ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানালেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। ফরাসি ফরোয়ার্ডের আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যের জবাবে ইয়ামাল বলেছেন, গত মৌসুমের সাফল্য বিবেচনায় এই পুরস্কার তারই প্রাপ্য।
মুভিস্টার প্লাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল বলেন, ‘আমার মতে, এমবাপ্পে আর আমিই এখন বিশ্বের সেরা দুই খেলোয়াড়। সত্যিই বিশ্বাস করি, বিশ্বের সেরা ফুটবলার হিসেবে আমরা দুজনই আছি। তবে এ বছর আমি যে শিরোপাগুলো জিতেছি, সেই বিচারে ব্যালন ডি’অরটা আমারই প্রাপ্য।’
গত মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে ৪৫ ম্যাচে ২৪ গোল ও ১৭ অ্যাসিস্ট করেন ইয়ামাল। তার পারফরম্যান্সে লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জেতে কাতালান ক্লাবটি। স্পেনের হয়ে ১২ ম্যাচে এক গোল ও তিন অ্যাসিস্টের পাশাপাশি বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যও ছিলেন তিনি।
তবে এবারের ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনকে। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে গত মৌসুমে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল ও আট অ্যাসিস্ট করেন তিনি। বায়ার্নের হয়ে বুন্দেসলিগা ও জার্মান কাপ জয়ের পাশাপাশি ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন কেইন।
এবারের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান হবে ২৬ অক্টোবর লন্ডনে। ২০১৯ সালের পর থেকে নিয়মিত প্যারিসের থিয়েটার দ্যু শাতলেতে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল অনুষ্ঠানটি।
মিশরীয় ফরোয়ার্ড হামজা আবদেলকারিমের সঙ্গে ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত চুক্তিতে সম্মত হয়েছে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনা।
আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় (সিইএসটি) বার্সেলোনা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে সই করবেন আবদেলকারিম। এরপর ক্লাবের কমার্শিয়াল অফিসে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন তিনি।
২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ধারে বার্সেলোনায় যোগ দেন এই মিশরীয় ফরোয়ার্ড। মৌসুমের শেষ পর্যন্ত ধারে খেলার কথা থাকলেও খুব দ্রুতই নজর কাড়েন তিনি। ৮ মার্চ উস্কার বিপক্ষে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে অভিষেক ম্যাচেই গোল করেন আবদেলকারিম।
মাত্র ছয়টি লিগ ম্যাচে নয় গোল করেন তিনি। এর মধ্যে মন্টেকার্লোর বিপক্ষে বার্সেলোনার ৯-০ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিকও করেন। ওই ম্যাচেই বার্সেলোনা División d’Honor শিরোপা নিশ্চিত করে।
২০২৬ সালের গ্রীষ্মে আবদেলকারিমকে স্থায়ীভাবে দলে নেয় বার্সেলোনা। এরপর হান্সি ফ্লিকের অধীনে প্রথম দলের সঙ্গে প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিতে অংশ নেন তিনি। প্রাক-মৌসুমে চার গোল করে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হন এই ফরোয়ার্ড।
গত ৩১ আগস্ট স্প্যানিশ লা লিগায় রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে বার্সেলোনার হয়ে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে অভিষেক হয় আবদেলকারিমের।
রবি ঠাকুরের কবিতার লাইনগুলো নিশ্চয়ই জানা? ‘বহু দিন ধ’রে বহু ক্রোশ দূরে/ বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে/ দেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা/ দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু…।’
পরের লাইনগুলোয় একটু পরে আসা যাবে। আগে এই লাইনগুলোর তরজমা হোক। রবার্ট লেভানডফস্কি ও ফেরান তোরেস চলে যাওয়ার পর হন্যে হয়ে স্ট্রাইকার খুঁজেছে বার্সেলোনা। পছন্দ ছিল একটাই—আতলেতিকো মাদ্রিদের হুলিয়ান আলভারেজ। সে জন্য মাথার ঘাম পায়ে ফেলে চেষ্টা করেছে বার্সা। আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারের সেই ডাকে সাড়া দেওয়ার যত ইচ্ছাই থাকুক, আতলেতিকো তাঁকে ছাড়বে কেন! একে তো অমন একটা স্ট্রাইকারকে ছাড়লে তাদের লোকসান, তার ওপর লিগের প্রতিদ্বন্দ্বীদের হাতে আলভারেজকে তুলে দেওয়ার অর্থ হলো নিজেদের পায়েই কুড়াল মারা।
