কৃষক

  • বিসিআইসি-বিএডিসি সার ডিলার নামে বিভাজন থাকছে না

    বিসিআইসি-বিএডিসি সার ডিলার নামে বিভাজন থাকছে না

    কৃষকদের কাছে নিরবচ্ছিন্ন ও সুষ্ঠুভাবে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার ডিলার সংরক্ষণ সংক্রান্ত নীতিমালাÑ২০২৫ (সংশোধিত)’ বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
    এ লক্ষ্যে রোববার কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিদপ্তর থেকে অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সল ইমাম স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।

    জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিটি উপজেলায় ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সার বিতরণের জন্য ন্যূনতম ৯ জন ডিলার রাখতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট জেলার চাহিদা ও কৃষি উৎপাদনের পরিমাণ বিবেচনায় ডিলারের সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও জেলা ডিলার সমবায়ের সুপারিশের ভিত্তিতে জেলা কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। নতুন ডিলারদের নিজস্ব গুদাম, গোডাউন এবং সার বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় সার্ভিস সেন্টার থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।


    বিদ্যমান ডিলারদের লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার চাহিদা, জেলাভিত্তিক কোটা এবং নীতিমালার শর্ত পূরণের বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষকদের স্বার্থে জেলা কমিটি ডিলারদের জন্য ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করবে।নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিংয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো ডিলার নীতিমালা লঙ্ঘন করলে বা নির্ধারিত শর্ত ভঙ্গ করলে তার ডিলারশিপ বাতিল করা হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।


    এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দিতে পারবেন। নীতিমালার বিস্তারিত তথ্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
    আদেশে বলা হয়েছে, সার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কৃষকদের কাছে সময়মতো সার পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই সংশোধিত নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
    বিলুপ্ত হলো সাব-ডিলার ব্যবস্থা সারাদেশের প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের কাছে সার বিক্রির জন্য বিসিআইসি ডিলারদের আওয়তায় সরকারিভাবে নিয়োগ দেওয়া হলেও ‘অনিয়ন্ত্রিত’ সাব-ডিলার বা খুচরা সার বিক্রেতা ব্যবস্থা রহিতকরণ করা হয়েছে সংশোধিত নীতিমালায়।


    ফলে সারাদেশের ওয়ার্ড পর্যায়ে নিয়োগ পাওয়া কয়েক লাখ ‘অনিয়ন্ত্রিত’ খুচরা সার বিক্রেতার লাইসেন্স সংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে।
    তবে সংশোধিত নীতিমালায় নতুন ডিলারদের নিজস্ব গুদাম, গোডাউন এবং সার বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় সার্ভিস সেন্টার থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
    বিসিআইসি-বিএডিসি ডিলার নামে বিভাজন থাকবে না দীর্ঘদিন ধরে একই দেশের দুইটি রাষ্টত্ব সংস্থা বিসিআইসি এবং বিএডিসি আলাদা আলাদা সার ডিলার নিয়োগ করে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি কার্যক্রম চালু রেখেছিলো। এতে চাহিদার চেয়ে তুলনামূলক সামান্য বরাদ্ধ পেতেন বিএডিসি ডিলাররা। এতে তাদেরমধ্যে ক্ষোভ-হতাশা ছিলো। তবে সংশোধিত নীতিমালায় পুরাতন সেই আলাদা ডিলার ব্যবস্থা বাতিল করে একটি সমন্বিত ডিলার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এতে বিসিআইসি ডিলার বা বিএডিসি ডিলার নামক কোনো বিভাজন থাকবে না।


    একই পরিবারে একাধিক ডিলারশিপ নয়নীতিমালায় একই পরিবারে একাধিক সার ডিলার নিয়োগের সুযোগ রহিতকরণ করা হয়েছে। ফলে একই পরিবারে বিসিআইসি বা বিএডিসির একাধিক সার ডিলার লাইসেন্স থাকলে তা বাতিল হবে।


