পিএসজি

  • মেসির সঙ্গে তু্লনা; থামালেন পিএসজি কোচ, যা বললেন ইয়ামালকে নিয়ে

    মেসির সঙ্গে তু্লনা; থামালেন পিএসজি কোচ, যা বললেন ইয়ামালকে নিয়ে

    পিএসজির কোচ লুইস এনরিকে একটি বিষয়ে পরিষ্কার কথা বলেছেন। তিনি লামিন ইয়ামালকে লিওনেল মেসির সঙ্গে তুলনা করতে রাজি নন। বার্সেলোনার এই ১৮ বছর বয়সী তারকাকে নিয়ে এই তুলনা এখন প্রায় রোজই শোনা যায়।

    ১৯ বছর বয়স মাত্র। এই বয়সেই লামিন ইয়ামাল ব্যালন ডি’অরের অন্যতম ফেভারিট। বার্সেলোনায় খেলছেন, তার পছন্দের জায়গা রাইট উইংয়ে, বাম পায়ের খেলোয়াড়… এমন সব সাদৃশ্যের কারণে তার সঙ্গে তুলনা চলছে লিওনেল মেসিরও। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচের আগে এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ধেয়ে গেছে পিএসজির কোচ লুইস এনরিকের কাছেও। সে বিষয়ে তিনি তার অভিমত দিয়েছেন।

    এনরিকে নিজে বার্সেলোনায় মেসির কোচ ছিলেন। তার অধীনে দল ট্রেবল জিতেছিল। তখন মেসি, নেইমার ও লুইস সুয়ারেজ মিলে দারুণ আক্রমণভাগ গড়েছিলেন।

    এই মৌসুমেও ইয়ামাল ভালো খেলছেন। গত মৌসুমের ভালো ফর্মটা তিনি ধরে রেখেছেন এবারও। ১১ ম্যাচে তিনি ৯টি গোল করেছেন। গোল করিয়েছেন আরও ১০টি। বুধবার রাতে তার দল বার্সেলোনা মুখোমুখি হবে পিএসজির। সেই ম্যাচেও তিনি বার্সেলোনার মূল ভরসা হবেন বলে ধরা হচ্ছে।

    এনরিকে মনে করেন, ইয়ামালের উচিত নিজের পরিচয় গড়া। মেসির ছায়ায় থাকা তার জন্য ঠিক নয়। এই কোচ তরুণ খেলোয়াড়ের উন্নতির প্রশংসা করেছেন। কিন্তু মেসিকে তিনি সর্বকালের সেরা মানেন। তাই অন্য কারও সঙ্গে তার তুলনা অন্যায়, এমনটাই এনরিকের মত।

    সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় লামিন একটা কাজ খুব ভালো করছে। সে লামিন ইয়ামালই হতে চায়। সে খেলার নানা দিকে উন্নতি করছে। সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় মেসির সঙ্গে অন্য কাউকে তুলনা করলে কেউই জিতবে না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘লামিন নিজের সেরা রূপটা হতে চায়। অন্যের সঙ্গে নিজেকে না মেলানোই ভালো। সে খুব বুদ্ধিমান।’ নিজের পুরনো ক্লাব বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে তিনি এসব কথা বলেন।

    এনরিকে মানেন, ইয়ামাল পিএসজির জন্য বড় হুমকি। তার মতে, ইয়ামালকে থামানোর সেরা পথ হলো বার্সেলোনার হাতে বল কম দেওয়া। হ্যান্সি ফ্লিকের দলের বিপক্ষে এটা করা কঠিন, তা তিনি স্বীকার করেছেন। তাই তিনি নিজের খেলোয়াড়দের বলেছেন, নিজেদের শক্তির ওপর ভরসা রাখতে। সবাইকে একসঙ্গে খেলতে হবে।

    তিনি বলেন, ‘খুব সহজ। ওকে বল পেতে দেওয়া যাবে না। কারণ বল পেলেই বিপদ। লামিনকে আটকানোর সেরা উপায় হলো বার্সেলোনাকে বলই না পেতে দেওয়া। আমাদের জন্য এটাই আদর্শ অবস্থা। কিন্তু তা হবে না। কারণ বার্সেলোনার বিপক্ষে খেলা কতটা কঠিন, আমরা জানি।’

