বাংলাদেশ থেকে অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব নির্মূল, অপুষ্টিজনিত শিশু মৃত্যু প্রতিরোধ এবং শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইনের প্রস্তুতিমূলক সংবাদ সম্মেলন ও ওরিয়েন্টেশন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবা(২৫জুন) বেলা ১২ টায় চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই ওরিয়েন্টেশন সভার আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ২৮ জুন জেলাব্যাপী জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন পালিত হতে যাচ্ছে। জেলায় এবার ১লক্ষ ৪৫ হাজার ৮৪৫ জনকে ভিটামিনের প্লাস ক্যাম্পেইন খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী ১৭ হাজার ৫৪১ জন শিশুকে ১ টি লাল রঙ্গের ভিটামিন এ ক্যাপসুল ও ১-৫ বছর বয়সী ১ লাখ ২৮ হাজার ৩০৪ জন শিশুকে নীল রঙ্গের এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ৮টি স্থায়ী কেন্দ্র ও ৮৯৬ টি টিকাদান কেন্দ্র থেকে এসব টিকা খাওয়ানো হবে।
এ উপলক্ষে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ। এ সময় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রেজেনটেশন উপস্থাপন করেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এমওসিএস ডা. সাজিদ হাসান। সভায় চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন উপস্থিত সাংবাদিকদের ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইনের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং জেলার কোনো শিশু যেন এই ক্যাম্পেইন থেকে বাদ না পড়ে, সে লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা করা হবে বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সাধারন সম্পাদক শাহ আলম সনিসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্মিরা উপস্থিত ছিলেন।
সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে ভবিষ্যৎ জীবন’-এ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে চুয়াডাঙ্গায় সর্বজনীন পেনশন মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে বুধবার (২৪ জুন) সকাল সাড়ে ৯ টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।
শোভাযাত্রাটি শহরের কলেজ রোড ঘুরে জেলা শিল্পকলার মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়। এখানে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে দুই দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মোঃ সুরাতুজ্জামান।
পরে জেলা শিল্পকলার মুক্তমঞ্চে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সি আবু সাইফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শুরুতে পবিত্র কুরআন ও গীতা পাঠ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মোঃ সুরাতুজ্জামান। তিনি বলেন, সরকারি ট্রেজারি ফান্ড এর মাধ্যমে জাতীয় পেনশনের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। অনেকেই মনে করতে পারেন এই টাকা অরক্ষিত কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রেজারি বন্ড অত্যন্ত সুরক্ষিতভাবে আপনার আমানত গচ্ছিত রাখবেন। ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সি মানুষেরা ব্যাংকের মাধ্যমে সঞ্চয় করবেন এবং ৬০ বছর বয়সে গিয়ে সেটি পেনশন আকারে পাবেন। যখন আপনার আর্থিক সাপোর্ট খুবই প্রয়োজন তখন এই পেনশনের টাকাটি আপনাদেরকে দেওয়া হবে। যদি কেউ ৬০ বছরের পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেন তাহলে তার নমিনিকে গস্তিত টাকার সুদ সমেত ফেরত দেওয়া হবে। আপনারা যারা মাসিক চাঁদা জমা দিবেন তাদের যদি আয়ের কোন ত্রুটি বিচ্যুতি ঘটে তবে চাঁদা ও কমবেশি করা যেতে পারে।
তিনি আরো বলেন, আপনাদের গচ্ছিত এই টাকা আপনাদেরকেই ফেরত দেওয়া হবে। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে এরকম পেনশন ব্যবস্থা চালু আছে। ২০৩০ সালের মধ্যেই আমরা অন্তত চার কোটি মানুষকে এই পেনশন সেবার আওতায় আনতে চাই। এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার ইতোমধ্যেই ১০০ মিলিয়ন ডলার বা ১২৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। আপনাদের শেষ বয়সের অবলম্বন হিসেবে এই পেনশনটি আপনাদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা চাইবো প্রত্যেকটি পরিবারে অন্তত একজন করে হলেও এই পেনশন সেবার আওতায় আসুক।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক শারমিন আক্তার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, সিভিল সার্জন ডা হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের অর্থ ও প্রশাসন সদস্য শেখ কামরুল হাসান।
বক্তারা বলেন, দেশের সর্বস্তরের মানুষকে একটি সুসংগঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনতে সরকারের গৃহীত সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দুই দিনের এ মেলা।
মেলায় আগত দর্শনার্থীরা সর্বজনীন পেনশন স্কিমের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তথ্য জানতে পারবেন। পাশাপাশি নিবন্ধন, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের সুযোগও থাকবে। জেলা প্রশাসন চুয়াডাঙ্গার পক্ষ থেকে সর্বস্তরের জনগণকে সর্বজনীন পেনশন মেলায় অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সর্বজনীন পেনশন স্কিমে ৪ টি স্কিম রয়েছে।
মেলায় সোনালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক, ব্রাক ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, এন আর বি সি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, সমাজসেবা কার্যালয় , মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর , যুব উন্নয়ন, হর্টিকালচার, বিকাশ ও নগদ এর স্টল দেওয়া হয়েছে।
আলোচনা অনুষ্ঠানের মাঝে- মাঝে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলার সাংবাদিকদের জন্য মাল্টিমিডিয়া ফ্যাক্ট-চেক গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের আয়োজনে ও চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সহযোগীতায় পিআইবির প্রশিক্ষক সাহানোয়ার সাইদ শাহীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্লাব সভাপতি নাজমুল হক স্বপন।
