ট্যাগ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড

  • এনবিআরের আন্দোলনকারী ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ

    এনবিআরের আন্দোলনকারী ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ

    এক বছর আগে অন্তর্বর্তী সরকার আমলে আন্দোলনে নামার পর শাস্তিপ্রাপ্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বোর্ডের ২০ কর্মকর্তা এবার রেহাই পেয়েছেন।

    প্রথমে সাময়িক বরখাস্ত এবং পরে লঘুদণ্ড পাওয়া এই কর্মকর্তাদের শাস্তি মওকুফ করে আজ রবিবার প্রজ্ঞাপন হয়েছে। আলাদা আলাদা প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব আহসান হাবিব।

    যাদের শাস্তি মওকুফ করা হয়েছে, তারা হলেন উপ-কমিশনার শাহাদাত জামিল, রাজস্ব কর্মকর্তা শফিউল বাশার, রাজস্ব কর্মকর্তা সবুজ মিয়া, উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইদুল আলম, কমিশনার জাকির হোসেন, যুগ্ম কমিশনার সানোয়ারুল কবির, অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কুন্ডু, অতিরিক্ত কমিশনার আ আ ম আমীমুল ইহসান, অতিরিক্ত কমিশনার সিফাত-ই-মরিয়ম, অতিরিক্ত কমিশনার হাছান মুহাম্মদ তারেক রিকবদার, উপকর কমিশনার জিল্লুর রহমান, উপকর কমিশনার ইমাম তৌহিদ হাসান শাকিল, অতিরিক্ত কর কমিশনার মির্জা আশিক রানা, যুগ্ম কর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা, যুগ্ম কর কমিশনার মামুন মিয়া, অতিরিক্ত কর কমিশনার চাঁদ সুলতানা, অতিরিক্ত কর কমিশনার সুলতানা হাবীব, অতিরিক্ত কর কমিশনার মুরাদ আহমেদ, যুগ্ম কর কমিশনার মাসুমা খাতুন ও যুগ্ম কর কমিশনার মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দীন।

    এনবিআর কর্মকর্তারা গত ১৮ আগস্ট রাজস্ব সম্মেলনে তাদের শাস্তি প্রত্যাহারের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। তা বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছিলেন তারেক রহমান। এখন সেটি বাস্তবায়িত হলো।

    আন্দোলন ও শাস্তি

    কর প্রশাসন সংস্কারে এনবিআর দুই ভাগ করে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব নীতি নামে দুটি স্বতন্ত্র বিভাগ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ২০২৫ সালে তার অধ্যাদেশ জারি হলে তার বিরোধিতায় কলম বিরতিসহ নানা কর্মসূচি দিয়ে আন্দোলনে নামেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    ওই বছরের ২২ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধ্যাদেশে ‘প্রয়োজনীয় সংশোধনী’ আনা হবে। আর সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান কাঠামোতেই চলবে এনবিআরের সব কাজ।

    কিন্তু এর মধ্যে সংস্থাটির কর্মীরা নানা অভিযোগ তুলে তৎকালীন এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের পদত্যাগের দাবিতে নতুন করে আন্দোলনে নামেন এবং সংস্থার কার্যালয়ে তাকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন।

    এরপর আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তাদের কাউকে কাউকে বদলি করা হলে ২৪ জুন এক কর্মসূচি থেকে তারা বদলির আদেশ ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ জানান।

    দাবি আদায়ে ২৮ জুন ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তাদের আন্দোলনে স্থবির হয়ে পড়ে আমদানি-রপ্তানিসহ এনবিআরের কার্যক্রম। পরদিনও কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে সংস্থাটির সেবাকে ‘অত্যাবশ্যকীয়’ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

    ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যস্থতায় আন্দোলনকারীদের প্লাটফর্ম এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ শাটডাউন কর্মসূচি তুলে নেয়।

    এরপর একের পর এক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত আসতে থাকে। অনেক কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। কারও বিরুদ্ধে নেওয়া হয় লঘুদণ্ড।

    শাস্তি মওকুফের প্রজ্ঞাপনে যা রয়েছে

    প্রজ্ঞাপনে শাস্তি মওকুফ করলেও এই কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণগুলো তুলে ধরা হয়।