অতএব আলভারেজ মিশনে বহুদিন ধরে বহুভাবে চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরেছে বার্সা। মৌসুম শুরুর আগে তাই প্রশ্ন উঠেছিল কাতালান ক্লাবটির সেন্টার ফরোয়ার্ড হবেন কে? স্বয়ং বার্সার এক বোর্ড সদস্যই প্রাক্–মৌসুমে সেন্ট জর্জেস পার্কে বার্সার অনুশীলনে কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফুটিয়ে বলেছিলেন, ‘(দলে) কোনো সেন্টার ফরোয়ার্ড নেই।’
কিন্তু এখন আর সেই প্রশ্নের অস্তিত্ব নেই। রসিকতা করে কেউ কেউ বলতে পারেন, বার্সার নীতিনির্ধারকদের হয়তো বিশ্বকবির ওই কবিতার পরের লাইনগুলো জানা ছিল! সে যাহোক, পরের লাইনগুলোয় ফিরে দেখা যাক—‘দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া/ ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া/ একটি ধানের শিষের উপরে/ একটি শিশিরবিন্দু।’
রাফিনিয়া এখন বার্সার সেই ‘শিশিরবিন্দু’।
ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলতে আগে রবি ঠাকুরের লাইনগুলোর সারমর্ম একটু বুঝিয়ে বলতে হয়। কবি বলছেন, প্রচুর অর্থ ও সময় খরচ করে মানুষ দূর-দূরান্তে সৌন্দর্য দেখতে ছুটে যায়, কিন্তু ঘরে কিংবা ঘরের কাছে থাকা সুন্দর রূপটি অনেক সময় অদেখাই থেকে যায়।
এই রাফিনিয়াকে আগে দেখা যায়নি রয়টার্স
বার্সার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতরকার সেই ‘সৌন্দর্য’ অদেখা থাকলেও শেষ পর্যন্ত চোখ ও মস্তিস্কের রাডারে ব্যাপারটা ধরা পড়েছে। তার আগে অবশ্য ক্যাম্প ন্যুর চৌকাঠের ওপাশে দু–পা ফেলে মাদ্রিদে গিয়ে আলভারেজ নামে আর্জেন্টাইন সৌন্দর্যের সন্ধান করেছেন বার্সার নীতিনির্ধারকেরা। সেখান থেকে ব্যর্থ মনোরথে ঘরে ফিরে বার্সার টিম ম্যানেজমেন্ট যেন হঠাৎ করেই ব্রাজিলিয়ান সেই ‘শিশিরবিন্দু’ আবিষ্কার করে ফেললেন! দরকার ছিল শুধু সেই ‘শিশিরবিন্দু’র অবস্থানটা একটু পাল্টানো। কোচ হান্সি ফ্লিক সেটা করার পর ফলটা মিলছে হাতেনাতে।
চলতি মৌসুমে ৫ ম্যাচ খেলেছে বার্সা। সবগুলো ম্যাচেই শুরুর একাদশের হয়ে মাঠে নামেন রাফিনিয়া। তবে একটু অন্য ভূমিকায়। উইঙ্গার হিসেবে এত দিন খেললেও চলতি মৌসুমে রাফিনিয়াকে দেখা যাচ্ছে মুক্ত ফরোয়ার্ডের ভূমিকায়। তাতে ৫ ম্যাচে পেয়েছেন ৮ গোল, অ্যাসিস্ট ১টি। কিন্তু এটা তো মাঠের ফল। বার্সার নীতিনির্ধারকদের মনেও একটা প্রভাব পড়ার কথা। আলভারেজকে তাঁরা নিশ্চয়ই ভুলে গেছেন! কিংবা এভাবেও বলা যায়, উইঙ্গার থেকে ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলে রাফিনিয়া বার্সার আলভারেজ–বিরহ ভুলিয়ে ছেড়েছেন।
বার্সার মাঝমাঠ থেকে পেদ্রি কিংবা ডান প্রান্ত থেকে লামিনে ইয়ামাল গোলের পাস দিতে এখন রাফিনিয়াকে খোঁজেন। ফেইনুর্ডের বিপক্ষে তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় গোল সে কথাই বলে।
বার্সার সমর্থকেরা সে জন্য তাঁদের ক্লাবকে একটা ধন্যবাদও জানাতে পারেন। সর্বশেষ বিশ্বকাপ থেকে বার্সা আলভারেজের পেছনে ছুটতে শুরু করেছিল বলেই তো এই মৌসুমে রাফিনিয়ার ভেতরকার ফরোয়ার্ড–সত্তাটা জেগে উঠল! আর সেই সত্তায় শুধু গোল এবং অ্যাসিস্ট নয়, ফুটছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সেই ছন্দময় গতি, ড্রিবলিং, স্ট্যামিনা ও ফিনিশিং দক্ষতা। চ্যাম্পিয়নস লিগে ফেইনুর্ডের বিপক্ষে তাঁর প্রথম গোলকেই উদাহরণ হিসেবে নিতে পারেন।
বক্সে দৌড়ের ওপর রাফিনিয়ার পায়ে বল। তাঁকে ঠেকাতে ডাচ ক্লাবটির দুজন ডিফেন্ডার একসঙ্গে স্লাইডিং ডাইভে সামনে চলে এলেন। তখন রাফিনিয়ার বাঁ পায়ে যেন ফুটবল কবিতার ছন্দ! আলতো স্পর্শে বলটা বাঁ দিকে যখন সরালেন, দুই ডিফেন্ডার তখন তাঁর সামনে দিয়ে স্লাইড করে যেন নেদারল্যান্ডসে চলে গেলেন! তারপর বাঁ পায়ের শটে গোল। জার্সি নম্বর ১১ হলেও কে বলবে এই রাফিনিয়া ৯ নম্বর নয়!
