ঢাকা

  • বাংলাদেশের গ্রিড বিপর্যয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন এক-তৃতীয়াংশের বেশি কমেছে

    বাংলাদেশের গ্রিড বিপর্যয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন এক-তৃতীয়াংশের বেশি কমেছে

    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর বেলা প্রায় ১২টা ৪৩ মিনিটে পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডে বিপর্যয়ে পূর্ব ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু অংশে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে বাংলাদেশ সচিবালয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং বিচারকাজ চলতে থাকা একটি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই ঘণ্টায় জাতীয় উৎপাদন ৫ হাজার ৩৭০ মেগাওয়াট কমে, যা দুপুরে উৎপাদিত বিদ্যুতের এক-তৃতীয়াংশের বেশি। কারণ এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

    ছবির ক্যাপশন: সন্ধ্যায় ঢাকার মালিবাগের ফাইল ছবি। এটি ২৭ অক্টোবরের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ছবি নয়। ছবি: Sharminsumona, CC BY-SA 4.0, উইকিমিডিয়া কমন্সের মাধ্যমে।

    সংক্ষেপে

    • পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি জানিয়েছে, বেলা প্রায় ১২টা ৪৩ মিনিট থেকে মতিঝিল, গুলশান, রামপুরা ও মগবাজারসহ পূর্ব ঢাকা এবং চট্টগ্রামের কিছু অংশে সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়। সচিবালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।
    • দুপুর ১২টায় উৎপাদন ছিল ১৪ হাজার ৭১৯ মেগাওয়াট, বেলা ১টায় তা ৯ হাজার ৩৪৯ মেগাওয়াটে নামে। ওই ঘণ্টায় গ্যাসভিত্তিক উৎপাদন প্রায় ৬০ শতাংশ এবং কয়লাভিত্তিক উৎপাদন প্রায় ৩৯ শতাংশ কমে। বেলা ৩টায় উৎপাদন ছিল ১০ হাজার ৮২৫ মেগাওয়াট।
    • ট্রাইব্যুনাল আধঘণ্টা অপেক্ষার পর দিনের কার্যক্রম স্থগিত করে। একজন প্রসিকিউটর বলেছেন, বিদ্যুৎ না থাকায় ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ আগে কখনো বন্ধ হওয়ার কথা তাঁর মনে নেই।
    • বিদ্যুৎ বিভাগ বিপর্যয়কে কারিগরি ত্রুটি বলেছে। তাদের বক্তব্য, বিকেল গড়ানোর মধ্যে বেশির ভাগ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ ফিরেছিল এবং অন্যত্র কাজ চলছিল। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একজন সদস্য রাত ১০টার মধ্যে পরিস্থিতি স্বস্তিকর পর্যায়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেছিলেন।

    বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বন্ধ

    পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি জানিয়েছে, পূর্ব ঢাকার ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন, মতিঝিল, মগবাজার, বনশ্রী ও খিলগাঁও এবং চট্টগ্রামের কিছু অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়। বিদ্যুৎহীন প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরও ছিল: বাংলাদেশ সচিবালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বিদ্যুৎ হারায়। পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় গ্রিডের কার্যক্রম ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। উত্তরাঞ্চলসহ দেশের অন্য এলাকায় সরবরাহ চালু ও স্বাভাবিক ছিল।

    ট্রাইব্যুনালে বিভ্রাট বিচারকার্যক্রমে প্রভাব ফেলে। আধঘণ্টা অপেক্ষার পরও বিদ্যুৎ না ফিরলে আদালত কার্যক্রম স্থগিত করে এবং দিনের বাকি সময় না বসার সিদ্ধান্ত নেয়। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হোসেন তামিম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ বন্ধ হওয়ার পূর্ববর্তী কোনো ঘটনা তাঁর মনে পড়ছে না।

