ট্যাগ দিনাজপুর

  • দিনাজপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কয়েদীর মৃত্যু

    দিনাজপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কয়েদীর মৃত্যু

    দিনাজপুর জেলা কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সেকেন্দার শাহী (৫৮) নামে এক কয়েদীর মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় দিনাজপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. মাইন উদ্দিন ভূঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    এর আগে সকাল ১০টায় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় দিনাজপুর জেলা কারাগারে অসুস্থ্য হলে তাকে তাৎক্ষণিক তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    সেকেন্দার শাহী জেলার হাকিমপুর উপজেলার মধ্য বাসুদেবপুর গ্রামের সামসুল হুদার ছেলে। তিনি চেক চালিয়াতি মামলায় তিন মাসের বিনাশ্রম দন্ডপ্রাপ্ত কয়েদী ছিলেন। তিনি ২৫ আগস্ট কারাগারে আসেন।

    জেল সুপার জানান, কয়েদি সেকেন্দার শাহী বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় কারাগারে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। তাকে দ্রুত দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সকাল ১০টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বিকেলে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ মর্গে ময়না তদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • ছিনতাইকারীদের ব্যাগ টানাহেঁচড়ার সময় রিকশা থেকে পড়ে আহত নারীর হাসপাতালে মৃত্যু

    ছিনতাইকারীদের ব্যাগ টানাহেঁচড়ার সময় রিকশা থেকে পড়ে আহত নারীর হাসপাতালে মৃত্যু

    বাস থেকে নেমে রিকশায় চড়ে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন সোহেলি ইসলাম (৪২)। পাশ দিয়ে একটি মোটরসাইকেলে মাথায় হেলমেট পরা দুই ছিনতাইকারী যাচ্ছিল। মোটরসাইকেলের পেছনে বসা ব্যক্তি আচমকা সোহেলির হাতে প্যাঁচানো ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে টানাহেঁচড়া শুরু করে। একপর্যায়ে চলন্ত রিকশা থেকে পড়ে যান সোহেলি। এতে ভেঙে যায় ডান হাত, মাথার পেছনে গুরুতর আঘাত পান। কান দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করে। এরপর স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় মাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন মেয়ে।

    গত রোববার সকাল সোয়া ছয়টায় ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে। চার দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

    সোহেলির বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার সাহেবপাড়া এলাকায়। তিনি এসকেএফ ওষুধ কোম্পানিতে মেডিক্যাল সার্ভিস অফিসার পদে চাকরি করতেন। ঢাকার ধানমন্ডির গ্রীন রোড–সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। গতকাল সকালে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। বিকেলে নানাবাড়ি পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পশ্চিম টেংরী এলাকায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। সোহেলির মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন একমাত্র মেয়ে সুমাইয়া আলম। তিনি বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে স্নাতকের শিক্ষার্থী।

    সোহেলির মামা সারওয়ার পারভেজ বলেন, কয়েক দিন আগে পার্বতীপুরে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মেয়েসহ এসেছিলেন সোহেলি। অনুষ্ঠান শেষে গত শনিবার (৬ জুন) রাত ৯টার বাসে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। রোববার ভোর পাঁচটায় গাবতলী এলাকায় নেমে কাউন্টারে অপেক্ষা করছিলেন। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর রিকশা নিয়ে বাসার উদ্দেশে রওনা হন। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গেট পার হয়ে ছিনতাইকারীর আক্রমণের শিকার হন।

    সারওয়ার পারভেজ আরও বলেন, প্রায় দেড় দশক আগে সোহেলির বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এর পর থেকেই তাঁর সংগ্রামী জীবনের শুরু। বছর দুয়েক আগে তাঁর বাবা মারা যান। এর দুই মাস পর মায়েরও মৃত্যু হয়। একমাত্র মেয়েটিকে একা করে এবার চলে গেলেন তিনি।

    সোহেলির বোনের স্বামী তরিকুল ইসলাম বলেন, রিকশা থেকে পড়ে গিয়ে সোহেলির মাথার পেছনের অংশ ফেটে যায়। প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। অনেকের কাছে সাহায্য চেয়েছেন। প্রথমে কেউ এগিয়ে আসছিলেন না। পরে রিকশাচালকসহ একজনের সহায়তায় সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। কথা বলতে পারছিলেন না, শুধু গোঙাচ্ছিলেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা করা হয়নি। পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।