নিষেধাজ্ঞা

  • আ. লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘের দ্বারস্থ শেখ হাসিনা

    আ. লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘের দ্বারস্থ শেখ হাসিনা

    বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা (কার্যক্রম) নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ারদের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    তার দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখায় গুরুতর উদ্বেগ জানিয়ে এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


    শেখ হাসিনার পক্ষে আইনজীবী স্টিভেন পাওয়েলস কেসি (কিংস কাউন্সেল) এই আবেদন জমা দিয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রশাসন প্রথমে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পরে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার সেই নিষেধাজ্ঞা শুধু বহালই রাখেনি, বরং আনুষ্ঠানিক রূপও দিয়েছে।

    আবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশ নিতে দেয়া হয়নি। দলটির অংশগ্রহণের পক্ষে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও তাদের নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়। ফলে ওই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও সর্বজনীন অংশগ্রহণমূলক ছিল না বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে নির্বাচনের ফলাফলের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

    আবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দল ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোকে আইনগতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রেখে বাংলাদেশে নির্বাচন আয়োজন এবং গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা সুসংহত করার চেষ্টা সাংবিধানিকভাবে অসংগত। এর ফলে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ কার্যত রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    আওয়ামী লীগের পক্ষে বাংলাদেশের আদালতে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানানোও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দলটির ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং এর সমর্থকদের ওপর চলমান হামলার কারণে আইনজীবী নিয়োগ ও আইনি অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    আবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির কয়েকটি ধারার লঙ্ঘন। এর মধ্যে রয়েছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা-সংক্রান্ত ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার-সংক্রান্ত ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ, সংগঠন করার স্বাধীনতা-সংক্রান্ত ২২ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিতকারী ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদ।

    আবেদনে আরও যুক্তি দেয়া হয়েছে, নিষেধাজ্ঞাটি যথাযথ আইনি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়। ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সরকারের আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞার কোনো বৈধ উদ্দেশ্য নেই বলেও এতে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সদস্য ও দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চলমান হামলার অংশ হিসেবে নিষেধাজ্ঞাটিকে বর্ণনা করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞাটি প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত এবং এর অপব্যবহার ঠেকানোর মতো পর্যাপ্ত সুরক্ষাব্যবস্থাও নেই বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    শেখ হাসিনার পক্ষে করা আবেদনে জাতিসংঘের তিনজন বিশেষজ্ঞের জরুরি হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। তারা হলেন সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার ক্ষেত্রে মানবাধিকার সুরক্ষা ও প্রসারবিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠন করার স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার এবং গণতান্ত্রিক ও ন্যায়সংগত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা প্রসারবিষয়ক স্বাধীন বিশেষজ্ঞ।

    আবেদনে তাদের প্রতি জরুরি পদক্ষেপ নেয়া এবং বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে প্রকাশ্য বিবৃতি দেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

  • সুদানের ১৫ কমান্ডারের ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা, বিদ্যুৎব্যবস্থায় ড্রোন হামলা

    সুদানের ১৫ কমান্ডারের ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা, বিদ্যুৎব্যবস্থায় ড্রোন হামলা

    সুদানের যুদ্ধরত দুই পক্ষ, আধাসামরিক র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) ও সেনাবাহিনীর ১৫ জ্যেষ্ঠ কমান্ডারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য।এর মধ্যে ড্রোন হামলায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়েছে। এল ফাশারের পতনের এক বছর পূর্তিতে ২৬ অক্টোবর নিষেধাজ্ঞার প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। বেসামরিক মানুষকে অনাহারে রাখা ও তাঁদের ওপর যৌন সহিংসতা নিয়ে যুক্তরাজ্যের অর্থায়নে পরিচালিত তদন্তের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    ছবির ক্যাপশন: খার্তুমে নীল নদের ওপর এল মেক নিমির সেতুর ফাইল ছবি। এটি উপকেন্দ্রে প্রকাশিত হামলার স্থান নয়। ছবি: ক্রিস্টোফার মিশেল, CC BY 2.0, উইকিমিডিয়া কমন্সের মাধ্যমে; আড়াআড়িভাবে কাটা।