    এক ঘণ্টায় উৎপাদনের বড় পতন

    পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ঘণ্টাভিত্তিক পরিসংখ্যানে বিপর্যয়ের মাত্রা পাওয়া যায়, যা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড প্রকাশ করেছে। দুপুর ১২টার ১৪ হাজার ৭১৯ মেগাওয়াট থেকে বেলা ১টায় উৎপাদন ৯ হাজার ৩৪৯ মেগাওয়াটে নামে। এক ঘণ্টায় কমে ৫ হাজার ৩৭০ মেগাওয়াট। কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক বড় কয়েকটি কেন্দ্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। গ্যাসভিত্তিক উৎপাদন ৪ হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট থেকে ১ হাজার ৭৩৪ মেগাওয়াটে নামে। কমে ২ হাজার ৬৪৮ মেগাওয়াট, প্রায় ৬০ শতাংশ। কয়লাভিত্তিক উৎপাদন ৪ হাজার ৮৬৩ থেকে ২ হাজার ৯৪৭ মেগাওয়াটে নামে। কমে ১ হাজার ৯১৬ মেগাওয়াট, প্রায় ৩৯ শতাংশ। দুই জ্বালানি মিলিয়ে ওই ঘণ্টার উৎপাদন হ্রাসের ৪ হাজার ৫৬৪ মেগাওয়াটের হিসাব পাওয়া যায়। বেলা ৩টায় উৎপাদন বেড়ে ১০ হাজার ৮২৫ মেগাওয়াট হয়েছিল। পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ঘণ্টাভিত্তিক তথ্য তখন ওই সময়ের পর আর হালনাগাদ হয়নি।

    প্রাথমিক এক প্রতিবেদনে মেঘনাঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকাকে বিপর্যয়ের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে ওই বিবরণে পুরো কারিগরি ঘটনাক্রম প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বলেছে, ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রগুলোর সম্পূর্ণ ও নিশ্চিত তালিকা তখনো পাওয়া যায়নি। উৎপাদন কমার হিসাব হারানো বিদ্যুৎ উৎপাদন বোঝায়; এটি নিজে থেকে কোন যন্ত্রাংশে ত্রুটি হয়েছে বা কী কারণ, তা প্রমাণ করে না।

    সকাল ১১টায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড চাহিদা ১৪ হাজার ৬০১ মেগাওয়াট ও উৎপাদন ১৪ হাজার ৩০৩ মেগাওয়াট বলেছিল। ঘাটতি ছিল ২৯৮ মেগাওয়াট। আগের ওই ঘাটতির সঙ্গে পরের বিপর্যয়ের কোনো সম্পর্ক কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠা করেননি। এসব পরিসংখ্যান ব্যবস্থার সম্পূর্ণ রিজার্ভ মার্জিন মাপে না বা কার্যকারণ সম্পর্ক প্রমাণ করে না।

    সকালে মন্ত্রীর বক্তব্য

    ওই দিন সকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বুয়েটের রিনিউয়েবল এনার্জি ফেস্টে বক্তব্য দেন। তিনি বেশি দামে বিদ্যুৎ কেনা ও ভর্তুকি দিয়ে বিক্রির কথা বলেন। অলস বিদ্যুৎকেন্দ্রের অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা বদলালে ব্যাংক খাতে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেন। বিভিন্ন উৎসের উৎপাদন যুক্ত করতে গ্রিড আধুনিকায়ন প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। এসব নীতিগত উদ্বেগ বিকেলের বিভ্রাটের কারণ প্রতিষ্ঠা করে না।

    এরপর যা হবে

    বিদ্যুৎ বিভাগ ঘটনাকে কারিগরি ত্রুটি হিসেবে বর্ণনা করে জানায়, বেশির ভাগ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ ফিরেছে এবং অন্যত্র পুনরুদ্ধার চলছিল। পরে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের বিবৃতি নিয়ে সংবাদে বলা হয়, বেলা ২টা ৩০ মিনিটে গ্রিড পুনরুদ্ধার শেষ হয়েছিল। সঞ্চালন সংযোগ ফেরানো ও উৎপাদন পুনরুদ্ধার ভিন্ন মাপকাঠি। কোনোটিই একা প্রত্যেক গ্রাহকের স্বাভাবিক সেবা নিশ্চিত করে না।

    বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের উৎপাদনের দায়িত্বে থাকা সদস্য মো. জহুরুল ইসলাম এর আগে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেছিলেন, বিবিয়ানা-৩ ও আরএনপিএল ইউনিট-১সহ কেন্দ্রগুলো ফিরছিল। রাত ১০টার মধ্যে সরবরাহ স্বস্তিকর পর্যায়ে পৌঁছানোর আশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। সেটি প্রত্যাশা ছিল, নিশ্চিত পুনরুদ্ধারের সময় নয়। তা মূল্যায়নে পরবর্তী উৎপাদন ও গ্রাহকসেবার তথ্য প্রয়োজন।

    ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর ও ২০১৪ সালের ১ নভেম্বরও বাংলাদেশে বড় গ্রিড বিপর্যয় হয়েছিল। এসব পূর্বঘটনা প্রমাণ করে না যে সর্বশেষ ঘটনার কারণও একই। সঞ্চালনব্যবস্থা পরিচালনাকারী পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসিকে তদন্তের মাধ্যমে কারিগরি ঘটনাক্রম নির্ধারণ করতে হবে।

  • তিন সিটির রাস্তা-ড্রেন উন্নয়নে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

    তিন সিটির রাস্তা-ড্রেন উন্নয়নে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

    ঢাকা দক্ষিণ, রংপুর ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সড়ক, ড্রেনেজ ও অবকাঠামো উন্নয়নে ৫ হাজার ১৮৪ কোটি ব্যয়ে ৪টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

    আজ বুধবার (৭অক্টোবর) একনেক সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়।

    প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে রাজধানীর সচিবালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রকল্পগুলোর আওতায় এসব সিটি করপোরেশনে মূলত সড়ক, ড্রেনেজ ও নগর অবকাঠামোর উন্নয়ন হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন ৫টি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডে সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন করা হবে। প্রকল্প শুরুর দুই বছরের মধ্যে সমন্বিত পয়োনিষ্কাশন পরিকল্পনা (এসটিপি) যুক্ত করা হবে।

    একনেক সভা শেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এক প্রেস ব্রিফংয়ে এ তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।

    রংপুর সিটি করপোরেশনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসন করা হবে। এ ছাড়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনে সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নের পাশাপাশি নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ করা হবে।

  • ঢাকার যানজট নিরসনে ৪ টার্মিনাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে

    ঢাকার যানজট নিরসনে ৪ টার্মিনাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে

    সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও গুলিস্তান—এ চারটি বাস টার্মিনাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়া ও বিদ্যমান ডিপো ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, এর পাশাপাশি গাবতলী টার্মিনালের বিকল্প টার্মিনাল সম্প্রসারণ, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সিটি করপোরেশনের টার্মিনাল উন্নয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    রোববার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে বৃহত্তর ঢাকার যানজট নিরসনের জন্য গঠিত জাতীয় কমিটির সভা শেষে বাসসকে এসব কথা বলেন তিনি।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে যে নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন কতদূর এগিয়েছে এবং কোন কোন কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন, সভায় মূলত এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    তিনি বলেন, যানজট নিরসনে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো যথাসময়ে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    সড়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর যানজটের অন্যতম কারণ হচ্ছে শহরের ভেতরে বাস ও গণপরিবহনের অতিরিক্ত চাপ। এ চাপ কমাতে বিদ্যমান টার্মিনালগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প স্থানে টার্মিনাল ও ডিপো ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘যানজট নিরসনের জন্য আমাদের যে টার্মিনালগুলো রয়েছে, সেগুলোর কিছু অংশ আপাতত আমাদের যে ডিপোগুলো রয়েছে, সেগুলোতে ব্যবহার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমরা কাচপুর, এরপর পূর্বাচল— এসব জায়গা ব্যবহার করার বিষয়টি দেখছি।’

    প্রতিমন্ত্রী জানান, এছাড়া গাবতলী বাস টার্মিনালকে আরো সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। গাবতলীর পাশের নতুন জায়গাগুলো কীভাবে দ্রুত কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। রাজধানীর প্রবেশপথে গণপরিবহনের চাপ কমাতে এসব বিকল্প অবকাঠামো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ঢাকার আশপাশের নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের ওপর থাকা অবৈধ স্থাপনাগুলোও যানজটের অন্যতম কারণ। এসব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে সড়কগুলো যান চলাচলের উপযোগী করার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে।

