ট্যাগ চুক্তি

  • ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার করা ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার: চিফ হুইপ

    ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার করা ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার: চিফ হুইপ

    ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে বর্তমান সরকার। এসব চুক্তির মধ্যে দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো বিষয় রয়েছে কি না, তা যাচাই করে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

    আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন।

    চিফ হুইপ বলেন, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় সরকার। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্ব থাকবে, তবে সেই বন্ধুত্ব কোনোভাবেই দেশের স্বার্থের পরিপন্থী হতে দেওয়া হবে না।

    চিফ হুইপ বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে যেসব চুক্তি হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। দেশের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিষয় থাকলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    চট্টগ্রাম বন্দরের প্রসঙ্গ টেনে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বাংলাদেশ ও কোনো বন্ধুদেশের দুটি জাহাজ একসঙ্গে বন্দরে এলে আগে বন্ধুদেশের জাহাজ খালাস করার মতো বিভিন্ন ব্যবস্থা ও চুক্তি আগের সরকার করে গেছে। দেশের স্বার্থবিরোধী এমন অসংখ্য চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার।

    ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন চিফ হুইপ। স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁকে আমন্ত্রণ না জানানোয় ভারতের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

    এ সময় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, নয় কার্যদিবসের এ অধিবেশনে ছয়টি বিল পাস হয়েছে। সংসদ সদস্যদের ১ হাজার ৬৭৮টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।

    চিফ হুইপ বলেন, সম্পত্তি হস্তান্তরসংক্রান্ত বিলের মাধ্যমে মা-বাবা জীবদ্দশায় সন্তানকে সম্পদ দান করার পরও তাঁদের ভোগদখলের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এ বিলের বিরোধিতা করে বিরোধী দলের নেতারা ওয়াকআউট করায় সরকারি দলের সদস্যরা মর্মাহত হয়েছেন।

    বিদ্যুৎ-সংকট প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, নতুন একটি ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগে। আগের সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও বিভিন্ন কেন্দ্রকে ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়ার মাধ্যমে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। বর্তমান সরকার আগের দায়মুক্তির ব্যবস্থা বাতিল করেছে বলেও জানান তিনি।

  • সিএনএনের বিশ্লেষণ

    সিএনএনের বিশ্লেষণ

    মুসলিম সামরিক হেভিওয়েটদের ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি

    ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের উত্তেজনা সৌদি আরবের দিকে এগিয়ে আসায় মুসলিম বিশ্বের দুটি শক্তিশালী সামরিক শক্তিকে পাশে টেনে নিয়েছে দেশটি। শুক্রবার মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি ন্যাটো ধাঁচের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছে।

    চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর ফলে সৌদি আরবের ওপর বড় ধরনের হামলা হলে তুরস্ক ও পাকিস্তানও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো সম্মিলিত প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো এবং তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা। সৌদি আরবের জন্য এটি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা নির্ভরতার পাশাপাশি নতুন একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষাকাঠামো তৈরি করবে। তুরস্ক ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি, আর পাকিস্তান মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ।

    তবে তিন দেশই জানিয়েছে, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে সামরিক জোট বা ধর্মীয় বিভাজন তৈরির উদ্যোগ নয়। ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোকেও এতে যুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    ইরানের সঙ্গে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সীমান্ত থাকায় দুই দেশই যুদ্ধের বিস্তার ঠেকাতে আগ্রহী। অন্যদিকে, ইরান ও তার মিত্রদের হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরব নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে।

    চুক্তির বিষয়ে তেহরান অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির সদস্য ইব্রাহিম রেজায়ি বলেন, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে কাগুজে চুক্তি সৌদি আরবকে নিরাপত্তা দেবে না; যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দীর্ঘদিনের একতরফা নির্ভরতাও সৌদিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি।

    বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই চুক্তি ইরানের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা—সৌদি আরবে বড় ধরনের হামলা হলে সংঘাত আরো বিস্তৃত হয়ে তুরস্ক ও পাকিস্তানকেও যুদ্ধে টেনে আনতে পারে।

  • তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই

    তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই

    তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি অনুসারে, এই প্রতিরক্ষা চুক্তির লক্ষ্য হলো একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে এই অঞ্চলে ও এর বাইরে শান্তি, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতার প্রসার ঘটানো।

