চট্রগ্রাম

  • বেড খালি নেই চট্টগ্রামের হাসপাতালে, ক্রাশ প্রোগ্রামেও মরছে না মশা

    বেড খালি নেই চট্টগ্রামের হাসপাতালে, ক্রাশ প্রোগ্রামেও মরছে না মশা

    ডেঙ্গু জ্বরে কাঁপছে চট্টগ্রাম নগরী। সরকারি-বেসরকারি কোনো হাসপাতালে রোগীর জন্য বেড খালি নেই। শত চেষ্টা করেও হাসপাতালের বারান্দা কিংবা ভেতরে বেড মিলছে না। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ঘরেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর অনেকে জ্বরের যন্ত্রণায় আইসিইউতে কাতরাচ্ছেন। কয়েক দিনের যুদ্ধ শেষে জীবনের কাছে হার মানতে হচ্ছে জ্বরে আক্রান্তদের। মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়লেও মশার উপদ্রব কমাতে ব্যর্থ হচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও জেলার উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদগুলো।

    বর্তমানে আক্রান্তের দিক থেকে শহর এলাকা গ্রামকে ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিদিনই মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে শিশু, যুবক থেকে শুরু করে বৃদ্ধদের নামও। এ অবস্থায় ডেঙ্গু নিধনে চসিক ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের ওপর আস্থা তলানিতে ঠেকেছে। চসিকের দেওয়া ওষুধের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

    নগরবাসীর অভিযোগ, চসিক ক্রাশ প্রোগ্রাম চললেও ৪১টি ওয়ার্ডে নিয়মিত ফগিং ও স্প্রে করা হচ্ছে না। তা ছাড়া ওষুধ প্রয়োগের চেয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় জোর দেওয়া উচিত। অথচ চসিক তা করছে না। সংস্থাটির ব্যবহৃত বিটিআই ওষুধ মশা নিধনে আদৌ কাজে আসছে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা।

    সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ডেঙ্গু ওয়ার্ডগুলোয় কোনো বেড খালি নেই। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০৪ জনসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলিয়ে ২৩১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। নতুন করে রোগী ভর্তি করতে নারাজ সব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আক্রান্ত রোগীদের বেশির ভাগ বাসাবাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রতিদিন ভিড় বাড়ছে।

    চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে ইশতিয়াক আহমেদ মেহেরাজ বলেন, বহু কষ্টে সন্তানের জন্য একটি বেড পেয়েছি। ২০ দিন ধরে আমার চার বছর বয়সি সন্তানের গায়ে জ্বর কমছেই না। অথচ কোনো ভাইরাসই ধরা পড়ছে না। উদ্বেগের মধ্যে আছি। তিনি বলেন, নগরীর হালিশহর ডেঙ্গুর হটস্পট। অথচ সেখানে তেমন কোনো ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না। চসিকের কর্মীদের অবহেলা অথবা ওষুধ প্রয়োগে অদক্ষতার কারণে মশা মরছে না বলে মনে করেন তিনি।

    আকবরশাহ এলাকার বাসিন্দা হোসনে আরা বেগম বলেন, আমার পুত্রবধূ আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে দুবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। হাসপাতালে কোনো বেড পেলেও সেখানে চিকিৎসা নেই বললেই চলে। চসিকের কোনো লোকজনকে মশার ওষুধ দিতে দেখিনি। তিন মাস আগে একবার এলেও তাদের মতো করে ফগিং করে চলে যান। এতে মশার আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে না।

    দুই নম্বর গেটের বাসিন্দা রেজাউল রাজু বলেন, সন্ধ্যা হলেই মশার উপদ্রব বাড়ে। কাজ থেকে ফিরে মশা মারতে নানা আয়োজন করতে হয় স্বামী-স্ত্রীকে। অথচ সিটি করপোরেশনের তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। তার অভিযোগ, ক্রাশ প্রোগ্রামের নামে লোকদেখানো প্রচার চলছে। ওষুধ কাজ করে কি না, তা নিয়ে আমার সন্দেহ।

    এদিকে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু কেড়ে নিচ্ছে অনেক প্রাণ। চলতি মাসে চট্টগ্রামে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার নগরীর বেসরকারি সাজিনাস হাসপাতাল থেকে মুচলেকা দিয়ে ছাড়পত্র নিয়ে নেন মনি আক্তার নামে এক নারী। ফেরার পথেই তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার আট বছর বয়সি ছেলে আবু জাহেদও হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন ডেঙ্গু জ্বরে।

    আবু জাহেদের বাবা আল আমিন জানান, স্ত্রী হারানোর আগেই ছেলে জ্বরে আক্রান্ত হন। সাজিনাস হাসপাতালে স্ত্রীকে চিকিৎসার বিল দাঁড়ায় ১ লাখ ২১ হাজার টাকা। ৩০ হাজার টাকা নগদ দিয়ে অবশিষ্ট টাকা বকেয়া রেখে তিনি চলে যান। সেদিনই তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়। সেই শোক এখনো কাটেনি। এখন ছেলেকে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) উদ্বেগে রয়েছেন।

    এদিকে জেলার ১৫টি উপজেলার ডেঙ্গুর পরিস্থিতিও নাজুক। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত সীতাকুণ্ডে। ওই উপজেলায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গুতে সিরাজুল মুনিরা (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। ২২ সেপ্টেম্বর কোরবান আলী রিফাত নামে ১৬ বছরের কিশোরের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে গত ১০ দিনে সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। উপদ্রব কমাতে সেই উপজেলায় তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। অন্য উপজেলায় আক্রান্ত লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

    বাসিন্দারা বলছেন, বর্তমানে পৌরসভা-ইউনিয়ন পরিষদগুলোয় কোনো কাউন্সিলর-মেম্বার ও মেয়র-চেয়ারম্যান নেই। সরকারি কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন। তারা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন। অভিযোগ দেওয়ার স্থানও তারা পাচ্ছেন না। মশার উপদ্রব বেড়েই চলছে।

    জেলা সিভিল সার্জন সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম জেলায় গত বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫৫.৯৫ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম ৯ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ২,৫১৫ জন। বিপরীতে ২০২৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৩,৯২২ জন। এর মধ্যে জেলার ১৫ উপজেলায় ১,৭১১ জন। আর চসিক এলাকায় ১,৭৭০ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আক্রান্ত বেড়েছে ১,৪০৭ জন।

    তবে শুধু সেপ্টেম্বর মাসের হিসাব ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ৯৩৫ জন। আর মৃত্যু হয়েছিল চারজনের। চলতি সেপ্টেম্বরের ২৪ দিনে আক্রান্ত ১,৭৮৬ জন এবং মারা গেছেন ১৩ জন। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আক্রান্ত ৯১.০২ শতাংশ এবং মৃত্যু ২২৫ শতাংশ বেড়েছে।

