ট্যাগ ঠাকুরগাঁও

  • সামনের বছর থেকেই ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম

    সামনের বছর থেকেই ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আগামী বছর থেকেই ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ইসরাফিল শাহীন। প্রাথমিকভাবে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে ছয়টি বিভাগ চালু করা হবে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে এসব বিভাগ খোলার অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের আগে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান উপাচার্য। প্রফেসর ইসরাফিল শাহীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আগামী বছর থেকে পাঠদান শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে ছয়টি বিভাগ চালুর অনুমোদন আগামী সপ্তাহের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    তিনি জানান, স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও শহরে একটি অস্থায়ী ক্যাম্পাস চালু করা হবে। সেখান থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে।

    দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর সোমবার ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটি তাঁর প্রথম সরকারি সফর।

    সোমবার বেলা ১১টায় সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে নির্ধারিত স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি। বিশ্ববিদ্যালয়টি চালু হলে উত্তরাঞ্চলের এই জনপদে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

    সফরসূচি অনুযায়ী, সকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রাষ্ট্রপতি। এরপর জামালপুর এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

    কর্মসূচি শেষে নিজ বাসভবনে ফিরে মধ্যাহ্নভোজ ও সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। পরে সার্কিট হাউসে আনুষ্ঠানিকতা শেষে হেলিকপ্টারে করে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ছাড়ার কথা রয়েছে। এর আগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাঁকে স্বাগত জানানো হয় এবং সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

  • ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রেসিডেন্ট

    ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রেসিডেন্ট

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর অবশেষে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর মধ্য দিয়ে জেলায় উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ তৈরির প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

    সোমবার দুপুরের সদর উপজেলার জামালপুর এলাকার আমতলী রেল ঘুন্টির ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে মহেশালী (ভাতার মারি ফার্মে) প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রেসিডেন্ট।প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটিই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম সরকারি সফর। দুই দিনের সরকারি সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেন এবং পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করেন। সেই প্রেক্ষাপটে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলো। আমি আশা করি, খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাইন ও অবকাঠামোর নকশা তৈরি হবে এবং নির্মাণকাজ শুরু হবে।’তিনি বলেন, ‘আজ এই এলাকার মানুষের জন্য আনন্দের দিন। কারণ, এখন থেকে এই এলাকার মানুষ উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবেন এবং এ অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার প্রসার ঘটবে। তরুণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, এই এলাকার মানুষ সেই সুযোগ গ্রহণ করবেন এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়কে সত্যিকার অর্থেই একটি সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে তুলবেন—এটাই আমার প্রত্যাশা।’ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের সময় উপস্থিত ছিলেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মো. ইসরাফিল শাহিন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বোর্ডের বিভিন্ন কর্মকর্তা, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, জেলা ও পুলিশ প্রশাসন সহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সদস্যরা । এর আগে রোববার দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান প্রেসিডেন্ট। তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁও শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাকে স্বাগত জানানো হয়। সেখান থেকে তিনি সার্কিট হাউসে যান এবং সেখানে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়।সার্কিট হাউসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি তার মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তিনি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পরে বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন তিনি।

  • হানাহানি-সংঘর্ষ নয়, আলোচনা-সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: রাষ্ট্রপতি

    হানাহানি-সংঘর্ষ নয়, আলোচনা-সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: রাষ্ট্রপতি

    হানাহানি ও সংঘর্ষ নয়, আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    রোববার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় তিনি এ কথা বলেন।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র যাতে বজায় থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হানাহানি ও সংঘর্ষ পরিহার করে আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

    স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের চাহিদার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁও অনেকটাই অবহেলিত। এ জেলার মানুষের জন্য উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে। এরই মধ্যে জেলায় মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

    তিনি বলেন, মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কর্মসংস্থান সৃষ্টি জরুরি। বেকারত্ব দূর করতে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। তরুণদের শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

    এর আগে রোববার দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাকে স্বাগত জানানো হয় এবং সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

    সার্কিট হাউসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি তার মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

    সোমবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে তিনি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটিই তার প্রথম সরকারি সফর। দুই দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে ঠাকুরগাঁওসহ আশপাশের জেলার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বহুগুণ বাড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

  • মা-বাবার কবর জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

    মা-বাবার কবর জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

    মা-বাবার কবর জিয়ারত করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ রোববার দুপুর দেড়টার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ে দুই দিনের সরকারি সফরের প্রথম দিনে পৌর শহরের সেনুয়া কবরস্থানে গিয়ে কবর জিয়ারত করেন তিনি।

    বাবা-মায়ের কবরের পাশে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় তিনি দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। কবর জিয়ারতের সময় পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠ স্বজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই সেনুয়া কবরস্থান এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়। কবরস্থান ও আশপাশের এলাকায় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। কবর জিয়ারত শেষে রাষ্ট্রপতি উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি ও অন্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

    এর আগে দুপুর ১২টা ৫৮ মিনিটে দুই দিনের সরকারি সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে অবতরণ করেন তিনি।

