গণভোট

  • গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: ডা. শফিকুর রহমান

    গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: ডা. শফিকুর রহমান

    জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।

    আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা নগরের শিববাড়ী মোড়ের বাবরি চত্বরে ১১ দলীয় ঐক্যের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর বিএনপি এখন গণভোটের রায় মানতে চাইছে না। এক দফা আন্দোলনের ডাক দেওয়া হলে সবাইকে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গণভোটের রায় উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। ১১ দলীয় ঐক্য জনগণের এই রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে। একটির পর একটি কর্মসূচি দেওয়া হবে। প্রয়োজনে এক দফা আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। তখন সবাইকে ঢাকায় গিয়ে আন্দোলনে শামিল হতে হবে।’

    সরকারের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘সরকার জুলুমবাজি করছে। তবে এই জুলুমবাজির পতন হবে, জনগণের বিজয় হবে।’

    পথসভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।

    পথসভা শেষে লংমার্চটি যশোরের মুড়ালীর মোড় ও ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল হয়ে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

    এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে প্রায় দেড় হাজার গাড়ির বহর নিয়ে খুলনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা। ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত প্রায় ৪১০ কিলোমিটারের এ লংমার্চে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষণে, খুলনার এই পথসভা শুধু লংমার্চের কর্মসূচি নয়; গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথের আন্দোলন জোরদার করার রাজনৈতিক বার্তাও দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। বিশেষ করে এক দফা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে বিরোধীদলীয় নেতার আহ্বান কর্মসূচিটিকে নতুন রাজনৈতিক মাত্রা দিয়েছে।

    অনুরূপ খুলনার ফুলতলা উপজেলার ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডে সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    প্রধান অতিথি হিসেবে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি সরকার দেশের মানুষের সাথে জুলুমবাজি করছে। তাদের থেকে দেশবাসীকে মুক্ত করতে ১১ দলের ৭ দফা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সকলকে রাজপথে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

  • সংস্কারের গণভোট বাস্তবায়নের পথ নিয়ে বিএনপি ও বিরোধীদের বিরোধ

    সংস্কারের গণভোট বাস্তবায়নের পথ নিয়ে বিএনপি ও বিরোধীদের বিরোধ

    জাতীয় নাগরিক পার্টি ৩০ অক্টোবরের বিক্ষোভের প্রস্তুতি নেওয়ার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী অভিযোগ করেছে, বাংলাদেশের সরকার ফেব্রুয়ারির সংস্কারের গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যান করছে। বিএনপি সংসদের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের খসড়া করছে। বিরোধীরা চাইছে বাস্তবায়ন আদেশে বর্ণিত সংস্কার পরিষদ।

    সংশোধনী কারা লিখবে এবং কোন অঙ্গীকারগুলো বহাল থাকবে, তা নিয়েই মতভেদ। সরকার বলছে, সংবিধানের অধীনে সংসদকেই কাজ করতে হবে। জামায়াত ও এনসিপি বলছে, গণভোটের রায় অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে আলাদা পরিষদ গঠন করতে হবে।

    জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই জাতীয় সনদে সই করছেন মুহাম্মদ ইউনূস, ১৭ অক্টোবর ২০২৫। ছবি: তথ্য অধিদপ্তর, উইকিমিডিয়া কমন্স।

    সংক্ষেপে

    • ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে বৈধ ভোটের প্রায় ৬৮ শতাংশ জুলাই জাতীয় সনদের সাংবিধানিক প্রস্তাবের পক্ষে পড়ে। একই দিনে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়।
    • বাস্তবায়ন আদেশে সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও ১৮০ কার্যদিবসের মেয়াদের কথা ছিল। বিএনপির সংসদ সদস্যরা পরিষদের শপথ নেননি। পরিষদ কখনো বসেনি। মেয়াদ ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার যে হিসাব প্রকাশিত হয়েছে, তা নির্ভর করছে মেয়াদ কখন শুরু হয়েছে, সে বিষয়ে বিতর্কিত একটি ব্যাখ্যার ওপর।
    • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ১২ সদস্যের সংসদীয় সংশোধনী কমিটির সভাপতি। জামায়াত ও এনসিপি এতে যোগ দিতে অস্বীকার করেছে। মন্ত্রী বলেছেন, ডিসেম্বরে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে বিল আসতে পারে।
    • কমিটি বিলুপ্তি, পরিষদ গঠন এবং স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এনসিপি ৩০ অক্টোবর ঢাকার শাহবাগে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।
    • তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থায় ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের জন্য গণভোটের সুরক্ষাও বিবেচনা করছে সরকার। কমিটির কাজের মাধ্যমে প্রস্তাবিত এই সুরক্ষা এখনো আইনে পরিণত হয়নি।

