ট্যাগ চীন

  • চীনের সঙ্গে স্বাস্থ্য সহযোগিতা আরও জোরদারে গুরুত্ব দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    চীনের সঙ্গে স্বাস্থ্য সহযোগিতা আরও জোরদারে গুরুত্ব দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা আরও জোরদারে চিকিৎসক প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যকর্মী বিনিময়, যৌথ গবেষণা এবং উন্নত স্বাস্থ্য প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।

    এ সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে দুই দেশের স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) চীনের হাইনান প্রদেশের হাইকো সিটিতে হাইনান জেনারেল পিপলস হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় তিনি এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন। এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী চীনের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ এবং আধুনিক ও মানসম্মত হাসপাতাল নির্মাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার চীনা বিনিয়োগকারী ও স্বাস্থ্য খাতের যৌথ প্রকল্পে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেবে।

    বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসাসেবা সহজ করতে হাইনান জেনারেল পিপলস হাসপাতালে বিশেষ চিকিৎসা সুবিধা ও ছাড় দেওয়ারও অনুরোধ জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি রোগীদের জন্য বিশেষ গ্রিন মেডিক্যাল চ্যানেল এবং চিকিৎসায় বিশেষ ছাড় চালুর বিষয়ে সম্মতি জানায়। হাসপাতালের প্রেসিডেন্ট ঝাং জুন বাংলাদেশি পক্ষের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে জনবল প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যশিল্পের উন্নয়নে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

  • চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ

    চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চীনে বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ বাড়ানো এবং দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে চীন-বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

    বুধবার চীনের গুয়াংজুতে ‘চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা সহযোগিতা মধ্যাহ্নভোজ’ অনুষ্ঠানে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে চীনের আনহুই নরমাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট, জিয়াংসি সাইন্স এন্ড টেকনোলজি নর্মাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্টসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

  • চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক শুরু

    চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক শুরু

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন। শুক্রবার চীনের স্থানীয় সময় সকাল ১০ টায় বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ বৈঠকটি শুরু হয়।

    এর আগে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে চীনের ঐতিহাসিক তিয়েনআনমেন স্কয়ারে অবস্থিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে দেশটির বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়।

    পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে চীনের বিপ্লবী বীরদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ।

    চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে বেইজিংয়ে অবস্থান করছেন।

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ জুন মালয়েশিয়া সফরের মধ্য দিয়ে তাঁর প্রথম সরকারি বিদেশ সফর শুরু করেন। পরে তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সামার দাভোস ২০২৬-এ অংশ নিতে চীনের দালিয়ান শহরে যান। সেখানে দুই দিন বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পর বুধবার বিকেলে বেইজিং পৌঁছান।

    বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। বৈঠকটি গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

    একই দিনে বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) মধ্যে বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়া চীনের পানি সম্পদমন্ত্রী লি গোয়িং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

    সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি বিনিয়োগ সম্মেলনে বক্তব্য দেন, যা যৌথভাবে আয়োজন করে চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রোমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। তিনি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিংয়ের সঙ্গেও দলীয় পর্যায়ে বৈঠক করেন।

    চীনে অবস্থানকালে বিভিন্ন বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর শীর্ষ নির্বাহী, চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সি, চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দেশের উন্নয়নযাত্রায় আরও কার্যকর অবদান রাখার বিষয়ে আলোচনা করেন।

    বেইজিংয়ে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনাসহ সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অভ্যর্থনা জানানো হয়। মালয়েশিয়া সফর ও সামার দাভোসে অংশগ্রহণের মতো এই সফরেও তিনি মাত্র ২৫ সদস্যের একটি ছোট প্রতিনিধিদল নিয়ে সফর করছেন, যার মধ্যে ১১ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা রয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা আজ বিকেল ৫টায় বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

  • বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে চার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

    বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে চার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের উপস্থিতিতে চীনের সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি ও চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি)-এর প্রধানদের সঙ্গে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সমঝোতা স্মারকগুলোতে স্বাক্ষর করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

