ছাত্রশিবির

  • রায় কার্যকর করতে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে হবে: শিবির সভাপতি

    রায় কার্যকর করতে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে হবে: শিবির সভাপতি

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেয়া ফাঁসির রায় কার্যকর করতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। এ জন্য ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ারও দাবি জানান তিনি।

    শনিবার (২২ আগস্ট) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে এসব কথা বলেন নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।

    শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, ‘আমার মনে হয়, বাংলাদেশের পুরো জাতি অপেক্ষা করছে—এই ফ্যাসিবাদ ফিরবে। তার যে ফাঁসির রায় হয়েছে, সেই ফাঁসির রায় কার্যকর করার জন্য তাকে ফিরতে হবে। ’

    তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে কয়েকবার বলেছেন, আমি আসছি, আসব। পাশেই আছি, যেকোনও মুহূর্তে টুক করে ঢুকে যাব। কিন্তু আসি আসি বলে আর আসেন না। এটা তাদের একটি চরিত্র। ’

    শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘শেখ হাসিনা গণহত্যা চালিয়েছেন। তার ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকর করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানাই। ইন্টারপোলের মাধ্যমে ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে হলেও তাকে দেশে আনতে হবে এবং তাঁর ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে। অনুষ্ঠানে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ আতিয়ার রহমান। প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি তাফহিমুল ইসলাম মারুফ। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতা ইসহাক খন্দকার।

    নোবিপ্রবির ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করতে ‘ফ্রেশার্স রিসেপশন ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির। অনুষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ১০০ নবীন শিক্ষার্থীকে কুরআন শরিফ উপহার দেয়া হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই, কলম, ফুলসহ বিভিন্ন উপহার দেয়া হয়।

  • হাসপাতালে শিবির-ছাত্রশক্তি নেতাদের ওপর ছাত্রদলের হামলা

    হাসপাতালে শিবির-ছাত্রশক্তি নেতাদের ওপর ছাত্রদলের হামলা

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মী এবং জকসু নেতাদের ওপর হামলার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রদল।

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) নেতারা অভিযোগ করেছেন, মঙ্গলবার বিকালে পুরান ঢাকার জনসন রোডে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি শিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাদের ওপর আকস্মিক হামলা চালান ছাত্রদল নেতারা।

    তারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের সামনে হামলা হলেও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

    এর আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) এবং অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

    মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রবেশ করতে গেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন জকসুর প্রতিনিধিরা।

    এ ঘটনায় জকসু সহসভাপতি (ভিপি) মো. রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানা ও আইনবিষয়ক সম্পাদক ফারুক, জবি ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ গুরুতর আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

    জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরাণীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন, মেডিকেল সেন্টারের সুযোগ-সুবিধা ও চিকিৎসাসেবা উন্নয়নসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি প্ল্যাকার্ডে তুলে ধরে ইউজিসি চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তার সামনে এসব দাবি তুলে ধরতে জকসু প্রতিনিধিরা প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশের চেষ্টা করেন।

    তবে প্ল্যাকার্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে প্রবেশের সময় তাদের বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে জকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্ল্যাকার্ড কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলা এবং তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জকসুর প্রতিনিধিরা।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলামসহ নেতারা অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করতে গেলে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বাধা দেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. কে এ এম রিফাত হাসান পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে তাকে ধাক্কা দেন ছাত্রদল আহ্বায়ক নিজে।

    এ সময় ছাত্রদল নেতা হিমেল বলেন, ‘এই দরজা বন্ধ করো। দ্রুত গেট আটকাও।’ পরে গেট আটকে দেওয়া হয়।

    জকসু নেতাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো ইউজিসি চেয়ারম্যানের সামনে তুলে ধরতেই তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের সেই কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং সরাসরি হামলা চালানো হয়।

    জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফ ফেসবুকে লেখেন, ‘প্রক্টর ছাত্রদল হয়ে গেছে, নাকি ছাত্রদল প্রক্টরের ভূমিকায়? আমন্ত্রণ জানিয়েও অডিটোরিয়ামে প্রবেশে বাধা। ধাক্কাধাক্কি করা শুধু ছাত্রদলের দ্বারাই সম্ভব।’

    এ বিষয়ে জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলা এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে প্রক্টর অফিস ও ছাত্রদলের ক্যাডাররা। এছাড়া জকসুর প্রতিনিধিদের ধাক্কা দেওয়া হয়েছে।’

  • মাদক কারবারে সরকারের সিন্ডিকেট জড়িত: শিবির সভাপতি

    মাদক কারবারে সরকারের সিন্ডিকেট জড়িত: শিবির সভাপতি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সরকারের পুরো সিন্ডিকেট মাদকের সঙ্গে জড়িত: ছাত্রশিবির সভাপতি

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, ‘সরকারের পুরো সিন্ডিকেট মাদকের সঙ্গে জড়িত। লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার ব্যবসা তারা নিয়ন্ত্রণ করে। সমাজকে তারা স্থিতিশীল থাকতে দেয় না। মাদকের বিরুদ্ধে কথা বললেই আমরা রাজাকার হয়ে যাই। সিলেটের ডিসি মাজারে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণার এক দিনের মধ্যে তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো।’

    সোমবার সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ব্লেম দেয় বাজেটে মাদকের দাম বাড়ানোর কারণে নাকি জামায়াত অখুশি। একটা ভুয়া ফেক ফটোকার্ড দেখে প্রধানমন্ত্রী এমন কথা বলেন। করুণা হয়, একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী বাজেটের নিয়ম সম্পর্কে ঠিকমতো জানেন না। আইন-কানুন সম্পর্কে তিনি জানেন না বলে আমার ধারণা। তিনি রাষ্ট্র চালাচ্ছেন। মিথ্যা বলে জাতিকে বিভ্রান্ত করবেন না।’

    সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জিয়াউর রহমান ফাহিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতর আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান, সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মো. নুরুন্নবী।

    আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সাতক্ষীরা শহর জামায়াতের আমির জাহিদুল ইসলাম বকুল, সদর উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক আব্দুর রহিম, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জুবায়ের রহমান এবং সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের অফিস সেক্রেটারি মাওলানা রুহুল আমিন।