    চসিকের মশক নিধন কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহী জানান, ১৫৮টি স্প্রে মেশিন ও ৮৬টি ফগার মেশিন দিয়ে কাজ চলছে। ৬০ জনের একটি বিশেষায়িত টিমও মাঠে রয়েছে। স্প্রে ও ফগিংÑএই দুভাবে মশা নিধন করা হচ্ছে। বিটিআই ওষুধটি একটি ব্যাকটেরিয়া। সরাসরি মশার পাকস্থলীতে আক্রমণ করে। ডিসেম্বর পর্যন্ত ওষুধটি ব্যবহার করা হবে।

    এ বিষয়ে সদ্য বদলি হওয়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, আমরা নিয়মিত ক্রাশ প্রোগ্রাম চালাচ্ছি। পাঁচটি হটস্পটকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ৪১টি ওয়ার্ডে কাজ করতে গেলে কিছুটা গ্যাপ থেকে যায়। আমরা চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, বিটিআই আগের চেয়ে ভালো করছে বলেই আমরা এটি ব্যবহার করছি।

    চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. ফজলে রাব্বি বলেন, চসিকের সঙ্গে আমরা ওষুধ নিয়ে কথা বলব। নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু সিজন থাকবে। আমরা মানুষকে সচেতন করে যাচ্ছি। পাশাপাশি যৌথভাবে কাজ করছি।

    বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজেসের ক্লিনিক্যাল ট্রপিক্যাল মেডিসিনের প্রধান অধ্যাপক মামুনুর রশীদ বলেন, তিন কারণে ডেঙ্গু বাড়ছে। থেমে থেমে বৃষ্টি, বিদ্যমান তাপমাত্রা ও বাতাসে ৮০ শতাংশের ওপরে আর্দ্রতা। এটি এডিস বৃদ্ধি ও বিস্তারের জন্য সহায়ক। এতে বৃষ্টির সংস্পর্শে এডিস মশার পেড়ে রাখা ডিম তিন দিনের মধ্যে অ্যাডাল্ট হয়ে যাচ্ছে। আমাদের ধারণা নভেম্বর পর্যন্ত এটি চলবে। আর থেমে থেমে বৃষ্টি কমে গেলে আরো আগে কমে যেতে পারে।

    তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে চার ধরনের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন রোগীরা। বর্তমানে চট্টগ্রামের ডেঙ্গুর ধরন জানতে নমুনা দেশের বাইরে পাঠানো হয়েছে।

  • শিশু জুলিয়া হত্যা: আমীর হোসেন খালাস

    শিশু জুলিয়া হত্যা: আমীর হোসেন খালাস

    চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ২১ বছর পর শিশু জুলিয়া আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড থেকে আমীর হোসেন ওরফে জামালকে খালাস দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট।

    বুধবার সকালে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। আদালত বলেছে, মূল আসামিকে না ধরে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল আমীর হোসেনকে।

    এর আগে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) শিশু জুলিয়া আক্তার হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আমীর হোসেনকে ২১ বছর পর খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাকে দ্রুত কনডেমড সেল থেকে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ২০১৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি শিশু জুলিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে আমীর হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২।

    মামলার অভিযোগে জানা যায়, ২০০৫ সালের ১৬ মে হাটহাজারী উপজেলার মেখল গ্রামে ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে যায় শিশু জুলিয়া আক্তার। ওই বাড়িতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন আসামি আমীর হোসেন।

  • ফ্যাক্টচেক: চট্টগ্রামে ৩৭৪ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর এইডসের দাবি ভুয়া

    ফ্যাক্টচেক: চট্টগ্রামে ৩৭৪ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর এইডসের দাবি ভুয়া

    চট্টগ্রাম বিভাগে নতুন শনাক্ত ৪৬৮ এইচআইভি রোগীর মধ্যে ৩৭৪ জনই মাদ্রাসাশিক্ষার্থী—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে।

    ‘মহিউদ্দিন মোহাম্মদ’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে আলোচিত দাবিতে গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) একটি ফটোকার্ড শেয়ার করা হয়। পোস্টের ক্যাপশনে দাবি করা হয়, এ বিষয়ে গণসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। সেদিন একজন সংসদ সদস্য লাইভ টক শোতে জানিয়েছেন, তাঁর জেলা (নওগাঁ) সিভিল সার্জন কর্তৃক দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এইচআইভি রোগীদের প্রায় সবাই মাদ্রাসাশিক্ষার্থী।

    শেয়ার করা ফটোকার্ডটিতে আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা পর্যন্ত ২৪ হাজার ৪০০টি রিঅ্যাকশন, ৩ হাজারটি কমেন্ট ও ২ হাজার বার ৫০০ শেয়ার রয়েছে। এ ছাড়া আরও কিছু (১, ২, ৩, ৪) অ্যাকাউন্ট থেকেও একই দাবিতে ফটোকার্ডটি শেয়ার করা হয়।

    পোস্টের কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবহারকারী দাবিটিকে সত্য বলে মনে করেছেন। পোস্টের কমেন্টে একজন বলেন, ‘যেমন কর্ম তেমন ফল।’ আরও একজন বলেন, ‘এহন কিছু বললেই বলবে হাজী সাহেবের মুখ ভালো না।’ একজন আবার বলেন, ‘সর্ষের মধ্যে ভূত।’

    আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান

    প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে ‘Chittagong Mirror’, ‘www.chittagongmirror.com’ এবং ১১ সেপ্টেম্বরের তারিখ উল্লেখ রয়েছে। এসব সূত্র ধরে অনুসন্ধান করে ‘Chittagong Mirror’ নামে কোনো অ্যাকাউন্ট বা পেজের সন্ধান পাওয়া যায়নি। একইভাবে, ফটোকার্ডে উল্লেখ করা ওয়েবসাইটটিও অ্যাক্সেস করা যায়নি।

    এ ছাড়া, ফটোকার্ডটি অধিকতর যাচাই করে দেখা যায়, এতে ব্যবহৃত ছবিটি ‘ওপেনএআই’-এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি করা হয়েছে।

    প্রচারিত দাবির বিষয়ে অনুসন্ধানে জাতীয় কোনো গণমাধ্যমে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে অনুসন্ধানে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ‘চট্টগ্রামে দিন দিন বাড়ছে এইচআইভি আক্রান্ত রোগী’ শিরোনামে ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আক্রান্ত ব্যক্তিদের বড় অংশ তরুণ, সমকামী ও বিদেশফেরত। পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুও।

    ২০১৭ সালে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য চালু হওয়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এন্টি রেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, সেন্টারটিতে এখন পর্যন্ত মোট ৯৫৯ জন এইচআইভি পজিটিভ রোগী নিবন্ধিত হয়েছেন। বর্তমানে নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭২৩ জন। যার মধ্যে যৌনকর্মী নারী তিনজন, যৌনকর্মী পুরুষ ৩২ জন, তৃতীয় লিঙ্গের তিনজন, মাদকসেবী পাঁচজন, স্থানীয় দম্পতি ৯০ জন, প্রবাসী ও দম্পতি ১২৭ জন এবং সাধারণ জনগোষ্ঠীর ৩২০ জন রয়েছেন।

    এ ছাড়া, প্রতিবেদনে গত বছরের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, প্রতিবছর পরীক্ষার পরিসর বৃদ্ধির সঙ্গে সামনে আসছে নতুন রোগী। ২০২০ সালে ৫৫৮ জনকে পরীক্ষা করে ৪৪ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়। আর চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত আড়াই হাজার টেস্টে পজিটিভ হয়েছেন ৫৯ জন।

    বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোতে চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি ‘সীমান্ত জেলায় এইচআইভি সংক্রমণ বেশি, পার্বত্য চট্টগ্রামে কম কেন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে দেশে যতজন এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে সীমান্ত জেলাগুলোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় সংক্রমিত ব্যক্তি পাওয়া গেছে। বিভাগের হিসাবে ঢাকা বিভাগে শুধু গত বছর নয়, কয়েক বছর ধরেই শনাক্তের সংখ্যা বেশি। এরপরই আছে চট্টগ্রাম বিভাগ।

    গত বছর মোট আক্রান্তের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৫০ জন ছিল ঢাকা বিভাগে। এরপরই আছে চট্টগ্রাম বিভাগ। এ বিভাগে আক্রান্ত হয়েছিল ৩৭৬ জন। নতুন শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে ৫৬ শতাংশ মূলধারার জনগোষ্ঠী, ১২ শতাংশ প্রবাসী, ১১ শতাংশ রোহিঙ্গা ও অন্য অংশ সাধারণ জনগোষ্ঠীর। লিঙ্গ অনুযায়ী—পুরুষ ৮১ শতাংশ, নারী ১৮ শতাংশ ও হিজড়া এক শতাংশ। এ ছাড়া, প্রতিবেদনে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সিরিঞ্জের মাধ্যমে মাদক নেওয়া ব্যক্তি, সমকামী ও প্রবাসী কর্মীদের সংখ্যা বেশি ছিল বলে উল্লেখ করা হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের সীমান্তে অবৈধ যাতায়াত একটি বাস্তবতা বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল। তিনি বলেন, এই যাতায়াতের ফলে কেউ এটি বহন করে এলে সীমান্তে তাঁদের স্ক্রিনিংয়েরও কোনো সুযোগ থাকে না। সে ক্ষেত্রে সমস্যা বেড়ে যায়।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশের প্রায় এক-দশমাংশ এলাকাজুড়ে আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। এর তিনটি জেলা—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান। তিনটি জেলারই সীমান্ত আছে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে। কিন্তু তিনটি জেলাতেই এইচআইভির সংক্রমণ কম। ২০২৫ সালে এই তিন জেলার মধ্যে বান্দরবানে কোনো সংক্রমণ হয়নি। আর রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে দুজন করে এইচআইভিতে সংক্রমিত হয়েছেন।

    ২০১৬ সালে বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে কোনো সংক্রমণ ছিল না। তবে রাঙামাটিতে একজনের সংক্রমণ ছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, পার্বত্য তিন জেলায় অনেক আগে থেকেই এইচআইভির সংক্রমণ কম। এটা তাঁরা দেখে আসছেন। ওই তিন জেলায় জনসংখ্যার ঘনত্ব ও প্রবাসী কর্মীর সংখ্যা কম হওয়াও একটি কারণ বলে মনে হয়।

    সীমান্ত থাকার পরও ওই তিন জেলায় এইচআইভি সংক্রমণ কম। এর কারণ হিসেবে রাঙামাটির চিকিৎসক ও টংগ্যা নামের একটি বেসরকারি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পরশ খীসা বলেন, বাংলাদেশের অন্য সীমান্তগুলোতে যত লোকজনের যাতায়াত, পাহাড়ের সীমান্তে তা নেই। আবার এখানে সিরিঞ্জে মাদক নেওয়া বা অযাচিত যৌনাচারের সুযোগও কম।

    তবে এসব প্রতিবেদনের কোথাও এক বছরে চট্টগ্রামে নতুন এইচআইভি রোগীর সংখ্যা ৪৬৮ জন এবং তাঁদের মধ্যে মাদ্রাসাশিক্ষার্থী ৩৭৪ জন—এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং, গত বছর এ বিভাগে মোট আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ৩৭৬ জন।

    নওগাঁর সংসদ সদস্যের দাবির পেছনের সত্যতা

    চলতি বছরের আগস্টে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের এক টক শোতে নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য উল্লেখ করে দাবি করেন, তাঁর জেলায় ১২ জন এইচআইভি পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের সবাই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং তারা হোস্টেলে থাকে বলেও ওই অনুষ্ঠানে জানান।

    তবে এই তথ্যের বিষয়ে অনুসন্ধানে বিষয়টি নিয়ে সে সময়ের একাধিক (১, ২, ৩ ) প্রতিবেদন পাওয়া যায়।

    প্রচারিত এসব প্রতিবেদনে নওগাঁর সিভিল সার্জন আমিনুল ইসলামের বরাতে দাবিটিকে ভিত্তিহীন বলা হয়। প্রতিবেদনে সিভিল সার্জন আমিনুল ইসলাম জানান, নওগাঁয় ১২ মাদ্রাসাশিক্ষার্থীর এইচআইভি পজিটিভ হওয়ার দাবি ভিত্তিহীন। জেলায় এইচআইভি রোগীর সংখ্যা মাত্র তিনজন। তাঁরা এখন সিভিল সার্জন অফিসের তত্ত্বাবধানে আছেন এবং ভালো আছেন। ২০২৫ সালে তিনজন রোগী জেলায় এইচআইভি পজিটিভ হন। সেই তিনজনই রোগী। ২০২৬ সালে কেউ নতুন করে এইচআইভিতে আক্রান্ত হননি।

    আমিনুল ইসলাম জানান, গত জুলাই মাসে নওগাঁয় ১২ জন ব্যক্তি রক্ত পরীক্ষা করতে এসে এইচআইভি টেস্ট করেন। তবে তাঁদের কারও মধ্যে এইচআইভি পাওয়া যায়নি। একই তথ্য দেন বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কানিস ফারহানাও।