    স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলোর আওতায় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সংবাদ ও তথ্য বিনিময়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, গণমাধ্যম খাতে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব, গ্লোবাল সাউথভুক্ত গণমাধ্যম বিষয়ে যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সম্প্রচার ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।

    এ সমঝোতা স্মারকগুলো দুদেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় করবে এবং গণমাধ্যম ও তথ্য খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    উল্লেখ, প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্ত হতে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন গত ২৩ জুন চীনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।

    প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে প্রতিনিধি দলসহ দেশে ফিরবেন।

  • ইরান-লেবাননকে সহায়তা দেবে চীন

    ইরান-লেবাননকে সহায়তা দেবে চীন

    যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে ইরান ও লেবাননকে সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহায়তার জন্য বেইজিং মানবিক সহায়তা দেবে।

    চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান রাজধানী বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইরান ও লেবাননের যুদ্ধে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ে চীন গভীরভাবে মর্মাহত।’

    তিনি বলেন, “সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চীন ইরান ও লেবাননকে মানবিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে দেশ দুটির জনগণকে পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহায়তা করার পাশাপাশি অর্থনীতি ও জীবিকার উন্নয়নে সহযোগিতা করা হবে।”

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর এটি দ্বিতীয়বারের মতো তেহরানকে সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিল বেইজিং। এর আগে মার্চ মাসেও চীন ইরানের জন্য মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছিল।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সম্মত হয়েছে। এ চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে বলে জানা গেছে।

    চীনের এই সহায়তা ঘোষণাকে যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় দেশটির সক্রিয় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • চিকেনস নেক ঘিরে ভারতের উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক

    চিকেনস নেক ঘিরে ভারতের উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক

    রাশিদুল ইসলাম : ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তঃবাহিনী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় স্টেট সাবসিডিয়ারি মাল্টি এজেন্সি সেন্টারের (এসএমএসি-এর রাজ্য শাখা) ব্যানারে, যেখানে ভারতের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- ভারতীয় সেনাবাহিনী, আর্মি ইন্টেলিজেন্স, ভারতীয় বিমানবাহিনী (আইএএফ), বিএসএফ, এসএসবি, সিআইএসএফ, আইটিবিপি, আরপিএফ, জিআরপি, রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখা, কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য স্তরের একাধিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল- চিকেনস নেক অঞ্চলের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, সীমান্ত নজরদারি, অবৈধ অনুপ্রবেশ, সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণ এবং আন্তঃসংস্থাগত গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করা।

    দিল্লির বিস্ফোরণ ও আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বৈঠকের তাৎপর্য : ভারতের সংবাদমাধ্যম ইটিভি ভারতের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লির লাল কেল্লার নিকটে গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনার পর উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই করিডোর অঞ্চল নতুন করে নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণে চলে এসেছে। পাশাপাশি, প্রতিবেশী দেশগুলো- বিশেষ করে বাংলাদেশ ও নেপালে রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহ, এবং ভুটান-চীন সীমান্ত পরিস্থিতির সংশ্লিষ্টতা এই বৈঠককে নতুন গুরুত্ব দিয়েছে।

    যদিও শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সি সুধাকর এই বৈঠককে ‘রুটিন’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠকের বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলা সম্ভব নয়- এটি আমাদের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ।’ তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই বৈঠক প্রতীকীভাবে রুটিনের চেয়েও অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।

    রেল, সড়ক ও বিমান নিরাপত্তায় বিশেষ সতর্কতা : বৈঠক শেষে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে : বাগডোগরা বিমানবন্দরে নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে যাত্রী তথ্য যাচাই ও আচরণগত স্ক্রিনিং শুরু করা হয়েছে; এনজেপি, শিলিগুড়ি জংশন, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার স্টেশনে বিশেষ নজরদারি শুরু হয়েছে; রাজধানী এক্সপ্রেস ও বন্দে ভারতসহ গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনগুলোতে সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে এবং জাতীয় মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়েতে অতিরিক্ত পুলিশ টহল শুরু করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ-নেপাল-ভুটান সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি : ভারত সরকার একইসাথে তিনটি সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- ভারত-নেপাল সীমান্ত, ভারত-ভুটান সীমান্ত ও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। বিশেষভাবে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে স্বয়ংক্রিয় নম্বর প্লেট রিডার (এএনপিআর) মেশিন স্থাপন কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে, যা সীমান্ত দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের তথ্য রিয়েল টাইমে সংগ্রহে সহায়তা করবে।

    রাফাল বিমান ও আধুনিক যুদ্ধসজ্জার বার্তা : বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, চিকেনস নেক-সংলগ্ন বিমান ঘাঁটিতে রাফাল যুদ্ধবিমানসহ অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ও নজরদারি ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটা শুধু অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং একটি স্পষ্ট ভূরাজনৈতিক প্রতীকী বার্তা-বিশেষ করে চীন ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর প্রতি।

    চিকেনস নেক কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ : চিকেনস নেক বা শিলিগুড়ি করিডোর মাত্র ২২ কিলোমিটার চওড়া একটি ভূখণ্ড, যা উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্যকে মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করে। এই সঙ্কীর্ণ করিডোরের চারপাশে রয়েছে- পশ্চিমে নেপাল, দক্ষিণে বাংলাদেশ এবং উত্তরে ভুটান ও চীন সীমান্ত। ফলে, এই একটি করিডোরের নিয়ন্ত্রণ বা নিরাপত্তা ভারতের জাতীয় সংহতি ও সামরিক নিরাপত্তার জন্য জীবনরক্ষাকারী ধমনীস্বরূপ।

    বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভারতীয় উদ্বেগ : বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠকের পেছনে একটি বড় অপ্রকাশ্য প্রেক্ষাপট রয়েছে- বাংলাদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানবতা বিরোধি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড বিষয়ক ঘোষণা, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের উত্তাপ এবং সীমান্তসংলগ্ন অঞ্চলে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা। এসব বিষয় ভারতের দৃষ্টিতে চিকেনস নেক অঞ্চলের নিরাপত্তাকে আরো স্পর্শকাতর করে তুলেছে।

    নিছক রুটিন, নাকি কৌশলগত প্রস্তুতি : সরকারি ভাষ্যে এটি ‘রুটিন বৈঠক’ হলেও বাস্তবতা ভিন্ন বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা ও ভূরাজনীতি বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এটি দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন নিরাপত্তা ভারসাম্যের প্রস্তুতি, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে ভারতের কৌশলগত বার্তা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভবিষ্যৎ সামরিক প্রস্তুতির রূপরেখা হতে পারে।

    ভূরাজনীতিবিদদের মতে- চিকেনস নেক এখন কেবল একটি ভূগোল নয়- এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ শক্তি-সমীকরণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

    ভারত চিকেন নেককে বাংলাদেশের ভূখণ্ড দখলে নিয়ে গণ্ডারের ঘাড়ে পরিণত করতে চায় : ড. শাহীদুজ্জামান

    আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক এম শাহীদুজ্জামান বলেন, এটা স্পষ্ট যে চিকেনস নেক এখন আঞ্চলিক উত্তেজনা ও দক্ষিণ এশীয় ভূরাজনীতিতে নতুন বার্তা দিতে শুরু করেছে। লালমনিরহাটে বাংলাদেশে যে বিমানঘাঁটি উন্নয়ন করছে, মিলিটারি কনস্ট্রাকশন হচ্ছে, হ্যাঙ্গার তৈরি হচ্ছে, চীন কিংবা পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবিমান ক্রয়ের পর সেখানে মোতায়েনের কথা শোনা যাচ্ছে, নিশ্চিতভাবে বলা যায় লালমনিরহাট এখন বড় ধরনের সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত হচ্ছে। চীন সেখানে ইনভলভড হবে কিন্তু এটা ভারত কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। ভারতের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন, যেটাকে ওরা চিকেন নেক বলে যা ২২ কিলোমিটার চওড়া সেটাকে তারা গণ্ডারের ঘাড় বা রাইনো নেকে পরিণত করতে চায়। ভারত আন্তর্জাতিক রীতিনীতি উপেক্ষা করে বাংলাদেশের রংপুরের ভূখণ্ডের বেশ কিছুটা ভেতরে ঢুকে যেতে চাচ্ছে। চিকেন নেকের ২২ কিলোমিটার অংশকে তারা কমপক্ষে ৫০ কিলোমিটারে বর্ধিত করতে চায়। সেখানে যে ভারত কৌশলগতভাবে তিনটি গ্যারিসন স্থাপন করেছে, সেনা মোতায়েন করেছে এসব পরিকল্পনা মাথায় রেখেই। তারা সমর বিন্যাস এমনভাবে করছে, সেনা মোতায়েন এমনভাবে করছে যে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যেন চিকেন নেক দখলে নিয়ে নিতে পারে। চীনভীতি ও বাংলাদেশের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ বাড়াতেই ভারত এসব করছে।

    এম শাহীদুজ্জামান বলেন, ভারতের আভাস থেকে সুস্পষ্ট যে চিকেন নেক দখল বা সেখানকার পরিধি বাড়াতে তারা বাংলাদেশের ভূমি প্রয়োজনে দখলে নেবে। এ কারণেই তিনটি গ্যারিসনে সেনা মোতায়েন করছে তারা। ভারত যদি চূড়ান্তভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইনসহ অন্যান্য আইন ভাঙতে চায় তাহলে তারা সেটাই করবে। স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশের ওপর ভারত চাপ সৃষ্টি করছে বলে আমরা মনে করছি। কিন্তু ভারত যদি তা করতে চায় তাহলে বাংলাদেশে আঘাত করেই চিকেন নেকের সম্প্রসারণ ঘটাবে। ভারত বাংলাদেশের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করছে লালমনিরহাট বিমানবন্দর উন্নয়নকাজ বন্ধ করার জন্যই।

    চীনভীতি থেকে এই তৎপরতা

    ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) রোকন উদ্দিন বলেন, ভারত চিকেন নেকের আশেপাশে যে তিনটি সেনাঘাঁটি করেছে বা সম্প্রতি বিষয়টি একাধিক নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করছে, মূলত দেশটি এসব করছে চীনভীতি থেকে। চীন যেকোনো সময় চিকেন নেকের আশেপাশে এলাকা দখল করে নিতে পারে এমন ভীতি কাজ করছে ভারতের মধ্যে। এ কারণেই চিকেন নেক ঘিরে তাদের সামরিক ও বেসামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপের অংশ হিসেবেও ভারত এ ধরনের আচরণ করছে। যেমন- লালমনিরহাটের উল্টা পাশে ভারত রাফায়েল বিমান ও সেনা মোতায়েন করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে।

    তিনি বলেন, চীনের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব শক্তিশালী হচ্ছে এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ছে। পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নত হচ্ছে। তিব্বত সীমান্তে ভারতের সাথে চীনের বৈরিতা দীর্ঘদিনের। এ ছাড়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারত পুশইন করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ভারত উসকানি দেয়ায় তারা ফের তৎপর হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবেই ভারত এসব করছে। বিশেষ করে কেএনএফকে ভারত টোপ দিয়ে ও দীর্ঘদিন থেকে সন্তু লারমার সমর্থিত গোষ্ঠীকে ভারত পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থিতিশীল করে তোলার জন্য ব্যবহার করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের এ সময়ে ভারতের এ ধরনের অপতৎপরতা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশে যেকোনো সরকারই আসুক ভারত সে সরকারকে চাপে রাখতে চায় বলে পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি প্রেশার পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করছে। ( সুত্র : নয়াদিগন্ত)