ট্যাগ ঢাবি

  • আওয়ামী আমলকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে ঢাবি প্রশাসন: ডাকসু জিএস

    আওয়ামী আমলকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে ঢাবি প্রশাসন: ডাকসু জিএস

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আওয়ামী লীগ আমলের ১৫ বছরের বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা নীতিকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এস এম ফরহাদ। মঙ্গলবার ডাকসু সংগ্রহশালা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    ডাকসু সংগ্রহশালায় ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বাংলা ভাষাবিরোধী বক্তব্যের ছবি ও উদ্ধৃতি প্রদর্শন নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয়। এ বিষয়ে প্রশাসনের দেওয়া বিবৃতির কঠোর সমালোচনা করে এস এম ফরহাদ বলেন, গত ৫০ বছরের ইতিহাসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে ‘কঠোরভাবে প্রতিহত করবে’—এ ধরনের ভাষায় বিবৃতি দিয়েছে বলে তিনি দেখেননি। প্রশাসন যেন কোনো একটি দলের দলীয় পোস্ট কপি করে তাদের পেজে দিয়ে দিয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘ডাকসু সংগ্রহশালায় একটি ছবি এবং ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটকে উল্লেখ করতে গিয়ে জিন্নাহর সে সময়ের যে বক্তব্য—উর্দুর পক্ষে এবং বাংলা ভাষার বিপক্ষে, সে বক্তব্যকে আমরা কোট করেছিলাম। কোট করে ছবি দিয়েছিলাম। আজকে ভিসি স্যার বলছেন, আজকে প্রো-ভিসি স্যার বলছেন, সে অপরাধের কারণে নাকি তারা আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।’

    জিন্নাহর বাংলা ভাষাবিরোধী বক্তব্য বিভিন্ন পাঠ্যবইয়ে রয়েছে উল্লেখ করে জিএস ফরহাদ বলেন, জিন্নাহর এ বক্তব্য চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণির বাংলা এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে উল্লেখ রয়েছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘তাহলে আপনি একটা বিবৃতি দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে যে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে প্রতিহত করা হবে। অথবা আপনি একটা ব্যবস্থা নেন, যে শিক্ষকরা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইটা লেখার পেছনে শ্রম দিয়েছিলেন, তাদের চাকরিচ্যুত করেন।’

    উপাচার্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ডাকসু সংগ্রহশালা উদ্বোধনের আগে উপাচার্য দুইবার সেখানে পরিদর্শন করেছেন এবং কাজের অগ্রগতি দেখেছেন। ডাকসুর সভাপতি হিসেবে তিনি চাইলে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে পারতেন, কিন্তু তা না করে একটি দলের কথার প্রেক্ষিতে দলীয় বিবৃতি হুবহু কপি করে পেজে দিয়েছেন।

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বর্তমান অবস্থানকে অতীতের বিভিন্ন সরকারের আমলের সঙ্গে তুলনা করে এস এম ফরহাদ বলেন, গত ৫০ বছরের ইতিহাসে বা আর্মি ও বিএনপির আমল কিংবা আওয়ামী আমলের ১৫ বছরেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ‘কঠোরভাবে প্রতিহত করবে’—এমন ভাষায় তাৎক্ষণিক বিবৃতি দেয়নি। বর্তমান প্রশাসন সেই নীতিকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

    এ সময় তিনি ডাকসু সংগ্রহশালায় হামলা ও সম্পদ ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোধোদয় হোক

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোধোদয় হোক

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বিশ্ববিদ্যালয়কে একাডেমিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সুযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ ছাড়া যে তা সম্ভব নয়, সে কথা প্রায় সবগুলো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় দেরিতে বুঝলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আজও বুঝতে চাইছে না। শুধু মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পেশাদারিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়, সে বিষয়টি অন্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেরিতে হলেও বুঝেছে। প্রথমে সাহস করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম উপাচার্য শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা সংশোধন করে সিন্ডিকেটে আইন পাস করে মৌখিক পরীক্ষার সঙ্গে লিখিত পরীক্ষা, প্রেজেন্টেশন, ডেমো ক্লাস প্রভৃতির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ শুরু করেন। পরে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় একই প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগ শুরু করে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখনো এ বিষয়টি আমলে নেয়নি।

