জ্বালানি তেল

  • জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সর্বত্র

    জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সর্বত্র

    সব ধরনের জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের সর্বত্র। বেড়েছে বাস ভাড়া, পণ্য পরিবহনকারী ট্রাক-লরি ভাড়া এবং সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। শিল্পোৎপাদন ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয়ে পড়েছে অস্বাভাবিক চাপ। অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় রাস্তাঘাটে ঝগড়া-বিবাদও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে গণপরিবহন ও কাঁচা বাজারগুলোতে বিবাদ বেশি দেখা গেছে।

    উত্তাপ লেগেছে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের গায়ে

    * বেড়েছে বাস-ট্রাক ভাড়া

    * সবচেয়ে বেশি চাপে রাইড শেয়ারকারীরা

    গতকাল মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গণপরিবহনের চালক-হেলপার, কাঁচাবাজারের ক্রেতা-বিক্রেতা, দরিদ্র জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে দেখা গেছে ক্ষোভ ও হতাশা। ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম এক লাফে ২০ টাকা বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না কেউই। কারওয়ান বাজারের টং দোকানি বাবলু শেখ বলেন, ‘তেলের দাম বাইড়া যাওয়ায় গত দুইদিন ধইরা বিক্রি অনেক কোইমা গ্যাছে। মানুষ মনে হয় চা খাওয়াও ছাইড়া দিছে!’

    জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে বাসের ভাড়া কিলোমিটার (কিমি) প্রতি ১৭ পয়সা করে বাড়ানো হয়েছে। গতকাল সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। গত এপ্রিলে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তখন বাসের ভাড়া কিমিপ্রতি ১১ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এবার বাড়ানোর আগে পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাসের ভাড়া কিমিপ্রতি ছিল দুই টাকা ৫৩ পয়সা। নতুন ভাড়া হবে দুই টাকা ৭০ পয়সা। আর মিনিবাসের ভাড়া দুই টাকা ৪২ পয়সা থেকে বেড়ে হবে দুই টাকা ৫৯ পয়সা।

    রাজধানীর ফার্মগেট থেকে যাত্রাবাড়ী হয়ে সাইনবোর্ডের দূরত্ব ১৪.৪০ কিমি। নতুন নির্ধারিত কিমিপ্রতি ২.৭০ টাকা পয়সা হিসাবে এ পথের ভাড়া হবে ৩৮.৪৪ টাকা। এই রুটের লাব্বাইক পরিবহনে আগেই নেওয়া হতো ৪০-৪৫ টাকা। ডিজেলের দাম বৃদ্ধির পর থেকে নেওয়া হচ্ছে ৫০ টাকা। ফার্মগেট থেকে মালিবাগ পর্যন্ত এতদিন ভাড়া ছিল ১০ টাকা, এখন নেওয়া হচ্ছে ১৫ টাকা।

    অন্যদিকে দূরপাল্লার পথে ৫২ আসনের বাসে কিমিপ্রতি ভাড়া এতদিন ছিল দুই টাকা ২৩ পয়সা। বর্ধিত ভাড়া হবে দুই টাকা ৪০ পয়সা। যদিও রাজধানীর প্রায় প্রতিটি রুটেই তেলের দাম বৃদ্ধির পর থেকে যাত্রীপ্রতি ৫-২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। আর ঢাকার বাইরে দূরত্ব ও বাসভেদে ভাড়া বেড়েছে যাত্রীপ্রতি ৫০-৩০০ টাকা পর্যন্ত। বর্ধিত ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে চালক-হেলপারের তর্ক-বিতর্ক ক্রমেই ঝগড়া-বিবাদে রূপ নিচ্ছে।

    কাঁচাবাজারে প্রভাব

    জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে কাঁচাবাজারে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে জানিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতারা বলছেন, সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ৫-১৫ টাকা বেড়েছে। ৬০-৭০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ সবজির দাম এখন ৭০-৮০ টাকা। সবচেয়ে কম দামি সবজি আলু ও পেঁপের দাম কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৫-৪০ টাকায়। বেগুনসহ কিছু সবজির দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। চাল, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেলের দাম আগে থেকেই বেশি। এখন পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে ক্রেতার হাঁসফাঁস অবস্থা। এ নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতারা প্রতিনিয়ত বিতর্কে লিপ্ত হলেও সমাধানের কোনো সূত্র তারা বের করতে পারছেন না। পাইকারি বিক্রেতাদের দাবি, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সবজি সংগ্রহের ক্ষেত্রে পারিবহন খরচ দূরত্ব ও ট্রাকভেদে ২০০০-৬০০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

