ট্যাগ খুন

  • গুম-খুনের শিকার ও জুলাই শহীদ পরিবারের ৭৪ জনকে চাকরির নিয়োগপত্র দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    গুম-খুনের শিকার ও জুলাই শহীদ পরিবারের ৭৪ জনকে চাকরির নিয়োগপত্র দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের ৭৪ সদস্যকে চাকরির নিয়োগপত্র দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ১০ জনের হাতে প্রধানমন্ত্রী নিজে নিয়োগপত্র তুলে দেন।

    প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের ৭৪ সদস্যকে আজ চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জনের হাতে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগপত্র তুলে দেন।

    নিয়োগপত্র পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন গুমের শিকার ইফতেখার আহমেদ দিনারের ভাই ইশফাক আহমেদ, নুরুজ্জামান জনির ভাই মনিরুজ্জামান হীরা, আনোয়ার হোসেন মাহবুবের ভাই আনান হোসেন নূর, সেলিম রেজা পিন্টুর ভাই হাসনাইন রেজা এবং খালেদ হোসেন সোহেলের স্ত্রী শাম্মী সুলতানা।

    এ ছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানে আহত দৃষ্টিশক্তিহীন যোদ্ধা আলাল আহমেদ, শহীদ আলভীর বাবা মো. আবুল হোসাইন, শহীদ আহনাফের মা জারতাজ পারভীন, আহত যোদ্ধা কাজী সাইমুম সিরাজ এবং ইসরাফিল ইসলামের ভাই মাহবুব আলমসহ অনেকে নিয়োগপত্র পেয়েছেন।

    নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের কয়েকজন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তারা গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানান।

    অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

    অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক, শাহরিয়ার পামির এবং ‘বিএনপি আমার পরিবার’-এর সদস্য মোকছেদুল মোমিন মিথুনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

  • কোটচাঁদপুরে ভাইপোর হাতে চাচা নিহত

    কোটচাঁদপুরে ভাইপোর হাতে চাচা নিহত

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে আপন চাচা ও চাচাতো ভাইয়ের দা-এর কোপে মো. তবিবর রহমান (৪৫) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
    রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার দোড়া ইউনিয়নের মল্লিকপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তবিবর রহমান ওই গ্রামের নবী ছদ্দীন মণ্ডলের ছেলে।
    স্থানীয়রা জানান, সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে তবিবর রহমান তার চাচি হাসিনা বেগমকে মারধর করেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে হাসিনা বেগমের স্বামী উজির মণ্ডল (৫৫) ও তার আত্মীয় শাকিল (৩২) তবিবর রহমানকে দা দিয়ে আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
    খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে পুলিশ।
    অভিযুক্ত উজির মণ্ডল মল্লিকপুর গ্রামের মেরেজ মণ্ডলের ছেলে এবং শাকিল একই গ্রামের গফুর মণ্ডলের ছেলে।
    এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে।

  • গুম-খুন-নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোকে সহায়তায় আলাদা অধিদপ্তর: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

    গুম-খুন-নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোকে সহায়তায় আলাদা অধিদপ্তর: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

    গত ১৭ বছরে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোকে মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান। তিনি বলেন, এসব পরিবারের জন্য নতুন করে একটি অধিদপ্তর করা হবে এবং তাদের গেজেটভুক্ত করে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

    আজ শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আহমেদ আজম খান এসব কথা বলেন। বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ফাউন্ডেশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

    আহমেদ আজম খান বলেন, ‘নির্যাতিতদের পরিবারগুলোর জন্য সরকার কিছু করতে চায়। এ-সংক্রান্ত নতুন করে একটি অধিদপ্তর করা হবে এবং তাদের গেজেটভুক্ত করে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।’

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে যারা গ্যাজেটভুক্ত হওয়ার কথা…অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তড়িঘড়ি করে সেটা ক্লোজ করে দিয়েছে। কিন্তু আমরা বঞ্চিতদের মূল্যায়ন করতে সেটা আবার ওপেন করেছি। মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বিএনপির অনেক লোককে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফ্যাসিবাদী শক্তি যাদের বঞ্চিত করেছে, আমরা তাদের মূল্যায়ন করব।’

