ট্যাগ ডাকসু

  • জিন্নাহকে দায়মুক্তি দিতে চায় ছাত্রদল: ফরহাদ

    জিন্নাহকে দায়মুক্তি দিতে চায় ছাত্রদল: ফরহাদ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি রাখা নিয়ে মুখ খুলেছেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ। সোমবার বিকেলে ডাকসু ভবনের সামনে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

    এস এম ফরহাদ বলেন, ‘সরাসরি বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে সংগ্রহশালার ছবিতে জিন্নাহকে সেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ছাত্রদল তাদের বিবৃতির মাধ্যমে এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, ছাত্রদল এখানে পক্ষান্তরে জিন্নাহর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা চায় জিন্নাহকে দায়মুক্তি দিতে এবং তারা চায় ছবিটা এখান থেকে সরিয়ে নিতে। এমনকি তারা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামও দিয়েছে। এর মধ্যে এটা না সরালে তারা ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।’

    এর আগে দুপুরে সংগ্রহশালায় রাখা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ওই ছবি ভেঙে ফেলেন আবু তৈয়ব হাবিলদার নামের এক সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি ডাকসু নির্বাচনের আলোচিত ও বয়োজ্যেষ্ঠ ভিপি (সহ-সভাপতি) প্রার্থী ছিলেন। এ পদে তার প্রাপ্ত ভোট ছিল ১০। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের উর্দু বিভাগের ছাত্র।

    ছবি ভাঙার বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করে ডাকসুর জিএস বলেন, ‘যিনি জিন্নাহর ছবি ভেঙেছেন, শুনলাম তিনি উর্দু বিভাগের। আমি অবাক হলাম। সম্ভবত তিনি উর্দু বিভাগেরই, সে কারণে জিন্নাহর প্রতি আলাদা একটা দরদ আছে। আর এ কারণেই এটা হয়েছে। আমরা কিন্তু ছবির ক্যাপশনে উল্লেখ করেছি, তিনি উর্দুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। যিনি ছবিটি ভেঙেছেন, তিনি হয়তো চান না উর্দুর ব্যাপারে জিন্নাহর সেই অবস্থান মানুষ জানুক। সে কারণেই তিনি এটা ভেঙেছেন। অর্থাৎ, তিনিও জিন্নাহর পক্ষ নিয়েছেন।’

  • ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি অপসারণ চাই ছাত্রদল

    ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি অপসারণ চাই ছাত্রদল

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ১৯৪৮ সালের ছবি প্রদর্শনের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

    সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

    তারা উল্লেখ করেন, ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে দাঁড়িয়ে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অকুতোভয় ছাত্রসমাজ জিন্নাহর সেই চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সোচ্চার হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিল, যা পরবর্তীতে আমাদের রক্তক্ষয়ী ভাষা আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি গড়ে দেয়। যে ছাত্রসংসদ বাংলার স্বাধিকার আন্দোলনের সূতিকাগার, ডাকসুর সংগ্রহশালায় সেই বিতর্কিত নেতার ছবি প্রদর্শন করা ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহ্যের প্রতি সরাসরি অবমাননা।

    ছাত্রদলের অভিযোগ, ‘ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্ব সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন, আবশ্যিক অধিকার আদায় ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরিতে পুরোপুরি ব্যর্থ। শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত স্বার্থের তোয়াক্কা না করে তারা পরিষদটিকে নিজেদের সুনির্দিষ্ট দলীয় ও আদর্শিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ারে পরিণত করেছে। মধুর ক্যান্টিনের নাম পরিবর্তন করে ‘ইশরাত মঞ্জিল’ করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা থেকে শুরু করে ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর বিতর্কিত ছবি স্থাপন—এসব ধারাবাহিক কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে, শিবির নিয়ন্ত্রিত ডাকসুর এই পরিষদ শিক্ষার্থীদের গণআকাঙ্ক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিকামী চেতনাকে বিসর্জন দিয়ে, ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রতি তাদের প্রচ্ছন্ন অনুরাগ ও পাকিস্তানপ্রেম জাহির করছে।’

    বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, অবিলম্বে ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে বাংলা ভাষার বিরোধিতাকারী মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি অপসারণ করতে হবে। ডাকসুকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শচর্চার স্থান হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ঐতিহাসিক স্মারক ও চেতনাকে বিকৃত করার সব অপপ্রয়াস রুখে দেওয়া হবে।

  • ডাকসুর জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেললেন তৈয়ব হাবিলদার

    ডাকসুর জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেললেন তৈয়ব হাবিলদার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় রাখা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ভেঙে দিয়েছেন আবু তৈয়ব হাবিলদার নামে সাবেক এক শিক্ষার্থী। সোমবার দুপুরে সংগ্রহশালায় গিয়ে ফ্রেম ভেঙে ছবিটি ছিঁড়ে ফেলেন তিনি।

    আবু তৈয়ব ডাকসু নির্বাচনের আলোচিত ও বয়োজ্যেষ্ঠ ভিপি (সহ-সভাপতি) প্রার্থী ছিলেন। এ পদে তার প্রাপ্ত ভোট ছিল ১০। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের উর্দু বিভাগের ছাত্র।

    ছবি ভাঙার আগে আবু তৈয়ব হাবিলদার বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূত্রটা জিন্নাহ তৈরি করে দিয়েছে। কার্জন হলে ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে বলে যে, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে, বাংলা হবে না। আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্র প্রতিবাদ করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, জিন্নাহ সাহেব আপনার এই সিদ্ধান্ত আমরা মানি না।’

    তিনি বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের মূল নায়ক হিসেবে প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম ১১ মার্চ ১৯৪৮ শুরু করেছিলেন এবং উনার নেতৃত্বে হরতাল পালন হয়েছিল। সেখানে অনেক ছাত্র গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, দুই হাজারের ওপরে। সেই জিন্নাহ ডাকসুতে স্থান পেতে পারে না।’

  • বিপ্লবোত্তর অন্যরকম ডাকসুর এক বছর

    বিপ্লবোত্তর অন্যরকম ডাকসুর এক বছর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী নির্বাচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বর্তমান কমিটির এক বছর পূর্ণ হয়েছে। এ সময়ে পরিবহন সেবা সম্প্রসারণ, মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়ন, গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতির বিলুপ্তি, রিডিংরুমে এসি ও কম্পিউটার সুবিধা, হলভিত্তিক জিমনেসিয়াম, দক্ষতা উন্নয়ন ও ক্যারিয়ার সহায়তাসহ বেশ কিছু দৃশ্যমান উদ্যোগ নিয়েছে এ কমিটি।

    গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ভিপি সাদিক কায়েম ও জিএস এসএম ফরহাদের নেতৃত্বাধীন কমিটি ১৪ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেয়। ৩৬ দফা নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরে সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সম্ভব না হলেও বেশ কয়েকটি খাতে ডাকসুর কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

    ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, সীমিত বাজেটের মধ্যেও স্পনসর ও বিভিন্ন সহযোগিতা সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ কাজ করার চেষ্টা করেছেন তারা। ইশতেহারের বাইরেও অসংখ্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    পরিবহনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি

    ডাকসুর দৃশ্যমান অর্জনের তালিকায় পরিবহন সেবা অন্যতম। এ খাতে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার কাজ হয়েছে বলে জানিয়েছে ডাকসু। নতুন কয়েকটি রুট চালুর পাশাপাশি কুমিল্লা পর্যন্ত বাসসেবা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। সান্ধ্যকালীন ও শনিবারের বাস ট্রিপ চালুর উদ্যোগের পাশাপাশি বাসের অবস্থান জানাতে ‘লালবাস’ অ্যাপ চালুর কাজও এগিয়েছে। শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন যাতায়াতের চাপ কমাতে এসব উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

    গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতির অবসান

    জুলাই-পরবর্তী ডাকসুর সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগগুলোর একটি হলো আবাসিক হলের গণরুম ও গেস্টরুম নির্যাতনের সংস্কৃতি বিলুপ্ত করা। ভিপি সাদিক কায়েমের দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি গণরুম ও গেস্টরুম স্থায়ীভাবে বিলুপ্ত করা হয়েছে।

    আগের গণরুমগুলোর কিছু অংশকে রিডিংরুমে রূপান্তর করা হয়েছে। এসব রিডিংরুমে এসি ও কম্পিউটার সুবিধা যুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন হলে জিমনেসিয়াম স্থাপন এবং হলভিত্তিক শিক্ষার্থীবান্ধব অবকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    অবকাঠামোয় বড় বিনিয়োগ

    কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের উন্নয়নে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। একই পরিমাণ অর্থায়নে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সংস্কার কাজ চলছে। ঐতিহাসিক মুসা খাঁ মসজিদ সংস্কারে ব্যয় হচ্ছে প্রায় দুই কোটি ৮০ লাখ টাকা।

