চুয়েট

  • ক্লাসে ফিরছেন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা, উপাচার্য প্রবেশ করলে আন্দোলন

    ক্লাসে ফিরছেন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা, উপাচার্য প্রবেশ করলে আন্দোলন

    দীর্ঘ ৩৪ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে এবার শ্রেণিকক্ষে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। উপাচার্য প্রবেশের চেষ্টা করলেই কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

    তারা বলছেন, শিক্ষাজীবনের ক্ষতি এড়াতেই তারা ক্লাসে ফিরতে চান। এ জন্য শিক্ষকদের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তবে ঠিক কবে তারা ক্লাসে ফিরছেন, তা সুনির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। অপরদিকে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে বুধবার চুয়েট পরিদর্শনে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) গঠিত উচ্চপর্যায়ের পরামর্শক কমিটি। ওই দিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে পৃথক আলোচনা করবেন কমিটির সদস্যরা।

    রোববার শিক্ষকদের উদ্দেশে দেওয়া এক খোলা চিঠিতে এসব সিদ্ধান্ত নেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে রোববারের সাধারণ সভায় একই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এদিকে একই দিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ইন্সপেকশন ও মনিটরিং শাখা থেকে চুয়েটের রেজিস্ট্রারকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসন ও শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষা পুনরায় চালুর লক্ষ্যে বুধবার কমিটির সদস্যরা চুয়েট পরিদর্শন করবেন। এ সময় তারা পৃথক সময়ে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চারটি আলোচনা সভায় অংশ নেবেন।

    শিক্ষকদের উদ্দেশে দেওয়া খোলা চিঠিতে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় তাদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তাও বাড়ছে। তারা আর এই ক্ষতি বাড়াতে চান না এবং দ্রুত একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করে শ্রেণিকক্ষে ফিরতে চান। তবে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন বলে জানিয়েছেন তারা। ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্তকে আন্দোলন থেকে সরে আসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, এক দফা দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত আন্দোলন চলছে এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

    শিক্ষার্থীরা আরো জানান, নতুন নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে তারা আবারো কঠোর আন্দোলনে যাবেন। ন্যায্য দাবি আদায়ে তারা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন বলেও উল্লেখ করেন।

    এ বিষয়ে যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় আমাদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আমরা চাই, দ্রুত স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ফিরে আসুক। তবে ক্লাসে ফেরা মানে আমাদের ন্যায্য দাবি থেকে সরে আসা নয়।’

    একই দিন চুয়েটের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে সাধারণ সভা করেছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। ওই সাধারণ সভায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির। তিনি বলেন, ‘আমাদের সাধারণ সভায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষার্থীরাও ক্লাসে ফিরতে চায় বলে তারা জানিয়েছে। বাকি সিদ্ধান্তগুলো বিবৃতি দিয়ে জানানো হবে।’ ক্লাস শুরুর তারিখ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নির্ধারণ করবে বলেও জানান তিনি।

    উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি পালন করছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষাসহ অধিকাংশ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

  • চুয়েটে ভিসির প্রবেশ ঠেকাতে ছুটির দিনেও পাহারায় শিক্ষার্থীরা

    চুয়েটে ভিসির প্রবেশ ঠেকাতে ছুটির দিনেও পাহারায় শিক্ষার্থীরা

    দুর্গাপূজা উপলক্ষে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) এক সপ্তাহের ছুটি শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে। এদিন দুপুর থেকেই হল ছাড়তে শুরু করেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তবে ছুটির সুযোগে নতুন উপাচার্যের (ভিসি) ক্যাম্পাসে প্রবেশ ঠেকাতে পাহারায় থাকার কথা জানিয়েছে শিক্ষার্থীদের একাংশ। একই সঙ্গে পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতি।

    শিক্ষার্থীরা বলছেন, ক্যাম্পাসে আর পা না রাখার শর্তেই নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ডিসি ও এসপির সহযোগিতায় ক্যাম্পাস ছাড়েন। তাকে সেই শর্তেই মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। তবে আবারও তিনি প্রবেশের চেষ্টা করলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে।

    বৃহস্পতিবার চুয়েট কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তোষ চক্রবর্তী জানান, ‘চুয়েটে দুর্গাপূজার সাত দিনের ছুটি শুরু হয়েছে। শুক্রবার ও শনিবার দুদিন সাধারণ সাপ্তাহিক ছুটি এবং রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাঁচ দিন পূজার ছুটি। এ সময়ে আমাদের কর্মবিরতি চলবে; সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।’

