পাকিস্থান

  • লজ্জার রেকর্ডে পাকিস্তানের নাম

    লজ্জার রেকর্ডে পাকিস্তানের নাম

    হেডিংলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে বড় পরাজয়ের পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত এক রেকর্ডের মালিক হয়েছে পাকিস্তান। টেস্ট ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে একই ম্যাচের দুই ইনিংসেই দলীয় রান শূন্য থাকা অবস্থায় প্রথম উইকেট হারিয়েছে তারা।

    প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের ওপেনার আজান ওয়াইসকে শূন্য রানে এলবিডব্লিউ করেন ওলি রবিনসন। দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেও একই ঘটনা ঘটে—ইমাম-উল-হক কোনো রান না করেই জফরা আর্চারের শিকার হন। টেস্টে শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারানো নতুন কিছু নয়, তবে একই ম্যাচে দুই ইনিংসেই এমন ঘটনার নজির অত্যন্ত বিরল।

    এই অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডে পাকিস্তানই এখন সবার ওপরে। দলটি মোট সাতবার একই টেস্টে দুই ইনিংসেই শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারিয়েছে। তালিকায় এরপর রয়েছে ইংল্যান্ড ৫ বার, অস্ট্রেলিয়া ৪ বার, ভারত ২ বার এবং নিউজিল্যান্ড ১ বার।

    হেডিংলি টেস্টে পাকিস্তানের ব্যাটিং ব্যর্থতা ছিল চরম। প্রথম ইনিংসে ১৭১ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে যায় মাত্র ১৩৫ রানে। বিপরীতে ইংল্যান্ড এক ইনিংসেই সংগ্রহ করে ৪০৬ রান। ফলে ইনিংস ও ১০৩ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায় স্বাগতিকরা।

    পাকিস্তানের ব্যাটিং ধসের অন্যতম প্রধান কারণ ছিলেন ইংলিশ পেসার ওলি রবিনসন। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৮ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন তিনি। প্রথম ইনিংসে তার বোলিং ফিগার ছিল ৫/৫১।

    দ্বিতীয় ইনিংসে ২৩৮ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাট করতে নামে পাকিস্তান। শুরুতেই আর্চারের বলে ইমাম-উল-হক শূন্য রানে ফিরলে বিপদ আরও ঘনীভূত হয়। এরপর শান মাসুদ কয়েকটি বাউন্ডারি মেরে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ইংল্যান্ডের বোলাররা চাপ ধরে রাখেন। আবদুল্লাহ শফিকও ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।

    এরপর জশ টাং পাকিস্তানের মিডল অর্ডারে বড় ধাক্কা দেন। সাউদ শাকিলকে ফেরানোর পর একই ওভারে শান মাসুদ ও সালমান আগাকে সাজঘরে পাঠিয়ে সফরকারীদের ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে দেন।

    মোহাম্মদ রিজওয়ান ৪১ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তবে অন্য প্রান্তে রবিনসনের আঘাত অব্যাহত থাকে। পরে গাস অ্যাটকিনসন রিজওয়ানের ইনিংস শেষ করেন এবং ৩৮তম ওভারে আর্চার শেষ ব্যাটারকে আউট করে পাকিস্তানের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন।

    প্রথম ইনিংসেও পাকিস্তান ইংলিশ পেসারদের সামনে সুবিধা করতে পারেনি। রবিনসন ৫/৫১ এবং জশ টাং ৫/৪৬ নিয়ে পাকিস্তানকে ১৭১ রানে গুটিয়ে দেন। জবাবে ইংল্যান্ডের মিডল অর্ডারের চার ব্যাটারের অর্ধশতকে বড় সংগ্রহ গড়ে। হ্যারি ব্রুক ৯১, জর্ডান কক্স ৭৩, জো রুট ৬৬ এবং ড্যান লরেন্স ৫১ রান করেন।

  • ইরান-সৌদি ‘গোপন সমঝোতা’, নেপথ্যে পাক সেনাপ্রধান?

    ইরান-সৌদি ‘গোপন সমঝোতা’, নেপথ্যে পাক সেনাপ্রধান?