    প্রতিবেদনে নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার বরাতে বলা হয়, তিনি মোবাইল ফোনে জানান, ১২ জনের মধ্যে তিনজন এইচআইভি পজিটিভ হয়েছেন। এরপর তিনি কল কেটে দেন।

    সিদ্ধান্ত

    চট্টগ্রাম বিভাগে নতুন শনাক্ত ৪৬৮ জন এইডস রোগীর ৩৭৪ জনই মাদ্রাসাশিক্ষার্থী—এমন দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডটির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানে চট্টগ্রাম বিভাগে নতুন এইচআইভি রোগী শনাক্তের বিভিন্ন পরিসংখ্যান পাওয়া গেলেও এর মধ্যে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের এমন কোনো সংখ্যা উল্লেখ নেই। একইভাবে, নওগাঁয় ১২ মাদ্রাসাশিক্ষার্থীর এইচআইভি পজিটিভ হওয়ার দাবিকেও সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন।

  • জনগণ ক্ষমতায় আনতেও পারে,  নামাতেও পারে: শিবির সভাপতি

    জনগণ ক্ষমতায় আনতেও পারে, নামাতেও পারে: শিবির সভাপতি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সরকারের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, জনগণ যেমন আন্দোলন করে ক্ষমতায় বসাতে পারে, তেমনই আবার টেনেহিঁচড়ে নামাতেও পারে। প্রতারণা করে ক্ষমতায় এসেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছেন না। মনে রাখবেন, এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।

    রোববার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখা আয়োজিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ‘এ-প্লাস সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, আমরা এমন এক রাষ্ট্রে বসবাস করছি, যেখানে (কুমিল্লায় নিহত) অপ্রতিমের মা-বাবা বুকফাটা আর্তনাদ নিয়ে আহাজারি করছেন। তারা জানেন না এই সন্তানকে ছাড়া কীভাবে বেঁচে থাকবেন! দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি থামছে না। আমরা প্রতিটি পণ্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ট্যাক্স দিয়ে বসবাস করা সত্ত্বেও কেন সরকার জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হবে?

    তিনি আরও বলেন, সরকার যেভাবে দেশ পরিচালনা করছে তা দেখে মনে হচ্ছে, আমরা রোহিঙ্গা কিংবা অন্য কোনো দেশ থেকে ঘুরতে এসেছি। গত সাত মাসে দেশে অন্তত ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ হয়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশকে উদ্ধার করা গেলেও এখনো দুই হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ রয়েছে। আবার সরকারের সরকারি হিসাবের বাইরেও অনেক শিশু প্রতিদিন নিখোঁজ হচ্ছে। জুলাই বিপ্লবের চেতনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শিবির সভাপতি বলেন, আপনারা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করছেন না, সংবিধানের সংস্কার করছেন না, জনগণের যুক্তিসঙ্গত দাবি মানছেন না, এমনকি গণভোটের আলোকে মৌলিক পরিবর্তনগুলো আনছেন না। কেন মানছেন না—তার কোনো ব্যাখ্যাও দিচ্ছেন না। কেবল মুখে বলছেন অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন, আর কালক্ষেপণ করে সব দপ্তরে নিজেদের লোক বসিয়ে রাখছেন। বাংলাদেশের তরুণ সমাজ এসব বোঝে না—তা মনে করার কোনো কারণ নেই। জনগণ সরকারের ওপর ক্ষিপ্ত হলে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে স্পষ্ট হয়ে গেছে।

    সংবর্ধিত কৃতী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি গোলাপের মতো সুবাস ছড়াবে, ততক্ষণ পিতা-মাতা ও এই সমাজ তোমার প্রশংসা করবে। তাই আত্মগঠন ও মেধার বিকাশ ঘটাতে ফলাফলের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত প্রায় ১,৫০০ শিক্ষার্থীকে সম্মাননা ও বিশেষ উপহার প্রদান করা হয়। সকাল ৯টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণ বা মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের চবি ছাত্রশিবিরের শহীদ আবিদ বিন ইসলামের বাবা। এতে মূল বক্তা হিসেবে আলোচনা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মো. বরকত আলী।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির নজরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আইন সম্পাদক শামিম হোসেন, কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি সম্পাদক এইচ এম আবু মুসা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)-এর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি এবং বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. ফজলুল হক।

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুনের সভাপতিত্বে ও পরিচালনা সম্পাদক রাকিবুল ইসলামের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় নিজ দলীয় কর্মীর হাতে যুবদল নেতা খুন!

    চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় নিজ দলীয় কর্মীর হাতে যুবদল নেতা খুন!

    চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁওয়ে সড়কে ভাসমান ভ্যান বসানো ও চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ফজলুল আমিন নামে এক যুবদল নেতাকে মারধরের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে চান্দগাঁও থানার ওমর আলী মাতব্বর বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    স্বজনদের অভিযোগ, ভ্যান বসানো চাঁদা নেওয়ার প্রতিবাদ করায় নিজ দলের কর্মী হিসেবে পরিচিত শাহজাহান ও তার ছেলে সিফাতের সঙ্গে ফজলুল আমিনের বিরোধ হয়। একপর্যায়ে তাকে ধাক্কা ও ঘুষি মারা হলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

    নিহত ফজলুল আমিন ৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। অভিযুক্ত শাহাজাহান চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির এক সদস্যের অনুসারী এবং কৃষক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।

    এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. শাহজাহান (৪৫) ও তার ছেলে সিফাতকে (২০) আসামি করে চান্দগাঁও থানায় মামলা করেছেন নিহতের পরিবার।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় ভাসমান ভ্যান বসানো নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। স্থানীয়দের বৈঠকে নির্দিষ্ট স্থানে ভ্যান না বসানোর সিদ্ধান্ত হলেও শুক্রবার সেখানে আবার ভ্যান বসানো হলে ফজলুল আমিন বাধা দেন। এ নিয়ে শাহজাহানের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। ঘটনার আগের দিন ভ্যান সরিয়ে দেওয়া হলেও পরে আবার তা বসানো হয়। ভ্যান বসানোর পেছনে প্রভাবশালী এক নেতার নির্দেশের কথা বলা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

    ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক যুবক বলেন, ‘চলাচলের রাস্তায় ভ্যান না বসাতে বলেন। এ নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তাকে ঘুষি মারা হলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। আমরা তাকে হাসপাতালে পাঠাই। মারামারি বেশি হয়নি, তবে ঘুষির আঘাতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে জানতে পারি, হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়েছে।’

    ৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড যুবদলের জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘ভাসমান ভ্যান থেকে চাঁদা আদায়ের বিষয়টি নিয়ে ফজল আমিন শাহজাহানের কাছে জানতে চেয়েছিল বলে শুনেছি। গরিব মানুষ ভাসমান দোকান বসিয়ে জীবিকা চালায়, তাদের কাছ থেকে কেন চাঁদা নেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের পর তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে শাহজাহান ফজল আমিনকে ধাক্কা ও ঘুষি মারে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এরপর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’

