পান বিক্রি

  • পান বিক্রি হচ্ছে তিন ভাগের এক ভাগ দামে

    পান বিক্রি হচ্ছে তিন ভাগের এক ভাগ দামে

    লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে পানের উৎপাদন বাড়লেও বাজারে দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। গত বছর যে পান ১২০ টাকায় বিক্রি হতো, এ বছর তা বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৪০ টাকায়। উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বাজারে বেচাকেনা জমজমাট থাকলেও প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় লাভের পরিবর্তে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।

    রায়পুরের হায়দরগঞ্জ বাজারে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ টাকার পান কেনাবেচা হয়। মধ্যরাত থেকে বিভিন্ন এলাকার চাষিরা পান নিয়ে বাজারে আসেন। ভোরে শুরু হয় বেচাকেনা, যা চলে সকালজুড়ে। এ বাজারের পান স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি হাতিয়া, চট্টগ্রাম, ফেনী ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।

    বাজারে পান বিক্রি করতে এসে হতাশা প্রকাশ করেন চাষি সাহেদ মাঝী। তিনি বলেন, “এত পান নিয়ে আসছি, বিক্রি করে বলদের পয়সাও হবে না।” তার কথায়, উৎপাদন খরচের তুলনায় বিক্রয়মূল্য কম হওয়ায় চাষিদের দুরবস্থার চিত্র উঠে এসেছে।

    চাষিরা জানান, এ বছর পানের সংক্রমণজনিত রোগের প্রকোপ তুলনামূলক কম থাকায় উৎপাদন বেড়েছে। তবে উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে বাজারদর না বাড়ায় তারা প্রত্যাশিত আয় পাচ্ছেন না। এতে চাষের খরচ তোলাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

    পানচাষি বারেক উদ্দিন বলেন, শ্যামবাজার ও চাঁদপুরের মতো রায়পুরের হায়দরগঞ্জ বাজারেও ব্যাপক পরিসরে পানের বেচাকেনা হয়। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে পান কিনতে আসেন।

    রায়পুরে পানের বেচাকেনার উল্লেখযোগ্য কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে নতুন বাজার পানহাটা, হায়দরগঞ্জ বাজার ও ক্যাম্পেরহাট। এসব বাজারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে পানচাষি ও ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পান সরবরাহ করা হয়।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বাজারে নিয়মিত বেচাকেনা সত্ত্বেও দাম কম থাকায় চাষিরা আর্থিক সংকটে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে চাষিরা উপকৃত হবেন। পাশাপাশি এ অঞ্চলের পানকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হবে।