ট্যাগ ছাত্রদল

  • জিন্নাহকে দায়মুক্তি দিতে চায় ছাত্রদল: ফরহাদ

    জিন্নাহকে দায়মুক্তি দিতে চায় ছাত্রদল: ফরহাদ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি রাখা নিয়ে মুখ খুলেছেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ। সোমবার বিকেলে ডাকসু ভবনের সামনে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

    এস এম ফরহাদ বলেন, ‘সরাসরি বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে সংগ্রহশালার ছবিতে জিন্নাহকে সেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ছাত্রদল তাদের বিবৃতির মাধ্যমে এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, ছাত্রদল এখানে পক্ষান্তরে জিন্নাহর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা চায় জিন্নাহকে দায়মুক্তি দিতে এবং তারা চায় ছবিটা এখান থেকে সরিয়ে নিতে। এমনকি তারা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামও দিয়েছে। এর মধ্যে এটা না সরালে তারা ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।’

    এর আগে দুপুরে সংগ্রহশালায় রাখা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ওই ছবি ভেঙে ফেলেন আবু তৈয়ব হাবিলদার নামের এক সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি ডাকসু নির্বাচনের আলোচিত ও বয়োজ্যেষ্ঠ ভিপি (সহ-সভাপতি) প্রার্থী ছিলেন। এ পদে তার প্রাপ্ত ভোট ছিল ১০। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের উর্দু বিভাগের ছাত্র।

    ছবি ভাঙার বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করে ডাকসুর জিএস বলেন, ‘যিনি জিন্নাহর ছবি ভেঙেছেন, শুনলাম তিনি উর্দু বিভাগের। আমি অবাক হলাম। সম্ভবত তিনি উর্দু বিভাগেরই, সে কারণে জিন্নাহর প্রতি আলাদা একটা দরদ আছে। আর এ কারণেই এটা হয়েছে। আমরা কিন্তু ছবির ক্যাপশনে উল্লেখ করেছি, তিনি উর্দুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। যিনি ছবিটি ভেঙেছেন, তিনি হয়তো চান না উর্দুর ব্যাপারে জিন্নাহর সেই অবস্থান মানুষ জানুক। সে কারণেই তিনি এটা ভেঙেছেন। অর্থাৎ, তিনিও জিন্নাহর পক্ষ নিয়েছেন।’

  • ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি অপসারণ চাই ছাত্রদল

    ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি অপসারণ চাই ছাত্রদল

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ১৯৪৮ সালের ছবি প্রদর্শনের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

    সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

    তারা উল্লেখ করেন, ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে দাঁড়িয়ে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অকুতোভয় ছাত্রসমাজ জিন্নাহর সেই চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সোচ্চার হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিল, যা পরবর্তীতে আমাদের রক্তক্ষয়ী ভাষা আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি গড়ে দেয়। যে ছাত্রসংসদ বাংলার স্বাধিকার আন্দোলনের সূতিকাগার, ডাকসুর সংগ্রহশালায় সেই বিতর্কিত নেতার ছবি প্রদর্শন করা ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহ্যের প্রতি সরাসরি অবমাননা।

    ছাত্রদলের অভিযোগ, ‘ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্ব সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন, আবশ্যিক অধিকার আদায় ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরিতে পুরোপুরি ব্যর্থ। শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত স্বার্থের তোয়াক্কা না করে তারা পরিষদটিকে নিজেদের সুনির্দিষ্ট দলীয় ও আদর্শিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ারে পরিণত করেছে। মধুর ক্যান্টিনের নাম পরিবর্তন করে ‘ইশরাত মঞ্জিল’ করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা থেকে শুরু করে ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর বিতর্কিত ছবি স্থাপন—এসব ধারাবাহিক কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে, শিবির নিয়ন্ত্রিত ডাকসুর এই পরিষদ শিক্ষার্থীদের গণআকাঙ্ক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিকামী চেতনাকে বিসর্জন দিয়ে, ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রতি তাদের প্রচ্ছন্ন অনুরাগ ও পাকিস্তানপ্রেম জাহির করছে।’

    বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, অবিলম্বে ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে বাংলা ভাষার বিরোধিতাকারী মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি অপসারণ করতে হবে। ডাকসুকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শচর্চার স্থান হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ঐতিহাসিক স্মারক ও চেতনাকে বিকৃত করার সব অপপ্রয়াস রুখে দেওয়া হবে।