    নিহতের ছেলে বলেন, ‘আমার বাবা সারাজীবন এলাকার মানুষের জন্য কাজ করেছেন। আমরা চাই, তার মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং যারা জড়িত তাদের বিচার হোক। ৫ আগস্টের পর এলাকায় নতুন করে নেতৃত্বে আসা কিছু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের বিষয়ে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।’

    চান্দগাঁও থানার ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। মামলায় আরও ৫ থেকে ৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং বিরোধের প্রকৃত কারণ কী, তা তদন্ত করা হচ্ছে।’

    এদিকে, ফজলুল আমিনের মরদেহ এলাকায় আনার পর স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিজ দলের কর্মীর হাতে তার মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্বজন ও স্থানীয়রা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।

  • ‘স্যার, কসম করেন’, গ্রেপ্তারের আগে পুলিশের সাথে সন্ত্রাসী মোবারকের কথোপকথন

    ‘স্যার, কসম করেন’, গ্রেপ্তারের আগে পুলিশের সাথে সন্ত্রাসী মোবারকের কথোপকথন

    ঘরের ফলস ছাদে অস্ত্রসহ লুকিয়ে ছিলেন ‘সন্ত্রাসী’ মোবারক হোসেন ওরফে গলা কাটা মোবারক। দরজার বাইরে ছিল পুলিশ। ঘরে পুলিশ সদস্যরা ঢোকার চেষ্টা করতেই গুলি ছুড়তে থাকেন মোবারক। পরপর ছয়টি গুলি ছোড়েন তিনি। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। অভিযানের একপর্যায়ে মোবারককে প্রাণে বাঁচতে আত্মসমর্পণ করতে বলে পুলিশ। জবাবে মোবারক বলেন, ধরা দেওয়ার আগে তিনি নিজের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চান।

    গত বুধবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর এলাকায় ‘সন্ত্রাসী’ মোবারককে ধরতে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানের সময় মোবারকের সঙ্গে পুলিশের সদস্যদের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

    ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের এক সদস্য মোবারকের উদ্দেশে বলছেন,‘জীবন বাঁচাতে চাইলে অস্ত্র ফেলে দে। আমাদের হাতে ধরা দে। আমরা জীবন বাঁচাব। আমরা খবর পাইছি, তোরে বাইরে কেউ মারার জন্য অপেক্ষা করছে। আমরা তোরে বাঁচানোর জন্য আসছি।’

    তখন জবাবে মোবারক বলেন, ‘অস্ত্র দিলে সমস্যা হবে।’ এরপর পুলিশের ওই সদস্য আবার বলেন, ‘মোবারক, তোর ভালোর জন্য আসছি। তুই সারেন্ডার কর। তোর বাঁচার সুযোগ নেই। তোকে আমরা বাঁচানোর জন্য আসছি। তুই অস্ত্র ফেল, সময় নষ্ট করিস না। বের হওয়ার এখান থেকে আর কোনো সুযোগ নেই। পুলিশ বর্তমানে কাউকে মারে না।’

    গ্রেপ্তারের আগে অভিযানে থাকা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ফলস ছাদে লুকিয়ে থাকা মোবারকের কথোপকথন চলছে ছবি: ভিডিও থেকে

    এরপরও মোবারক বলেন, ‘অস্ত্র ফেলব না।’ তখন ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের একজন বলেন, ‘অস্ত্র দিলে কেউ মারবে না তোকে। কেন মারব? আমি ওসি বলছি, অস্ত্রটা দিয়ে দে।’ মোবারক তখন পুলিশকে সরে যেতে বলেন।

    জবাবে পুলিশ সদস্যরা বলেন, ‘না, যাব না। মোবারক, অস্ত্রটা দে। অস্ত্রটা ফেল। নিচে নাম, আগে নিচে নাম।’ একপর্যায়ে মোবারক বলেন, ‘আপনারা কসম করেন, আমাকে কিছু করবেন না।’

    পুলিশ সদস্যরা তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘কিছু করব না। খোদার কসম, কিছু করব না। এই মুরুব্বির (ঘরে থাকা বৃদ্ধ) কাছে অস্ত্র দে, চিন্তা থাকবে না। মুরুব্বির কাছে অস্ত্রটা দে।’ পুলিশ সদস্যদের একজন তখন বলেন, ‘আমাদের কাছে কিন্তু চায়না রাইফেল, এসএমজি—সবকিছুই আছে। মোবারক, ইমন (ডেভিড ইমন) গ্রেপ্তার হয়েছে। ইমনের চেয়ে তুই বড় সন্ত্রাসী না।’

    জবাবে মোবারক বলেন, ‘স্যার, আমি একটু পরে বলব স্যার। একটা অনুরোধ…আপনারা কসম করেন, আমাকে কিছু করবেন না।’ তখন এক পুলিশ সদস্য আবারও বলেন, ‘কসম করলাম তো। খোদার কসম, কিছু করব না। কিছু করব না। অস্ত্র ফেলে দে। খোদার কসম, কিছু করব না আমরা। তোর কিচ্ছু হবে না।’

    জবাবে মোবারককে বলতে শোনা যায়, ‘থ্যাঙ্ক ইউ, থ্যাঙ্ক ইউ, ভালো হইছে।’ এরপর পুলিশের ওই সদস্য ঘরে থাকা বৃদ্ধকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘মুরুব্বি, অস্ত্রটা নিয়ে আসেন। মুরুব্বি, অস্ত্র নিয়ে নেন।’

    মোবারকের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে। তিনি বিদেশে পলাতক চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    মোবারকের সঙ্গে তাঁর তিন সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে ৩টি পিস্তল, ২৩ রাউন্ড পিস্তলের গুলি ও ৪টি শটগানের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। মোবারককে গ্রেপ্তারের অভিযানে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মোবারক অভিযানের সময় পুলিশ সদস্যদের গুলি ছুড়তে থাকেন। মোবারকের ছোড়া গুলিতে তিনি নিজেসহ পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত মোবারককে ফলস ছাদ থেকে নামিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।

  • ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, রাতে ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলি

    ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, রাতে ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলি

    চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশের হামজারবাগে এক প্রবাসী ব্যবসায়ীর বাড়ি লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে বিদেশি একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ওই ব্যবসায়ীর ছেলের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। নম্বরটি ব্লক করে দেওয়ার পর রাতেই বাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে।

    সোমবার রাত ১১টার দিকে হামজারবাগ এলাকায় হাজী মোহাম্মদ ইউসুফের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। গুলি দুটি বাড়ির গেটে লাগে। তবে এতে কেউ হতাহত হননি। ঘটনার পর আতঙ্কে বাড়ির বাসিন্দারা দীর্ঘ সময় ঘরের বাইরে বের হতে পারেননি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