রাফিনিয়াকে আটকাতে যাওয়া দুই ফেইনুর্ড ডিফেন্ডার স্লাইডে দূরে সরে শুধু গোল হতে দেখলেন রয়টার্স
বার্সার গোলের সমস্যা সমাধানে রাফিনিয়ার এগিয়ে আসা নতুন কিছু না। ২০২৪-২৫ মৌসুমে করেছিলেন ৩৪টি গোল ও ২৬টি অ্যাসিস্ট; যার মধ্যে লিগে অবদান ছিল ৩০ গোলে (১৮টি গোল ও ১২টি অ্যাসিস্ট)। বার্সাও জিতেছিল লা লিগা শিরোপা। আর রাফিনিয়াও উইঙ্গার পজিশন থেকে প্রথাগত ফরোয়ার্ডদের মতো বক্সে ঢুকে কিংবা তার আশপাশ থেকে গোলগুলো করেন এবং করান। সরাসরি সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে তখনো খেলা শুরু করেননি।
পরের মৌসুমে চোটের কারণে মাসের পর মাস মাঠের বাইরে থাকতে হলেও তাঁর কার্যকারিতা ছিল দেখার মতো। সেবারও ২১ গোল করার পাশাপাশি ৮ অ্যাসিস্ট করে বার্সার লিগ শিরোপা ধরে রাখতে ভূমিকা রাখেন। কিন্তু বিশ্বকাপেও চোটে পড়ায় হলুদ জার্সিতে সেই রাফিনিয়াকে দেখা যায়নি।
মরক্কো ও হাইতির বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে খেলেছেন। গোল পাননি। চোটে পড়েন হাইতি ম্যাচে। সুস্থ হয়ে শেষ ষোলোয় নরওয়ের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমেও গোল পাননি। ব্রাজিলও হেরে বিদায় নেয় শেষ ষোলো থেকে। এই বিশ্বকাপ চলার মাঝেই বার্সার আলভারেজের পিছু ছোটার খবর বেশি করে চাউর হয় সংবাদমাধ্যমে। রাফিনিয়ার কি তখন আঁতে ঘা লেগেছিল? কে জানে!
বল হারালে প্রেস করছেন, আক্রমণে উঠছেন, সব মিলিয়ে আরও সহজ করে তুলছেন বার্সার খেলাকে। অথচ এর আগে কোনো ক্লাবেই ফরোয়ার্ড (৯ নম্বর) পজিশনে খেলেননি রাফিনিয়া।
বার্সার জার্মান কোচ ফ্লিক কৌশলে দূরদর্শী মানুষ। বিশ্বকাপ শেষে এবারের মৌসুম শুরুর আগে রাফিনিয়ার পজিশন নিয়ে বার্সার অনুশীলনে বেশ কাজ করেন ফ্লিক। উইঙ্গার পজিশন থেকে তাঁকে সরিয়ে এনে মাঠের ভেতরে ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেন। মুক্ত ফরোয়ার্ড হয়ে আক্রমণভাগ চষে বেড়ানোর ভার দেন রাফিনিয়ার কাঁধে। এতে শুধু বার্সার খেলার কৌশল বদলায়নি, আক্রমণভাগ নিয়ে দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তার অবসানও হয়েছে।
তবে সন্দেহও ছিল। উইং পজিশনটা সাধারণত বল নিয়ে লম্বা দৌড়ের। সামনে প্রতিপক্ষ পেলে হয় পাস দিয়ে বল ছাড়তে হয় কিংবা ড্রিবলিং করে বেরিয়ে যেতে হয়। রাফিনিয়া এত দিন সেভাবেই অভ্যস্ত ছিলেন। সেখান থেকে একদম বক্সে কিংবা তার আশপাশে সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড পজিশনে খেলার কিছু ঝামেলা ছিল।
জায়গাটা সংকীর্ণ, প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের জটলায় খেলার জায়গাও খুব কম মেলে। বার্সার খেলার ধাঁচের সঙ্গে মিলিয়ে ওই পজিশনে সফল হতে হলে পায়ের কারুকাজ থাকা বাধ্যতামূলক। এর সঙ্গে ফিনিশ করার সহজাত ক্ষমতাও লাগে। প্রশ্ন ছিল, রাফিনিয়া কি ওই পজিশনে মানিয়ে নিতে পারবেন?
