সিলেটে ডিপথেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এক কিশোরী মৃত্যুবরণ করেছে। মৃত কিশোরীর নাম জুবলী বেগম। তার বয়স ১৬ বছর ৮ মাস। সে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার উত্তর ইসলামপুর গ্রামের আব্দুল কালাম এর মেয়ে। ডিপথেরিয়ায় মৃত্যুর ঘটনায় সিলেটে নতুন করে আতংক দেখা দিয়েছে।
১৭ অক্টোবর শনিবার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক-কান-গলা বিভাগের ৮ নম্বর মহিলা ওয়ার্ডে জুবলী বেগমকে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা নীরিক্ষায় তার ডিপথেরিয়া ধরা পড়ে। দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালটির নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তির পরামর্শ দিলেও সিট খালি না থাকায় পরবর্তীতে বিশেষায়িত শহীদ শামসুদ্দীন হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। কিন্তু ১৮ অক্টোবর রবিবার মাত্র ৩/৪ ঘন্টার মাথায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ডেই তার মৃত্যু হয়। মৃত জুবলী বেগমের ভর্তি আইডি নম্বর এ-০১২৬১০০১১৯৭০ এবং রেজি: নম্বর ০১২৬১০০২৩৫২০।
মৃত জুবলী বেগমের বাবা আব্দুল কালামের সাথে ফোনে আলাপকালে তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক আমার মেয়েকে আইসিইউতে ভর্তির পরামর্শ দিলেও সময়ক্ষেপণ করে তারা শহীদ শামসুদ্দীন হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেন, তখন অনেক দেরী হয়ে গেছে ফলে আমার মেয়েটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। জুবলী ছাড়া আব্দুল কালামের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। এব্যাপারে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো: নাসির উদ্দিনের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অফিস চলাকালীন সময়ে কথা বলতে বলেন।
ডিপথেরিয়া কী?
ডিপথেরিয়া (Diphtheria) একটি সংক্রামক ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যা মূলত Corynebacterium Diphtheriae নামের ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। রোগটি সাধারণত নাক ও গলায় সংক্রমণ ঘটায়। সময়মতো চিকিৎসা না হলে শ্বাসনালি বন্ধ হয়ে যাওয়া, হৃদ্যন্ত্রের ক্ষতি, স্নায়বিক জটিলতা এবং মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
ডিপথেরিয়ার লক্ষণ সমূহের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে গলাব্যথা ও জ্বর, গিলতে কষ্ট হওয়া, দুর্বলতা ও ঘাড় ফুলে যাওয়া, গলার ভেতরে ধূসর বা সাদাটে পুরু আবরণ তৈরি হওয়া, গুরুতর অবস্থায় শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া। রোগটি আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়াতে পারে। ডিপথেরিয়া প্রতিরোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হচ্ছে টিকা।
সর্বশেষ তথ্যমতে ২০১৭ সালে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে বড় ধরনের ডিপথেরিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৬ সালের প্রকাশিত পর্যালোচনা অনুযায়ী, ডিপথেরিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা ২০১৭ সালে ৩০, ২০১৮ সালে ১৪ এবং ২০১৯ সালে ৩ জন ছিল। ২০২০ সালে কোনো মৃত্যু নথিভুক্ত হয়নি। ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও ওই প্রাদুর্ভাবে-নজরদারি কার্যক্রমে কোনো মৃত্যু নথিভুক্ত হয়নি।
উল্লেখ্য, কক্সবাজারের এই পরিসংখ্যান পুরো বাংলাদেশের জাতীয় মৃত্যুসংখ্যা নয়। তাই এই তথ্য থেকে বাংলাদেশে বর্তমানে ডিপথেরিয়ায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য—এমনটি বলা যায়না।