    বেশি চাপে রাইড শেয়ারকারীরা

    ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের হাত থেকে রক্ষা পেতে লাখ লাখ শিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত যুবক রাইড শেয়ারিং তথা মোটর সাইকেলে যাত্রী পরিবহন করে জীবনযাপনের পথ বেছে নিয়েছেন। অকটেন-পেট্রোলের দাম বাড়ায় চরম বেকায়দায় পড়েছেন তারা। রাইড শেয়ারার আলাউদ্দিন বলেন, তেলের দাম বাড়ছে, কিন্তু মোটর সাইকেলের ভাড়া বাড়েনি। যাত্রী কম হওয়ায় একটি ট্রিপের (যাত্রা) জন্য কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। সব খরচ বাদ দিয়ে দিনে ৮০০-৯০০ টাকা আয় করাই মুশকিল হয়ে পড়েছে।

    শিল্পোৎপাদনে গতি কমবে

    বিভিন্ন পর্যায়ের শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে তাদের উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, সিমেন্ট, স্টিল, সিরামিকসহ সব রকম কারখানায় বিদ্যুৎ, গ্যাস ও ডিজেল প্রয়োজন উল্লেখ করে উদ্যোক্তারা বলছেন, পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। নতুন করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে পণ্যের উৎপাদন খরচ ও পরিবহন ব্যয় বাড়বে। এতে কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়ে আসবে।

    বেড়েছে ট্রাক ভাড়াও

    জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশে ট্রাক ভাড়া বেড়ে গেছে। দূরত্ব, পরিবহনের আকার ও পণ্যভেদে প্রতি ট্রিপে ভাড়া বেড়েছে ২০০০-৮০০০ টাকা। জ্বালানির পাশাপাশি টায়ার, যন্ত্রাংশের মূল্য এবং ফেরি ভাড়া বৃদ্ধির কারণেও ট্রাকের ভাড়া বেড়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। বাড়তি খরচ সামলাতে না পেরে অনেকে ট্রাক বের করছেন না বলেও জানা গেছে। বেনাপোল থেকে ঢাকায় আগে ট্রাক ভাড়া ছিল ২০-২১ হাজার টাকা। গতকাল সেই ভাড়া নেওয়া হয়েছে ২৫-২৬ হাজার টাকা। ট্রাক ভাড়া বৃদ্ধি ও ট্রাক সংকটের অজুহাতে ট্রাক ভাড়া বৃদ্ধি করায় বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে অনেকে আমদানি করা মালামাল খালাস করতে সমস্যায় পড়েন। তারা জানান, প্রতিদিন যেখানে ৪০০-৬০০ ট্রাক পণ্য লোড-আনলোডিং হতো, এখন তা অর্ধেকে নেমে এসেছে।

    সুতা আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে, হুমকিতে দেশি উদ্যোক্তারা

    সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার দাবি

    কোনো আলোচনা, গণশুনানি, জনপরামর্শ ও অংশীজনের সঙ্গে কার্যকর আলোচনা কিংবা মূল্যবৃদ্ধির সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাবের প্রকাশ্য মূল্যায়ন ছাড়াই আকস্মিকভাবে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গবেষণা ও নীতি সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীলতা ও রাজস্ব চাপের অজুহাতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনস্বার্থবিরোধী, অপরিণামদর্শী ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্তরায় মন্তব্য করে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আদিল খান জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সরকারের এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান।

    বিদ্যুতের দামও কী বাড়বে?

    বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভর্তুকি কমাতে এমনিতেই বিদ্যুতের দাম আরেক দফা বাড়াতে সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর চাপ অব্যাহত আছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। কারণ দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে ক্রমেই জ্বালানি তেলের ব্যবহার বাড়ছে। তাদের অনুমান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভর্তুকি কমাতে শিগগিরই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে। বিদ্যুতের দাম বাড়ালেও সমস্যা, কমালেও সমস্যা উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যয় কমাতে যদি বিদ্যুৎ উৎপাদন কমানোর চিন্তা করা হয়, সে ক্ষেত্রে বিদ্যমান লোডশেডিং আরো বাড়বে।

    যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

    জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ভাড়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য, কৃষির উৎপাদন, শিল্পোৎপাদন— সবই বাড়বে জানিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, কিছু ক্ষেত্রে কারখানার পণ্যের উৎপাদন ব্যয়ও বাড়বে। কারখানা থেকে পণ্যের সরবরাহ ব্যয়ও বাড়বে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, এমনিতেই নিম্নআয়ের মানুষ তীব্র চাপে আছেন। তার ওপর জ্বালানি তেলের দাম নতুন করে বাড়ানোয় পরিবারের মাসিক বাজেটে আরো বড় চাপ তৈরি করতে পারে। এর ফলে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া, বৈষম্য আরো বেড়ে যাওয়ার মতো অপ্রত্যাশিত দৃশ্য দেখতে হতে পারে।

    বারবার জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ালে দেশে দারিদ্র্য বেড়ে যাবে আশঙ্কা করে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইতিমধ্যে দারিদ্র্য বেড়েছে বলে বিভিন্ন সংস্থার গবেষণায় বলা হয়েছে। এমতাবস্থায় সরকারের ব্যয় কমানোর দিকে নজর দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

  • প্রতিবেশী দেশে পাচার রোধে জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করেছে সরকার

    প্রতিবেশী দেশে পাচার রোধে জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করেছে সরকার

    জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পেছনের কারণ জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তার ভাষ্য, বৈদেশিক মুদ্রায় আমদানি করা জ্বালানি তেল প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন মূল্য সমন্বয় না করায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বড় ধরনের লোকসানে পড়েছে।

    আজ সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সিদ্ধান্তটি অজনপ্রিয় হলেও সরকারকে তা নিতে হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর প্রথম প্রহর থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেই জ্বালানি তেলের দাম সবচেয়ে কম ছিল। এর ফলে প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রায় কেনা জ্বালানি তেল প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাচারের আশঙ্কা তৈরি হয়।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রবাসী ভাইদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা, যা আমাদের রিজার্ভের প্রধানতম খাত—সেই মুদ্রায় কেনা জ্বালানি তেল প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে পাচার হওয়ার ঝুঁকির মুখে পড়েছিলাম আমরা। এমতাবস্থায় সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে এবং পাচার বন্ধে সরকারকে এই মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে।’

    জ্বালানি খাতে বড় অঙ্কের ভর্তুকি অব্যাহত রাখলে নিম্ন আয়ের ও প্রান্তিক মানুষের জন্য সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হতে পারত বলেও জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তার মতে, এতে বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার মতো কর্মসূচিগুলো মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

    বিপিসির লোকসানের তথ্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় না করায় বিপিসির লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির গড়ে প্রতি মাসে লোকসান হয়েছে ৩ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা।’

    তিনি জানান, বাংলাদেশকে প্রতিবছর প্রায় ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে ডিজেলের পরিমাণ প্রায় ৪৫ লাখ টন। মূল্য সমন্বয়ের আগে ডিজেলে প্রতি লিটারে প্রায় ৯০ টাকা লোকসান হচ্ছিল। নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পরও প্রতি লিটারে গড়ে প্রায় ৭০ টাকা ভর্তুকি দিতে হবে বিপিসিকে।

    অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা না হলে শুধু ডিজেলের ক্ষেত্রেই বছরে সরকারের প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হতো। সব ধরনের জ্বালানি মিলিয়ে বার্ষিক লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাত।’

    আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, বিমা প্রিমিয়াম ও জাহাজ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় মূল্য সমন্বয় না করে সরকারের সামনে বিকল্প ছিল না বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর ডিজেলের তৎকালীন বাজারদরের তথ্যও তুলে ধরেন।

    এদিকে, নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব যাতে সর্বনিম্ন রাখা যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

    অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘এরকম একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত কঠিন। জনগণের জীবনমানের কষ্ট লাঘবের অভিপ্রায়ে রাজনীতিতে এসেছি। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে জনগণের যে কষ্ট হবে, এটি আমি উপলব্ধি করি।’

  • জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল

    জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল

    দেশে চার ধরনের প্রধান জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন দামে ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো: এনামুল হক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

    এর আগে, সেপ্টেম্বরে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত ছিল। তখন ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছিল।

    সর্বশেষ বড় ধরনের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল এপ্রিলে। তখন ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা এবং অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম যথাক্রমে ২০, ১৯ ও ১৮ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।

  • সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল কিনছে সরকার

    সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল কিনছে সরকার

    চলতি বছরের বাকি সাড়ে তিন মাসের জন্য সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চীনের ইউনিপ্যাক ও পেট্রো চায়না এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি থেকে এসব জ্বালানি কেনা হবে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর বাইরেও দরপত্র ছাড়া একই সময়ের জন্য আরও ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন গ্যাস ওয়েল এবং জেট ফুয়েল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারের অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

    দরপত্র ছাড়া সরাসরি কেনাকাটা করতে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের নীতিগত অনুমোদন লাগে।

    পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ ও মজুদ কমে যাওয়ায় এর আগে দরপত্র ছাড়া ১৮ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল এ কমিটির সভায়।

    অগাস্টেও একইভাবে দরপত্র ছাড়া দুই দফায় ২২ কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত হয়। ১৯ অগাস্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সাতটি কোম্পানি থেকে দুই কার্গো করে মোট ১৪টি কার্গো এলএনজি কেনার। ৮ কার্গো এলএনজি এবং দেশের ‘আপৎকালীন’ এলপিজি চাহিদা পূরণ ও বাজারের ‘স্থিতিশীলতা’ নিশ্চিত করতে ৫ হাজার টন এলপিজি আমদানির সিদ্ধান্ত হয়।

    বুধবারের পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্তের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, জিটুজি ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ৫০:৫০ অনুপাতে কেনার যে শর্ত ছিল তা বৈঠকে শিথিল করা হয়েছে।

    সে অনুযায়ী দুই দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি (চীনের ইউনিপেক ও পেট্রো চায়না এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি) থেকে জিটুজি চুক্তির আওতায় এসব পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত হয়।
    তাতে খরচ হবে ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা।

    হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় ছয় মাস ধরে কার্যত বন্ধ। সম্প্রতি ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধারা মান্দেব প্রণালিতেও হুমকি তৈরি করায় নতুন সংকট তৈরি হয়েছে।

    জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারকে পশ্চিম এশিয়ার বাইরে অন্য উৎস থেকে বাড়তি দামে তেল-গ্যাস আমদানি করতে হচ্ছে। কখনও আবার দরপত্র ছাড়াই কিনে চাহিদা মেটাতে হচ্ছে।

  • বিশ্ববাজারে লাগাতার কমছে তেলের দাম

    বিশ্ববাজারে লাগাতার কমছে তেলের দাম

    হরমুজ প্রণালি খোলা নিয়ে আশা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আজ শুক্রবারও (২৮ আগস্ট) কমেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

    শুক্রবার বাংলাদেশ সময় ভোরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৫ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ কমে ৮৯.৪৫ ডলারে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)-এর দামও ২২ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ কমে ৮৩.৩১ ডলারে নেমে আসে।

      সপ্তাহজুড়ে এখন পর্যন্ত ব্রেন্টের দাম প্রায় ৫.৩ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৪.৩ শতাংশ কমেছে।

      আগের দিন কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও শুক্রবার আবারও দরপতনের মুখে পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল।

      এদিকে, মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধের পর হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে কাতারের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে ইরান। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্তের বিনিময়ে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক চাপ প্রত্যাহারসহ একাধিক শর্ত দিয়েছে দেশটি।

      ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই জানিয়েছেন, এসব শর্ত পূরণে যুক্তরাষ্ট্রকে আগে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। এরপরই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে তেহরান।

      রেজাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের অন্যতম প্রধান দাবি হলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের অবসান। এর পাশাপাশি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।

    • বিশ্ববাজারে আবার বেড়েছে তেলের দাম

      বিশ্ববাজারে আবার বেড়েছে তেলের দাম

      যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটনের দেওয়া প্রস্তাবের বিপরীতে তেহরানের পাঠানো জবাব ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবার বেড়েছে।

      রোববার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে প্রায় ৯৮ দশমিক ৪৮ ডলার।

      জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ‘ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সর্বশেষ প্রস্তাবে একটি ‘অত্যন্ত স্পষ্ট রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সেই প্রস্তাবের জবাব দিলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেটাকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

      সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কোনো শান্তি চুক্তি না হওয়ায় বিশ্বের মোট তেল–গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

      ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, যেসব দেশ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করছে, তাদের জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করার সময় ‘সমস্যার সম্মুখীন’ হবে।

      এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর তাদের নৌ অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। গত শুক্রবার অবরোধ অমান্য করার চেষ্টা করা ইরানি পতাকাবাহী তেলবাহী দুটি ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

      বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের দাম যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি প্রায় ২০ ডলার এবং মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০ ডলার বেশি। তেলের এই উচ্চমূল্যের কারণে আমেরিকানদের বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে।

      আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, দেশটিতে প্রতি গ্যালন তেলের গড় দাম এখন ৪ দশমিক ৫২ ডলার। যুদ্ধ শুরুর আগে এটি ৩ ডলারের কম ছিল।

      বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই প্রত্যাখ্যানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি আরো দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্ব তেলের বাজারে। আল-জাজিরা, সিএনএন

    • বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

      বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

      ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খবরের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে।

      বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতে মার্কিন অপরিশোধিত তেলের ফিউচার মূল্য প্রতি ব্যারেলে প্রায় ১ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে।

      বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচার ৮০ সেন্ট বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৫ দশমিক ৮৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে বুধবার লেনদেন চলাকালীন তেলের দাম সর্বোচ্চ ৯৬ দশমিক ৩৩ ডলারে উঠেছিল।

      বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছানোর খবরের প্রভাবেই বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

      তবে ঝুঁকি বিশ্লেষণী সংস্থা ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফট-এর জ্বালানি ও সম্পদ বিষয়ক প্রধান কাহো ইউ সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে হামলার হুমকি পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত তেলের দাম এবং জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।

      তিনি আরো বলেন, কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও জ্বালানি বাজার এখনই সংকট-পূর্ব অবস্থায় ফিরছে না। চীন ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা উত্তেজনা হ্রাসে ভূমিকা রাখলেও শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হচ্ছে কি-না, বাজার সেদিকেই নজর রাখছে। আগামী মাসগুলোতে তেলের সরবরাহ ও ট্যাংকার চলাচলের প্রকৃত চিত্রই বলে দেবে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা ফিরছে কি-না। সূত্র: আলজাজিরা

    • কাঁচা তেলের জাহাজ চট্টগ্রামে পৌঁছেছে, পূর্ণ উৎপাদনে ফিরছে ইস্টার্ন রিফাইনারি

      কাঁচা তেলের জাহাজ চট্টগ্রামে পৌঁছেছে, পূর্ণ উৎপাদনে ফিরছে ইস্টার্ন রিফাইনারি

      কয়েক সপ্তাহের অনিশ্চয়তার পর এক লাখ টন কাঁচা তেলবাহী একটি জাহাজ বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে, ফলে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত রিফাইনারি ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) পূর্ণ উৎপাদন পুনরায় শুরু হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।‘

      এমটি নাইনেমিয়া’ নামের জাহাজটি বুধবার দুপুরে বন্দরে ভিড়ে।

      ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: শরীফ হাসনাত বলেন, ‘আজ দুপুরে জাহাজটি বন্দরে এসেছে। আনলোডিং শেষ হলে আমরা পরিশোধন কার্যক্রম শুরু করে পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করব।’

      ইআরএলের কর্মকর্তারা জানান, আনলোডিং প্রক্রিয়া শেষ হলে আগামী ৮ বা ৯ মে’র মধ্যে রিফাইনারিটি পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে ফিরতে পারে।

      মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে মার্চ ও এপ্রিলজুড়ে জাহাজ চলাচলের সূচি ব্যাহত হওয়ায় রিফাইনারিটির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

      নির্ধারিত জাহাজগুলো না আসায় কাঁচা তেলের মজুত দ্রুত কমে যায়, ফলে কর্তৃপক্ষকে প্রথমে উৎপাদন কমাতে এবং পরে পুরোপুরি বন্ধ করতে হয়।

      বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানান, চালানটি মূলত সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর থেকে ছাড়ার কথা ছিল। তবে সঙ্ঘাতজনিত ঝুঁকির কারণে জাহাজটি ২৪ এপ্রিল ইয়ানবু বন্দর থেকে রওনা হয়।

      বিকল্প এই রুট এবং বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার কারণে আমদানি ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

      চালানটির মূল্য প্রায় ১০ কোটি ৮৪ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় এক হাজার ৮৪ কোটি টাকা), যেখানে প্রতি ব্যারেলের দাম ১২৬ দশমিক ২৮ ডলার। পাশাপাশি লজিস্টিক পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত প্রায় ৬০৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

      দেশীয় জ্বালানি বাজারের জন্য রিফাইনারিটির পুনরায় চালু হওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কাঁচা তেল পরিশোধনের মাধ্যমে ডিজেল, পেট্রোলসহ বিভিন্ন জ্বালানির মাধ্যমে ইআরএল দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ করে।অবশিষ্ট ৮০ শতাংশ জ্বালানি চাহিদা পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম সরাসরি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়।

    • ৫ টাকায় ১২০ কিলোমিটার চলে রতনের মোটরসাইকেল

      ৫ টাকায় ১২০ কিলোমিটার চলে রতনের মোটরসাইকেল

      জ্বালানি তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি আর ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তিতে যখন নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের, ঠিক সেই সময়েই সম্ভাবনার এক ভিন্ন দিগন্ত দেখাচ্ছেন রাণীশংকৈল উপজেলার এক তরুণ উদ্ভাবক। স্বল্প খরচে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে রতন মহন্ত তৈরি করেছেন ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল, যা ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

      রাণীশংকৈল পৌর শহরের মহলবাড়ী এলাকার বাসিন্দা সুরেন মহন্তের ছেলে রতন মহন্ত পেশায় একজন অটোভ্যান মেকানিক। সাইকেল-ভ্যান মেরামতের আয়েই চলে তার সংসার। তবে সীমিত আয়ের মধ্যেও তার উদ্ভাবনী চিন্তা থেমে থাকেনি।

      জানা যায়, ২০১৯ সালে একটি পুরোনো ১০০ সিসির সুজুকি মোটরসাইকেল কেনার পর থেকেই নানা যান্ত্রিক জটিলতায় পড়েন রতন। বারবার মেরামত করেও স্থায়ী সমাধান না পেয়ে এবং জ্বালানি খরচের চাপ বাড়তে থাকায় তিনি নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। একপর্যায়ে সাহসী সিদ্ধান্ত নেন প্রচলিত ইঞ্জিন সরিয়ে মোটরসাইকেলটিকে সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় রূপান্তর করবেন। মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন খুলে সেখানে বসান ১২ ভোল্টের চারটি ব্যাটারি এবং একটি অটোরিকশার মোটর।

      তার এই উদ্ভাবনী প্রচেষ্টার ফল একটি কার্যকর ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল, যা এখন অনায়াসেই সড়কে চলাচল করছে। একবার চার্জে তার তৈরি এই বাইক প্রায় ১২০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারে, যেখানে বিদ্যুৎ খরচ হয় মাত্র ৫ টাকা। বিপরীতে একই দূরত্বে একটি সাধারণ মোটরসাইকেলের জ্বালানি খরচ প্রায় ৪০০ টাকার মতো, যা খরচের দিক থেকে এক বিশাল পার্থক্য তৈরি করেছে।

      রতন মহন্ত বলেন, শুরুর দিকে অনেকেই আমার কাজ নিয়ে হাসাহাসি করেছে। কেউ বিশ্বাসই করতে চায়নি যে এই বাইক চলতে পারে। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। এখন যখন তেলের জন্য মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে, তখন তারাই এসে আমার কাজের প্রশংসা করছে।

      তার এই সাফল্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমছে তার বাড়িতে। অনেক মোটরসাইকেল চালক ইতোমধ্যেই নিজেদের বাইক ব্যাটারিচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বর্তমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এটি একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবেই দেখছেন অনেকে।

      রতনের প্রতিবেশী আবু হানিফ বলেন, তেল কিনতে আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অথচ রতন খুব সহজেই চলাফেরা করছে, খরচও অনেক কম। আমিও এখন আমার বাইক ব্যাটারিতে রূপান্তরের কথা ভাবছি।

      স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর, নাজমুল ও আক্তার বলেন, বর্তমানে তেলের সংকট আমাদের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তবুও নিশ্চয়তা থাকে না তেল পাব কি না। এতে করে দৈনন্দিন কাজকর্ম, বিশেষ করে যাদের চলাফেরার জন্য মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভর করতে হয়, তাদের অনেক কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রতনের এই ব্যাটারিচালিত বাইক আমাদের কাছে নতুন আশার মতো মনে হয়েছে। খুব কম খরচে যদি ১০০-১২০ কিলোমিটার চলা যায়, এটা সত্যিই বড় একটা সুবিধা। এতে যেমন খরচ কমবে, তেমনি তেলের জন্য ভোগান্তিও কমে আসবে।

      তারা আরও বলেন, আমরা নিজের চোখে বাইকটা চলতে দেখেছি, যা আমাদের আরও বেশি আগ্রহী করে তুলেছে। ভবিষ্যতে যদি এই প্রযুক্তি আরও উন্নত করা যায় এবং সহজভাবে সবাই ব্যবহার করতে পারে, তাহলে এটি সাধারণ মানুষের জন্য একটি কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠবে। আমরা আশা করি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমন উদ্ভাবনকে সহযোগিতা করবে। যাতে রতনের মতো আরও তরুণ সামনে এগিয়ে আসতে পারে।

      এ বিষয়ে রাণীশংকৈল পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মো. মিঠুন বলেন, রতনের এই কাজটা সত্যি অনেক ভালো লাগছে। এত কম খরচে যদি একটা বাইক চলে, তাহলে এটা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য অনেক উপকারে আসবে। এখন তেলের জন্য যে ভোগান্তি, সেটা কমাতে এই ধরনের উদ্যোগ খুব দরকার। আমি মনে করি তাকে যদি একটু সহযোগিতা করা হয়, তাহলে সে আরও ভালো কিছু করতে পারবে এবং এলাকায় এমন নতুন কিছু করার আগ্রহও বাড়বে।

      এ ব্যাপারে রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম বলেন, রতন মহন্তের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি যে সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার পরিচয় দিয়েছেন তা অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠতে পারে। বর্তমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে তার এই ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এমন উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করব।

      এম কে

    • ঘোড়াঘাটে সাধনা ফিলিং স্টেশনে বিশ হাজার টাকা জরিমানা

      ঘোড়াঘাটে সাধনা ফিলিং স্টেশনে বিশ হাজার টাকা জরিমানা

      দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের দায়ে এক ফিলিং স্টেশন ম্যানেজারকে জরিমানা করা হয়েছে।

      বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে ঘোড়াঘাট উপজেলার সাধনা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন,২০০৯-এর ৪০ ও ৪৫ ধারায় তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

      ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ রুবানা তানজিন।অভিযানে সহযোগিতা করেন ঘোড়াঘাট থানা পুলিশের এসআই মোঃ নজরুল ইসলামসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

      জানা যায়, ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রির ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত ফুয়েল কার্ড ব্যতীত তেল বিক্রির কারণে বিশৃঙ্খলার অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা আদায় করা হয়।

      এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবানা তানজিন জানায়, অব্যবস্থাপনার কারণে এবং পাম্পের শৃঙ্খলা ফেরাতে আমরা ফুয়েল কার্ডের ব্যবস্থা করেছি। আজ ফুয়েল কার্ড ছাড়া তেল বিক্রির কারণে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। পাম্প ম্যানেজার ফুয়েল কার্ড ছাড়া প্রায় ১৫’ শ থেকে ২ হাজার লিটার তেল বিক্রি করছে। ফলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে এই কারণে আমরা ভোক্তা অধিকার আইনে ২০ হাজার টাকা জরিমানা্রেে আদায় করেছি।