জিপিএ-৫

  • কমেছে জিপিএ-৫, দুই বছরে নেমেছে অর্ধেকেরও নিচে

    কমেছে জিপিএ-৫, দুই বছরে নেমেছে অর্ধেকেরও নিচে

    এইচএসসি, আলিম ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা টানা দুই বছর ধরে কমছে।

    শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    ফলাফলে দেখা যায়, ২০২৪ সালে যেখানে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন, সেখানে ২০২৬ সালে এ সংখ্যা নেমে এসেছে ৪০ হাজার ৮৪ জনে।

    অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১ লাখ ৫ হাজার ৮২৭ জন। বর্তমানে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৭২ শতাংশের বেশি কম।

    ২০২৫ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন। এক বছরের ব্যবধানে এবার তা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন। অর্থাৎ ২০২৬ সালে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪২ শতাংশ কমেছে।

    শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এর মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৩৬৩ জন এবং ছাত্রী ১৯ হাজার ৭২১ জন।

    অন্যদিকে, ২০২৫ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ছিলেন ৩২ হাজার ৫৩ জন এবং ছাত্রী ৩৭ হাজার ৪৪ জন। সে বছর মোট জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ৯৭ জন। আর ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন।

    ফলাফলের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এক বছরেই জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছিল ৭৬ হাজার ৮১৪ জন। পরের বছরও সেই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

  • জিপিএ-৫ কেন্দ্রিক মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসা জরুরি

    জিপিএ-৫ কেন্দ্রিক মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসা জরুরি

    সবার আগে বাংলাদেশ, শ্রমজীবী মানুষের বাংলাদেশ, ইনসাফের বাংলাদেশ, নতুন বন্দোবস্তের বাংলাদেশের জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে সিপিডি ও এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সংলাপে তিনি এমন মন্তব্য করেন। ‘সরকার কি প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে? প্রাথমিক শিক্ষার ওপর আলোকপাত’ শীর্ষক এ গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম।

    অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতের বর্তমান স্থিতি, চ্যালেঞ্জ এবং সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে।

    ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বর্তমানের এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে ছাত্ররা পরীক্ষা দিচ্ছে, কিন্তু পাস করতে পারছে, অন্যদিকে দেশে অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, সেখানে ছাত্র খুঁজে পাচ্ছে না। আবার সবচেয়ে মেধাবীরা শিক্ষক হতে চাচ্ছেন না। এই তিনটি বড় বড় সমস্যা আমাদের পীড়িত করছে। এটার সমাধান দরকার।

    তিনি বলেন, সবার আগে যদি বাংলাদেশ বলি, তাহলে সবার আগে মানসম্মত শিক্ষার বাংলাদেশ হতে হবে। যারা বলেন শ্রমজীবী মানুষের উত্থান চাই, সেই উত্থান হতে হবে তাদের সন্তানদের প্রকৃত শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে। শ্রমজীবী মানুষের সন্তানদের, পিছিয়ে পড়া মানুষের সন্তানদের শিক্ষা দিতে হবে। উপযুক্ত শিক্ষার জায়গা দিতে হবে। যারা বলেন একটা নতুন বন্দোবস্ত করবেন, সেই নতুন বন্দোবস্ত হতে হবে শিক্ষার অধিকারকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে। আর যারা বলেন ইনসাফ চাই, শিক্ষা থেকে বঞ্চনার চেয়ে বড় বেইনসাফি আর কিছু হতে পারে না।

    সিপিডির নব নিযুক্ত নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, জেন্ডার ইনডেক্স অনুযায়ী বাংলাদেশে শিক্ষার সুযোগ ও অংশগ্রহণ বাড়লেও, নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের স্কোর আশানুরূপ নয়। প্রাথমিক শিক্ষায় ছেলে-মেয়ের সমতা নিশ্চিত হলেও, ধনী ও দরিদ্র পরিবারের শিশুদের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগের মধ্যে এখনো বড় ব্যবধান রয়েছে। শিক্ষার গুণগত মান ও জীবনদক্ষতা কেবল স্কুলে উপস্থিতি বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; জিপিএ-নির্ভর পড়াশোনা থেকে বেরিয়ে শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী জীবনদক্ষতা (যেমন: বিতর্ক ও খেলাধুলা) অর্জন নিশ্চিত করতে হবে। জিপিএ-৫ কেন্দ্রিক মানসিকতা থেকে অভিভাবকদের বের হয়ে আসা জরুরি, কারণ জিপিএ-৫ সন্তানের মেধা বা যোগ্যতার পূর্ণাঙ্গ চিত্র দেয় না। সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলামের উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতের ঐতিহাসিক পটভূমি এবং সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়।

