ট্যাগ তারেক রহমান

  • সরকারি টাকা নষ্ট হবে, তাই প্রধানমন্ত্রী মোটা ও সাদা কাপড় পরেন: চিফ হুইপ

    সরকারি টাকা নষ্ট হবে, তাই প্রধানমন্ত্রী মোটা ও সাদা কাপড় পরেন: চিফ হুইপ

    সরকারি অর্থ ব্যয়ে অপচয় রোধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই দৃষ্টান্ত তৈরি করছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তিনি জানিয়েছেন, জনগণের করের টাকা কোনোভাবেই যেন অপচয় না হয়, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী মোটা ও সাদা কাপড় পরেন। এ ছাড়া সরকারি গাড়ি, খাবার খরচ ও লোকবহরের ব্যবহারেও ব্যয় কমাচ্ছেন তারেক রহমান।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা খেয়েছে এক বছরে ৩৫ কোটি টাকা, উনার (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) ১৫০ টাকা বিল। যে লোন (ঋণ) করে গেছে শেখ হাসিনা এবং তার সরকার, সেই টাকা থেকে ২০৫ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করেছি এই গত পাঁচ মাসে।’

    তিনি বলেন, ‘এটা আপনাদের ট্যাক্সের টাকা, এক্সচেকারের (রাজকোষ) টাকা, আপনাদের টাকা সে (শেখ হাসিনা) নিয়ে চলে গেছে। সেই টাকা এখন এই সরকারকে দিতে হচ্ছে। যে কারণে সরকার বলেছে, এমপি-মন্ত্রী যদি কোনো জায়গায় বাইরে যান এবং এসে বলেন যে আমার এত টাকা বিল হয়েছে, তা হবে না। কাগজ দিতে হবে, যাতে এক টাকাও নষ্ট না হয়। এটি হলেন তারেক রহমান।’

    নুরুল ইসলাম মনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মনে করেন—রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে কোনো অবস্থাতেই একটি টাকাও অপচয় করা যাবে না। এ কারণেই তিনি ব্যক্তিগত জীবনযাপনেও ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছেন।

    তিনি বলেন, ‘সরকারের এক্সচেকার থেকে ১০ টাকা—তারেক রহমান সাহেব মনে করেন, কোনো অবস্থাতেই একটা টাকা নষ্ট হতে পারবে না। তার জন্য নিজে সাদা কাপড় পরেন, মোটা কাপড় পরেন।’

    প্রধানমন্ত্রীর সরকারি কার্যক্রমেও ব্যয় কমানোর উদ্যোগের কথা তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, ‘তার জন্য এয়ারপোর্টে যাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন, তার জন্য নিজের গাড়ি-লোকবহর নেই। তার জন্য উনি উনার অফিসে খান।’

    আগের সরকারের প্রধানমন্ত্রীর অফিসের খাবারের ব্যয়ের তুলনা তুলে ধরে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা খেয়েছে এক বছরে ৩৫ কোটি টাকা। উনার ১৫০ টাকা বিল, একজনের। উনার অফিসে ১৫০ টাকা দিয়ে আমি টাকা খেতে পারি না—সত্যি কথা।’

    প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের খাবার বিলের বিষয়টি তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, ‘বিরোধী নেতা বলেছেন, যেটা সম্ভব। কিন্তু তারপর খাইতে পারি না।’ ‘এই কাজটা ভদ্রলোক (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) করেন, আর এটা তো দেখাবার জন্য করে না, এটা বাস্তবেই করে,’ যোগ করেন তিনি।

  • রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

    রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

    মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাপান সরকারের মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশনবিষয়ক বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ইয়োহেই সাসাকাওয়ার কাছে এ কথা বলেন।

    বৈঠকে সাসাকাওয়া বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে কাজ করছেন। মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন বিষয়ে জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে তার দায়িত্বের কথাও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান।

    রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে সাসাকাওয়া বলেন, তিনি এ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপান সরকারের বিভিন্ন অনুদান ও মানবিক সহযোগিতার বিষয়ও তিনি তুলে ধরেন।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ সফরের জন্য সাসাকাওয়াকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য তার প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট। এ সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

    তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ এমনিতেই একটি জনবহুল দেশ। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

    রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য নিজের অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে সাসাকাওয়ার প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে গেলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। এ কারণে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা করতে আগ্রহী।

    সাসাকাওয়া বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে।

    তার ধারণা, মিয়ানমার সরকার এ সংকট সমাধানে আন্তরিক। তবে রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অগ্রগতি হতে সময় লাগছে।

    জাপানের বিশেষ দূত প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন, তার অবস্থান থেকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

    বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে শুধু দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর না করে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র তৈরিতে সহযোগিতা করার জন্য সাসাকাওয়ার প্রতি আহ্বান জানান। বিশেষ দূত বিষয়টি নিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন বলে জানান।

    এ ছাড়া বাংলাদেশ জাপানের বিনিয়োগ পেতে আগ্রহী বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো উন্নত করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন তিনি।

    বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

  • দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যেতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    রোববার সচিবালয়ে রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা, নাব্যতা নিশ্চিতকরণ এবং বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, সভায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, ধলেশ্বরী, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী এবং তৎসংলগ্ন খাল ও ড্রেনের দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, নদ-নদীর নাব্যতা ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং ঢাকার চারপাশে বিদ্যমান বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়নসংক্রান্ত কার্যক্রমের সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।

    এ পর্যন্ত গৃহীত পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয় নিশ্চিত করে কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেদের পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও দূষণমুক্ত নদী ও একটি বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এ জন্য শুধু সরকারি নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করলে হবে না, ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ থেকেও কাজ করতে হবে।

    সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল রিয়ার অ্যাডমিরাল আব্দুল্লাহ-আল-মাকসুসসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • জাতিসংঘে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে

    জাতিসংঘে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে জাতিসংঘে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

    আজ শনিবার সকালে নগরীর একটি হোটেলে টেলিভিশন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধানমন্তীর ভারত সফর ও সম্পর্ক নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের দিন তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ নিয়ে আলোচনা চলছে। ভারতের সাথে হাজার সমস্যা থাকলেও আলোচনার পথ বন্ধ নেই। প্রতিবেশি দেশ হিসেবে ভারতের সাথে সুসম্পর্ক থাকাই উচিত।’

    হুমায়ুন কবির বলেন, ‘কীভাবে একটি সাইকোপ্যাথিক দুর্নীতি করা যায়, এনার্জি সেক্টর দেখলে বুঝা যাবে। তবে প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন জ্বালানি খাতকে। জ্বালানি খাতের সঙ্কট সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।’

    মক্কা চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মক্কা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। এতে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের জন্য অস্বাভাবিক নয়। অনেক দেশই এখন একাধিক নিরাপত্তা জোটে থাকছে। জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যেখানে যাওয়া দরকার, সেখানে যাওয়া হবে ‘

    আমেরিকার কাছ থেকে বোয়িং কেনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বোয়িং কিনতে হবে এটা কেউ চাপিয়ে দিচ্ছে না। চাহিদা আছে বলেই আমেরিকা থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও কেনা হবে।’

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমলের সিন্ডিকেটের কারণে মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। বর্তমান সরকার এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে। ধাপে ধাপে শ্রমশক্তি রপ্তানি হবে।’

  • সমাজবিরোধী অপশক্তি যেন মাথাচাড়া দিয়ে না উঠে: প্রধানমন্ত্রী

    সমাজবিরোধী অপশক্তি যেন মাথাচাড়া দিয়ে না উঠে: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমাজবিরোধী অপশক্তি আর যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কেউ যাতে বিনষ্ট করতে না পারে, সেজন্য দেশবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

    আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবাইতগণের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আবহমানকাল থেকে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতি পালন করে আসছে। তবে সময়ে সময়ে ‘কংস’ চরিত্রের মানুষেরা রাষ্ট্র ও সমাজে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশেও গণতন্ত্রকামী জনগণের সকল অধিকার কেড়ে নিয়ে ‘কংসের’ মত এক নিষ্ঠুর শাসক জনগণের কাঁধে চেপে বসেছিল। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দলমত, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ হাজারো প্রাণের বিনিময়ে কংসরূপী সেই ফ্যাসিস্টদের পতন ঘটিয়েছে। বাংলাদেশে আবারো গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন,আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটিয়ে এবার দেশ পুনর্গঠনের পালা।’

    একটি রাষ্ট্র এবং সমাজে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের সম্মিলন থাকে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটিই বৈচিত্র্যময় সমাজের সৌন্দর্য। আজকের এই অনুষ্ঠানে যারা ‘সংখ্যালঘু’ কিংবা ‘সংখ্যাগুরু’ হিসেবে বিবেচিত, ইউরোপ কিংবা আমেরিকা সফরে গেলে আমরা সবাই কিন্তু কথিত ‘সংখ্যা লঘু’ । সুতরাং, বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজে ‘সংখ্যালঘু’ কিংবা ‘সংখ্যাগুরু’ এসব পরিচয় কোনো মুখ্য বিষয় নয়।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংখ্যালঘু’ কিংবা ‘সংখ্যাগুরু’ নয়, আসুন সবাই নিজেদেরকে বাংলাদেশী ভাবি। রাষ্ট্র এবং সমাজে দল, মত, ধর্ম, বর্ণ, পরিচয় যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ বৈষম্য সৃষ্টির কারণ না হয়, সেই উপলব্ধি থেকেই দেশের সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ রাখতে স্বাধীনতার ঘোষকের যুগান্তকারী রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’। তিনি বলেন, আমাদের সকল নাগরিকের গর্বিত পরিচয় ‘আমরা বাংলাদেশী’।