২০২৬–২৭ মৌসুমের প্রথম পাঁচ ম্যাচে ৮ গোল করে রাফিনিয়া এখন উড়ছেন রয়টার্স
উত্তর মিলছে মাঠেই। কতটা মানিয়ে নিয়েছেন এ মৌসুমে গোল–পরিসংখ্যানই তার প্রমাণ। আর গোল করার বাইরে সতীর্থদের নিয়ে যেভাবে খেলে যাচ্ছেন, তা হয়তো আরও বড় প্রমাণ। বার্সার মাঝমাঠ থেকে পেদ্রি কিংবা ডান প্রান্ত থেকে লামিনে ইয়ামাল গোলের পাস দিতে এখন রাফিনিয়াকে খোঁজেন। ফেইনুর্ডের বিপক্ষে তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় গোল সে কথাই বলে।
সবচেয়ে দারুণ ব্যাপার, রাফিনিয়ার খেলা দেখে মনে হচ্ছে এটাই তাঁর চিরাচরিত পজিশন। বল হারালে প্রেস করছেন, আক্রমণে উঠছেন, সব মিলিয়ে আরও সহজ করে তুলছেন বার্সার খেলাকে। অথচ এর আগে কোনো ক্লাবেই ফরোয়ার্ড (৯ নম্বর) পজিশনে খেলেননি।
আরও মজার বিষয়, ২০২২ সালে বার্সায় যোগ দেওয়ার সময় রাফিনিয়া কিন্তু বাঁ প্রান্তের উইঙ্গার ছিলেন না। ডান প্রান্তের উইঙ্গার হয়ে ক্লাবটিতে যোগ দিয়ে দেম্বেলে ও তারপর ইয়ামালের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সরে যান বাঁয়ে। ক্লাবের প্রয়োজনেই সেই রাফিনিয়া এখন ফরোয়ার্ড—ফোঁটা ফোঁটা শিশিরবিন্দুর মতো তাঁর একেকটি গোলে ব্রাজিলিয়ানের সবচেয়ে সুন্দর রূপটি কি দেখছে বার্সা?
বার্সেলোনার জার্সিতে প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে মাঠে নেমেছেন রদ্রিগো হার্নান্দেজ। ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক এই তারকা ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ৬২ মিনিট খেলেছেন। ধীরে ধীরে নিজের পুরোনো ছন্দে ফেরার চেষ্টা করলেও তার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট কোচ হ্যান্সি ফ্লিক।
জার্মান কোচের মতে, বল পায়ে কিংবা বল ছাড়া—দুই অবস্থাতেই রদ্রির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তরুণ খেলোয়াড়দের উন্নতিতেও তার অভিজ্ঞতা বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন ফ্লিক।
ভ্যালেন্সিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে লা লিগার শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে বার্সেলোনা। ম্যাচ শেষে রদ্রির প্রশংসা করে ফ্লিক বলেন, ‘সে আমাদের দলে আছে বলে আমরা খুশি। মাঠে বল পায়ে সে যা কিছু করে, সবকিছুর মধ্যেই যুক্তি আছে। আক্রমণে বল পায়ে দলকে কাঠামো দেওয়ার পাশাপাশি বল ছাড়া অবস্থায়ও সে গুরুত্বপূর্ণ।’
তরুণ মিডফিল্ডারদের জন্য রদ্রির উপস্থিতিকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ফ্লিক আরও বলেন, ‘বার্নালও দারুণ কাজ করছে। তার জন্য এটি একটি ভালো পরিস্থিতি। সে যদি এই সুযোগ সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে, তাহলে উন্নতি করবে এবং ক্রমেই আরও ভালো খেলোয়াড় হয়ে উঠবে। এই দলবদলের মাধ্যমে আমরাও সেটিই চেয়েছিলাম। রদ্রি অসাধারণ। শুধু মাঠেই নয়, ড্রেসিংরুমেও সে একজন অসাধারণ নেতা। তাকে দলে পাওয়া দারুণ ব্যাপার।’
এদিকে স্পেন জাতীয় দলেও রদ্রি ও পেদ্রি একসঙ্গে খেলেছেন। বিশ্বকাপের শুরুতে দুজনকে একসঙ্গে দেখা গেলেও পরে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলে পেদ্রির জায়গা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এমনকি দুজন একসঙ্গে খেললে কার্যকর হবেন কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল।
তবে রদ্রির সঙ্গে খেলা নিয়ে ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন পেদ্রি। তিনি বলেন, ‘বলা হয়েছে যে আমরা একসঙ্গে ভালো কাজ করি না। কিন্তু রদ্রির সঙ্গে খেলা খুবই স্বাচ্ছন্দ্যের।’
স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার আরও বলেন, ‘সে প্রায় কখনোই বল হারায় না, আর সেটা রক্ষণে অনেক সাহায্য করে। আমরা একে অপরকে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারব এবং যত বেশি ম্যাচ খেলব, আমাদের বোঝাপড়াও তত উন্নত হবে।’