    ৫৬ বছর বয়সী এই কোচ আরেকটি কথাও বলেছেন। শুধু ইয়ামালকে নিয়ে ভাবলে পিএসজির চলবে না। কারণ বার্সেলোনার পুরো দলেই মান আছে। তাই পিএসজিকে সতর্ক থাকতে হবে। সবাই মিলে রক্ষণ সামলাতে হবে।

    শেষে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি ওদের দলে অসাধারণ মানের খেলোয়াড় আছে। শুধু লামিন নয়। রাফিনিয়া, পেদ্রি, কুবার্সি, হোয়ান গার্সিয়া… অনেকেই আছে। আমরা মনোযোগী ও সতর্ক থাকব। ওকে আমাদের দল হিসেবেই হারাতে হবে।’

  • চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হেরেও নতুন রেকর্ড বার্সেলোনার

    চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হেরেও নতুন রেকর্ড বার্সেলোনার

    চ্যাম্পিয়নস লিগে পরাজয়ের পরও নতুন রেকর্ড গড়েছে লা-লিগার চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা। গত রাতে প্যারিসের পার্ক দ্যে প্রাঁসে বার্সেলোনা হেরেছে পিএসজির কাছে। ম্যাচের ফল ৪-২।

    এই হারের মধ্যেই বার্সা একটি রেকর্ড গড়ে ফেলেছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে যা এর আগে কেউ করতে পারেনি।

    এই মৌসুমে প্রথমবার কোনো প্রতিযোগিতায় হারল কোচ হান্সি ফ্লিকের দল। অথচ দ্বিতীয়ার্ধে তারা দুইবার পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। প্রথমে এগিয়ে যায় পিএসজি। গোল করেন দেজিরে দুয়ে। পরে লুকাস এরনান্দেজ আবার তাদের এগিয়ে দেন। দুবারই সমতা ফেরায় বার্সা। প্রথম সমতার গোলটি করেন শাভি এসপার্ত। এই মৌসুমে তিনি নিয়মিত মূল দলে জায়গা করে নিয়েছেন। দ্বিতীয় গোলটি করেন লামিন ইয়ামাল। তখন ম্যাচ ২-২ হয়ে যায়।

    কিন্তু শেষ দিকে খেলা ঘুরে যায়। নির্ধারিত সময়ের শেষ ১০ মিনিটে গোল করেন ভিতিনহা ও ফাবিয়ান রুইস। এই দুই গোলেই জয় নিশ্চিত হয় লুইস এনরিকের দলের। ম্যাচটি ছিল বেশ কঠিন লড়াই।

    বার্সার হার হয়েছে ঠিকই। তবে ফ্লিকের একাদশ বাছাইয়ের কারণে ক্লাবটির নামে একটি অসাধারণ রেকর্ড বসেছে। পরিসংখ্যান সংস্থা অপটাজো’র তথ্য অনুযায়ী, বার্সাই এখন প্রথম ও একমাত্র ক্লাব, যারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বর্তমান শিরোপাধারীর বিপক্ষে শুরুর একাদশে চারজন কিশোর খেলোয়াড় নামিয়েছে।

    এসপার্ত ও ইয়ামাল ছাড়াও একাদশে ছিলেন পাউ কুবার্সি ও মার্ক বের্নাল। জার্মান কোচ চারজনকেই শুরু থেকে নামান। দ্বিতীয়ার্ধে বের্নাল ও এসপার্তকে তুলে নেওয়া হয়।

    চাইলে আরও দুই কিশোরকে নামাতে পারতেন ফ্লিক। বেঞ্চে ছিলেন ১৮ বছর বয়সী ডিফেন্ডার আলেক্স কাম্পোস ও স্ট্রাইকার হামজা আবদেলকারিম। কিন্তু দুজনের কেউই মাঠে নামেননি। মিশরের জাতীয় দলের খেলোয়াড় আবদেলকারিম এই মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বার্সার হয়ে দুটি ম্যাচ খেলেছেন। স্পেনের যুব দলের খেলোয়াড় কাম্পোস এখনো অভিষিক্তই হননি। এই মৌসুমে তিনি বার্সেলোনা বি দলের হয়ে উয়েফা ইউথ লিগে খেলছেন।

  • ৬ ম্যাচ, ৭ শট, ৭ গোল: বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে গিয়ে এ কী রূপ নিলেন তোরেস