    সিপিডির প্রতিবেদন বলছে, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সময়ে বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের ভর্তি, বিদ্যালয়ের সুবিধা এবং ছেলে-মেয়ের সমতা অর্জনের ক্ষেত্রে সাফল্য দেখা গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এসে এই সাফল্য স্থবির হয়ে পড়েছে। বন্যা বা কোভিডের মতো বড় ধাক্কায় শিক্ষাব্যবস্থার ভঙ্গুরতা প্রকাশ পেয়েছে। বর্তমানে দেশের শিক্ষা খাতের প্রধান সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে শিক্ষার বিভিন্ন ধারার মধ্যকার বিভাজন, যেখানে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সনদের মান সমান না থাকায় শিখনফল ও শিক্ষার গুণগত সুযোগে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে।

    প্রতিবেদনে সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের ২০০ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর তাদের দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে গবেষকদল মূলত তিনটি প্রধান দিক নজরদারিতে রেখেছেন, যার মধ্যে রয়েছে নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, ইশতেহারের বাইরে গৃহীত নীতি ও পরিকল্পনা এবং বাজেটে এসব রাজনৈতিক অঙ্গীকারের সঠিক প্রতিফলন ঘটেছে কি না তা পরীক্ষা করা।সিপিডি মনে করে, শিক্ষায় কেবল প্রাথমিক প্রবেশগম্যতা বাড়ালেই চলবে না, বরং প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য দূর করা এবং রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিগুলোকে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে। রাজনৈতিক ঘোষণা বা সাধারণ বাজেট বরাদ্দেই শিক্ষার সার্বিক পরিবর্তন আসবে না। শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে হলে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি তা যথাযথভাবে ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে এবং ঘোষিত নীতিগুলোকে আইনি কাঠামোর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

  • ফুলবাড়ীতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শিবিরের সংবর্ধনা

    ফুলবাড়ীতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শিবিরের সংবর্ধনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শতাধিক কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা মডেল মসজিদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কুড়িগ্রাম জেলা সেক্রেটারি মোবাশ্বের রাশেদ্বীন। এ সময় জেলা ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক বাইজিদ খান, সাবেক ছাত্রনেতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সালাম সুজা, ফুলবাড়ী উপজেলা সভাপতি মিরাজ হোসেন, সেক্রেটারি বেলাল হোসেন, ছাত্রশিবির রংপুর মহানগরের সাবেক প্রচার সম্পাদক সোহেল রানা ও কুড়িগ্রাম জেলার সাবেক প্রচার সম্পাদক আবদুল হালিম রানা উপস্থিত ছিলেন।

    বক্তারা কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ভালো ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, সততা ও দেশপ্রেম ধারণ করতে হবে। দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলে আদর্শ সমাজ ও সমৃদ্ধ দেশ নির্মাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।

    অনুষ্ঠান শেষে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক, বই ও উপহার সামগ্রী তুলে দেন অতিথিরা। এ সময় ছাত্রশিবিরের উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী, স্থানীয় সুধীজন, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের অ্যাওয়ার্ড দেবেন প্রধানমন্ত্রী

    জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের অ্যাওয়ার্ড দেবেন প্রধানমন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক
    এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের অ্যাওয়ার্ড দেবেন প্রধানমন্ত্রী

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এবার এসএসসি পরীক্ষায় যারা জিপিএ-৫ পেয়েছেন তাদেরকে প্রধানমন্ত্রী অ্যাওয়ার্ড দেবেন। এই ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহ দেয়ার জন্য তাদেরকে উপহার হিসেবে ট্যাব দেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আলাচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শিক্ষামন্ত্রী একথা বলেন।

    শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন আরো বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে পড়াশোনায় আরো বেশি মনোযোগী হয় সেজন্যই তাদের উপহার দেয়া হবে।