    একই দিনে দুটি ভোট

    ২০২৪ সালের জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর এই সনদ তৈরি হয়। অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসন শেষ হয়। জাতিসংঘের হিসাবে, সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে সনদ নিয়ে আলোচনা করে। রাজনৈতিক দলগুলো ১৭ অক্টোবর ২০২৫ এতে সই করে। সনদের ৮৪ প্রস্তাবের মধ্যে ৪৮টি সাংবিধানিক সংস্কার। এর মধ্যে রয়েছে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা, নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা, রাষ্ট্রপতির নিয়োগক্ষমতায় পরিবর্তন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সুরক্ষা।

    ১২ ফেব্রুয়ারি ফল ঘোষিত ২৯৭ সংসদীয় আসনের মধ্যে বিএনপি জেতে ২০৯টিতে। সংসদে সরাসরি নির্বাচিত ৩০০টি এবং নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৫০টি আসনের বিধান আছে। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংশোধনীর জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন সরকার ও তার মিত্রদের রয়েছে।

    ভোটাররা গণভোটের প্রস্তাবও সমর্থন করেন। প্রথম গেজেটে প্রায় ৪ কোটি ৮২ লাখ ‘হ্যাঁ’ ও ২ কোটি ২১ লাখ ‘না’ ভোট ছিল। ২৫ ফেব্রুয়ারি তারিখের সংশোধিত গেজেটে, যা নিয়ে পরদিন খবর প্রকাশিত হয়, প্রায় ৪ কোটি ৭২ লাখ ‘হ্যাঁ’ এবং ২ কোটি ২০ লাখ ‘না’ ভোট ছিল। বৈধ ভোটের আনুমানিক দুটি মোটের মধ্যে পার্থক্য প্রায় ১১ লাখ। নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবেও বসবেন, এমন একটি প্রক্রিয়ার পক্ষে রায় দিয়েছিল ওই ভোট।

    সংসদ সদস্যদের শপথের আগে ১৬ ফেব্রুয়ারি এনসিপি সনদে সই করে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের সংসদ সদস্যরা সংসদ ও পরিষদের দুটি শপথই নেন। বিএনপির সদস্যরা শুধু সংসদের শপথ নেন। দলটির বক্তব্য, পরিষদের দ্বিতীয় শপথের সাংবিধানিক ভিত্তি নেই।

    পরিষদ ও মেয়াদ শুরুর বিতর্ক

    ৩১ মার্চ সালাহউদ্দিন সংসদে বলেন, বাস্তবায়ন আদেশ শুরু থেকেই অবৈধ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এপ্রিলে প্রতিশ্রুতি দেন, ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে সংসদের মাধ্যমে সনদের “প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি লাইন ও প্রতিটি বিধান” বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারের অবস্থান হলো, গণভোট নিজে সংবিধান সংশোধন করেনি; সাংবিধানিক পরিবর্তন সংসদের মাধ্যমেই করতে হবে।

    প্রস্তাবিত ১০০ আসনের উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব এবং একই ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান থাকা নিষিদ্ধ করার বিষয়ে বিএনপি ভিন্নমত জানিয়েছিল। তারেক দুই পদেই আছেন। জাতীয় ভোটের অনুপাতের বদলে সংসদে আসনের শক্তি অনুযায়ী উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন চায় বিএনপি। গণভোটে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব সমর্থন পেলেও দলটির নথিভুক্ত আপত্তি দূর হয়নি।

    নাটশেল টুডের ১৭ অক্টোবরের সম্পাদকীয়তে হিসাব করা হয়, সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার দিন ১২ মার্চ থেকে গণনা করলে পরিষদের ১৮০ কার্যদিবসের মেয়াদ প্রায় ১০ ডিসেম্বর শেষ হবে। সম্পাদকীয়তে বিপরীত ব্যাখ্যাও ছিল: পরিষদ কখনো বসেনি বলে এর সময় গণনাই শুরু হয়নি। সেখানে ১৪২ দিন পার হওয়া ও ৩৮ দিন বাকি থাকার হিসাবটি ১৭ অক্টোবরের গণনা; ২৭ অক্টোবরের চলতি হিসাব নয়।