    তিনি বলেন, শুধু রাজধানীর ভেতরে যানজট নিরসনের উদ্যোগ নিলে হবে না। বৃহত্তর ঢাকার সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য ঢাকার আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কের প্রতিবন্ধকতা দূর করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং গণপরিবহনের সুশৃঙ্খল চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    সভায় মূলত চারটি বাস টার্মিনালকে কেন্দ্র করে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এসব টার্মিনালের বর্তমান ব্যবস্থাপনা, বিকল্প জায়গায় স্থানান্তরের সম্ভাবনা, ডিপো ব্যবহারের সুযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় থাকা টার্মিনালগুলোও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব টার্মিনালে বাস পরিচালনার জন্য কাউন্টার স্থাপন, যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনা আরো কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    বিশেষ করে এসি বাসগুলোকে নির্দিষ্ট টার্মিনাল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। বাস কাউন্টার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা কোথায় এবং কীভাবে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে শুধু সড়ক প্রশস্ত করা বা নতুন সড়ক নির্মাণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। গণপরিবহনের টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা, বাসের চলাচল, পার্কিং, কাউন্টার ব্যবস্থাপনা এবং রাজধানীর প্রবেশ ও বহির্গমনপথে যানবাহনের চাপ, সবগুলো বিষয় সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।

    সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তব অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি যেসব ক্ষেত্রে কাজ ধীরগতিতে চলছে, সেগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের প্রশাসকবৃন্দ এবং সড়ক মন্ত্রণালয় সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

  • তারেক রহমানের দিল্লি সফর বাতিল করল ঢাকা

    তারেক রহমানের দিল্লি সফর বাতিল করল ঢাকা

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা আপাতত বাতিল হয়ে গেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছে, ‘এই সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।’

    ঢাকায় রোববার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম।

    এর আগে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো আভাস দিয়েছিল, আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি দুই দিনের সফরে ভারত যেতে পারেন তারেক রহমান।

    মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম বলেছেন, ‘দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ঘাতকদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি। বাংলাদেশ এই জবাবের অপেক্ষায় আছে।’

    প্রসঙ্গত, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা ভারতীয় লোকসভার স্পিকার দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

    এছাড়া ভারতের দিক থেকে আরও একটি আমন্ত্রণ ছিল। সেটি হলো, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে ব্রিকসের যে সম্মেলন হবে, সেখানে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাতের পর এসব আমন্ত্রণের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, তারা তখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।

    কিন্তু এর মধ্যেই দুই দেশের সংবাদমাধ্যমে কর্তৃপক্ষের সূত্রকে উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে দিল্লি সফরে যেতে পারেন বলে খবর বেরিয়েছিল।

    রোববার দুপুরে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ‘উভয় দেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে পরস্পরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছে।’

    ‘তবে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা গত ৫ আগস্ট নতুন দিল্লিতে যেভাবে প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন, তাতে এই প্রক্রিয়ার পরিবেশ বিনষ্ট হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছি। আমরা মনে করি, এই সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।’

    শহীদুল করিম বলেন, ‘দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ঘাতকদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি। বাংলাদেশ এই জবাবের অপেক্ষায় আছে।’

    ‘এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে প্রতিবেশীসহ অন্যান্য সকল দেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে আমরা আমাদের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ (বাংলাদেশ প্রথম) নীতি অব্যাহত রাখব।’

  • ঢাকার চারপাশের নদীদূষণ রোধে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    ঢাকার চারপাশের নদীদূষণ রোধে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণ রোধে দ্রুত একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ও পরিবেশ উন্নয়ন’ শীর্ষক এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন বলে জানিয়েছেন উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন।

    বৈঠকে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা এবং রাজধানীসংলগ্ন অন্যান্য নদীর বর্তমান পরিবেশগত অবস্থা, দূষণের উৎস, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে নিঃসরণ, অপর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খালগুলোর নাব্যতা হ্রাস এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতাকে নদীদূষণের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

    এসময় নদীদূষণ রোধে শিল্পকারখানায় বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) কার্যকরভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করা, খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, দূষণকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, বিদ্যমান পরিবেশ আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

    এছাড়া বৈঠকে পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা ওয়াসা, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), রাজউক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী এই কার্যক্রমে পরিবেশবাদী সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার নির্দেশ দেন।

    বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, রাজধানীর চারপাশের নদীদূষণ রোধে একটি সমন্বিত ও সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে একটি আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার কার্যক্রম সমন্বয় করবে এবং নির্ধারিত সময় অন্তর অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নদীদূষণ এখন দুর্বিষহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে। তাই দূষণ রোধে কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে কোনো ধরনের অবহেলার সুযোগ নেই। কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের পাশাপাশি এর কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে।’

    বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, ঢাকা নৌ এলাকার কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ-আল-মাকসুস, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ. বি. এম. আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • বিজিবি-বিএসএফের যৌথ বিবৃতি

    বিজিবি-বিএসএফের যৌথ বিবৃতি

    দিল্লির বৈঠক থেকে শান্তির বার্তা, একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার

    সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও উত্তেজনার ঘটনার মধ্যেও আলোচনার পথেই এগিয়ে চলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও ভারত। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের চার দিনব্যাপী বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।

    গত ৯ জুন শুরু হয়ে ১১ জুন শেষ হওয়া ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং ভারতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার।

    যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশের সীমান্তকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ এবং অপরাধমুক্ত রাখতে উভয় বাহিনী ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাবে। সীমান্তে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কমিয়ে আনা, পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে উদ্ভূত সমস্যার সমাধানে উভয়পক্ষ একমত হয়েছে।

    বৈঠকে সীমান্ত হত্যা, অনিয়মিত অনুপ্রবেশ, মানবপাচার, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উভয়পক্ষই এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতার মনোভাব বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।

    কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতপার্থক্য দেখা দিলেও দুই দেশের শীর্ষ সীমান্তরক্ষী কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে খোলামেলা আলোচনা হওয়া একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। কারণ, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই ধরনের বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক শুধু সীমান্ত নিরাপত্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বহু ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে সীমান্ত সংক্রান্ত যেকোনো বিষয় আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক।

    যৌথ বিবৃতিতে উভয় বাহিনী সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণের বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেও দুই পক্ষ একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে যখন সীমান্ত প্রশ্নে নানা ধরনের উত্তেজনা ও সংঘাত দেখা যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হতে পারে। দিল্লির এই বৈঠক তাই শুধু সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা নয়, বরং দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আস্থা, সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত হলে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আরও সুদৃঢ় হবে এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

  • মনগড়া মতবাদ সমাজে শান্তি ও সম্মান দিতে পারবে না

    মনগড়া মতবাদ সমাজে শান্তি ও সম্মান দিতে পারবে না

    জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মসজিদে নববীকে কেন্দ্র করে মহানবী (সা.) যে সমাজ গড়ে তুলেছিলেন, সেই সমাজ ছিল বিশ্বের সবচেয়ে ভাল ও মর্যাদার। সেই সমাজ বাদ দিয়ে মনগড়া কোন মতবাদের গড়া সমাজ শান্তি ও সম্মান কোনটাই দিতে পারবে না।

    তিনি বলেন, এদেশের ৯০ শতাংশ মানুষ আল্লাহর ওপর ঈমান রাখে। তারা কোরআন মানে, রাসুল (সা.) কে শেষ নবী মানে। তাই এদেশের আইন চলবে কোরআনের মতবাদে ইনশাআল্লাহ। এই জায়গায় যতদিন দেশ না আসবে, ততদিন মানবিক সমাজ কায়েম করতে পারব না।

    তিনি রোববার রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সম্মিলিত ইমাম-খতিব পরিষদ আয়োজিত জাতীয় সম্মেলনে এসব কথা বলেন। এতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শীর্ষ আলেমরা বক্তব্য রাখেন।

    কোরআনের আইন চালু হলে অন্য ধর্মের মানুষের কি হবে এমন প্রশ্ন উঠতে পারে জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, কোরআন শুধু মানুষ নয় সব সৃষ্টির অধিকার দিয়েছে। মদীনায় যেমন সব ধর্মের মানুষ স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা ভোগ করেছে, আমাদের দেশেও আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা হলে সেই অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

    জামায়াত আমির বলেন, মসজিদ কমিটি হবে ইমাম-খতিবদের পরামর্শের ভিত্তিতে। কমিটির প্রাণপুরষ হবেন খতিব-ইমামরা। তাদের বাদ নিয়ে নয়, সহযোগিতার ভিত্তিতে কমিটি হতে হবে।

    তিনি ইমাম-খতিবদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনার আমাদের ইমাম। আমরা আপনাদের সম্মান দেখাতে চাই। সমাজের ফয়সালা মেম্বার থেকে আসবে ইনশাআল্লাহ। ইমামরা যেদিন সমাজের ইমাম হবে সেদিন আমাদের মুক্তি হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।