  • চাঁদা না পেয়ে চিকিৎসককে মার-ধর, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    চাঁদা না পেয়ে চিকিৎসককে মার-ধর, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    ময়মনসিংহ নগরে চাঁদার দাবিতে ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে এক পশু চিকিৎসকের চেম্বারে ঢুকে মারধর ও ভাঙচুর করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে ওই নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রদল।

    শুক্রবার নগরের জিলা স্কুলের পাশের গলিতে ‘ডক্টরস পেট কেয়ারে’ এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পশু চিকিৎসকের নাম আশিকুর রহমান। এ ঘটনায় শনিবার সদ্য বহিষ্কৃত মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালহাজুর রহমান, আফরিন রশিদ সেঁজুতি ও সাকিব নামের তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আশিকুর রহমান।

    অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রায়ই তার চেম্বারে এসে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করতেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো হতো। শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা চেম্বারে ঢুকে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেন। প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হয়। পরে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে তাকে লোহার রড দিয়ে পেটানো হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার কর্মী ঈশান আহমেদকেও মারধর করা হয়। তার স্ত্রী সাজনিন তাসনিন সিদ্দিকীকেও জোর করে চেম্বার থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

    আশিকুর রহমান অভিযোগে উল্লেখ করেন, চেম্বারের ক্যাশবাক্স থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার ১৫০ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। এ ছাড়া চেম্বারের লাইট, সিসি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলে তাকে, তার কর্মী ও পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

    শনিবার মারধরের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারীসহ কয়েকজন চিকিৎসকের চেম্বারে ঢোকেন। একপর্যায়ে ওই নারী জুতা খুলে চিকিৎসককে পেটাতে থাকেন। পাশে থাকা ছাত্রদল নেতা তালহাজুর রহমান (প্রতীক) ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে তালহাজুর চিকিৎসককে কিল-ঘুষি মারেন।

    সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর দুপুরে চিকিৎসকের চেম্বারে গিয়ে বন্ধ পাওয়া যায়। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। বিকেলে ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে আশিকুর রহমান চেম্বারে আসেন। তখন তিনি বলেন, অন্য এক চিকিৎসককে নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করছিলেন আফরিন রশিদ। তখন তাকে আক্রমণ করে বিভিন্ন আইডি থেকে মন্তব্য করা হয়। ভুয়া আইডি দিয়ে তিনি (আশিকুর) সেগুলো করছেন—এমন সন্দেহ থেকে হামলা করা হয়।

    এদিকে ঘটনার পর জড়িত ব্যক্তিরা আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোষা প্রাণীর চিকিৎসা ও মৃত্যু নিয়ে কয়েকজনের মধ্যে বিরোধ ও পাল্টাপাল্টি গালিগালাজের ঘটনা ঘটেছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ওই বিরোধের জেরেই চিকিৎসকের ওপর হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • রাবিতে ভারতীয় মাদকসহ ছাত্রদল নেতা আটক

    রাবিতে ভারতীয় মাদকসহ ছাত্রদল নেতা আটক

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিব হাসানকে ৭ পিস ভারতীয় নিষিদ্ধ মাদক ‘ট্যাপেন্টাডল’সহ আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যায় রাজশাহী নগরীর মিজানের মোড় এলাকা থেকে তাকে আটক করে মতিহার থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাজশাহী নগরীর মিজানের মোড়ে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। সেখান থেকেই তাকে আটক করা হয়। সেখানে তার কাছে ৭ পিস ভারতীয় মাদক ট্যাপেন্টাডল পাওয়া যায়।

    রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। ছাত্রদল সবসময় মাদকমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়তে বদ্ধপরিকর। এখনও নিশ্চিত নই, মাদক তার নিজের কাছে ছিল নাকি তার বন্ধুদের কাছে ছিল। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে, তাহলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী মাদক নেওয়া ও ক্রয় বিক্রয় করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ও যেহেতু মাদক নিয়ে ধরা পড়েছে, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ওর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা প্রশাসনকে জানিয়ে দিয়েছি।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে মতিহার থানার ওসি গোলাম কবির বলেন, হাসিব মাদকসহ আটক হয়েছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

