ট্যাগ চ্যাম্পিয়ন

  • ১৬ বছর পর হকির বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা

    ১৬ বছর পর হকির বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা

    মধুর প্রতিশোধই নিল আর্জেন্টিনা। মেয়েদের হকি বিশ্বকাপ ফাইনালের গত আসরে নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরেছিল তারা। এবার সেই ডাচদের হারিয়েই জিতল শিরোপা। ফাইনালে নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতার পর টাইব্রেকারে ৩-১ ব্যবধানে জেতে তারা।

    আর্জেন্টিনা সর্বশেষ হকির বিশ্বকাপ জিতেছিল ২০১০ সালে। ১৬ বছর পর শিরোপা ঘরে তুলল তারা। নারীদের হকি বিশ্বকাপে এটা আর্জেন্টিনার তৃতীয় শিরোপা। সেটাও এল টানা তিনবারের চ্যাম্পিয়ন নেদারল্যান্ডসের মুকুট কেড়ে নিয়ে।

    আমস্টারডামের ফাইনালে ইবি ইয়ানসের গোলে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ৫১ সেকেন্ড আগে ম্যাচের প্রথম পেনাল্টি কর্নার থেকে ইবি ইয়ানসেনের জোরালো শট গোলপোস্টের বাঁ দিক দিয়ে জড়ায় জালে। গোলের পর গর্জে উঠে গ্যালারিভর্তি দর্শক। এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৮ গোল করলেন তিনি।

    চতুর্থ কোয়ার্টারে খেলা শেষের ছয় মিনিট আগে আরেকটি পেনাল্টি কর্নার থেকে মারিয়া গ্রানাতোর গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের আলোচিত ঘটনা ছিল আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক ক্রিস্তিনা কোসেন্তিনোর একটি অসাধারণ চমৎকার সেভ। পিয়েন ডিকের আক্রমণের মুখে গোলপোস্ট ছেড়ে প্রতিরোধ গড়ে স্কোরলাইন সমতায় রাখেন তিনি। এরপর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেই বাজিমাত আর্জেন্টিনার।

    ম্যাচসেরা আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক ক্রিস্তিনা কোসেন্তিনো ফাইনাল শেষে ভাসলেন উচ্ছ্বাসে, ‘আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আমরা এই মুহূর্তটির জন্যই অপেক্ষা করছিলাম ১৬ বছর ধরে। নেদারল্যান্ডস খুবই শক্ত প্রতিপক্ষ আর আমরা জানতাম ম্যাচটা এমনই হবে। আমাদের পরিকল্পনা ছিল প্রতিটি বলের জন্য লড়াই করা, গোল ঠিকই আসবে। আর তারপর শুটআউটে গিয়ে নিছক উপভোগ করা।’

    এর আগে, ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়েছে বেলজিয়াম। ৪৮ বছরের অপেক্ষার সমাপ্তি ঘটিয়ে বিশ্বকাপে প্রথম পদক জিতল তারা।

  • স্পেনের লাল ঝড়ে, সোনালি বিজয়

    স্পেনের লাল ঝড়ে, সোনালি বিজয়

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যখন শেষ বাঁশিটা বাজল, লিওনেল মেসির বিষণ্ন মুখের ওপর তখন ডুবে যাওয়া সূর্যের আলো– চার বছর আগের লুসাইলের সেই রূপকথার এক নির্মম, নিষ্ঠুর বৈপরীত্য! ‘দিবু’ মার্টিনেজের ১৩টি অতিমানবীয় সেভের সেই অবিশ্বাস্য দেয়াল, এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ডের পর ১০ জনের আর্জেন্টিনার সেই আদিম ডিফেন্স– সবকিছু স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে ফুটবলের স্বর্গীয় সিংহাসন ছিনিয়ে নিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন।