    সৌদি আরবকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা করতে গোপনে তেহরান ও রিয়াদের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি-সদৃশ সমঝোতা করাতে মধ্যস্থতা করেছে পাকিস্তান। ইসরাইলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরাইল চাঞ্চল্যকর এক রিপোর্টে এমন দাবি করেছে।
    রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই সমঝোতার বিনিময়ে ইরানের তেল গোপনে পাকিস্তানে রপ্তানির ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে সহায়তা করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের মধ্যস্থতায় গত মার্চের শেষ দিকে এই সমঝোতা হয়েছে। সেই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায় চলছিল।

    যৌথ তেল পরিবহন উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে মধ্যস্থতা
    বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনজন কর্মকর্তার বরাতে টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, আসিম মুনির ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান আহমাদ বাহিদির সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত একটি তেল পরিবহন উদ্যোগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়টি সামনে এনে এই সমঝোতায় মধ্যস্থতা করেন।
    রিপোর্টে দাবি করা হয়, গত বছরের শেষ দিক থেকে এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে নীরবে ইরান থেকে পাকিস্তানে তেল পরিবহন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিটি দুই সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে যুক্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি বন্দর অবরোধের মধ্যেও তাদের জন্য বিপুল আর্থিক সুবিধা তৈরি করেছে।

    সমঝোতার পর সৌদির ওপর হামলা কমে যায়
    যুদ্ধের প্রথম মাসে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ বারবার ইরানের হামলার মুখে পড়ে। তবে সমঝোতা হওয়ার পর সৌদি আরবের ওপর হামলা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এ তথ্য দিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের একজন কূটনীতিক, একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেকজন কর্মকর্তা।
    তবে প্রায় তিন মাস কোনো উল্লেখযোগ্য হামলা না হওয়ার পর গত সপ্তাহান্তে ইরান সৌদি আরবের দিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
    এরপর আসিম মুনির আইআরজিসি প্রধান আহমাদ বাহিদিকে সতর্কবার্তা পাঠান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মুনির জানান যে, এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে তাদের যৌথ তেল পরিবহন উদ্যোগের কার্যক্রম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এরপর থেকে সৌদির দিকে ইরানের আর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়নি।

    কেন সক্রিয় ছিল পাকিস্তান?
    প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধে পাকিস্তান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছে। একই সঙ্গে সৌদির সঙ্গে পাকিস্তানের একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে- দুই দেশের যেকোনো একটির ওপর আগ্রাসনকে উভয় দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
    এ ছাড়া সৌদির সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং রিয়াদকে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ইসলামাবাদের ওপর আরও নির্ভরশীল করে তোলার আগ্রহও পাকিস্তানের ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এ কারণেই আসিম মুনির এই মধ্যস্থতায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

    সমালোচনার মুখে সমঝোতা
    মধ্যপ্রাচ্যের এক কূটনীতিক এই সমঝোচনার সমালোচনা করে বলেছেন, এটি কার্যত এমন একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে, যা চলমান যুদ্ধে হামলার লক্ষ্যবস্তু না হওয়ার বিনিময়ে ইরান আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছে যে অর্থ বা সুবিধা দাবি করছে, তাকে এক ধরনের “মুক্তিপণ” হিসেবে বৈধতা দিয়েছে।
    তবে গোপন এই সমঝোতার বিষয়ে পাকিস্তান, সৌদি আরব কিংবা ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • বিশ্ব সুন্দরীর মঞ্চে পাকিস্তানের যুবতী আনিকা

    বিশ্ব সুন্দরীর মঞ্চে পাকিস্তানের যুবতী আনিকা

    চলতি বছরের ‘মিস ওয়ার্ল্ড পাকিস্তান’-এর খেতাব জিতেছেন আনিকা জামাল ইকবাল। এ বার তাকে দেখা যাবে বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চে পাকিস্তানের হয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে। তার হাত ধরে ইতিহাস গড়ল পাকিস্তান। প্রায় ৭৪ বছরে প্রথম বারের জন্য বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চলেছে পাকিস্তান। জিন্নার দেশের হয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন ২৪ বছর বয়সী সুন্দরী এই আনিকা জামাল ইকবাল। এর আগে যে অনিকা কোনও সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেননি তা নয়। ২৪ বছরের এই তনয়া ‘মিস আর্থ’, ‘মিস গ্লোবাল’, ‘মিস কসমো’, ‘মিস ইকো ইন্টারন্যাশনল’ এবং ‘মিস অরা ইন্টারন্যাশনল’-এর মতো প্রতিযোগিতাগুলিতে অংশ নিয়েছেন। কসমোতে অনুষ্ঠিত ‘ফ্রিডম অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতাতেও আনিকা জিতে নিয়েছেন চারটি খেতাব। তার পড়াশোনা এখনও শেষ হয়নি। বর্তমানে তিনি পাকিস্তানের দানিস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাকাউন্টিং এবং অডিটিং নিয়ে স্নাতোকত্তর স্তরের পড়াশোনা করছেন।