    সার উৎপাদনকারী-সরবরাহকারীদের ডিলার পর্যায়ে সার সরবরাহ নিশ্চিতকরণ সংশোধিত নীতিমালায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওয়তাধীন দেশীয় সার উৎপাদনকারী টিএসপি কমপ্লেক্স বা ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এবং বেসরকারিভাবে আমদানী করা নন ইউরিয়া সার আমদানীকারক বা সরকারি সারের পরিবহণ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি ডিলার বা উপজেলা পর্যায়ে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

  • জমিতে পানি দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১০

    জমিতে পানি দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১০

    চরফ্যাশনে চাষের জমিতে পানি দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। নীলকমল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৌলভীবাজার এলাকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। শনিবারও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোস্তফা জানান, নীলকমল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও স্থানীয় বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি আলম কোম্পানি একই এলাকার নাছিরের শুকনা চাষের জমিতে পানি ছেড়ে দেন। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহত নীরবের অভিযোগ, সন্ধ্যায় তিনি ও পরিবারের সদস্যরা মৌলভীবাজারে গেলে আলম কোম্পানি, তার ভাই রশিদ, ফয়েজউদ্দিন, শাহিনসহ কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালান। এতে শরীফ, নাছির, নোমান, মোস্তফা, নীরব, সাজাহানসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।হাসপাতালে ভর্তি নাছির দাবি করেন, দুই বছর ধরে স্থানীয় বিএনপি নেতা আলম কোম্পানি তাদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। তবে আলম কোম্পানি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জমিতে পানি দেওয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির পর প্রতিপক্ষই তাদের ওপর হামলা চালায়। চাঁদা দাবির অভিযোগ ভিত্তিহীন।



  • টানা বর্ষণে সবজির সরবরাহ কম, দাম বৃদ্ধি

    টানা বর্ষণে সবজির সরবরাহ কম, দাম বৃদ্ধি

    টানা বর্ষণের কারণে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় বিভিন্ন ধরনের সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে দাম বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির দাম প্রতি কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে সরবরাহ কম থাকায় পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়েই এর প্রভাব পড়েছে।

    উপজেলার ইটাখোলা হাট, বটতলী হাট ও থানা বাজার মনজার বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারি বাজারে কিছুটা দাম বাড়লেও খুচরা বাজারে আরও বেশি দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে আলু, পটল, বেগুন, কাঁকরোল, করলা, ঢেঁড়সসহ বিভিন্ন সবজির দাম বেড়েছে।শুক্রবার ইটাখোলা বাজারে প্রতি কেজি আলু ২৫-৩৫ টাকা, বেগুন ১০০-১২০ টাকা, পটল ৪০-৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০টাকা করলা ৮০-১০০ টাকা, কচুরলতি/কচুর বই ৬০-৭০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ২০০-২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া প্রতি পিস লাউ ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    সবজি বিক্রেতারা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে অনেক জমিতে পানি জমে থাকায় সবজি সংগ্রহে সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি ফলনও কমেছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দামও কমে আসবে।

    অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, একই বাজারে একই ধরনের সবজির দামে ভিন্নতা রয়েছে। কেউ স্বাভাবিক দামে বিক্রি করলেও কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজি কিনতে গিয়ে বাড়তি খরচের চাপ পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর।

    বাজার সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বৃষ্টি কমে মাঠ থেকে স্বাভাবিকভাবে সবজি উত্তোলন ও বাজারে সরবরাহ শুরু হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সবজির দাম কমে আসবে।