    বর্তমান গ্যাস, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটকে বিগত সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজ বিরোধী দল এই ৫ মাসেই বলছেন আমরা ব্যর্থ। অথচ ১৮ বছরের জঞ্জাল পরিষ্কার করা তো ১৮ মাসেও সম্ভব নয়। আজকের বিদুৎ, গ্যাস ও অর্থনৈতিক সংকট এগুলো কি আমাদের তৈরি? এগুলো ফ্যাসিবাদী সরকারের তৈরি।’

    মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বদ্ধপরিকর যে, এ দেশকে বিনির্মাণ করবেন। কিন্তু যারা নানা রকম ষড়যন্ত্র করছে তাদের বলব, আপনারা আওয়ামী রেজিমে যাবেন না।’ তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর এই দেশকে বিনির্মানে নেতৃত্বে আসা একজন ব্যক্তির প্রতি মানুষের প্রত্যাশা ছিল, তবে তিনিও যেমন নিন্দিত হয়ে বিদায় নিয়েছেন, তাঁর কন্যাও তেমন নিন্দিত, ফ্যাসিবাদী হয়ে বিদায় নিয়েছেন। অপরদিকে আরেকটি পরিবার জিয়াউর রহমান নিজের জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আরাম করে জীবন উপভোগ করেননি, লড়াই করে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। তিনি ভগ্ন বাহিনীকে নতুন করে গঠন করেছেন। যার প্রতি মানুষের আশা থাকবার কথা ছিল না, তার জীবনের কর্ম দিয়ে মানুষের মনে আশা জাগিয়েছেন।

    মন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়া জীবিতকালে যেমন ইতিহাস ছিলেন, মৃত্যুর পরও ইতিহাস হয়ে আছেন। দেড় কোটির বেশি মানুষ তাঁর জানাযায় উপস্থিত হয়েছেন। ১০ কোটির বেশি মানুষ টিভিতে জানাজা দেখেছেন। আর ১৫ কোটি মানুষ ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন বলেছেন। এমন জনপ্রিয়তা পৃথিবীর ইতিহাসে একটা বিরল ঘটনা। যতবার নির্বাচনে এসেছেন, তিনি ততবারই মানুষের ভালোবাসা পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।’

    সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হচ্ছেন একটা অসমাপ্ত ইতিহাস…আমরা যারা উনার সাথে কাজ করেছি, তারা সবাই উনার কাছে মায়ের মতো ভালোবাসা পেয়েছি। আমার মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে উনার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। তখন উনি বলেছিলেন, “আলাল তোমার মা মারা গেছে তুমি জেলে থাকতে, আমার মাও মারা গেছে আমি জেলে থাকতে।” এই কথা শুনে আমার মন শান্ত হয়ে গেছিল। শোক ভুলে গিয়েছিলাম।’

    বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এম জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য শিরিন সুলতানা ও সেলিনা সুলতানা নিশিতা; বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাছের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ ও কৃষকদের সহসভাপতি জামাল উদ্দিন খান মিলন।

  • খোকসায় মাদক-আধিপত্যের জেরে জোড়া খুন

    খোকসায় মাদক-আধিপত্যের জেরে জোড়া খুন

    কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় মাদক বেচাকেনা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধে সশস্ত্র হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের দেবীনগর ব্রিক ফিল্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আরও অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

    নিহতরা হলেন, ওসমানপুর ইউনিয়নের হিজলাবট ব্রিক ফিল্ড এলাকার মৃত চাঁদ আলীর ছেলে ফারুক হোসেন (৪০) এবং একই ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের আতিয়ার শেখের ছেলে আব্দুল শেখ (২৫)। আহতদের মধ্যে মুল্লুক মণ্ডল কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে গ্রামপুলিশ মিন্টু চৌকিদার ও নূর আমিন নামে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

