ট্যাগ গাজা

  • গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০০ লাশ উদ্ধার

    গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০০ লাশ উদ্ধার

    গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১০০টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা লাশের অধিকাংশই শিশুদের। এসব লাশ এখন গণদাফনের প্রস্তুতি চলছে।

    জেইতুন এলাকায় তিন বছর ধরে বারবার হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর ওই এলাকার কয়েকটি আবাসিক ভবনে ইসরাইলি বাহিনী বোমা হামলা চালায়। হামলা থেকে বেঁচে যারা পরে এসব ভবনে আশ্রয় নিয়েছিলেন, পরবর্তী কয়েক মাসে তারাও হামলার শিকার হন। এসব হামলায় নিহত ব্যক্তিদের লাশ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ছিল। দীর্ঘ সময় পর সম্প্রতি সেখান থেকে ১০০টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, উদ্ধার করা লাশের বেশির ভাগই শিশুদের।

    লাশ উদ্ধারের পর জেইতুন এলাকায় এখন গণদাফনের প্রস্তুতি চলছে। নিহত ব্যক্তিদের লাশ নিয়ে শোকযাত্রার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

    ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেইতুনের যে এলাকায় এখন দাফনের প্রস্তুতি চলছে, সেখানে প্রায় তিন বছর ধরে ইসরাইলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে।

  • গাজায় নিহত শিশুদের স্মরণে নেদারল্যান্ডসে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

    গাজায় নিহত শিশুদের স্মরণে নেদারল্যান্ডসে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

    ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনে নিহত হয়েছে হাজার হাজার শিশু। তাদের স্মরণে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে নেদারল্যান্ডসে। গত ১ আগস্ট হেগের শেভেনিঙ্গেন সৈকতে শিশুদের হাজার হাজার জোড়া জুতা সারি বেঁধে রাখা হয়।

    সৈকতে রাখা ৭ হাজার জুতা হয়ে ওঠে নিহত শিশুদের জীবনের প্রতীক; তুলে ধরে ইসরাইলের গণহত্যায় মানবিক প্রভাবের গভীরতা। নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে অংশগ্রহণকারীরা দিনভর সেখানে জড়ো হন। আয়োজকদের লক্ষ্য, গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো।

    জাতিসংঘের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় প্রায় ২০ হাজার শিশু নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৪৪ হাজারের বেশি শিশু।

    এছাড়া আরো হাজার হাজার শিশু নিখোঁজ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে তারা।

    অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় পাঁচ বছরের কম বয়সি অন্তত ১ লাখ ৩২ হাজার শিশু তীব্র ক্ষুধার কারণে চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অনাহারে মারা গেছে অনেকে।

  • গাজা যুদ্ধে ৭৫ স্বজনকে হারিয়েছে হানিয়ার পরিবার

    গাজা যুদ্ধে ৭৫ স্বজনকে হারিয়েছে হানিয়ার পরিবার

    ইসরাইলের সঙ্গে চলমান গাজা যুদ্ধে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ৭৫ জনের বেশি সদস্যকে হারিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সাবেক রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়ার পরিবার। একই সঙ্গে তাদের বিস্তৃত ‘আল-হাজ্জ’ গোত্রের প্রায় ২৫০ জন সদস্য এই যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন।

    ইসমাইল হানিয়া হত্যাকাণ্ডের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ দাবি করেছেন তার ছেলে আবদুল সালাম হানিয়া।

    সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় ঘরের দেয়ালে ঝোলানো পারিবারিক ছবির দিকে নির্দেশ করে আবদুল সালাম জানান, ছবিতে থাকা স্বজনদের একটি বড় অংশই ইসরাইলি হামলায় শহীদ হয়েছেন। ২০২৪ সালের ১০ এপ্রিল পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন ইসরাইলি বিমান হামলায় ইসমাইল হানিয়ার তিন ছেলে—হাজেম, আমির ও মোহাম্মাদ এবং তাদের সন্তানেরা (হানিয়ার নাতি-নাতনি) নিহত হন।

    বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবদুল সালাম বলেন, ‘বাড়িতে আমার বাবা ছিলেন একজন শিক্ষক, পরামর্শদাতা, রাজনৈতিক নেতা এবং একজন পরম স্নেহশীল বন্ধু। তিনি আমাদের সব সময় সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকার এবং তাদের সেবা করার উপদেশ দিতেন।’

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তেহরানে অবস্থানকালে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ইসমাইল হানিয়া। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ওই হত্যাকাণ্ডে ইসরাইলের সরাসরি জড়িত থাকার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেন।

    সাক্ষাৎকারে ফিলিস্তিনিদের প্রতি তুরস্কের রাজনৈতিক ও মানবিক সমর্থনের ভূয়সী প্রশংসা করেন আবদুল সালাম। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের নেতৃত্বে তুরস্ক আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে।

    গাজায় যুদ্ধবিরতি ত্বরান্বিত করতে মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতা সফল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তার মতে, এই চুক্তির মাধ্যমেই গাজা পুনর্গঠন এবং ইসরাইলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার সম্ভব হবে।

    যুদ্ধের নির্মমতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গাজায় ৩০ হাজারের বেশি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। বিশ্ববাসীর কাছে ফিলিস্তিনের শিশুদের আকুল আবেদন—তাদের হিংস্রতা থেকে বাঁচতে দেওয়া হোক এবং অন্য দেশের শিশুদের মতো পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবন যাপনের সুযোগ দেওয়া হোক।’

    ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরাইলি বাহিনী প্রতিনিয়ত চুক্তি লঙ্ঘন করে চলেছে। কেবল যুদ্ধবিরতির পর থেকেই ইসরাইলি হামলায় আরো ১ হাজার ২২২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজার ৫৩ জন আহত হয়েছে।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা এই ভয়াবহ যুদ্ধে মোট নিহত ৭৩ হাজার ৩৪৯ জনে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ১৬২ জন।