জাপান

  • বাংলাদেশের দুই প্রকল্পে ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি জাপানের

    বাংলাদেশের দুই প্রকল্পে ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি জাপানের

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান জাপান সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি দুটি প্রকল্পে প্রায় ২৯৫.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান।

    স্বাক্ষরিত দলিলগুলোতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক, কৃষি, কর্মসংস্থান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে গত ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের বিভিন্ন অর্জনের বিষয়ে উপ প্রেস সচিব শাহাদাত স্বাধীন এ তথ্য জানান।

    দলিলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদারে একটি টহল জাহাজ সরবরাহের জন্য সর্বোচ্চ ২.১২ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১৩.৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) অনুদান চুক্তি রয়েছে।

    এ ছাড়া, জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার ও ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়নবিষয়ক একটি সহযোগিতা স্মারক (এমওসি) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির কর্মসূচি (এমপ্লয়মেন্ট ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-ইএসডিপি) বিষয়েও একটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    এ ছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সহযোগিতা জোরদারে জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি আগ্রহপত্র (লেটার অব ইনটেন্ট-এলওআই) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    অন্যদিকে, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়নবিষয়ক একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ১৫.৮৮ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১০০.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান।

    এ ছাড়া, উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নে ৩০.৬৮ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১৯৪.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

    দুটি প্রকল্পে ঋণের মোট পরিমাণ ৪৬.৫৬ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন, যা প্রায় ২৯৫.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।

    এসব দলিল, সহযোগিতা স্মারক ও ঋণের প্রতিশ্রুতিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের সরকারি সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    সফরকালে দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।

    সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

    এসব বৈঠকে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এর আগে, গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে জাপান আগমন করেন।

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল তার সফরসঙ্গী হিসেবে জাপান আসেন।

  • বেসরকারি বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরল বাংলাদেশ-জাপান, ঋণ আলোচনা এখনো খোলা

    বেসরকারি বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরল বাংলাদেশ-জাপান, ঋণ আলোচনা এখনো খোলা

    ২৭ অক্টোবরের শীর্ষ বৈঠকের পর পাঁচ বছরে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ১ লাখ কোটি ইয়েনের জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরেছে দুই দেশ। নেতারা শিল্প অংশীদারত্বও উন্নীত করেছেন এবং সহযোগিতার পাঁচটি দলিলে সই করেছেন। সফরের আগে কর্মকর্তারা যে ঋণ প্যাকেজের কথা বলেছিলেন, প্রকাশিত শীর্ষ বৈঠকের বিবরণে তা ঘোষণা করা হয়নি। সফর চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত।

    ছবির ক্যাপশন: একটি কর্মশালায় পোশাক সেলাই করছেন কর্মীরা। ফাইল ছবি: Kroisenbrunner, CC BY-SA 4.0, উইকিমিডিয়া কমন্সের মাধ্যমে।

    সংক্ষেপে

    • প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের সানায়ে তাকাইচি মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর টোকিওতে যৌথ বিবৃতি দেন। এতে পাঁচ বছরে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ১ লাখ কোটি ইয়েন, প্রায় ৬৩৪ কোটি ডলারের জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগ এবং ২ লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
    • দুই দেশ তাদের বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্টকে “বিগ-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি”তে উন্নীত করেছে। মাতারবাড়ী-মহেশখালীকে পণ্য পরিবহন, জ্বালানি ও শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে গড়াই এর মূল বিষয়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং পরিবেশ নিয়ে সহযোগিতার পাঁচটি দলিলে সই হয়েছে।
    • ফেব্রুয়ারিতে সই হওয়া জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার অঙ্গীকার করেছেন দুই নেতা। ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের কথা রয়েছে। প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর আবেদন জাতিসংঘের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
    • তারেক রহমান একটি যৌথ মন্ত্রী পর্যায়ের কমিশন ও বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্কের প্রস্তাব দেন। বৈঠকে তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতি হতে পারে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে জিডিপি ১ লাখ কোটি ডলার ছাড়াতে পারে।