    পুলিশ ও স্থানীয় বরাতে জানা যায়, এলাকায় মাদক বেচাকেনা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ছালিম হোসেন ও মিন্টু চৌকিদার গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত ১৩ জুলাই ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রতিপক্ষের হামলায় হাসান শেখ নামে একজন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার পর রাতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    স্থানীয়দের দাবি, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ৮০ থেকে ১০০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছালিম হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলার সময় ছালিম হোসেন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও বাড়িতে থাকা ফারুক হোসেন, আব্দুল শেখ ও মুল্লুক মণ্ডল হামলাকারীদের কবলে পড়েন। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাদের গুরুতর আহত করে। ঘটনাস্থলেই ফারুক ও আব্দুল শেখের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা আহত মুল্লুক মণ্ডলকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

    নিহত ফারুকের স্ত্রী রাহেলা অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ তার স্বামীকে মাদক বেচাকেনায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। রাজি না হওয়ায় এক মাস আগে তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এরপর থেকে প্রাণভয়ে ফারুক দেবীনগরে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানেই হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    অন্যদিকে নিহত আব্দুল শেখের মা ময়না খাতুন বলেন, প্রতিপক্ষের ভয়ে তার ছেলে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তার স্বামীকে কুপিয়ে আহত করার পর গভীর রাতে ছেলেকেও হত্যা করা হয়।

    তবে পুলিশ বলছে, স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা এতে জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

    খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, স্থানীয় মিন্টু চৌকিদার ও ছালিম হোসেন গ্রুপের মধ্যে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে।

    পুলিশ জানায়, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

  • ৫৯ রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন, ৪৫ জন বিএনপির

    ৫৯ রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন, ৪৫ জন বিএনপির

    চলতি বছরের প্রথম সাড়ে পাঁচ মাসে সারাদেশে ৫৯ রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ৪৫ জন এবং জামায়াতের সাতজন ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাতজন। দলীয় কোন্দল এবং অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩০ জন। এর মধ্যে ২৩ জনই বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। জামায়াতের পাঁচজন ও আওয়ামী লীগের দুজন। বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কোন্দলে নিহত হয়েছেন ১৪ জন। বিএনপি ও জামায়াতের বিরোধে নিহত হয়েছেন ১১ জন। তাদের মধ্যে ছয়জন বিএনপির ও পাঁচজন জামায়াতের নেতাকর্মী। বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সহিংসতায় নিহত হয়েছেন পাঁচজন। তাদের তিনজন বিএনপির ও দুজন আওয়ামী লীগের।

    অন্যান্য ঘটনায় খুন হন ২৯ নেতাকর্মী। তাদের মধ্যে ২২ জন বিএনপির, পাঁচজন আওয়ামী লীগের ও দুজন জামায়াতের। এসব খুনের ১৩টির ক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তার, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, চাঁদা না দেওয়া, জমি নিয়ে বিরোধ, পারিবারিক, ওয়াজ-মাহফিলের টাকার হিসাব ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন নিয়ে বিরোধসহ নানা কারণ বেরিয়ে এসেছে। বাকি ১৬টি খুনের কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান ও সমকালের নিজস্ব তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

    রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধে সবচেয়ে বেশি ১১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে খুলনা বিভাগে। এর পরের অবস্থানে আছে রাজশাহী, সেখানে আটজন খুন হয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে পাঁচ, ময়মনসিংহ বিভাগে তিন এবং চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুর বিভাগে একজন করে খুন হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪ জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে, পাঁচজনকে গুলি করে এবং ১১ জনকে লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে, ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে ও কিলঘুসি মেরে হত্যা করা হয়েছে।

    আসকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৩৪৭টি সংঘাতের ঘটনায় ৫৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। তবে সেই সূত্র ধরে যাচাই করতে গিয়ে ৫৩টি ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত হয় সমকাল। এ ছাড়া একই সময়ে চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপিকর্মী কাউসারুজ্জামান বাবলুকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে। আর জুনে এ পর্যন্ত খুন হয়েছেন পাঁচ রাজনৈতিক নেতাকর্মী। এর মধ্যে তিনটি ঘটনায় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত মোট ৫৯ রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন হয়েছেন।

    আসকের তথ্য বলছে, বছরের প্রথম পাঁচ মাসে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘর্ষে আহত হন দুই হাজার ৬৩৬ নেতাকর্মী। এর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে সর্বাধিক ৯৮০ জন আহত হন। এর বাইরে বিএনপি-বিএনপি সংঘর্ষে ৭৪৫, বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে ২৭০, বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে ১২৯ ও বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষে ১০২ জন আহত হয়েছেন।