    বাড়ির মালিক মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, তাঁর বড় ছেলে মোহাম্মদ শওকত দুবাইপ্রবাসী। সোমবার দুপুরে শওকতের হোয়াটসঅ্যাপে বিদেশি একটি নম্বর থেকে ভয়েস রেকর্ড পাঠানো হয়। এতে এক ব্যক্তি নিজেকে কাতারপ্রবাসী পরিচয় দিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

    ওই ব্যক্তি বলেন, তাঁদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অনেক টাকা রয়েছে। ৫০ লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা নেওয়ার জন্য একজনকে পাঠানো হবে। তাঁর হাতে টাকা তুলে দিতে হবে। টাকা না দিলে পরিবারের সবাইকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।

    বিষয়টি বাবাকে জানান শওকত। ইউসুফ তাঁকে কোনো উত্তর না দিয়ে নম্বরটি ব্লক করে দিতে বলেন। এরপরই হোয়াটসঅ্যাপ থেকে ভয়েস রেকর্ডটি মুছে ফেলা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর রাত ১১টার দিকে তাঁদের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করা হয়।

    ইউসুফ বলেন, ‘গুলি করার সময় বিকট শব্দ হয়। সবাই ভয় পেয়ে ঘরে বসে ছিলাম। পরে নিচে নেমে দেখি বাড়ির গেটে গুলির চিহ্ন। দুটি গুলি গেটে লেগেছে।’

    তিনি জানান, গুলি করার সময় বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীকে অস্ত্রের ভয় দেখানো হয়। এ কারণে তিনি দ্রুত গেট বন্ধ করে ভেতরে চলে যান। ফলে হামলাকারীদের কাউকে শনাক্ত করতে পারেননি।

    মোহাম্মদ ইউসুফের বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলায়। প্রায় ২৫ বছর ধরে তাঁরা হামজারবাগের নিজস্ব বাড়িতে বসবাস করছেন। ইউসুফ নিজেও দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। তাঁর ছেলে শওকত কয়েক মাস আগে দুবাই থেকে দেশে ফিরেছেন।

    পুলিশ জানিয়েছে, বাড়িটি কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আজিজুর রহমান আজিজের শ্বশুরবাড়ি। আজিজ চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুদিন পর তিনি গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

    পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘লোডশেডিংয়ের সুযোগ নিয়ে কে বা কারা বাড়িটি লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি করেছে। আতঙ্ক সৃষ্টির জন্যই গুলি করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি।’

    ওসি বলেন, ‘চাঁদা দাবির ভয়েস রেকর্ডের বিষয়টিও আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। গুলির ঘটনা, চাঁদা দাবি এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—সবকিছু তদন্ত করা হচ্ছে।’

    ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশের একাধিক দল। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন বাড়ির মালিক। মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

  • চাঁদার লাখ লাখ টাকা যেভাবে সংগ্রহ করতেন সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

    চাঁদার লাখ লাখ টাকা যেভাবে সংগ্রহ করতেন সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

    ব্যবসায়ী কিংবা প্রবাসীদের মুঠোফোনে হুমকি দেওয়া হতো লাখ থেকে কোটি টাকা চাঁদার জন্য। এরপর বাহকের মাধ্যমে নগদে সংগ্রহ করা হতো চাঁদাবাজির সেই টাকা। চাঁদার টাকা সংগ্রহের জন্য ছিল এলাকাভেদে পৃথক ব্যক্তি। তাঁরা মূলত ইউসুফ নামের এক ব্যক্তিকে চাঁদাবাজির সেই টাকা জমা দিতেন। তিনি এসব টাকা হুন্ডি এবং কয়েকটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিতেন চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের কাছে।

    পুলিশ ও চাঁদাবাজির শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। গত বুধবার সকালে যশোর থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পথে ইমনকে তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইমন পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। বৃহস্পতিবার ইমনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে গত সোমবার সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড় এলাকার ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের নির্মাণাধীন ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা করার পর ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এর আগে ১৩ জুলাই ২ কোটি টাকা চাঁদার জন্য নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিডিএনে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এই দুটি ঘটনার পর মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং ইমনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। যদিও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে চাঁদাবাজিসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন ইমন।

    চাঁদা দাবির আগে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ

    পুলিশ জানায়, চাঁদা চাওয়ার আগে কোনো ব্যক্তির আয়ের উৎস, বর্তমান সম্পদ, নির্মাণাধীন ভবনের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন ইমনের লোকজন। পরিবারের সদস্যদের জীবনবৃত্তান্তও সংগ্রহ করা হয়। তথ্য সংগ্রহের জন্য এলাকাভিত্তিক সোর্স রয়েছে ইমনের।

    তথ্য সংগ্রহের পর চাঁদার জন্য বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করা হয় নির্ধারিত ব্যক্তিকে। কয়েক লাখ টাকা থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হয়। ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের কে কোথায় থাকেন, কী করেন, সব জানানো হয়। দাবি অনুযায়ী চাঁদা না দিলে গুলি করার হুমকি দেন ডেভিড ইমন। নির্ধারিত সময়ে টাকা না পেলে হামলার ঘটনাও ঘটে।

    তথ্য সংগ্রহের পর চাঁদার জন্য বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করা হয় নির্ধারিত ব্যক্তিকে। কয়েক লাখ টাকা থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হয়। ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের কে কোথায় থাকেন, কী করেন, সব জানানো হয়। দাবি অনুযায়ী চাঁদা না দিলে গুলি করার হুমকি দেন ডেভিড ইমন।

    ইমনকে চলতি মাসের শুরুতে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দেওয়া এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তিনি নগরের দক্ষিণ পাহাড়তলীর বড় দিঘিরপাড় এলাকার বাসিন্দা। ইমন গ্রেপ্তার হলেও এখনো ভয়ে রয়েছেন সেই ব্যবসায়ী।

    গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ওই ব্যবসায়ী প্রথম আলোকে বলেন, জুন মাসের শেষের দিকে বিদেশি একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী পরিচয় দিয়ে ডেভিড ইমন তাঁকে ফোন করেন। তাঁর নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবন ও বিভিন্ন ব্যবসার কথা বলে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ইমন। ওই সময় ওই ব্যবসায়ীর ছেলেমেয়েরা কে কোথায় পড়াশোনা করেন, তারও বিস্তারিত বর্ণনা দেন। চাহিদামতো টাকা না দিলে ব্যবসায়ীর কলেজপড়ুয়া বড় ছেলেকে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেন।