    রূপবতী আনিকার মন রয়েছে সমাজকর্মেও। তিনি ‘বিউটি উইদ পার্পস’ নামের একটি প্রকল্প চালান। পাকিস্তানের সকল থ্যালাসেমিয়া রোগীর সহায়তা করাই এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য। নিজের প্রকল্পের পাশাপাশি আনিকা পাকিস্তানের সামাজিক কর্মে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও সক্রিয় ভাবে কাজ করেন। লাহোরের বেশ কয়েকটি দাতব্য সংস্থায় আনিকা স্বেচ্ছাসেবী হিসাবে কাজ করেন। সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগা রোগীদের নিয়েই সে সকল সংস্থাগুলিতে কাজ করা হয়। আনিকা ‘মিস ওয়ার্ল্ড পাকিস্তান’-এর খেতাব জেতার পর ‘মিস পাকিস্তান ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন’-এর তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চে আনিকার যাওয়া এই সংস্থার জন্য একটি মাইলফলক স্পর্শ করছে।

    দীর্ঘ ২৫ বছরে প্রথম বারের মতো তাদের সংস্থা থেকে কেউ বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চে পা রাখতে চলেছেন। যদিও ইতিহাস বলছে দীর্ঘ ৭৪ বছরে পাকিস্তান বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চ ছুঁয়ে দেখেনি। ‘মিস পাকিস্তান ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন’-এর প্রধান সোনিয়া আহমেদ জানিয়েছেন, পাকিস্তানের জন্য এটি একটি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হতে চলেছে। তার মতে, পাকিস্তানের প্রতিভা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার জন্য এটি একটি অত্যন্ত ভাল সুযোগ। পাকিস্তানের প্রতিযোগীরা এর আগে নানা ধরনের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন। আনিকার কাছেও সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া নতুন কিছু নয়।

    তবে বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চ সে সবের থেকে আলাদা। সেখানে বাহ্যিক সৌন্দর্যের সঙ্গে বোধগম্যতা, জনসমক্ষে কথা বলার ধরন প্রভৃতি বিষয় যাচাই করে দেখা হয়। তবে সে সব নিয়ে চিন্তিত নন আনিকা। তিনি ছোট থেকেই জানতেন যে পাকিস্তানের মতো ইসলাম ধর্মাবলম্বী দেশে মডেলিংকে পেশা হিসাবে বেছে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া সহজ বিষয় নয়। এ বিষয়ে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন অনেকে। কিন্তু সে সব নিয়ে চিন্তিত নন আনিকা। বর্তমানে তিনি ভিয়েতনামে হতে চলা বিশ্বসুন্দরীর প্রতিযোগিতায় নিজেকে মেলে ধরাতেই গুরুত্ব দিচ্ছেন।

    অনিকার কাছে বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চ কেবল একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ নয়। তার প্রধান লক্ষ্য হল, বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে নিজের দেশের থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য সহযোগিতা জোগাড় করা, যাতে তিনি তার প্রকল্পকে আরও দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন। আনিকার মা-বাবা তথা পরিবারের সকলে মেয়ের এই সাফল্যে অত্যন্ত খুশি। মেয়ের এক জন সফল মডেল হওয়ার ইচ্ছায় তারা বরাবর পাশে থেকেছেন। আনিকার মা-বাবা কখনও তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে কিছু করার জন্য চাপ দেননি।

  • পাট নেবে পাকিস্তান, আসবে খাদ্য পণ্য

    পাট নেবে পাকিস্তান, আসবে খাদ্য পণ্য

    দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্কের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। উভয় দেশের মধ্যে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল এবং পাটের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও কৃষিপণ্য আমদানি-রপ্তানি সহজ করতে সরকারি পর্যায়ে একটি বড় ধরনের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে যাচ্ছে।