    বিভিন্ন আবাসিক হলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপনেও প্রায় ছয় কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। রিডিংরুম ও শিক্ষার্থীদের অন্যান্য সুবিধা উন্নয়নেও অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে।

    নারী শিক্ষার্থীদের জন্যও কিছু আলাদা উদ্যোগ নিয়েছে ডাকসু। তাদের জন্য শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রে জিমনেসিয়াম উন্নয়নে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। কলাভবনে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার, মেয়েদের কমনরুমে এসি স্থাপন এবং ছাত্রী হলগুলোতে ১০ হাজারের বেশি স্যানিটারি ন্যাপকিন বিনামূল্যে বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় এক হাজার নারী শিক্ষার্থীকে হিজাব দেওয়া এবং মাতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

    আধুনিক হচ্ছে মেডিকেল সেন্টার

    স্বাস্থ্য খাতেও এক বছরে বেশকিছু দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় তিন কোটি টাকার কাজ হয়েছে বলে জানিয়েছে ডাকসু।

    তুরস্কের কো-অপারেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন এজেন্সি (TIKA)-এর আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় মেডিকেল সেন্টারে অ্যাম্বুলেন্স, এয়ার কন্ডিশনার, এক্স-রে, ইসিজি মেশিন, অ্যানালাইজার ও মাইক্রোস্কোপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম যুক্ত হয়েছে।

    এ ছাড়া ফার্স্ট এইড বুটক্যাম্পে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয় এবং বিভিন্ন মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে পাঁচ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার দাবি করেছে ডাকসু। হলভিত্তিক ছারপোকা নিধন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধেও কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

    দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে উদ্যোগ

    শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বিভিন্ন বিনামূল্যের কোর্সে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডাকসু। আবাসিক হলগুলোতে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনেও প্রায় ৫০ লাখ টাকার কাজ চলছে। ইতোমধ্যে চারটি হলে ল্যাব স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে এবং আরো আটটি হলে কাজ চলমান।

    চীনের ৩১টির বেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে আয়োজিত জব ফেয়ারে প্রায় ৪৩০ শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে সাতটি আন্তর্জাতিক জার্নালে বিনামূল্যে অ্যাক্সেসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিল ডাকসু। সাংস্কৃতিক সম্পাদকের সম্পাদনায় ২৭টি বই প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন সেমিনার, সামিট ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে ডাকসুর তথ্য। পাশাপাশি ২৭০ জন শিক্ষার্থীকে নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে ডাকসু।

    অর্থায়নে বড় অংশ স্পন্সর থেকে

    ডাকসু নেতারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অসহযোগিতা, সীমিত অর্থায়ন এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বিভিন্ন ব্যক্তি, অ্যালামনাই, দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট স্পনসরের সহায়তায় প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাজ ও উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে দুই দফায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে ৩৫ লাখ টাকা পেয়েছে ডাকসু। এর বাইরে বিভিন্ন ব্যক্তি, অ্যালামনাই, দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট স্পনসরের সহযোগিতায় বাকি কাজ ও উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

    ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, সীমিত বাজেটের মধ্যেও স্পনসর ও বিভিন্ন সহযোগিতা সংগ্রহ করে আমরা সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করেছি। বিভিন্ন প্রকল্পের আর্থিক মূল্য হিসাব করলে ডাকসুর এক বছরের কাজের পরিমাণ ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাছাকাছি বলে জানান তিনি।

    তিনি বলেন, আমরা ইশতেহারের বাইরেও অসংখ্য কাজ করেছি। স্বপ্নের ক্যাম্পাস বিনির্মাণে ডাকসুর প্রত্যেকে দিন-রাত কাজ করেছে। এবারের ডাকসু যে পরিমাণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণমূলক কাজ করে দেখিয়েছে তা ইতিহাসের কোনো ডাকসু পারেনি। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, শিক্ষার্থীরা এই ক্যাম্পাসে শিরদাঁড়া সোজা রেখে মাথা উঁচু করে চলবে। শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে ক্যাম্পাসে আর কখনো ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে না।

    ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে ডাকসু দুই দফায় ৩৫ লাখ টাকা পেয়েছে। এর বাইরে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও অ্যালামনাইয়ের সহযোগিতায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাজ ও উদ্যোগ বাস্তবায়নের দাবি করেছে সংগঠনটি।