    কানতেইয়ে শীর্ষ বৈঠক

    তারেক রহমানের চার দিনের সরকারি সফরের দ্বিতীয় দিনে টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শীর্ষ বৈঠক হয়। যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বাড়াতে তারেক রহমানের প্রশাসনের চেষ্টার প্রশংসা করেন তাকাইচি। আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ১ লাখ কোটি ইয়েন, প্রায় ৬৩৪ কোটি ৩০ লাখ ডলারের জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগ ও ২ লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাকে তিনি স্বাগত জানান। এই উপলক্ষে বড় বিনিয়োগ ঘোষণাকে দুই প্রধানমন্ত্রী স্বাগত জানান। উৎপাদনশিল্প, খাদ্য ও কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ওষুধশিল্পে পরিপূরক ও অভিঘাত মোকাবিলায় সক্ষম সরবরাহব্যবস্থা গড়ার বিষয়েও তাঁরা একমত হন।

    বেসরকারি বিনিয়োগের এই প্রক্ষেপণ রাষ্ট্রীয় ঋণ বা কোম্পানিগুলোর বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি নয়। বৈঠকের আগে কর্মকর্তারা প্রায় ২০০ কোটি ডলার জাপানি ঋণ ও আর্থিক সহায়তার প্রত্যাশা করেছিলেন। এর মধ্যে ৩০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা। শীর্ষ বৈঠকের বিবরণে এর কোনোটিকেই সই হওয়া প্রতিশ্রুতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে ওই বিবরণে না থাকা মানে জাপান এগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে, তা নয়। আর বেসরকারি বিনিয়োগকে রাষ্ট্রীয় ঋণ থেকে বিয়োগ করা বা তার বিকল্প হিসেবে ধরা যায় না।

    সই হয়েছে সহযোগিতার পাঁচটি দলিল, চারটি সমঝোতাপত্র ও একটি অভিপ্রায়পত্র। অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে একটি সমঝোতাপত্র হয়েছে। জাপানের কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যথাক্রমে বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি সমঝোতাপত্র হয়েছে। পরিবেশ নিয়ে দুই দেশের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের একটি সমঝোতাপত্র এবং জাপানের গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ব্যুরোর সঙ্গে বাংলাদেশের পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি অভিপ্রায়পত্র হয়েছে।

    কেন্দ্রে মাতারবাড়ী

    এই দলিলগুলোর বৃহত্তর কাঠামো হলো দুই দেশের প্রধান উদ্যোগ বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্টকে “বিগ-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি”তে উন্নীত করা। উন্নীত উদ্যোগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোকে যুক্ত করে শিল্পের মূল্যশৃঙ্খল এবং বাণিজ্য ও সরবরাহের প্রবেশপথ গড়ার কথা রয়েছে। এর কেন্দ্র ভৌগোলিক: মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ঘিরে মাতারবাড়ী-মহেশখালীকে বড় পণ্য পরিবহন, জ্বালানি ও শিল্পকেন্দ্রে গড়তে দুই দেশ কাজ করবে। বন্দরের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করতে তারা সম্মত হয়েছে। ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর প্রস্তুতি এগোনো এবং ঢাকার মেট্রোরেল লাইনগুলোর নির্মাণ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও নেতারা একমত হন।

    অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি ফেব্রুয়ারিতে সই হলেও এখনো কার্যকর হয়নি। বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহায়তার জন্য এই ধাপ দ্রুত শেষ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই নেতা।

    ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের কথা রয়েছে। তবে প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর আবেদন জাতিসংঘের প্রক্রিয়ায় বিবেচনাধীন। উত্তরণ ঘটলে একই দিনে সব বাণিজ্যসুবিধা শেষ হয় না। বাজার ও ব্যবস্থাভেদে অন্তর্বর্তী সুবিধার শর্ত আলাদা। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নির্দেশনায় উত্তরণের তারিখ থেকে এসব ব্যবস্থা আলাদা করে দেখা হয়েছে।

    বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে জাপানের অংশ বেড়েছে। সংবাদে উদ্ধৃত রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর হিসাবে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে জাপানের অংশ ছিল ৩.২৫ শতাংশ। মোট ১ হাজার ৫৮ কোটি ডলার রপ্তানির মধ্যে জাপানে গেছে ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার। আগের পুরো অর্থবছরে জাপানের অংশ ছিল ২.৯৩ শতাংশ। হিসাবগুলো ভিন্ন দৈর্ঘ্যের সময়ের, সরাসরি বছরওয়ারি প্রবৃদ্ধির হার নয়।

