ট্যাগ চিফ প্রসিকিউটর

  • শেখ হাসিনার আর আপিলের সুযোগ নেই, জানালেন চিফ প্রসিকিউটর

    শেখ হাসিনার আর আপিলের সুযোগ নেই, জানালেন চিফ প্রসিকিউটর

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের আর সুযোগ নেই ক্ষমতাচ্যুৎ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। আজ সোমবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানালেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমাদের আইনের সেকশন ২১ এর ৩ এ পরিষ্কার করে বলা হয়েছে, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করতে হবে। যদি ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করা না যায়, তাহলে পরবর্তীতে আর কোনো আপিল গ্রহণযোগ্য হবে না। সেটা যে কারো আপিলই হোক। সেটা হোক শেখ হাসিনার, সেটা হোক মাওলানা আবুল কালাম আযাদের।’

    তিনি বলেন, ‘যেকোনো পলাতক আসামি অথবা যারা জেলে আছে, তাকে অবশ্যই আপিল ফাইল করতে হবে ৩০ দিনের মধ্যে। কেউ যদি কেউ পলাতক কিংবা অন্য যেকোনো কারণে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল ফাইল না করেন, তাহলে ওই আসামির পক্ষে আর আপিল দায়েরের সুযোগ থাকবে না।’

    ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আযাদ দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে আপিল দায়ের করেছেন। তার দায়ের করা আপিল আবেদনের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানি শুরু হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘সরকার ইতোমধ্যে তার রায় স্থগিত ঘোষণা করেছে। রায় স্থগিত থাকা অবস্থায় রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে কি না এবং দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার এত বছর পর আপিল করা যাবে কি না, এসব পয়েন্টে আমরা শুনানি করব।’

    তিনি জানান, রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা মূল আপিলের ওপর এখনো শুনানি শুরু হয়নি। বরং আযাদের আপিল গ্রহণযোগ্য কি না তার ওপর শুনানি চলছে।

    ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি পলাতক অবস্থায় আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪১ বছর পর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটিই ছিল প্রথম রায়।

    বেসরকারি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে ইসলাম ধর্মবিষয়ক অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

    দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। এর আগে রাষ্ট্রপতি তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করেন। আত্মসমর্পণ করে আপিল করার শর্তে তার সাজা স্থগিত করা হয়েছিল।

    আবুল কালাম আযাদের পক্ষে আইনজীবী মশিউল আলম জানান, ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। পরে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল করার শর্তে তার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়।

    গত ২২ অক্টোবর এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। এরপর ২১ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তার আত্মসমর্পণ গ্রহণ করেন এবং আপিল করার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহের নির্দেশ দেন।

    আবুল কালাম আজাদ জামায়াতে ইসলামীর রোকন বা সদস্য ছিলেন। তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্যও ছিলেন। তবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তার জামায়াতের সব সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছিল।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আপিল বিভাগে যখন মাওলানা আবুল কালাম আযাদের মামলাটি শুনানি হয়, আমি প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে পরিষ্কার আইনগুলো দেখিয়েছি। ইতোমধ্যে আব্দুল কাদের মোল্লার কেসে আপিল বিভাগ বিষয়টি সেটেল করে দিয়েছেন। আপিলের ব্যাপারে যেখানে স্ট্যাটিউটরি প্রোভিশন আছে, ক্লিয়ার প্রোভিশন আছে, সেই ক্লিয়ার প্রোভিশন থাকলে সেখানে আর্টিকেল ১০৪ এর কোনো অ্যাপ্লিকেশন থাকে না।’

  • আওয়ামী লীগ আমলের ২৫১ গুমের তদন্ত শেষে এ বছরই বিচার শুরু

    আওয়ামী লীগ আমলের ২৫১ গুমের তদন্ত শেষে এ বছরই বিচার শুরু

    প্রেস ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর

    আওয়ামী লীগের শাসনামলে ২৫১ গুমের ঘটনার তদন্ত শেষে চলতি বছরেই বিচার শুরুর লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

    রোববার ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২৫১ জন যারা গুমের শিকার তাদের প্রত্যেককেই একই পদ্ধতিতে তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদেরকে তুলে নিয়ে যায়। প্রত্যেক ঘটনা প্রায় একই রকম। এই কারণে আমরা এ ঘটনাটাকে ওয়াইডস্প্রেড এবং সিস্টেমেটিক অপরাধ হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়েছে আমরা মনে করি। আজকে ৫৫ গুম পরিবারের সদস্যরা এখানে এসেছেন, তাদের জবানবন্দি নিচ্ছেন আমাদের তদন্ত সংস্থার ১৮ জন তদন্ত কর্মকর্তা। এভাবেই ক্রমান্বয়ে সব পরিবারের সদস্যদের জবানবন্দি নেওয়া হবে। তাদের কাছে থাকা যাবতীয় নথিপত্র জব্দ করা হবে।

    আমিনুল বলেন, আমরা অপরাধীদেরকে অনেকাংশে চিহ্নিত করতে পেরেছি। কারা কীভাবে তাদেরকে তুলে নিয়ে গেছিল এবং সেই জায়গাগুলো অলমোস্ট আমরা চিহ্নিত করতে পেরেছি। তবে তদন্তের স্বার্থেই পুরোটাই ডিসক্লোজ করতে চাই না। অন্য মামলায় গ্রেপ্তার যারা আছে তাদের মধ্যে কেউ কেউ জড়িত থাকতে পারে। কর্মরত আছেন এমন কেউ কেউ থাকতে পারে। অলরেডি রিটায়ারমেন্টে গেছেন এরকম কেউ কেউ থাকতে পারে। আমরা এই পর্যায়ে ইনভেস্টিগেশনটা দ্রুততার সঙ্গে শেষ করে চলতি বছরের মধ্যে বিচার শুরু লক্ষ্যে নিয়েই কাজ করছি।