প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাশাসক লুৎফুন নাহার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন,চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, সাংবাদকর্মী সরদার আল আমিন, বিপুল আশরাফ, হুসাইন মালিক ও রাজীব হাসান কচি।
প্রশিক্ষণের উদ্বোধনের সময় প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, ‘এই প্রশিক্ষণ সাংবাদকর্মীদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এখন এমন একটি অবস্হা দাঁড়িয়েছে, আমরা কোনটা বিশ্বাস করবো, কোনটা করবো না তা বুঝতে পারিনা। সে কারনে এই বিষয়গুলো বোঝানোর জন্যই এ প্রশিক্ষণ অনেক গুরুত্ববহন করে’।
চুয়াডাঙ্গা জেলার সুবিধাবঞ্চিত ও অসচ্ছল মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করেছে সামাজিক সংগঠন ‘চুয়াডাঙ্গা ভলান্টিয়ার্স’। ১৬ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার সংগঠনের প্রধান কার্যালয়ে ‘স্বাবলম্বীকরণ কর্মসূচি’র আওতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা ভলান্টিয়ার্স-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মো: আসলাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক (সেক্রেটারী) রনি বিশ্বাস উপস্থিত থেকে কর্মক্ষম ও অসচ্ছল নারীর হাতে নতুন সিঙ্গার সেলাই মেশিন তুলে দেন। এর মাধ্যমে ওই পরিবারটির জন্য স্থায়ীভাবে জীবিকা নির্বাহ এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের একটি টেকসই পথ তৈরি করে দেওয়া হয়।
সেলাই মেশিন বিতরণকালে চুয়াডাঙ্গা ভলান্টিয়ার্স-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মো: আসলাম হোসেন বলেন, “আমরা শুধু সাময়িক ত্রাণ বা সাহায্য বিতরণে বিশ্বাসী নই; বরং একজন মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই সেলাই মেশিনটি একটি পরিবারের অর্থনৈতিক মুক্তির হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।”
সংগঠনের সেক্রেটারী রনি বিশ্বাস তাঁর বক্তব্যে বলেন, “চুয়াডাঙ্গার পিছিয়ে পড়া মানুষদের কল্যাণে আমাদের এই ধরনের স্বাবলম্বীকরণ ও মানবিক উদ্যোগ আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। যুবসমাজকে সাথে নিয়ে চুয়াডাঙ্গাকে একটি আদর্শ ও স্বাবলম্বী জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর।”
সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর পাশাপাশি চুয়াডাঙ্গা ভলান্টিয়ার্স আরও পাঁচটি বিষয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এগুলো হল ডিবেট ক্লাব, আইটি টিম, ব্লাড সেন্টার, মানষিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন সহ আগামীর নেতৃত্ব তৈরির জন্য লিডারশিপ প্রোগ্রাম।
দেশের ১০টি জেলায় একযোগে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) উদ্বোধনের অংশ হিসেবে রবিবার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসিইউ উদ্বোধন করা হয়েছে।
সকাল ১০টায় সদর হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এমপি চুয়াডাঙ্গাসহ ১০টি জেলার আইসিইউ উদ্বোধন করেন। পরে হাসপাতালের নতুন ভবনের সপ্তম তলায় স্থাপিত আইসিইউ ইউনিট পরিদর্শন করেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আইসিইউ চালু হওয়া জেলার স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। পাশাপাশি দক্ষ জনবল নিশ্চিত করে রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দিতে হবে।
সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, উদ্বোধনের পর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে খুব শিগগিরই আইসিইউর কার্যক্রম শুরু করা হবে। তবে এ ইউনিট পরিচালনায় দক্ষ জনবলের প্রয়োজন রয়েছে।
এ সময় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস, আরএমও ডা. ফারহানা ওয়াহিদ তানি, ডা. এহসানুল হক তন্ময়, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, চিকিৎসক ও নার্সরা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিন পর আইসিইউ চালুর ফলে চুয়াডাঙ্গার সংকটাপন্ন রোগীরা স্থানীয়ভাবেই উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় ৫০টি পরিবারের মাঝে টিউবওয়েল বিতরণ করেছে দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি। নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রবিবার (১৪ জুন) সকালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব টিউবওয়েল বিতরণ করা হয়।
টিউবওয়েল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন। তিনি বলেন, “নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে আশা করি।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আকন্দবাড়িয়া ঈদগাহ মাঠ কমিটির সভাপতি আবু জাফর মোহাম্মদ শামসুদ্দীন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জীবননগর ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক মো. খায়রুল বাশার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি চুয়াডাঙ্গা শাখার ব্রাঞ্চ ইনচার্জ হোসাইন আহমেদ।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ মো. রমজান আলীসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা। সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ফার্মপাড়া ও বেলগাছি রেলগেট এলাকায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তদারকিমূলক অভিযানে দুটি বেকারি ও খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ১১ জুন সকাল ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা মিনিট পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন বেকারি ও খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তদারকি করা হয়।
অভিযানকালে দেখা যায়, কিছু প্রতিষ্ঠান অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ করছে। এছাড়া অনুমোদন ছাড়াই বিএসটিআইয়ের লোগো ব্যবহার করে পণ্য বাজারজাত করার অভিযোগও পাওয়া যায়।
