্গার র‍্যাব-৭-এর নায়েব সুবেদার মরহুম মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া (মরণোত্তর), পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ ১২ জনকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম); পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. মোস্তফা কামাল, নৌ পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. রেজাউল করিমসহ ১৮ জনকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক-সেবা (বিপিএম-সেবা); সিলেটের র‍্যাব-৯-এর মেজর আসিফ আল-রাজেক, মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশারসহ ১৮ জনকে রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) এবং স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের ডিআইজি (সিটিএসবি) মীর আশরাফ আলী, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাইদসহ ৪৪ জনকে রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক-সেবা (পিপিএম-সেবা) পদক দেওয়ার জন্য নাম চূড়ান্ত করেছে সরকার।

    বিপিএম পাচ্ছেন যাঁরা

    বিপিএম পাওয়া ১২ জন হলেন চট্টগ্রামের পতেঙ্গার র‍্যাব-৭-এর নায়েব সুবেদার মরহুম মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া (মরণোত্তর); পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির; ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার; অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম; ডিএমপির ওয়ারী ট্রাফিক বিভাগের যাত্রাবাড়ী ট্রাফিক জোনের পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যানবাহন) মাহমুদ আলম; মুন্সিগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিরস্ত্র) মো. আবুল কালাম আজাদ; কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিরস্ত্র) অর্ণব বড়ুয়া; ডিএমপির গোয়েন্দা-লালবাগ বিভাগের এসআই (নিরস্ত্র) কৃষ্ণ কুমার দাস; ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, টেকনাফের এসআই (নিরস্ত্র) আজিজুল হাকিম; ডিএমপির গুলশান মডেল থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. সুমন ইসলাম; ডিএমপির ট্রান্সপোর্ট বিভাগের কনস্টেবল/১৭৫৩১ মো. শাহ আলম এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইনসের কনস্টেবল/১৪২৮ দিলোয়ার মিঞা।

    বিপিএম-সেবা পাচ্ছেন যাঁরা

    বিপিএম-সেবা পাওয়া ১৮ জন হলেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. মোস্তফা কামাল; নৌ পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. রেজাউল করিম; রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ; ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মোহাম্মদ শামসুল হক; ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন; পুলিশ অধিদপ্তরের অ্যাডিশনাল ডিআইজি (অপারেশনস) শাহজাদা মো. আসাদুজ্জামান; র‍্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী; র‍্যাব সদর দপ্তরের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের লে. কর্নেল মোহা. জয়নুল আবেদীন; টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার; নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক; গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ্; ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ; দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন; ডিএমপির গোয়েন্দা-রমনা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মেজবাহ উদ্দিন; ডিএমপির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ-উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) গোলাম ফারুক; পিবিআইয়ের ফরেনসিক, স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশন শাখার সার্জেন্ট মো. নাভিদ ইমতিয়াজ; পিবিআই যশোর জেলার এসআই (নিরস্ত্র) রতন মিয়া এবং পিবিআই খুলনা জেলার এসআই (নিরস্ত্র) রেজোয়ান।

    পিপিএম পাচ্ছেন যাঁরা

    পিপিএম পাওয়া ১৮ জন হলেন র‍্যাব-৯, সিলেটের মেজর আসিফ আল-রাজেক; মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার; চট্টগ্রামের হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ; চাঁদপুরের মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসাইন সানীব; হাটহাজারী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাক আহম্মদ চৌধুরী; কক্সবাজার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া; চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. রোবেল আফ্রাদ; রাজবাড়ী জেলা গোয়েন্দা শাখার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মফিজুল ইসলাম; খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের লবণচরা থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. আশরাফুল আলম; গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা-উত্তর বিভাগের এসআই (নিরস্ত্র) মো. জাহাঙ্গীর আলম; চট্টগ্রাম পুলিশ লাইনসের এসআই (নিরস্ত্র) নূপন নাথ; র‍্যাব-১১, নারায়ণগঞ্জের এসআই (নিরস্ত্র) মো. ইব্রাহিম মিয়া; চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিরস্ত্র) অসিত কুমার বসাক; ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিরস্ত্র) মো. তোয়াজ্জুল ইসলাম খান; রাজশাহীর বাঘা থানার এসআই (নিরস্ত্র) মোহা. সিফাত রেজা; ডিএমপির গোয়েন্দা-ওয়ারী বিভাগের এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ তানভীর তুষার; ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৩, চট্টগ্রামের কনস্টেবল/৩৪১৯ আরিফুল আহাম্মদ এবং একই ইউনিটের কনস্টেবল/৮৭ মো. মেরাজুল ইসলাম।

    পিপিএম-সেবা পাচ্ছেন যাঁরা

    পিপিএম-সেবা পাওয়া ৪৪ জন হলেন স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের ডিআইজি (সিটিএসবি) মীর আশরাফ আলী; রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাইদ; রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির; রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মু. মাহবুবুর রশীদ; ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. খালিদুল হক হাওলাদার; মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান; ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৪, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল-মাহমুদ; হাইওয়ে পুলিশ বগুড়া অঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন; পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার; শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার রওনক জাহান; পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পুলিশ সুপার শটীন চাকমা; কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান; বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার; ডিএমপির গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মির্জা তারেক আহমেদ বেগ; পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পিআইও) আবদুল করিম; চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইব্রাহিম; কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকিত সরকার; ডিএমপির ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইমের (উত্তর-বিভাগ) অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আমিনুল হক বাপ্পী; ডিএমপির উত্তরা বিভাগের বিমানবন্দর জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার জিসানুল হক; ১৩ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, উত্তরা, ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনিতা রানী সূত্রধর; গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার চৌধুরী মো. তানভীর; ডিএমপির রমনা বিভাগের ধানমন্ডি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার সাদ্দাম হোসেন; র‍্যাব সদর দপ্তরের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাহফুজার রহমান; ডিএমপির ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর ট্রাফিক জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আসলাম সাগর; সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুল হাবিব; পুলিশ অধিদপ্তরের পিআইও শাখার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম; ডিএমপির বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার; পিবিআই হেডকোয়ার্টার্সের এলআইসি শাখার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. সাইদুল ইসলাম; চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল কবির; ডিএমপির মিরপুর ট্রাফিক বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যানবাহন) মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দীন; চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা-দক্ষিণ বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. বাবুল আজাদ; সিআইডি, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ও জেলার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) নাছির উদ্দিন রাসেল; পিবিআই ঢাকা জেলার এসআই (নিরস্ত্র) মো. মনজুর রহমান; পুলিশ টেলিকম সংস্থা, রাজারবাগ, ঢাকার টেলিকম টেকনিশিয়ান (এসআই) মো. মাজহারুল হক; লক্ষ্মীপুর জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিরস্ত্র) মাজহারুল হক; পুলিশ অধিদপ্তরের এলআইসি শাখার এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ সাইদুর রহমান; গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের টঙ্গী পশ্চিম থানার এসআই (নিরস্ত্র) এস এম মেহেদী হাসান; পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার এসআই (নিরস্ত্র) মো. রিয়াজ উদ্দিন রনি; ডিএমপির ট্রাফিক-গুলশান বিভাগের ট্রাফিক-গুলশান জোনের সার্জেন্ট মো. কামাল উদ্দিন; গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের টঙ্গী পশ্চিম থানার এসআই (নিরস্ত্র) সুদীপ চন্দ্র বিশ্বাস; স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের সিটিএসবি শাখার এসআই (নিরস্ত্র) তুহিনা নাসরিন; ঝিনাইদহ জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিরস্ত্র) মো. ইখলাছুর রহমান; পুলিশ অধিদপ্তরের এলআইসি শাখার কনস্টেবল/৫৩৬৪ বাদশা ফাহাদ এবং ডিএমপির গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইমের (দক্ষিণ বিভাগ) কনস্টেবল/১১৯৮২ মো. শিহাব উদ্দিন।

  • পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তা বরখাস্ত

    পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তা বরখাস্ত

    দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার।

    আজ সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

    বরখাস্ত হওয়া অন্য কর্মকর্তারা হলেন–সাবেক পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রাজীব দাস, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, সাবেক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে এবং ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দীর্ঘ সময় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা, তদন্ত এবং দ্বিতীয় দফা কারণ দর্শানোর নোটিশের পর চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    এতে বলা হয়েছে, অবিলম্বে এ আদেশ কার্যকর হবে।