    এমপিওভুক্ত কলেজ, সরকারি কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এমনকি সরকারি প্রাইমারি স্কুলেও শিক্ষক নিয়োগে যেখানে লিখিত পরীক্ষার বিধান প্রচলিত আছে, সেখানে যে সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পিএইচডি, এমফিল, মাস্টার্স, অনার্স প্রভৃতি ডিগ্রি দেওয়া হয়, সেখানে শুধু একটি মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া কতটা যৌক্তিক? পাশ্চাত্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া অত্যন্ত সময় নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক হতে হলে শুধু উচ্চতর ডিগ্রি বা ভালো রেজাল্ট থাকলেই হয় না। আবেদনকারীকে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে তারপর শিক্ষকতার চাকরি পেতে হয়। এ ক্ষেত্রে চাকরিপ্রার্থীকে প্রথমে ‘জব টক’ দিতে হয়, যেখানে সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনের ফ্যাকাল্টি এবং সিনিয়র ও গবেষণা শিক্ষার্থীরা তাকে প্রশ্ন করে তার বিষয়বস্তুর ওপর জ্ঞানের গভীরতা যাচাই করেন। একই সঙ্গে তার উপস্থাপনার ভঙ্গিমা, বিশ্লেষণ দক্ষতা এবং উপস্থাপিত বিষয়ের ওপর জ্ঞানের গভীরতা যাচাই করা হয়।

    এরপর প্রার্থীকে বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে এক এক করে সবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হয়, যারা তার গবেষণা পরিকল্পনা বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তার প্রকাশিত গবেষণাকর্মের তালিকা দেখেন। এরা এসব দেখে এবং বিচার-বিশ্লেষণ করে বিভাগীয় সভাপতিকে প্রার্থী সম্পর্কে রিপোর্ট দেন। পরে বিভাগীয় সভাপতি প্রার্থীর সঙ্গে তার একাডেমিক যোগ্যতা ও পারফরম্যান্স বুঝতে বৈঠক করেন। তাকে নিয়োগ দিলে বিভাগে তিনি কী ধরনের একাডেমিক অবদান রাখতে পারবেন, তাও পরীক্ষা করেন। সবকিছু ইতিবাচক হলে প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। তারপরও চাকরিতে যোগদান করে পড়ানো শুরু করলেও তার পদ স্থায়ী করা হয় না। সেমিস্টার শেষে স্টুডেন্ট ইভালুয়েশন রিপোর্ট এবং প্রকাশিত গবেষণার সংখ্যা ও গুণগত মান বিবেচনা করা হয়। সেসব সন্তোষজনক না হলে তিনি শিক্ষকতায় টিকে থাকতে পারেন না। ফলে শিক্ষকতার চাকরি পাওয়ার পর একজন শিক্ষক প্রচণ্ড একাডেমিক চাপে থাকেন। অনেকের সে চাপ মোকাবিলা করতে না পেরে শিক্ষকতা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাওয়ার নজির আছে।

    শিক্ষক নিয়োগে এ দীর্ঘ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখনো শুধু একটি মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সনাতনী প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে। ফলে এ ক্ষেত্রে যোগ্য একাডেমিক বাছাই করা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না। এ প্রক্রিয়ায় নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক স্বার্থ, দলীয় প্রভাব, গোপন রাজনৈতিক সুপারিশ এবং নানা ফাঁকফোকর গলে অনেক কম যোগ্য আবেদনকারী এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদানের সুযোগ পান। তুলনামূলক এসব কম যোগ্যরা যখন শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন, তাদের অনেকেই লেখাপড়ার চেয়ে বর্ণদলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে পড়েন। পদোন্নতির জন্য প্রকাশনার দরকার হলে তারা অন্যদের শরণাপন্ন হন। পাঁচ-সাতজন মিলে প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ নকল করে প্রবন্ধ প্রকাশ করে পরে ধরা পড়েন। আবার অন্যদিকে, এদের শ্রেণিকক্ষের পারফরম্যান্সও ভালো হয় না। তাদের অনেকে ভালো করে ক্লাসও নিতে পারেন না। এ কারণে ক্রমান্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানের সূচকে বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পিছিয়ে পড়ছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে ১৯৭৩ সালের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ/আইন অনুযায়ী চলার কথা, তা চলছে কি? এ আইনে যেভাবে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ার কথা, সেভাবে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে কি? পদে পদে এ আইন লঙ্ঘন করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় যে আইন মেনে চলতে পারছে না, সে আইন কি তাদের যুগোপযোগী করা উচিত নয়? কই, তা করা হয়েছে কি? বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অবাধ স্বাধীনতা দিয়েছে, কিন্তু তাদের দায়িত্বশীলতা সুনিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে শিক্ষকদের অনেকে ইচ্ছা হলে অনেক সময় ক্লাসে যাচ্ছেন না। অনেক শিক্ষক সময়মতো পাঠ্যক্রম শেষ করতে পারছেন না। ফলে সেশনজট তৈরি হচ্ছে। স্টুডেন্ট ইভালুয়েশন পদ্ধতি চালু না থাকায় শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষের পাঠদানে মনোযোগী হচ্ছেন না। এতে শিক্ষার্থীরা একাডেমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের পদ-পদবি ও সুযোগ-সুবিধার বণ্টন দলীয় পরিচিতির পরিমাপকেই করা হচ্ছে। রাজনৈতিক স্বার্থ ছাড়া কোনো কাজ আন্তরিকতার সঙ্গে সম্পাদিত হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু না করায় ডাকসুর পক্ষ থেকে এ ব্যবস্থা সম্প্রতি অনলাইনে চালু করা হয়েছে। এ কাজটি অবশ্যই ডাকসুর নয়।