    সম্প্রতি বাংলাদেশের শিল্প মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব পাকিস্তান (টিসিপি)-এর চেয়ারম্যান আসিম আজিম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে একটি পাকিস্তানি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরকালে এই বৈঠকে অংশ নেয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির এবং ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।


    পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন-এর সাথে আলাপকালে টিসিপি চেয়ারম্যান আসিম আজিম সিদ্দিকী জানান, পাকিস্তান বাংলাদেশে চাল, মসুর ডাল, ছোলা, সার, ভোজ্যতেল এবং অন্যান্য কৃষিপণ্য রপ্তানি করতে অত্যন্ত আগ্রহী। অন্যদিকে, পাকিস্তানের শিল্প খাতে বাংলাদেশের উন্নত মানের পাট এবং পাটজাত পণ্যের বিপুল চাহিদা রয়েছে।তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আইনি কাঠামো মেনে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে বাংলাদেশে পণ্য সরবরাহে সহায়তা করার প্রস্তাবও দিয়েছে পাকিস্তান। বৈঠকে উভয় পক্ষই পাকিস্তান-বাংলাদেশ যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে এবং বাণিজ্য প্রতিনিধি দল বিনিময় বাড়াতে সম্মত হয়েছে।

    টিসিপি চেয়ারম্যান বলেন, “আমাদের এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদার করা, খাদ্য সরবরাহে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং শিল্প খাতের অংশীদারিত্বকে সম্প্রসারিত করা।”বৈঠকে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য শক্তিশালী বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা গেলে দুই দেশের জন্যই বিনিয়োগ ও ব্যবসার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

    মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তৈরি, শিল্পায়ন ত্বরান্বিতকরণ এবং বাণিজ্য সহজীকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছে। এই সংস্কার প্রক্রিয়া দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে আরও প্রসারিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারসহ দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বব্যাপী সরবরাহ চেইনের বর্তমান চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে এই উদ্যোগটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। পাকিস্তানের উদ্বৃত্ত কৃষি উৎপাদন বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান খাদ্যের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। বিশেষ করে চাল এবং ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে এটি বাংলাদেশের আমদানির উৎসকে আরও বহুমুখী করবে। বিপরীতভাবে, বাংলাদেশের পাটজাত পণ্য পাকিস্তানের টেক্সটাইল ও প্যাকেজিং শিল্পের জন্য সাশ্রয়ী ও কার্যকর সমাধান হতে পারে।

    প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকটি সই হলে দুই দেশের মধ্যকার আমলাতান্ত্রিক ও পদ্ধতিগত জটিলতা অনেকটাই দূর হবে। সরকারিভাবে সরাসরি বাণিজ্য চ্যানেল চালু হওয়ার ফলে লেনদেন আরও মসৃণ ও দ্রুত হবে, যা বাজারে পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    খাদ্য ও কৃষি খাতের এই সমঝোতা কেবল পণ্য আদানপ্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ এখন বাণিজ্যকে আরও সাশ্রয়ী ও দক্ষ করতে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ে কাজ করবে। তা হলো- পণ্যের ওপর শুল্কের হার কমিয়ে এনে আমদানি-রপ্তানি খরচ হ্রাস করা, দুই দেশের গুণগত মানদণ্ডের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা যাতে পণ্য খালাসে সময় কম লাগে এবং সরাসরি নৌ বা বিমান যোগাযোগের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা আরও উন্নত করা।

    এই উদ্যোগটি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। উভয় দেশই এখন তাদের প্রথাগত সম্পর্কের বাইরে গিয়ে কৃষি এবং হালকা শিল্পে একটি স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ চেইন গড়ে তুলতে চায়। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই সমঝোতা স্মারকটি আনুষ্ঠানিকভাবে সই হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দুই দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ভলিউম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে।

  • কোটি কোটি সমর্থক, তবু ফুটবলে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান?

    কোটি কোটি সমর্থক, তবু ফুটবলে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান?

    বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান কিংবা ইন্দোনেশিয়ার রাস্তাঘাটে ফুটবল উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে বড় পর্দায় আর্জেন্টিনার খেলা দেখতে হাজারো মানুষের ভিড়, মেসির গোলে উল্লাস সবই যেন বিশ্বকাপের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অথচ সেই উল্লাসে নিজের দেশের কোনো দল নেই। প্রশ্ন উঠছে, কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী থাকা সত্ত্বেও কেন বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারছে না এসব দেশ?

    বার্তাসংস্থা বিবিসির এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, শুধু জনসংখ্যা নয়; অর্থনৈতিক সক্ষমতা, অবকাঠামো, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং ফুটবল সংস্কৃতির ধারাবাহিক বিকাশ এসবই একটি দেশের বিশ্বকাপে সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    ঢাকায় মেসির গোলেই উৎসব, কিন্তু মাঠে নেই বাংলাদেশ

    ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচে লিওনেল মেসি গোল করার পর ঢাকার বিভিন্ন খোলা প্রাঙ্গণে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন হাজারো সমর্থক। অনেকের গায়ে ছিল আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সি। কিন্তু সেই দর্শকদের একজনও আর্জেন্টিনার নাগরিক ছিলেন না; তারা সবাই বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমী।

    ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন শহরেও একই ধরনের দৃশ্য দেখা গেছে। নিজেদের দল বিশ্বকাপে না থাকায় অনেক সমর্থক আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল কিংবা অন্যান্য জনপ্রিয় দলকে সমর্থন করেন।

    জনসংখ্যা বড় হলেই সাফল্য আসে না

    তাত্ত্বিকভাবে একটি দেশের জনসংখ্যা যত বেশি, প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বেশি। বিশ্বকাপজয়ী দেশগুলোর বেশিরভাগই জনবহুল যেমন ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইংল্যান্ড, ইতালি ও স্পেন তার উদাহরণ।

    তবে ব্যতিক্রম উরুগুয়ে। মাত্র সাড়ে ৩৫ লাখ মানুষের দেশটি দুইবার বিশ্বকাপ জিতেছে।

    ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ ও ‘সকারনোমিকস’ বইয়ের সহলেখক স্টেফান সিজমানস্কির মতে, জনসংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটি একমাত্র শর্ত নয়।

    তার ভাষায়, ‘একটি দেশের ফুটবলে সফল হতে মানুষের পাশাপাশি অর্থ, অবকাঠামো এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা প্রয়োজন।’

    সিজমানস্কি বলেন, যেসব দেশ বিশ্বকাপ জিতেছে, তাদের বেশিরভাগই দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছে। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো শত বছরেরও বেশি সময় ধরে উচ্চমানের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ায় তারা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।

    তার গবেষণা অনুযায়ী, সাধারণত বিশ্বকাপ জিততে মাথাপিছু গড় আয় ১৫ হাজার ডলারের বেশি হওয়া দরকার। যদিও ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা তুলনামূলক কম আয় নিয়েও সফল হয়েছে, কারণ তাদের ফুটবল ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতা অনেক সমৃদ্ধ।

    বাংলাদেশে কাঠামোগত দুর্বলতা

    বাংলাদেশের অভিনেতা, লেখক ও ফুটবল বিশ্লেষক অদিতি করিম বিবিসিকে বলেন, ‘লাখো-কোটি ফুটবল সমর্থক থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এত পিছিয়ে থাকবে এটা মেনে নেওয়া যায় না।’

    তার মতে, ক্রিকেট জনপ্রিয় হওয়া কোনো অজুহাত নয়।

    তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডও ক্রিকেট পরাশক্তি, কিন্তু তারা নিয়মিত বিশ্বকাপে খেলছে। আমাদের সমস্যা জনপ্রিয়তা নয়, বরং প্রস্তুতি, পরিকল্পনা ও কাঠামোর অভাব।’

    তিনি আরও বলেন, ‘বাস্তবতা বিবেচনায় আমার জীবদ্দশায় বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে খেলতে দেখার সম্ভাবনা আমি দেখি না। তবে বাংলাদেশি সমর্থকেরা বিশ্বকাপের আনন্দ থেকে নিজেদের কখনো দূরে রাখবেন না।’