  • কচু চাষে ঝুঁকছেন কৃষক

    কচু চাষে ঝুঁকছেন কৃষক

    উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের টিটা, নন্দ্রিগ্রাম, কুমুরতিয়া ও টিটা পানাইল গ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ছিল মধুমতি নদী। নদীটি এখন বাওড়ে পরিণত হয়েছে। গোপালপুর গ্রামের এক অংশের ওপর দিয়ে মধুমতি নদী ছিল সেখানেও বাওড়ে পরিণত হয়েছে। এসব বাওড়ের দুই পাশের চরাঞ্চলে পড়ে থাকা পতিত জমিতে হচ্ছে কচু চাষ। চরাঞ্চলের চাষ করা কৃষকদের কচুর চাহিদা বেশি। এখানে জমির পলিযুক্ত দোআঁশ মাটিতে কচুর আবাদ ভালো হয়ে থাকে। মাটির গুণাগুন ভালো থাকায় সার, কীটনাশক কম ব্যবহার হয়। এ জন্য কৃষকদের লাভ বেশি হয়। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে কচুর চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাওড়ের পাড়ের কৃষকরা নিচু জমিতে সাদা কচুর আবাদ করছেন।


    মধুমতী বাওড়ের পাশে নন্দ্রীগ্রামের কৃষক খোকন শেখ বলেন, ‘এ বছর ৬০ শতাংশ জমিতে কচুর চাষ করেছি। সর্বমোট আমার খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। প্রায় পাঁচ হাজার পিচ কচু ক্ষেতে বড় হয়েছে। ক্ষেত থেকে ব্যাপারীরা প্রতি পিচ ৫০ টাকা করে নিয়ে যায়। রমজান মাস থেকে কচুর লতি বিক্রি করছি। অর্ধ লক্ষ টাকার বেশি কচুর লতি বিক্রি করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর ৬০ শতাংশ জমি থেকে কচু চাষ করে দেড় লাখ টাকা লাভ হবে বলে আশা করছি।’


    গোপালপুর গ্রামের কৃষক আশরাফ খান বলেন, ‘১১ শতাংশ জমি ১১ শত টাকা দিয়ে লিজ নিয়ে কচু চাষ করতে গিয়ে ১২ হাজাট টাকার খরচ হয়েছে। ক্ষেতে প্রায় এক হাজার কচু হয়েছে অধিকাংশ কচু বিক্রি করে দিয়েছি। প্রতি পিচ কচু ক্ষেত থেকে ব্যাপারীর ৩৫-৪০ টাকা করে কিনে নিয়েছে। এ বছর কচু ক্ষেত থেকে ২২-২৫ হাজার টাকা লাভ হবে।’
    আলফাডাঙ্গা সদর বাজারের সবজি বিক্রেতা সবুজ মিয়া বলেন, ‘সপ্তাহে দুই দিন আলফাডাঙ্গা হাট বসে। নন্দীগ্রাম ও গোপালপুর গ্রাম থেকে কচু ক্রয় করে হাটের দিনে বিক্রি করি। প্রতি পিস কচু গড়ে ৩৫-৫০ টাকা দিয়ে ক্রয় করে ৫০-৮০ টাকা বিক্রি করছি।’


    আলফাডাঙ্গায় বাজার করতে এসে বড় সাইজের একটি কচু ৮০ টাকা দিয়ে ক্রয় করে মাহাতাব উদ্দিন বলেন, ‘বাজারে অন্য সবজির তুলনায় কচুর দাম কম। পরিবারের সবাই কচু খেতে পছন্দ করে।’
    আলফাডাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসার তুষার সাহা বলেন, ‘মধুমতি চরাঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কচুর চাহিদার পাশাপাশি আবাদি জমির পরিমাণও বেড়েছে। কম পরিশ্রমেই চাষ করা যায় এই সজবি। তাই মধুমতি চরাঞ্চলের কৃষক কচু চাষে ঝুঁকছেন।’

  • কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ হচ্ছে আজ থেকে

    কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ হচ্ছে আজ থেকে

    সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সারাদেশে কৃষক ও কৃষিজমির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর (ডিএই)।

    আজ শনিবার থেকে দেশের সব উপজেলায় একযোগে এ কার্যক্রম শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে প্রতিটি উপজেলা থেকে একটি করে ব্লক নির্বাচন করে তথ্য সংগ্রহ করা হবে, যা পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সব ব্লকে সম্প্রসারণ করা হবে।

