ট্যাগ পুলিশ

  • ষড়যন্ত্রকারী পুলিশের ভেতরেও আছে: আইজিপি

    ষড়যন্ত্রকারী পুলিশের ভেতরেও আছে: আইজিপি

    বাহিনীর ক্ষুদ্র অংশের অনিয়ম-দুর্নীতির দায় গোটা পুলিশ বাহিনী নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, ‘আপনারা জানেন আমরা যখন কোনো বড় ধরনের অন্যায়-অপরাধ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কাজ শুরু করি তখন আমাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের গুজব ছড়ানো হয়, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়। এ ধরনের হলুদ সাংবাদিকতার কারণে… আমি বলছি যারা ভালো সাংবাদিক, ৯৯ শতাংশ তাদের বলব আপনারা রুখে দাঁড়ান। আমাদের পুলিশেও আছে খারাপ লোক। আমি একবার বলেছিলাম, আমাদের পুলিশের এক শতাংশ লোকও খারাপ না। এটা নিয়ে মিডিয়াতে বলা শুরু হলো তিনি পুলিশের অনিয়মকে জায়েজ করার চেষ্টা করছেন। না, আমি বিভিন্নভাবে তথ্য নিয়েছি আমাদের মধ্যে অপরাধে জড়িত শূন্য দশমিক সত্তর শতাংশ। এক পার্সেন্টও হয় না। ওই অল্প সংখ্যক করাপটেড সদস্যের জন্য আমার গোটা পুলিশ বাহিনী কেন দায় নেবে?’

    সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি আপনাদেরকে বলব আমি যদি অপরাধ করে থাকি আপনারা সেটাই লেখেন। কিন্তু অপবাদ দিয়ে একজনের মনোবল নষ্ট করা…এটার বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র আছে। আপনারা জানেন, বিগত ১৭ বছর অনিয়ম দুর্নীতির কারণে ব্যাংকগুলো শূন্য হয়ে গেছে। আপনার জমা রাখা টাকা ফেরত পেতে ব্যাংকে আবেদন করতে হচ্ছে। সুতরাং কোনো ষড়যন্ত্র নয়। আসুন ষড়যন্ত্রকারীদের আমরা চিহ্নিত করি। আপনাদের ভেতরেও কিন্তু ষড়যন্ত্রকারী আছে। আমার (পুলিশ বাহিনী) ভেতরেও আছে। সারা বাংলাদেশেই আছে। আমরা সবাই মিলে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই।

    আইজিপি শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের মাঝে বাংলাদেশ পুলিশ মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স‌‌‌ রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থায়নে এ মেধাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে।

    অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বক্তব্য রাখেন।স্বাগত বক্তব্য দেন এআইজি ইসমাইল হোসেন। অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ, অভিভাবকগণ এবং বৃত্তিপ্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

    তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের পরে আমাদের নতুন প্রজন্ম ট্রাফিক পুলিশ কিংবা আইনশৃংখলা বাহিনীর সঙ্গে বাহাসে লিপ্ত হয়। উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বলে। আইনশৃংখলা যদি ঠিক না থাকে। আপনার আমার নিরাপত্তা যদি ঠিক না থাকে। আপনার সম্পদ-বাড়ি-গাড়ি আছে কিন্তু বাড়ি থেকে বের হয়ে যদি ফেরার নিশ্চয়তা না থাকে তবে দেশটা অকার্যকর হয়ে যাবে।

    এই অনুষ্ঠানে আইজিপি আরও বলেন, আইনের ফাঁকফোকরের কারণে মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারীসহ অন্যান্য অপরাধীদের বেশি দিন কারাগারে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

    তিনি বলেন, মাদক ও ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে অনেক অপরাধীকে একাধিকবার আইনের আওতায় আনা হয়েছে। কিন্তু আইনের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের দীর্ঘদিন আটক রাখা সম্ভব হয় না। পরে তারা আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

    মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘আমরা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি। প্রত্যেক মাদক কারবারি ও প্রত্যেক ছিনতাইকারী একাধিকবার আইনের আওতায় এসেছে। কিন্তু আইনের ফাঁকফোকরের কারণে তাদের ওইভাবে আটকে রাখতে পারিনি। তারা আবার বের হয়ে একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।’