    অস্ত্র হাতে ইমনছবি: সংগৃহীত

    ওই ব্যবসায়ী জানান, নিরুপায় হয়ে বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। এর মধ্যে রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছিলেন। কয়েকজনের মাধ্যমে ইমনকে ফোন করা হয়। কিন্তু কারও কথা শুনতে নারাজ ছিলেন ইমন। ইতিমধ্যে নির্মাণাধীন ভবনে হামলা চালানো হয়। মারধর করা হয় নিরাপত্তা প্রহরীকে।

    ওই ব্যবসায়ী বলেন, ‘এরপর আমাকে আবার ফোন করা হয়। চাঁদা দেওয়ার মতো এত টাকা নেই জানিয়ে আমি তাঁকে অনুনয়-বিনয় করে চাঁদা কমানোর অনুরোধ করি। শেষে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা নির্ধারিত হয়। ইমন তখন বলেন, আমার লোকজন নগদে টাকা নেবে। যেখান থেকে বলা হবে, সেখান থেকে নিতে পারবে।’

    ‘তাদের একটি দল তথ্য সংগ্রহ করে, আরেকটি দল নগদ টাকা গ্রহণ করে, আরেকটি হামলা-ভাঙচুর কিংবা গুলিবর্ষণের মতো ঘটনায় জড়ায়। প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা আলাদা দল রয়েছে।’

    কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম

    পরে বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করে ইমনের লোক পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি নগরের অক্সিজেন এলাকায় টাকা নিয়ে যেতে বলেন বলে জানান ওই ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘আমি যেতে রাজি না হওয়ায় একটি অটোরিকশায় করে দুই যুবক বড় দিঘিরপাড়ে আমার বাসার সামনে আসে। নগদ পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে তারা আবার একই গাড়িতে করে চলে যায়।’

    এই ব্যবসায়ীর মতো আরও অন্তত পাঁচজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তাঁরা সবাই নগদে বাহকের কাছে চাঁদার টাকা পরিশোধ করেছেন। তবে নাম প্রকাশ করে এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে তাঁরা রাজি হননি। কারণ জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, ইমন জামিনে বেরিয়ে এলে তাঁদের ক্ষতি করতে পারেন। তা ছাড়া ইমনের অনেক সহযোগী এখনো বাইরে রয়েছেন।

    ইউসুফকে খুঁজছে পুলিশ

    পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় ইমনের লোকজন চাঁদার নগদ টাকা সংগ্রহ করে নিয়ে যেতেন নগরের জিইসি মোড় এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে। সেখানে ইউসুফ নামের এক ব্যক্তিকে জমা দিতেন। পরে তিনি এসব টাকা ইমনের নির্দেশমতো হুন্ডি কিংবা ব্যাংক হিসাবে পাঠাতেন।

    ইমনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য মিলেছে জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, ইউসুফকে ধরার চেষ্টায় রয়েছে পুলিশ। তাঁকে পেলে চাঁদাবাজির টাকা কোথায় যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে।

    চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমন জানিয়েছেন, ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে কৌশল হিসেবে নগদে চাঁদার টাকা নিতেন। এসব টাকা যাঁরা সংগ্রহ করতেন, তাঁরা সাধারণত ওই এলাকার নন। অন্য কোনো এলাকা থেকে এসে চাঁদার টাকা সংগ্রহ করা হতো।

    পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, তাদের একটি দল তথ্য সংগ্রহ করে, আরেকটি দল নগদ টাকা গ্রহণ করে, আরেকটি হামলা-ভাঙচুর কিংবা গুলিবর্ষণের মতো ঘটনায় জড়ায়। প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা দল রয়েছে।

    চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, রিমান্ডে আনার পর ইমনের কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। ইতিমধ্যে পুলিশ তাঁর কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করেছে। চাঁদাবাজি কিংবা হামলার শিকার ভুক্তভোগী লোকজন পুলিশকে এ বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে পারেন।

    ক্রিকেট ছেড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে

    ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তাঁর বাবা মো. মুসা ওমানপ্রবাসী ছিলেন। কয়েক বছর আগে মারা গেছেন।

    স্থানীয় লোকজন জানান, স্কুলে পড়ার সময় থেকেই ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় ইমনের। কাঞ্চননগর থেকে সাইকেলে করে ফটিকছড়ি কলেজ মাঠে এসে অনুশীলন করতেন। পরে নগরের অক্সিজেন মোড়ে খালার বাসায় থেকে নিয়মিত ক্রিকেট প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। খেলতেন চট্টগ্রাম ব্রাদার্স একাডেমিতে। অনুশীলন করতেন কাজীর দেউড়ি স্টেডিয়ামে।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের মাধ্যমে তাঁর দলে যুক্ত হন। সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ গত বছরের ১৫ মার্চ ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী হয়ে ওঠেন ইমন।

    ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন, একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনায় আলোচিত হন মোবারক হোসেন ইমন। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে অন্তত ১৫টি।

    পুলিশের ভাষ্য, ইমন ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন—এমন তথ্য রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তাঁর ছিল। পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া দুজনের একজন ইমন। অন্যজন মোহাম্মদ রায়হান। এর আগে দেশে সন্ত্রাসী দলটির নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি কারাগারে যাওয়ার পর ইমন ও রায়হান দলটির নেতৃত্বে আসেন।

    পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। মোহাম্মদ রায়হান ও ইমন বড় সাজ্জাদের হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছেন।

    গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক দিন আগে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল ইমনের কাছে। এ সময় তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি টাকা নিই এটা ঠিক, তবে সব বড়লোকদের কাছ থেকে।’ সন্ত্রাসের পথ কেন বেছে নিয়েছেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল বড় ক্রিকেটার হব, নয়তো বড়লোক হব। বড়লোক হওয়ার জন্য এই পথে আছি।’

  • স্ত্রী ও তিন ছেলের সবাই প্রবাসে, নিঃসঙ্গ বৃদ্ধের গলিত লাশ মিলল ঘরে

    স্ত্রী ও তিন ছেলের সবাই প্রবাসে, নিঃসঙ্গ বৃদ্ধের গলিত লাশ মিলল ঘরে

    স্ত্রী আর তিন ছেলের সবাই থাকেন মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে। আবদুর রহমান (৬৫) একাই থাকতেন চট্টগ্রামের চন্দনাইশের গ্রামের বাড়িতে। গতকাল সোমবার ছেলেরা ফোন করে তাঁর সংযোগ পাচ্ছিলেন না। ওই দিন বিকেলে তাঁর ছোট ছেলের স্ত্রী বাবার বাড়ি থেকে খোঁজ নিতে এসে দেখেন, ঘরের দরজা বন্ধ। এলাকার লোকজনের সহায়তায় দরজা খোলার পর দেখা যায়, আবদুর রহমানের পচা-গলা লাশ পড়ে আছে খাটে।

    চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের নগরপাড়া গ্রামের মিয়া সওদাগরের ছেলে আবদুর রহমান নিজেও দুবাইয়ে থাকতেন। দেড় বছর আগে দেশে আসেন তিনি। এরপর আর ফিরে যাননি। বাড়িতে একা থাকতেন, নিজের রান্না নিজে করতেন। গত শুক্রবার শেষবার তাঁকে গ্রামের একটি চা–দোকানে দেখা গিয়েছিল। এরপর গতকাল তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গাউছিয়া কমিটির মানবিক টিমের সহায়তায় তাঁর লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

    পুলিশ জানায়, তিন-চার দিন আগে আবদুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর মরদেহে পচন ধরেছিল। নানা স্থানে পোকা ধরে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। চেহারাও বিকৃত হয়ে গেছে বলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান। পুলিশ জানায়, আবদুর রহমানের স্ত্রী, তিন ছেলে ও বড় ছেলের স্ত্রী দুবাইয়ে থাকেন। তাঁর স্ত্রী দুর্ঘটনায় আহত হওয়ায় তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সোলাইমান ফারুকী বলেন, আবদুর রহমান এলাকায় অনেকটা একা চলাফেরা করতেন। সবার সঙ্গে তেমন যোগাযোগ ছিল না।

    চন্দনাইশ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রিটন মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়ে গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, লাশের চোখে–মুখে পোকা ধরেছে। দুই হাতের চামড়া খুলে পড়েছে। দুর্গন্ধে টেকা যাচ্ছে না। তাঁর মৃত্যু বেশ কয়েক দিন আগে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে রিটন মিয়া বলেন, তিনি গত শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে বাড়ির পাশে চায়ের দোকান থেকে চা খেয়ে গেছেন। এরপর তাঁকে আর বাইরে দেখা যায়নি।

    প্রতিবেশীরা জানান, গত জানুয়ারি মাসে চন্দনাইশের বাড়িতে আবদুর রহমানের মেজ ছেলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর পরিবারের সবাই দুবাইয়ে ফিরে গেলেও আবদুর রহমান যাননি। মেজ ছেলের স্ত্রী দোহাজারীতে নিজের বাবার বাড়িতে থাকেন। সেখান থেকে মাঝেমধ্যে এসে শ্বশুরকে দেখে যান তিনি। গত সোমবার তিনি খোঁজ নিতে এসে আবদুর রহমানকে মৃত অবস্থায় পান।

    পরিদর্শক রিটন মিয়া বলেন, ছোট ছেলের স্ত্রী পুলিশকে জানায়, দুবাই থেকে ছেলেরা বাবাকে বারবার ফোন করে খবর পাচ্ছিলেন না। তাই সোমবার খোঁজ নিতে এসে মেজ ছেলের স্ত্রী শ্বশুরের লাশ দেখতে পান। তিনি স্ট্রোক করেছেন কিনা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে জানা যাবে।

  • চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর ভবনে সন্ত্রাসীদের ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ

    চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর ভবনে সন্ত্রাসীদের ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ

    চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ীর নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনে ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ করেছে সন্ত্রাসীরা। আজ রোববার সকাল আটটার দিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড়–ভাটিয়ারী লিংক রোড–সংলগ্ন আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ সকালে মুখে মাস্ক পরা ৮ থেকে ১০ সশস্ত্র ব্যক্তি ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের বাড়ির সামনে টেম্পোতে এসে নামে। তখন ১০ তলা নির্মাণাধীন ভবনটিতে শ্রমিকেরা কাজ করছিলেন। সশস্ত্র ব্যক্তিরা ভবনে ঢুকে শ্রমিকদের মারধর করতে থাকে। এরপর ভবনের দরজা–জানালা ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে হাসান সাকি নামের এক নির্মাণশ্রমিককে কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে আহত করে তারা। এ সময় মারধর করা হয় ভবনের নিরাপত্তাকর্মীসহ কয়েকজন শ্রমিককেও। পরে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়।

    ব্যবসায়ীর নির্মাণাধীন ভবনে সন্ত্রাসীদের হামলার পর স্থানীয় লোকজনের ভিড়ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া।

    জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে বাড়িটিতে হামলার ঘটনা তাঁরা দেখেছেন। আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    ঘটনার শিকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের চাল ও চিনির পাইকারি ব্যবসা রয়েছে। হাটহাজারী থানার বড় দিঘিরপাড় এলাকায় তাঁর পাইকারি দোকান রয়েছে। সম্প্রতি তিনি ১০ তলা বহুতল ভবনে নির্মাণকাজ শুরু করেন। জানতে চাইলে জসিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এক মাস ধরে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে আমার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে সন্ত্রাসীরা। শহরে একটি ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনার পর সবাই প্রতিবাদ করলে তারা একটু নীরব ছিল। এক সপ্তাহ ধরে আবার ফোন করছে চাঁদার জন্য। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানো হয়েছিল। রোববারের ঘটনায় থানায় মামলা করব।’ কারা তাঁকে হুমকি দিয়েছে জানতে চাইলে, তিনি নাম জানেন না বলে জানিয়েছেন।

    স্থানীয় লোকজন জানান, শুধু জসিমের নির্মাণাধীন ভবন নয়, বড় দিঘিরপাড় এলাকায় নির্মাণাধীন ৮ থেকে ১০টি ভবনে ফোন করে চাঁদা নিয়েছে সন্ত্রাসীরা। স্বাধীনতার পর তাঁদের এলাকায় এভাবে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি।

    সন্ত্রাসীদের মারধরের শিকার হন নির্মাণাধীন ভবনের দুই শ্রমিক ছবি: সংগৃহীত

    উল্লেখ্য, ১৩ জুলাই নগরের চকবাজার অ্যাকসেস রোডে ডিডিএন নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পরে র‌্যাব পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল হঠাৎ ডিডিএনের কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। দেশি অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা অফিসের কম্পিউটার, কর্মকর্তা–কর্মচারীদের মুঠোফোন ও বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করে। একজনকে কুড়াল দিয়ে কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জামে আঘাত করতে দেখা যায়। এ সময় তারা কর্মকর্তা–কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখায়। সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ইমন এই চাঁদা দাবি করেছেন বলে মামলায় বলা হয়। তবে ঘটনার পর ফেসবুকে একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে মুঠোফোনের এক প্রান্ত থেকে ইমন পরিচয় দিয়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তাঁরা ছুরি ও কিরিচ নিয়ে হামলা করেন না। তাঁদের হামলার ধরন কেমন, তা পুরো চট্টগ্রামবাসী জানে।