শুরু এবং শেষ—দুই দৃশ্যেই একজন: লামিনে ইয়ামাল। গোল করেছেন দুটি, শানিয়েছেন একের পর এক আক্রমণ। তাতেই লা লিগায় ভ্যালেন্সিয়া নিজেদের মাঠ এস্তাদিও মেস্তায়ায় ৫–০ গোলে রীতিমতো বিধ্বস্ত হয়েছে বার্সেলোনার কাছে।
এই জয়ে ৪ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আরও একধাপ শক্ত অবস্থান নিল বার্সেলোনা। সমান ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে চারে রিয়াল মাদ্রিদ। অন্যদিকে ৪ ম্যাচে এখনো কোনো জয় না পাওয়া ভ্যালেন্সিয়া আছে ২০ নম্বরে।
প্রতিপক্ষের মাঠে শুরুতেই ইয়ামাল-ঝড়; ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই বার্সাকে এগিয়ে দেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। ফেরমিন লোপেসের দারুণ পাস থেকে নিখুঁত শটে জালে বল জড়ান ইয়ামাল। এর দুই মিনিট পর আবারও লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। এবারও বলের যোগানদাতা লোপেস, দারুণ শটে মুহূর্তেই জাল কাঁপান ইয়ামাল। তবে ভিএআর পর্যালোচনায় অফসাইড ধরা পড়ায় গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
গোল করেছেন, আবার গোল বানিয়েও দিয়েছেন লোপেস। এমন উচ্ছ্বাস তাকেই তো মানায় এএফপি
তবু দ্বিতীয় গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি বার্সাকে। ২২ মিনিটে প্রথম গোলের জোগানদাতা লোপেস নিজেই স্কোরবোর্ডে নাম লেখান। ভ্যালেন্সিয়ার এলোমেলো রক্ষণের সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগান এই তরুণ মিডফিল্ডার। ডি-বক্সের ভেতর থেকে বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠান তিনি। চলতি লা লিগায় এটি লোপেসের চতুর্থ গোল। ২০১১-১২ মৌসুমে সেস্ক ফাব্রেগাসের পর লোপেসই প্রথম কোনো স্প্যানিশ খেলোয়াড়, যিনি লিগে মৌসুমের প্রথম চার ম্যাচে বার্সেলোনার হয়ে অন্তত চারটি গোল করলেন।
২৪ মিনিটে ভ্যালেন্সিয়াকে তৃতীয় গোল খাওয়া থেকে বাঁচান স্তোলে দিমিত্রিয়েভস্কি। ইয়ামালের বাঁকানো শট দারুণভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্রসবারের ওপর দিয়ে ঠেলে দেন ভ্যালেন্সিয়ার এই গোলরক্ষক।
৩৯ মিনিটে আরেকটা বড় সুযোগ পায় বার্সা। আবারও লোপেসের সঙ্গে ইয়ামালের চমৎকার বোঝাপড়া। ইয়ামালের দৌড়ের পথেই বক্সের ভেতর পাস বাড়িয়ে দেন লোপেস। প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারকে ড্রিবল করে নিচু শট নেন ইয়ামাল, কিন্তু বলটি পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।
২–০ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে বার্সা। দ্বিতীয় পর্বেও আক্রমণের একই রূপ। তৃতীয় গোলটাও তারা পেয়ে যায় দ্রুত। লোপেসের বাড়ানো বল আলতো টোকায় জালে জড়ান রাফিনিয়া।
এই গোলে বার্সেলোনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসির একটি তথ্য মনে করিয়ে দিলেন এই ব্রাজিলিয়ান। ২০১২–১৩ ও ২০১৩–১৪ মৌসুমে লিগে বার্সার প্রথম চার ম্যাচে ছয়টি করে গোল করেছিলেন মেসি। একুশ শতকে মেসির পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে লা লিগায় নিজ দলের প্রথম চার ম্যাচে ছয়টি গোলে (গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে) সরাসরি অবদান রাখলেন রাফিনিয়া।
তিন গোল করেও আক্রমণের ধার কমেনি বার্সার। ৭৯ মিনিটে চার নম্বর গোলটি পায় কাতালানরা। দানি ওলমোর বাড়ানো বল চমৎকার শটে নিশানাভেদ করেন পেদ্রি। এর ঠিক পাঁচ মিনিট পর ভ্যালেন্সিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ইয়ামাল (৫–০)।
২৯তম জন্মদিনের পরদিনই নিউইয়র্ক কসমসের জার্সিতে নিজের সামর্থ্যের ঝলক দেখালেন বাংলাদেশের মিডফিল্ডার শমিত সোম। ইউএসএল লিগ ওয়ানের ম্যাচে ফোর্ট ওয়েন এফসির বিপক্ষে কসমসের ৪-২ গোলের জয়ে জোড়া অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি।
শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল কসমসের হাতে। মাঝমাঠে শমিতের পাসিং ও আক্রমণ তৈরির দক্ষতা দলকে এগিয়ে নিতে বড় ভূমিকা রাখে। প্রথমার্ধের ৪৪ মিনিটে তার নিখুঁত থ্রু পাস কাজে লাগিয়ে গোল করেন জাওনেহ লামিন। এতে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় কসমস।
বিরতির পরও আক্রমণের ধার ধরে রাখে নিউইয়র্কের দলটি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবার শমিতের পাস থেকে গোল করেন লামিন। রক্ষণভেদ করে দেওয়া তার দারুণ থ্রু বলটি কাজে লাগিয়ে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এই ফরোয়ার্ড। পরে লামিন হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। ফোর্ট ওয়েন দুটি গোল করে ব্যবধান কমালেও শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কসমস।
গোল করাতে অবদান রাখার পাশাপাশি পুরো ম্যাচেই কার্যকর ছিলেন শমিত। ৪৫ বার বল স্পর্শ করা এই মিডফিল্ডার ৩৬টি পাসের মধ্যে ৩০টি সফল করেন। তার পাসিং সাফল্যের হার ছিল ৮৩ শতাংশ। পাঁচটি লং বলের চারটিও ছিল সফল। জোড়া অ্যাসিস্টের পাশাপাশি সতীর্থদের জন্য একটি বড় গোলের সুযোগও তৈরি করেন তিনি।
রক্ষণেও দলের প্রয়োজন মিটিয়েছেন শমিত। ম্যাচে তিনটি ট্যাকল, দুটি ক্লিয়ারেন্স ও দুটি বল রিকভারি করেন তিনি। একটি শটও ব্লক করেন বাংলাদেশের এই মিডফিল্ডার।
ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলের সাবেক ক্লাব নিউইয়র্ক কসমসে যোগ দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচ খেলেছেন শমিত। তিনটিতেই ছিলেন শুরুর একাদশে। নিজের তৃতীয় ম্যাচেই জোড়া অ্যাসিস্টে দলকে জয় এনে দিয়ে নতুন ক্লাবে নিজের আগমনের জানান দিলেন ২৯ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি।
মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন ফুটবলার কাভান সুলিভান। ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের এই ফরোয়ার্ড এবার এমএলএসের ইতিহাসে প্রথম টিনেজার হিসেবে টানা পাঁচ ম্যাচে গোলে সরাসরি অবদান রাখার কীর্তি গড়েছেন।
রোববার সিএফ মন্ট্রিলের বিপক্ষে ফিলাডেলফিয়ার ২-০ গোলের জয়ে একটি গোল করেন ১৬ বছর বয়সী কাভান। দলের হয়ে ৫৭ মিনিটে ড্যানলে জিন জ্যাকেস গোল করার পর ৭৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সুলিভান। কাভানের গোলটি আসে দারুণ ফিনিশিংয়ে। বক্সের ভেতর সতীর্থের শটের পর বলের গতিপথ বুঝে দ্রুত এগিয়ে যান তিনি। একাধিক প্রতিপক্ষের বাধা এড়িয়ে এক শটেই বল জালে পাঠান তরুণ ফরোয়ার্ড।
এই গোলের ফলে চলতি মৌসুমে ফিলাডেলফিয়ার হয়ে কাভানের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারটি। এর সঙ্গে রয়েছে সাতটি অ্যাসিস্ট। অর্থাৎ মাত্র ১৬ বছর বয়সেই চলতি মৌসুমে ১১টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি।
এমএলএসে ১৬ বছর বা তার কম বয়সী খেলোয়াড়দের মধ্যে এক মৌসুমে গোলে অবদানের নতুন রেকর্ডও এখন কাভানের। এর আগে এই রেকর্ড ছিল সাবেক মার্কিন তারকা ফ্রেডি আদুর দখলে। ২০০৫ সালে ১৬ বছর বয়সে চার গোল ও ছয় অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ১০টি গোলে অবদান রেখেছিলেন আদু।
