ধানে সাফল্য

  • খাগড়াছড়িতে নতুন জাতের ধানে সাফল্য

    খাগড়াছড়িতে প্রথমবারের মতো চাষ করেই আশানুরূপ ফলন দিয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল আমন ধানের জাত ব্রি ধান-১০৩। পরীক্ষামূলক প্রদর্শনী প্লটে প্রতি হেক্টরে ৬ দশমিক ৫৭ মেট্রিক টন ফলন পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, আমন মৌসুমে এটি একটি উল্লেখযোগ্য ফলন। এ সাফল্যের ফলে পাহাড়ি কৃষি অঞ্চলে জাতটির সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার পাইলটপাড়া প্রযুক্তি গ্রামে ব্রি ধান-১০৩-এর ফসল কর্তন ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষক, কৃষি কর্মকর্তা ও গবেষকেরা অংশ নেন।

    স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন (এলএসটিডি) প্রকল্পের অর্থায়নে স্থানীয় কৃষক অমর মোহন চাকমার এক একর জমিতে চলতি আমন মৌসুমে ব্রি ধান-১০৩ চাষ করা হয়। ফসল কর্তনের পর ফলন পরিমাপ করে প্রতি হেক্টরে ৬ দশমিক ৫৭ টন ধান উৎপাদনের তথ্য পাওয়া যায়।

    মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুক্তা চাকমা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রি খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক কার্যালয়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মীর ওবায়দুর রহমান শাওন।মীর ওবায়দুর রহমান শাওন বলেন, এ বছর প্রথমবারের মতো খাগড়াছড়িতে কৃষক পর্যায়ে প্রদর্শনী হিসেবে ব্রি ধান-১০৩ চাষ করা হয়েছে। প্রথম পরীক্ষাতেই ফলন আশানুরূপ হয়েছে। এ জাতের ধান সরু এবং গাছ তুলনামূলক লম্বা। তবে গাছ লম্বা হলেও সহজে নুয়ে পড়ে না। উপযুক্ত পরিচর্যা ও অনুকূল পরিবেশ পেলে প্রতি হেক্টরে ৬ দশমিক ৫৭ মেট্রিক টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। আমন মৌসুমে এ ফলন অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।

    তিনি আরও বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষকদের কাছে উচ্চফলনশীল এ জাতটি জনপ্রিয় করে তুলতে মাঠপর্যায়ে প্রদর্শনী ও ফলন মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।মুক্তা চাকমা বলেন, এ বছর খাগড়াছড়িতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমন মৌসুমে ধানের ফলন ভালো হয়েছে। প্রদর্শনী প্লটে ব্রি ধান-১০৩-এর ভালো ফলন পাওয়া গেছে। পাশাপাশি এ জাতের ধানে তুলনামূলকভাবে রোগবালাইয়ের আক্রমণও কম দেখা গেছে। এসব ইতিবাচক দিক বিবেচনায় আগামীতে খাগড়াছড়িতে জাতটির ব্যাপক সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।তিনি বলেন, এ জাতের ধানগাছ তুলনামূলক লম্বা হওয়ায় ধানের পাশাপাশি কৃষকেরা খড় থেকেও বাড়তি সুবিধা পাবেন। ফলে ধান ও খড়—দুই দিক থেকেই কৃষকের লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে ব্রি খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক কার্যালয় প্রযুক্তি গ্রামের ৫০ জন কৃষকের প্রায় ৫০ একর জমিতে আধুনিক উচ্চফলনশীল বিভিন্ন ধানের জাত ও প্রযুক্তির প্রায়োগিক পরীক্ষণ, মূল্যায়ন এবং গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

    এসব কার্যক্রমের আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে ধানের বীজ, সার, কীটনাশক, বালাইনাশক, বীজ সংরক্ষণের ড্রামসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পরিবেশ ও মাটির উপযোগী ধানের জাত নির্বাচন, আধুনিক চাষাবাদ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    কৃষি সংশ্লিষ্টদের আশা, ব্রি ধান-১০৩-এর এ সাফল্য খাগড়াছড়ির কৃষকদের মধ্যে নতুন আগ্রহ তৈরি করবে। জাতটির ফলন ও কৃষি-পরিবেশগত উপযোগিতা আরও যাচাই করে বৃহত্তর পরিসরে চাষাবাদ করা গেলে পাহাড়ি অঞ্চলে আমন ধানের উৎপাদন বৃদ্ধিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।