এ সময় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৩ ধারায় ফার্মপাড়া এলাকার মো: হারুন অর রশিদ এর প্রতিষ্ঠান মেসার্স নূর ফুড প্রোডাক্টসকে ২৫ হাজার টাকা এবং বিটু ইসলাম এর প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাকিল চানাচুরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে মোট ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান দুটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ত্রুটিগুলো সংশোধন করে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান। এ সময় সার্বিক সহযোগিতা করেন জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. গোলাম ফারুক এবং জেলা আনসার ব্যাটালিয়নের একটি দল।
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ ও জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
চুয়াডাঙ্গা জেলাকে সি গ্রেড থেকে বি গ্রেডে নেওয়া ও সকল বাঁধা মোকাবেলা করে পরিষদের বেদখল সম্পদ পূণ উদ্ধার করে জনকল্যাণে ব্যবহার করা হবে।
চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সদস্য, দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর প্রকাশক ও সম্পাদক এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা প্রদান করে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সমিতি।
অনুষ্ঠানে জেলার সাংবাদিক, পেশাজীবী, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা শরীফুজ্জামান শরীফের দীর্ঘ কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পাশাপাশি জেলার সার্বিক উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে তাঁর অগ্রণী ভূমিকা প্রত্যাশা করে নানা আশাবাদের কথা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সেলিম উদ্দিন খান, শাহজাহান মুকুল, অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সরদার আল আমিন, রাজীব হাসান কচি, সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মালিকসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতা, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শরীফুজ্জামান শরীফের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বক্তাগন তাঁর সফলতা ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।ঐ
সংবর্ধনার জবাবে শরীফুজ্জামান শরীফ উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জেলার উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
চুয়াডাঙ্গা শহরের ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ডপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সরকারি ওএমএসের ২১০ কেজি চাল ও ৭০ কেজি আটা জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় ওএমএস ডিলার ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল মালিক সুজনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) বিকেল ৪টার দিকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ডপাড়া এলাকা থেকে একটি আলমসাধু (ভ্যানগাড়ি) ভর্তি সরকারি চাল ও আটা উদ্ধার করা হয়। পরে তদন্তে উদ্ধারকৃত খাদ্যসামগ্রী সরকারি ওএমএস কর্মসূচির পণ্য বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ওএমএস ডিলার এবং পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল মালিক সুজন৪৭) তার ওএমএস এর গুদাম চুয়াডাঙ্গা শহরের পুরাতন স্টেডিয়াম এলাকায় হলেও তিনি আলমসাধুতে করে সাতগাড়ীর দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন , এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর আলাউদ্দিন আল আজাদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে আলমসাধু থেকে সরকারি ওএমএসের ৭ বস্তা চাল ও ২ বস্তা আটা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ছিল ২১০ কেজি চাল ও ৭০ কেজি আটা।
এ ঘটনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারায় ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ডপাড়া এলাকার বাসিন্দা শামসুল হক মালিক এর ছেলে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ওএমএস ডিলার এবং পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল আহমেদ মালিক সুজনকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। চাল জব্দ করায় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানানো সহ ডিলারের শাস্তি দাবি করেন , সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির চাল ও আটা অধিক মুনাফার আশায় অবৈধভাবে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, “সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির চাল ও আটা কোনোভাবেই অবৈধভাবে বিক্রি বা পাচার করা যাবে না। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।”
অভিযানকালে আরো উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র ও জেলা পুলিশের একটি টিম।
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল লবণ ও টেক্সটাইল কালার ব্যবহারের অভিযোগে চুয়াডাঙ্গার অভি ফুড প্রোডাক্টস নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়।
বুধবার (১০ জুন) দুপুর ২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে এ জরিমানা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা শহিদুল ইসলাম।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, খাদ্যপণ্যে ইন্ডাস্ট্রিয়াল লবণ ও টেক্সটাইল কালার ব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় নমুনা সংগ্রহ করে তাৎক্ষণিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।
পরে এসব অপরাধে অভি ফুড প্রোডাক্টসের মালিক অভিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা শহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযানকালে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সাধন সরকার, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নার্গিস জাহান এবং চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পুলিশের একটি টিম অংশ নেয়।