    ওই সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়, পরিষদ নির্ধারিত সময় পার করলে সংস্কারগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হওয়ার একটি বিধান চূড়ান্ত আদেশে বাদ দেওয়া হয়েছিল। প্রস্তাবিত পরিষদ কখনো বৈঠকে বসেনি।

    কমিটির কাজের পরিধি নিয়ে প্রশ্ন

    জুলাইয়ে সংসদ সালাহউদ্দিনের সভাপতিত্বে ১২ সদস্যের সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটি গঠন করে। জামায়াত ও এনসিপি এতে অংশ নিতে অস্বীকার করে। সালাহউদ্দিন বিরোধীদের প্রস্তাব আহ্বান করেছেন এবং সেগুলো বিবেচনা করা হবে বলেছেন।

    কমিটির সপ্তম বৈঠক, ১৩ অক্টোবরের আলোচনায়, বিশেষজ্ঞরা সংবিধান সংশোধনে বিচার বিভাগের এখতিয়ার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিকল্প ব্যবস্থা এবং উচ্চকক্ষের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে মত দেন। ওই আলোচনা পরবর্তী শনিবার, ২৪ অক্টোবরের বৈঠক থেকে আলাদা।

    কমিটির কাজে নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্তির ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এনসিপি। দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ১৭ অক্টোবর বলেন, ইশতেহারভিত্তিক পদক্ষেপের অনুমতি দেওয়া নোটটি ঐকমত্য কমিশনের চূড়ান্ত খসড়ায় ছিল না। তাঁর অভিযোগ, সইয়ের দিন সরকারপক্ষের একজন প্রতিনিধি আলোচনা ছাড়াই সেটি যোগ করেন। সনদের পাঠ প্রস্তুত করা নিয়ে এটি এনসিপির অভিযোগ।

    সালাহউদ্দিন বলেছেন, কমিটি ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে চায় এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে বিল আসতে পারে। সুপারিশের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় বিলের খসড়া করবে। এই সময়সূচি এখনো একটি পরিকল্পনা; সংসদে পাস হওয়া সংশোধনী নয়।

    বিক্ষোভে যাচ্ছে বিরোধীরা

    জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সোমবার তারেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, যে গণভোটে তিনি নিজে ভোট দিয়েছেন, এখন তার ফল প্রত্যাখ্যান করছেন। পরওয়ার বলেন, একই দিনে দুটি ভোট হলেও সরকার একটির ফল মানছে, অন্যটি প্রত্যাখ্যান করছে। তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানান।

    এনসিপি ৩০ অক্টোবর বেলা ৩টায় শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিক্ষোভ ঘোষণা করেছে। সংসদীয় কমিটি বিলুপ্ত করে পরিষদ গঠনের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর পদত্যাগ চায় দলটি। মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে দাবির কারণ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা, জ্বালানির ব্যয় ও জীবনযাত্রার খরচ বাড়ার কথা বলছে তারা।

    গণভোটের সুরক্ষার প্রস্তাব

    সালাহউদ্দিন বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থায় ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের জন্য গণভোটের শর্ত বিবেচনা করছে সরকার। এই ব্যবস্থায় নিরপেক্ষ প্রশাসনের অধীনে নির্বাচন হয়। প্রস্তাবিত সুরক্ষা ভবিষ্যৎ সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার পক্ষে ব্যবস্থাটি বাতিলের ক্ষমতা সীমিত করবে।

    মন্ত্রী আরও বলেছেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর বিরুদ্ধে আদালতের রায়ের পর ১৪২ অনুচ্ছেদের গণভোটের বিধান ফিরে এসেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবনা বা অন্য কিছু সুরক্ষিত বিধানে সংশোধনী আনলে রাষ্ট্রপতির সম্মতির আগে গণভোট লাগবে। সরকারের প্রস্তাবিত সংস্কারে এই দাবির প্রয়োগ নির্ভর করবে বিলের প্রকৃত বিধানগুলোর ওপর। এই প্রতিবেদনে বর্ণিত পর্যায়ে এমন কোনো বিল উত্থাপিত হয়নি।

    সরকার সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে সংশোধনীর প্রস্তুতি নিচ্ছে। জামায়াত ও এনসিপি পরিষদের দাবি বহাল রেখেছে। কমিটির পরিকল্পিত ডিসেম্বরের প্রতিবেদনের আগে এনসিপির পরবর্তী ঘোষিত বিক্ষোভ ৩০ অক্টোবর।