এর আগে টানা চার ম্যাচে গোলে অবদান রাখার সময়ও রেকর্ড গড়েছিলেন কাভান। ১৬ বছর ৩৩৬ দিন বয়সে তিনি এমএলএসের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে টানা চার ম্যাচে গোলে অবদান রাখেন। এবার সেই কীর্তিকে আরও এক ম্যাচ বাড়িয়ে পাঁচে নিয়ে গেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই তরুণ। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই এমন পারফরম্যান্সে কাভানকে ঘিরে পুরো এমএলএসেই প্রত্যাশা বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানোর পর প্রথমবারের মতো ইন্টার মায়ামির জার্সিতে নামলেন লিওনেল মেসি। নেমেই গড়লেন ইতিহাস। মায়ামির হয়ে আটলান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচে জোড়া অ্যাসিস্ট করে মেজর লীগ সকারে (এমএলএস) অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ঘরের মাঠে ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হলেও গ্যালারির উত্তাপ ও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ম্যাচটি রূপ নেয় এক ভিন্ন চিত্রে।
বাংলাদেশ সময় আজ সকালের এই ম্যাচে বল মাঠে গড়ানোর আগে শুরু হয় তীব্র ঝড় ও বজ্রপাত। ফলে ৯০ মিনিটের এক বাধ্যতামূলক আবহাওয়া বিলম্ব ঘটে। তবে খেলা শুরু হতেই নিজের চিরচেনা ছন্দে জ্বলে ওঠেন মেসি। ৩২ মিনিটে তার নিখুঁত কর্নার কিক থেকে হেডে গোল করেন ব্রাজিলের তারকা কাসেমিরো। এর কিছুক্ষণ পর সাবেক প্রিমিয়ার লীগ তারকা মিগুয়েল আলমিরন গোল করে আটলান্টাকে সমতায় ফেরান। তবে প্রথমার্ধের ঠিক অন্তিম মুহূর্তে লুইস সুয়ারেজের চমৎকার ফিনিশিংয়ে আবারও লিড পায় মায়ামি।
এই জোড়া অ্যাসিস্টের সুবাদে চলতি মৌসুমে মেসির মোট গোল অবদান ১৮ গোল ও ১২ অ্যাসিস্ট মিলিয়ে পৌঁছে গেল ঠিক ৩০টিতে। এমএলএসের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ভিন্ন তিন মৌসুমে ৩০ বা তার বেশি গোল অবদানের রেকর্ড গড়েন তিনি। লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির দেনিস বোয়াঙ্গা কিংবা সিনসিনাটির এভান্ডারের মতো হেভিওয়েট তারকাদের পেছনে ফেলে এই কীর্তি গড়লেন এই বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। চলতি বছরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ভুলে যাওয়ার মতো এক বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান এই কিংবদন্তি। তবে ক্লাব ফুটবলে তার জাদুকরি ফর্ম এতটুকুও ম্লান হয়নি।
মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ম্যাচটি আলোচনায় ছিল গ্যালারির উত্তেজনার কারনেও। কাসেমিরোর গোলের পর আটলান্টা ইউনাইটেডের সমর্থকরা মাঠে মেসির বিরুদ্ধে একটি ব্যঙ্গাত্মক ‘পেসি’ ব্যানার উন্মোচন করেন, যা পুরো স্টেডিয়ামের আবহকে আরও উসকে দেয়। টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচে বর্তমান এমএলএস চ্যাম্পিয়ন মায়ামি শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি। ম্যাচের ৮৭ মিনিটে আটলান্টার নতুন খেলোয়াড় ও সুইস স্ট্রাইকার ব্রেয়েল এমবোলো পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান।
ইনজুরি টাইমে খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডা ছড়িয়ে পড়ে। আটলান্টার ম্যাথিউ এডওয়ার্ডস অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন। শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় মায়ামিকে। ফলে এমএলএসের শিরোপা ধরে রাখা আরও কঠিন হয়ে পড়লো ফ্লোরিডার ক্লাবটির জন্য। ২৩ ম্যাচে ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে মেসিরা। সমান ম্যাচে ১০ পয়েন্টের ব্যবধানে চূড়ায় ন্যাশভিল।
গোলের একের পর এক সুযোগ নষ্ট, তিনবার পোস্টে আঘাত আর শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি মিস; সব মিলিয়ে হতাশার এক রাত কাটল রিয়াল মাদ্রিদের। কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি ব্যর্থতার ম্যাচে রিয়াল বেটিসের কাছে ১-০ গোলে হেরে মৌসুমে প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে হোসে মরিনহোর দল।