    ডাকসু এ কাজ করলে তা নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে বলে মনে করা যায় না। কারণ, নাম না বললেও সবাই জানেন যে ডাকসুতে এখন একটিমাত্র দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রাধান্য রয়েছে। সে দলের ব্যবস্থাপনায় শিক্ষক মূল্যায়নের কাজ করলে এদের মুরব্বি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের যেভাবে এ দলের নেতা, কর্মী ও সমর্থকরা মূল্যায়ন করবেন, অন্য দলীয় পরিচয়ধারী শিক্ষকদের কি একইভাবে মূল্যায়ন করবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ করা যায়। ঢাবি প্রশাসনের উচিত এমনভাবে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা, যাতে শিক্ষার্থীরা গঠনমূলক এবং নির্মোহভাবে মূল্যায়নের কাজটি করতে পারেন। তবে শুধু শিক্ষক মূল্যায়ন করলেই তো হবে না। যাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন পরপর কয়েক সেমিস্টার দুর্বল আসবে, তাদের জন্য কী শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, সে বিষয়টিও পরিষ্কার করতে হবে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরো কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষকরা সবাই একরকমভাবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমান আচরণ করেন না। সংখ্যায় কম হলেও এমন কিছু শিক্ষক আছেন, যারা সব শিক্ষার্থীকে সমান চোখে দেখেন না। এরা অনেক সময় দু-একজন শিক্ষার্থীকে আগে থেকে টার্গেট করে বিভাগে শিক্ষক হিসেবে ঢোকাতে চেষ্টা করেন। তাদের যেভাবেই হোক বিভিন্ন কলাকৌশলে ভালো রেজাল্ট করিয়ে বিভাগে ঢোকাতে প্রয়াস নেন। আবার কাউকে টার্গেট করে সে শিক্ষার্থী যেন কিছুতেই ভালো জিপিএ না পান, সেজন্য তাকে ভিন্নভাবে ট্রিট করা হয়। তার টিউটোরিয়াল, মৌখিক পরীক্ষা এবং পরীক্ষার খাতায়ও হয়তো একটু ভিন্নভাবে তাকে মূল্যায়ন করা হয়। এর চেয়ে বড় পাপ আর কিছু হতে পারে না। অত্যন্ত কম হলেও এমন শিক্ষক যে নেই, তা বলা যায় না। এ রোগ পুরোনো। আইনের মেধাবী ছাত্র প্রফেসর ড. সলিমুল্লাহ খানকে তার মৌখিক পরীক্ষায় ২৫-এর মধ্যে ৮ নম্বর এবং পরিসংখ্যানের ড. আনোয়ার জোয়ার্দার, যিনি পৃথিবীর ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন, তাকেও মাস্টার্স পরীক্ষায় একইভাবে ভিকটিমাইজ করা হয়েছিল।

    একাডেমিয়ার এ পুরোনো রোগ নিরসনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম উপাচার্য একটি আইন পাস করেছেন। এ আইন অনুযায়ী কোনো পরীক্ষার্থী কোনো কোর্সের প্রাপ্ত নম্বরে সন্তুষ্ট না হয়ে সংক্ষুব্ধ হলে তিনি একটি ফরম পূরণ করে নির্ধারিত ফি দিয়ে তার পরীক্ষার খাতা চ্যালেঞ্জ করে তা পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ব্যবস্থা নেই। এ কারণে রাজনৈতিক বা অন্য যেকোনো কারণে কোনো শিক্ষার্থীকে কোনো শিক্ষক টিউটোরিয়াল, অ্যাসাইনমেন্ট বা পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে কিংবা মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে ভিকটিমাইজ করার সুযোগ পান। এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউজিসিরও চিন্তাভাবনা করা উচিত।

