ট্যাগ ধর্ম

  • হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের নতুন বোর্ড গঠন

    হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের নতুন বোর্ড গঠন

    হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের নতুন ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। গত ২ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত আলাদা তিনটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই বোর্ডগুলো গঠন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী পদাধিকারবলে তিনটি ট্রাস্টেরই চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ডে নিপুণ রায় চৌধুরী ও সুবর্না সিকদারকে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং তপন চন্দ্র মজুমদারকে সদস্য ও ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়েছে।এ ছাড়া জয়দেব রায় জয়, দুলাল বিশ্বাস, বিপ্লব কুমার দে, রাজীব ধর তমালসহ ২০ জনকে সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

    খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ডে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন আন্না মিন্জ ও মাধবী মার্মা। বোর্ডে সদস্য ও ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন জন গমেজ। এ ছাড়া পিউস কস্তা, কুইনটেন রিবেরো ও রীতা রোজলীন কস্তাসহ সাতজনকে সদস্য মনোনীত করা হয়েছে।অন্যদিকে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাচিং প্রু ও দীপেন দেওয়ান এবং সদস্য ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়াকে মনোনীত করা হয়েছে। এ ছাড়া সুশীল চন্দ্র বড়ুয়া, মাসাথোয়াই মারমা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মংশৈহ্লা চৌধুরীসহ সাতজন এতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন। তিনটি ট্রাস্টেই ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব পদাধিকারবলে সদস্য হিসেবে থাকবেন।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পদাধিকারবলে নিযুক্ত ব্যক্তিরা ছাড়া মনোনীত ট্রাস্টিদের মেয়াদ প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে তিন বছর।তবে নতুন ট্রাস্টি মনোনয়ন না দেওয়া পর্যন্ত তারা দায়িত্বে বহাল থাকবেন। সরকার চাইলে যেকোনো সময় যেকোনো ট্রাস্টি পরিবর্তন বা পদ শূন্য ঘোষণা করতে পারবে।

    এর আগে ২০২৪ সালের শেষ দিকে গঠিত তিনটি ট্রাস্টের পূর্ববর্তী বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান ও মনোনীত সব সদস্যকে অব্যাহতি দিয়ে এই নতুন বোর্ডগুলো পুনর্গঠন করা হলো।

  • ৪৩৪১ হাজি ফেরত পাচ্ছেন প্রায় ৫ কোটি টাকা

    ৪৩৪১ হাজি ফেরত পাচ্ছেন প্রায় ৫ কোটি টাকা

    চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়া ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজিকে ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দিচ্ছে সরকার। বাড়িভাড়া ও সার্ভিস চার্জের খরচ কম হওয়ায় তাঁদের এই টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। একজন হাজি সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৯০ টাকা ফেরত পাবেন।

    আজ রোববার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। এই অনুষ্ঠানে ১০ জন হাজির হাতে রিফান্ডের চেক তুলে দেওয়া হয়। অন্য হাজিদের টাকা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে তাঁদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হজ প্যাকেজে সৌদি আরবে বাড়িভাড়ার জন্য নির্ধারিত বরাদ্দের চেয়ে কমে ভাড়া নেওয়া এবং সার্ভিস চার্জ কমানোয় এই অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে। সরকারি মাধ্যমের ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজি ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা সরাসরি তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত পাবেন। ২৩ জন হাজির চিকিৎসা ব্যয় তাঁদের স্বাস্থ্যবিমার চেয়ে বেশি হওয়ায় তাঁরা এই অর্থ ফেরত পাবেন না।

    ২০২৭ সালে হজের বিমানভাড়া আরও কমছে

    ধর্মমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় ২০২৬ সালের হজযাত্রীদের বিমানভাড়া আগের বছরের থেকে ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমানো হয়েছিল। ২০২৭ সালের হজের বিমানভাড়া আরও কমিয়ে মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রিফান্ড পাঠাতে হাজিদের ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের নম্বর বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পিন ও ওটিপির প্রয়োজন নেই। এসব চেয়ে কেউ ফোন করলে কেউ যাতে প্রতারিত না হন। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

  • আমাদের ধর্ম নিয়ে কথা বলার বিচারপতি কে?