    এরপর কী

    • এনসিপির শাহবাগের বিক্ষোভ ৩০ অক্টোবর বেলা ৩টায় হওয়ার কথা।
    • কমিটি ডিসেম্বরে প্রতিবেদন শেষ করতে চায়। সালাহউদ্দিন বলছেন, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে বিল উত্থাপিত হতে পারে।
    • পরিষদের মেয়াদ ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার যেকোনো হিসাবই বিতর্কিত শুরুর তারিখের ওপর নির্ভরশীল। ১৭ অক্টোবরের অনুমিত হিসাব দিয়ে অবিতর্কিত আইনি মেয়াদসীমা প্রতিষ্ঠা করা যায় না।
    • বিলের বিষয়বস্তু ও পরবর্তী কোনো আইনি রায় নির্ধারণ করবে, গণভোট ও সংশোধনীর কোন প্রশ্নগুলো বাস্তবে উঠবে।
  • সরকারের সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ ১১ দলের প্রত্যাখ্যান

    সরকারের সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ ১১ দলের প্রত্যাখ্যান

    গণভোটে অনুমোদিত প্রক্রিয়া এড়িয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

    রোববার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়কে সম্মান জানিয়ে সাংবিধানিক মতপার্থক্য নিরসন করাই গণতান্ত্রিক পথ।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী নির্বাচিত এমপিদের দুটি শপথ নেওয়ার কথা—একটি সংসদ সদস্য হিসেবে এবং অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। বিরোধী দলের এমপিরা দুটি শপথ নিলেও বিএনপির এমপিরা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তার দাবি, এখানেই বর্তমান সাংবিধানিক সংকটের প্রধান বিষয়টি তৈরি হয়েছে।

    তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ সংবিধানসৃষ্ট প্রতিষ্ঠান হলেও সংবিধানের মৌলিক পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতাই চূড়ান্ত। গণভোটে অনুমোদিত প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে বিষয়টি সাধারণ সংসদীয় সংশোধন প্রক্রিয়ায় নেওয়া জনগণের ম্যান্ডেটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ সংসদকে সংশোধনের ক্ষমতা দিলেও তা সীমাহীন নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের বিভিন্ন রায়ে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সাধারণ সংশোধনী দিয়ে পরিবর্তনের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, ত্রয়োদশ ও ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের নজিরও তুলে ধরেন তিনি।

    ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে তিনটি দাবি জানানো হয়। এগুলো হলো—গণভোটের রায় যথাযথভাবে কার্যকর করা, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়ন এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য করে পরিষদ কার্যকর করা।

    এ ছাড়া সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের কোনো একতরফা উদ্যোগ থেকে বিরত থেকে জনগণের প্রত্যাশা, গণভোটের রায় ও রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    এদিকে, বিশেষ সংসদীয় কমিটি গত শুক্রবার জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলোকে সংবিধান সংশোধন নিয়ে আলোচনায় আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আজ কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের কথা রয়েছে। এ ছাড়া বিচার বিভাগ, আইনজীবী, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, বুদ্ধিজীবী ও সম্পাদকদের সঙ্গেও আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে।

    গত ২৯ এপ্রিল সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যের বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয় সরকার। জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল সদস্যদের নাম না দেওয়ায় পরে ১৩ জুলাই ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

  • এক দফায় যেতে ১১ দলকে বাধ্য করা হচ্ছে; সরকারকে-মামুনুল হক

    এক দফায় যেতে ১১ দলকে বাধ্য করা হচ্ছে; সরকারকে-মামুনুল হক

    গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা–রংপুর লংমার্চের যাত্রাপথে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে আয়োজিত পথসভায় আমিরে মজলিস আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, জনগণের গণরায় উপেক্ষা করে কোনো সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৭০ ভাগ মানুষের গণভোটের রায় নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করুন। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে সংস্কারের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন।

    সরকারকে সতর্ক করে আমিরে মজলিস বলেন, জনগণের অধিকার ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে ১১ দল জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনে এক দফার দিকে ধাবিত হবে। অতীতে জনগণের গণরায় উপেক্ষা করে কোনো শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেনি; ভবিষ্যতেও কেউ পারবে না।

    তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ জনগণের মৌলিক সমস্যার সমাধান করতে হবে। শুধু ক্ষমতায় থাকার জন্য জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে কারচুপি গ্রহণযোগ্য নয়।ভারত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের আদালত কর্তৃক জারি হওয়া পরোয়ানাভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের বাংলাদেশে হস্তান্তর করতে হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দিল্লিতে দেখতে চায় না জনগণ।