    জ্বালানি ও প্রস্তাব

    তারেক রহমানের বক্তব্যজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয় ছিল। পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া উদ্যোগের আওতায় সাম্প্রতিক ৫ হাজার কোটি ইয়েনের জরুরি সহায়তা ঋণের জন্য তিনি জাপানকে ধন্যবাদ জানান। বাংলাদেশের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস অবকাঠামো, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে আরও জাপানি বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণ চান তিনি। সফরের প্রথম দিন সোমবার চিবায় জেরার এলএনজি টার্মিনাল পরিদর্শন করেন তিনি। বাংলাদেশের সারশিল্প আধুনিকায়ন ও নবায়নযোগ্য প্রকল্পে বিনিয়োগ চাইতে মারুবেনির চেয়ারম্যানের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

    তাঁর দুটি কাঠামোগত প্রস্তাব ছিল অগ্রাধিকার খাতে সহযোগিতা দ্রুত করতে যৌথ মন্ত্রী পর্যায়ের কমিশন এবং জাপানি কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ প্রযুক্তিকর্মীদের যুক্ত করতে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক। শীর্ষ বৈঠকের সংবাদে কোনোটিকেই গৃহীত হিসেবে দেখানো হয়নি। দুটিই আলোচনায় দেওয়া প্রস্তাব। এগুলোর উদ্দেশ্য তুলে ধরতে তিনি নিজের ভাষায় বলেন, “২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতি হতে পারে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে আমাদের জিডিপি ১ লাখ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়াতে পারে।”

    সফরে রোহিঙ্গা বিষয়ও তুলেছেন তারেক রহমান। সোমবার তারো আসোর নেতৃত্বাধীন জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের প্রতিনিধিদলের সঙ্গেও তিনি বিষয়টি তোলেন। বিভিন্ন রাজধানীতে ঢাকা যে প্রত্যাবাসনের দাবি জানায়, সেটিই তুলে ধরেন তিনি। শীর্ষ বৈঠকের প্রকাশিত বিবরণে অর্থনৈতিক বিষয়গুলোই কেন্দ্রে রয়েছে।

    এরপর যা হবে

    সফর চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। পরবর্তী বাস্তব পদক্ষেপ হলো নির্দিষ্ট কোম্পানির বিনিয়োগ ঘোষণা, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি কার্যকরের প্রক্রিয়া শেষ করা এবং উন্নীত বিগ-বি উদ্যোগের প্রকল্প। পরে কোনো ঋণ চুক্তি হলে তার পরিমাণ, ঋণগ্রহীতা, শর্ত ও সইয়ের তারিখ আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে হবে।

  • ভ্যাকসিন কারখানা স্থাপনে জাপানের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

    ভ্যাকসিন কারখানা স্থাপনে জাপানের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

    এ সময় গত সেপ্টেম্বরে ঢাকায় ইয়োহেই সাসাকাওয়ার সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের কথা স্মরণ করেন তারেক রহমান। বাংলাদেশে মানবিক সহায়তা, শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিন ধরে অবদান রাখার জন্য সাসাকাওয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

    নৈশভোজে বাংলাদেশে ভ্যাকসিন উৎপাদন কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা এবং এ উদ্যোগে সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত উপস্থিত ছিলেন।

    এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, প্রটোকল অফিসার-২ কামরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

    জাপানের পক্ষে নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন নিপ্পন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক তাকাশি আরিকাওয়াসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের অনারারি চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া।

  • জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার করা হবে: বাণিজ্য মন্ত্রী

    জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার করা হবে: বাণিজ্য মন্ত্রী

    বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে শিল্পায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

    তিনি বলেছেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহজ ব্যবসা পরিচালনা, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদারে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা করবে।

    রোববার সচিবালয়ের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জাপানের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান মারুবেনি করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসাইউকি ওমোতোর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে মারুবেনি করপোরেশন বাংলাদেশে বিদ্যমান বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন শিল্প খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করে। এ সময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুন্নাসের খান উপস্থিত ছিলেন।

    দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সার উৎপাদন, তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি, জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্প এবং জাপানের টয়োটা ব্র্যান্ডের গাড়ি নির্মাণসংক্রান্ত প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ-জাপান সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষর ও বাস্তবায়নের অগ্রগতি, পাটশিল্পের বহুমুখীকরণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা গুরুত্ব পায়।

    বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের উৎপাদনমুখী শিল্পের বিকাশে জাপানের প্রযুক্তি, অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে জাহাজ নির্মাণ ও পুনর্ব্যবহার, অটোমোবাইল, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর খাতে যৌথ উদ্যোগ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। এসব খাতে বিনিয়োগ সহজ করতে সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, পাটশিল্পকে প্রচলিত পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে উচ্চমূল্যের বহুমুখী পণ্য উৎপাদনের দিকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তুলা, ভিসকস ও পলিয়েস্টারের সঙ্গে পাটের আঁশ মিশিয়ে নতুন পণ্য উৎপাদন, উন্নত বীজ উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগাতে চায় সরকার।

    বৈঠকে মারুবেনি করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও সিইও মাসাইউকি ওমোতো বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে কাফকোর আধুনিকায়ন, প্রাকৃতিক গ্যাসের কার্যকর ব্যবহার এবং সার উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা উল্লেখ করেন। ডিএপি ও টিএসপি সার উৎপাদনেও নতুন বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

    তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা তুলে ধরে মারুবেনির সিইও জানান, যৌথ বিনিয়োগে পরিচালিত বিজেআইটির শত শত বাংলাদেশি প্রকৌশলী জাপানসহ আন্তর্জাতিক বাজারে সেবা দিচ্ছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আইটি অফশোরিং খাতে এ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

    এ ছাড়া জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পে পরিবেশসম্মত আধুনিক প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ, টয়োটা গাড়ি নির্মাণের প্রস্তাব এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে ক্ষুদ্র মডিউলার পারমাণবিক চুল্লি (এসএমআর) প্রযুক্তির সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী নিশ্চিত করেন, কোম্পানি নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স ও বিনিয়োগসংক্রান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরণের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা ও মূলধন প্রত্যাবাসনের সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহী যেকোনো জাপানি প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।

    বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করা, সিইপিএর সম্ভাব্য সুফল কাজে লাগানো এবং শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করে।

  • রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

    রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

    মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাপান সরকারের মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশনবিষয়ক বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ইয়োহেই সাসাকাওয়ার কাছে এ কথা বলেন।

    বৈঠকে সাসাকাওয়া বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে কাজ করছেন। মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন বিষয়ে জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে তার দায়িত্বের কথাও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান।

    রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে সাসাকাওয়া বলেন, তিনি এ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপান সরকারের বিভিন্ন অনুদান ও মানবিক সহযোগিতার বিষয়ও তিনি তুলে ধরেন।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ সফরের জন্য সাসাকাওয়াকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য তার প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট। এ সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

    তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ এমনিতেই একটি জনবহুল দেশ। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

    রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য নিজের অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে সাসাকাওয়ার প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে গেলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। এ কারণে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা করতে আগ্রহী।

    সাসাকাওয়া বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে।

    তার ধারণা, মিয়ানমার সরকার এ সংকট সমাধানে আন্তরিক। তবে রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অগ্রগতি হতে সময় লাগছে।

    জাপানের বিশেষ দূত প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন, তার অবস্থান থেকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

    বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে শুধু দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর না করে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র তৈরিতে সহযোগিতা করার জন্য সাসাকাওয়ার প্রতি আহ্বান জানান। বিশেষ দূত বিষয়টি নিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন বলে জানান।

    এ ছাড়া বাংলাদেশ জাপানের বিনিয়োগ পেতে আগ্রহী বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো উন্নত করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন তিনি।

    বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

  • বিশ্বকাপের প্রতিশোধ নিতে ব্রাজিলের মুখোমুখি হচ্ছে জাপান

    বিশ্বকাপের প্রতিশোধ নিতে ব্রাজিলের মুখোমুখি হচ্ছে জাপান

    খুব বেশি দিন আগের ঘটনা নয়। এইতো ২৯ জুন ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশে শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে ব্রাজিলের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল জাপান। চার মাস পর সেই প্রতিশোধের সুযোগ পাচ্ছে জাপান।