    সংক্ষেপে

    • এল ফাশারের পতনের প্রথম বর্ষপূর্তিতে ঘোষিত প্যাকেজে র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস ও সুদানের সশস্ত্র বাহিনীর ১৫ জ্যেষ্ঠ কমান্ডারের ভ্রমণ নিষিদ্ধ ও সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাজ্য। তাঁদের বিরুদ্ধে সংঘাতসংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতাসহ নৃশংসতার সন্দেহ রয়েছে।
    • যুক্তরাজ্যের অর্থায়নে পরিচালিত সেন্টার ফর ইনফরমেশন রেজিলিয়েন্সের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই নিষেধাজ্ঞা। সংস্থাটি সব পক্ষের পরিকল্পিত অনাহার ও যৌন সহিংসতা নথিভুক্ত করেছে। এই সপ্তাহে সংস্থাটি জানিয়েছে, সুদানজুড়ে একই কৌশল এখনো ব্যবহার করা হচ্ছে।
    • সোমবার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাঁচটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে ড্রোন হামলা হয়। মঙ্গলবার ওমদুরমানের একটি উপকেন্দ্রে হামলায় খার্তুমের বড় অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। জাতিসংঘ অক্টোবরের প্রথম তিন সপ্তাহে ড্রোন হামলায় অন্তত ৩০৬ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত করেছে।
    • চলতি বছরের শুরুর দিকে গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানে বলা হয়, এল ফাশারের পতনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা হয়েছিল। প্রাণ বাঁচাতে পারত এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

    বর্ষপূর্তিতে নিষেধাজ্ঞা

    উত্তর দারফুরের রাজধানী এল ফাশারের পতন ঘটে ১৮ মাসের অবরোধের পর। এই অবরোধে লাখ লাখ বেসামরিক মানুষ অনাহারের শিকার হন। শহরের পতনের পরের দিনগুলোতে বেসামরিক মানুষকে হত্যা করা হয় এবং নারী ও মেয়েদের ওপর ব্যাপক যৌন সহিংসতা চালানো হয়। যাঁদের দায়ী মনে করে, তাঁদের নাম ঘোষণার জন্য যুক্তরাজ্য পতনের প্রথম বর্ষপূর্তি বেছে নিয়েছে।

    তালিকায় র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস ও সুদানের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডারদের একসঙ্গে রাখা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উদাহরণ হিসেবে দুজনের নাম রয়েছে। হুসেইন আবু জালাক আরএসএফের একজন কর্নেল। অবরোধের সময়কার নৃশংসতার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় লাখ লাখ বেসামরিক মানুষ পশুখাদ্য খেয়ে বাঁচতে বাধ্য হন। আল-কুব্বা নামে পরিচিত আল-নুর আহমেদ আদম শহর অবরোধ ও হামলায় উপস্থিত ছিলেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞায় ১৫ জনের সবার ভ্রমণ নিষিদ্ধ ও সম্পদ জব্দের বিধান রয়েছে। এর আগে যুদ্ধের অপরাধী ও তাঁদের সহায়তাকারী নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করে যুক্তরাজ্য পাঁচ দফা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।

    তালিকার পেছনে প্রমাণ হিসেবে রয়েছে ব্রিটিশ সরকারের অর্থায়নে কাজ করা তদন্ত সংস্থা সেন্টার ফর ইনফরমেশন রেজিলিয়েন্সের প্রতিবেদন। তাদের অনুসন্ধানে সংঘাতের উভয় পক্ষের মাধ্যমে বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অনাহার ও সংঘাতসংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতার অভিযান উঠে এসেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেছেন, তদন্তে দেখা গেছে, “সুদানের মানুষের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও অনাহারকে এখনো অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে”। তিনি এসব কাজকে “আমাদের মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ” বলেছেন এবং যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে বাইরের সব সমর্থকের সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত আরএসএফকে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দেশটি এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

    নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি নতুন করে ১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড বরাদ্দ দিয়েছে যুক্তরাজ্য। এর মধ্যে যৌন সহিংসতা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সহায়তায় ৫০ লাখ পাউন্ড এবং মানবিক সহায়তায় ১ কোটি পাউন্ড। মানবিক সহায়তার মধ্যে রয়েছে তাওইলার আশপাশের বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়স্থলে বিশুদ্ধ পানি ও পয়োনিষ্কাশন এবং এল ওবেইদে স্বাস্থ্যসেবা।

    এল ফাশারে এখনো আটকা বেসামরিক মানুষ

    যুদ্ধের আগে এল ফাশারে ১০ লাখের বেশি মানুষের বাস ছিল। শহরে কাজ করা মানবিক সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, এখন ৭০ হাজারের কম মানুষ রয়েছেন। দখলের সময় কতজন নিহত হয়েছেন এবং এখনো কতজন নিখোঁজ, সেই হিসাব অনিশ্চিত।

    যাঁরা রয়ে গেছেন, শহরের পতনের মধ্য দিয়ে তাঁদের অবরোধ শেষ হয়নি। অ্যামনেস্টির অক্টোবরের প্রতিবেদনে এল ফাশারে নির্বিচার আটক, নির্যাতন ও বেআইনি হত্যাকাণ্ড চলার বিবরণ রয়েছে। বিদ্যালয়গুলোকে আটককেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বাসিন্দারা আরএসএফের নজরদারিতে রয়েছেন। অ্যামনেস্টির মহাসচিব অ্যাগনেস কালামার বলেছেন, বেসামরিক মানুষের ফেরার জন্য এল ফাশার নিরাপদ বলে আরএসএফের দাবি “সত্য থেকে সম্পূর্ণ দূরে”। তদন্তকারীদের সর্বশেষ প্রতিবেদনেও একই পরিস্থিতি উঠে এসেছে। সিআইআরের ভিডিওতে আরএসএফ যোদ্ধাদের এল ফাশারের পানি সরবরাহ বন্ধ এবং ব্যবসায়ীদের খাদ্য আনতে বাধা দেওয়া নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায়। শহরটিকে অনাহারে রাখা অবরোধ শেষ হওয়ার এক বছর পরও এই আলোচনা চলছে।

    যে সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা হয়েছিল

    চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানে এল ফাশারের পতনের আগে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অনুসন্ধানে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞায় দুই যুদ্ধরত পক্ষই রয়েছে। তবে এল ফাশারে হামলা চালিয়েছিল আরএসএফ।

    নিষেধাজ্ঞায় ভ্রমণ বন্ধ এবং ব্রিটিশ আইনের আওতায় থাকা সম্পদ জব্দের বিধান রয়েছে। ১৫ কমান্ডারের কারও এমন সম্পদ আছে কি না, যা বাস্তবে জব্দ হয়েছে, বিজ্ঞপ্তিতে তা বলা হয়নি।

    বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বাজারে ড্রোন হামলা

    সর্বশেষ ড্রোন হামলাগুলো বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও একটি বাজারে আঘাত হেনেছে। নিষেধাজ্ঞায় যে শহরের পতন স্মরণ করা হচ্ছে, তার বাইরেও এই হামলা হয়েছে। পৃথক হামলাগুলোর দায় নিয়ে বিরোধ রয়েছে।

    সুদান ইলেকট্রিসিটি হোল্ডিং কোম্পানির হিসাবে, সোমবার সিঙ্গা, আল-হাওয়াতা, আল-ফাও, মাশকুর ও আল-জুনাইদের পাঁচটি উপকেন্দ্র ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে সেন্নার, গেদারেফ, হোয়াইট নাইল ও গেজিরা রাজ্যজুড়ে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গ্রিড বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। সিঙ্গা উপকেন্দ্রের নিরাপত্তারক্ষীরা আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা আনাদোলুকে বলেছেন, মঙ্গলবার ভোরে উত্তর-পশ্চিম ওমদুরমানের আল-মারখিয়াত উপকেন্দ্রে একটি ড্রোন আঘাত করে। এতে খার্তুমের বড় অংশে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়। সকাল গড়ানো পর্যন্ত মঙ্গলবারের হামলা কারা করেছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ছিল না। কোম্পানি সোমবারের পাঁচ হামলার জন্য আরএসএফকে দায়ী করেছে। সুদানের কর্তৃপক্ষ বারবার বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার জন্য আরএসএফকে অভিযুক্ত করেছে। একই কোম্পানির একটি সূত্র পরে এএফপিকে বলেছে, আরএসএফের ড্রোন আল-মারখিয়াত কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। আরএসএফ এমন অভিযোগে সচরাচর মন্তব্য করে না। তাদের বক্তব্য, তারা বেসামরিক মানুষের সুরক্ষায় কাজ করে।

    সোমবার রাতে দক্ষিণ দারফুরে আরএসএফের কার্যত রাজধানী নিয়ালার একটি বাজারে পৃথক হামলা হয়। নিয়ালা হাসপাতালের একজন চিকিৎসাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এএফপিকে বলেছেন, ২১ জন নিহত এবং ৪০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। আরএসএফ বেসামরিক মানুষ হত্যার জন্য সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে। সেনাবাহিনী বলেছে, তারা আরএসএফের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র লক্ষ্য করেছিল। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে কতজন যোদ্ধা, চিকিৎসাকর্মী তা বলতে পারেননি। প্রকাশিত নিহতের সংখ্যা প্রাথমিক হিসাব, বেসামরিক মৃত্যুর চূড়ান্ত মোট নয়।

    জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর শুধু অক্টোবরের প্রথম তিন সপ্তাহেই ড্রোন হামলায় অন্তত ৩০৬ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত করেছে। এসব হামলার জন্য দুই বাহিনীকে দায়ী করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের অর্থায়নে কাজ করা তদন্তকারীরা এই ধরনকে অবরোধের একই কৌশলের অংশ হিসেবে বর্ণনা করছেন: বেসামরিক অবকাঠামো ও মানবিক কার্যক্রমে ড্রোন হামলা এবং পরিকল্পিতভাবে ত্রাণে বাধা দেওয়াকে নিয়মিত যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    এরপর যা হবে

    নিষেধাজ্ঞার পরবর্তী মাপকাঠি হলো কার্যকর প্রয়োগ এবং অন্য সরকারগুলো একই ধরনের পদক্ষেপ নেয় কি না। মিলিব্যান্ড আরএসএফ ও এসএএফকে ত্রাণবহরে হামলা বন্ধ করে মানুষের কাছে খাদ্য পৌঁছাতে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। উপকেন্দ্রগুলোতে হামলার পর বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ফিরছে কি না, তার ওপরও জরুরি সেবা পাওয়া নির্ভর করবে।

  • একাদশে ভর্তি: বাড়তি ফি আদায়ে নিষেধাজ্ঞা

    একাদশে ভর্তি: বাড়তি ফি আদায়ে নিষেধাজ্ঞা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম আজ (২০ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত কলেজে ভর্তি হতে পারবেন। নীতিমালা অনুযায়ী, বোর্ড অনুমোদিত ফি’র অতিরিক্ত টাকা শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নেয়ার সুযোগ নেই। অনুমোদিত সব ফি যথাযথ রশিদের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে নীতিমালা লঙ্ঘন করলে কলেজের ক্ষেত্রে পাঠদানের অনুমতি বা স্বীকৃতি বাতিলের পাশাপাশি এমপিওভুক্তি বাতিল হতে পারে। সরকারি কলেজের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    আন্তশিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, ভর্তি কার্যক্রম শেষে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরুর তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর শুরু হবে।নীতিমালার ৫.৭ ধারায় বলা হয়েছে, ৭কোন শিক্ষার্থীর নিকট হতে বোর্ড অনুমোদিত ফি-এর অতিরিক্ত কোন অর্থ গ্রহণ করা যাবে না এবং অনুমোদিত সকল ফি যথাযথ রশিদ প্রদানের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে।

    বেসরকারি কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে ভর্তি ফিসহ মাসিক বেতন এবং অন্যান্য যাবতীয় খরচের তালিকা স্ব স্ব কলেজের নোটিশ বোর্ডে এবং ওয়েবসাইটে প্রদর্শন করতে হবে।

    ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর বোর্ডের বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা বোর্ডের অনুমতি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ফি দেয়া কলেজ, বিভাগ ও বিষয় পরিবর্তন করতে পারবে। তবে অন্যান্য বিভাগ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে বিভাগ পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। বিজ্ঞান বিভাগ হতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী অন্য বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর পরবর্তীতে বিজ্ঞান বিভাগে প্রত্যাবর্তনের কোন সুযোগ নেই।

    কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনো অবস্থাতেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হতে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কোন শিক্ষার্থীর মূল একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট এই শিক্ষার্থী বা তার অভিভাবক ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তি বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হস্তান্তর করতে পারবেনা বা অন্য কোন অজুহাতে কোন শিক্ষার্থীর একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট আটক রাখতে পারবে না। অনুরূপ অভিযোগ পাওয়া গেলে বোর্ড সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

    ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের তালিকা জমাদানের সময় প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান কে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফি’র বিবরণীর সাথে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক খাতওয়ারি গৃহীত অন্যান্য ফি’র বিবরণী আলাদাভাবে জমা দিতে হবে।

    কলেজ-সমমানের প্রতিষ্ঠান বোর্ডের নির্ধারিত আসন সংখ্যা (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ, শিফট, ছাত্র, ছাত্রী, সহশিক্ষা, ভার্সন) এবং বোর্ডের নির্ধারিত ভর্তি ফিসহ অনুমোদিত অন্যান্য সব ফি, ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতা ইত্যাদি তথ্যগুলো ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানের নোটিশ বোর্ড এবং ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থী ভর্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ফি যতদূর সম্ভব মওকুফের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

  • মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় প্রস্তুত হচ্ছে ইরান

    মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় প্রস্তুত হচ্ছে ইরান

    যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর তা মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।

    ইরাকে সফররত গালিবাফ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘নিষ্ঠুর নিষেধাজ্ঞা’ মোকাবিলা করে তা অতিক্রম করার পরিকল্পনা ইরানকে করতে হবে। তিনি বাগদাদের সঙ্গে তেহরানের সহযোগিতা বাড়ানোরও আহ্বান জানান।

    গালিবাফের টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি বলেন, ‘আপনি যদি মুসলিম দেশগুলোর সম্পদ ও কাঁচামালের দিকে তাকান, তাহলে বুঝতে পারবেন যে আমাদের শত্রুরা সেগুলো লুট করতে আসছে, তাই এই পরিস্থিতিতে আমাদের অবশ্যই কঠোর নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা করতে হবে যাতে আমরা এটি কাটিয়ে উঠতে পারি।’

    এর আগে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ঘোষণা দেন, ইরানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ‘সবচেয়ে কঠোর’ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

    ইরাক সফরে থাকা গালিবাফ চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরান ও ইরাকের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারেরও আহ্বান জানিয়েছেন।

  • আ.লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি গুজব: তথ্যমন্ত্রী

    আ.লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি গুজব: তথ্যমন্ত্রী

    আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো বিষয়টি সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, এটি গুজবের একটি অংশ।

    বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে আন্তর্জাতিক যুব দিবস অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।

    এ সময় মন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান জটিলতা সমাধানযোগ্য। যে কোনো সমস্যা সমাধানে কাজ করবে দুদেশের সরকার।

    প্রতিটি স্তরে যুব সমাজকে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যুবসমাজের উন্নতিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তরুণরাই একটি দেশ ও জাতির মূল শক্তি। তরুণরাই একটি দেশের জন্য আশীর্বাদ। বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। পৃথিবী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করছে।

    তিনি বলেন, তরুণদের শক্তি একটি দেশের উন্নতিতে ইতিবাচক মাত্রা যোগ করে। বিশ্বব্যাপী যুব সমাজ সবচেয়ে বড় শক্তি।

    একই অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানায়, ঘরে বসে যেন যুব ও নারীরা ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে সেই লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

  • রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বিল পাস

    রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বিল পাস

    আন্তর্জাতকি ডেস্ক:

    রাশিয়া থেকে তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি দেশের ওপর শতভাগ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দিয়ে একটি বিল অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। এই মার্কিন পদক্ষেপের ফলে ভারত, চীনসহ রাশিয়ার তেল–গ্যাসের প্রধান ক্রেতা দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের শুল্ক আরোপের ঝুঁকি তৈরি হলো।

    গত ১১ জুলাই মারা যাওয়া ইউক্রেনের কট্টর সমর্থক ও রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের স্মরণে এই বিলের নামকরণ করা হয়েছে। সিনেটে বিলটি ৮৬–১১ ভোটে পাস হয়।

    লিন্ডসে গ্রাহাম মূলত ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য জোরালো লবিং করে আসছিলেন। উল্লেখ্য, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে পদার্পণ করেছে।

    সিনেটে লিন্ডসে গ্রাহামের স্থলাভিষিক্ত হওয়া তাঁর বোন ডার্লিন গ্রাহাম বলেন, বিলটি ‘রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঠিক দুর্বল জায়গায় আঘাত করবে।’

    সিনেটে ডেমোক্র্যাট সদস্য রিচার্ড ব্লুমেনথাল গ্রাহামের সঙ্গে এক বছরের বেশি সময় ধরে এই বিল পাসের জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের মানুষ ‘একা নন।’

    ভোটের পর এই সিনেটর বলেন, ‘আজ প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউক্রেন থেকে এবং পুতিন মস্কো থেকে এটি দেখছেন। আমি ভাবতে পছন্দ করি যে লিন্ডসে গ্রাহামও ওপর থেকে এটি দেখছেন।’

    নিজের বক্তব্য আরও স্পষ্ট করে ব্লুমেনথাল বলেন, ‘আজ আমরা ইউক্রেনের মানুষকে বলছি, আপনারা একা নন। আর ভ্লাদিমির পুতিনকে বলছি, আপনি ইউক্রেন জয় করতে পারবেন না।’

    বিলটি এখন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদনের জন্য যাবে। ৩১ আগস্ট প্রতিনিধি পরিষদের অধিবেশন আবার শুরু হলে বিলটি নিয়ে সেখানে আলোচনা হবে।

    রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক দলের সমর্থন পাওয়া এই বিলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে রাশিয়ার তেল বা গ্যাস কেনে, বিশ্বের এমন শীর্ষ পাঁচটি দেশের ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় ভারত ও চীন রয়েছে।

    ভারত ও চীনের পাশাপাশি বর্তমানে রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস আমদানির শীর্ষ পাঁচটি দেশের তালিকায় রয়েছে আজারবাইজান, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া।

    তবে যেসব দেশ রাশিয়া থেকে তাদের মোট প্রাকৃতিক গ্যাসের ১৫ শতাংশের কম আমদানি করে এবং সেই আমদানি কমানোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে এই বিলের আওতায় ছাড়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।

    বিলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, দেশটির জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও জ্বালানি প্রকল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

    মস্কো যেসব পুরোনো তেলবাহী জাহাজ পতাকা পাল্টে ব্যবহার করছে, সেগুলোও বিলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার সুযোগ রাখা হয়েছে। এসব জাহাজ ব্যবহার করে রাশিয়া তেল ও জ্বালানি থেকে আয় করা অর্থের ওপর বিদ্যমান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

    জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন হলে নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের ক্ষমতাও হোয়াইট হাউসকে দেওয়া হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসকে নিশ্চিত করতে হবে যে এমন পদক্ষেপ জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন।

    বিলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ১৯৯৬ সালের ইরান নিষেধাজ্ঞা আইনের মেয়াদও ২০৩১ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। ইরানের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারী কোম্পানিগুলোর ওপর আইনটির আওতায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় যুক্তরাষ্ট্র।

  • সেমিফাইনালে নিষেধাজ্ঞার মুখে ১৮ ফুটবলার

    সেমিফাইনালে নিষেধাজ্ঞার মুখে ১৮ ফুটবলার

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ৪৮ দলের লড়াই পর্ব শেষে বিশ্বকাপ এখন রূপ নিয়েছে ৮ দলের লড়াইয়ে। এক দিনের বিরতির পর বাংলাদেশ সময় আজ বৃহস্পতিবার রাত থেকেই মাঠে গড়াচ্ছে ফিফার এই মেগা ইভেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল।

    তবে শেষ আটের মহারণে নামার আগে বড় ধরনের দুর্ভাবনায় রয়েছেন অংশ নেয়া দলগুলোর অন্তত ১৮ জন ফুটবলার। এই ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখলেই দল সেমিফাইনালে উঠলেও দর্শক হয়ে থাকতে হবে তাদের।

    ফলে শেষ আটের প্রতিটি ম্যাচে আক্রমণ-প্রতিআক্রমণের পাশাপাশি সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে শৃঙ্খলা। একটি ভুল ট্যাকল, অপ্রয়োজনীয় ফাউল কিংবা রেফারির সাথেই তর্কই কেড়ে নিতে পারে সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ।

    সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তায় রয়েছে ইংল্যান্ড ও মরক্কো। দুই দলেরই চারজন করে ফুটবলার ইতোমধ্যে নকআউট পর্বে একটি করে হলুদ কার্ড দেখেছেন। তাই কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রত্যেককেই বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে।

    ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডের তিনজন করে, আর আর্জেন্টিনা, স্পেন, বেলজিয়াম ও নরওয়ের একজন করে ফুটবলারও একই ঝুঁকিতে আছেন। অর্থাৎ আট দলের মধ্যে কেবল কোনো ঝুঁকি নেই কলম্বিয়ার খেলোয়াড়দের।

    প্রথমবারের মতো মাঠে গড়ানো ৪৮ দলের বিশ্বকাপে যোগ হয়েছে একটি অতিরিক্ত নকআউট পর্ব। তাই হলুদ কার্ডের নিয়মেও পরিবর্তন আসে। আগের নিয়ম বহাল থাকলে নকআউটে অনেক তারকা ফুটবলারকে হারানোর আশঙ্কা ছিল।

    তাই গ্রুপ পর্বে পাওয়া সব হলুদ কার্ড নকআউট পর্ব শুরুর আগে বাতিল (রিসেট) করা হয়। তবে শেষ ৩২ ও শেষ ষোলোর ম্যাচে যারা একটি করে হলুদ কার্ড পেয়েছেন, তারা আছেন ঝুঁকিতে।

    কোয়ার্টার ফাইনালে আরেকটি কার্ড দেখলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাল কার্ডের নিয়মানুসারে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়বেন। সে ক্ষেত্রে দল সেমিফাইনালে উঠলেও তারা মাঠে নামতে পারবেন না।

    অবশ্য কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে আবারো হলুদ কার্ডের হিসাব রিসেট হবে। ফলে হলুদ কার্ডের কারণে কোনো খেলোয়াড় ফাইনাল মিস করবেন না। তবে সেমিফাইনালে লাল কার্ড দেখলে ফাইনালে নিষিদ্ধ থাকতে হবে।

    আর গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শাস্তি দেয়ার ক্ষমতা থাকবে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটির। সেটা অবশ্য অন্য বিষয়।

    নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে যে ১৮ ফুটবলার

    ইংল্যান্ড : জুড বেলিংহ্যাম, নিকো ও’রাইলি, ডেক্লান রাইস, মার্ক গেয়ি

    মরক্কো : ইসা দিওপ, আশরাফ হাকিমি, রেদোয়ান হালহাল, বিলাল এল খানুস

    ফ্রান্স : মানু কোনে, মাইকেল ওলিসে, ব্রাডলি বারকোলা

    সুইজারল্যান্ড : গ্রানিত জাকা, ডেনিস জাকারিয়া, মিরো মুহাইম

    আর্জেন্টিনা : গঞ্জালো মন্টিয়েল

    স্পেন : ফেররান তোরেস

    বেলজিয়াম : ব্র্যান্ডন মেচেলে

    নরওয়ে : অ্যান্তোনিও নুসা