তারকা

  • বিচ্ছেদের পর পাঁচ বছরের প্রেম, দেড়বছর আগে বিয়ে করেন অভিনেত্রী

    বিচ্ছেদের পর পাঁচ বছরের প্রেম, দেড়বছর আগে বিয়ে করেন অভিনেত্রী

    দীর্ঘদিন ধরেই একমাত্র সন্তানকে ঘিরে নিজের জীবন কাটাচ্ছেন অভিনেত্রী সোহানা সাবা। ব্যক্তিগত জীবনে নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাওয়া এই অভিনেত্রী এবার জানালেন, তার জীবনে নতুন একজন মানুষ এসেছেন। প্রায় সাড়ে পাঁচ বছরের সম্পর্কের পর দেড় বছর আগেই বিয়ে করেছেন তিনি।

    সাবার বর্তমান স্বামীর নাম ফয়সাল। পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী।

    সোহানা সাবা গণমাধ্যমকে জানান, ফয়সালের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল সাড়ে পাঁচ বছরের। সেই সম্পর্কের পর তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তবে বিয়ের দিন-তারিখ প্রকাশ করতে চাননি তিনি।

    সোহানা সাবা ও তার স্বামী ফয়সাল। ছবি: ফেসবুক

    বিয়ের পর কেমন কাটছে জীবন, কথা প্রসঙ্গে সোহানা সাবা বলেন, ‘আমার স্বামী, আমরা ভালো আছি। সাড়ে পাঁচ বছরের সম্পর্ক। বিয়ে অনেক আগে হয়েছে। দিন-তারিখ বলতে চাই না। আমার ছেলে অনেক খুশি।’

    ফয়সালের সঙ্গে সম্পর্কের শুরু ও বিয়ের সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গে কথা বলেছেন সোহানা সাবা। তিনি বলেন, ‘মনে হয়েছে, এই মানুষটার জন্যই অপেক্ষা করেছি এত দিন, প্রথম দেখাতেই। কিন্তু তাকে বা কাউকে সেটা বুঝতে দিইনি। সে-ই আমাকে নক করে ভালোবাসার কথা যখন জানায়, তখন তাকে “হ্যাঁ” বলেছি।’

    একসময় নির্মাতা ও অভিনেতা মুরাদ পারভেজের সঙ্গে ভালোবেসে ঘর বেঁধেছিলেন সোহানা সাবা। প্রায় এক দশকের সেই সংসারে তাদের একটি সন্তান রয়েছে। তবে ২০১৫ সালে সেই দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে। বিচ্ছেদের পর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে নিজের মতো করে জীবন এগিয়ে নেন এই অভিনেত্রী। ধীরে ধীরে নিজেকে সামলে নিয়ে নতুন করে জীবন গুছিয়েছেন।

    টেলিভিশন নাটকের অভিনয়শিল্পী সাবা একটা সময় বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করেন। চলচ্চিত্রের মিষ্টি মেয়েখ্যাত কবরী পরিচালিত ‘আয়না’ ছবির শুটিং দিয়ে তাঁর বড় পর্দার জীবন শুরু হয়। তবে মুক্তির দিক দিয়ে মোরশেদুল ইসলামের ‘খেলাঘর’ এগিয়ে ছিল। ‘খেলাঘর’ মুক্তির পরের মাসে মুক্তি পায় ‘আয়না’। এরপর একে একে অভিনয় করেছেন ‘চন্দ্রগ্রহণ’, ‘প্রিয়তমেষু’, ‘বৃহন্নলা’ ও ‘অসম্ভব’ ছবিতে। ভারতে কাজ করেছেন ‘ষড়্‌রিপু’, ‘এপার–ওপার’ এবং আরেকটা নাম ঠিক না হওয়া সিনেমার। আফজাল হোসেন পরিচালিত ‘মানিকের লাল কাঁকড়া’ সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন সাবা।

  • নিজেকে নির্দোষ দাবি করে রাষ্ট্রের কাছে পরীমণির প্রশ্ন

    নিজেকে নির্দোষ দাবি করে রাষ্ট্রের কাছে পরীমণির প্রশ্ন

    ২০২১ সালের ৪ আগস্ট প্রায় চার ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে পরীমণিকে আটক করে র‍্যাব। তাঁর বাসায় বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়। পরে মাদক মামলায় পরীমণিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই সময় প্রায় এক মাস কারাগারে থাকতে হয়েছিল তাঁকে।

    পরীমণির বিরুদ্ধে সেই মামলা এখনো চলমান। তবে গ্রেপ্তার নিয়ে সরাসরি কখনো কথা বলেননি পরী। সম্প্রতি এক লাইভ টক শোতে পরীমণির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনাকারী র‍্যাবের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) খাইরুল ইসলাম জানান, পরীমণিকে গ্রেপ্তার করার কোনো যৌক্তিক কারণ ছিল না। তিনি দাবি করেন, তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের নির্দেশেই পরীমণিকে গ্রেপ্তারের অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। এ নিয়ে সে সময় প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।

    খাইরুল ইসলামের এমন বক্তব্যের পর তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় গত শুক্রবার মধ্যরাতে দীর্ঘ পোস্ট দেন পরীমণি। সেই ঘটনার কারণে তাঁর ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের কাছে জানতে চেয়েছেন, হারিয়ে যাওয়া সম্মান, মানসিক শান্তি ও জীবনের সেই সময়গুলো ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব কি না।

    পরী লেখেন, ‘র‍্যাবের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলাম দেরিতে হলেও আপনি এমন কিছু সত্য প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, যার মাধ্যমে দেশের মানুষ জানতে পারল যে ২০২১ সালের ৪ আগস্ট বনানীতে আমার বাসায় দীর্ঘ সময় অভিযান চালানোর নামে নাটকীয়তার পর তৎকালীন র‍্যাবপ্রধান ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের নির্দেশে আমাকে অন্যায়ভাবে, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এবং বিশেষ মহলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৭ দিনের রিমান্ড, টানা ২০ দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা আমার জীবনকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত করেছে, তা আল্লাহ আর আমি ছাড়া পৃথিবীর আর কারও পক্ষে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়।’

    রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন রেখে পরীমণি লেখেন, ‘এবার হয়তো রাষ্ট্রীয় সেই সাজানো মামলা থেকে মাননীয় আদালত আমাকে অব্যাহতি দিবেন। কিন্তু আমার সেই দিনগুলো কি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? যে জীবন, যে সম্মান, যে মানসিক শান্তি আমি হারিয়েছি, তা কি আর কখনো ফিরে পাব? মানুষের মনে আমাকে নিয়ে যে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত ধারণা তৈরি করা হয়েছে, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে? রাষ্ট্রের কাছে আমি এই প্রশ্নগুলোর জবাব চাইলে কি দিতে পারবে?’

    গ্রেপ্তার-কাণ্ডের বিতর্ক এখনো বয়ে বেড়াতে হয় উল্লেখ করে পরী লেখেন, ‘একটি ঘটনার অভিঘাত আমার জীবনকে এমনভাবে বদলে দিয়েছে, যার দায়ভার আমাকে আজও বহন করতে হচ্ছে। আমি চাই, ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এ ধরনের অন্যায়ের শিকার না হন। রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থাটুকু অটুট থাকুক।’