সেভিয়ার লা কার্তুহা স্টেডিয়ামে শুক্রবারের ম্যাচটি ৮০ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য ছিল। তবে এরপর ট্রয় প্যারোটের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিক বেটিস। শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি রিয়াল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ছিল মাদ্রিদের দল। ১৪ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট পোস্টে লাগে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে এমবাপ্পেও গোলের দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন, তবে দুইবার চেষ্টা করেও বল জালে পাঠাতে পারেননি।
বিরতির আগে জুড বেলিংহ্যামের হেড ঠেকান বেটিস গোলরক্ষক আলভারো ভালেস। পরে ডিন হুইজসেনের হেড ক্রসবারে আঘাত করে ফিরে আসে।
দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না রিয়াল। শেষ পর্যন্ত ৮১ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে ফিরতি বলে গোল করেন বেটিসের ট্রয় প্যারোট। এরপর রিয়াল একটি গোল করলেও ভিএআরের সাহায্যে অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়।
যোগ করা সময়ে ভিনিসিয়ুসকে ফাউল করা হলে পেনাল্টি পায় রিয়াল। দায়িত্ব নেন এমবাপ্পে। তবে তার স্পট কিকের দিক আগে থেকেই বুঝে ফেলেন গোলরক্ষক আলভারো ভালেস। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্বল শটটি ঠেকিয়ে দেন তিনি।
এর আগে লা লিগার প্রথম দুই ম্যাচে চার গোল করেছিলেন এমবাপ্পে। কিন্তু বেটিসের বিপক্ষে তিনটি ভালো সুযোগ নষ্ট করার পাশাপাশি পেনাল্টিও মিস করেন ফরাসি তারকা।
চার ম্যাচ শেষে প্রথম হারের পর ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে নেমেছে রিয়াল মাদ্রিদ। সমান পয়েন্ট নিয়ে তিনে বেটিস, আর এক ম্যাচ কম খেলেও ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা।
ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে বড় ধাক্কার আশঙ্কা করছে বার্সেলোনা। শনিবার দলের শেষ অনুশীলনে ছিলেন না লামিন ইয়ামাল। ফলে মেস্তায়ায় ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচে ১৯ বছর বয়সী এই উইঙ্গারের খেলা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
২০২৬-২৭ মৌসুমে লা লিগায় নিজেদের চতুর্থ ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে হানসি ফ্লিকের দল। তবে ম্যাচের আগমুহূর্তে ইয়ামালের অনুপস্থিতি সেই প্রস্তুতিতে ফেলেছে দুশ্চিন্তার ছাপ। স্পোর্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেস্তায়ায় কঠিন অ্যাওয়ে ম্যাচের আগে শনিবার দলের শেষ অনুশীলনে অপ্রত্যাশিতভাবেই ছিলেন না ইয়ামাল।
রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরই তার অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শনিবার দল ম্যাচের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ইয়ামালের শারীরিক অবস্থা ভালোভাবে পরীক্ষা করবেন ক্লাবের চিকিৎসকেরা। এরপর ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলতে পারেন কোচ ফ্লিক।
ইয়ামালের চোটের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি বার্সেলোনা। তবে অনুশীলনে তার অনুপস্থিতির সময়টা তরুণ এই তারকার জন্য হতাশাজনকই। কারণ সতীর্থদের ভোটে নতুন সহ-অধিনায়ক নির্বাচিত হওয়ার সুখবর পাওয়ার দিনই অনুশীলনে অনুপস্থিত থাকতে হলো তাকে। মুন্দো দেপোর্তিভোর খবর অনুযায়ী, ড্রেসিংরুমের ভোটে ইয়ামালকে বার্সেলোনার নতুন সহ-অধিনায়ক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
ইয়ামালকে না পেলে কৌশলে পরিবর্তন আনতে হতে পারে ফ্লিককে। বার্সেলোনার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জার্মান কোচ হাই-প্রেসিং ফুটবল অনুসরণ করছেন। এই কৌশলে ইয়ামাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। আক্রমণে তার কার্যকারিতার পাশাপাশি বল দখলের জন্য তার নিরলস পরিশ্রমও দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।