    বর্তমান নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, কর্তৃত্ববাদী সরকারের বিদায়ের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করে ডজনাধিক সংস্কার কমিশন করলেও জাতির মেরুদণ্ড হিসেবে স্বীকৃত শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের জন্য কোনো কমিশন গঠন করেনি। ফলে সংবিধান, বিচার, প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কিছু সংস্কার হয়েছে এবং সংস্কারের প্রক্রিয়া চলমান আছে। কিন্তু ধ্বংসের কার্নিশে উপনীত শিক্ষাব্যবস্থার কোনো উল্লেখযোগ্য সংস্কার করা হয়নি। বিএনপি সরকার গঠিত হওয়ার পর শিক্ষাব্যবস্থার নিম্নপর্যায়ে, বিশেষ করে প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি পর্যায়ে শিক্ষা কারিকুলামে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, উচ্চশিক্ষাঙ্গনে কোনো সংস্কার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। সরকার যদি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সংস্কার করতে চায়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে দলীয় রাজনীতির লেজুড়বৃত্তির চর্চা বন্ধ করে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এ লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ/আইন প্রয়োজনে যুগোপযোগী করতে হবে। সরকার চাইলে তা করতে পারবে। কারণ, সরকারের এ সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এ বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে, শিক্ষক ও ছাত্র রাজনীতি নিয়ে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভাবমূর্তি বৃদ্ধির জন্য আরো কী কী করা দরকার, সেসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এটি তো স্বীকার করবে যে, সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল না মিলিয়ে শিক্ষক নিয়োগ শুধু একটি মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে গ্রহণ করার কাজটি বিবেচনাপ্রসূত হচ্ছে না। ভালো শিক্ষক নিয়োগ দিতে না পারলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এবং অবদানমূলক গবেষণার কাজেও বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে পড়বে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সবচেয়ে বড় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা আশা করব, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরো যেসব বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগে যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও সে পথ অনুসরণ করবে। আশা করা যায়, যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বোধোদয় হবে।

  • ঢাবির ছাত্রী হলের গেট বন্ধের সময় বাড়ল

    ঢাবির ছাত্রী হলের গেট বন্ধের সময় বাড়ল

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোর গেট বন্ধের সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে গেট রাত ১১টায় বন্ধ হবে। এত দিন গেট বন্ধের সময়সীমা ছিল রাত ১০টা।

    গতকাল সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

    সভায় জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে বিরোধিতার অভিযোগে তিনজন এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না করে শিক্ষক হওয়ার অভিযোগে একজনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এ তথ্য জানিয়েছেন। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে বিরোধিতার অভিযোগে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এম ওয়াহিদুজ্জামান চাঁন, অধ্যাপক মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মশিউর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

    নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না করে শিক্ষক হওয়ার অভিযোগে সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. জিয়াউর রহমানকে (সায়েম রানা) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি অধিকতর তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জিয়াউর রহমান ইসলামিক স্টাডিজে অনার্স ও মাস্টার্স এবং সংগীত বিষয়ে এমফিল ও পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। তবে সংগীত বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে সংগীত বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি বাধ্যতামূলক ছিল।

  • ১১ মাসে যা করেছি,  ১০৫ বছরেও কেউ পারেনি: সাদিক কায়েম

    ১১ মাসে যা করেছি, ১০৫ বছরেও কেউ পারেনি: সাদিক কায়েম

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১১ মাসে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে এমন কাজ করা হয়েছে, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাসে আর কেউ করতে পারেননি বলে দাবি করেছেন ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম।

    আজ পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    সাদিক কায়েম বলেন, ‘১১ মাসে আমরা প্রমাণ করেছি কিভাবে শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হয়, শিক্ষার্থীরাই বলে আমরা গত ১১ মাসে ডাকসুতে দায়িত্ব নেওয়ার পরে যে কাজ করেছি বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাসে ১০৫ বছরের সে কাজ করতে পারেনি। ’

    ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের সময়ে ক্যাম্পাসে মারামারি, হানাহানি, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি। একাধিক জরিপের তথ্য তুলে ধরে ডাকসুর ভিপি বলেন, ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করেন, বর্তমান সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সবচেয়ে নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে।

    ডাকসুর ভিপি আরও বলেন, একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করা গবেষণা করা চিন্তা করা প্রশ্ন করা এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার করা। এজন্য সেই একাডেমিক পরিবেশ আমরা ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছি।

    দেশের তরুণ প্রজন্মকে যথাযথ স্বীকৃতি ও সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের এই দেশে আমরা গত ৫৫ বছর জুড়ে আমাদের যারা নেতৃত্ব ছিল তারা আমাদেরকে নিয়ে যেভাবে ভাবা দরকার ছিল আমাদের তরুণ প্রজন্মদেরকে নিয়ে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে নিয়ে যেভাবে ভাবা দরকার ছিল তাদেরকে যেভাবে স্বীকৃতি দেওয়া দরকার ছিল সেটা তারা দিতে পারেনি। সাদিক কায়েম বলেন, দীর্ঘদিনের এ ব্যর্থতার কারণেই জাতি একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিদেশের নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিলেও দেশে তাদের মেধার যথাযথ বিকাশ ও কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আন নাহিয়ান। এতে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩০০ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

  • শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শিবিরের সাংবাদিক সম্মেলন

    শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শিবিরের সাংবাদিক সম্মেলন

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের খাবারের মান নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল মামুনের কক্ষে ডেকে নিয়ে মারধর ও জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এ অভিযোগ করে। সংগঠনটির দাবি, ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ দেখার দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে গেলে ছাত্রদলের শহীদুল্লাহ হল ও ফজলুল হক হল শাখার নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালান। এতে ফজলুল হক হলের ভিপি খন্দকার মো. আবু নাঈম, জিএস ইমামুল হাসানসহ ২০ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মহিউদ্দিন খান অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি লিখিত বক্তব্যে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

    অভিযোগ অস্বীকার বা এ বিষয়ে প্রশাসনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

    শিবির প্রভোস্টের পদত্যাগ ও শাস্তি, জড়িত কর্মচারীদের বহিষ্কার, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে।

  • ঢাবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি যেকোনো সময়,

    ঢাবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি যেকোনো সময়,

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার নতুন কমিটিও যেকোনো সময় ঘোষণা হতে পারে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত হওয়ায় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট হিসেবে বিবেচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নিয়েও জোর আলোচনা চলছে। দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, চলতি সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে ঢাবি শাখার নতুন কমিটিও ঘোষণা হতে পারে।

    ২০২৪ সালের মার্চে গণেশ চন্দ্র রায় সাহসকে সভাপতি এবং নাহিদুজ্জামান শিপনকে সাধারণ সম্পাদক করে এক বছরের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন কমিটি গঠনের আলোচনা শুরু হলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কারণে তা পিছিয়ে যায়।

    শীর্ষ পদে একাধিক নেতা আলোচনায়

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক নেতা আলোচনায় রয়েছেন। ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম খান, গাজী মোহাম্মদ আল-আমীন ও সহসাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসানের নাম সম্ভাব্য শীর্ষ নেতৃত্ব হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

    এ ছাড়া ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের বিজয় একাত্তর হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বি এম কাওসার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফ খান ও আলমগীর হোসেন আলমের নামও রয়েছে আলোচনায়।

    ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে যুগ্ম সম্পাদক বজলুর রহমান বিজয় এবং আবিদুল ইসলাম খান; ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু হায়াত মো. জুলফিকার জেসান, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক মাহমুদুল হাসান এবং প্রচার সম্পাদক তানভীর হাসানের নাম সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় রয়েছে।

    এ ছাড়া ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের আপ্যায়ন সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মেহেদী হাসান এবং মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক সৈয়দ ইমাম হাসান অনিকও নেতৃত্বের দৌড়ে রয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

    আন্দোলনে ভূমিকা ও সাংগঠনিক দক্ষতায় গুরুত্ব

    ছাত্রদলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের ভাষ্য, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত শিক্ষার্থী ও বিতর্কমুক্ত নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়েও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব গুরুত্ব দিচ্ছে।

    এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমার কাছে অফিসিয়ালি কমিটির তথ্য নেই। তবে সংগঠনের গতিশীলতার স্বার্থে পরিবর্তন আসতেই পারে। এটি একটি স্বাভাবিক ও চলমান প্রক্রিয়া।’

    ত্যাগী ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব চান নেতাকর্মীরা

    বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখা ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। একই সঙ্গে নতুন কমিটি গঠনে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রভাব যেন না থাকে, সে প্রত্যাশাও রয়েছে তাদের।

    পদপ্রত্যাশী ও বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম খান বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমানের মূল লক্ষ্য হলো মেধা, ত্যাগ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির সমন্বয়। নেতার লক্ষ্য বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে পারবে এবং একই সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে অনুকরণীয় ও নির্ভরযোগ্য নেতৃত্ব—এমন নেতৃত্বই আমাদের প্রত্যাশা।’

    সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু হায়াত মো. জুলফিকার জেসান বলেন, ‘দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের গণতন্ত্র ও শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে যারা সাহসিকতার সঙ্গে রাজপথে থেকেছেন এবং জেল-জুলুম, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের অবদান মূল্যায়নের সময় এসেছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যাদের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে এবং যারা ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সংগঠনের প্রতি সর্বোচ্চ নিষ্ঠা, ত্যাগ ও কমিটমেন্টের পরিচয় দিয়েছেন, তারাই নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সংগঠন ত্যাগ, যোগ্যতা, গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার সমন্বয়ে এমন নেতৃত্বই বেছে নেবে, যারা আগামী দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলকে আরও শক্তিশালী ও শিক্ষার্থীবান্ধব সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে।’

    আরেক পদপ্রত্যাশী ও যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলম বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের একচ্ছত্র আধিপত্যের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদলের সম্পর্ক প্রত্যাশিতভাবে গভীর হতে পারেনি। তাই শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম এবং বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সর্বোচ্চ অবদান রাখা নেতৃত্বই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের জন্য প্রয়োজন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘যারা ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে সংগঠনের স্বার্থকে প্রাধান্য দেন, তাদের নেতৃত্বে ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে।’

    দলীয় সূত্র বলছে, কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন নেতৃত্বের নামও প্রকাশ করা হতে পারে। ফলে নতুন কমিটি ঘিরে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

  • ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা শুরু ১২ ডিসেম্বর

    ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা শুরু ১২ ডিসেম্বর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষা আগামী ১৯ ডিসেম্বর শনিবার, বিজ্ঞানের ১২ ডিসেম্বর শনিবার, ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের পরীক্ষা ২৬ ডিসেম্বর শনিবার, চারুকলা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা (সাধারণ জ্ঞান ও অঙ্কন) আগামী ২২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার এবং ‘আইবিএ ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা ৫ ডিসেম্বর শনিবার অনুষ্ঠিত হবে।রোববার (২ আগস্ট) ঢাবির নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন।

    আইবিএ ইউনিট’ ছাড়া সব ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে বারোটা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। আইবিএ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ‘চারুকলা ইউনিট’ এবং ‘আইবিএ ইউনিট’ ব্যতীত অন্য ৩টি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ঢাকাসহ ৮টি বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম আগামী ১১ নভেম্বর দুপুর ১২টায় শুরু হবে। ২৫ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম শেষ হবে।

    সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অনলাইন ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ৫টি ইউনিটের মাধ্যমে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ইউনিটগুলো হচ্ছে- ‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট’, ‘বিজ্ঞান ইউনিট’, ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট’, ‘চারুকলা ইউনিট’ এবং ‘আইবিএ ইউনিট’।

    বিভাগীয় কেন্দ্রগুলো হচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

    সভায় চারুকলা ইউনিট এবং আইবিএ ইউনিট ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৬০ নম্বরের MCQ এবং ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। চারুকলা ইউনিটের পরীক্ষায় ৪০ নম্বরের MCQ এবং ৬০ নম্বরের অঙ্কন পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষায় ৭০ নম্বরের MCQ এবং ৩০ নম্বরের বর্ণনামূলক পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। চারুকলা ইউনিটের MCQ পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট এবং অঙ্কন/লিখিত পরীক্ষার জন্য ৬০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আইবিএ ইউনিটের MCQ পরীক্ষার জন্য ৯০ মিনিট এবং বর্ণনামূলক পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

    অন্যান্য ইউনিটের MCQ পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট এবং লিখিত পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষায় মোট ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। এরমধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ এবং মাধ্যমিক/সমমান এবং উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষার ফলের ওপর থাকবে ২০ নম্বর।

    ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীদের ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে ২০২১ থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মাধ্যমিক/সমমান এবং ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

    পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) ‘বিজ্ঞান ইউনিট’-এর জন্য মাধ্যমিক/সমমান এবং উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষার জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৮ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.৫ থাকতে হবে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের মানবিক ও বাণিজ্য শাখার শিক্ষার্থীরাও এই ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে।

    ‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট’-এর জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞান ও বাণিজ্য শাখার শিক্ষার্থীরাও এই ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল বিজ্ঞান শাখার জন্য ন্যূনতম ৮.০, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.৫ এবং বাণিজ্য শাখার জন্য ন্যূনতম ৭.৫, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে।

    ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট’-এর জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞান ও মানবিক শাখার শিক্ষার্থীরাও এই ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল বিজ্ঞান শাখার জন্য ন্যূনতম ৮.০, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.৫ এবং মানবিক শাখার জন্য ন্যূনতম ৭.৫, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে।

    ‘চারুকলা ইউনিট’-এর জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৬.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে।

    সভায় ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষায় বিজ্ঞান ইউনিটের ক্ষেত্রে ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার্থীদের কারিকুলাম অনুযায়ী আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।সভায় ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ক্লাস ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ মার্চ শুরুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

  • ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা বিভাগীয় শহরে, আবেদন শুরু ১১ নভেম্বর

    ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা বিভাগীয় শহরে, আবেদন শুরু ১১ নভেম্বর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম আগামী ১১ নভেম্বর দুপুর ১২টায় শুরু হবে। ২৫ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম শেষ হবে।

    রোববার (২ আগস্ট) ঢাবির নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন।সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অনলাইন ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ৫টি ইউনিটের মাধ্যমে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ইউনিটগুলো হচ্ছে- ‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট’, ‘বিজ্ঞান ইউনিট’, ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট’, ‘চারুকলা ইউনিট’ এবং ‘আইবিএ ইউনিট’।

    সভায় ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সময়সূচি অনুযায়ী ‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৯ ডিসেম্বর শনিবার, ‘বিজ্ঞান ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১২ ডিসেম্বর শনিবার, ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২৬ ডিসেম্বর শনিবার, ‘চারুকলা ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা (সাধারণ জ্ঞান ও অঙ্কন) আগামী ২২ ডিসেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার এবং ‘আইবিএ ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৫ ডিসেম্বর শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। ‘আইবিএ ইউনিট’ ছাড়া সকল ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে বারোটা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ‘আইবিএ ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা সকাল ১০:০০টা থেকে দুপুর ১২:০০ টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ‘চারুকলা ইউনিট’ এবং ‘আইবিএ ইউনিট’ ব্যতীত অন্য ৩টি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ঢাকাসহ ৮টি বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে। বিভাগীয় কেন্দ্রসমূহ হচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

    সভায় চারুকলা ইউনিট এবং আইবিএ ইউনিট ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৬০ নম্বরের MCQ এবং ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। চারুকলা ইউনিটের পরীক্ষায় ৪০ নম্বরের MCQ এবং ৬০ নম্বরের অঙ্কন পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষায় ৭০ নম্বরের MCQ এবং ৩০ নম্বরের বর্ণনামূলক পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। চারুকলা ইউনিটের MCQ পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট এবং অঙ্কন/লিখিত পরীক্ষার জন্য ৬০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আইবিএ ইউনিটের MCQ পরীক্ষার জন্য ৯০ মিনিট এবং বর্ণনামূলক পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

    অন্যান্য ইউনিটের MCQ পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট এবং লিখিত পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষায় মোট ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। এরমধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ এবং মাধ্যমিক/সমমান এবং উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষার ফলাফলের উপর থাকবে ২০ নম্বর।

    ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীদের ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে ২০২১ থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মাধ্যমিক/সমমান এবং ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

    পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) ‘বিজ্ঞান ইউনিট’-এর জন্য মাধ্যমিক/সমমান এবং উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষার জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৮ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.৫ থাকতে হবে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের মানবিক ও বাণিজ্য শাখার শিক্ষার্থীরাও এই ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে।

    ‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট’-এর জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞান ও বাণিজ্য শাখার শিক্ষার্থীরাও এই ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল বিজ্ঞান শাখার জন্য ন্যূনতম ৮.০, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.৫ এবং বাণিজ্য শাখার জন্য ন্যূনতম ৭.৫, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে।

    ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট’-এর জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞান ও মানবিক শাখার শিক্ষার্থীরাও এই ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল বিজ্ঞান শাখার জন্য ন্যূনতম ৮.০, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.৫ এবং মানবিক শাখার জন্য ন্যূনতম ৭.৫, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে।

    ‘চারুকলা ইউনিট’-এর জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৬.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে।

    সভায় ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষায় বিজ্ঞান ইউনিটের ক্ষেত্রে ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার্থীদের কারিকুলাম অনুযায়ী আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

    সভায় ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ক্লাস ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ মার্চ শুরুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

  • ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা মানবণ্টন প্রকাশ

    ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা মানবণ্টন প্রকাশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষার মানবণ্টন প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। চারুকলা ইউনিট এবং আইবিএ ইউনিট ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৬০ নম্বরের MCQ এবং ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। চারুকলা ইউনিটের পরীক্ষায় ৪০ নম্বরের MCQ এবং ৬০ নম্বরের অঙ্কন পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষায় ৭০ নম্বরের MCQ এবং ৩০ নম্বরের বর্ণনামূলক পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। চারুকলা ইউনিটের MCQ পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট এবং অঙ্কন/লিখিত পরীক্ষার জন্য ৬০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আইবিএ ইউনিটের MCQ পরীক্ষার জন্য ৯০ মিনিট এবং বর্ণনামূলক পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