    আমাদের ধর্ম নিয়ে কথা বলার বিচারপতি কে?

    ধর্ম আমাদের। আমরা বুঝব। আদালত কে, এই বিষয়ে কথা বলার। ’ হিজাব ইস্যুতে এলাহাবাদ হাইকোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের পালটা এমনটাই জানালেন মিম সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তার দাবি, ‘ধর্ম বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার হলে আমরা নেব। বিচারপতি কে?’ সাংসদের এহেন মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক শুরু হয়েছে।

    স্কুলের ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল এক স্কুলপড়ুয়া। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে উচ্চ আদালত। এলাহাবাদ হাইকোর্টে দুই বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, ‘হিজাব পরাটা ইসলাম ধর্মে বাধ্যতামূলক কোনও বিষয় নয়। স্রেফ ধর্ম পালনে স্বাধীনতার যুক্তি দেখিয়ে স্কুল ইউনিফর্মের গুরুত্বকে খাটো করা যায় না। ’ আদালতের এই নির্দেশ সামনে আসতেই মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। আদালতের রায়ের সমালোচনা করে ওয়েইসি বলেন, এটা আমাদের ধর্ম।

    আমাদের যা প্রয়োজন, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত আমরাই নেব। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিচারপতি কে? এটি আমাদের ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর সরাসরি আক্রমণ।

    ওয়েইসির মতে, এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশ সংবিধানের ১৯ (মত প্রকাশের স্বাধীনতা) এবং ২৫ (ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার) অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন। ধর্মীয় আচার পালনের বিষয়টি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। শবরীমালা মামলার বিষয়টি মাথায় রেখে হাইকোর্টের এই বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা উচিত ছিল।

    শুধু তাই নয়, আদালতের সিদ্ধান্ত মুসলিম মহিলাদের শিক্ষায় খারাপ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন ওয়েইসি। তিনি বলেন, স্কুল শিক্ষায় উত্তরপ্রদেশে মুসলিম মহিলাদের ভর্তির হার গোটা দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম। সেখানে এই ধরনের সিদ্ধান্ত খারাপ প্রভাব ফেলবে। সাংসদের কথায়, “মেয়েরা হিজাব মাথায় পরে, মনে নয়। সমতার অর্থ এই নয় যে সবার উপর একই নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া হবে। ”

    উল্লেখ্য, এলাহাবাদ হাইকোর্টে পড়ুয়ার আবেদন ছিল, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ওই স্কুলেই ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরত সে। তখন স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনও আপত্তি করেননি। কিন্তু একাদশ শ্রেণি থেকে শুরু হয় সমস্যা। তারপরেই ওই পড়ুয়া আদালতের দ্বারস্থ হয়। তার আবেদন, ধর্মপালনের স্বাধীনতা রয়েছে প্রত্যেক মানুষেরই।

    তাই ধর্মীয় বিশ্বাসের অঙ্গ হিসাবে হিজাব পরে স্কুলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। তবে আদালত স্পষ্ট জানায়, যে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শৃঙ্খলা এবং পোশাক বিধির অধিকার রয়েছে। কোনও শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে পোশাক বিধি পরিবর্তনের দাবি করতে পারে না। হাইকোর্ট জানায়, বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে হিজাব পরা যে ইসলামের একটি অপরিহার্য ধর্মীয় প্রথা, এমন কোনও ধর্মীয় প্রমাণ নেই।