    ডেপুটি রেজিস্ট্রার প্রবীর চন্দ্র ভৌমিক জানান, ‘একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসারে পাঁচ দিন পূজার ছুটি। তবে প্রতিবার আগাম নোটিশ দেওয়া হলেও এবার কোনো নোটিশ জারি হয়নি। আমি নিজেও কোনো নোটিশ হাতে পাইনি। তবে ছুটি শুরু হয়েছে, এটি সঠিক।’

    আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, দুর্গাপূজার ছুটির আগে বৃহস্পতিবারই ছিল চুয়েটে শেষ কর্মদিবস। এদিন অনেক শিক্ষার্থী আবাসিক হল ছেড়েছেন। আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে চুয়েটে স্বাভাবিক কর্মদিবস শুরু হবে। টানা সাত দিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ হলেই অবস্থান করবেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে, যদিও ছুটির দিনগুলোতে সরাসরি কোনো আন্দোলন কর্মসূচি থাকছে না।

    এর আগে বুধবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, তারা দাবি আদায়ে অনড় থাকবেন। চলমান সংকট নিরসনে তারা প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘প্রফেসর ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম স্যারের পুনর্বহালের এক দফা দাবিতে পরিচালিত আন্দোলনকে বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। এমনকি ছাত্রলীগের একটি পেজ থেকেও সেটিতে সমর্থন জানিয়ে প্রচার করা হয়েছে। আমাদের সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক দাবিকে কেউ সরকারবিরোধী, কেউ রাষ্ট্রবিরোধী অসন্তোষের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপব্যাখ্যা ও রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের অপচেষ্টাকে আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় প্রত্যাখ্যান করছি। কোনো দলকে ক্ষমতায় আনা বা ক্ষমতা থেকে সরানো, রাষ্ট্রকে হেয় করা কিংবা সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচার চালানো আমাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য নয়।’

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা জানিয়ে দিতে চাই, চুয়েটের শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি কোনো পক্ষের রাজনৈতিক বয়ানের কাঁচামাল নয়। আমাদের কণ্ঠস্বরকে বিকৃত করে অন্যের এজেন্ডা প্রতিষ্ঠার অধিকার কারও নেই। তাছাড়া জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সহিংসতা, দমন-পীড়ন ও প্রাণহানির স্মৃতি আমাদের কাছে গভীর বেদনা ও জবাবদিহির প্রশ্ন। সেই অভিজ্ঞতা অস্বীকার করে কিংবা শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগকে রাজনৈতিক প্রচারণার আড়াল বানিয়ে কোনো সংগঠন আমাদের আন্দোলনের নৈতিক সমর্থক সেজে উঠতে পারে না।’

    চুয়েটের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ছুটিতে সব শিক্ষার্থী বাড়িতে যাচ্ছে না, অনেকেই হলে থাকছে। আমরা নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমের প্রবেশ ঠেকাতে সজাগ থাকব। বন্ধের দিনেও আমাদের নিয়মিত পাহারা থাকবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

    এদিকে চুয়েটের উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ফিরেছেন। এর আগে গত ১৩ অক্টোবর নিজ দপ্তরে প্রায় ৩৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর তাকে উদ্ধার করেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি)। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

  • চুয়েটে সর্বাত্মক অসহযোগের ডাক

    চুয়েটে সর্বাত্মক অসহযোগের ডাক

    চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমের নিয়োগের প্রতিবাদে এবং পূর্বঘোষিত দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ কর্মবিরতির পাশাপাশি এ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে তিনটি সংগঠন।

    সোমবার (১২ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে এক যৌথ বিবৃতিতে কর্মসূচির বিষয়টি জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বহিরাগতদের সহায়তায় নবনিযুক্ত উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে তিনটি সংগঠন ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এর সম্পূর্ণ দায়ভার উপাচার্যকে বহন করতে হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

    সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূর্বঘোষিত দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সব দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি পূর্ণ কর্মবিরতি ও সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি চলবে।

    নবনিযুক্ত উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমের নিয়োগের প্রতিবাদ এবং সাবেক উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চুয়েটে আন্দোলন করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশ। এ আন্দোলনের প্রভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

  • চুয়েটে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্ব মানতে নারাজ শিক্ষার্থীরা

    চুয়েটে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্ব মানতে নারাজ শিক্ষার্থীরা

    চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের (রুটিন দায়িত্ব) দায়িত্ব পালন করবেন যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরাফাত রহমান। ১১ ও ১২ অক্টোবর দুই দিনের জন্য তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে বিতর্কিত উল্লেখ করে অধ্যাপক ড. মো. আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব প্রদানকে প্রত্যাখ্যান করে সংবাদ মাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

    শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে পাঠানো বিবৃতিতে চুয়েটে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘চুয়েটের চলমান সংকট নিরসন এবং অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম স্যারকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের এক দফা দাবিতে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। এমতাবস্থায় বিতর্কিত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম কর্তৃক অধ্যাপক ড. মো. আরাফাত রহমান স্যারকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব প্রদানকে আমরা সুস্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।

    ‘যে উপাচার্যের নিয়োগ ও অবস্থানকে চুয়েটের শিক্ষার্থীরা প্রত্যাখ্যান করেছে, তার প্রদত্ত দায়িত্বকে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। আমাদের কাছে প্রত্যাখ্যাত উপাচার্যের মাধ্যমে প্রদত্ত কোনও দায়িত্বই আমাদের সম্মতি, আস্থা কিংবা গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তি হতে পারে না। দায়িত্ব প্রদানের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে চুয়েটের চলমান সংকটের কোনও সমাধান হবে না; বরং তা সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করার আশঙ্কা তৈরি করবে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই, চুয়েট শিক্ষার্থীদের সুস্পষ্ট অবস্থান ও এক দফা দাবিকে উপেক্ষা করে কোনও ধরনের সাময়িক দায়িত্ব প্রদান কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। উপাচার্য পদে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম স্যারের পুনর্বহাল ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নেবো না।

    ‘পাশাপাশি অধ্যাপক ড. মো. আরাফাত রহমান স্যারের প্রতি আমাদের বিনীত অনুরোধ, আপনি অনুগ্রহ করে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব প্রত্যাখ্যান করুন। চুয়েটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত দাবির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এমন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকুন, যা ক্যাম্পাসের চলমান সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমাদের দাবি এক, অবস্থান এক, প্রত্যাখ্যানও স্পষ্ট। চুয়েটের শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। ’

    জানা গেছে, চুয়েটে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি সভায় যোগ দিতে ১০ অক্টোবর বিকালে ঢাকা সফরে যাচ্ছেন। আগামী ১১ ও ১২ অক্টোবর তিনি সভায় অংশ নেবেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম সচল রাখতে অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ১৩ অক্টোবর কর্মস্থলে ফেরার আগ পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। ৯ অক্টোবর একই মেইল বার্তায় অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের এ দায়িত্ব অর্পণ করেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে রুটিন দায়িত্ব সাধারণত অনুষদের ডিনদের দেওয়া হয়ে থাকে। তবে এবার যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনও অনুষদীয় ডিনের দায়িত্ব না থাকায় তাকে এ দায়িত্ব অর্পনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে।

    এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘যেকোনও একজন অধ্যাপককে দায়িত্ব দিলেই চলে। ডিনদেরকেই দিতে হবে এমন কোনও নিয়ম নেই। ’

    গত ২৪ সেপ্টেম্বর অনলাইনে যোগদান করলেও এখনও ক্যাম্পাসে আসেননি নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

    এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে তার স্থলে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় তাকে অপসারণের সিদ্ধান্ত আসে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে আন্দোলনে নামেন। আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একাডেমিকসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

  • অচলাবস্থা কাটেনি চুয়েটে, দুই দিনের দায়িত্বে নতুন উপাচার্য

    অচলাবস্থা কাটেনি চুয়েটে, দুই দিনের দায়িত্বে নতুন উপাচার্য

    শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনের কারণে এখনো অচলাবস্থা বিরাজ করছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট)। ১৯ দিনেও স্বাভাবিক হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। তালা ঝুলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে। ক্যাম্পাসে এই অচলাবস্থার মধ্যেই দুই দিনের জন্য উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে। আগামীকাল রোববার থেকে তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানানো হয়েছে।

    শুক্রবার চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম এ দায়িত্ব দেন। বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি কর্তৃপক্ষ; বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, ডিন ও বিভিন্ন দপ্তর প্রধানকে ই-মেইলে অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তিনি বলেন, “অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে ১১ ও ১২ অক্টোবর, দুই দিনের জন্য রুটিন দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। আমি সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিষয়টি জানিয়েছি। ”

    গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে চুয়েটের উপাচার্য পদে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে পরদিন থেকে ক্যাম্পাসে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও একই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করে আসছেন। উপাচার্য দপ্তরের ফটকে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় তালা। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিক্ষোভের মুখে এখন পর্যন্ত ক্যাম্পাসেই যেতে পারেননি উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। তবে ২৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর যোগদানপত্র পাঠিয়ে উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেছেন বলে জানান তিনি।