  • রাষ্ট্রপতি যাচ্ছেন, উৎসবের আমেজ ঠাকুরগাঁওয়ে

    রাষ্ট্রপতি যাচ্ছেন, উৎসবের আমেজ ঠাকুরগাঁওয়ে

    শৈশব-কৈশোর কেটেছে ঠাকুরগাঁও শহরের কোলাহলে। নিজ বাড়ির পাশেই শহরের প্রাণকেন্দ্র বড় মাঠ। শহরের অলিগলি, বাজার-পাড়া, রাস্তাঘাটও তার দীর্ঘদিনের পরিচিত। সেই নিজ শহরেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার আগমন ঘিরে ঠাকুরগাঁওজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ।

    রাষ্ট্রপতির সফর সামনে রেখে কোথাও নির্মাণ করা হচ্ছে তোরণ, কোথাও চলছে আলোকসজ্জার কাজ। প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যস্ততা বেড়েছে। রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। শহরকে পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি করে তুলতে দিন-রাত কাজ করছেন পৌরসভার কর্মীরা। রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজ শহরে প্রিয় সন্তানকে প্রথমবার বরণ করে নিতে প্রস্তুত ঠাকুরগাঁওবাসী। পথে পথে চলছে তার আগমনের অপেক্ষা। প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা দিয়েছে বাড়তি কৌতূহল ও উচ্ছ্বাস।

    রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আগামী রবি ও সোমবার সরকারি সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রীয় এই সফর ঘিরে প্রশাসনের প্রস্তুতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও আবেগ।

    ঠাকুরগাঁওয়ের কারও কাছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ, কারও কাছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেতা। আবার অনেকের কাছে তিনি এখনো পরিচিত ‘আলমগীর স্যার’—নিজ শহরের আপনজন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর শেকড়ের টানে নিজ মাটিতে তার ফিরে আসা ঠাকুরগাঁওবাসীর কাছে তাই শুধু রাষ্ট্রীয় সফর নয়; এটি গর্ব, আনন্দ, ভালোবাসা ও আবেগেরও মুহূর্ত।

    রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অফিসার আবুল কালাম মো. লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত সফরসূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন রোববার সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন রাষ্ট্রপতি। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে তার অবতরণের কথা রয়েছে। পরে তিনি জেলা সার্কিট হাউসে যাবেন এবং সেখানে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন।

    এরপর শহরের সেনুয়াপাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে বাবা সাবেক মন্ত্রী মরহুম মির্জা রুহুল আমীন (চোখামিয়া) ও মা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত করবেন রাষ্ট্রপতি।

    কবর জিয়ারত শেষে তিনি শহরের কালীবাড়িতে নিজ বাসভবনে যাবেন। সেখানে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম শেষে বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এ অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

    সংবর্ধনা শেষে নিজ বাসভবনে ফিরে গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন রাষ্ট্রপতি। সেখানেই তার রাত্রিযাপনের কথা রয়েছে।

    সফরের দ্বিতীয় দিন ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি। পরে নিজ বাসভবনে ফিরে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম নেবেন। এরপর সার্কিট হাউসে গিয়ে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ছাড়ার কথা রয়েছে তার।

    রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। সম্ভাব্য সফরস্থল, যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা।

    রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবির বলেন, ‘তিনি শুধু রাষ্ট্রপতি নন, তিনি আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান। দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকে তিনি নিজের মানুষের কাছে ফিরছেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আবেগের মুহূর্ত। আমরা চাই, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ ভালোবাসা ও সম্মানের সঙ্গে তাকে স্বাগত জানাক।’

    জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম আগমন জেলার মানুষের জন্য আনন্দ, গর্ব ও আবেগের বিষয়। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে জেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর মহামান্য রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফরকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সফরের প্রতিটি কর্মসূচি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।

    ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. বেলাল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফরকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সফরের প্রতিটি কর্মসূচি, যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে।

    তিনি বলেন, এসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয়সংখ্যক সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচল ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

  • পাট কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে বাবা-ছেলের মৃত্যু

    পাট কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে বাবা-ছেলের মৃত্যু

    ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় পাট কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে সদরের জামালপুর ইউনিয়নের মোহাব্বতপুর গণেশপাড়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে বলে জানান ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী।

    নিহতরা হলেন জামালপুর ইউনিয়নের মোহাব্বতপুর গণেশপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার প্রভু (৫৫) ও তার ছেলে নিমাই(২৩)।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার সকালে বাড়ির পাশের জমিতে রোপনকৃত পাট কাটতে যান আনোয়ার প্রভু ও তার ছেলে নিমাই। পাট কাটার এক পর্যায়ে দুপুরের দিকে হঠাৎ করে বৃষ্টি শুরু হয়। ওই বৃষ্টিতে ভিজে তারা পাট কাটছিল। এসময় হঠাৎ সেখানে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে বজ্রপাতের আঘাতে আহত হয়ে ঘটনাস্থলে আনোয়ার প্রভু ও তার ছেলে নিমাই মারা যান।

    স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বজ্রপাত একই সাথে বাবা-ছেলের প্রাণ কেড়ে নিলো। এটি হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। পুরো গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’

    ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী বলেন, ‘অসাবধানতার কারণে আজ বজ্রপাতে বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়েছে। সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানাচ্ছি। বজ্রপাতে বাবা-ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।’