    যেসব কারণে খুন
    রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরোধে ৩০ খুনের মধ্যে সাতটিই ছিল জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে। নির্বাচনের আগে ও পরে প্রতিপক্ষের প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে সহিংসতায় এই সাতজন নিহত হন। তাদের চারজন বিএনপির ও তিনজন জামায়াতের নেতাকর্মী।

    নির্বাচনী বিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে দুজন গুরুতর আহত হন। পরে সেদিনই মারা যান জামায়াতকর্মী হাফিজুর রহমান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ মার্চ মৃত্যু হয় স্থানীয় বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানের।

    জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, সংসদ নির্বাচনের পরদিন হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসানকে মারধর করে প্রতিপক্ষ। সেই ঘটনার জেরে ওই সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় মামলায় মেহেদীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    নির্বাচনের আগেও প্রাণহানির ঘটনা রয়েছে। গত ১৬ জানুয়ারি ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় ছুরিকাঘাতে বিএনপিকর্মী নজরুল ইসলাম নিহত হন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমরের (বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত) কর্মী ছিলেন। ঘটনার দিন এরশাদ বাজার এলাকায় তাদের একটি নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধনের পর সেখানে হামলা চালায় বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। এক পর্যায়ে নজরুল ইসলামকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।

    এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে খুন হন বিএনপির সাতজন এবং জামায়াত ও আওয়ামী লীগের একজন করে নেতাকর্মী। এর মধ্যে গত ২১ মার্চ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে শিমুল কাজী নামের এক তরুণ নিহত হন। সেদিন দুপুরে ছত্রপাড়া গ্রামে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি লাল খানের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তাতে আব্দুল হান্নানের কর্মী শিমুল খুন হন। এর আগে তাঁর দাদা নাজিম উদ্দিন কাজী নাতিকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে অসুস্থ হয়ে মারা যান। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ছত্রপাড়া গ্রামে বিপুল পরিমাণ খাসজমি আছে, যা সব সময় সরকারি দলের নেতাকর্মীদের দখলে থাকে। সেসব জমির নিয়ন্ত্রণসহ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই দুপক্ষের সংঘর্ষ হয়।

    ৮ জুন রাতে রাজধানীর মৌচাকের আনারকলি মার্কেটের সামনে রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় যুবদলের ২১ নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা হয়েছে। রমনা থানার ওসি মুহাম্মদ রাহাৎ খান বলেন, পাঁচ আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ফুটপাতের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

    এর আগে ২ জুন ময়মনসিংহে রানা মিয়া নামের এক বিএনপিকর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যপাড়া এলাকার গাঙের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। হত্যায় জামায়াত নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে মামলা হয়।

    কোতোয়ালি থানার ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এতে জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন– মাহমুদুল ইসলাম মাহিন (জামায়াত নেতা মফিদুল ইসলামের ছেলে), তোফাজ্জল হোসেন, তাঁর ছেলে হূমায়ুন কবীর আকাশ ও মনিরুল ইসলাম।

    গত ৯ জুন রাতে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি বাদল মোড়লকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া আহত হন বারুইপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুল্লাহ মোড়ল। রাজনৈতিক ও আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ জন্য স্থানীয় জামায়াত নেতাদের দুষছেন বিএনপির নেতারা।

    বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গত ১৫ জুন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে হাসানকে ঢাকা ও মশিউরকে যশোরের অভয়নগর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    এদিকে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিরোধে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গত ১০ মার্চ বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ হয়। এতে যুবদলকর্মী সজিব চৌধুরী আকাশ নিহত হন। সংঘর্ষের পর তাঁর খোঁজ মিলছিল না। পরদিন সবজি ক্ষেত থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন-সংক্রান্ত বিষয়ে একটা বিরোধ ছিল। এ মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    পুলিশ সূত্র জানায়, ইউপি নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় মুরাদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাব উদ্দিনের অনুসারীদের সঙ্গে বিএনপির কর্মী মোহাম্মদ আলিমের অনুসারীদের সংঘর্ষে নিহত হন সজিব।

