পাবিপ্রবি

  • পিকনিকের কথা বলে হলে ডেকে র‍্যাগিং, হাসপাতালে ছাত্রী

    পিকনিকের কথা বলে হলে ডেকে র‍্যাগিং, হাসপাতালে ছাত্রী

    পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ছাত্রী হলের কক্ষে ডেকে নিয়ে কয়েকজন জুনিয়র শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে হলটির সিনিয়র শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতন্ত্র হলের ১০৩৬ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

    হাসপাতালে ভর্তি ওই শিক্ষার্থীর নাম আনিকা আফরিন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

    ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পিকনিকের কথা বলে জুনিয়র ব্যাচের কয়েকজন ছাত্রীকে ওই কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ, গালাগাল ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। একপর্যায়ে তাদের মোবাইল ফোন নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। এ ঘটনায় পরে দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    অসুস্থ শিক্ষার্থী আনিকা আফরিন জানান, পিকনিকের কথা বলে তাদের কক্ষে ডাকা হয়েছিল। সেখানে যাওয়ার পর পিকনিকের বিষয়ে কিছু না বলে সিনিয়ররা তাদের ধমক দিতে শুরু করেন। তার নামে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়। তাকে চতুষ্পদ প্রাণীর মতো ১০ ধরনের ডাক দিতে বলা হয়। ক্যাম্পাসের লেকে কেন গেছেন, রিডিং রুমে কেন গেছেন এবং ছেলেদের সঙ্গে কেন দেখা যায়—এমন প্রশ্ন করা হয়। এমনকি কোনো ছেলেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছেন কি না, তা দেখতে তার মোবাইল ফোনও পরীক্ষা করা হয়।

    আনিকা বলেন, একপর্যায়ে তার অস্বস্তি শুরু হয়। ঘাড়ের রগ টেনে আসছিল এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। পরে তিনি শুয়ে পড়েন। এরপর কী হয়েছে, তা আর মনে নেই।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, দীর্ঘক্ষণ র‍্যাগিংয়ের পর তাদের এক বান্ধবী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করলেও সঙ্গে সঙ্গে অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এক ঘণ্টার বেশি সময় পরও ওই শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তারা কান্নাকাটি শুরু করেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

    ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার বিকেলে গণতন্ত্র হলের ১০৩৬ নম্বর কক্ষে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন ছাত্রী তাদের ডেকে নেন। অভিযুক্তদের মধ্যে সামিহা, উর্মী, নিশাত, শ্রেয়া, মিম, মারিয়া, আফিয়া, ফারজানা ও ইফতির নাম উল্লেখ করেছেন তারা। ওই ঘটনায় জুনিয়র ব্যাচের আনিকা, আশা, ঝুমা, মাসুমা, ফারিয়া, সাথী ও জান্নাতকে হেনস্তা ও র‍্যাগিং করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

    অভিযুক্ত সামিহা ও উর্মীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

    এদিকে হাসপাতালে অসুস্থ শিক্ষার্থীকে দেখতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান ও ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদুল হক। এ সময় প্রক্টরিয়াল বডি ও ছাত্র উপদেষ্টা বডির অন্য শিক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন র‍্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে বরাবরই কঠোর অবস্থানে রয়েছে। র‍্যাগিং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনার অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।