    এতে বলা হয়, এসব কর্মকর্তারা ২০২৫ সালের ২৪ জুন সকাল সাড়ে ১১টায় রাজস্ব ভবনের প্রবেশ পথে অবস্থান করে ওই বছরের ২২ জুন জারি করা বদলির আদেশ আইনসংগত কারণ ব্যতিরেকে অবজ্ঞাপূর্বক ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সামনে প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলার মাধ্যমে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং এর মাধ্যমে বদলি আদেশ অমান্যকারীকে সমর্থন করেন।

    এ ধরনের আচরণ চাকরি শৃঙ্খলার জন্য হানিকর, শিষ্টাচারবহির্ভূত ও সরকারি আদেশ অবজ্ঞার শামিল হওয়ায় কারও বেতন কয়েক ধাপ অবনমিত করা, কারও বেতন কয়েক বছরের জন্য অবনমিত করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয় প্রজ্ঞাপনে।

    এখন তাদের আবেদনের ভিত্তিতে শাস্তি মওকুফের কথা জানিয়ে বলা হয়, এসব কর্মকর্তা দণ্ডাদেশ মার্জনা করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে গত ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে রাষ্ট্রপতি বরাবর আপিল আবেদন করলে রাষ্ট্রপতি আপিল আবেদন মঞ্জুর করে দণ্ডাদেশ বাতিলের আদেশ দেন।

  • অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল ৪৭ লাখ

    অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল ৪৭ লাখ

    ২০২৫-২৬ করবর্ষে রেকর্ড প্রায় ৪৭ লাখ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা ই-রিটার্নের মাধ্যমে সফলভাবে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। এর ফলে করদাতারা ঘরে বসেই সহজে তাদের বাৎসরিক আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত ও জমা দিতে পারছেন।আজ বুধবার এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ থেকে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য ২০২৬-২৭ করবর্ষের অনলাইন আয়কর রিটার্ন (ই-রিটার্ন) দাখিলের সেবা চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে নীট প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ (সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা) প্রণোদনা দেওয়া হবে।

    এনবিআর জানায়, ২০২১ সালে অনলাইন রিটার্ন দাখিল ব্যবস্থা চালুর পর থেকে এটি করদাতাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ২০২৫-২৬ করবর্ষে রেকর্ড প্রায় ৪৭ লাখ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা ই-রিটার্নের মাধ্যমে সফলভাবে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। এর ফলে করদাতারা ঘরে বসেই সহজে তাদের বাৎসরিক আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত ও জমা দিতে পারছেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এনবিআরের বিশেষ আদেশের মাধ্যমে সব স্বাভাবিক ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী প্রবীণ করদাতা, সনদপত্র দাখিল সাপেক্ষে শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার প্রতিনিধিরা এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকরা কাগজে (পেপার) রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।

    এছাড়া ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধনসংক্রান্ত সমস্যার কারণে কোনো ব্যক্তি অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে পেপার রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।

    কর পরিশোধ বিষয়ে এনবিআর জানায়, www.etaxnbr.gov.bd সিস্টেমের মাধ্যমে করদাতারা ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদসহ অন্যান্য মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে ঘরে বসেই কর পরিশোধ করতে পারবেন। একই সঙ্গে সঠিক তথ্য দিয়ে রিটার্ন জমা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও আয়কর সনদ সংগ্রহ করা যাবে।

    ই-রিটার্ন দাখিলে কোনো সমস্যা হলে সরকারি ছুটি ছাড়া অফিস চলাকালীন সময়ে এনবিআরের কল সেন্টার (০৯৬৪৩৭১৭১৭১) এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬-২৭ করবর্ষ থেকে জুলাই-সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে নীট প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ (সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা) প্রণোদনা পাওয়া যাবে। তবে এ সময়ের পর রিটার্ন দাখিল করলে এ প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না। আর ডিসেম্বরের পর রিটার্ন দাখিল করলে অতিরিক্ত কর দিতে হবে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিলের জন্য করদাতাদের বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।