    সিঙ্গাপুর, ব্রাজিল, জাপান, প্যারাগুয়ে—এই চার দল নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট হতে যাচ্ছে নভেম্বরে।‘মিজুহো ব্লু চ্যালেঞ্জ’ নামে এই টুর্নামেন্টের আয়োজক সিঙ্গাপুর। ১৪ নভেম্বর মুখোমুখি হবে ব্রাজিল-জাপান। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচের আগে ব্রাজিল মাঝে দুই দিন বিরতি পারবে। ১৭ নভেম্বর স্বাগতিক সিঙ্গাপুর খেলবে ব্রাজিলের বিপক্ষে।

    ১৭ নভেম্বর মূলত শেষ হবে ‘মিজুহো ব্লু চ্যালেঞ্জ’ চার জাতির টুর্নামেন্ট। টুর্নামেন্ট অবশ্য শুরু হচ্ছে ১৩ নভেম্বর সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া ম্যাচ দিয়ে। ২০২৭ সালের এএফসি এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি হিসেবেই এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে জাপান। আগামী বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান কাপ।

    সূচি ঘোষণার পর জাপানের কোচ হাজিমে মোরিয়াসু বলেন, ‘শক্তিশালী দক্ষিণ আমেরিকান দলগুলোর বিপক্ষে খেলার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত। আমরা এখন যে অবস্থানে আছি, সেখান থেকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে চাই। আগামী বছরের এশিয়ান কাপে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স উপহার দিতে এই সুযোগকে আমরা অর্থবহভাবে কাজে লাগাব।’

    ব্রাজিলের বিপক্ষে মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসে জাপান অনেক পিছিয়ে। এখন পর্যন্ত দুই দল ১৫ বার মুখোমুখি হয়েছে। জাপান জিতেছে এক ম্যাচ। একমাত্র জয় এসেছে গত বছরের অক্টোবরে। ব্রাজিলের বিপক্ষে ৩-২ গোলে জিতেছিল জাপান। অপর ১২ ম্যাচে জিতেছে ব্রাজিল। দুটি ম্যাচ হয়েছে ড্র।

    ব্রাজিল পাঁচবার বিশ্বকাপ জিতলেও অবস্থা ভালো নয়। ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর নকআউট পর্বে ইউরোপীয় দলগুলোর কাছে হেরেই বিদায় নিয়েছে সেলেসাওরা। সবশেষ ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে ব্রাজিল বাদ পড়েছে শেষ ষোলো থেকেই।

  • পয়েন্ট ভাগাভাগিতে নকআউটে জাপান-সুইডেন

    পয়েন্ট ভাগাভাগিতে নকআউটে জাপান-সুইডেন

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের শেষ দিনে নিজেদের লক্ষ্য পূরণ করেছে জাপান ও সুইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আর্লিংটনে ১-১ গোলে ড্র করে দুই দলই নিশ্চিত করেছে নকআউট পর্বের টিকিট। একই সঙ্গে চূড়ান্ত হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের শেষ ৩২-এর প্রতিপক্ষও। গ্রুপ ‘সি’ চ্যাম্পিয়ন সেলেসাওরা আগামী ২৯ জুন মুখোমুখি হবে জাপানের।

    অন্য ম্যাচে নেদারল্যান্ডস ৩-১ গোলে হারিয়েছে তিউনিসিয়াকে। তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এফ’-এর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ডাচরা। সমান পয়েন্ট হলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে রানারআপ হয়েছে জাপান। আর সুইডেন সেরা আট তৃতীয়-স্থানধারী দলের একটি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে নকআউটে। ফলে শেষ ৩২-এ নেদারল্যান্ডসের প্রতিপক্ষ হবে ‘সি’ গ্রুপের রানারআপ মরক্কো।ম্যাচে প্রথমে এগিয়ে যায় জাপান। ৫৬তম মিনিটে রিতসু দোয়ানের নিখুঁত পাস পেনাল্টি বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান পায়ের শটে সুইডিশ গোলরক্ষক জ্যাকব উইডেল জেত্তারস্ট্রমকে পরাস্ত করেন ডাইজেন মায়েদা।

    তবে জাপানের সেই আনন্দ স্থায়ী হয় মাত্র ছয় মিনিট। ৬২তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত বাঁ পায়ের শটে সমতা ফেরান অ্যান্থনি এলাঙ্গা। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার দ্বিতীয় গোল।