    ৬ ম্যাচ, ৭ শট, ৭ গোল: বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে গিয়ে এ কী রূপ নিলেন তোরেস

    ছয়টা ম্যাচ, সাতটা শট, সাতটা গোল!
    একজন নাম্বার নাইনের কাছে দল আর কী চাইতে পারে। তার ওপর সেই নাম্বার নাইন যদি দলের মূল স্ট্রাইকার না হন, যদি তিনি খেলেন স্রেফ বদলি নেমে, তাহলে এই পরিসংখ্যানটা কীভাবে দেখবেন? দুর্দান্ত নয় কি? পিএসজির সেই নাম্বার নাইনের নাম ফেরান তোরেস।

    বিশ্ব ফুটবলে ঠিক ওই অর্থে তিনি বড় তারকা হয়ে উঠতে পারেননি। অথচ স্পেনকে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ট্রফি এনে দেওয়া গোলটা তাঁর। দুই মাস আগে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালের একমাত্র গোল তাঁকে এনে দিয়েছিল ম্যাচসেরার পুরস্কারও। কী কাকতাল, ওই ম্যাচেও তিনি স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের প্রথম পছন্দ ছিলেন না। বদলি নেমেছিলেন ৬২ মিনিটে।

    প্রতি ৪৭ মিনিটে একটা করে গোল তোরেসের। ইনস্টাগ্রাম

    বিশ্বকাপে ওই রকম একটা কীর্তির পরও কিন্তু স্পেন দলে রদ্রি বা ইয়ামালদের যে তারকাখ্যাতি, ফেরান তোরেস তার ধারেকাছে যেতে পারেননি। কিছুটা অলক্ষ্যেই তাই নতুন মৌসুমে দলবদল করে বার্সেলোনা থেকে পাড়ি জমিয়েছিলেন প্যারিসে। পিএসজিও তাঁকে নিয়ে কোনো ঢাকঢোল পেটায়নি, জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান করে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দেয়নি। আসলে লুইস এনরিকে তাঁকে নিজের দলে অত্যাবশ্যকীয় হিসেবে নেননি, নিয়েছিলেন বিকল্প হিসেবে। কিন্তু তোরেস শুধু বিকল্প হয়ে থাকতে চাননি যে!

    প্যারিসে পা রাখার পর তাই তিনি খুব বেশি সময় নিলেন না। লিগ আঁ-তে রেনের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই বদলি নেমে জোড়া গোল, চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির জার্সিতে অভিষেকেই হ্যাটট্রিক, কী অবিশ্বাস্য শুরু! বার্সেলোনায় তিনি যে তোরেস ছিলেন, প্যারিসে গিয়ে যেন হয়ে উঠেছেন সেটারই এক আপগ্রেড ভার্সন। আরও ধারালো, আরও নির্দয়। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই লুইস এনরিকের দলে তাই তিনি হয়ে উঠেছেন আক্রমণের অন্যতম প্রধান অস্ত্র।

    সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পিএসজির হয়ে এই মৌসুমে ছয়টা ম্যাচে মাঠে নেমেছেন তোরেস।ইনস্টাগ্রাম

    গত রাতে মার্শেইয়ের বিপক্ষে ক্লাসিকো ম্যাচটাই দেখুন না। গোল পাচ্ছিল না পিএসজি। কোচ এনরিকের তখন এমন কাউকে দরকার, যে গোল করতে পারবে, ম্যাচ বদলে দিতে পারবে। ৫৯ মিনিটে বদলি নামানো হলো তোরেসকে। ৬৬ মিনিটে গোল করে এগিয়ে দিলেন পিএসজিকে। ছয় মিনিট পরই অবশ্য সমতায় ফেরে মার্শেই, গোল করেন অ্যাঞ্জেল গোমেস। কিন্তু সেই সমতা টিকল মাত্র তিন মিনিট। ৭৫ মিনিটে মার্কিনিওস গোল করে আবার এগিয়ে দেন পিএসজিকে। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধানেই জয়।

    জয়টা শুধু পিএসজিকে তিন পয়েন্টই দেয়নি, দিয়েছে মৌসুমের শুরুর দিকের জড়তা কাটিয়ে জেগে ওঠার আত্মবিশ্বাসও। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা তিন জয় বলছে, পিএসজি আবার ছন্দ খুঁজে পাচ্ছে। আর সেই ছন্দের কেন্দ্রে তোরেস।

    সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পিএসজির হয়ে এই মৌসুমে ছয়টা ম্যাচে মাঠে নেমেছেন। তিনটায় শুরুর একাদশে, কোনোটিতেই পুরো সময় খেলেননি। বাকি তিনটায় বদলি হিসেবে। সব মিলিয়ে ৩২৫ মিনিট মাঠে ছিলেন, গোলমুখে সাতটা শট নিয়েছেন, সাতটাই গোল! প্রতি ৪৭ মিনিটে একটা করে গোল তোরেসের। ফরাসি ওয়েবসাইট ‘ফুট মার্কাতো’ জানাচ্ছে, পিএসজিতে দুর্দান্ত শুরুর বিচারে তোরেসের চেয়ে একমাত্র এগিয়ে আছেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। পিএসজিতে প্রথম ছয় ম্যাচে তাঁর গোল ছিল আটটি। তোরেস কি আরও একজন ইব্রা হতে যাচ্ছেন?

    পিএসজিতে দুর্দান্ত শুরুর বিচারে তোরেসের চেয়ে একমাত্র এগিয়ে আছেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। ইনস্টাগ্রাম

    তুলনাটা এখন আর শুধু কথার কথা নয়, সংখ্যাই বলছে। তবে তোরেস নিজে সংখ্যার মোহে ভাসতে চান না। তাঁর সহজ-সরল কথা, ‘সুযোগ পেলে কাজে লাগাতে হয়। কখনো ভাগ্য সহায় হয়, কখনো হয় না। চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয় বারবার।’

    কিন্তু এই পরিসংখ্যান শুধু ভাগ্যের ছোঁয়া পাওয়ার গল্প নয়। বক্সে অবস্থান নেওয়া, সতীর্থদের মুভমেন্ট পড়া, ফাঁকা জায়গা খুঁজে নেওয়া আর শেষ ছোঁয়ার যথার্থতা—সব মিলিয়ে নিখুঁত এক স্ট্রাইকার, যেমনটা একজন কোচ চান।

    তোরেসের এমন পারফরম্যান্স তাই দোটানায় ফেলে দিয়েছে এনরিকেকেও। আক্রমণভাগে উসমান দেম্বেলে, খিচা কাভারাস্কেইয়া, দেজিরে দুয়ের মতো তারকার ছড়াছড়ি পিএসজিতে। সেখানে বেঞ্চের বিকল্প হিসেবে প্যারিসে পা রাখা তোরেস এখন শুরুর একাদশের জন্য তীব্র দর-কষাকষি শুরু করেছেন। ৪ গোল নিয়ে এখন তিনি লিগ আঁ-তে দলটির শীর্ষ গোলদাতাও। তাঁকে উপেক্ষা করা কঠিন হয়ে উঠছে।

    ৪ গোল নিয়ে এখন তোরেস লিগ আঁ-তে পিএসজির শীর্ষ গোলদাতা। ইনস্টাগ্রাম

    লুইস এনরিকেও তা বুঝছেন। নতুন এই ফরোয়ার্ডকে নিয়ে সন্তুষ্টির কথা লুকাননি তিনি। বলেছেন, ‘নতুন যারা এসেছে, সবাই দলকে সাহায্য করছে। বিশেষ করে ফেরান অসাধারণ খেলছে। ডিফেন্সের পেছনে ফাঁকা জায়গা বের করা এবং তা কাজে লাগানোর চমৎকার ক্ষমতা রয়েছে তার। মাঝমাঠে যখন ওর মতো খেলোয়াড় থাকে, খেলা সহজ হয়ে যায়। ও এখন নিজের সেরা ছন্দে আছে।’

    আর তোরেস? শুরুর একাদশে নিয়মিত না থাকা নিয়ে কথা বলতে তিনি খুব একটা আগ্রহী নন। বলার দরকারও নেই অবশ্য। সংখ্যাই তো তাঁর হয়ে কথা বলছে, এনরিকেকে চাপ দিচ্ছে। সেই চাপ খুব বেশি দিন উপেক্ষা করা মনে হয় সম্ভব হবে না পিএসজি কোচের জন্য।