    কিছু ক্ষেত্রে এখনো চ্যালেঞ্জ

    তবে এক বছরে এসব দৃশ্যমান উদ্যোগের পাশাপাশি কিছু মৌলিক সংকট এখনো রয়ে গেছে। নির্বাচনের আগে ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্রথম বর্ষ থেকেই আবাসন নিশ্চিত, নিরাপদ ক্যাম্পাস, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ও প্রশাসনিক সেবা সহজীকরণের মতো ছয়টি মৌলিক বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এক বছর পর এসব প্রতিশ্রুতির কয়েকটিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থী ও বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলোর।

    যে জায়গাগুলোতে ডাকসু পিছিয়ে তার অন্যতম আবাসন খাত। বিশেষ করে নারী হলগুলোতে সিট সংকট এখনো তীব্র। অনেক শিক্ষার্থীকে আবাসিক সুবিধার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের কথা বলা হলেও নতুন আবাসিক অবকাঠামো নির্মাণ কিংবা বিদ্যমান সংকট দূরীকরণে এখনো পূর্ণাঙ্গ অগ্রগতি দেখা যায়নি। এদিকে ২,৮৪১ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প এগুচ্ছে কচ্ছপগতিতে। মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে চাপ প্রয়োগ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জবাবদিহিতায় নিয়ে আসার কোনো উদ্যোগ দেখাতে পারেনি ডাকসু।

    নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসে চুরি-ছিনতাই, মাদকাসক্ত ও ভবঘুরেদের উপস্থিতি এবং নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানির মতো ঘটনা বেড়ে চলেছে।

    এদিকে খাবারের মান নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। হলের ক্যান্টিনগুলোতে মাঝে মাঝে ডাকসু নেতারা তদারকি করলেও বিভিন্ন সময়ে খাবারে পাথর, কেঁচো, ব্লেড, টিকটিকি, তেলাপোকা ও বড়শি পাওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

    এছাড়া প্রশাসনিক সেবা ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আসেনি। রেজিস্ট্রার ভবনকেন্দ্রিক হয়রানি ও দীর্ঘসূত্রতা কমাতে ‘পেপারলেস রেজিস্ট্রার বিল্ডিং’ এবং ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ই-লাইব্রেরি চালু না হওয়া এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি সংস্কারে কোনো উদ্যোগ না নেওয়াও অপূর্ণ প্রতিশ্রুতির তালিকায় রয়েছে।

    শিক্ষার্থীদের মন্তব্য

    ডাকসুর ব্যাপারে বেগম রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো দলের সদস্য নই। তবে ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের কাজকর্ম আমার খুব ভালো লেগেছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে ডাকসু খুব ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। বাইরে এসব সেবা নিতে গেলে অনেক টাকা খরচ হতো, যা অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন বাধার মধ্যেও ডাকসু যে কাজগুলো করার চেষ্টা করছে, তা প্রশংসার যোগ্য।

    তিনি আরো বলেন, ডাকসুর এই উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে যারা দায়িত্বে আসবেন, তাদেরও বর্তমানের চেয়ে আরো ভালো কিছু করার চেষ্টা করতে হবে।

    কবি সুফিয়া কামাল হলের শিক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, ডাকসু ও হল সংসদগুলো কার্যকর হওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভিন্ন পর্যায়ে জবাবদিহির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। হল প্রশাসন থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও এখন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্ন ও অভিযোগের বিষয়ে জবাব দিতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া ও সমস্যাগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনে তুলে ধরার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে ডাকসু।

    এদিকে ঢাবি ছাত্রদল নেতা ও ডাকসুর জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম ডাকসুর উন্নয়ন কাজের অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়ে ৩৫ কোটি টাকা কীভাবে ব্যয় করা হলো, তার স্বচ্ছ হিসাব শিক্ষার্থীদের দেওয়া উচিত। তার দাবি, ডাকসুর মেয়াদে আবাসন ও খাবারের সংকটের তেমন পরিবর্তন হয়নি। প্রথম বর্ষের অনেক শিক্ষার্থী এখনো হলে উঠতে পারেননি। ক্যান্টিনের মালিকানা পরিবর্তন হলেও খাবারের মান বাড়েনি এবং স্থাপিত পানি ফিল্টারগুলোর অধিকাংশই অকেজো হয়ে আছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    সার্বিক বিষয়ে ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসুর সীমাবদ্ধতা ছিল, কিন্তু আমরা থেমে থাকিনি, চেষ্টা করেছি। আবাসন সংকটের স্থায়ী সমাধানে চীনের সহযোগিতায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ ছাত্রী ধারণক্ষমতার নতুন একটি হল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    তিনি বলেন, অনেক কাজে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা করেনি। লাখ লাখ টাকা খরচ করে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা জিমনেসিয়াম বানিয়েছি, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেটা চালু করছে না। মসজিদ-রিডিং রুমের জন্য আমরা এসি নিয়ে এলে প্রশাসন সেগুলো স্থাপন করে না। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে প্রস্তাব দেওয়া হলে তারা কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

    ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান আমার দেশকে বলেন, নিরাপত্তা, খাবার ও আবাসন সংকট সমাধানে ডাকসু বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিয়েছিল। বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ ও ছিন্নমূলদের ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা যায়নি। টিসিবির সঙ্গে কম দামে মানসম্পন্ন খাবারের উদ্যোগও রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর বাতিল হয়ে যায়। এরকম অনেক ক্ষেত্রেই আমরা এগুতে পারিনি।

  • ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্মৃতি নিয়ে নতুন রূপে ডাকসু সংগ্রহশালা

    ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্মৃতি নিয়ে নতুন রূপে ডাকসু সংগ্রহশালা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবময় আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালার সংস্কার করা হয়েছে। সংস্কারের মাধ্যমে সংগ্রহশালাটিকে আরও আধুনিক, নান্দনিক ও তথ্যসমৃদ্ধ করে গড়ে তোলা হয়েছে।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সংস্কার করা সংগ্রহশালার উদ্বোধন করেন ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম। সংস্কারকাজের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এইচ এম মোশারফ হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম, ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, ক্যারিয়ার উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের, ডাকসুর সাবেক ভিপি

    বদরুল আলমের মেয়ে ফারজানা আলম ও তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ডাকসু ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

    ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজের ইতিহাসের সঙ্গে ডাকসুর ইতিহাস গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ডাকসু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এসব কর্মকাণ্ডের অনেক স্মৃতি ও নিদর্শন বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।

    সংগ্রহশালাটি দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল উল্লেখ করে ফাতিমা বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিকে আধুনিকায়নের পরিকল্পনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করে সংগ্রহশালাটি উদ্বোধন করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, আগামী এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সংগ্রহশালায় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল ও উপকরণ সংযোজন করা হবে। এতে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবময় কর্মকাণ্ডও স্থান পেয়েছে। ডাকসুর সাবেক নেতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে থাকা পুরোনো ছবি, নথি, প্রকাশনা, পোস্টার, স্মারকসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক উপকরণ সংগ্রহ করে পর্যায়ক্রমে এখানে যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে সংগ্রহশালাটি ডাকসুর একটি সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক আর্কাইভে পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    ডাকসুর ১৯৫৭-৫৮ সেশনের ভিপি বদরুল আলমের মেয়ে ফারজানা আলম বলেন, কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব ছাড়াই ১৯৫৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ইতিহাস ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহশালায় ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ডাকসুর সাবেক নেতাদের কর্মকাণ্ড, প্রতিকূলতা ও সাফল্য সম্পর্কে জানতে পারবে।

    তিনি বলেন, তখনকার ছাত্র প্রতিনিধিরা রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে ছাত্রসমাজের কথা বলেছিলেন। কোনো একক দল বা মতকে প্রাধান্য না দিয়ে প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার এই উদ্যোগের জন্য ডাকসুর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।

    ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ১৯৯০ সালের পর দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকা সংগ্রহশালাটি সংস্কার করে নতুনভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে প্রাচীন ইতিহাস, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনা কালানুক্রমিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

    তবে কিছু সাবেক ভিপির ছবিসহ সংগ্রহশালায় এখনো কিছু তথ্যের ঘাটতি রয়েছে বলে জানান এস এম ফরহাদ। তিনি বলেন, আগামী এক সপ্তাহ সংশোধন ও তথ্য সংযোজনের সময় হিসেবে রাখা হয়েছে। কারও কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য, ছবি কিংবা সংশোধনী থাকলে তা ডাকসুকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

    ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, সংস্কার করা সংগ্রহশালায় ১৯০৫ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের দলিল, ছবি এবং শহীদদের স্মৃতি এখানে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ১৯২১ সাল থেকে অনুষ্ঠিত ৩৯টি ডাকসুর ইতিহাস এবং সাবেক ভিপি ও জিএসদের নামসংবলিত সম্মাননা ফলক সংগ্রহশালায় যুক্ত করা হয়েছে। সংগ্রহশালাটি আরও সমৃদ্ধ করতে দেশবাসী ও গবেষকদের কাছে থাকা ঐতিহাসিক দলিল এবং জুলাই আন্দোলনের দুর্লভ ছবি জমা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।