    ভারতের সমস্যা ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা

    ভারতের সাবেক ফুটবলার শ্যাম থাপার মতে, দেশটির অন্যতম বড় সমস্যা ক্রিকেটের বিপুল জনপ্রিয়তা।

    তিনি বলেন, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) আর্থিক সাফল্যের কারণে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সন্তানদের ফুটবলের বদলে ক্রিকেটে উৎসাহিত করছে।

    তবে তার বিশ্বাস, ফুটবলেও সফল ক্যারিয়ার গড়ে ভালো আয় করা সম্ভব এই বার্তাটি পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছানো জরুরি।

    চীনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ

    চীন ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপে ফিরতে পারেনি, যদিও গত এক দশকে ফুটবলে বিপুল বিনিয়োগ করেছে।

    বেইজিংভিত্তিক ফুটবল বিশ্লেষক মার্ক ড্রেয়ারের মতে, সমস্যার মূল কারণ অতিরিক্ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ।

    তার ভাষায়, ‘ফুটবলের সিদ্ধান্ত ফুটবল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নেওয়া উচিত। কিন্তু চীনে সবকিছুই রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করে।’

    ইন্দোনেশিয়ার ভিন্ন পথ

    ইন্দোনেশিয়া ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শেষ ধাপ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তবে দেশটির অনেক খেলোয়াড়ই ইউরোপে জন্ম নেওয়া ইন্দোনেশীয় বংশোদ্ভূত।

    বিবিসি ইন্দোনেশিয়ার জেরোম উইরাওয়ান জানান, অনেক ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার শুরুর একাদশে আট বা নয়জন ইউরোপে জন্ম নেওয়া ফুটবলার খেলেছেন।

    অবকাঠামো সংকটে ইথিওপিয়া

    ইথিওপিয়াও কখনো বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি। দেশটির পেশাদার লিগ বর্তমানে উপযুক্ত স্টেডিয়ামের সংকটে ভুগছে।

    ইথিওপিয়ান প্রিমিয়ার লিগের প্রধান নির্বাহী কিফলে সাইফে জানান, চলতি মৌসুমে ৩৮০টির বেশি ম্যাচ মাত্র তিনটি অনুমোদিত স্টেডিয়ামে আয়োজন করতে হয়েছে। এমনকি জাতীয় দলকেও বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ‘হোম ম্যাচ’ মরক্কোতে খেলতে হয়েছে।

    বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের হতাশা

    ২০২৬ বিশ্বকাপের এশিয়ান বাছাইপর্বে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দুই দলই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে। ছয় ম্যাচে কোনো জয়ই পায়নি তারা।

    এছাড়া ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রশাসনিক সংকটের কারণে পাকিস্তানকে তিনবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা।

    বিশ্লেষকদের মতে, জনসংখ্যা বা ফুটবলের জনপ্রিয়তা নয়; দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শক্তিশালী ফুটবল কাঠামো, অবকাঠামো, বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত পরিচালনাই বিশ্বকাপে পৌঁছানোর মূল চাবিকাঠি। আর এসব ক্ষেত্রেই এখনও অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে।

  • ইরান-মার্কিন আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন: পাক প্রধানমন্ত্রী

    ইরান-মার্কিন আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন: পাক প্রধানমন্ত্রী

    সুইজারল্যান্ডে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ইতিবাচক অগ্রগতির কথা নিশ্চিত করেন।

    প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, দুই দেশের মধ্যকার আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচক এবং গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠক থেকে বেশ কিছু উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

    ৬০ দিনের রোডম্যাপ: আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে সম্মত হয়েছে উভয় পক্ষ।

    উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন: রাজনৈতিকভাবে এই পুরো প্রক্রিয়া তদারকি ও দেখভালের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    প্রযুক্তিগত আলোচনা: চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পরবর্তী ধাপে আরও বিস্তারিত প্রযুক্তিগত আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    আলোচনায় পাকিস্তানের ভূমিকা উল্লেখ করে শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সংলাপ এবং কূটনীতিকে এগিয়ে নিতে পাকিস্তান সব সময়ই তার সৎ ও আন্তরিক ভূমিকা পালন করে যাবে।’

    দীর্ঘদিন ধরে চলা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে সুইজারল্যান্ডের এই বৈঠককে একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • পাকিস্তানে ভারতীয় মদদপুষ্ট ২১ জঙ্গি নিহত