    সম্প্রতি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো: আব্দুর রহিম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, একই দিন কৃষি মন্ত্রণালয়ে কৃষিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘কৃষক কার্ড কারিগরি ওয়ার্কিং কমিটির দ্বিতীয় সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের প্রতিটি উপজেলায় একযোগে কৃষক ও জমির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

    আদেশে আরো বলা হয়, প্রথম ধাপে প্রতিটি উপজেলার একটি করে নির্বাচিত ব্লকে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তীতে পরীক্ষামূলক এ কার্যক্রমের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে উপজেলার অন্যান্য সব ব্লকেও পর্যায়ক্রমে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

    কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ১৪ থেকে ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে তথ্য সংগ্রহে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘তথ্য সংগ্রহ অ্যাপ’ ব্যবহারের ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

    প্রশিক্ষণ শেষে ১৮ জুলাই থেকে মাঠপর্যায়ে কৃষক ও কৃষিজমির তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে।

    অফিস আদেশে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সকল পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালক, উপপরিচালক এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ ও নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    বিষয়টিকে অত্যন্ত জরুরি হিসেবে উল্লেখ করে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, কৃষকদের একটি নির্ভুল ও সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার তৈরি হলে সরকারের প্রতিশ্রুত ‘কৃষক কার্ড’ বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হবে।এর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্তকরণ, কৃষি প্রণোদনা, ভর্তুকি, ঋণ সুবিধা এবং অন্যান্য সরকারি সেবা আরো দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে।

  • কৃষকদের সাথে মতবিনিময় সভা

    কৃষকদের সাথে মতবিনিময় সভা

    রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন এগিয়ে নিতে ছোট ভাকলা ইউনিয়নে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দিনব্যাপী উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের হাউলি কেউটিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই সভার আয়োজন করা হয়।

    কৃষক কার্ড কর্মসূচির কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়ন, উপকারভোগী কৃষকদের যাচাই-বাছাই এবং মাঠ পর্যায়ে কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতেই এ সভার আয়োজন করা হয়।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সৈয়দ রায়হানুল হায়দার। সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শাহাদাৎ হোসেন এবং উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল ইসলাম পাইলট।

    সভায় বক্তারা বলেন, কৃষক কার্ড কর্মসূচি কৃষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। তারা আরও বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম যেন না ঘটে সেজন্য স্বচ্ছতা বজায় রেখে কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করতে হবে।

    সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ সফল করতে হলে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকদের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা চাই প্রকৃত কৃষকেরাই যেন এই কার্ডের সুবিধা পান।

    মতবিনিময় সভায় স্থানীয় কৃষক, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে তাদের মতামত তুলে ধরেন এবং কর্মসূচি সফল করতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।

  • আনারকলি ফল চাষে সালেহের বাজিমাত

    আনারকলি ফল চাষে সালেহের বাজিমাত

    বিদেশি ফল ‘প্যাশন ফ্রুট’ বাংলাদেশে ‘আনারকলি’ বা ‘ট্যাং ফল’ নামে পনিচিত। এ ফল চাষ করে দারুণ সফলতা পেয়েছেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের চাষি সালেহ আহমদ। জেলার পাহাড়ি অঞ্চলে কয়েক বছর আগেই ফলটির চাষ শুরু হয়। তবে এই প্রথম সমতলে আনারকলির বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেছেন তিনি। এ কৃষি উদোক্তা কমলগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর কমলগঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বাঘমারা গ্রামের বাসিন্দা।

    জানা গেছে, মুদু টক-মিষ্টি স্বাদের আনারকলি ফলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে দিন দিন। প্রতি পিস আনারকলি পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়াই সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে আনারকলি ফল চাষ করা যায়। যে কারণে এর উৎপাদন খরচও কম। ফলে নেই কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি। স্বাদে-গন্ধে অনন্য এ ফলের আবাদে জেলায় ফল উৎপাদনে দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা।