    বর্তমান সরকার একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়তে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্র তার সাধ্য এবং সামর্থ্য অনুযায়ী দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। অপরদিকে নাগরিকগণ রাষ্ট্রের প্রতি তাদের সকল নাগরিক দায়িত্ব পালন করবে।’

    তিনি বলেন, ‘এভাবেই রাষ্ট্র ও সরকার এবং নাগরিকদের মধ্যকার পারস্পরিক দায়িত্ব ও আস্থা এবং আলাপের মাধ্যমেই গড়ে উঠবে সকলের কাঙ্ক্ষিত কল্যাণমূলক রাষ্ট্র। এই রাষ্ট্র এবং সমাজে কেউ যাতে পিছিয়ে না থাকে তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। এ জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ ও সহায়তা।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সার্বভৌমত্ব সুসংহত রেখে সমৃদ্ধ স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে হলে দেশে নাগরিকদের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি। সেই লক্ষ্য পূরণেই বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড,সকল ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতা প্রদানসহ যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করে চলছে।’

    সনাতন ধর্মের প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হিন্দু ধর্মীয় শাস্ত্রমতে, কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে জন্ম নিয়েছিলেন সনাতন ধর্মের প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ। হিন্দু ধর্মের অবতার শ্রীকৃষ্ণ প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে মথুরায় এমন একসময় জন্মগ্রহণ করেন, যখন মথুরার শাসক ছিলেন নিষ্ঠুর ও দুষ্টপ্রকৃতির, অত্যাচারী-স্বৈরাচারী ‘কংস’। শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের পর ‘কংসে’র পতন ঘটে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, দুষ্টের দমন শিষ্টের পালনই ছিল শ্রীকৃষ্ণের অন্যতম ব্রত।

    হিন্দু সম্প্রদায়কে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশ আপনার আমার আমাদের সকলের। নাগরিক হিসেবে এই দেশে আপনার আমার আমাদের সকলের অধিকার সমান। নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, বিএনপি বিশ্বাস করে, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’।

    ‘ধর্ম যার যার নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন, আমরা সবাই ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘শুভ জন্মাষ্টমীর উৎসবের পরই আপনাদের সামনে আসন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব দুর্গাপূজা। আপনারা সকল উৎসব-আয়োজন শান্তিতে ও স্বস্তিতে এবং নিরাপদে পালন করুন। আমি আবারো জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছার পাশাপাশি দুর্গোৎসবের আগাম শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’

    জন্মাষ্টমী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে শুভেচ্ছা বিনিময়ের এই আয়োজন করা হয়। গীতা পাঠের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এর আগে হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে পুস্পস্তবক উপহার দেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষে তা গ্রহণ করেন সংসদ সদস্য সূবর্ণা শিকদার ঠাকুর।

    অনুষ্ঠানে মন্দিরের নয় জন পুরোহিত ও সেবাইতের মধ্যে সম্মানী বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সারাদেশে পুরোহিত ও সেবাইতগণের ব্যাংক একাউন্টে এফটিএ’র মাধ্যমে এই অর্থ পৌঁছে যায়। হিন্দু সম্প্রদায়ের আরাধ্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মদিন শুক্রবার। দিবসটির প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বী ব্যক্তিদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন।

    হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠি বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন, সিপিডির ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও কালবেলা পত্রিকার সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, স্বামীবাগ ইসকনের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ ভক্তিময় নিতাই স্বামী মহারাজ, বিএনপির সহ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু বক্তব্য রাখেন।

    অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, বিমানমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ডোনার, সহ-সভাপতি বরকত উল্লাহ বুলু, গণফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরীসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • জ্বালানি পরিস্থিতি দুই বছরের মধ্যে আরও উন্নতি হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

    জ্বালানি পরিস্থিতি দুই বছরের মধ্যে আরও উন্নতি হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এলএনজি আমদানি ও সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ফলে জ্বালানি পরিস্থিতি দুই বছরের মধ্যে আরো উন্নতি হবে।বুধবার জাতীয় সংসদে দেওয়া জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে তিনি পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন ।

    সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জানান, কক্সবাজারের মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে কুতুবদিয়া এলাকায় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য একটি আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত এই টার্মিনালের মাধ্যমে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এলএনজি সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশে এলএনজি আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির আরো উন্নতি ঘটবে বলে জানান তিনি।

    এদিকে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জ্বালানি চাহিদা মেটানোর বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পায়রা ও মোংলা বন্দর এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে আরও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে।

    দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জ্বালানি চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্যে এই টার্মিনালগুলো স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রস্তাবিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি গ্যাসের সংকটও অনেকটাই কমে আসবে।

  • বাপেক্সকে পঙ্গু করে রাখায় বর্তমান জ্বালানিসংকট: প্রধানমন্ত্রী

    বাপেক্সকে পঙ্গু করে রাখায় বর্তমান জ্বালানিসংকট: প্রধানমন্ত্রী

    দেশের বিদ্যমান জ্বালানিসংকটের জন্য বিগত আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের ভূমিকাকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিগত স্বৈরাচারের সময়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে রীতিমতো পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল। ফলে, অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান বা আমদানিনির্ভরতার কারণে সৃষ্টি হয় বর্তমান জ্বালানিসংকট।

    আজ বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের তৃতীয় দিন প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বেলা সাড়ে ৩টায় শুরু হওয়া অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান জ্বালানিসংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে সরকার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ১০টি ও ওয়ার্কওভারের কর্মসূচির আওতায় ৩০টি কূপ খনন ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এসব কূপের মাধ্যমে প্রায় ৪৫০ এমএমএসসিএফডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হয়েছে। বর্তমানে চলমান সাতটি কূপ খনন শেষ হলে আরও ৮৫ এমএমএসসিএফডি গ্যাস যুক্ত হবে। অবশিষ্ট কূপসমূহ খননের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

    দেশীয় গ্যাসের নতুন উৎস অনুসন্ধানে ৫ হাজার ৬০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক সার্ভে ও ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনার কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

    বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে আরও দুটি নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে (বাপেক্স) শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, অফশোর মডেল পিএসসি-২০২৬ অনুমোদনের পর বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। এ ছাড়া অফশোর মডেল পিএসসি অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অফশোর ও অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানের মাধ্যমে গ্যাস পাওয়া গেলে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

    এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, কক্সবাজারের মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে কুতুবজোমে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ওই টার্মিনাল থেকে রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি বা গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর ফলে আগামী দুই বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি আরও ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়বে। পাশাপাশি পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলে জরুরি ভিত্তিতে আরও দু-একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    প্রস্তাবিত এসব ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা হলে দেশে সামগ্রিকভাবে জ্বালানি নিরাপত্তা আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

  • শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশা ট্রাম্পের

    শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশা ট্রাম্পের

    শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক চিঠিতে ট্রাম্প বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেলেও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও দেশের জনগণের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

    চিঠিতে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা ও ভালবাসার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    একই সঙ্গে, বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মনোযোগের কথাও তিনি ভুলবেন না বলে উল্লেখ করেন।

  • প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাবা-মায়ের সমাধিতে তারেক রহমানের শ্রদ্ধা

    প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাবা-মায়ের সমাধিতে তারেক রহমানের শ্রদ্ধা

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি শ্রদ্ধা জানান।

    ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দলটির এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এসেছে ভিন্ন এক রাজনৈতিক পরিবেশে। দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তার ছেলে তারেক রহমান এখন বিএনপি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে। তার নেতৃত্বেই দলটি বর্তমানে সরকার পরিচালনা করছে।

    ৪৮ বছরে নানা রাজনৈতিক উত্থান-পতন, আন্দোলন-সংগ্রাম ও ক্ষমতার পালাবদলের মধ্য দিয়ে পথচলা বিএনপি এবার রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও দীর্ঘদিনের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে ধারণ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি এখন নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে।

    প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি সারা দেশে জেলা, মহানগর ও দলীয় ইউনিটগুলোও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছেÑদলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে

    শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, বর্ণাঢ্য র‌্যালি, বৃক্ষরোপণ, মৎস্য অবমুক্তকরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও খেলাধুলার অনুষ্ঠান।

    আজ সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

    প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে ‘বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দলের সিনিয়র নেতা ও দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীরাও এতে অংশ নেবেন।এছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন দলের যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। সারা দেশে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং এর ইউনিটগুলো সুবিধাজনক সময়ে আলোচনা সভা ও অন্যান্য কর্মসূচি পালন করবে।