    লামিনে ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসদের গতিময় উইং-প্লে আর মাঝমাঠের নিখুঁত তিকিতাকার অলকানন্দায় ভেসে গেল স্কালোনির রক্ষণাত্মক সাম্রাজ্য। ১-০ গোলে স্পেনের রক্তকরবীর কাছে মাথা নত করতে হলো আর্জেন্টিনাকে। ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলে মেসি-যুগের এক মহাকাব্যিক ট্র্যাজেডির ওপর দাঁড়িয়ে বিশ্ব ফুটবল দেখল এক নতুন সূর্যোদয়, যেখানে মেসির রাজমুকুট কেড়ে নিয়ে নিউ জার্সির বুকে রাজ্যাভিষেক হলো একুশ শতকের নতুন ফুটবল সম্রাট– স্পেনের! ২০১০ সালের পর ফের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন।

    যারা বিশ্বাস করেছিলেন, ফুটবল-ঈশ্বর মেসিকে শূন্য হাতে ফেরাবেন না, তারা এদিন এক মহাসত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে স্তব্ধ। স্প্যানিশ ফুটবলের সেই উদ্ধত, তারুণ্যের দীপ্তিতে উজ্জ্বল নিখুঁত জ্যামিতির কাছে পরাস্ত হলো লাতিন আমেরিকার চিরন্তন ঘরানা। স্পেনের তিকিতাকার সেই মরণকামড়ে নীল-সাদার স্বপ্ন আজ যেন ডানাভাঙা পাখির মতো আছড়ে পড়ল মাঠের সবুজ ঘাসে। ৩৯ বছরের এক ক্লান্ত জাদুকর, যাঁর কাঁধে চেপে বিগত কয়েক বছর এক অবিনাশী সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল আর্জেন্টিনা, আজ তাঁর শরীরেও যেন ভর করেছিল এক অসহনীয় ক্লান্তি এবং অবসাদগ্রস্ততা। মাঝমাঠে রদ্রি-ইয়ামালদের সেই ত্রাসজাগানিয়া ক্ষিপ্রতা আর স্পেস-ফুটবলের আগ্রাসনের সামনে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছিল।

    মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ম্যাচ রিপোর্ট লিখতে বসে পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে যে কোনো ফুটবল রোমান্টিকের বুক কেঁপে উঠবে– পুরো ৯০ মিনিটে অবিশ্বাস্য ৬৬.৩ শতাংশ বল পজেশন ধরে রেখেছিল স্প্যানিশ আর্মাডা, যেখানে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা স্রেফ ৩৩.৭ শতাংশ বলের মালিকানা নিয়ে কোণঠাসা হয়ে ধুঁকেছে। গোলমুখের নির্মম সত্যটা আরও ভয়াবহ– যেখানে স্পেনের আক্রমণাত্মক ঝড়ের ১৭টা কামানের গোলা আছড়ে পড়েছে, সেখানে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার পাশে জ্বলজ্বল করছে এক বড় শূন্য! ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিটে এই নীল-সাদা ব্রিগেডকে চেনাই যায়নি। ভাগ্যদেবীর অশেষ কৃপায় বারবার নিশ্চিত গোল হজম করা থেকে বেঁচেছে তারা। কিন্তু ৯০ মিনিটে নাটকের আসল ক্লাইম্যাক্স তখনও বাকি ছিল। স্পেনের ২৩ বার প্রতিপক্ষের বক্সে সশব্দে ঢুকে পড়ার বিপরীতে স্কালোনির দল মাত্র দুবার পা ছোঁয়াতে পেরেছিল লা রোজাদের দুর্গে। স্প্যানিশদের ৬৪৭টি নিখুঁত পাসের আলপনার সামনে মেসিদের ৩৩৭টি পাস আর ৭৯.৫ শতাংশ পাসিং অ্যাকুরেসি স্রেফ খড়কুটোর মতো ভেসে গেছে। তার ওপর ম্যাচের অন্তিমলগ্নে যখন এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেন, তখন আর্জেন্টিনাকে বাধ্য হয়েই অলআউট ডিফেন্সের এক নরক যন্ত্রণার গহ্বরে সেঁধিয়ে যেতে হলো।

    সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে লুইস দে লা ফুয়েন্তের সমস্ত ট্যাকটিকসকে একা বুক দিয়ে রুখে দিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ; একের পর এক ১৩টি অতিমানবীয় গোল সেভ করে তিনি যেন একাই আস্ত একটা প্রাচীর! ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নিকো উইলিয়ামসের সেই হৃৎস্পন্দন থামিয়ে দেওয়া বুলেট কিক কিংবা তার আগে লামিনে ইয়ামালের বিষাক্ত ফ্রিকিক– সবকিছুই এসে আছড়ে পড়ল দিবুর ওই ইস্পাতকঠিন গ্লাভসে। ১৯টি ফাউল করে ছড়ি ঘোরানোর চেষ্টা করা আর্জেন্টিনাকে প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধেও যে কোনো আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেননি রদ্রি-পেদ্রিরা, তার একমাত্র কারণ মাঝমাঠের ওই সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ।

    একটা চেষ্টা ছিল আর্জেন্টাইনদের– যদি কোনো অলৌকিক উপায়ে টাইব্রেকার বা অতিরিক্ত সময়ে ভাগ্য বদলে দেওয়া যায়। কিন্তু প্রতিবারই কি ভাগ্য সহায় হয়! তা ছাড়া ভাগ্য তো থাকে সাহসীদের সঙ্গে। এত ভিতু আর্জেন্টিনাকে এর আগে কবে দেখা গেছে? প্রেসবক্সে গজগজ করতে থাকা পাশের আর্জেন্টাইন সাংবাদিক বলে দিলেন– মেসি-উত্তর এই দল আরও বিপদে পড়বে সামনে!

  • বিশ্বকাপের প্রাইজমানিতে নতুন ইতিহাস, চ্যাম্পিয়ন দল কত পাবে

    বিশ্বকাপের প্রাইজমানিতে নতুন ইতিহাস, চ্যাম্পিয়ন দল কত পাবে

    ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ঘোষণা মতোই ৪৮ দলের অংশগ্রহণে এবারের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসরে পরিণত হয়েছে। দল ও ম্যাচ সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে ফিফার আয় এবং রেকর্ড পরিমাণ প্রাইজমানিও।

    দ্য অ্যাথলেটিকের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপের মোট প্রাইজ ফান্ড ৬৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, যা ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। আগামী রোববারের ফাইনালে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যে বিজয়ী দল পাবে ৫ কোটি ডলার, আর রানার্স-আপ দল পাবে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

    তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল পাবে ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার এবং চতুর্থ দল ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। কোয়ার্টার ফাইনাল, শেষ ষোল ও শেষ ৩২ থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলোর জন্যও নির্ধারিত অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অংশ নেওয়া প্রতিটি দল অন্তত ১ কোটি ৫ লাখ ডলার নিশ্চিতভাবে পাচ্ছে।

    ফিফা এই অর্থ সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশনের কাছে হস্তান্তর করে, পরে তারা খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও ফুটবল উন্নয়নে তা বণ্টন করে। এবারের বিশ্বকাপ থেকে ফিফার আয় ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ১৯৮২ সালে প্রথমবার প্রাইজমানি প্রকাশের সময় চ্যাম্পিয়ন ইতালি পেয়েছিল মাত্র ২২ লাখ ডলার। চার দশকের ব্যবধানে সেই অঙ্ক বেড়ে এবার চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য ৫ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

    ফাইনালের পর চ্যাম্পিয়ন, রানার্স-আপ ও তৃতীয় হওয়া দল যথাক্রমে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক পাবে। পাশাপাশি সেরা খেলোয়াড়, গোলরক্ষক ও সর্বোচ্চ গোলদাতাকে ‘গোল্ডেন বল’, ‘গোল্ডেন গ্লাভস’ ও ‘গোল্ডেন বুট’ দেওয়া হবে। তবে এসব ব্যক্তিগত পুরস্কারের সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া হবে না।