তুরস্ক

  • তুরস্কে ১৫ বছরের কম বয়সিদের সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ

    তুরস্কে ১৫ বছরের কম বয়সিদের সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ

    ১৫ বছরের কম বয়সি শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তুরস্ক। গত শনিবার দেশটির সরকার এ-সংক্রান্ত আইন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে আইনটি কার্যকর হবে। বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সসীমা কঠোর করার উদ্যোগের মধ্যে নতুন এই পদক্ষেপ নিল তুরস্ক।

    গত এপ্রিলে তুরস্কের পার্লামেন্টে বিলটি পাস হয়। নতুন আইন অনুযায়ী, ১৫ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশ বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। এর মধ্যে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থাও রাখতে হবে। আইনের সপ্তম ধারায় বলা হয়েছে, সরকার-প্রদত্ত একটি ‘টোকেন’ ব্যবহার করে বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু করা হবে।

    আইনে ১৫ বছরের বেশি বয়সি কিশোর-কিশোরীদের জন্যও বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। তাদের এমন কোনো সেবা দেওয়া যাবে না, যা আসক্তি তৈরি করতে পারে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের নজির তুরস্কে আগেও রয়েছে। দেশটির সরকার বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যম ও অধিকারকর্মীদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে। কখনো কখনো পুরো প্ল্যাটফর্মে প্রবেশও বন্ধ করা হয়েছে।

    ২০২৪ সালে হামাসের নেতা ইসমাইল হানিয়ার মৃত্যুর পর তাকে স্মরণ করে দেওয়া পোস্ট সেন্সর করার অভিযোগে মেটার মালিকানাধীন ইনস্টাগ্রাম এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ করে দিয়েছিল আঙ্কারা। গত সপ্তাহেও আদালতের ‘এলজিবিটি প্রচারণা’সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে একটি সংবাদ ওয়েবসাইট ও তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয় তুরস্কের কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় মানবাধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন ক্ষোভ প্রকাশ করে।

    যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ফ্রিডম হাউসের ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে তুরস্কের ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে ‘মুক্ত নয়’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

    শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সসীমা কঠোর করার ক্ষেত্রে তুরস্ক একা নয়। অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ এ ধরনের বিধিনিষেধ চালু করেছে বা তা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে।

    গত সেপ্টেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) শিশুদের বয়স ১৫ বছর না হওয়া পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের জন্য একটি আইনি প্রস্তাব উপস্থাপন করে। বিষয়টি নিয়ে ইইউর নেতাদের কয়েক মাসের চাপের পর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, গ্রিস ও স্পেনও শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সীমা টানতে জাতীয় আইন প্রণয়নের উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে। যুক্তরাজ্য আগামী বছর এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা চালু করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কানাডাও ১৬ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের একটি বিল উপস্থাপন করেছে।

    সূত্র: পলিটিকো ইইউ

  • কপ সম্মেলনে যোগ দিতে নভেম্বরে তুরস্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

    কপ সম্মেলনে যোগ দিতে নভেম্বরে তুরস্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

    আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপে যোগ দিতে আগামী নভেম্বরে তুরস্ক সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ২৩তম বিশেষ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের সাইডলাইনে তুরস্কের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়ার সঙ্গে বৈঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।


    বৃহস্পতিবারের ওই বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা আঞ্চলিক বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তারা।


    দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করে উভয় পক্ষ। একই সঙ্গে বিস্তৃত পরিসরে দুই দেশের সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানো এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার বিষয়ে অভিন্ন আগ্রহের কথা জানান তারা।


    কূটনৈতিক সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের কপ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। এবারের সম্মেলনেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।


    আঙ্কারার একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, গত জুনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের ঢাকা সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তুরস্ক সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়। ওদিকে সম্মেলনের ফাঁকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রধানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের আলোচনা চলছে। এক্ষেত্রে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সঙ্গেও তারেক রহমানের বৈঠক হতে পারে বলে জানিয়েছে কূটনৈতিক সূত্র।

    বৈঠক হলে সেখানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।


    প্রসঙ্গত, আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়া শহরে কপ-৩১ অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানসহ জলবায়ু সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

  • কনটেইনারে লুকিয়ে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প!

    কনটেইনারে লুকিয়ে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প!

    গত ৮ জুলাই তুরস্কের আংকারায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠেন। কিন্তু পরে তাকে ক্যাটারিং কনটেইনারের ভেতরে করে ছোট একটি সি-৩২এ উড়োজাহাজে তুলে নেওয়া হয়।

    ওই ছোট উড়োজাহাজটি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে তুরস্ক থেকে তাকে নিয়ে ব্রিটেনে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে এসব তথ্য জানান।

    কয়েকটি মার্কিন গণমাধ্যম জানায়, ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে কাতার থেকে পাওয়া নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানে করে আংকারায় গিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু প্রাণনাশের হুমকির কারণে ছোট একটি সামরিক পরিবহন বিমানে করে তুরস্ক ছাড়েন তিনি।

    মূলত ইরানি সমর্থক গোষ্ঠীর হুমকির কারণেই শেষ মুহূর্তে তাকে উড়োজাহাজ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। আংকারা থেকে ফেরা সেই পুরোনো উড়োজাহাজে থাকা সাংবাদিকদের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

    ওয়াশিংটন পোস্টের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাম্প উড়োজাহাজে ওঠার ঠিক কয়েক মিনিট পর পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ান থেকে একটি ক্যাটারিং ট্রাক নামানো হচ্ছে। ট্রাকটি সেখান থেকে দূরে থাকা ছোট সি-৩২এ উড়োজাহাজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

    উড়োজাহাজ দুটি যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাম্প বড় উড়োজাহাজ থেকে নেমে নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানের দিকে যাচ্ছেন। তবে তিনি কীভাবে পুনরায় বড় উড়োজাহাজে ফিরে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানের মতো এই নতুন উড়োজাহাজে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা, এমনকি ‘ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা’ও নেই।

    তবে হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশন ডিরেক্টর স্টিভেন চুং নতুন উড়োজাহাজের নিরাপত্তার সপক্ষে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান একটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তির উড়োজাহাজ। এটি উচ্চমানের নিরাপত্তাব্যবস্থায় সজ্জিত, যা প্রেসিডেন্ট ও তার কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।