    উদ্যোক্ত সালেহ আহমদ জানান, দর্ঘিদিন ধরে তিনি ধান চাষের পাশাপাশি নিজের জমিতে গড়ে তুলেছেন লেবু, লটকনসহ দেশি-বিদেশি নানা ফলের ক্ষুদ্রায়তন বাগান। ২০২২ সালে নিজের চার শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি চারা রোপণের মাধ্যমে শুরু করেন আনারকলি চাষ। ২০২৪ সালে তার ওই তিনটি গাছের ফল পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করেন ১০ হাজার টাকা। আনারকলি ফল বিক্রির পর চাষে তার উৎসাহ বেড়ে যায়। ওই বছরই আরও বেশ কিছু চারা রোপণ করে বাণিজ্যিকভাবে এ ফলের চাষাবাদে তিনি সফলতা অর্জন করেন। বর্তমানে তার বাগানের গাছগুলোতে যে ফল এসেছে তাতে সালেহ আহমদ চলতি মৌসুমে লক্ষাধিক টাকার ফল বিক্রির প্রত্যাশা করছেন।

  • প্রণোদনায় ‘অকৃষক’ অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ

    প্রণোদনায় ‘অকৃষক’ অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ

    কলমাকান্দায় বন্যায় ক্ষতিগস্ত সরকারি কৃষি প্রণোদনার তালিকায় খারনৈ ইউনিয়নে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে অকৃষক ও ভুয়া ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার উপজেলার পালপাড়া বাজারে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে একই স্থানে পালটা মানববন্ধন করেছেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও তার সমর্থকরা। কলমাকান্দা-দুর্গাপুর সড়কের পালপাড়া বাজার এলাকায় মানববন্ধনে কৃষকরা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক বন্যায় নলগড়া, করাসাবরা, দলা বিল, মেধা বিলসহ বিভিন্ন এলাকার শত শত একর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের অনেকের নাম প্রণোদনার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যাদের নিজস্ব কোনো কৃষিজমি নেই কিংবা কৃষিকাজে জড়িত নন, তাদেরও তালিকায় রাখা হয়েছে। কৃষক কুদরত আলী বলেন, আমার ৩৪ কাঠার মধ্যে ২৯ কাঠা জমির ধান বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। অথচ প্রণোদনার তালিকায় আমার নাম নেই। যারা কখনো কৃষিকাজ করেনি, তারা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কার্ড পেয়েছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ জমা দেওয়ার পর থেকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওবায়দুল হকসহ কয়েকজন তাদের অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য চাপ ও হুমকি দিচ্ছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খারনৈ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওবায়দুল হক। তিনি বলেন, এটি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত।

    এ এম

  • রংপুরে বোরো ধানের দামে ধস, খরচই উঠছে না কৃষকের

    রংপুরে বোরো ধানের দামে ধস, খরচই উঠছে না কৃষকের

    রংপুর বিভাগের হাটগুলোতে বোরো ধান প্রতি মণ ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে—যেখানে উৎপাদন খরচ মণপ্রতি ৯২০ থেকে ৯৫০ টাকা; ভালো ফলনের মৌসুমে নগদ অর্থের প্রয়োজনে কৃষকেরা দ্রুত ধান ছাড়ছেন, প্রতিবেদন করেছে ডেইলি স্টার (২৬ মে)। ঈদ সামনে রেখে এই দামের ধসে উত্তরাঞ্চলের শস্যভাণ্ডারে উৎসবের আমেজ ম্লান হয়ে পড়েছে।

    লালমনিরহাটের দুরাকুটি হাটে আট মণ ধান নিয়ে এসেছিলেন ৬৫ বছর বয়সী কৃষক মনসুর আলী, আশা ছিল প্রতি মণ ১,০০০ থেকে ১,০৫০ টাকায় বিক্রি করবেন। প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর তিনি ৮১০ টাকায় বিক্রি করেন। গত বছর একই হাটে তিনি ১,০৫০ টাকা দরে ধান বিক্রি করেছিলেন।

