উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আলী হোসেনকে (৭৫) লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. রমিজ উদ্দিন লন্ডনীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও ঝাড়ু মিছিল করেছে উপজেলা বিএনপির একাংশ ও সর্বস্তরের জনগণ।
মেঘনা উপজেলা নাগরিক সমাজ ব্যানারে রোববার (১১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন ও ঝাড়ু মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় মানববন্ধন ও ঝাড়ু মিছিলে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্বাস উদ্দিন কমান্ডার, উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ওয়াদুদ মুন্সি, সাবেক সদস্য সচিব আজাহারুল হক শাহিন, শাহাবুদ্দিন, ফাতেমা আক্তার হেনা, জাকির হোসেন, সেলিম সরকার ও উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার কয়েক শতাধিক মানুষ।
এ সময় বক্তারা বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ইউএনও, এসিল্যান্ড ও ওসির উপস্থিতিতে মেঘনা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি মো. আলী হোসেনকে লাঞ্ছিত করেছেন মেঘনা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনী। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
তারা আরও জানান, রমিজ উদ্দিন দলের একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে একজন বয়োজ্যেষ্ঠ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতিকে লাঞ্ছিত করা তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে রমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন বলেন, ‘আমি মেঘনা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সদস্য সচিব। সে সুবাদে আমি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক ২টায় মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয়ে যাই। গিয়ে দেখি ওসি শহিদুল ইসলাম, বিএনপির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনীসহ তার সঙ্গে আরও কয়েকজন অফিসে বসে আছেন। আমি বিদ্যুৎ বিলের কাগজ ইউএনওর হাতে দিয়ে বলি স্যার ছয় হাজার টাকা বিল আসে, দোকান তো ৮টা। এমন সময় রমিজ উদ্দিন লন্ডনী আমাকে বলে তুই এখানে কেন? তুই হোমনা যা। তুই তো মোশাররফ স্যারকে ভোট দেসনি। এই কথা বলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রমিজ আমার গলা চেপে ধরে এবং সঙ্গে থাকা একজন আমাকে পেছন থেকে ঘুসি মারে। তখন ওসি শহিদুল ইসলাম আমাকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করে অফিস থেকে বের করে দেন।’
এ বিষয়ে বিএনপির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনীর কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বলেন, ‘আমার সঙ্গে আলী হোসেনের কিছুই হয়নি। ইউএনও এবং ওসির কাছ থেকে জেনে নিন।’
ওসি শহিদুল ইসলাম বলেছেন তর্কাতর্কি হয়েছে— এমন প্রশ্নের পর রমিজ উদ্দিন লন্ডনী বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন বলে আমাদের এমপি মোশাররফ হোসেন স্যার মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের বাইরে ছিল, উনি নাকি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে। ওনার গায়ে হাত দেওয়া হয়েছে এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
মেঘনা থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়েছে। তখন আমি দুজনকে দুদিকে সরিয়ে দিয়েছি।’
নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমি আক্তার বলেন, বিএনপির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনী ও মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছে। তখন ওসি সাহেব দুজনকে দুদিকে সরিয়ে দিয়েছেন। কী নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে জানতে চাইলে, ইউএনও বলেন, ‘দাউদকান্দি-মেঘনা আসন নিয়ে এমন একটা কিছু। আমি কাজে ব্যস্ত ছিলাম পুরো বিষয়টি খেয়াল করতে পারিনি।’