    চুয়েট সূত্রে জানা গেছে, উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সভায় উপস্থিত হতে দুই দিন ঢাকায় অবস্থান করবেন। সেই সময়ের জন্যই অধ্যাপক আরাফাতকে রুটিন দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে।

    রুটিন দায়িত্ব পালনকালে ক্যাম্পাসের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক আরাফাত রহমান। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনা যায়, সে ব্যাপারে বোঝানোর চেষ্টা করব। ”

    আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একজন ও পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নাফিস হাসান বলেন, “নতুন উপাচার্য কাকে কী দায়িত্ব দিলেন, সেটি আমাদের আন্দোলনে কোনো প্রভাব ফেলবে না। ”

    তিনি বলেন, “আমরা সায়েম স্যারকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করছি, এই আন্দোলন চলবে, শাটডাউন কর্মসূচিও চলবে। উপাচার্য ভবনেও তালা থাকবে। সেই তালা শুধু সায়েম স্যারই খুলতে পারবেন। ”

  • উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে সপ্তম দিনেও অচল চুয়েট

    উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে সপ্তম দিনেও অচল চুয়েট

    শিক্ষা ডেস্ক:

    উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সপ্তম দিনের মতো অচল চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।

    শিক্ষার্থীদের দাবির পক্ষে আন্দোলনে আছেন শিক্ষক, কর্মকর্তারাও। এদিকে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ভিসিও যোগাদানের বিষয়ে অটল। এরইমধ্যে অনলাইনে যোগ দিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান তিনি। এতে বিষয়টি সুরাহা হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

    সপ্তম দিনে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সকাল থেকে চুয়েট গেটে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। দুপুরে সাদা কাপড়ে গণসাক্ষ্য কর্মসূচি, বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাবেন আন্দোলনরতরা। ছাড়া প্রশাসনিক ভবনের দরজাও তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। টানা আন্দোলনে সেশনজটের শঙ্কা বাড়ছে শিক্ষার্থীদের। এমতাবস্থায় দ্রুত সরকারের পক্ষ থেকে দাবি মেনে নিয়ে সংকট সমাধানের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

    মাত্র ৫৬ দিন দায়িত্ব পালনের পর আগের ভিসি আবু সাদাত মো সায়েমকে বদলি করে ড শেখ শরিফুল আলমকে নিয়োগ দেয় সরকার। আগের ভিসিকে দক্ষ ও চুয়েট বান্ধব দাবি করে প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়।

  • নতুন ভিসি ঠেকাতে পাহারায় চুয়েট শিক্ষার্থীরা, দেয়ালজুড়ে গ্রাফিতি

    নতুন ভিসি ঠেকাতে পাহারায় চুয়েট শিক্ষার্থীরা, দেয়ালজুড়ে গ্রাফিতি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নতুন উপাচার্য শুক্রবার গভীর রাতে বা যেকোনো সময় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার দিবাগত রাত থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে শক্ত অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা রাতভর ফটক পাহারা দেন।

    শনিবার সকাল থেকেও শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে জড়ো হয়ে প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন। সকাল ১০টার দিকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ চত্বর, ভাস্কর্য এলাকা ও বিভিন্ন একাডেমিক ভবনের দেওয়ালে ব্যঙ্গাত্মক গ্রাফিতি ও প্রতিবাদী ক্যালিগ্রাফি আঁকা শুরু করেন।

    আন্দোলনকারীরা জানান, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্থিতিশীলতা ও যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ অচল থাকবে এবং নবনিযুক্ত উপাচার্যকে কোনোভাবেই ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

    এদিকে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে গতকাল থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতিও। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও দাপ্তরিক কাজ শতভাগ বন্ধ রয়েছে।

  • চুয়েটে নতুন ভিসিবিরোধী আন্দোলন তীব্র

    চুয়েটে নতুন ভিসিবিরোধী আন্দোলন তীব্র

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের প্রবেশ ঠেকানো এবং সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন আরো তীব্র রূপ নিয়েছে।

    নতুন উপাচার্য শুক্রবার গভীর রাতে বা যেকোনো সময় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার দিবাগত রাত থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে শক্ত অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা রাতভর ফটক পাহারা দেন।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেও শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে জড়ো হয়ে প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন। সকাল ১০টার দিকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ চত্বর, ভাস্কর্য এলাকা ও বিভিন্ন একাডেমিক ভবনের দেওয়ালে ব্যঙ্গাত্মক গ্রাফিতি ও প্রতিবাদী ক্যালিগ্রাফি আঁকা শুরু করেন।আন্দোলনকারীরা জানান, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্থিতিশীলতা ও যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ অচল থাকবে এবং নবনিযুক্ত উপাচার্যকে কোনোভাবেই ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