    এর আগে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল যে, সৌদি আরবে তিন দেশের নেতাদের দ্বারা এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ও সৌদি আরব পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে। চলতি বছরের এপ্রিলে ওই চুক্তির আওতায় পাকিস্তান সৌদি আরবে যুদ্ধবিমান ও সামরিক সদস্য মোতায়েন করে। দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান সৌদি আরবকে সামরিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে, আর অর্থনৈতিক সংকটে সৌদি আরবও বারবার পাকিস্তানকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে।

  • খুনোখুনি আমার পছন্দ না তাই ইরানের সঙ্গে চুক্তি চাই: ট্রাম্প

    খুনোখুনি আমার পছন্দ না তাই ইরানের সঙ্গে চুক্তি চাই: ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাতের চেয়ে কূটনৈতিক সমঝোতা বা চুক্তির মাধ্যমেই সংকট সমাধান করতে চান তিনি। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা বলেন।

    পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান উত্তেজনা, সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ এবং আসন্ন আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান যে তিনি মানুষ হত্যা করতে চান না, বরং একটি চুক্তিতে পৌঁছানোকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ মধ্যস্থতায় আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে যুদ্ধ হলে তা ইরানের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনত। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং খোদ ইরানের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করার পর এবং একটি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

    হরমুজ প্রণালির পূর্ণাঙ্গ উন্মুক্তকরণ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিরস্ত্রীকরণের অগ্রগতির সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়গুলোকে যুক্ত করেছেন ট্রাম্প। তিনি আলোচনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেননি, তবে প্রয়োজন সাপেক্ষে যেকোনো সময় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতিও যে যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে, সে কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

    আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হরমোজ প্রণালির ওপর চলা নিষেধাজ্ঞা দূর করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই ট্রাম্পের এই বক্তব্য এল।

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি বয়কট করে সভাকক্ষ ছাড়লো ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি বয়কট করে সভাকক্ষ ছাড়লো ইরান

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে নতুন করে তীব্র হুমকি দেওয়ার পর সুইজারল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা বয়কট করে সভাকক্ষ থেকে বের হয়ে গেছে ইরানের প্রতিনিধি দল।

    মঙ্গলবার (২৩ জুন) ইরানের প্রধান আলোচক ও দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আনুষ্ঠানিকভাবে এই আলোচনা বর্জনের কথা নিশ্চিত করেছেন।

    নিজের দেশের অবস্থান পরিষ্কার করে গালিবাফ বলেন, ‘আমাদের নির্দিষ্ট কিছু মূলনীতি রয়েছে এবং এ পর্যন্ত আমরা কখনোই আমেরিকানদের সঙ্গে একই টেবিলে বসে সরাসরি সংলাপে অংশ নিতে চাইনি।’ মধ্যস্থতাকারীদের বিশেষ অনুরোধে ইরান কেবল পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নিতে রাজি হয়েছিল।

    গালিবাফ বলেন যে, ‘আলোচনার মাঝপথে আমি জানতে পারি যে ট্রাম্প আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, আমাদের এই প্রতিনিধি দল এবং একই সঙ্গে ইরানের মূল ভূখণ্ডে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর তীব্র হুমকি দিয়েছেন।’ এই খবর পাওয়ার পরপরই তিনি মার্কিন প্রতিনিধি দলের প্রধান ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানান।

    ইরানি স্পিকার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টকে স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেন যে ট্রাম্পের এই ধরনের কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির শর্তগুলোকে সরাসরি লঙ্ঘন করে।

    তিনি জেডি ভ্যান্সকে উদ্দেশ্য করে সভাকক্ষে বলেন যে, ‘আমি ভ্যান্সকে বলেছিলাম যে আমরা এখানে আলোচনার টেবিলে বসে আছি এবং আমাদের স্বাক্ষরিত সমঝোতার প্রথম ধারা অনুযায়ী যেকোনো পক্ষকে হুমকি দেওয়া বা সামরিক বলপ্রয়োগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু আপনাদের প্রেসিডেন্ট আজকেই নতুন করে আমাদের হুমকি দিয়েছেন।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, ‘আপনাদের জেনে রাখা উচিত যে ইরান কখনোই কোনো ধরনের হুমকি বা চাপের মুখে নতি স্বীকার করে আলোচনা পরিচালনা করে না।’

    এই ঘটনার পরপরই ইরানের সম্পূর্ণ প্রতিনিধি দল তাৎক্ষণিকভাবে বৈঠকটি সমাপ্ত ঘোষণা করে আলোচনার টেবিল থেকে একযোগে উঠে দাঁড়ায় এবং সভাকক্ষ ত্যাগ করে। গালিবাফ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, ‘আমরা আলোচনা শেষ করে বৈঠক থেকে বের হয়ে এসেছি এবং সেখানে আর কখনোই ফিরে যাইনি।’ পরবর্তীতে মার্কিন প্রতিনিধি দল মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে আরেকটি জরুরি বৈঠক বসার জন্য জোরালো আকুতি জানালেও তেহরান ওয়াশিংটনের সেই প্রস্তাবটি সরাসরি নাকচ করে দেয়।