  • ধর্মীয় অবমাননায় যুবক আটক

    ধর্মীয় অবমাননায় যুবক আটক

    কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও ধর্ম অবমাননার অভিযোগে রাকিবুল হাসান নামে যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে উপজেলার বাড়েরা ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।আটক রাকিবুল হাসান উপজেলার বাড়েরা ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের মৃত ময়নাল হোসেনের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাকিবুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে ইসলাম ধর্ম, হিন্দু ধর্মসহ বিভিন্ন ধর্ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তিমূলক পোস্ট করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    অভিযোগে আরও বলা হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভিন্ন ছবি সম্পাদনার মাধ্যমে তিনি পবিত্র মক্কা নগরীর কাবা শরিফের সামনে হিন্দু ধর্মীয় সাধক লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ছবি সংযোজন করে ফেসবুকে প্রকাশ করেন। ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

    পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে চান্দিনা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

    এ বিষয়ে চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, “ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

  • মসজিদের দানবাক্সে স্বর্ণের চামচসহ পৌনে ১৩ লাখ টাকা

    মসজিদের দানবাক্সে স্বর্ণের চামচসহ পৌনে ১৩ লাখ টাকা

    নওগাঁর মান্দা উপজেলার ঐতিহাসিক কুসুম্বা শাহি মসজিদের দানবাক্স খুলে এবার ১২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা ১১টায় স্থানীয় প্রশাসন ও মসজিদ কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে এ দানবাক্স খোলা হয়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঐতিহাসিক ও দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় জমান। ৫ টাকার নোটে মুদ্রিত এ ঐতিহ্যবাহী মসজিদে এসে অনেকেই নিজেদের মানত ও দান করে থাকেন।

    নিয়ম অনুযায়ী প্রতি তিন মাস পরপর এ দানবাক্স খোলা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দানবাক্স খোলার পর শুরু হয় টাকা গণনার কাজ।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন মান্দা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, মসজিদের ইমাম, খাদেম এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    এবার দানবাক্সে জমানো টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪৪ টাকা। নগদ টাকার পাশাপাশি মানত করা বিভিন্ন স্বর্ণের গহনা, একটি স্বর্ণের চামচসহ ভারত ও মালয়েশিয়ার মুদ্রাও পাওয়া গেছে।

    মসজিদ কমিটির সভাপতি ও মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা আঞ্জুমান বানু জানান, দানবাক্স থেকে প্রাপ্ত অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার স্বচ্ছতার সঙ্গে হিসাব করে মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ, উন্নয়নমূলক কাজ এবং ধর্মীয় কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে। ঐতিহাসিক এ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ঐতিহ্য ধরে রাখতে স্থানীয় প্রশাসন সবসময় তৎপর রয়েছে।

  • অমুসলিম রাষ্ট্রে নিষিদ্ধ হলো ইসরাইলি পণ্য

    অমুসলিম রাষ্ট্রে নিষিদ্ধ হলো ইসরাইলি পণ্য

    আয়ারল্যান্ডের পার্লামেন্ট ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমের অবৈধ ইহুদি বসতি এলাকায় উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার একটি বিল অনুমোদন করেছে। টাইমস অব ইসরাইলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

    এই বিল পাসের মাধ্যমে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইসরাইলের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোর বিষয়ে কঠোর বাণিজ্যিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল ডাবলিন। বিলটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আয়ারল্যান্ডের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে পাঠানো হবে।

    ‘ইসরাইলি বসতি’ শীর্ষক এই বিলের আওতায় ইসরাইলের স্বীকৃত সীমানার বাইরের আবাসিক, কৃষি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে উৎপাদিত পণ্য আয়ারল্যান্ডে প্রবেশ করতে পারবে না। আয়ারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম দেশ হিসেবে এমন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করলেও গত অক্টোবরে স্পেন এ ধরনের আমদানি বিধিনিষেধের একটি প্যাকেজ বাস্তবায়ন করেছে।

    অর্থনৈতিক দিক থেকে আয়ারল্যান্ডের এই আমদানি নিষেধাজ্ঞা মূলত প্রতীকী এবং এর প্রভাব খুবই সামান্য। কারণ, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ওই সব অঞ্চল থেকে আয়ারল্যান্ডে আমদানিকৃত ফল, শাকসবজি ও কাঠের মতো পণ্যের মোট বাণিজ্য মূল্য এক মিলিয়ন ইউরোর (১১ লাখ ডলার) চেয়েও কম ছিল।