    মাদক ও ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান আইজিপি।

    তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশের সংখ্যা খুবই কম। প্রায় এক হাজার মানুষের জন্য মাত্র একজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।

    মাদক নতুন প্রজন্মকে ধ্বংস করছে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক নানা নামে তরুণদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। অনেক সময় এসব মাদককে ‘এনার্জি ট্যাবলেট’ বা আকর্ষণীয় অন্য কোনো নামে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সন্তানদের সচেতন করতে হবে।

    পুলিশ প্রধান শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে বলেন, সাময়িক কৌতূহল বা কোনো প্ররোচনায় মাদকের ভয়াল থাবা যেন তোমাদেরকে স্পর্শ করতে না পারে সেজন্য সবসময় সজাগ থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, মাদক একটি মরণফাঁদ। একই সাথে মোবাইল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইন্টারনেট গেমে অতিরিক্ত আসক্তি, অন্যান্য নেশাজাত দ্রব্যের আসক্তির মতোই ক্ষতিকর।

    তিনি বলেন, প্রযুক্তিকে তোমরা ব্যবহার করবে, প্রযুক্তি যেন তোমাদের ব্যবহার করতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকবে। দেশের নাগরিক হিসেবে দেশের আইন মেনে চলবে ও অন্যদের আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করবে।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ৮০১ জন এবং এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ২৭২ জন এবং ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ৮৪৫ জন এবং এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ১৯৫ জন শিক্ষার্থী মেধাবৃত্তি লাভ করেছে। ২০২৪ ও ২০২৫ এ দুই বছরে বাংলাদেশ পুলিশের মেধাবৃত্তি পেয়েছে সর্বমোট ২ হাজার ১১৩ জন মেধাবী শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকাস্থ ৩৬০ জনকে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। অন্যান্যদের সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মাধ্যমে মেধাবৃত্তি প্রদান করা হবে।

  • ১২ পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি, একজন সংযুক্ত

    ১২ পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি, একজন সংযুক্ত

    বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১৩ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জনকে বদলি করা হয়েছে এবং একজনকে নতুন কর্মস্থলে সংযুক্ত করা হয়েছে।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সই করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান ও এসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আশিকুর রহমান খানকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তারা দুজনই টিআর পদে দায়িত্ব পালন করবেন।

    এ ছাড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিয়া ফারজানাকে র‍্যাবে, পুলিশ স্টাফ কলেজের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফা আশরাফ পিংকিকে ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার হিসেবে এবং রাজবাড়ীর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিদুল ইসলামকে বান্দরবানের সদর সার্কেলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তালেবকে পটুয়াখালীর কলাপাড়া সার্কেলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

    একই প্রজ্ঞাপনে র‍্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুর রহমানকে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি সার্কেলে সহকারী পুলিশ সুপার এবং র‍্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার এইচ এম গোলাম রাব্বিকে ঝিনাইদহের শৈলকুপা সার্কেলে পদায়ন করা হয়েছে।

    র‍্যাবের আরও দুই সহকারী পুলিশ সুপার এ আর এম মোজাফফর হোসেন ও মো. মশিহুর রহমান সোহেলকে যথাক্রমে চট্টগ্রামের মীরসরাই সার্কেল ও বাগেরহাটের ফকিরহাট সার্কেলে পদায়ন করা হয়েছে।

    এ ছাড়া ফকিরহাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রাশেদুল ইসলাম রানাকে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ সার্কেলে এবং ঝিনাইদহের শৈলকুপা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আখতারুজ্জামানকে সাতক্ষীরার তালা সার্কেলে বদলি করা হয়েছে।

    অন্যদিকে পৃথক আরেকটি প্রজ্ঞাপনে নোয়াখালীর পিটিসির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার রবিউল আরাফাতকে রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়া পুলিশ স্পেশাল ট্রেনিং স্কুলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বদলিকৃত কর্মকর্তাদের আগামী ২৯ আগস্টের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্বভার অর্পণ করে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। অন্যথায় ৩০ আগস্ট থেকে তাদের তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে সংযুক্ত করা কর্মকর্তা খন্দকার রবিউল আরাফাতকে আগামী ২২ আগস্টের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্বভার অর্পণ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ২৩ আগস্ট থেকে তাকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।

