দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক

  • দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক পরিবর্তনে ১৭ কোটি টাকা অপচয়

    দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক পরিবর্তনে ১৭ কোটি টাকা অপচয়

    ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পাঠ্যবইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ ব্যবহারের ভুল সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ইতিমধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো ২০ থেকে ৩০ লাখ বই ফেরত এনে দাঁড়িপাল্লার পরিবর্তে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি যুক্ত করে পুনর্মুদ্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১৭ কোটি টাকা অপচয় হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিটি পাঠ্যবই ছাপাতে খরচ হয় ৫৭ টাকা।

    সম্পূর্ণ একটি বইয়ের একটি মাত্র দাড়িপাল্লা পতিক পরিবর্তন আনা আনছে এনসিটিবি। তবে প্রাথমিকের বাংলা বইয়ে নৌকার ছড়াছড়ি সেখানে অন্য একটি বইয়ে রয়েছে ধানের শীষ । সেখানে পরিবর্তন আনা হবেকিনা স্পষ্ট করেনি এনসিটিবি।

    গত বৃহস্পতিবার রাতে ৬ষ্ঠ শ্রেণির বইটির মুদ্রণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরদিন শুক্রবার অনুষ্ঠিত এক অনলাইন সভায় বইগুলো ফিরিয়ে এনে সংশোধনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সংশোধিত এই পাঠ্যবইগুলো মাঠপর্যায়ে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এনসিটিবি।

    ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ অধ্যায়ে জ্ঞানের পিরামিডের চারটি স্তর—উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম স্তরে বৃত্তাকার প্রতীক, দ্বিতীয় স্তরে পরমাণু বা নেটওয়ার্কসদৃশ চিত্র, তৃতীয় স্তরে মস্তিষ্ক এবং সর্বোচ্চ স্তর প্রজ্ঞায় দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করা হয়। জানা গেছে, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে বইয়ে দাঁড়িপাল্লার ছবিটি থাকলেও ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের সংস্করণে তা বদলে মস্তিষ্কের ছবি যুক্ত করা হয়েছিল। তবে ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের নতুন নকশায় পুনরায় পুরোনো ছবিটি ফিরে আসে। এনসিটিবির দাবি, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের বইয়ের পুরোনো নকশাটি ভুলবশত আবার যুক্ত হয়েছে।

    পাঠ্যপুস্তকে একটি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধিত নির্বাচনি প্রতীক ব্যবহারের ঘটনায় বই প্রণয়নপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষাবিদদের মতে, এটিকে নিছক ভুল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পাঠ্যপুস্তকে এ ধরনের প্রতীকের ব্যবহার শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো বিশেষ আদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা হতে পারে, যা শিক্ষার বস্তুনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করে। তাই প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনে তারা একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।এনসিটিবি সূত্রে জানা যায়, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইটি প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানোর পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে প্রায় ২০ থেকে ৩০ লাখ বইয়ের মুদ্রণকাজ শেষ হয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। সব শ্রেণি মিলিয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য মোট প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানো হচ্ছে।এনসিটিবির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বইগুলো ফেরত এনে সংশোধন ও পুনর্মুদ্রণ করার ফলে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। অথচ চলতি বছরের মধ্যেই মাঠপর্যায়ের সব শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে দেওয়ার সরকারি অঙ্গীকার রয়েছে। এখন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশোধিত বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়াই এনসিটিবির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।