  • চাঁদা তোলা নিয়ে সংঘর্ষ: ছাত্রদলের ৫ নেতা বহিষ্কার

    চাঁদা তোলা নিয়ে সংঘর্ষ: ছাত্রদলের ৫ নেতা বহিষ্কার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নিউমার্কেটে ফুটপাতের দোকান থেকে চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে যুবদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের এক দিন পর ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের মধ্যে একজনকে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে এবং চারজনকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    বুধবার (১২ আগস্ট) ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা কলেজ শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুলহাস মৃধাকে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই অভিযোগে যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন শিকদার, প্রিন্স খন্দকার, সদস্য সাগর খান ও মির্জা গোলাম রায়হানকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির আজ এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।এর আগে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নিউমার্কেটের বলাকা সিনেমা হলের সামনে ফুটপাতের দোকান থেকে চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যুবদলের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে নিউমার্কেট থানা যুবদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।

    এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার, মো. সুমন সিকদার, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহমান, সায়মন ইসলাম, সাগর খান ও জিহাদুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন।ঘটনার বিষয়ে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য জিহাদুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে নিউমার্কেট যুবদলের সদস্যসচিব কে এম চঞ্চলের কয়েকজন অনুসারী বলাকা সিনেমা হলের সামনে চাঁদা তুলতে আসেন। এ সময় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ জানান। প্রতিবাদ করলে তারা শিক্ষার্থীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে তারা তাদের নেতা চঞ্চলকে ফোন করেন।

    জিহাদুল ইসলাম বলেন, এরপর চঞ্চলের নেতৃত্বে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন লোক পেছন থেকে চাইনিজ কুড়াল, অন্যান্য ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এতে ঢাকা কলেজের অনেক শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে মুশফিক, খন্দকার প্রিন্স ও হাসান রয়েছেন। আরও সাত-আটজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

    তিনি আরও বলেন, তারা প্রতিদিন চাঁদা তোলেন। প্রায় ৩৫০টি দোকান থেকে চাঁদা নেওয়া হয়। হামলার সময় তার মাথা ফেটে যায়। পেছন থেকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়েছে। তার হাতও ভেঙে গেছে। এ ঘটনায় আরও আট থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন।জিহাদুল ইসলাম দাবি করেন, হামলায় আসা ব্যক্তিরা সবাই ছাত্রদলের পদধারী ও কর্মী।

    অন্যদিকে স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বলাকা সিনেমা হলের সামনের ফুটপাতে দোকান বসান নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব কে এম চঞ্চলের লোকজন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী ওই দোকান তুলে দিতে গেলে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে চঞ্চলের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন ব্যক্তি লাঠিসোঁটা ও রামদা নিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    এ খবর ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদলের শতাধিক নেতা-কর্মী নিউমার্কেটের প্রিয়াঙ্গন মার্কেট-সংলগ্ন বসুন্ধরা গলিতে চঞ্চলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক হাসান ফরাজি বলেন, সংঘর্ষে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার, সুমন শিকদার, আহ্বায়ক সদস্য সাগর খান, সায়মন ইসলাম, মুশফিকুর রহিম ও জিহাদুল ইসলামসহ অন্তত ১৫ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। আহতরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    তবে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কে এম চঞ্চল। তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তাকে নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।

    কে এম চঞ্চল বলেন, ফুটপাতে যুবদলের কিছু কর্মী ব্যবসা করেন। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের পরিচয় দিয়ে কিছু বহিরাগত সন্ত্রাসী তাঁদের মারধর করেছেন। তার কার্যালয়ও ভাঙচুর করা হয়েছে। সেখানে লুটপাট চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।এ বিষয়ে নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহসিন উদ্দিন বলেন, ফুটপাতে দোকান বসানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    ওসি মোহসিন উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • তিন ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

    তিন ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে ডিআইটি মার্কেট-সংলগ্ন এলাকায় ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি অস্থায়ী মেলাকে ঘিরে জনভোগান্তি, অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছিল। মেলার স্টল থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় এবং অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুবেল এবং কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে।

    ঈদের আগে শুরু হওয়া মেলাটি প্রায় আড়াই মাস ধরে চললেও কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট ঘোষণা নেই বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, মেলার কারণে ডিআইটি মার্কেট ও লক্ষ্মীবাজার এলাকার গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের পথের একটি বড় অংশ দখল হয়ে গেছে। এতে পথচারী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিয়মিত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

    বুধবার (১২ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, ডিআইটি মার্কেট-সংলগ্ন এলাকায় মেলার স্টল বসানো হয়েছে।

    মেলার এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সেখানে মোট চারটি স্টল রয়েছে। প্রতিটি স্টল থেকে প্রতিদিন ৩ হাজার ৩৫০ টাকা করে নেওয়া হয়।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার বলেন, ‘প্রতিদিন স্টল ভাড়া বাবদ ৩ হাজার ৩৫০ টাকা দিতে হয়। মেলা শুরুর পর থেকেই নিয়মিত এই টাকা নেওয়া হচ্ছে। ছাত্রদলের জসিম, রুবেল ও নাজমুল আমাদের মালিকদের কাছ থেকে টাকা নেন। আমরা তাদের টাকা দিয়ে থাকি।’

    ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মেলা পরিচালনার সঙ্গে কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের দাবি, তিন নেতার নেতৃত্বে প্রতিটি স্টল থেকে প্রতিদিন ৩ হাজার ৩৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। তবে এই অর্থ আদায়ের বৈধ অনুমোদন বা লিখিত নথি দেখাতে পারেননি ব্যবসায়ীরা।

    এলাকাবাসীর অভিযোগ, মেলায় ব্যবহৃত দোকানগুলোতে অনুমোদনহীনভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, যথাযথ অনুমোদন ছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

    মেলার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। লক্ষ্মীবাজার ও জনসন রোড সংযোগকারী এই পথ দিয়ে মহানগর মহিলা কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার্স গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সেন্ট গ্রেগরিজ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত যাতায়াত করেন।

    সেন্ট গ্রেগরিজ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এখানে কোচিং সেন্টার ছিল। মেলা ও মার্কেটের জায়গা দখলের কারণে কোচিং সেন্টারের কক্ষগুলো ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। পুরো মার্কেটই দখল করে নেওয়া হয়েছে।’

    সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থী ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, ‘এ ধরনের মেলা করতে হলে নির্ধারিত জায়গা ও নির্দিষ্ট সময় থাকা উচিত। প্রায় আড়াই মাস ধরে চলা মেলাটি দেখে মনে হচ্ছে, অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যেই এটি চালানো হচ্ছে।’

    ডিআইটি মার্কেটের পাশের এক ফুটপাত ব্যবসায়ী বলেন, ‘মেলার কারণে আমাদের ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক সময় আমাদের দোকানের সামনেও ভিড় জমে যায়।’

    অভিযোগের বিষয়ে কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমার নামে অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিত। আমরা এই এলাকায় রাজনীতি করি বলে একটি মহল আমাদের নামে এসব অভিযোগ দিচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছুই আমি জানি না।’

    সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুবেল বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে অবগত নই। আমরা বিষয়টি জানার পর তাদের আলটিমেটাম দিয়েছি। দোকান না সরালে আমরা গিয়ে ভেঙে দেব—এ কথা বলেছি। তাঁরা সম্ভবত দোকান উঠিয়ে চলে যাবে। তা না হলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

    সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনকে ফোন করা হলে তিনি একটি প্রোগ্রামে আছেন জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান।

    স্থানীয় বাসিন্দারা মেলার বৈধতা, অর্থ আদায়, অবৈধ দখল ও বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  • ছাত্রদলের হামলায় আহত শিবির নেতার অবস্থা আশঙ্কাজনক

    ছাত্রদলের হামলায় আহত শিবির নেতার অবস্থা আশঙ্কাজনক

    ঢাকা কলেজ ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেকের ওপর হামলা করেছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে দুপুর দেড়টায় ক্যাম্পাসে মিছিল করে কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

    ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক মোহম্মদ মামুন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কলেজের গ্যালারি-২তে শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় আয়োজন করা হয়েছিল। অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেক ভাইয়ের নেতৃত্বে ৫/৬ গ্যালারি ডেকেরেশনের কাজ করছিল। এমন সময় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পারভেজ মোশারফের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এসে অতর্কিত আব্দুল মালেক ভাইসহ অন্যান্যদের মারধর করে।

    তিনি আরও বলেন, আব্দুল মালেক ভাইয়ের মাথায় আঘাত করে গুরুতর আহত করেছে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা। তাকে চিকিৎসার জন্য পপুলার মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়েছে। ভাইয়ের চিকিৎসা চলছে।

    ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ইলিয়াস বলেন, ‘সকাল থেকে ক্যাম্পাসে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা চলছিল আর ছাত্রদলের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে। বড় ধরনের সংঘর্ষের কোনো ঘটনার খবর এ পর্যন্ত আমার কাছে জানা নেই। তবে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের এক শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।’

  • হাসপাতালে শিবির-ছাত্রশক্তি নেতাদের ওপর ছাত্রদলের হামলা

    হাসপাতালে শিবির-ছাত্রশক্তি নেতাদের ওপর ছাত্রদলের হামলা

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মী এবং জকসু নেতাদের ওপর হামলার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রদল।

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) নেতারা অভিযোগ করেছেন, মঙ্গলবার বিকালে পুরান ঢাকার জনসন রোডে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি শিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাদের ওপর আকস্মিক হামলা চালান ছাত্রদল নেতারা।

    তারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের সামনে হামলা হলেও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

    এর আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) এবং অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

    মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রবেশ করতে গেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন জকসুর প্রতিনিধিরা।

    এ ঘটনায় জকসু সহসভাপতি (ভিপি) মো. রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানা ও আইনবিষয়ক সম্পাদক ফারুক, জবি ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ গুরুতর আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

    জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরাণীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন, মেডিকেল সেন্টারের সুযোগ-সুবিধা ও চিকিৎসাসেবা উন্নয়নসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি প্ল্যাকার্ডে তুলে ধরে ইউজিসি চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তার সামনে এসব দাবি তুলে ধরতে জকসু প্রতিনিধিরা প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশের চেষ্টা করেন।

    তবে প্ল্যাকার্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে প্রবেশের সময় তাদের বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে জকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্ল্যাকার্ড কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলা এবং তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জকসুর প্রতিনিধিরা।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলামসহ নেতারা অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করতে গেলে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বাধা দেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. কে এ এম রিফাত হাসান পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে তাকে ধাক্কা দেন ছাত্রদল আহ্বায়ক নিজে।

    এ সময় ছাত্রদল নেতা হিমেল বলেন, ‘এই দরজা বন্ধ করো। দ্রুত গেট আটকাও।’ পরে গেট আটকে দেওয়া হয়।

    জকসু নেতাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো ইউজিসি চেয়ারম্যানের সামনে তুলে ধরতেই তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের সেই কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং সরাসরি হামলা চালানো হয়।

    জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফ ফেসবুকে লেখেন, ‘প্রক্টর ছাত্রদল হয়ে গেছে, নাকি ছাত্রদল প্রক্টরের ভূমিকায়? আমন্ত্রণ জানিয়েও অডিটোরিয়ামে প্রবেশে বাধা। ধাক্কাধাক্কি করা শুধু ছাত্রদলের দ্বারাই সম্ভব।’

    এ বিষয়ে জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলা এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে প্রক্টর অফিস ও ছাত্রদলের ক্যাডাররা। এছাড়া জকসুর প্রতিনিধিদের ধাক্কা দেওয়া হয়েছে।’

  • এবার ঢাকা আলিয়ায় ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ

    এবার ঢাকা আলিয়ায় ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজধানীর ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় হল দখলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হল দখলকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বিকেলের দিকে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। শুরুতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পরে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা পাল্টা অবস্থান নিয়ে প্রাঙ্গণের নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।

    সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের দেশীয় অস্ত্র হাতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং মুখোমুখি অবস্থান নিতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতেও দেশীয় অস্ত্র হাতে সংঘর্ষে জড়ানোর দৃশ্য দেখা গেছে। এসব ভিডিওতে কয়েকজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে সহপাঠীরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

    তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের সঠিক সংখ্যা ও পরিচয় জানা যায়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

    ঘটনার পর পুলিশ ক্যাম্পাসে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, বর্তমানে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও ক্যাম্পাসে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

    এ ঘটনায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

  • ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে: সারজিস

    ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে: সারজিস

    ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

    মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    স্ট্যাটাসে সারজিস লেখেন, ছাত্রদল যত তাড়াতাড়ি ছাত্রলীগ হবে, তাদের পরিণতি তত তাড়াতাড়ি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে।

    এর আগে, আজ (মঙ্গলবার) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠান চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।