ট্যাগ পানিসম্পদ মন্ত্রী

  • মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের উদ্বোধন হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

    মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের উদ্বোধন হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

    পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, পদ্মা ব্যারেজ একটি মাস্টারমাইন্ড প্রকল্প, যার সুবিধা পাবে দেশের ২৪টি জেলার অন্তত ৭ কোটি মানুষ। আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চের মধ্যে একটি নির্ধারিত তারিখে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    আজ শুক্রবার সকালে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চরঝিকুড়ি এলাকায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

    পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পানি সরবরাহ, নদীর প্রবাহ পুনরুজ্জীবন, নাব্যতা রক্ষা, মানবসম্পদ ও দক্ষিণ-পঞ্চিমাঞ্চলের পানির নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুরে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার।

    শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ‘এ ব্যারেজটির স্বপ্ন দীর্ঘদিন থেকে। বাংলাদেশের ২৪টি জেলার ৭ কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়নের মধ্যে দিয়ে আমরা এ স্বপ্নের বাস্তবায়নের লক্ষে কাজ করছি। এ এলাকার মানুষের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের একটা মেঘা প্রকল্প পদ্মা ব্যারেজ অর্থনৈতিক রুপান্তর, বিপ্লবের জন্য ২৪টি জেলার অর্থনৈতিক রুপান্তর, বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষি উৎপাদন, মৎস্য উৎপাদনের বৈপ্লবিক পরিবর্তন হবে। এটা আধুনিক প্রকল্প। ২০০৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খলেজা জিয়া পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কারিগরি সমীক্ষা করেন। আর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের মাধ্যমে একটি স্ব-নির্ভর বাংলাদেশ গড়তে চাই। পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে দেশের পানি, বিদুৎ, মৎস্য, কৃষি উন্নয়নে ভুমিকা রাখবে।’

    এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্বার্থে পানির চুক্তি নিশ্চিত করেছিলেন। একই কায়দায় মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সময় পানি ব্যবস্থাপনায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্ত আনতে সচেষ্ট তিনি ছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে সারা বাংলাদেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার বৈল্পবিক পরিবর্তন আনতে কাজ করছে সরকার। সেই সঙ্গে সারাদেশের প্রাণ-প্রকৃতি ফিরিয়ে আনতে খাল খনন করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, ফারাক্কা ব্যারেজের কারণে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে হ্রাস পাওয়ায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, মৎস্য ও জীববৈচিত্র্যের যে ক্ষতি হচ্ছিল, তা কাটিয়ে উঠতেই এই ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে. প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বর্ষাকালে পদ্মা নদীর উদ্বৃত্ত পানি সংরক্ষণ করা এবং শুষ্ক মৌসুমে তা নিয়ন্ত্রিতভাবে সরবরাহ করা।

    পরে হাবাসপুর কেরাজ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেন অতিথিরা। পরিদর্শনের সময় আরও উপস্থিতি ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ, কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহসভাপতি আসলাম মিয়া, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক লিয়াকত আলী বাবু, রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা।

    এর আগে গত ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক কমটির সভায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডার স্লুইসগেট, ২টি ফিশপাস এবং নেভিগেশন লক সমৃদ্ধ এই ব্যারেজটিতে ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। থাকবে ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা। ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারেজটি ২০২৬ সালের জুলাই মাসে শুরু হয়ে ২০৩৩ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। যার সম্পন্ন অর্থায়ন করবে সরকার।