    এ ছাড়া বিভিন্ন ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। যেমন সংগঠনের কমিটি গঠন ও পদ-পদবি নিয়ে মতবিরোধ থেকে সংঘর্ষে একজন, দরপত্র নিয়ে বিরোধে একজন, মসজিদের জলসায় প্রধান অতিথি করা নিয়ে সংঘাতে একজন, জলাশয় ইজারা নিয়ে সংঘর্ষে দুজন, জামায়াতের নারী কর্মীদের সভা নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে মারধরে একজন, খাসজমির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধে একজন, জামায়াত নেতার ফেসবুক পোস্টে বিরূপ মন্তব্য নিয়ে বিরোধে একজন, ধান কাটা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডতার জেরে একজন ও মাটি কাটা নিয়ে বিরোধে একজন খুন হন। পাশাপাশি রাজনৈতিক কারণে পূর্বশত্রুতার জের ধরে আওয়ামী লীগের একজন এবং মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন অপসারণ নিয়ে বিরোধে জামায়াতের একজন খুন হয়েছেন।

    ১৬ খুনের কারণ অজানা
    রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ ছাড়াও বিভিন্ন কারণে আরও ২৯ নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ২২ জন রয়েছেন। তাদের ৯ জনের খুনের কারণ জানা গেছে। তিনজন আধিপত্য বিস্তারের বিরোধে, একজন ওয়াজ-মাহফিলের টাকার হিসাব নিয়ে বিরোধ, ইউপি নির্বাচন নিয়ে বিরোধে একজন, একজন পারিবারিক বিরোধ, একজন জমি নিয়ে বিরোধ, একজন ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে ও একজন চাঁদা না দেওয়ায় খুন হন।

    ১৩ জুন দুপুরে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন যুবদল নেতা মাকসুদুল হক। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এ ঘটনায় আইয়ুব আলী নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। সংস্থাটি বলছে, মাসুদুল হক রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। তিনি যাতে নির্বাচন করতে না পারেন, সেজন্য হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

    রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    একই সময়ে আওয়ামী লীগ ও এর ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের পাঁচ নেতাকর্মীও অন্যান্য কারণে খুন হন। ব্যক্তিগত বিরোধে ভোলার চরফ্যাসনে যুবলীগ নেতা আবদুর রহিমকে কুপিয়ে এবং বাগেরহাটে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে শ্রমিক লীগ নেতা সোহাগ শেখকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আর নাটোরের সিংড়ায় জিয়া পরিষদের নেতা রেজাউল করিমকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার জেরে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে আগুন দিলে সাবিহা বেগমের মৃত্যু হয়। অপর দুটি খুনের কারণ জানা যায়নি। পৃথক ঘটনায় জামায়াত ও শিবিরের দুই নেতাকর্মী খুন হন। তাদের মধ্যে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে শিবিরের সাবেক নেতা জামাল উদ্দিনকে খুনের কারণ জানা গেছে। গার্মেন্টের ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিরোধে তাঁকে গুলি করি হত্যা করা হয়।

    রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করতে হবে: ড. তৌহিদুল হক
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল‍্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক সমকালকে বলেন, অনেক সময় একই রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসীদের মধ্যে স্বার্থ, পদ-পদবি, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে টাকা উপার্জনের মতো বিষয়ে বিরোধ দেখা দেয়। সেই বিরোধ প্রাণঘাতী সহিংসতায় গড়ায়। কোনো রাজনৈতিক সরকারই এটা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করতে হবে। নইলে রাজনৈতিক অপরাধ বন্ধ হবে না। তথ্য-প্রমাণ থাকলে অভিযুক্ত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। আর হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় থাকলে পুলিশের পক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন। সে ক্ষেত্রে সরকারকেই সহায়তা করতে হবে, যাতে পুলিশ সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারে।

    পুলিশ সদরদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুনের মামলার তদন্তে দেখা যায়, সব সময় রাজনৈতিক কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটে না। এর একটি বড় অংশই ব্যক্তিগত বিরোধ, জমি বা অন্যান্য কারণে ঘটে। আর অল্পসংখ্যক ঘটনায় রাজনৈতিক সংঘাতের বিষয়টি প্রমাণিত হয়।