    প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

    বাণীতে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপির সাহস, সংগ্রাম, ত্যাগ ও সাফল্যের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী দেশের মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা এলাকায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার মতে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে বিএনপির প্রতিষ্ঠা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা।

    তারেক রহমান প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া তার নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে বিএনপিকে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন।

    ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে নতুন একটি রাজনৈতিক ধারার সূচনা হয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রত্যয় সামনে রেখে তিনি বিএনপিকে সংগঠিত করেন। পরবর্তী সময়ে দলটি দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়।

    ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বিএনপি নেতৃত্বের সংকটে পড়ে। পরে ১৯৮৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দলের হাল ধরেন তার সহধর্মিণী খালেদা জিয়া। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপিকে নেতৃত্ব দিয়ে একাধিকবার সরকার গঠন করেন এবং দেশের রাজনীতিতে অন্যতম প্রধান নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

    তবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দুই বছরের বেশি সময় কারাভোগের পর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর তিনি মুক্তি পান। চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানের পর দেশে ফিরে ২০২৫ সালের শেষদিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে বিএনপি। দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার পর সরকারে ফিরে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন দলটির জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

    তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ণ রেখে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীকে দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের নিবেদন করতে হবে। জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায় বিএনপি সরকার। বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    বিএনপির ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে যতবার গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে, ততবারই দলটির নেতাকর্মীরা আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে গণতন্ত্র ও সুশাসনের আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন বা আহত হয়েছেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে তাদেরও গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হচ্ছে।

  • গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ-ভুক্তভোগীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী

    গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ-ভুক্তভোগীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ এবং ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ।’

    সরকারের পক্ষ থেকে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারগুলোর পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সীমিত সম্পদের মধ্যেও আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে আপনাদের পাশে থাকার। যে অপূরণীয় ক্ষতি আপনাদের হয়েছে, তা কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবুও আমরা আপনাদের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।’

    আজ শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারের ৭৪ জন সদস্যের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    আবেগময় কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা এমন কিছু মানুষকে স্মরণ করছি, যাদের আজ আমাদের মাঝে থাকার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারা নেই। তাদের এই মহান ত্যাগের বিনিময়েই আজ দেশের ২০ কোটি মানুষ ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ যারা আমাদের মধ্যে অনুপস্থিত, তারা কোথায়; কী অবস্থায় আছে, একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জানেন। আমাদের উচিত হবে দুহাত তুলে আল্লাহর দরবারে তাদের জন্য দোয়া করা যাতে আল্লাহ সে মানুষগুলোকে সর্বোচ্চ ভালো অবস্থায় রাখেন।’

    ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে স্বাধীনতাত্তোর বিভিন্ন সময়ের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং সর্বশেষ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মদানকারীদের কথা উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন সময়ে গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিবর্গ এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্তদের যে লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা ছিল —এই সরকার তা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। হয়তো বিভিন্ন বাস্তবতার কারণে অনেক সময় দ্রুত সবকিছু সম্ভব হয় না, কিন্তু আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে বড় কিছু অর্জন করতে গিয়ে যারা বড় ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তারা অনেকেই আজ আমাদের মাঝে নেই। যারা আছে তাদের বলব, আপনারা এ দেশের মানুষের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবে, আপনারা যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে নিজেদের জীবন বাজি রেখেছেন, সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে।’

    গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও
    গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

    সংগ্রামীদের আত্মত্যাগকে সরকারের কাজের মূল প্রেরণা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে বলতে পারেন সরকার এই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আমি বলব—আপনাদের এই ত্যাগ, সমর্থন ও সহযোগিতার কারণেই সরকার পূর্ণোদ্যমে কাজ করার সাহস পাচ্ছে। আপনারাই আমাদের শক্তি ও উদ্দীপনার মূল উৎস।’

    শহীদ পরিবারের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরাও চাই আপনারাও আমাদের সহযোগিতা করবেন। আমাদের উৎসাহ দেবেন, যাতে আমরা শহীদসহ সব আত্মত্যাগী গণতান্ত্রিক যোদ্ধা যারা আছেন, তাদের যে প্রত্যাশা দেশ ও জাতিকে নিয়ে, সে প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে পারি। আপনার সর্বাত্মক সমর্থন যেন আমরা পাই।’

    অনুষ্ঠানে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। এ সময় তাঁরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।

    অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব এ কে এম নাজমুল হক, শাহরিয়ার পামির, আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন।