জুলাই

  • জুলাই ও ভবিষ্যতের বাংলাদেশ

    জুলাই ও ভবিষ্যতের বাংলাদেশ

    জাতীয়তাবাদ আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক ধারণা। রাষ্ট্রের জন্ম, তার বৈধতা, জনগণের রাজনৈতিক আনুগত্য এবং জাতীয় পরিচয়—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জাতীয়তাবাদ। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বেনেডিক্ট অ্যান্ডারসন জাতিকে ব্যাখ্যা করেছেন একটি ‘কল্পিত রাজনৈতিক সম্প্রদায়’ হিসেবে, যেখানে সদস্যরা একে অপরকে ব্যক্তিগতভাবে না চিনলেও অভিন্ন পরিচয়ের ভিত্তিতে একই সম্প্রদায়ের অংশ মনে করেন। আর্নেস্ট গেলনার একে যুক্ত করেছেন আধুনিক সমাজের কাঠামোগত পরিবর্তনের সঙ্গে, আর অ্যান্থনি ডি. স্মিথ গুরুত্ব দিয়েছেন ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক স্মৃতির ওপর। বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের বিকাশও এই বৈশ্বিক বাস্তবতার বাইরে নয়, তবে আমাদের পথচলা ছিল আরো রক্তক্ষয়ী ও জটিল।২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর একটি পুরোনো প্রশ্ন আবার সামনে এসেছে—রাষ্ট্রের পরিচয় কী? আমরা কি কেবল ভাষাভিত্তিক একটি জাতি, নাকি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিক/জাতি? পৃথিবীর ইতিহাস আমাদের শেখায়, কেবল মানচিত্রে জন্ম নিলেই একটি রাষ্ট্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিপক্ব জাতিতে পরিণত হয় না। এক দিনে মানচিত্র আঁকা যায়, কিন্তু জাতীয় পরিচয়, নাগরিক আস্থা ও রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য গড়ে ওঠে প্রজন্মের পর প্রজন্মের অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক-সামাজিক চুক্তির মধ্য দিয়ে।

    আমাদের ভাষা আন্দোলন, স্বায়ত্তশাসনের সংগ্রাম, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের প্রথম বিকাশ ঘটে। বাঙালি জাতীয়তাবাদ ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত মূল সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অনুঘটক, যা একটি জাতিকে উপনিবেশবিরোধী সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পরপরই একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে—যুদ্ধবিধ্বস্ত এই রাষ্ট্রের পরিচয়ের ভিত্তি কী হবে? একটি সার্বভৌম ভূখণ্ডে বসবাসকারী সব ধর্ম, গোষ্ঠী ও নৃগোষ্ঠীর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক নাগরিক পরিচয় গড়ে তোলাই হয়ে দাঁড়ায় নবজাত রাষ্ট্রের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

    ১৯৭৫ সাল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ, যা নিয়ে ইতিহাসবিদ ও বিশ্লেষকদের মধ্যে আজও ভিন্নমত রয়েছে—কেউ একে দেখেন রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস হিসেবে, কেউ গভীর সংকটের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে। এরপর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ একটি সুসংগঠিত রাষ্ট্রদর্শন হিসেবে সামনে আসে, যেখানে ভূখণ্ড, সার্বভৌমত্ব, সংবিধান ও

    নাগরিকত্বকে পরিচয়ের কেন্দ্রে আনা হয়। এই সময় বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কৃষি ও বহুমুখী কূটনীতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, যদিও এই কালপর্ব নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে বাঙালি ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে প্রায়ই পরস্পরবিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু ইতিহাসের গভীর বিশ্লেষণ ভিন্ন চিত্র দেখায়—বাঙালি জাতীয়তাবাদ আমাদের দিয়েছে স্বাধীনতার সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ভিত্তি; আর বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ দিয়েছে রাষ্ট্র পরিচালনার নাগরিক ও সার্বভৌম কাঠামো। ভবিষ্যতের বাংলাদেশে এই দুই উত্তরাধিকারকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, পরিপূরক হিসেবে দেখাই যুক্তিসংগত।

    ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের ওপর ছররা গুলি বর্ষণ কেবল একটি গণআন্দোলনকে একদফায় রূপ দেয়নি; বরং তরুণ প্রজন্মের এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক জাগরণ ঘটায়। দেশের গড় বয়স মাত্র ২৬ বছরের কিছু বেশি এবং প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ ৩৫ বছরের নিচে—এই বাস্তবতায় রাজপথের জাগরণ প্রমাণ করে, পুরোনো আদর্শিক বিভাজন দিয়ে এই ডিজিটাল প্রজন্মের নাগরিক চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। জুলাইয়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষা কেবল সরকার পরিবর্তন নয়; রাষ্ট্র সম্পর্কে নাগরিকের প্রত্যাশার পরিবর্তন।কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে সূচিত এই গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমি, কারণ ও তাৎপর্য নিয়ে বিভিন্ন বিশ্লেষণ রয়েছে—কেউ একে দেখেছেন গণতান্ত্রিক অধিকারের আন্দোলন হিসেবে, কেউ রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি হিসেবে, আবার কেউ নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক জাগরণ হিসেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর ব্যাপক অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে, তরুণ প্রজন্ম কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, চায় জবাবদিহিতামূলক প্রতিষ্ঠান, ন্যায়বিচার ও সুযোগের সমতা।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্যোগে প্রণীত হয় ‘জুলাই জাতীয় সনদ’। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় গণভোটে এই সনদ ও সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পড়ে। একদল বিশ্লেষকের মতে, এটি ত্রুটিপূর্ণ রাজনৈতিক-সাংবিধানিক কাঠামো সংশোধনের ঐতিহাসিক সুযোগ; আবার অন্যরা মনে করেন, তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক আবেগনির্ভর এই সংস্কার-প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য পর্যাপ্ত পরীক্ষিত কি না, তা নিয়ে আরো সতর্ক বিশ্লেষণ প্রয়োজন। এ বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে সারা দেশে পালিত জুলাই শহীদ দিবস প্রমাণ করে, ১৯৭৫-পরবর্তী বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রশ্ন এবং ২০২৪-পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্ন একই ধারাবাহিকতার অংশ হয়ে উঠেছে।

    জাতীয় পরিচয়ের পুনর্নির্মাণ নতুন কোনো ঘটনা নয়। ১৮৭১ সালে অটো ভন বিসমার্ক শুধু সামরিক শক্তিতে নয়, বিশ্বের প্রথম সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করে জার্মান জাতির আনুগত্য সুদৃঢ় করেছিলেন। ১৯৬৫ সালে মালয়েশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাত্রা শুরু করা সিঙ্গাপুরকে লি কুয়ান ইউ গড়ে তুলেছিলেন শূন্য-সহনশীল দুর্নীতি ও মেধাভিত্তিক শাসনের ওপর ভর করে। তুরস্কের মুস্তফা কামাল আতাতুর্কও অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর গড়ে তুলেছিলেন নাগরিক অধিকারভিত্তিক আধুনিক প্রজাতন্ত্র। বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তার বিবর্তনও এই বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ।

    জাতীয়তাবাদের বিতর্ক আজ কেবল রাজনৈতিক মঞ্চে সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রতিফলন দেখা যায় অর্থনীতিতেও। বাংলাদেশ আজ প্রায় ৪৫০ বিলিয়ন ডলারের উদীয়মান অর্থনীতি। স্বাধীনতার সময় ৮০ শতাংশের ওপরে থাকা দারিদ্র্যের হার নাটকীয়ভাবে নেমে এসেছে পাঁচ শতাংশের ঘরে। তৈরি পোশাক খাতের বিপুল রপ্তানি, প্রবাসী আয় এবং কৃষির সাফল্য অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রমাণ। তবু মানবসম্পদ সূচকে নিম্ন স্কোর, দুর্নীতির ধারণা সূচকে পিছিয়ে থাকা এবং বিপুলসংখ্যক তরুণের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বাইরে থাকা কঠিন সত্য মনে করিয়ে দেয়—অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আর প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন এক বিষয় নয়।

    রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্যামুয়েল হান্টিংটনের ভাষায়, রাষ্ট্রের স্থায়িত্ব কেবল রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ওপর নয়, বরং সেই অংশগ্রহণকে সুসংগঠিত রাখার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। আর ম্যাক্স ভেবারের ভাষায়, রাষ্ট্র তখনই দীর্ঘ মেয়াদে স্থিতিশীল হয়, যখন জনগণ তার প্রতিষ্ঠান, আইন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় আস্থা রাখে। যদি রাষ্ট্র তার চাকমা, সাঁওতাল, বাঙালি, হিন্দু, মুসলিম কিংবা প্রবাসী—প্রতিটি নাগরিককে সমঅধিকার ও নিরাপত্তা দিতে না পারে, তবে জাতীয়তাবাদ কেবল একটি ফাঁকা রাজনৈতিক স্লোগানে পরিণত হয়।বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার টানাটানির মধ্যে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের নতুন রূপ হওয়া উচিত ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’—কোনো একক পরাশক্তির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে জাতীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করে ভারসাম্য বজায় রাখা। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য জাতীয় স্বার্থ রক্ষা হলেও তার অর্থ বিচ্ছিন্ন থাকা নয়; বরং ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করা।

    জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদকে একটি আধুনিক ও রাষ্ট্রকেন্দ্রিক দর্শনে রূপ দিতে হলে তা দাঁড়িয়ে থাকতে হবে পাঁচটি স্তম্ভের ওপর—প্রথমত, ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্ব ও নাগরিক বহুত্ববাদ, ধর্ম, ভাষা বা জাতিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাংবিধানিক সম-অধিকার নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার ও গণতান্ত্রিক চেতনা—১৯৫২, ১৯৭১ ও ২০২৪-এর গণতান্ত্রিক চেতনাকে একত্রিত করে অভিন্ন রাষ্ট্রীয় গৌরবগাথা নির্মাণ। তৃতীয়ত, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ও মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা—ব্যক্তিনির্ভর রাজনীতির বদলে প্রতিষ্ঠাননির্ভর রাষ্ট্র গড়ে তোলা। চতুর্থত, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি ও মানবসম্পদ—প্রবৃদ্ধির সুফল প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। পঞ্চমত, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও পররাষ্ট্রনীতি—জাতীয় স্বার্থকে সর্বাগ্রে রেখে মর্যাদাশীল বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনা।

    সমালোচকেরা বলতে পারেন, জাতীয়তাবাদ নিয়ে নতুন বিতর্ক ঐক্যের বদলে বিভক্তি তৈরি করতে পারে। এটি যৌক্তিক শঙ্কা। তবে প্রকৃত প্রশ্ন জাতীয়তাবাদ থাকবে কি না, তা নয়; বরং এটি কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নাগরিকবান্ধব হবে। বিভাজন তৈরি হয় যখন জাতীয়তাবাদকে দলীয়করণের হাতিয়ার করা হয়; কিন্তু যখন তা সুশাসন, আইনের শাসন ও সমান সুযোগের নিশ্চয়তা দেয়, তখন তা ঐক্যের সেতু তৈরি করে।

    বাংলাদেশের সামনে এখন প্রয়োজন একটি নতুন সামাজিক চুক্তি, যার ভিত্তি হতে পারে তিনটি বিষয়—শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, যেখানে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর চেয়ে আইন গুরুত্বপূর্ণ হবে; অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, যেখানে প্রতিটি নাগরিক উন্নয়নের সুযোগ পাবে; এবং জাতীয় ঐক্য, যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সবাই অভিন্ন স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক সংস্কার-প্রক্রিয়াকে এই সামাজিক চুক্তি পুনর্গঠনের একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়াস হিসেবে দেখা যেতে পারে, যদিও এর প্রকৃত সফলতা প্রমাণিত হবে দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে

    শেষ পর্যন্ত একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারিত হয় তার জনগণের জীবনমান দিয়ে। একটি পতাকা, একটি ভূখণ্ড ও একটি রাজনৈতিক দর্শন তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন তা সাধারণ মানুষের জীবনে আশা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে আসে। ইতিহাস প্রমাণ করে, এ দেশের মানুষ বারবার সংকট থেকে নতুন পথ বের করেছে। ১৯৫২ আমাদের ভাষা শিখিয়েছে, ১৯৭১ স্বাধীনতা দিয়েছে, আর ২০২৪ আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে—রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি বন্দুকের নল থেকে নয়, নাগরিকের বিশ্বাস থেকে আসে। আগামী বাংলাদেশের ইতিহাস লেখা হবে সেই বিশ্বাস রক্ষার সক্ষমতার ওপর।

  • শহীদদের প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি: ডা. শফিকুর রহমান

    শহীদদের প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি: ডা. শফিকুর রহমান

    জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, ইনসাফভিত্তিক ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তাই শহীদদের রক্ত যেন কোনোভাবেই বৃথা না যায়, সে লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

    আজ বুধবার (৫ আগস্ট) ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

    বার্তার শুরুতে ডা. শফিকুর রহমান দেশবাসী এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের জাতীয় জীবনের ইতিহাসে এক গৌরবময় ও অবিস্মরণীয় অধ্যায়। এদিন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, তরুণ-তরুণী, শিশু-বৃদ্ধ, নাগরিক সমাজ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অভিন্ন দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছিলেন।

    তিনি বলেন, ছাত্রদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন একপর্যায়ে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের এক দফা আন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলন দমনে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করা হয়। কিন্তু দেশের মুক্তিকামী মানুষ গুলি, বোমা ও দমন-পীড়ন উপেক্ষা করে বৈষম্যমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আন্দোলন চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যেতে বাধ্য হন এবং দীর্ঘ সাড়ে ১৬ বছরের একনায়কতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই আন্দোলনে জাতিকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবির একাংশের গুলিতে প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিহত এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হন। এছাড়া কয়েক হাজার মানুষ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেন।

    তিনি শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিমসহ আন্দোলনে নিহত সকলকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে আহত, পঙ্গুত্ববরণকারী, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং নির্যাতিত সবার প্রতি সমবেদনা ও কৃতজ্ঞতা জানান।

    জামায়াত আমির বলেন, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, একটি মহলের কারণে সেই প্রত্যাশা আজও পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এজন্য এখনো লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

    তিনি বলেন, শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করতে হলে বৈষম্যহীন, পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক, সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটাই হবে তাদের আত্মত্যাগের প্রকৃত সম্মান।

    বার্তার শেষাংশে ডা. শফিকুর রহমান দেশবাসীর প্রতি অতীতের সব বিভেদ ভুলে একটি বৈষম্যহীন, সুখী, সমৃদ্ধ, মানবিক ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি মহান আল্লাহর কাছে দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

  • শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত “গণঅভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও জনপ্রত্যাশিত গণতন্ত্রকে রক্ষা করার দায়িত্ব দেশের সর্বস্তরের জনগণের। ফ্যাসিবাদের যেকোনো ধরনের প্রত্যাবর্তন এবং ষড়যন্ত্র রুখতে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় ও অটুট রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    জুলাই বিপ্লবের প্রথমদিকের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘১৫ জুলাই যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘তুমি কে আমি কে? রাজাকার রাজাকার’ এবং ‘কে বলেছে কে বলেছে? স্বৈরাচার স্বৈরাচার’ স্লোগানে ইতিহাসের গতিপথ বদলে যাচ্ছিল, তখন আমি নির্বাসনে থাকলেও আমার পূর্ণ মনোযোগ ও সহযোগিতা ছিল এই আন্দোলনের সাথে।’

    দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা অর্জন করা সহজ, কিন্তু রক্ষা করা কঠিন। স্বৈরাচারী শক্তি যেন আর কখনো এ দেশের গণতন্ত্রকে পদদলিত করতে না পারে, সেজন্য আমরা রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার করতে চাই। এই লক্ষ্যে আমাদের প্রণীত ৩১ দফার আলোকেই নির্বাচনী ইশতেহার সাজানো হয়েছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশের সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘জাতীয় জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করেছে। এই সনদ অনুযায়ী সংবিধান ও অন্যান্য আইন-কানুনের প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করা আমাদের অঙ্গীকার।’

    বিগত স্বৈরাচারী সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের ব্যাপারে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল পার্লামেন্টেও আমি স্পষ্টভাবে বলেছি— শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠানো হয়েছে। দেশে ফিরিয়ে এনেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং আদালতের রায় কার্যকর করা হবে।’

    তিনি বলেন, ‘বিদেশে পলাতক ফ্যাসিবাদী সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে এবং এরই প্রেক্ষিতে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

    আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ বা বিচারের মুখোমুখি করার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোনো প্রশাসনিক আদেশে বা এক্সিকিউটিভ অর্ডারে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই। আমরা চাই সম্পূর্ণ আইনানুগ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের দোসর এই সংগঠনের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হোক।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) অ্যাক্ট এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে, যার ফলে ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে দল হিসেবেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে। তাছাড়া বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সংগঠন হিসেবেও বিচারের স্পষ্ট বিধান রয়েছে।’

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে যেভাবে হিটলারের নাৎসি বাহিনী ও গেস্টাপোকে নিষিদ্ধ ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল, ঠিক তেমনি বাংলাদেশেও রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে আসমান থেকে গুলি করে শিশু ও গৃহিণী হত্যার মতো যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালানো হয়েছে, তার দায় আওয়ামী লীগ এড়াতে পারে না।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘এত বড় ম্যাসাকার বা হত্যাকাণ্ডের পরেও আওয়ামী লীগ ও তার নেত্রীর মনে কোনো অনুশোচনা বা ক্ষমা প্রার্থনার বালাই নেই, উল্টো তারা জুলাইয়ের বীর যোদ্ধাদের ‘জঙ্গিবাদী’ আখ্যা দিয়ে পুনরায় রাজনীতিতে ফেরার ঘৃণ্য স্বপ্ন দেখছে।’

    তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানেই রক্ষীবাহিনী দিয়ে ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা, ধর্ষণের সেঞ্চুরি, একদলীয় বাকশাল কায়েম এবং ছাত্র রাজনীতিকে কলঙ্কিত করার ইতিহাস।’

    জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার বা ব্যবসা না করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই জুলাই বিপ্লবের কৃতিত্ব কারো একার নয়। এ দেশের সাধারণ মানুষ বুক পেতে দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, কৃতিত্ব কেবলই তাদের। স্বৈরাচারের পরিণতি কেমন হয় তা ভবিষ্যৎ সরকারগুলোর শিক্ষা নেওয়ার জন্য গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তরিত করা হচ্ছে।’

    মন্ত্রী ‘৭১ ও ‘২৪-এর শহীদদের স্বপ্নের একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মসহ সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। স্বাগত বক্তব্য দেন ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির।

    অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

  • জুলাই নিয়ে সিনেমা বানান, রক্ত বিক্রি করে টাকা দেব: তাজুল

    জুলাই নিয়ে সিনেমা বানান, রক্ত বিক্রি করে টাকা দেব: তাজুল

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘রাষ্ট্র যদি জুলাই নিয়ে সিনেমা বানানোর জন্য ফান্ড না দেয়, তাহলে আমি নিজের গাড়িটি বিক্রি করে দিয়ে হলেও সেই ফান্ডে টাকা দেব।’ যোগ্য চলচ্চিত্র পরিচালকদের এই কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফান্ডের জন্য প্রয়োজনে আমার রক্ত বিক্রি করতেও দ্বিধা করব না।’

    শনিবার জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের বিশেষ অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ফ্যাসিস্টদের সহযোগী যারা জুলাই বিপ্লবকে ‘জঙ্গি কর্মকাণ্ড’ বা ‘সিডিআই’ বলে মিথ্যা প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করছে, তাদের রুখে দিতে সঠিক ইতিহাসের চলচ্চিত্র নির্মাণ খুবই জরুরি।’

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ইতিহাসের এই বীরত্বগাথাকে অমর করে রাখতে এবং শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে জুলাইয়ের ওপর ভিত্তি করে মানসম্মত সিনেমা নির্মাণ করা প্রয়োজন।’

    জুলাই বিপ্লবকে একটি মহাকাব্যিক বিপ্লব এবং অসম মহাযুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘একপক্ষ অস্ত্র এবং অন্যপক্ষ বুককে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে।’ তিনি হাসপাতালে আহতদের ভয়াবহ অবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘তৎকালীন স্বৈরশাসকের নির্দেশে ‘নো রিলিজ, নো ট্রিটমেন্ট’ নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল, যার ফলে আহতদের অস্ত্রোপচার করা হয়নি এবং ড্রেসিংয়ের সময় অ্যানেস্থেশিয়া পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।’