    আমেরিকার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর কাতার ও পাকিস্তানের বিশেষ মধ্যস্থতাকারীরা ইরানি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তাদের নিজস্ব আবাসে এসে দেখা করেন। ইরানি স্পিকার মধ্যস্থতাকারীদের সাফ জানিয়ে দেন যে, ‘কাতারি ও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা আমাদের কাছে এসেছিলেন এবং আমরা তাদের বলেছি যে আমরা কেবল আপনাদের সঙ্গেই কথা বলব, তবে আমেরিকানদের সঙ্গে আমরা আর কোনো ধরনের সংলাপে বসব না।’

    পরবর্তীতে দুই দেশের মধ্যকার এই অচলাবস্থা নিরসনে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা দীর্ঘ ৮০ মিনিট যাবত ইরানের সঙ্গে এক নিবিড় আলোচনা পরিচালনা করেন এবং সবশেষে একটি যৌথ কূটনৈতিক বিবৃতি প্রকাশ করেন।

    এ ছাড়া মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যরাতে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি উল্লেখ করে এক চরম হুমকি দিয়ে বসেন। তিনি বলেন যে ইরান যদি নতুন করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার কোনো চেষ্টা চালায় তবে পৃথিবীর বুকে ইরানের অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়বে।

    তিনি অত্যন্ত আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করে বলেন যে, ‘আপনারা আর নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগটুকুও পাবেন না এবং প্রয়োজনে আমরা নিজেরাই পুরো হরমুজ প্রণালির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আমাদের নিজেদের হাতে তুলে নেব।’ ওই একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার নিয়ে কথা বলা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকেও উদ্দেশ্য করে বলেন যে, ‘তার নিজের মুখ সামলে কথা বলা উচিত এবং তিনি যদি সোজা না হন তবে আমরা পুরো দেশের বাকি অংশও আমাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেব।’

    উল্লেখ্য যে দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর গত ১৪ জুন পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি বিশেষ ১৪ দফার শান্তি সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল। পরবর্তীতে গত ১৮ জুন ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ বা এমওইউ-টি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়।

    এই চুক্তির প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে ছিল লেবানন যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর আমেরিকার আরোপিত দীর্ঘদিনের নৌ অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়া।

  • দুবাইয়ে আটকে থাকা ৬ হাজার কোটি টাকা পাচ্ছে ইরান

    দুবাইয়ে আটকে থাকা ৬ হাজার কোটি টাকা পাচ্ছে ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি প্রাথমিক চুক্তির অংশ হিসেবে কাতারে আটকে থাকা ছয় বিলিয়ন ডলার ফেরত পাচ্ছে ইরান। আজ রোববার পাকিস্তানের স্থানীয় পত্রিকা দ্য ডন এই খবর জানিয়েছে।

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, সমঝোতা স্মারকের সব শর্ত তাদের পক্ষেই গেছে। এই আলোচনা ও সমঝোতার বড় সাফল্য খুব দ্রুতই সবার সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

    প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সাম্প্রতিক বক্তৃতায় ইরানকে যে বিষয়গুলো করতে নিষেধ করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেগুলোকে ইরানি জনগণের অধিকার হিসেবেই স্বীকৃতি দিয়েছেন।

    তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান, কাতারে থাকা তাদের ছয় বিলিয়ন ডলার অবশ্যই ফেরত আসছে। এই চুক্তি নিয়ে সুইজারল্যান্ডে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে খোঁচা দিতেও ছাড়েননি তিনি।

    পেজেশকিয়ান বলেন, এই আলোচনায় যদি কেউ সবচেয়ে বেশি অসন্তুষ্ট হয়ে থাকেন, তবে তিনি হলেন নেতানিয়াহু।

    যুক্তরাষ্ট্রের মূল দাবি ছিল, ইরান যেন পারমাণবিক বোমা তৈরি না করে। এই প্রসঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট তাদের শহীদ নেতার দেয়া কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আমাদের শহীদ নেতাই বারবার বলে গেছেন যে আমরা পারমাণবিক বোমা চাই না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুধু বলেছিল এটি লিখে দিয়ে সই করতে, আর আমরা তাতে সই করেছি।