    তবে ডাবলিনের বিরোধী রাজনীতিকরা বিলটির সমালোচনা করে বলেছেন, এতে সেবাক্ষেত্রের বাণিজ্যকে অন্তর্ভুক্ত না করে শুধু পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় এটি যথেষ্ট কার্যকর হবে না। এর জবাবে সরকার যুক্তি দিয়েছে যে, সেবাক্ষেত্রে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আইনি দিক থেকে পণ্যের চেয়ে বেশি জটিল, তাই আইনটি কার্যকর করার আগে এটিকে পুরোপুরি নিশ্ছিদ্র করা প্রয়োজন।

    ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলার পর গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের অন্যতম কট্টর সমালোচক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে আয়ারল্যান্ড। ২০২৪ সালে তারা একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। এর পরপরই ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার আয়ারল্যান্ডের ‘চরম ইসরাইলিবিরোধী নীতির’ অভিযোগ তুলে ডাবলিনে ইসরাইলের দূতাবাস বন্ধের নির্দেশ দেন।

  • কলকাতায় ১৩৬ বছরের মসজিদ সরানো হচ্ছে

    কলকাতায় ১৩৬ বছরের মসজিদ সরানো হচ্ছে

    কলকাতা বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ের পাশে অবস্থান করা শতাব্দী প্রাচীন গৌরীপুর মসজিদ স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া। মসজিদ কমিটি, এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সর্বজনমতের ভিত্তিতে একটি বিশেষ পরিদর্শক দল ও নিরাপত্তা কমিটির বৈঠকের পর এই পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

    মনে করা হচ্ছে শনিবার (১১ জুলাই) থেকেই এই মসজিদ স্থানান্তরের কাজ শুরু হতে পারে। কারণ বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করে শনিবার থেকেই মসজিদটিতে নামাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। এর আগে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন সময় মসজিদ ভাঙচুরের ঘটনা সামনে এসেছে। তবে গৌরীপুর মসজিদ স্থানান্তরের বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন।

    ১৩৬ বছরের পুরোনো গৌরীপুর জামে মসজিদ যা অনেকের কাছে ‘বাঁকড়া মসজিদ’ নামেও পরিচিত। এই ঐতিহাসিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বর্তমানে কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা হয়। এর কারণ মসজিদটির অবস্থান।

    কলকাতা বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ের একেবারে গা ঘেঁষে থাকায় প্রবল বর্ষণ বা ঘন কুয়াশায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার সময় পাইলটের পক্ষে রানওয়ে থেকে সামান্য দূরত্বে এই মসজিদ ভিজ্যুয়াল ইলিউশন তৈরি করে। এতে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কড়া কিছু সেফটি নর্মস বা সুরক্ষাবিধি রয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র বলছে, বাঁকড়া মসজিদটি বিমানবন্দরের সেকেন্ডারি বা সহকারী রানওয়ে থেকে মাত্র ১৬৫ মিটার দূরত্বে অবস্থিত। অথচ আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল সুরক্ষাবিধি স্পষ্ট বলছে, রানওয়ে থেকে যে কোনো কাঠামোর ন্যূনতম দূরত্ব অন্তত ২৪০ মিটার হওয়া বাধ্যতামূলক। স্বাভাবিকভাবেই এই আন্তর্জাতিক নিয়মের চেয়ে বেশ কিছুটা কম দূরত্বে রয়েছে মসজিদটি।

    সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রানওয়ের এত কাছাকাছি এই কাঠামোটি থাকার কারণে সেখানে আধুনিক ‘ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম’ (আইএলএস) বসানো যাচ্ছিল না। আর এর ফলেই বিমানবন্দরের উড়ান পরিচালনার সামগ্রিক ক্ষমতা অনেকটাই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

    বর্তমান এই কাঠামোগত বিন্যাসের কারণে আরেকটি বড় সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। মসজিদটির অবস্থানের দরুন সেকেন্ডারি রানওয়ের ‘টাচডাউন পয়েন্ট’ বা বিমান ছোঁয়ার নির্দিষ্ট স্থানটিকে বাধ্য হয়ে কিছুটা এগিয়ে এনে ছোট করতে হয়েছিল। আর রানওয়ের এই সীমাবদ্ধতার কারণে বড় বিমানগুলো এই রানওয়েটি ব্যবহার করতে পারছিল না। মসজিদটি অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে গেলে এই সমস্ত বাধা-বিপত্তি এক ঝটকায় দূর হয়ে যাবে। সেই সঙ্গে পরিকাঠামোগত আধুনিকীকরণের রাস্তা সাফ হওয়ায় বিমান চলাচল ব্যবস্থাও অনেক উন্নত হবে।

    কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছে, চলতি হজের মৌসুম শেষ হওয়ার পরেই ২০১৩ সালের আগে কলকাতা বিমানবন্দর যে পুরোনো টার্মিনাল ভবনটি ব্যবহার করত, সেটিও এবার ভেঙে ফেলা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরোনো টার্মিনাল ভবনটি ভেঙে ফেলার পর নতুন টার্মিনাল তৈরি এবং মসজিদ স্থানান্তরের পর দ্বিতীয় রানওয়ে পুরোদমে চালু করা গেলে কলকাতা বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী পরিবহন করার ক্ষমতা এক ধাক্কায় বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৪ কোটি (৪০ মিলিয়ন)।

    এই মসজিদের কারণে বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজও থমকে আছে প্রায় ৩০ বছর। সূত্র বলছে, ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই মসজিদ স্থানান্তরের বিষয়টি বারবার আলোচনায় উঠে এসেছে। কিন্তু কখনও স্থানীয় বাধা, কখনও পূর্বতন বাম ও তৃণমূল সরকারের ঢিলেমিতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার পায়নি।

    তবে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হওয়ায় ফের মসজিদ সরানো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু ঈদের নামাজ ওই মসজিদে পড়েন বহু মানুষ। তাদের ভাবাবেগকেও প্রাধান্য দিতে চেয়েছিল রাজ্য সরকার এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। ঠিক হয়েছিল, ঈদের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। মনে করা হচ্ছে শনিবার থেকেই এই স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে স্থানীয় স্তরে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে এমন আশঙ্কায় গোটা বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয় রাখা হয়েছে। ব্যাপক নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা এলাকা।

    মসজিদ কমিটির তরফে আগেই এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা চাই না আমাদের কারণে বিমানবন্দরের কোনো ক্ষতি হোক বা সুরক্ষায় বিঘ্ন ঘটুক। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আমাদের বিমানবন্দরের বাইরে আরও বড় একটি মসজিদ তৈরি করে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে স্থানান্তর করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার মতো অবস্থায় আমরা এই মুহূর্তে নেই।’

    স্থানীয় বিধায়ক সৌরভ শিকদার বলেন ‘যারা নামাজ পড়তে যান তাদের কোনো পাশ ইস্যু করা হয় না। শুধুমাত্র আধার কার্ড জমা রেখে তাদের রানওযের পাশে থাকা ওই মসজিদে নিয়ে যাওয়া হয়। আপনারা জানেন আগের সরকারের আমলে কত জাল আধার কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। নিরাপত্তার একটা সংকট তৈরি হয়। একইসঙ্গে যারা নামাজ পড়তে যান তাদের জন্য সিআইএসএফ জওয়ান মোতায়েন রাখতে হয়। একটা বাস সবসময় যাতায়াতের জন্য রাখতে হয়। মসজিদটির জন্য রানওয়ে সম্প্রসারণ করা যাচ্ছে না। এজন্য বড় বিমান আসতে পারে না। বিমানবন্দরের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। কর্মসংস্থান হচ্ছে না। এক কথায় বিমানবন্দরের উন্নয়ন কিছুই হচ্ছে না। আবার নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে। আমরা মসজিদ কমিটিকে বলেছি রানওয়ের বাইরে এয়ারপোর্ট অথরিটির অন্য জমি আপনারা চিহ্নিত করুন, আমরা দিয়ে দেবো।’