    পাকিস্তানে ভারতীয় মদদপুষ্ট ২১ জঙ্গি নিহত

    খাইবার পাখতুনখাওয়ার (কে-পি) উত্তর ওয়াজিরিস্তান জেলার মিরান শাহ এবং এর আশেপাশের এলাকায় এক ধারাবাহিক গোয়েন্দা অভিযানে (আইবিও) আরও ২১ সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) শনিবার (১৩ জুন) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    আইএসপিআর জানিয়েছে, গত ৭২ ঘণ্টায় ওই এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের তীব্র বন্দুকযুদ্ধ হয়। নিহত ২১ সন্ত্রাসীই ভারত-পৃষ্ঠপোষিত ‘ফিতনা-আল-খাওয়ারেজ’ (যা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি নামে পরিচিত) গোষ্ঠীর সদস্য।

    নিহতদের মধ্যে খালিদ রেজা ওরফে সালার, মুফতুন, মুসা এবং ইমরান ওরফে আয়ান নামে চার শীর্ষ সন্ত্রাসী কমান্ডারও রয়েছে। এই চারজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও নিরীহ বেসামরিক নাগরিক হত্যার পাশাপাশি অসংখ্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ছিল। এই সফল অভিযানের ফলে ওই অঞ্চলে সক্রিয় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কটি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অত্যন্ত নিখুঁত ও সুপরিকল্পিত এই অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ৪৮ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। নিহতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনার কেন্দ্রীয় অ্যাপেক্স কমিটির অনুমোদিত ‘আজম-ই-ইস্তেকাম’ ভিশনের আওতায় এই কাউন্টার-টেররিজম অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এলাকা থেকে বাকি সন্ত্রাসীদের সম্পূর্ণরূপে নির্মূল না করা পর্যন্ত এই চিরুনি অভিযান এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টা পুরোদমে অব্যাহত থাকবে।

    এদিকে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এই বড় সাফল্যের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও প্রশংসা জানিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি।

  • পাকিস্তানে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, সকল আরোহী নিহত

    পাকিস্তানে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, সকল আরোহী নিহত

    পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এভিয়েশন শাখার একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে ওই হেলিকপ্টারে থাকা সকল আরোহী নিহত হয়েছেন। দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ অধিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর ডনের।
    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বুধবার উড্ডয়নের সময় কারিগরি ত্রুটির কারণে মুজাফফরাবাদের কাছে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। এরপর ঘটনাস্থলে দ্রুত উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছান। হেলিকপ্টারে থাকা সকল আরোহী নিহত হয়েছেন।

    তবে হেলিকপ্টারে মোট কতজন আরোহী ছিলেন এবং তারা কারা ছিলেন- সেই সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়নি আইএসপিআর।

    আইএসপিআর জানায়, এই দুর্ঘটনাটির সঠিক কারণ জানতে তদন্ত বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
    বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান (সিডিএফ) ও সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং সেনাবাহিনীর সকল পদমর্যাদার সদস্য এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সেই সঙ্গে তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন

  • হজ শেষে পাকিস্তানি অভিনেত্রীর আবেগঘন বার্তা

    হজ শেষে পাকিস্তানি অভিনেত্রীর আবেগঘন বার্তা

    পবিত্র হজ পালন শেষে একটি আবেগঘন বার্তা শেয়ার করেছেন পাকিস্তানি অভিনেত্রী দুরেফিশান সেলিম। এই পবিত্র সফর তার মধ্যে গভীর আধ্যাত্মিকতা, ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা ও অবিচল বিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে বলে জানান তিনি।

    ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট দিয়ে ‘ইশক মুর্শেদ’ খ্যাত এই তারকা বলেন, এই পবিত্র সফর তাকে আধ্যাত্মিকভাবে সমৃদ্ধ করেছে এবং ‘সব ধরনের জাগতিক আবেগ থেকে মুক্ত হতে’ সাহায্য করেছে।

    বাবা-মায়ের সঙ্গে হজ পালন করতে পারায় গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন দুরেফিশান। তিনি জানান, হজের প্রথম দিন ‘রমি’ (শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ) করার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, তবে বাবা-মায়ের উপস্থিতি তাকে শক্তি জুগিয়েছিল।