    এই ম্যাচে গোল করে জাপান নতুন এক কীর্তিও গড়েছে। এবারের আসরে তাদের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতে, যা এক বিশ্বকাপে দেশটির সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে ছয় গোল ছিল জাপানের সর্বোচ্চ অর্জন।এ নিয়ে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে নকআউটে উঠল জাপান। সব মিলিয়ে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব পেরোল তারা। ২০০২ সালে যৌথ আয়োজক হিসেবে প্রথমবার শেষ ষোলোতে খেলেছিল এশিয়ার দলটি।

    অন্যদিকে ১৯৯৪ সালের পর থেকে নিয়মিত বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সুইডেনও টানা তৃতীয়বারের মতো নকআউট নিশ্চিত করেছে। প্রথমবার অংশ নিয়েই তারা সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল।

    ম্যাচের শেষ দিকে জয়ের সুযোগ পেয়েছিল সুইডেন। ইনজুরি সময়ে এলাঙ্গার শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন জাপানি গোলরক্ষক জিওন সুজুকি। পরের কর্নার থেকে আলেক্সান্ডার আইজাকের হেডও রুখে দেন তিনি। ফলে ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি। এখন নকআউট পর্বে ব্রাজিল-জাপান এবং নেদারল্যান্ডস-মরক্কো লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।

  • দ্বিতীয় রাউন্ডে জাপানের কাছে হারবে ব্রাজিল!

    দ্বিতীয় রাউন্ডে জাপানের কাছে হারবে ব্রাজিল!

    তিনটি বিশ্বকাপে সঠিক বলা জার্মান অর্থনীতিবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্ট এবারের বিশ্বকাপ নিয়েও ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন।

    ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা ফিফা বিশ্বকাপে জার্মানির সব ম্যাচের ফলাফল সঠিকভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল পল দ্য অক্টোপাস।বিশ্বজুড়ে তখন তিনি ভবিষ্যৎ বক্তা হিসেবে প্রশংসিত হয়েছিলেন।

    এরপর জোয়াকিম ক্লেমেন্ট একটি জটিল পূর্বাভাস মডেলের মাধ্যমে পলকেও ছাড়িয়ে গেছেন, যা ২০১৪ সাল থেকে শতভাগ ক্ষেত্রে বিশ্বকাপের বিজয়ী সঠিকভাবে পূর্বাভাস দিয়েছে।

    এই মডেল অনুসারে, এবারের বিশ্বকাপে ট্রফি জিততে পারলে নেদারল্যান্ডস হবে ক্লেমেন্টের পরিসংখ্যানভিত্তিক ভবিষ্যদ্বাণীর চতুর্থ সাফল্য।

    শুধু বিজয়ী দল নয়, ৪৮ দলের পুরো বিশ্বকাপের গতিপথও তার মডেল বর্ণনা করছে।

    এতে দ্বিতীয় রাউন্ডে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে জাপানের একটি চমকপ্রদ জয় এবং একই পর্যায়ে স্কটল্যান্ডের দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে বিদায়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়াও, তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে পৌঁছাবে এবং ২০০৬ সালের দুই দশক পর পর্তুগাল আবারও ইংল্যান্ডকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দেবে।

    ক্লেমেন্ট, যিনি নিজেকে একজন নিরাশাবাদী’ হিসেবে পরিচয় দেন এবং এক দশক ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন, তার কাজের উদ্দেশ্য কখনোই হতাশা এড়ানো বা জুয়া খেলে অর্থ উপার্জন করা ছিল না।

    বরং, তিনি তুলে ধরতে চেয়েছিলেন যে, ফলাফল ভবিষ্যদ্বাণী করার চেষ্টা করাটা কতটা অযৌক্তিক হতে পারে।

    তার প্রথম ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হওয়ার পর, যখন তার নিজ দেশ জার্মানি ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ জিতেছিল, ক্লেমেন্ট ভেবেছিলেন, ২০১৮ সালে হিসাবটি পুনরাবৃত্তি করলে প্রমাণিত হবে যে পুরোটাই ছিল নিছক কাকতালীয়।

    কিন্তু ২০১৮ সালে ফ্রান্সের ক্ষেত্রে এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রেও তিনি আবারও সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছিলেন।