জ্বর

  • জ্বর না কমার কারন

    জ্বর না কমার কারন

    প্যারাসিটামল সেবনের পরও যদি তিন থেকে পাঁচ দিনের বেশি জ্বর স্থায়ী হয়, তাহলে এর পেছনে বিভিন্ন রোগ বা সংক্রমণ দায়ী থাকতে পারে। যেমন—

    • ডেঙ্গু: তীব্র জ্বর, শরীরব্যথা ও মাথাব্যথা ডেঙ্গুর অন্যতম লক্ষণ। এ রোগে অনেক সময় প্যারাসিটামল সেবনের পরও জ্বর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে না।
    • ভাইরাসজনিত সংক্রমণ: ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লুর মতো তীব্র ভাইরাসজনিত সংক্রমণে কয়েক দিন ধরে জ্বর থাকতে পারে। পাশাপাশি কাশি, গলাব্যথা, মাথাব্যথা, সর্দি কিংবা নাক বন্ধ হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
    • টাইফয়েড ও ম্যালেরিয়া: ব্যাকটেরিয়াজনিত টাইফয়েড এবং পরজীবীর কারণে সৃষ্ট ম্যালেরিয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর থাকতে পারে।
    • মূত্রনালির সংক্রমণ (ইউটিআই): মূত্রনালিতে সংক্রমণ হলে অনেক ক্ষেত্রে বারবার কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসতে পারে।
    • অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করলে সংক্রমণের সঠিক চিকিৎসা ব্যাহত হতে পারে এবং অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ফলে সংক্রমণ সহজে নিয়ন্ত্রণে নাও আসতে পারে।
    • জ্বর হলে বাড়িতে প্রাথমিকভাবে যা করবেন

    জ্বরের সময় রোগীর যথাযথ যত্ন নেওয়া জরুরি। তবে জ্বর পুরোপুরি না কমা পর্যন্ত শুধু বাড়িতে চিকিৎসা চালিয়ে না গিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

    ১. পর্যাপ্ত বিশ্রাম: শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার সুযোগ দিতে রোগীকে পর্যাপ্ত বিশ্রামে রাখুন।

    ২. শরীর মুছে দেওয়া: কুসুম গরম পানিতে নরম সুতি কাপড় ভিজিয়ে শরীর মুছে দিতে পারেন। প্রয়োজনে কপালে ভেজা কাপড় দিন। বরফপানি বা অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি ব্যবহার করবেন না।

    ৩. পর্যাপ্ত তরল পান: জ্বরের কারণে ঘাম ও শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যাওয়ায় পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। এ জন্য রোগীকে নিয়মিত পানি, ডাবের পানি, স্যুপ এবং উপযুক্ত তরল খাবার দিন। প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার স্যালাইনও দেওয়া যেতে পারে।

    ৪. হালকা পোশাক পরানো: রোগীকে ভারী কম্বল বা মোটা কাপড়ে ঢেকে রাখবেন না। এতে অস্বস্তি বাড়তে পারে। বরং আরামদায়ক ও হালকা সুতি পোশাক পরতে দিন।

    ৫. সহজপাচ্য খাবার: জাউভাত, নরম ভাত, স্যুপসহ সহজে হজম হয় এমন খাবার দিন। অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলুন। বমি বা অরুচি থাকলে অল্প অল্প করে বারবার খাবার দিতে পারেন।

    যেসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাবেন

    জ্বর কমানোর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত ওষুধ বা ব্যথানাশক গ্রহণ করা উচিত নয়। বিশেষ করে ডেঙ্গু সন্দেহ হলে আইবুপ্রোফেন ও অ্যাসপিরিনের মতো ওষুধ রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। নিচের লক্ষণগুলোর কোনোটি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে—

    • টানা তিন দিন বা তার বেশি সময় ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপরে জ্বর থাকলে।
    • তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি কিংবা বমির সঙ্গে রক্ত গেলে।
    • শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা অস্বাভাবিক কালো দাগ দেখা দিলে।
    • মাড়ি, নাক বা মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত হলে কিংবা আলকাতরার মতো কালো পায়খানা হলে।
    • শ্বাসকষ্ট বা তীব্র বুকব্যথা দেখা দিলে।
    • রোগী অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে পড়লে, অচেতন হলে কিংবা অসংলগ্ন আচরণ করলে।

    বিশেষ সতর্কতা: ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে জ্বর কমে যাওয়ার পরও বিপদ কেটে গেছে—এমনটি ভাবা ঠিক নয়। অনেক সময় জ্বর কমার পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় রোগীর অবস্থা গুরুতর হতে পারে। এ সময়ে রক্তচাপ কমে যাওয়া বা শক দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই জ্বর কমলেও রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর সতর্ক নজর রাখতে হবে।

    জ্বর নিজে কোনো নির্দিষ্ট রোগ নয়; এটি শরীরে কোনো সমস্যা বা সংক্রমণের লক্ষণ। তাই দীর্ঘস্থায়ী জ্বরের প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা জরুরি। সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রক্তসহ অন্যান্য পরীক্ষা করালে সঠিক রোগ নির্ণয় ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব।