ছাত্রদল নেতা

  • বগুড়ায় ১২০০ পিস ইয়াবাসহ ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

    বগুড়ায় ১২০০ পিস ইয়াবাসহ ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

    বগুড়ার নন্দীগ্রামে ১২০০ পিস ইয়াবাসহ রবিউল ইসলাম (৩৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১২। গ্রেপ্তার রবিউল নন্দীগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় রবিউলকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    সর্বশেষ বুধবার (২৬ আগস্ট) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

    এর আগে মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের নুন্দহ-মুরাদপুর আঞ্চলিক সড়কের নুন্দহ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উপজেলার নুন্দহ গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে। পরে এ ঘটনায় নন্দীগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করেছে র‌্যাব।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, র‌্যাব-১২ একটি দল নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় টহলরত অবস্থায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিরা বাসস্ট্যান্ড থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা যোগে এক ব্যক্তি ইয়াবা নিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে নুন্দহ গ্রামের দিকে যাচ্ছে। এ খবর পেয়ে র‌্যাব সদস্যরা নুন্দহ থেকে মুরাদপুরগামী পাকা সড়কের নুন্দহ এলাকায় চেকপোস্ট বসান। পরে রাত আনুমানিক ৯টা ৫মিনিটের দিকে একটি নম্বরবিহীন যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চেকপোস্টে পৌঁছালে সেটি থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। অটোরিকশায় থাকা একমাত্র যাত্রী রবিউল ইসলামকে সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তার পরিহিত জিন্স প্যান্টের পকেট তল্লাশি করে ছয়টি পলিথিনের ব্যাগে রাখা ১২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক বিক্রির ৩ হাজার ১৫০ টাকাও জব্দ করা হয়।

    নন্দীগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান তারেক বলেন, আপনারা ইতোমধ্যে জেনেছেন যে আমরা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারিদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করতে সহযোগিতা করেছি। আমরা মাদকমুক্ত নন্দীগ্রাম চাই।

    রবিউলের সাংগঠনিক পরিচয় নিশ্চিত করে তিনি আরও বলেন, দল কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় নেবে না। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি জানার পর ইতোমধ্যে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    নন্দীগ্রাম থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, র‌্যাবের দেওয়া এজাহারের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার সকালে গ্রেপ্তার আসামিকে নন্দীগ্রাম থানা থেকে বগুড়া আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে নড়াইলে মৎস্য কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ, কম্পিউটার ভাঙচুর

    ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে নড়াইলে মৎস্য কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ, কম্পিউটার ভাঙচুর

    নড়াইল প্রতিনিধি

    ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে নড়াইল সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানকে মারধর এবং অফিসের কম্পিউটার ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় রোববার (২৮ জুন) রাতে মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হান বাদী হয়ে নড়াইলের যদুনাথপুর গ্রামের টিপু সুলতানের ছেলে জিসানুর রহমানের (৩০) নামে মামলা দায়ের করেছেন। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে চার থেকে পাঁচজনকে। জিসানুর নিজেকে ছাত্রদলের সাবেক নেতা পরিচয় দিতে থাকেন বলে জানান মৎস্য অফিসের কর্মচারীরা। তবে, জিসানুর বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবকদল সদর উপজেলার বাশগ্রাম ইউনিয়নের সদস্য সচিব বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

    মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, নড়াইল সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে জিসানুর রহমান প্রায়ই বিভিন্ন গোপনীয় তথ্য চাইতেন। তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে জিসানুর অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গালমন্দ করে থাকেন। ঘটনার দিন গত রোববার বিকেলে জিসানুরসহ অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজন মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় জেলার সুবিধাভোগী সদস্যের প্রদর্শনী তালিকা দাবি করেন তিনি।

    মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হান জানান, এর আগেও আপনাকে (জিসানুর) একাধিকবার তথ্য দেওয়া হয়েছে। এই কথা শোনার পর জিসানুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে কিল-ঘুষি মেরে নাক, মুখ, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় অফিসের কর্মচারীরা মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এছাড়া অফিসের টেবিলে থাকা প্রায় ৬৮ হাজার টাকা মূল্যের সরকারি ডেস্কটপ কম্পিউটার ও মনিটর আছড়ে ভেঙে ফেলেন স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা জিসানুর। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে সরকারি কাজে বিঘœ সৃষ্টি করা হয়েছে বলেও এজাহারে বলা হয়েছে। এছাড়া জিসানুর মৎস্য কর্মকর্তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

    এ বিষয়ে জিসানুর রহমান পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার অফিসে উপকারভোগীদের নামের তালিকা চেয়েছিলাম। তথ্য না পেয়ে ফিরে আসার সময় অফিসের কর্মচারী আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে ওঠেন, ্আমি নাকি সবকিছু মোবাইল ফোনে ভিডিও করে নিয়ে যাচ্ছি। এক পর্যায়ে মৎস্য অফিসের কর্মচারীরা মেঝেতে ফেলে জিসানুরকে এলোপাতাড়ি মারপিট করেন বলে দাবি করেন তিনি। তার কথা, ‘আমি কেন কর্মকর্তাকে মারতে যাব’।
    নাম প্রকাশ না করে বিভিন্ন পেশার মানুষ দাবি করেন, অফিসে যদি সিসিটিভি ফুটেজ থাকে; তাহলে তা পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধের দ্রæত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

    এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, মৎস্য কর্মকর্তার এজাহারের ভিত্তিতে রোববার রাত ৯ টার দিকে মামলাটি রজু করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।