  • চাকরি গেল বিপ্লব, সুদীপ, ইকবাল, রুহানীসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তার

    চাকরি গেল বিপ্লব, সুদীপ, ইকবাল, রুহানীসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তার

    কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা ও পলায়নের অভিযোগে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার (ডিসি) ইকবাল হোসাইন, ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. গোলাম রুহানীসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

    আজ বুধবার (১২ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির (ভারপ্রাপ্ত) অনুমোদনের পর এ বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    বরখাস্ত হওয়া অন্য দুই কর্মকর্তা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস ও চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় সংযুক্ত থাকা কাজী আশরাফুল আজীম। গোলাম রুহানী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সহকারী সচিব হিসেবে প্রেষণে কর্মরত ছিলেন। রাজন কুমার দাস এপিবিএন, কক্সবাজারের উখিয়ায় কর্মরত ছিলেন।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অননুমোদিত অনুপস্থিতি ও পলায়নের অভিযোগে ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ছয় কর্মকর্তা কর্মস্থল থেকে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত হয়ে নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দেননি। পরে তাঁদের নোটিশ পাঠানো হলেও তাঁরা দায়িত্বে যোগদান করেননি এবং নিজেদের অবস্থান সম্পর্কেও কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেননি।

    অনুমোদন ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিতির মেয়াদ ৬০ দিনের বেশি হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিভাগীয় মামলায় বিধিমালার ৩(খ) ও ৩(গ) অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ আনা হয়।

    অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোনো জবাব দেননি। পরে অভিযোগ তদন্তের জন্য তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত শেষে প্রতিবেদনে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়।

    তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ছয় কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে তাঁদের দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও এবারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

    এরপর তদন্ত প্রতিবেদন, অভিযোগের ধরন ও গুরুত্বসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছায় এবং তাঁদের চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়।

    সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ ও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শকরণ) রেগুলেশনস, ১৯৭৯ অনুযায়ী চাকরি থেকে বরখাস্তের মতো গুরুদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ চাওয়া হয়। পরে পিএসসি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যেতে পারে বলে পরামর্শ দেয়।

    পুলিশের ১৯ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার রদবদল

    এরপর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৪(৬) বিধি অনুযায়ী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ছয় কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

  • পুলিশে বড় রদবদল

    পুলিশে বড় রদবদল

    পুলিশে বড় ধরনের রদবদল করেছে সরকার। বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি ও পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার ১৪ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা তিনটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়। জনস্বার্থে জারি করা আদেশগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মো. আতাউল কিবরিয়াকে সিআইডির ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তাঁর স্থলে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি করা হয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসানকে।

    সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরীকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি করা হয়েছে। পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি সারোয়ার মোর্শেদ শামীমকে এসএমপির নতুন কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়া সিআইডির ডিআইজি মাসুদ করিমের আগের একটি বদলি আদেশ বাতিল করা হয়েছে।

    র‌্যাব ও পুলিশ সদর দপ্তরেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এন্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন আহমেদকে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে র‌্যাবে পদায়ন করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কফিল উদ্দিনকে পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

    পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছফি উল্লাহকে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তাঁর স্থলে এন্টি টেররিজম ইউনিটের আবু আশরাফকে পাবনার পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

    এ ছাড়া পুলিশ স্টাফ কলেজের অতিরিক্ত ডিআইজি নাসিয়ান ওয়াজেদ, পুলিশ সদর দপ্তরের আ ফ ম নিজাম উদ্দিন এবং এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার তাহসিন মাশরুফ হোসেন মাসফিকে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

    ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের মোহাম্মদ আশিকুর রহমানকে খুলনা রেঞ্জে, ট্যুরিস্ট পুলিশের মো. আপেল মাহমুদকে রাজশাহী রেঞ্জে এবং সিআইডির মীর আবু তৌহিদকে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব তৌহিদ আহমেদ স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে।

  • ২০১৮ সালের রাতের ভোট; শতাধিক ওসিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হচ্ছে

    ২০১৮ সালের রাতের ভোট; শতাধিক ওসিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হচ্ছে

    ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বহুল আলোচিত ‘রাতের ভোট’-এ দায়িত্ব পালনকারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকার। ওই নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বাধ্যতামূলক অবসর, ওএসডি এবং সম্পদ অনুসন্ধানসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার পর এবার মাঠপর্যায়ের দায়িত্বে থাকা ওসিদের ভূমিকা পর্যালোচনায় নেওয়া হয়েছে। চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় প্রাথমিকভাবে শতাধিক ওসিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় দেশের ৬৪ জেলার বিভিন্ন থানা এবং তৎকালীন ছয়টি মহানগর পুলিশের অধীন থানাগুলোর ওসিদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের বর্তমান পদায়ন, পদমর্যাদা, চাকরির অবস্থা ও প্রশাসনিক অবস্থান যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে শতাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলক অবসরসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

    সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিস্তারিত তালিকা পাঠানো হয়েছে। তালিকায় বর্তমানে কর্মরত কর্মকর্তাদের পাশাপাশি অবসরে যাওয়া, পদোন্নতি পাওয়া কিংবা অন্য ইউনিটে কর্মরত কর্মকর্তাদের তথ্যও রয়েছে।

    পুলিশ সদর দপ্তরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমাদের সময়কে বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী ২০১৮ সালের নির্বাচনে ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ পরিদর্শকদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালনকারী অনেক ওসি ইতোমধ্যে অবসরে গেছেন। কেউ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বা সহকারী পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পেয়েছেন, আবার কারও পদোন্নতি আটকে আছে। ওই সময় ভোটের আগের রাতে ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করার অভিযোগে মাঠপর্যায়ে ওসিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

    সরকার এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালনকারী ৩৩ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে। তাদের অধিকাংশই তখন পুলিশ সুপার (এসপি) বা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) ছিলেন। সরকারি আদেশে জনস্বার্থে অবসরের কথা উল্লেখ করা হলেও সংশ্লিষ্টদের মতে, ওই নির্বাচনে তাদের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার থানা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্বও পর্যালোচনায় এসেছে। তবে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তখন দায়িত্ব পালনকারী কয়েকজন এসপির বিরুদ্ধে এখনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের বেশির ভাগই বর্তমানে পলাতক বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে গতকাল পর্যন্ত ১২৩ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় জেলার এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ৩৩ জন রয়েছেন। বাকিদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে এবং তাদের চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে ২০১৮ সালের নির্বাচনে ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের বর্তমানে কোনো থানায় ওসি হিসেবে পদায়ন করা হচ্ছে না বলেও সূত্র জানিয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, নির্বাচনের সময় মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রধান দায়িত্ব ছিল ওসিদের ওপর। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন এসপি ও পুলিশ কমিশনারদের নির্দেশনায় ভোটের আগের রাতে ব্যালটে সিল মারা ও ব্যালট বাক্স ভর্তি করার কাজে তারা সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেন। এ কাজে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের কাছ থেকে এসপি ও পুলিশ কমিশনারদের পাশাপাশি কিছু ওসিও অর্থ নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

    ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো অভিযোগ করেছিল, ভোটের আগে তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়, নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়া হয় এবং ভোটের আগের রাতেই বহু কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ভর্তি করা হয়। যদিও তৎকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছিল, এরপরও ‘রাতের ভোট’ শব্দটি দেশের রাজনৈতিক অভিধানে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নেয়।

    আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের রাতে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ কেন্দ্রে ব্যালটে সিল মেরে বাক্সে ভরে রাখা হয়। রাত ১০টা থেকে শুরু হয়ে এই কার্যক্রম চলে ভোর ৩টা পর্যন্ত।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওই নির্বাচনে ২১৩টি কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়ে। ১২২টি কেন্দ্রে ভোটের হার ছিল ৯৯ শতাংশ বা তার বেশি এবং ৭ হাজার ৬৮৯টি কেন্দ্রে ভোট পড়ে ৯০ থেকে ৯৯ শতাংশ। পাশাপাশি ভোটের দিন বিপুলসংখ্যক ভোটারকে কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।