পচা ডিম

  • কলকাতাজুড়ে পচা ডিমের নজিরবিহীন চাহিদা

    কলকাতাজুড়ে পচা ডিমের নজিরবিহীন চাহিদা

    পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভোট-পরবর্তী সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের লক্ষ্য করে এক অভিনব উপায়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু হয়েছে, যেখানে ‘পচা ডিম’ হয়ে উঠেছে প্রধান হাতিয়ার। কলকাতার আশেপাশের বাজারগুলিতে হঠাৎ করেই পচা ডিমের চাহিদা ও বিক্রি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় পচা ডিমের খোঁজ করছেন।

    অতীতে যে পচা ডিম সাধারণত মাছের খাবার, শ্যাম্পু কিংবা নিউরোথেরাপির কাজে ব্যবহৃত হতো, তা এখন রাজনৈতিক প্রতিবাদের এক অহিংস অথচ তীব্র অপমানজনক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন যে, এখন কেউ এক ক্রেট ডিম কিনতে এলেই তারা ঠাট্টা করে জিজ্ঞেস করছেন যে এগুলি খাওয়ার জন্য নাকি ছোঁড়ার জন্য নেওয়া হচ্ছে। কিছুদিন আগেই এক ক্রেতা পুরো এক ক্রেট পচা ডিম কিনে নিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন, যাদবপুরের ‘শম্ভু এগ শপ’-এর এক ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকার সম্ভাবনা প্রবল।

    এই পচা ডিম ছোঁড়ার রাজনীতির শুরু হয়েছিল তৃণমূলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়ে, তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে একটি বিক্ষোভের মুখে পড়েন হন এবং তখন তাকে লক্ষ্য করে প্রথম পচা ডিম ছোঁড়া হয়। এরপর থেকেই তৃণমূলের একাধিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে এই ডিম হামলা চালানো হচ্ছে। বলা যায় ্এটি এখন রাজ্য রাজনীতির একটি প্রধান উপাদান হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পরবর্তী সহিংসতা ও হেনস্তায় বিজেপি সরকার সরাসরি মদদ দিয়ে যাচ্ছে। তৃণমূলের দাবি, পুলিশের সামনেই দলটির নেতাদের একের পর এক ডিম মারা হচ্ছে, অথচ পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। এছাড়াও তৃণমূলের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার করে জেলে ভরেছে পুলিশ। পরে আদালতে নেয়ার সময়ই সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশে থাকা বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে তাদের লক্ষ্য করে পচা ডিম ছুঁড়ছে।