    এই সফরকে ‘সবর, শুকর ও তাওয়াক্কুলের গল্প’ হিসেবে বর্ণনা করে এই অভিনেত্রী বলেন, এটি কেবল তার ভেতরেই গভীর পরিবর্তন আনেনি বরং অন্যান্য নারী হাজিদের সঙ্গে সুন্দর বন্ধুত্ব গড়ে তোলার সুযোগও করে দিয়েছে।

    সহযাত্রীদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত ও ভক্তির কথা স্মরণ করে তিনি লেখেন, ‘আমরা একসঙ্গে নামাজ পড়েছি, কেঁদেছি, হেসেছি এবং ক্যাম্পের সব ধরনের খাবার খেয়েছি’। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা তাকওয়ার (আল্লাহভীতি) অসাধারণ সব গল্প শুনেছি এবং কথার চেয়ে কাজের মাধ্যমে ধর্মকে আরও গভীরভাবে জেনেছি’।

    এই পুণ্যময় সফরে অর্জিত অসংখ্য নিয়ামতের কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘জানি না আমি নিজের সঙ্গে কী নিয়ে যাচ্ছি, কারণ প্রাপ্তি এত বেশি যে তা এই মুহূর্তে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তবে আমি এটা জানি যে, পেছনে কী ফেলে যাচ্ছি—এতদিন ধরে বয়ে বেড়ানো সব জাগতিক চিন্তা ও আবেগের গুরুভার’।

    ‘সব ধরনের আবেগ থেকে মুক্ত হওয়া এবং আল্লাহর দরবারে নিজেকে সঁপে দেওয়া—এটাই হজ আমাকে শিখিয়েছে। সম্ভবত এই একটি কথাই আমি নিজেকে বারবার মনে করিয়ে দেব। আমার শরীরজুড়ে তীব্র ব্যথা, কিন্তু আমার মন আগের চেয়ে অনেক বেশি শান্ত ও পরিপূর্ণ’।

    বার্তার শেষে দুরেফিশান বিশ্বের সব মুসলিমকে শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান। সেই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, তিনি যেন সবাইকে এই পবিত্র হজব্রত পালনের তৌফিক দান করেন।

  • হাজারতম ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারাল পাকিস্তান

    হাজারতম ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারাল পাকিস্তান

    পাকিস্তানের জন্য ম্যাচটি ছিল বিশেষ মাইলফলকের। এক হাজারতম ওয়ানডে বলে কথা! এই মাইলফলকের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫ উইকেটে জিতেছে পাকিস্তান।

    ৩ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ২০১ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। বাবর আজম ও গাজি ঘুরির ফিফটিতে ৪২.৩ ওভারে এই রান তাড়া করেছে পাকিস্তান।

    যদিও এ দুজন নয়, হাজারতম ওয়ানডেতে পাকিস্তানের মূল নায়ক অভিষিক্ত আরাফাত মিনহাস। রাওয়ালপিন্ডিতে ওয়ানডে অভিষেকেই ৫ উইকেট নিয়েছেন ২১ বছর বয়সী এই বাঁহাতি স্পিনার। পাকিস্তানি বোলারদের মধ্যে যা প্রথম। ১০ ওভারে মাত্র ৩২ রানে তিনি আউট করেছেন জশ ইংলিশ, মারনাস লাবুশেন, ক্যামেরন গ্রিন, ম্যাথু শর্ট ও নাথান এলিসকে।

    ৫ উইকেট নিয়েছেন মিনহাস

    রান তাড়ায় ৪৯ রানে ২ উইকেট হারালেও বাবর ও ঘুরি তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১২৭ রান তুললে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। বাবর আউট হয়েছেন ৬৯ রানে, ঘুরি ৬৫ রানে। দুজনকেই আউট করেছেন এলিস। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ২ জুন।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    অস্ট্রেলিয়া: ৪৪.১ ওভারে ২০০ (রেনশ ৬১, শর্ট ৫৫; মিনহাস ৫/৩২)। পাকিস্তান: ৪২.৩ ওভারে ২০২/৫ (বাবর ৬৯, ঘুরি; এলিস ২/৪৫)। ফল: পাকিস্তান ৫ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: আরাফাত মিনহাস