    তিনি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সিকিউরিটি বৃদ্ধির জন্য, এমনকি যে সব আসামিদের আমরা চিহ্নিত করছি, তাদের গতিবিধি লক্ষ্য রাখছি। আমাদের ট্রাইবুনালের ভিতরে-বাইরে আসামিদের আনা নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুম পরিবারের কোন সদস্য যারা সাক্ষ্য দিচ্ছেন বা দিবেন তাদের যাতে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় সেই কারণে আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।

    তিনি আরো বলেন, গুম পরিবারের সদস্যরা কোনো টার্গেটের শিকার হতে পারেন এরকম শঙ্কাও রয়েছে। আমরা মনে করি অপরাধীকে বন্ধু মনে করার কোনো কারণ নাই, তারা তাদের মত করে কিন্তু যেকোনো সময় আমাদেরকে ছোবল মারতে পারে। একইভাবে আমাদের ভিকটিম পরিবার যারা আছে তাদেরকেও আমরা নিজেদেরকে সতর্ক থাকতে বলছি, বিশেষ করে আমাদের এই ইনভেস্টিগেশনটা যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয়, কোনোভাবে যাতে কোনো সেবোটাইজ করে যাতে আমাদের এই ইনভেস্টিগেশনের কার্যক্রমে কোনো ধরনের কোনো বাধা সৃষ্টি করতে না পারে।

    গুমের শিকার পরিবারের সংগঠন ‘মায়ের ডাকের’

    পক্ষ থেকে ২৫১ জন গুমের অভিযোগ দেওয়া হয় ট্রাইব্যুনালে। সংগঠনের তুলির নেতৃত্ব আজ গুম পরিবারের ৫৫ জন ট্রাইব্যুনালে আসেন। তাদের জবানবন্দি নিচ্ছেন ১৮ জন তদন্ত কর্মকর্তা।

  • দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর

    দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর

    দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটরচিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

    মানবতাবিরোধী অপরাধসহ নানা অপকর্মে বারবার আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নাম আসায় দলটির বিচারের জন্য তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, অপরাধ প্রমাণিত হলে দল নিষিদ্ধ ও তাদের সব সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হওয়ার বিধান রয়েছে।

    তদন্তে আওয়ামী লীগের শরিক ১৪ দলের বিষয়ে প্রতিবেদন এলে তাদের বিচারের জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

    আজ রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আমিনুল ইসলাম।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, দলের বিচার ও দল নিষিদ্ধ করার যে প্রক্রিয়া, সে আইনগুলো আওয়ামী লীগই প্রণয়ন করেছে। সংবিধান সংযোজন করেছে। আওয়ামী লীগ ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত স্বৈরশাসন কায়েমের জন্য সার্বিক সহযোগিতা করেছে। তখন গণতন্ত্র হরণ করা হয়েছিল। নির্বিচারে মানুষ হত্যা করাসহ সবকিছুতেই আওয়ামী লীগ দোসর হিসেবে কাজ করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে লগি-বইঠা ব্যবহার করে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। তখন দল হিসেবে এই সংগঠন নির্বিচারে মানুষের জানমাল হরণ করেছে।

    চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, একইভাবে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশে ফ্যাসিজম কায়েম করেছিল। সেই ফ্যাসিজমের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড—সবকিছু আওয়ামী লীগ কেড়ে নিয়েছিল।

    আমিনুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে গিয়ে বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। গত ১৬ বছর মানুষের কোনো স্বাভাবিক জীবনব্যবস্থা, রাজনৈতিক ব্যবস্থা ছিল না। যে তিনটি নির্বাচন হয়েছে, সেগুলোর কোনোটি রাতে, কোনোটি একদলীয়, কোনোটি আমি-ডামির নির্বাচন ছিল। তারা সরকারে থেকে নানা বাহিনী দিয়ে মানুষের জানমালের ক্ষতি করেছে। জুলাই আন্দোলনে নির্বিচারে ছাত্র-জনতার ওপর বিভিন্ন বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে সাংগঠনিকভাবে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মূল দল জনগণের জানমালের ওপর আক্রমণ করে হতাহতের ঘটনা ঘটিয়েছে। আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নানা অপরাধ সংঘটন করেছে।

    চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন আওয়ামী লীগ প্রণয়ন করেছিল। এই দুটি আইনেই তাদের বিচারের ব্যবস্থা আছে। ট্রাইব্যুনালে একটি লিখিত অভিযোগ ছিল। তা তদন্ত সংস্থায় পাঠানোর পর তদন্ত চলছে। তদন্তের পরে যদি সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়া যায়, তখন প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে।

    আওয়ামী লীগের শরিক দলগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম বলেন, অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতা থাকলে নিশ্চয়ই সেটা রিপোর্টে আসবে। তখন তাদেরও বিচার করা সম্ভব হবে।

    সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার কথা জানিয়েছেন, ফিরলে তিনি আপিল করতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘রায় ঘোষণার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আপিলের বিধান আছে। ইতিমধ্যে তাঁর সে সময়, সেটি পার হয়ে গেছে। এখন তিনি যদি আসেন এবং যদি কোনো আইনগত পদক্ষেপ নিতে চান, তখনকার অবস্থা কী হয়, সেটা তখনই বোঝা যাবে। তবে আমরা চাই, তিনি দেশে আসুন। তাঁর (শেখ হাসিনা) বিরুদ্ধে যে দণ্ড আছে, তিনি সেটা চ্যালেঞ্জ করুক।’