    অন্যান্য ইউনিটের MCQ পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট এবং লিখিত পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষায় মোট ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। এরমধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ এবং মাধ্যমিক/সমমান এবং উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষার ফলের ওপর থাকবে ২০ নম্বর।

    রোববার (২ আগস্ট) ঢাবির নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন।

    কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষা আগামী ১৯ ডিসেম্বর শনিবার, বিজ্ঞানের ১২ ডিসেম্বর শনিবার, ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের পরীক্ষা ২৬ ডিসেম্বর শনিবার, চারুকলা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা (সাধারণ জ্ঞান ও অঙ্কন) আগামী ২২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার এবং ‘আইবিএ ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা ৫ ডিসেম্বর শনিবার অনুষ্ঠিত হবে।

    আইবিএ ইউনিট’ ছাড়া সব ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে বারোটা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। আইবিএ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ‘চারুকলা ইউনিট’ এবং ‘আইবিএ ইউনিট’ ব্যতীত অন্য ৩টি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ঢাকাসহ ৮টি বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম আগামী ১১ নভেম্বর দুপুর ১২টায় শুরু হয়ে চলবে ২৫ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।

    সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অনলাইন ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ৫টি ইউনিটের মাধ্যমে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ইউনিটগুলো হচ্ছে- ‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট’, ‘বিজ্ঞান ইউনিট’, ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট’, ‘চারুকলা ইউনিট’ এবং ‘আইবিএ ইউনিট’।

    বিভাগীয় কেন্দ্রগুলো হচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

    ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীদের ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে ২০২১ থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মাধ্যমিক/সমমান এবং ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

    পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) ‘বিজ্ঞান ইউনিট’-এর জন্য মাধ্যমিক/সমমান এবং উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষার জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৮ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.৫ থাকতে হবে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের মানবিক ও বাণিজ্য শাখার শিক্ষার্থীরাও এই ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে।

    ‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট’-এর জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞান ও বাণিজ্য শাখার শিক্ষার্থীরাও এই ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল বিজ্ঞান শাখার জন্য ন্যূনতম ৮.০, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.৫ এবং বাণিজ্য শাখার জন্য ন্যূনতম ৭.৫, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে।

    ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট’-এর জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞান ও মানবিক শাখার শিক্ষার্থীরাও এই ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল বিজ্ঞান শাখার জন্য ন্যূনতম ৮.০, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.৫ এবং মানবিক শাখার জন্য ন্যূনতম ৭.৫, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে।

    ‘চারুকলা ইউনিট’-এর জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৬.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে।

    সভায় ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষায় বিজ্ঞান ইউনিটের ক্ষেত্রে ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার্থীদের কারিকুলাম অনুযায়ী আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

    সভায় ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ক্লাস ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ মার্চ শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

  • বরখাস্ত হচ্ছেন ঢাবির অধ্যাপক সাদেকা হালিম

    বরখাস্ত হচ্ছেন ঢাবির অধ্যাপক সাদেকা হালিম

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধ্যাপক সাদেকা হালিমকে স্থায়ী বরখাস্তের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছয় অধ্যাপককে সব ধরনের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই)। এর আগে গত ২৮ জুলাই রাতে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    ঢাবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    সভা সূত্রে জানা যায়, সিন্ডিকেট সভায় অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে আগের তদন্ত কমিটির স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত হয়। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাইব্যুনাল।

    অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক। তিনি ২০২২ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    সিন্ডিকেট সভায় ছয়জন অধ্যাপককে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে নীল দলকে নিষিদ্ধের বিষয়েও তদন্ত কমিটি গঠনসহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    অব্যাহতিপ্রাপ্ত ছয়জন হলেন, ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মুহিত, ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক আবু সারা শামসুর রউফ, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন। পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিক শাহরিয়ার, নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আফরোজা শেলী এবং অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম।

    তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা প্রশাসনিক দায়িত্ব ও ক্লাস নেওয়া থেকে বিরত থাকবেন।

    বরখাস্তের মুখে পড়া সাদেকা হালিম ও অব্যাহতি পাওয়া ছয় শিক্ষক আওয়ামীপন্থি নীল দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

    বিষয়টি নিয়ে সাদেকা হালিম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তিনি এ বিষয়ে গণমাধ্যমে কথা বলবেন না। আর অব্যাহতি পাওয়া ছয় শিক্ষকও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. তাজমেরি এস এ ইসলাম বলেন, জুলাই নিয়ে কটূক্তি ও জুলাইবিরোধী অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগে আরও অনেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা মিললে তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কমিটিগুলো দ্রুত কাজ শেষ করবে।