    ১৯২৪ সালে চালু হয় কলকাতা বিমানবন্দর। জমিটি প্রাচীন ওয়াকফ সম্পত্তি। পরে ১৯৬২ সালে বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য জমিটি অধিগ্রহণ করে এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া। তখন মসজিদের পাশেই ছিল যশোর রোড। বিমানবন্দরের জন্য যশোর রোড ঘুরিয়ে দেয়া হয়। মসজিদটি থেকে যায় বিমানবন্দরের পাঁচিলের ভেতর, রানওয়ের পাশেই।

    ১৯৬২ সালের জমি অধিগ্রহণের অন্যতম শর্ত হিসেবে গৌরীপুর কালীমন্দিরের (যশোহর রোডের ওপর) বিপরীতে একটি ছোট্ট লোহার গেট করা আছে। তার ওপর রয়েছে সিআইএসএফের ওয়াচ টাওয়ার। গেটের কলিং বেল বাজালে নামাজ পাঠ করতে ইচ্ছুক মানুষের জন্য গেট খোলা হয়। তাদের আধার কার্ড যাচাইয়ের পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের বিশেষ বাসে করে মসজিদ পর্যন্ত নিয়ে যান। দৈনিক তিনটি শিফটে এরকম ৪টি করে বাসের ব্যবস্থা থাকে। এই বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়া সাধারণ মানুষের পক্ষে ওই মসজিদ পর্যন্ত যাওয়া কার্যত অসম্ভব।

    শনিবার সালামপুরের কারণে যদি মসজিদটি ভাঙার কাজ শুরু হয় বাইরের জগতের মানুষ সেটা ঘুণাক্ষরেও টের পাবেন না। কারণ ভাঙার যন্ত্রপাতি বিমানবন্দরের নিজস্ব। সেগুলো পুরাতন টার্মিনাস কার্গো বিভাগ থেকে সরাসরি রানওয়ে হয়ে মসজিদ পর্যন্ত যাতায়াত করবে। যশোহর রোড থেকে মসজিদের দূরত্ব কমবেশি প্রায় ৩ কিলোমিটার।

  • কবরের আযাব থেকে বাঁচার আমল

    কবরের আযাব থেকে বাঁচার আমল

    ইসলামে কবরই আখিরাতের প্রথম ধাপ। সেখানে মানুষের আমল অনুযায়ী শান্তি বা আযাব নির্ধারিত হবে।

    পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন,

    “তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, মৃত্যু তোমাদের পাকড়াও করবেই, যদিও তোমরা সুউচ্চ ও সুদৃঢ় দুর্গে অবস্থান করো।”

    — সূরা নিসা, আয়াত: ৭৮

    হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত দাজ্জালের ফিতনা ও কবরের আযাব থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। তিনি উম্মতকেও এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

    তবে কবরের আযাব থেকে মুক্তির একটি বিশেষ আমলের কথাও হাদিসে এসেছে। ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, এক সাহাবি অজান্তে একটি কবরের ওপর তাঁবু স্থাপন করেছিলেন। পরে তিনি শুনতে পান, কবরের ভেতর থেকে একজন ব্যক্তি সম্পূর্ণ সূরা মুলক তিলাওয়াত করছেন।

    ঘটনাটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জানানো হলে তিনি বলেন, “এটি প্রতিরোধক, এটি মুক্তিদায়ক। এটি কবরের আযাব থেকে মুক্তি দেয়।”

    — সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৮৯০

    অন্য এক হাদিসে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, কুরআনের ৩০ আয়াতবিশিষ্ট একটি সূরা রয়েছে, যা পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে এবং তাকে ক্ষমা করিয়ে দেবে। সেই সূরাটি হলো সূরা মুলক।

    “তাবারাকাল্লাযি বিইয়াদিহিল মুলক”

    — সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৮৯১; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৪০০

    আলেমদের মতে, প্রতিদিন রাতে সূরা মুলক তিলাওয়াত করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। এটি শুধু কবরের আযাব থেকে মুক্তির আশাই জাগায় না, বরং আখিরাতের সফলতার পথও সুগম করে।

  • কাবা শরিফ কেন মক্কা উপত্যকার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত?

    কাবা শরিফ কেন মক্কা উপত্যকার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত?

    পবিত্র কাবা শরিফ শুধু মুসলিম উম্মাহর কিবলাই নয়, এটি পৃথিবীর অন্যতম বিস্ময়কর ও ঐতিহাসিক স্থাপনাও। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে— কেন কাবা শরিফ ঠিক মক্কা উপত্যকার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত? এর পেছনে কি শুধু ধর্মীয় কারণ, নাকি বিশেষ কোনো ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক তাৎপর্যও রয়েছে?ইতিহাস বলছে, হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সময়কাল থেকেই এই স্থানটি পবিত্র কাবার জন্য নির্ধারিত ছিল। আর পাহাড়বেষ্টিত এই অনন্য ভৌগোলিক অবস্থানই পরবর্তীতে মক্কা নগরীর বিকাশ ও এর বৈশিষ্ট্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।সৌদি প্রেস এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভৌগোলিক কাঠামোর দিক থেকে মক্কা ছিল মূলত জাবাল আল-সারওয়াত পর্বতমালার অন্তর্গত ইবরাহিম উপত্যকার মধ্য দিয়ে চলে যাওয়া একটি সংকীর্ণ পথ। পবিত্র মসজিদ আল হারাম এই অঞ্চলের সুউচ্চ পাহাড়গুলো দ্বারা বেষ্টিত হলেও এর মূল অবস্থান নিচু ও সমতল ভূমিতে অবস্থিত।

    এই পবিত্র মসজিদকে ঘিরে রয়েছে বহু ঐতিহাসিক পাহাড়, যা ইসলামের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। এর পূর্বদিকে রয়েছে জাবাল আবু কুবাইস এবং পশ্চিমদিকে জাবাল কুইকাইন, জাবাল নূর ও জাবাল সওর অবস্থিত।

    ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মক্কা অঞ্চলটি ‘আরব শিল্ড’ বা আরবীয় ঢালের অংশ। এখানকার ভূমির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো অত্যন্ত প্রাচীন আগ্নেয় শিলা ও গ্রানাইট পাথরের গঠন, যা এই অঞ্চলের ভূপ্রকৃতিকে দিয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

    এছাড়া এনসাইক্লোপিডিয়া অব সৌদি অ্যারাবিয়ার তথ্যমতে, এই উপত্যকার প্রাকৃতিক গঠন প্রাচীন যুগে আরব উপদ্বীপজুড়ে চলাচলকারী বাণিজ্য কাফেলাগুলোর জন্য একটি সহজ ও স্বাভাবিক পথ তৈরি করেছিল। ফলে মক্কা ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবেও পরিচিতি লাভ করে।বিশেষজ্ঞদের মতে, আধ্যাত্মিক মর্যাদা, ভৌগোলিক সুবিধা এবং বাণিজ্যিক গুরুত্ব— এই তিনটির অনন্য সমন্বয়ের কারণেই যুগ যুগ ধরে মক্কা সারা বিশ্বের মুসলমানদের হৃদয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আর সেই কেন্দ্রেই আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে পবিত্র কাবা শরিফ— যা ঐক্য, ইবাদত ও আত্মসমর্পণের চিরন্তন প্রতীক।

  • বন্দরে সরস্বতীপূজা উপলক্ষে শিক্ষাসামগ্রী ও শীতবস্ত্র বিতরণ

    বন্দরে সরস্বতীপূজা উপলক্ষে শিক্ষাসামগ্রী ও শীতবস্ত্র বিতরণ

    সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জ বন্দরেও মঙ্গল যজ্ঞ, আরতি ও পুষ্পাঞ্জলির মধ্য দিয়ে পূজিত হলেন জ্ঞানের দেবী সরস্বতী। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে বন্দরের ৩৫নং এস.এস শাহ রোড এলাকায় পুরোহিতের মন্ত্রপাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। দেবীর কাছে আশীর্বাদ কামনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় মূল পূজা। পূজা শেষে অনেক মণ্ডপে খুদে শিক্ষার্থীদের হাতেখড়ি দেয়া হয়। পরে বিতরণ করা হয় প্রসাদ।

    বন্দরে ঐতিহ্যবাহী একতা সংঘের (প্রাক্তন বালক সমিতি) উদ্যোগে প্রায় ৪৫ বছর ধরে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে এবারের পূজায় তারা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাসামগ্রী ও নারীদের মাঝে আলতা-সিঁদুর ছাড়াও শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র (চাদর) বিতরণ করা হয়।

    মহানগর মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও মহানগর পূজা ফ্রন্টের সদস্য সচিব শ্রী ঋষিকেশ মন্ডল মিঠুর সভাপতিত্বে এ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খানের একমাত্র কন্যা সিদরাতুল মুনতাহা ইহন খান।

    ইহন খান তার বক্তব্যে সম্প্রতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে বলেন, “সরস্বতী দেবী হলো জ্ঞান ও শিক্ষার প্রতীক। আমরা আমাদের জীবনে তিনটি বিষয় অনুসরণ করবো—জ্ঞান অর্জন করবো আলোকিত ভবিষ্যতের জন্য, শিক্ষা গ্রহণ করবো জাতির অগ্রগতির জন্য আর নিজেকে তৈরি করবো আদর্শ মানুষ হিসেবে। আমি এখানে উপস্থিত সকল শিশু ও সকলের জন্য শুভ কামনা জানাই। আসলেই এ অনুষ্ঠানটি আমার জীবনে স্বরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা সকল ধর্মের মানুষ একসাথে মিলেমিশে শান্তি ও সম্প্রীতির সাথে বসবাস করি, এটাই বাংলাদেশে সব চাইতে সুন্দর বৈশিষ্ঠ্য। এ অনুষ্ঠানটি এত সুন্দর করে আয়োজন করার জন্য ঋষিকেশ মন্ডল মিঠু চাচ্চুকে অসংখ্য ধন্যবাদ।”

    সভাপতির বক্তব্যে মিঠু বলেন, “আজকে আমার মনটা ভীষণ আনন্দিত। না, শুধু পূজার জন্যই নয়। আজ আমার মনটা বেশি আনন্দিত কারণ, আমাদের মাঝে আমার প্রাণপ্রিয় নেতা জাকির খানের একমাত্র কন্যা ইহন এসেছে। ইহন এ প্রথমবারের মত কোন অনুষ্ঠানে এসে হাজির হয়েছে এবং সেই অনুষ্ঠানের আয়োজন আমি নিজে করেছি। যাইহোক, ইহন খানের জন্য আশিবাদ করি এখান থেকেই যেন ওনার এগিয়ে যাওয়া শুরু হয়। সবশেষ আমার নেতা জাকির খানের সুস্বাস্থ্য ও আমাদের মা ইহন খান যেন তার পরিবারকে আরও ঐতিহ্যময় করে তোলতে পারে, এজন্য আমি সকলের কাছে দোয়া-আর্শিবাদ কামনা করছি।”

    জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক রাকিব হাসান রাজের সঞ্চালনায় এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সদর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক লিংকন খান, সদর থানা জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক সনেট আহমেদ, জেলা কৃষক দলের সহ সভাপতি শেখ সালেহ আহমেদ (রনি), জুয়েল, একতা সংঘের পূজা কমিটির সঞ্জয় মন্ডল, হৃদয় বনিক, পুসান্ত বর্মন, অমিত মোদক, জয় দাস, লিখন সরকার, সিমান্ত, পোলক, পার্থ, নীরব, নিলয়, ইয়ান্ত, প্রনান্ত, প্রীতম, রণবীর, প্রণয় প্রমুখ।