  • ফিরল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট

    ফিরল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট

    নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান ফিরছে সংবিধানে। গতকাল বৃহস্পতিবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোট সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রাখে আপিল বিভাগ। এ রায়কে ঐতিহাসিক ও দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণের অনন্য দলিল হিসেবে উল্লেখ করেছেন সরকারের নীতিনির্ধারকসহ রাজনীতিবিদ ও আইনজীবীরা।

    রায়ের পর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথ রুদ্ধ হলো। সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান অন্তর্ভুক্ত হবে।আইনজীবীরা জানান, গ্রহণযোগ্য ও কাঙ্ক্ষিত মানের নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা হচ্ছে সর্বজনস্বীকৃত ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থার অধীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকার এটিকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। তারই প্রত্যক্ষ নির্দেশে বিতর্কিত প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় দেন। অবসরে গিয়ে এমন রায় দেওয়ার ঘটনাকে ইতিহাসের ঘৃণ্য ও জঘন্যতম নজির বলে উল্লেখ করেন আইনজীবীরা। ফ্যাসিস্ট হাসিনার সরকার বহুল বিতর্কিত এ রায়কে পুঁজি করে ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে একতরফাভাবে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করে। ওই সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান বিলোপসহ সংবিধানের ৫৪টি অনুচ্ছেদ ও উপঅনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনে।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মুখে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও হাসিনার পলায়নের পর সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট পুনরায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এবং গণভোটের বিধান সংবিধানে পুনর্বহালের আদেশ দেয়। গতকাল প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে চার বিচারপতির ফুল আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে রায় দেয়।

    স্বৈরাচারের ফেরার পথ রুদ্ধ হলো

    আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে রায়ের পর আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ইনশাল্লাহ। এটা আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। এটা বিএনপির দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলনের ফসল। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও’ সংগ্রামের মূল লক্ষ্য ছিল, মানুষ যেন তার নিজের ভোট নিজে দিতে পারে।

    সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রের কবর রচনা করে ফ্যাসিবাদের নীলনকশা তৈরি করা হয়েছিল। আমরা শুরু থেকেই বলেছিলাম, বিতর্কিত বিচারপতি খায়রুল হকের এ-সংক্রান্ত রায় ছিল সংবিধানপরিপন্থী। হাইকোর্ট বিভাগ ওই সংশোধনীর কিছু বিষয় অবৈধ ঘোষণা করেছে এবং বাকি বিষয়গুলো জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। আপিল বিভাগও হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছে। আমরা এ রায় ও জুলাই সনদকে সামনে রেখে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেব।

    তিনি বলেন, রায়ে যে ৫৪টি বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে, তার সবকটি আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অ্যাড্রেস করব। এক্ষেত্রে আমাদের মূল বিবেচ্য বিষয় থাকবে জুলাই সনদ। জুলাই জাতীয় সনদ সামনে রেখে বিষয়টি বাস্তবায়ন করা হবে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, সুশাসন, মানবাধিকার এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতে যা যা সংশোধন, সংযোজন ও পরিমার্জন প্রয়োজন, সব করা হবে।

    জাতীয় সংসদ সিদ্ধান্ত নেবে

    অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করে যখন রিট করা হয়, তখন হাইকোর্ট চারটি বিষয়ে পর্যবেক্ষণ দিয়েছিল। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে—নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে ফিরে আসা, গণভোট ফিরে আসা এবং সংবিধানে ৭(ক), ৭(খ) বাতিলের রায় বহাল থাকল। শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের রায়টি বহাল থাকল।

    তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশকিছু বিষয়ে পরিবর্তন এনে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী এনেছিল পতিত আওয়ামী লীগ সরকার। সংশোধনীতে সংবিধানে ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছিল। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করলে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান, জাতির পিতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বীকৃতির পাশাপাশি সংবিধানে জাতীয় চার মূলনীতি—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনা হয়।

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরো আইন ও আইনের কয়েকটি ধারার বৈধতা নিয়ে ২০২৪ সালে হাইকোর্টে আলাদা দুটি রিট হয়। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় দেয়। রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোট বাদ দেওয়াসংক্রান্ত ওই সংবিধান আইনের ২০ ও ২১ ধারা বাতিল ঘোষণা করা হয়। ওই দুটিসহ পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭(ক), ৭(খ), ৪৪(২) অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্ট।

    হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় গত বছরের ৮ জুলাই প্রকাশিত হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং অন্যরা পৃথক লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন।

    এরপর আপিল বিভাগ গত বছরের ১৩ নভেম্বর লিভ মঞ্জুর (আপিল করার অনুমতি) করে আদেশ দেয়। এরপর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি আপিল করা হয়, যা বৃহস্পতিবার খারিজ হলো।

    তিনি বলেন, এ রায়ের ফলে সংবিধানে ফিরল গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আনা বাকি পরিবর্তনগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার এখন জাতীয় সংসদের।

    যুগের পরিবর্তনে সংবিধানে পরিবর্তন আনতে হয়

    রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রিটকারী জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবী শিশির মনির বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর রায়ে হাইকোর্ট চারটি বিষয়কে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিল, যা আপিল বিভাগে বহাল থাকল। যে বিষয়গুলো অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়েছিল, তার মধ্যে ছিল—সংবিধানের কতগুলো বিষয় পরিবর্তন করলে তা হবে সাংবিধানিক রাষ্ট্রদ্রোহিতা, গণভোটের বিধান বাতিল, নিম্ন আদালতকে রিটের ক্ষমতা দেওয়া ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল।

    তিনি বলেন, চারটি বিষয়কে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হলো। এছাড়া বাকি যে বিষয়গুলো ছিল, সেগুলো জাতীয় সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সংবিধান কোনো দণ্ডবিধি নয়। কেউ যদি অপরাধ করে, তবে সে অপরাধ ডিটারমিন করবে দণ্ডবিধি। প্রসেস ফলো করবে ফৌজদারি কার্যবিধি। পৃথিবীর কোনো সংবিধানে শাস্তির কথা বলা থাকে না। আর সংবিধান পরিবর্তন করা যাবে না, এটা সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। ৫০ বছর পর আমরা কেউই থাকব না, নতুন জেনারেশন আসবে, আন্ডারস্ট্যান্ডিং হবে, এডুকেশন হবে। এজন্য সংবিধানকে বলা হয় লিভিং ডকুমেন্ট। এটিতে সময় ও যুগের সঙ্গে পরিবর্তন আনতে হয়। যদি বলি কোনো পরিবর্তন আনা যাবে না, তার মানে কি এটা বাইবেল? এটা কি কোরআন? আনসার ইজ নো। এজন্য এই পার্টটুকু বাতিল করে দেওয়া হয়েছে ।

    রিটকারী সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর বুঝতে পারব আদালত কোন বিষয়গুলো সংসদের ওপর ছেড়ে দিয়েছে আর কোন কোন বিষয় নিয়ে কী কী পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।

    আপিলে সুজনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া, কারিশমা জাহান এবং রিদুয়ানুল করিম। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইমরান এ সিদ্দিক। অপর আপিলকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এএসএম শাহরিয়ার কবির।

    রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে শুনানিতে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্যাহ আল মাসুদ।

  • উপদেষ্টা পরিষদে গণভোট অধ্যাদেশ অনুমোদন

    উপদেষ্টা পরিষদে গণভোট অধ্যাদেশ অনুমোদন

    উপদেষ্টা পরিষদে গণভোট অধ্যাদেশ আকারে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫ এর খসড়ার নীতিগত ও চুড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

    প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে সকাল ১১টায় এই বৈঠক শুরু হয়।

    এর আগে গত ২০ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা গণভোট আইন অনুমোদন করেন। রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

    তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনও দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। এ সচিবালয়ে নিম্ন আদালতের বিচারকদের সব কিছুর দায়িত্বে থাকবে। ফলে নিম্ন আদালতের বিচারকদের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। সচিবালয় গঠনের পর এটি কার্যকর হবে।

  • জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোটের প্রস্তুতি নিতে ইসিকে চিঠি দিয়েছে সরকার

    জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোটের প্রস্তুতি নিতে ইসিকে চিঠি দিয়েছে সরকার

    গণভোটের প্রস্তুতি নিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছে সরকার। চিঠিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই গণভোটের আয়োজন করতে বলা হয়েছে। আজ ২২ নভেম্বর) ইসির সচিব আখতার আহমেদ এই তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, সরকার চিঠি দিয়ে জানিয়েছে-গণভোট করা ইসির দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট করার জন্য বলা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল দিয়ে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট করার পরিকল্পনা রয়েছেন নির্বাচন কমিশনের।