  • বান্দরবানের রুমায় জঙ্গলে মিলল বম যুবকের লাশ

    বান্দরবানের রুমায় জঙ্গলে মিলল বম যুবকের লাশ

    বান্দরবানের রুমা উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়নের ময়ূরপাড়া এলাকার জঙ্গল থেকে লালরাম সাং বম (৩৫) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার বিকেলে উদ্ধার করা লাশটি আজ মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত শেষে বম সোশ্যাল কাউন্সিলের (বিএমসি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে ময়ূরপাড়ার উত্তর-পশ্চিম দিকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের জঙ্গলে লাশটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, তিন থেকে চার দিন আগে তাঁকে হত্যা করে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে। লাশে পচন ধরেছে।স্থানীয় বম জনগোষ্ঠীর লোকজন লাশটি লালরাম সাং বমের বলে শনাক্ত করেন। তাঁর বাড়ি রেমাক্রিপ্রাংসা ইউনিয়নের কেওক্রাডং পাহাড় পেরিয়ে মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা চুংসংপাড়ায়। চুংসংপাড়া থেকে ময়ূরপাড়ার দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। স্থানীয় লোকজন জানান, লালরাম সাং বম ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন।বান্দরবানের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী বলেন, লাশের মাথা ও ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এসব আঘাতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহরাওয়ার্দ্দী বলেন, স্থানীয় লোকজনের সংবাদে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রায় গলিত লাশটি উদ্ধার করে। শনাক্তের পর চুংসংপাড়ায় তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ওই এলাকায় মুঠোফোন নেটওয়ার্ক না থাকায় যোগাযোগ করা যায়নি। পরে ময়নাতদন্ত শেষে লাশটি বম সোশ্যাল কাউন্সিলের নেতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কে বা কারা এবং কেন তাঁকে হত্যা করেছে, তা এখনো জানা যায়নি।

  • খুলনায় আদালত চত্বরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত ২

    খুলনায় আদালত চত্বরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত ২

    সন্ত্রাস ও খুনের জনপদ হিসেবে পরিচিত খুলনায় আবারো রক্ত ঝরেছে। দুর্বৃত্তরা দিনদুপুরে আদালতপাড়ায় গুলি করে ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই যুবককে। নিহতরা হলেন, নতুন বাজার চর মসজিদ গলির বাসিন্দা মো. মান্নাফ হাওলাদারের ছেলে মো. হাসিব হাওলাদার। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক সম্পৃক্তার অভিযোগ আছে। আরেকজন হলেন রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের ইজাজ শেখের ছেলে মো. রাজন।

    রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের মেইন গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে খুলনা সার্কিট হাউজের অবস্থান। জনাকীর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সদস্যের উপস্থিতিতে এমন ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় জনমনে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রাজন ও হাসিব মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিতে এসেছিলেন। হাজিরা শেষে বের হয়ে মেইন রোডে আসামাত্রা আগে থেকে অবস্থান নেয়া ৩/৪ জন তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে একজন মাথায় গুলি লাগলে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে। তার মাথা থেকে মগজ বের হয়ে যায়। এরপরও দুর্বৃত্তরা তাদের চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।ঘটনার সময় আদালত ভবনের তৃতীয় তলা থেকে একজন দেখতে পান, গুলি ও কুপিয়ে দুইজনকে জখম করার পর ৩/৪ জন দৌড়ে ফরেস্ট অফিসের দিকে চলে যাচ্ছেন।অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, একটি মামলায় হাজিরা দিতে ৬ জন এসেছিলেন। এর মধ্যে চারজনের জামিন না-মঞ্জুর হয়। এই দুইজন জামিন নিয়ে বেরিয়ে আসামাত্র মেইন রোডে হামলার শিকার হন।খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) ত.ম. রোকনুজ্জামান আমার দেশকে বলেন, দুর্বৃত্তরা আদালত এলাকায় গুলি করে দুইজনকে হত্যা করেছে। কী কারণে এই হামলা এবং কারা জড়িত তা খুঁজে বের করতে পুলিশ কাজ করছে।