    এদিকে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে গতকাল থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতিও। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও দাপ্তরিক কাজ শতভাগ বন্ধ রয়েছে।

  • চুয়েটে বিক্ষোভ চলছে, ভিসির উদ্দেশে শিক্ষার্থীদের ‘লাল কার্ড

    চুয়েটে বিক্ষোভ চলছে, ভিসির উদ্দেশে শিক্ষার্থীদের ‘লাল কার্ড

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সদ্য বিদায়ী উপাচার্য (ভিসি) আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। আজ শনিবার সকাল থেকেও দাবি আদায়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চলছে।

    সকালে বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের উদ্দেশে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমে তাঁর দেওয়া এক বক্তব্যের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালিত হয়। সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেয়ালে গ্রাফিতি অঙ্কন কর্মসূচিও চলছে।

    গতকাল শুক্রবার সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, বিক্ষোভে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে ক্যাম্পাসের তালা খুলে দিয়েছেন এবং তাঁকে সাদরে ক্যাম্পাসে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন।নতুন উপাচার্যের এ বক্তব্য প্রকাশের পর আজ সকালে এর প্রতিবাদে ‘প্রতীকী লাল কার্ড প্রদর্শন’ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলটি ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে করে একই জায়গায় শেষ হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বক্তব্যের প্রতিবাদে ‘রেড কার্ড টু অনলাইন ভিসি’, ‘অনলাইন ভিসি, অনলাইন ভিসি, মানব না, মানব না’ স্লোগান দেন।

    আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ক্যাম্পাসে চলমান আন্দোলন ও শিক্ষার্থীদের অবস্থান সম্পর্কে নতুন উপাচার্যের দেওয়া বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁরা। অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে তাঁদের আন্দোলন চলবে।মিছিলে অংশ নেওয়া যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের মাহিদুর রহমান ওসমানী বলেন, ‘নতুন উপাচার্য নজিরবিহীনভাবে অনলাইনে যোগদান করেছেন। এ ছাড়া উনি গণমাধ্যমে যে কথা বলেছেন, তা একদম অসামঞ্জস্য। তাই আমরা রেড কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

    ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস, কম্পিউটার অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ওই দিন রাত থেকেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরদিন থেকে তাঁরা শাটডাউন ও গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন। পরে উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক সমিতি ও কর্মকর্তা সমিতিও কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়। শিক্ষার্থীদের একমাত্র দাবি হিসেবে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের কথা জানানো হয়েছে।

  • ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেননি চুয়েটের নতুন ভিসি

    ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেননি চুয়েটের নতুন ভিসি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    টানা তিনদিনের সর্বাত্মক শাটডাউনে নিয়োগের পরও ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেননি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। ফলে বাধ্য হয়ে অনলাইনে যোগ দেন চুয়েটের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত এ ভিসি। তবে তার যোগদানের দিনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়নি। আগের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের পরিপ্রেক্ষিতে চুয়েটের উপাচার্য পদে যোগ দেন অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। একই দিন তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে যোগদানপত্র পাঠান।

    অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘আমি আজ অনলাইনে যোগদান করেছি। আমার যোগদানপত্র প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষাসচিব যোগদানপত্র পেয়েছেন বলে আমাকে নিশ্চিত করেছেন। ’

    চুয়েটের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি চুয়েটের ছাত্র ছিলাম। চুয়েটের প্রতি আমার আবেগ ও ভালোবাসা রয়েছে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে চুয়েটের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করব। শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ও জানান তিনি।

    এদিকে নতুন উপাচার্যের যোগদানের দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। প্ল্যাকার্ড হাতে তারা ‘ভিসি কে, ভিসি কে, সায়েম স্যার ছাড়া আবার কে?’ ও ‘দাবি মোদের একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। কর্মসূচি থেকে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল এবং নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো খোলা চিঠি উপস্থাপন করেন তারা।নতুন উপাচার্যের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত কোনো অবস্থান নেই জানিয়ে শিক্ষার্থীরা খোলা চিঠিতে লিখেছেন, ‘সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আমাদের কোনো ব্যক্তিগত অবস্থান নেই। আমরা অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম স্যারকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহাল চাই। ’