    “মাঠে ফসল দেখে মন খুশিতে ভরে যায়, কিন্তু হাটে এসে দাম দেখে শুধু হতাশা,” বলেন মনসুর। তিনি এ বছর ১০ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছেন, ইতোমধ্যে সাত বিঘা কেটেছেন। বিঘাপ্রতি ফলন ২২ মণ—গত মৌসুমের তুলনায় বিঘায় প্রায় এক মণ বেশি।

    আদিতমারি উপজেলার শালমারা গ্রামের ৬০ বছর বয়সী নবীন চন্দ্র বর্মণও একই দশায়। এ মৌসুমে ১৬ বিঘায় বোরো চাষ করে মণপ্রতি প্রায় ৯৫০ টাকা খরচের বিপরীতে তাঁকে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় ধান ছাড়তে হয়েছে। গত বছর একই ধান বিক্রি হয়েছিল ১,০৫০ টাকায়; এরপর খরচ বেড়েছে, অথচ দাম কমেছে। “আগে জানলে ধান নিয়ে হাটে আসতাম না,” বলেন তিনি।

    রংপুর সদরের গোপীনাথপুর গ্রামের ৫৫ বছর বয়সী আতোয়ার রহমানের বেলায়ও খরচ আর বাজারমূল্যের ফারাকটা একইরকম। মণপ্রতি ৯২০ টাকা উৎপাদন খরচের বিপরীতে তিনি ৩০ মণ ধান বিক্রি করেছেন মাত্র ৮০০ টাকা দরে। ২০ বিঘা জমিতে চাষ করে এর মধ্যে ১৫ বিঘা ফসল ঘরে তুলেছেন।

    পাইকাররা ডেইলি স্টারকে বলেছেন, গুদামে গত মৌসুমের পুরনো স্টক জমে থাকায় তাঁরা সীমিত পরিমাণে ধান কিনছেন। “পুরনো স্টক শেষ হলে পুরোদমে ধান কেনা শুরু করব,” বলেন লালমনিরহাটের পাইকার সোলায়মান আলী। রংপুরের আরেক পাইকার সুনীল চন্দ্র সেন—যিনি নিজেও কৃষক—জানিয়েছেন, গুদামে জায়গা না থাকায় কম দামে কিনতে হচ্ছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) জানিয়েছে, এ মৌসুমে রংপুর বিভাগের আট জেলায়—লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, নীলফামারী ও ঠাকুরগাঁও—মোট ৬,৮৩,৭৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪১ লাখ টন। রংপুর বিভাগীয় খাদ্য বিভাগ অনুযায়ী, সরকার এ বছর কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ৭১,৪৮৩ টন ধান এবং মিলারদের কাছ থেকে ২,৪৬,২৪৬ টন চাল কেনার পরিকল্পনা করেছে। সরকারি ক্রয়মূল্য কেজিপ্রতি ৩৬ টাকা—যা খোলাবাজারের দামের চেয়ে বেশি—তবে পরিমাণ সীমিত এবং কেবল কৃষি অফিসের তালিকাভুক্ত কৃষকদের কাছ থেকেই কেনা হয়, ফলে বেশিরভাগ কৃষক এতে ধান বেচতে পারেন না।

    শুধু রংপুরেই নয়—এই বোরো মৌসুমে সারা দেশেই শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে আর ধানের দাম কমেছে; অনেক কৃষক বিঘাপ্রতি ২৫,০০০ থেকে ২৬,০০০ টাকা উৎপাদন খরচই তুলতে পারছেন না, প্রতিবেদন করেছে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। সরকারের সারা দেশের ক্রয় পরিকল্পনা—কেজিপ্রতি ৩৬ টাকায় ৫ লাখ টন—মোট ফসলের সামান্য অংশই ছুঁতে পারে।

    পীরগাছা উপজেলার চৌধুরাণী গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী আক্কেল আলীর কাছে ফলন আর দামের এই ব্যবধান এবারের ঈদকেই বদলে দিয়েছে। “এই বছর আমাদের ঘরে ঈদ নেই,” ডেইলি স্টারকে বলেন তিনি। “ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছি না, তাই আমরা সবাই গভীরভাবে মর্মাহত।”